উন্মাদনা পর্ব ১১
কায়নাত খান কবিতা
__আমারে কী তোর সাধু পুরুষ মনে হয়?”
এক ঝটকায় ঘুরিয়ে আনন্দীকে নিজের পানে ফিরিয়ে নেয় অভী। তার শরীর থেকে আসা তীব্র ম’দের ঘ্রাণে গা গুলিয়ে আসতে থাকে আনন্দীর। তবে কী এখন সেই ভয়ংকর কাজটিই হতে যাচ্ছে? গত তিন বছরে তো অভী তার কোনো ক্ষতি করেনি। শুধু গ্যারাজে দাঁড় করিয়ে রাখতো। ঘন্টার পর ঘন্টা তার সামনে দাড়িয়ে থাকার পর ও অভী কোনো বাজে ভাবে তাকে দেখিনি। দেয়নি লালসার দৃষ্টি পাত। তার দৃষ্টিতে ছিলো স্বচ্ছতা। কিন্তু আজ। এতোটাই জঘন্য লাগছে তার দৃষ্টি। ভয়ে কুঁকড়ে উঠছে আনন্দী।
অভীর শক্ত হাতের বাঁধন ছাড়াতে ছাড়াতে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে আনন্দী। কিন্তু অভীর কোনো হেলদোল নেই। সে তো আজ পাশা খেলায় মেতে রয়েছে।
আনন্দীর গলায় নাক ঘষতে ঘষতে অভী বলে, __চোখের সামনে বড় হয়ে গেলি তুই। আর আমি টেরই পাইলাম না। Very দুঃখজনক।”
অভীর তীব্র দাঁতের দংশন গুলো অনুভব করতে থাকে আনন্দী। পাতলা চামড়ায় বেশ জোড়েই ব্যাথা লাগছিলো তার। একটু সাহস জুগিয়ে আনন্দী বলে,__সেদিন আপনি যেই কাগজে সই করালেন, ওটা কী বিয়ের কাগজ ছিলো?”
আনন্দীর এহন কথা শুনে তাকে ছেড়ে দিয়ে খুব জোড়ে জোড়ে হাসতে থাকে অভী। তার হাসির প্রতিটা রেখা বলে দিচ্ছিল আনন্দীর ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। অভী কোনো বিয়ে -টিয়ে করেনি তাকে। কিন্তু কোথাও যেন একটা আশা এখনো জীবিত রয়েছে আনন্দীর মনে। কিন্তু তাকে সম্পূর্ণ ভুক প্রমাণিত করে অভী বলে ওঠে, __উপন্যাস একটু কমাইয়া পড় বোনই। আমি ক্যান হাঁটুর বয়সী ছেড়িরে বিয়া করতে যামু। তাও নিজের জাত শত্রুরে।”
অভীর কর্কশ কথা গুলো শুনে বুক ভারি হয়ে আসে আনন্দীর। দ্রুত পায়ে দরজার দিকে ছুটে চলে যায় সে। কিন্তু দূরভাগ্য বশত, দরজা খোলার অভীকে ধরে ফেলে।
__এতো দৌড়াইছ না বা’ন্দী। হাঁপাই যামু। কাজ শুরুর আগেই শেষ হইবো। চুপচাপ থাক।”
__আজ যদি আপনার বোনের সাথে কেউ এমন করতো তখন কী করতে আপনি?”
__ভালো ছিলো। কিন্তু কাজে দিলো না। তোর ইমোশনাল ডায়ালগ নিজের কাছেই রাখ বান্দী। ওতে আমি ভুলতাছি না।”
আনন্দীর কোমর ধরে তাকে আলগা করে তুলে বিছা”নায় ছু’ড়ে মারে অভী। ভয়ে পিছি’য়ে যেতে থাকে আনন্দী।
__অভী প্লিজ না।”
শরীর হতে বস্ত্র খুলে ফেলে আনন্দীর দিকে এগিয়ে যেতে থাকে সে। বিছানার এক পাশে একদম গুটি’সুটি হয়ে বসে থাকে আনন্দী।তার পায়ের পাতা ধরে টে’নে নিজের আ’য়ত্তে নিয়ে আসে অভী। শরীরের সমস্ত ভার ছেড়ে দিয়ে একদম চেপে ধরে আনন্দীকে।
__অভী প্লিজ না।”
__তোর রিকুয়েষ্ট না রাখতে পারার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত শেখের বেটি।”
আনন্দীর গ’লা হতে আবার ও ওড়’নাটি ফে’লে দেয় অভী। নিজের শরীরের সমস্ত বল খাঁটিয়ে আনন্দীকে একদম নিকটে নিয়ে আসে। আনন্দী প্রাণপনে চেষ্টা করে অভীকে থা’মানোর।চ’ড় থাপ্প’ড় সব কিছু লাগায় অভীর শরীরে। কিন্তু কোনো কাজ হয় না।এক পর্যায়ে পরাজিত হয় সে। জ্ঞান হারিয়ে ফেলে আনন্দী।
দু-ঘন্টার ব্যবধানে নিজের সব থেকে বড় স’ম্পদ হারিয়ে ফেলে আনন্দী। শরীরে অভীর সাদা গেঙ্গি জড়িয়ে একদম পাথর মূর্তির মতো হয়ে এক কোনে চুপচাপ বসে থাকে সে। অভী উল্টো পাশ ফিরে শুয়ে শুয়ে ফোন টিপতে থাকে, কিছু ক্ষণ আগে ও যে, সে একটা মস্ত বড় অন্যায় করলো, সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই তার।
থেকে থেকে আনন্দীর কান্নার আওয়াজ চওড়া হতে থাকে। ধ্যান ভাঙ্গে অভীর। পাশ ফিরে বলে,
__তোর মান সম্মান কিছুই নাইরে আনন্দী। বাঁইচা থাইকা কী করবি? পকেট থেকে ১২০ টাকা নিয়ে বি’ষ কিনে খা।! যাহহ!”
খানিকটা তাচ্ছিল্য সহিত আনন্দীকে অপমান করতে থাকে অভী। তার কথার বেক এতোটাই তিব্র যে, আনন্দী না পারতে তার মুখে থুথু ছুঁড়ে মা’রে।
চোখ বন্ধ করে ফেলে অভী। নিমিষেই একহাতে টান দিয়ে আনন্দীর উপরে চওড়া হয় সে।হাত দু-খানা শক্ত করে চেপে বলে,__পুরা দেশ আমারে নিয়া হাসছিল। জুতার মালা গলায় ছিলো আমার। সেই তুলনায় তোর লগে তো কিছুই করি নাই বা:ন্দীর বাচ্চা।তোরে হাঁটার মতো অবস্থাতে ও না রাখতে পারি। দেখতে চাস?”
ঘৃনায় অন্যত্রে মুখ ফিরিয়ে নেয় আনন্দী। কান্নার চোটে পুরো বদনখানা কম্পিত হতে থাকে তার।এতো কান্না মানুষ তখনই করে যখন তার অতি আপন কেউ মৃত্যু বরণ করে। তবে আজ কোনো মানুষ ম’রেনি। ম’রেছে এক নারীর সত্তা। তার সম্মান!!
আনন্দীর চোখের প্রতিটি পানির ফোঁটা যেন তৃপ্তি বয়ে আনে অভীর জন্য।সে খুব আরাম করে শরী’রের সমস্ত ভর আনন্দীর উপরে ছেড়ে দিয়ে তাকিয়ে থাকে তার পানে।
__তোর কান্দা দেইখা আমার ও কান্দা আইতাছে রে।”
__মানুষ রূপী জা’নোয়ার তুই। আমি পুলিশে অবশ্যই যাবো।”
খুব উচ্চস্বরে হাসতে হাসতে অভী বলে,__ডরাইছি!”
পাশ থেকে ফোন নিয়ে আনন্দীর সামনে ধরে সে।যেখানে তাদের ইন্টি’মেট হওয়ার ভিডিও স্পষ্ট। আনন্দীর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়। অসহায়ের দৃষ্টিতে তাকায় সে অভীর দিকে।
__এইডা শেখ সাহেবের কাছে পাঠাই কী কস?”
অভীর মুখের আদল বলে দিচ্ছে সে এখনই ভিডিওটি আনন্দীর বাবার কাছে পাঠাবে। কিন্তু আনন্দী? সে কীভাবে এসবের সামনা করবে? অভীর দিকে বড় বড় দৃষ্টি করে তাকিয়ে থাকে সে।
__বাপের যেই টুকু ইজ্জত বাইচা আছে, না খোয়াইতে চাইলে প্রতিদিন আমার ঘরে আসবি। না-হলে।!”
মুখ থেকে কোনো কথা বের হয় আনন্দীর। তার তো একুল ওকুল দুকুলই শেষ। বিয়ের আগে একটা পরপুরুষের সাথে জিনাতে লিপ্ত হওয়া মেয়ের তো এমনিতে ও জীবন বলতে কিছু থাকে না। আনন্দীর মুখ থেকে চুল গুলো সরিয়ে অভী বলে, __যাহ বাড়ি যাহ! অনেক মেহনত গেছে আমার। একটু আরাম করি। সর উঠ।”
উন্মাদনা পর্ব ১০
এক পাশ হয়ে শুয়ে থাকে অভী। এবং ফোন নিয়ে বার বার ভিডিওটা দেখতে থাকে। সাউন্ড এতোটাই জোরে ছিলো যে, আনন্দী তার আর্তনাদ স্পষ্ট শুনতে পায়।
কোনো রকম উঠে ফ্রেশ হয়ে নেয় আনন্দী। জামা কাপড় পরে, কাঁধে ব্যাগ তুলে বের হতে যাবে ঠিক তখনই অভীর ডাক পরে। পিছন ফিরে তাকায় সে।
আড়মোড়া দিয়ে ওঠে, পকেট থেকে একটি মেডিসিন বের করে আনন্দীর হাতে ধরিয়ে দেয় সে।
_বাপ ছাড়া বাচ্চা হইলে, জাপ** উপাধি পাইবো। বাসায় যাইয়া গিলিস।”
