Home উন্মাদনা উন্মাদনা পর্ব ৯

উন্মাদনা পর্ব ৯

উন্মাদনা পর্ব ৯
কায়নাত খান কবিতা

__-বা’ন্দী কামডা করলো কী!চাঁদেরে ইগনর করলো! ওরে সারা জনমের জন্য খাঁচায় ব’ন্দী করতে হইবো দেখতাছি। ”
আনন্দী রিক্সা নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়,
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো অভী তাকে অনুসরণ করেনি তখন ও। সন্দেহ হয় আনন্দীর কিছুটা। অনুসন্ধানী মন নিয়ে হুড তোলা রিক্সার ছোটো ফাঁকা স্থান দিয়ে যখনই পিছনে তাকায় সে, দেখে বেশ কয়েকটা বাইক তার দিকে তেড়ে আসে। অভীদের তো বরাবরই বাইক চারটে! তাহলে এতো গুলো বাইক কার? আনন্দী কিছু একটা ভাবতে যাবে তার আগেই ভীরের মধ্যে হতে অভীকে বাইক নিয়ে আসতে দেখে।
হাতে একটা মোটা হকি:স্টিক। যেটা দেখার পর থেকে ভয়ে চুপসে যায় আনন্দী। কিন্তু সে আজ পন করে নিয়েছে। যত বাঁধাই আসুক না কেন, অভীর প্রতিদিনের অন্যায় আর নয়। আনন্দী মন শক্ত একটু সাহস সঞ্চয় করছিল ঠিক তখনই নিমিষেই তার পুরো রিক্সা বাইকে ঘিরে যায়। বিশাল বড় রাস্তাটির মাঝে, রিক্সাকে মাঝে রেখে তার চারপাশে গোল গোল করে গাড়ি ঘুরতে থাকে। ভয়ে কম্পিত হয়ে প্রায় কাঁদো কাঁদো হয়ে যায় বেচারা বয়স্ক রিক্সা ওয়ালা মামা। আনন্দী তখন ও ঘাপটি মেরে বসে থাকে।
অভী বাইক থামিয়ে হকি’স্টিক নিয়ে সোজা রিক্সার সামনে দাঁড়িয়ে পরে। তারপর হকিস্টিক দিয়ে রিক্সার সামনে কয়েকটা বা’রি মা’রে। বারির চোটে সামনে থাকা গ্লাস দুটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। ভয়ে ব্যাগ দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে ফেলে আনন্দী।
অভী ইশারা করতেই রিক্সা ওয়ালা নিচে নেমে পরে। জনশূন্য রাস্তায় একটি কুকুর ও ছিলো না যে আনন্দীকে সাহায্য করবে।
নিজের শক্তি প্রয়োগ করে আনন্দীর হাতে থাকা ব্যাগটি এক টান দিয়ে নিজের দখলে নিয়ে নেয় অভী। কর্কশভাবে বলে,

__কীরে বা”ন্দী! আমারে চোখে পড়ে না তোর?”
__আমার ব্যাগ দিন।”
__দিতাম না।”
__অভী ব্যাগ দিন!”
আনন্দীর ঝাঁঝালো কথা গুলো শুনে অভী তার একপাশে বসে পরে। শক্ত করে ধরে আনন্দীর কোমর।গালটি শক্ত করে চেপে বলে,
__বা:ন্দীর বয়স যত না! তেজ ততবেশি। বাইর করতাছি তোর তেজ।”
মুহুর্তের মধ্যেই আনন্দীর ওষ্ঠ যুগলে নিজের ওষ্ঠ চেপে ধরে অভী। অনেকটাই রাফলি আনন্দীকে কি’স করতে থাকে সে।
অভীর সাথে পেরে না উঠতে পেয়ে ঠোঁটে খুব জোড়ে কাম’ড় বসায় আনন্দী।
__আহহহ! বান্দী মানুষ না-কি সাপ!”
আনন্দী কোনো উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না। সে মুখগহ্বর থেকে থুথু বের করে অভীর মুখে ছুঁড়ে মারে। তারপর নিজের ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যেতে থাকে।
আনন্দীর এহেন কান্ডে মেজাজ বিগড়ে যায় অভীর।চোখ বন্ধ করেই বলে,

__বহুত বাড়ছোস তুই শেখের বেটি। তোর ডানা আমি কাটবো মেয়ে।”
দৌড়াতে দৌড়াতে খানিকটা ফাঁকা রাস্তাতেই বাড়ি পৌঁছাতে সক্ষম হয় আনন্দী। প্রাণ তার যায় যায় অবস্থ।
কিন্তু বাড়ির সামনে পা রাখতেই থমকে যায় আনন্দী। পুরো উঠানটা মানুষে ভর্তি।অচেনা, রাগে ফুঁসতে থাকা মুখগুলো একসাথে জড়ো হয়েছে। চারপাশে চিৎকার, গালাগালি, আর ভাঙচুরের শব্দে যেন বাতাসটাই ভারী হয়ে আছে।
সদর দরজার পাশে ভাঙা ফুলদানি, উল্টে থাকা চেয়ার সবকিছু এলোমেলো। মনে হচ্ছে, কয়েক মুহূর্ত আগেও এখানে একটা স্বাভাবিক সংসার ছিল, আর এখন সেটা একদম তছনছ।
হঠাৎই ভিড়ের মাঝখান থেকে চিৎকার ভেসে আসে। কয়েকজন মিলে তার বাবাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। বাবার মুখে অসহায়তা, চোখে ভয় আর লজ্জার মিশ্র ছাপ।কিন্তু সেই চোখেই আনন্দীকে দেখে যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে যায় সময়।

__ছাড়ুন! আমার স্বামীকে ছাড়ুন!” মায়ের কান্নাভেজা গলা কাঁপতে কাঁপতে উঠে আসে। তিনি ছুটে গিয়ে তাদের আটকাতে চান, হাত ধরে টানেন, কিন্তু শক্ত হাতগুলো তাকে ঠেলে সরিয়ে দেয়। তিনি মাটিতে পড়ে যান, তবুও হাল ছাড়েন না।আবার ও উঠে দাঁড়িয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
এদিকে সবকিছু দেখে যেন স্তব্ধ হয়ে যায় আনন্দী। তারপর হঠাৎই ছুটে যায় সে, ভিড়ের মধ্যে ঢুকে বাবার দিকে হাত বাড়ায়,
__বাবা…!”
কিন্তু তার কণ্ঠ সেই হট্টগোলের মাঝে হারিয়ে যায়। কেউ তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়, কেউ গালাগালি করে। চারদিকে শুধু চিৎকার, ধাক্কাধাক্কি, আর বিশৃঙ্খলা।
মুহূর্তেই পুরো পরিবেশটা এক ভয়ংকর দৃশ্যে পরিণত হয়।
একটা পরিবার, অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আর চারপাশে শুধু রাগ, ক্ষোভ আর নির্মমতা।
আনন্দী আবারও ছুটে যায়।চোখে একরাশ ভয় আর জেদ মিশে। ভিড় ঠেলে বাবার কাছে পৌঁছাতে গিয়েই আবারও ধাক্কা খায় সে। শরীরটা ভারসাম্য হারিয়ে সামনে ঝুঁকে পড়ে।মুহূর্তের জন্য মনে হয় এবার আর বাঁচবে না।
ঠিক তখনই একটা শক্ত, দৃঢ় হাত তার কবজি আঁকড়ে ধরে। টান দিয়ে তাকে নিজের দিকে টেনে নেয়।
আনন্দীর নিশ্বাস আটকে আসে। কাঁপা কাঁপা চোখে পিছনে ফিরে তাকায় সে। অভী তাকে ধরে রেখেছে?
তার চোখ দুটো আজ অন্যরকম ঠান্ডা। চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে সে, যেন এতক্ষণকার সবকিছু এক মুহূর্তেই তার সহ্যের সীমা পেরিয়ে গেছে।
আনন্দীকে নিজের পিছনে সরিয়ে দিয়ে অভী সামনে এগিয়ে আসে। তারপর হঠাৎ করেই বজ্রের মতো গর্জে ওঠে।

—বাইনচ** রা! লেডিস আছে চোখ নাই। ধাক্কা দেস কোন শরমে?”
তার কণ্ঠে এমন এক দৃঢ়তা আর কর্তৃত্ব ছিল, যে মুহূর্তেই চারপাশের হট্টগোল থেমে যায়। ভিড়ের লোকগুলো একে অন্যের মুখের দিকে তাকাতে থাকে।
কারণ,এই মুখটা তাদের অচেনা না।অভী এখানে নতুন কেউ নয়। এই এলাকার মানুষ জানে সে কে।তার নাম, তার পরিচয়, আর তার ক্ষমতা।
কিছুক্ষণ আগেও যারা তাণ্ডব চালাচ্ছিল, তারাই এখন একটু একটু করে পিছিয়ে যায়। কারও চোখে দ্বিধা, কারও চোখে ভয়।
অভী ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যায়, তার দৃষ্টি সোজা সেই লোকগুলোর দিকে,যারা এখনো আনন্দীর বাবাকে ধরে আছে।
—শেখ পরিবারের যত দেনা আছে, আজকে আমি মেটাবো। কিন্তু বিনিময়ে সাদা কাগজে সই করতে হইবো তাদের।”

সাদা কাগজে সই করতে হবে এটা শুনেই বেঁকে বসে আজমল শেখ। এই যুগে ও সাদা কাগজে কে স্বাক্ষর করে? কিন্তু চারপাশের হট্টগোল এবং লোক লজ্জার ভয়ে সাইন করে দেয় তারা। আনন্দী ও সাইন করতে বাধ্য হয়। এভাবে কিছু সাদা কাগজ এবং কিছু লেখা কাগজে তাড়াতাড়ি করে সাইন করতে বাধ্য হয় তারা।
যেখানে পুরো বিষয়টাই ছিলো অভীর সাজানো, সেখানে সে-ই আবার এসেছিলো তাদের রক্ষা করতে। মানুষ বড়োই বিচিত্র প্রাণী। নিজেই তাদের বিপদে ঠেলে দিয়ে, আবার নিজেই উপকারের হাত বাড়িয়ে দেয়।
পেপারে সাইন করিয়ে জনসম্মুখে অভী বলে,

উন্মাদনা পর্ব ৮

__আজ থেকে শেখ পরিবার আমার কেনা।”
ভরা জনসম্মুখে অভীর মুখে এমন কথা শুনে বেশ বিচলিত হয়ে পরে আনন্দী। এই যুগে ও মানুষ কেনা বেচা করা যায়? তাছাড়া তার বাবাকে এই লাখ লাখ টাকার দেনাতে ফাঁসানো ব্যক্তিটি তো অভী নিজেই। তাহলে সে এমন নাটক করছে কেন? হয়তো তার মাথায় চলছে অন্য কিছু ।
ভীড়ের মাঝে লোকদের চিরে আনন্দীর কাছাকাছি দাঁড়িয়ে তার কানে অভী বলে,
_I want to sleep with you!”

উন্মাদনা পর্ব ১০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here