এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৩০
ফাতেমা তুজ জোহরা
রুশভিয়ান মেঝেতে চিৎ হয়ে শুয়ে আছে, পুরো রত্নকুঞ্জ ভিলা খালি কেউ নেই শুধু রুশভিয়ান ব্যাতীত। কিয়তক্ষন আগে সায়েরা চলে গিয়েছে কিন্তু যে কথা গুলো বলে গেছে সেগুলো শুনে এমপি মশাইয়ের অ*ক্কা পাওয়ার জোগার হয়েছে।সে কোনদিন ভাবতে পারেনি তার সাথে এরকম হবে। সায়েরা বেগম একএক করে সবকথা রুশভিয়ান কে বলল। ইনান ওইদিন রাতে নিঁ*খোজ হয়ে অনুদের গাড়ির সাথে ধা*ক্কা লেগেছিলো সেটাও বাদ দেয়নি ।এমনকি ইনান তার সাথে দশদিন কাটিয়েছে, তারা যে স্বামী স্ত্রী হয় সে কথাটাও বেমালুম ভুলে গেছে। এই একটা কথা শোনার পর রুশভিয়ানের মাথাটা ঘুরে উঠলো, এতক্ষণ ধরে চিন্তা করছিলো নিজের অংশ গুলোকে কিভাবে রক্ষা করবে আর এখন ইনানের যে স্মৃতি নেই সে ভাবনা তার মস্তিষ্ক নাড়িয়ে দিচ্ছিল । কিন্তু কি একটা ভেবে রুশভিয়ানের ঠোঁটে একচিলতে হাসি ফুটলো।
রুশভিয়ানের ভাবনার মাঝে রত্নকুঞ্জে প্রবেশ করলো আলী আর হাবিব। তাদের পায়ের শব্দ পেয়ে নিচ থেকে ঝট করে শোয়া থেকে উঠে বসলো। কিন্তু মাথাটা নিচু করে তাদের দিকে তাকানোর প্রযোজন বোধ করলো না। আলী এগিয়ে এসে ভ*য়ে ভ*য়ে বলল,” ভাই ওই ডাক্তার ম্যাডাম যেগুলা বইলা গিয়াছে ওই গুলো একটা ও মিথ্যা না? আমরা ওই অনু মাইয়াটার বাড়ি গিয়েছিলাম, সেইখানে ভাবী আছিলো এমনকি আপানার বড় আপার মাইয়া…… আলীর কথা শেষ হওয়ার আগেই রুশভিয়ান একহাত উঁচু করে থামিয়ে দিয়ে বলল,” ও আমার আপার মাইয়া না?
রুশভিয়ানের কথাটা যেন পুরো ড্রয়িংরুমে বো*ম ব্লা*স্টে*র মতো আ*ছরে পড়লো। আলী আর হাবিব হত্ববিহ্বল হয়ে তাকিয়ে রইলো রুশভিয়ানের দিকে। রুশভিয়ান আয়েশ করে মেঝেতে বসলো পা দুটো ভাঁজ করে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে ভিন্ন মানুষ বসে আছে মেঝেতে একটু আগের রুশভিয়ানের সাথে কোন মিল নাই।
হাবিব এগিয়ে এসে বিস্ময়তা নিয়ে বলল,” তাহলে ভাবীর পায়ে যে ছয়টা আঙুল কেন ইশিতা আপার মতো?
রুশভিয়ান হাবিবের দিকে তাকিয়ে বলল,” আমি সেটা জানিনা, কিন্তু এইটুকুন জানি আপা কোনদিন মা হইতে পারবে না ” বলেই হাবিবের দিকে তাকালো।
আলী এগিয়ে এসে বলল,” তাহলে আপনি যে এতগুলা কাঁদলেন ক্যান?
রুশভিয়ানের ঠোঁটে ফুটলো বাঁকা হাসি সে ঘাড় ঘুরিয়ে সিঁড়ি দিকে তাকিয়ে বলল,” আমার মাথাটা ন*ষ্ট হইয়া গেছিলো তাই কানছি, কিন্তু বহুত কাল আগের কথা গুলা মাথার ভেতর কেমন জানি চক্কর দিয়া উঠলো। মনে পড়লো একবার আপারে দেখতে আইছিলো এক জমিদারের পোলা।তখন আমার বয়স আছিলো আট। তখন তাদের কেডা বইলা দেয় আমার আপা নাকি ব*ন্ধ্যা। হের নাকি পোলাপাইন হবে না। তখন শুধু হেই কথাডা আম্মা জানতো পরে আমাদের পুরো বাড়ির লোক জানলো সেইদিন , এমনকি কাজের লোক জানবার বাদ আছিলো না । হেইদিন আমাগো বাড়িতে র**ক্তে*র বন্যা বইয়া গিয়াছিলো ” এতটুকু বলে থামলো রুশভিয়ান।
আলী শুকনো ঢোক গিলে বলল,” তারপর!
রুশভিয়ান ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল,” দাদাজান কখনো চাইতো না আপার এত বড় ঘটনা রুপনগরে ছড়িয়ে যাক।এটা হলে আমাগো মানসম্মান ধূলোয় মিইশা যাইতো তাই ওই দিন মির্জা মহলের বড় গেট সবার অগোচরে লাগাইয়া যতগুলান বাইরের লোক আছিলো প্রত্যেকরে আমার দাদাজান আর আমার বাপ মা*ই*রা ফালাইয়া দেয়। হেইদিন আপা বহুত কান্না করতাছিলো। আর বলছিলো হের লেইগা নাকি সব হইলো , এমনকি গলায় ফাঁ*স দেবার চেষ্টা করতাছিলে ” কথাটুকু বলে রুশভিয়ান শুকনো ঢোক গিলে আবারো শুয়ে পড়লো
রুশভিয়ানের কথায় যেন রত্নকুঞ্জের ড্রয়িং রুমের বাতাস থেমে গেল। তার সাথে থেমে গেল আলী আর হাবিবের নিঃ*শ্বা*স। দুজনে কি বলবে বুঝতে পারলো না। রুশভিয়ান কি কম যায়, যায় না। কিন্তু তার থেকে এককাঠি উপরে তার বাপ দাদা। কি সাং*ঘা*তি*ক কারবার? হাবিবের কপাল দিয়ে ঘাম বের হচ্ছে , আলী চোখ বড় বড় তাকিয়ে আছে রুশভিয়ানের দিকে।রুশভিয়ান ঠোঁটে হাসি আর এক হাতে বড় হওয়া দাঁড়ি গুলোতে হাত বুলিয়ে নিচ্ছে।
হাবিব বলল,” ভাই তাহলে কি আমরা সায়েরা ম্যাডামকে বলে দি, আপনি সব জানেন এমনকি ভাবী যে আপার মাইয়া না সেটাও?
হাবিব কথা শুনে রুশভিয়ান পুরো ড্রয়িং রুম কাঁপিয়ে হো হো করে হেঁসে উঠলো, তার অহেতুক হাসার মানে হাবিব আর আলী বুঝতে পারলো না।
রুশভিয়ান কোনরকমে হাসি থামিয়ে বলল,” তোদের কি মনে হইতাছে উনি জানেন না, আরে মাথা মোটার দল ওই মহিলা সব জানেন, তাই তো আমার লগে খেলতে আইছে। ও মনে করতাছে আমার কিছু মনে নাই, কিন্তু ও তো জানে না, ও যদি পাতায় পাতায় চইলা বেড়ায় তা হইলে রুশভিয়ান শিরায় শিরায় চলবো ” বলেই কিছুক্ষণ থেমে বলল, ” এক নাপিত রে খবর দে,চুল কা*ট*তে হইবো, তারপর আমার বউ এর কাছে যামু হের লেইগা আমার জীবনডা শুকাইয়া যাইতাছে” বলেই নিচ থেকে উঠে উপরে দিকে হাঁটতে লাগলো
আলী আর হাবিব মুখ চাওয়াচাওয়ি করে বাইরে চলে গেল৷
ইনান একজায়গা গাঁট হয়ে বসে আছে মাথা নিচু করে। পায়ের আঙুল দিয়ে কার্পেট খুটছে আর হাত দিয়ে শক্ত করে ওড়নাটাকে ধরে বসে আছে , তার থেকে কিছুদূরে বসে আছে আমির আর আইয়ুব । আইয়ুব ইনান কে আপাদমস্তক দেখে বলল,” রাস্তার কোন স*ম*স্যা হয়নাই তো ?
ইনান কি বলবে বুঝতে পারছে, সে মাথানিচু করে থাকলো। আমির ইনানের অস্বস্তি দেখে বলল,” আরে দাদা ইনান কে আগে বিশ্রাম লইতে দাও, হেই কতটা পথ পাড়ি দিয়া আইছে তার উপর নতুন জায়গা!
সত্যি তো রুপনগর থেকে ঢাকা কত কত মাইল দূরে । এতটা পাড়ি দিয়ে এসে মেয়েটার শরীরটা ভে*ঙে এসেছে। নতুন জায়গা, নতুন মানুষ সবমিলিয়ে মেয়েটার চোখ মুখে এক অস্বস্তি ।তাই আইয়ুব বলল,” ইনান কে উপর তলার রুশভিয়ানের পাশের রুমটা দিবা, আমি আগে থেইকা
ওই ঘরডা গুছাইয়া রাখতে কইছিলাম।
আমির মাথা নাড়লো সঙ্গে সঙ্গে । তারপর ইনানের দিকে তাকিয়ে বলল, ” চলো তোমারে ঘরডা দেখাইয়া দি! ইনান কিছু বলল না, সে শুধু আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালো ।
আমির সামনে এগিয়ে গেল তার পিছনে ইনান। আমির একবার ইনানের দিকে তাকিয়ে সর্তক গলায় বলল,” আস্তে হাঁটবা ভা.. কথাটা বলে থমকে গেল পরে প্রসঙ্গে পাল্টে বলল, ” চলো।
ইনান কি তার কথা শুনবে পুরো মির্জা মহল দেখে তার হুঁশ উড়ে যাবার জোগার। সকালের ওই বাড়িটার মতো। বিশাল প্রশস্ত সিঁড়ি, মেঝেতে চকচকে মার্বেল। সিঁড়ি দুপাশে কাঠের কারুকাজ তৈরির রেলিং। দেয়ালের গায়ে ঝুলছে বড় বড় পুরনো দিনের ছবি, ইনানের মনে হলো ছবির লোকগুলো তাদের দিকে নিরবে তাকিয়ে আছে। ইনান অবাক চোখে তাকালো ছবি গুলোর দিকে । ইনান কিছুক্ষণ থেমে আবারো হাঁটতে লাগলো তার চোখে মুখে এক ধরনের কৌতুহল মিশ্রিত হয়ে আছে। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই তার চোখ আরো বড় বড় হয়ে গেল ।
উপরের করিডোরটা নিচ তলার থেকে ও শান্ত। লম্বা করিডোরের চারপাশে সারি সারি কাঠের দরজা। অন্যপাশে রয়েছে বড় জানালা। ইনান চারপাশে ছ*ট*ফ*ট করে দৃষ্টি ঘুরিয়ে তাকাতে লাগলো। আমির সেটা লক্ষ্য করছিলো।
তারা দুজন হাঁটতে হাঁটতে করিডোরের শেষ প্রান্তের ডানপাশের রুমটা আমির এক আঙুল তুলে বলল,” এইডা তোমার ঘর? ইনান দরজার দিকে তাকালো, আমির এগিয়ে এসে প্রশস্ত দরজাটা খুলে দিতেই সুন্দর ঘর চোখে পড়লো। ঘরের মাঝখানে বড় একটা আলিশান বিছানায়। বিছানার উপরে পরিপাটি করে সাজানো সাদা চাদরের বিছানা। পাশে কাঠের টেবিল, তার উপরে কৃত্রিম ফুলের ফুলদানি। পুরো ঘরে সাদা জানলার পর্দা যা মৃদু বাতাসে দোল খাচ্ছে । ঘরের একপাশে বিশাল আলমারী তার অন্য পাশে ছোট সোফা আর ড্রেসিং টেবিল।
আমির শান্ত গলায় বলল,” ভালো লাগছে?
ইনান মাথা দুলিয়ে সায় জানালো।
আমির বলল,” তুমি বিশ্রাম নাও, আমি আসলাম ” বলেই বের হয়ে গেল।
আর ইনান এগিয়ে গিয়ে দরজা লাগিয়ে এসে নরম বিছানায় শুয়ে পড়লো । পুরো শরীরটা ম্যা*জম্যা*জ করছে তার তাই চোখ বন্ধ করতেই চোখে হানা দেয় গভীর নিদ্রা।
এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৯
সন্ধ্যা সাতটা বেজে সাত মিনিট তখন ইনান ঘুম থেকে উঠলো, তার ঘুমের মাঝে যে কতবার আইয়ুব আর আমির ডেকে গিয়েছে সে ইয়াত্তা নেই তার। ইনান চোখ দুটো ডলে এগিয়ে গেল ওয়াশরুমে দিকে। কিয়তক্ষন পর ওয়াশরুম থেকে বের হতেই তার পুরো ঘরের লাইট অফ হয়ে গেল। চারদিকে ঘিরে ধরলো অন্ধকারের ঘোর অমানিশা। তার কানে এলো কারো পায়ের শব্দ , যা ইনানের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় অবধি পর্যন্ত কেঁ*পে উঠলো। গুটিয়ে গেল সে। তবুও ভাঙা ভাঙা কন্ঠে বলল,” কে আছে ঘ*রে? কে লাইট বন্ধ করলো…. কথাটা বলেই থমকে গেল ইনান তার কো*ম*ড়ে কারো ঠান্ডা হাতের স্পর্শ পেয়ে। ভ*য়ে তার সারা শরীর কেঁ*পে উঠলো। সে অনুভব করলো হা*তটা আসতে আসতে জামার নিচে গিয়ে উ*দ*রে ঠেকছে…..
