Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪
সুহাসিনী

প্রেম রুমে ঢোকে দেখলো রাহি বাচ্চাদের মতো করে ঘুমাচ্ছে। পরণে পিংক কালারের স্লিপওয়ার সেট। যেটা দেখেই প্রেমের মাথা আবার গরম হয়ে গেলো।
আজকে তাঁদের বাসর কোথায় একটু তার জন্য বউ সেজে মুখে একটু লজ্জার ভাব নিয়ে বসে থাকবে তা না উল্টো বাচ্চা সেজে ঘুমাচ্ছে।এই কারণেই সে বিয়ে করতে চায়নি। যতো দোষ তার ওই বদমাশ বাপের।নাহ্ নাহ্ যত দোষ সব তার মরহুম দাদার। কোন আকাম করে যে এইরকম এক পিস জন্ম দিয়েছিল আল্লাহই জানে।
এসব ভাবতে ভাবতেই প্রেম তার পরণের পাঞ্জাবি খুলে সোফার উপর ছুড়ে মারলো। এসির পাওয়ার বাড়িয়ে দিয়ে সোফায় গা এলিয়ে চোখ বন্ধ করলো। যতক্ষণ চোখ খোলা রাখবে ততক্ষণ এই বাচ্চার দিকে নজর যাবে। যতো জালা হয়েছে তার।না তার বাপ কথা শুনে না চোখ।এই বাচ্চাকে এভাবে দেখার কি আছে?
রাহি ঠান্ডায় কুকিয়ে গেলো। আর বেশিক্ষণ ঘুমাতে পারলো না শীতের জন্য। চোখ খুলে নিজের অবস্থান বুঝতে কিছু সেকেন্ড সময় লাগলো।

চোখ খুলে প্রথমেই প্রেমের ফর্সা বুকের কালো কুচকুচে লোম গুলো নজর কাড়লো তার। ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। নিজের অজান্তেই উচ্চারণ করলো,”মাসাআল্লাহ্”
রাহির অবশ্য একটু হিংসেই হচ্ছে। ছেলে মানুষ এতো সুন্দর হতে হবে কেনো?সুন্দর তো হবে শুধু মেয়েরা।রাহির কাছে লাগলো প্রেম তার তুলনায় একটু বেশিই ফর্সা।
ঠান্ডার তোপ তার প্রেমময় মুহূর্ত বেশিক্ষণ টিকলো না। এসির রিমোট খুজেতেই দেখলো রিমোট প্রেমের সামনে টেবিলে রাখা। রাহি উঠে প্রেমের সামনে থেকে রিমোট উটাতেই হ্যাঁচকা টানে প্রেমের বুকের উপর পড়ে গেলো। প্রেমের বুকের পশম গুলো এসে তার মুখে লাগতেই এক মাতাল করা সুবাস এসে তার নাকে লাগলো।মন ভরে রাহি টা টেনে নিলো নিজের মধ্যে।
এই দিনটার জন্য সে কতদিন অপেক্ষা করেছে কতো শত রঙিন স্বপ্ন বুনেছে এই ছোট্ট মনে তার এমপি সাহেবকে নিয়ে।
প্রেম হাতের বাঁধন শক্ত করে রাহির গাল চেপে মুখ বুক থেকে উপরে তুলে শক্ত কণ্ঠে বললো,
প্রেম:”আমাকে জ্বালানোতে তুই এত সুখ পাস? কেনো আমার অবাধ্য হলি বল।”
রাহি :”আর হবো না আপনার অবাধ্য। ছেড়ে দিন প্লীজ।”
প্রেম:”ছাড়ার জন্য কি ধরেছি নাকি?”

প্রেম:”কলিজা কত বড় তোর, পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চির বাচ্চা আমার অবাধ্য হোস।মেরে ফেলি এখন।কে বাঁচাবে তোকে।”
গালের ব্যথায় রাহির চোখে পানি চলে আসলো।তবুও সে দৃঢ় কণ্ঠে বললো,
রাহি:”আপনি আমাকে কিছু করতে পারবেন না এমপি সাহেব। কারণ আমি আপনার বউ।”
প্রেম:”কলিজা কাপছে না নিজেকে আমার বউ দাবি করতে?”
রাহি:”নাহ্ কাপছে নাহ্।”
প্রেম রাহিকে ছেড়ে দিলো।ওয়াশরুমে যেতে যেতে বললো,
প্রেম:”যাও ড্রেস চেঞ্জ করে শুয়ে পড়ো।আমার সামনে বাচ্চা সেজে থাকবে না একদম।বাচ্চা আমার পছন্দ না।”
এবার রাহি চেতে গেলো।এক লাফে প্রেমের সামনে গিয়ে রাস্তা আটকে কোমরে হাত দিয়ে বললো,
রাহি:”এইযে মিস্টার,আমাকে আপনার কোন দিক দিয়ে বাচ্চা মনে হয়?আমি কি ফিডার খাই নাকি?আমি ক্লাস নাইন পড়ি বুঝলেন।”

প্রেম:”হুম, এখনোও স্কুল এর গণ্ডি পেরোতে পারোনি এখনি নিজেকে বড় বলে দাবি করছ?”
রাহি খুব কনফিডেন্স এর সহিত জবাব দিলো,
রাহি:”হুম করছি। বিশ্বাস না হলে চেক করে নিতে পারেন।”
প্রেম:”আমি চেক করতে গেলে নিজেকে সামলেতে পারবে তো।পরে যেনো আবার আমাকে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করতে না হয়।”
রাহি:”আপনার মতলব কিন্তু ভালো না এমপি সাহেব।”
প্রেম:”এতো কম বয়সে এতো অ্যাডভান্স হয়ে গেছো যে আমার মতলবও তুমি ধরে ফেলছো। বাহ্,কি টেলেন্ট।আমার বাপ তাহলে আমার জন্য ঠিক মেয়েকেই এনেছে।সমানে সমানে টক্কর দেওয়া যাবে কি বলো অবাধ্য বউ।”
রাহি:”একদম অবাধ্য বলবেন না আমাকে। বলেছি তো এখন থেকে সব কথা শুনবো আপনার।”
প্রেম:”তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে বকবক না করে যেটা করতে বলেছি করো। গো ফাস্ট।”
প্রেম ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। রাহি এসির পাওয়ার কমিয়ে তাড়াতাড়ি ল্যাগেজ থেকে একটা জর্জেটের মধ্যে ছাই রঙের শাড়ি বের করে পড়ে নিলো।
সে মোটামুটি ভালোই শাড়ি পড়তে পারে। শাড়ি পরে নিজেকে পরিপাটি করে সুন্দর করে বিছানায় বসে ঘোমটা টেনে লাজুক হাসলো।

কিছুক্ষণ পর প্রেম বেরিয়ে রাহির এই অবস্থা দেখে টাশকি খেয়ে তাঁকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। বেচারা যত নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছে তত মেয়েটা তার ভিট নড়িয়ে দিচ্ছে।নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনছে।
প্রেম নিজেকে সামলে কিছুটা রাগী ভাব নিয়ে রাহির কাছে গিয়ে শক্ত কণ্ঠে বললো,
প্রেম:”এই পিচ্চী তুই কি আমাকে একটু শান্তি দিবি না। সেজেছিস কেনো? আমাকে সিডিউস করার জন্য এতো উতলা হচ্ছিস কেনো? কে বলেছে এসব করতে?”
রাহি কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
রাহি:”দাদি বলেছে।”
প্রেম:”কি বলেছে তোমার ওই বুড়ি দাদী।”
রাহি:”বলেছে আপনার জন্য যেনো প্রতি রাতে সেজে বসে থাকি।”
প্রেম:”তোমাকে মারার ধান্দা করেছে ওই বুড়ি।ওই বুড়ি তো জানে না তোমার মতো পিচ্চি মেয়ে আমাকে সামলানোর যোগ্যতা রাখে না।”

রাহি:”একদম আমার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না বলে দিলাম। আমি কিন্তু ক্লাস ফাইভেও বৃত্তি পেয়েছি আবার ক্লাস এইটেও পেয়েছি,সো, আমার অনেক যোগ্যতা আছে।”
প্রেম:”হ্যাঁ, তা তো নিজ চোখেই দেখতে পাচ্ছি। মাথার সব ঘিলু হাঁটুতে নিয়ে ঘোর।”
রাহি:”আমি কিন্তু আমার শ্বশুর আব্বাকে বলে দিবো যে আপনি আমাকে মেরেছেন।”
প্রেম মাথায় হাত দিয়ে বললো,
প্রেম:”এই তুমি তো খুব ধড়িবাজ মেয়ে,আমি আবার তোমাকে কখন মারলাম?”
রাহি:”মারেননি তবে আমি বলবো।আমি যা বলব তাই বিশ্বাস করবেন উনি।”
প্রেম:”করবেই তো,তুমি আর সে তো এক মেটেরিয়াল দিয়েই তৈরি আমার মনে হয়।”
রাহি”আচ্ছা ওসব বাদ দেন।আমাকে চুমু খাবেন না আপনি?”
প্রেম কেশে উঠলো।

প্রেম:”চুমু কীভাবে খাই বউ?”
রাহি টুপ করে একটা চুমু খেলো প্রেমের গালে। তারপর খুব খুশি খুশি মনে নিয়ে বললো,
রাহি:”কেমন লাগলো আমার চুমু এমপি সাহেব?”
প্রেম:”খুবই বাজে।কেমন যেনো বাচ্চা বাচ্চা গন্ধ।”
প্রেমের কথায় রাহির চোয়াল ঝুলে গেলো। প্রেম বললো,
প্রেম:”তুমি এখনো বাচ্চা সেটা তোমার চুমু খাওয়ায় স্টাইল দেখেই বুঝা যাচ্ছে।বড়দের মতো চুমু খেতে পারো না তুমি।”
রাহি:”বড়োরা তাহলে কীভাবে চুমু খায়।”
প্রেম:”এখন কি আমি রাত জেগে তোমার চুমু খাওয়ায় ক্লাস নিবো বেয়াদব।”
রাহি:”আচ্ছা তাহলে ঘুমান। কাল শিখিয়ে দিয়েন।নয়তো আপনার ফোনটা দিয়েন।”
প্রেম:”কেন?”

রাহি:”বড়রা কীভাবে চুমু খায় সেটা ইউটিউব এ সার্চ করে দেখে শিখে নিবো।”
প্রেম কপালে হাত দিয়ে বিছনায় শুয়ে পড়লো। রাহির তার পাশে শুলো। রাহির পা প্রেমের পায়ে লাগতেই প্রেম ধরাম করে উঠে বসলো।
রাহি:”কি হলো আপনার?”
প্রেম:”তুমি আমার সাথে ঘুমাবে না।”
রাহি:”তাহলে কোথায় ঘুমাবো আমি?”
প্রেম:”জানি না।”
রাহি:”আজব তো।এতক্ষণ আমাকে বাচ্চা বলে এখন তো আপনি নিজেই বাচ্চাদের মতো আচরণ করছেন।”
প্রেম:”আমি কিন্তু কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলবো।তারপর…”
রাহি:”তারপর কি?আর কিসের কন্ট্রোল হারাবেন আপনি?”
প্রেম নেশালো কণ্ঠে বললো,
প্রেম:”তোমাকে আদর করার।”
রাহি লজ্জায় নেতিয়ে গেলো। প্রেম রাহিকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে কপালে পড়ে থাকা চুল গুলি সযত্নে কানের পিঠে গুঁজে দিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললো,
প্রেম:”লজ্জা পাওয়ার মতো বয়স এখনও হয়নি তোমার বউ। এখন মাঝখানে কোল বালিশ দিয়ে সুন্দর করে ঘুমিয়ে পড়ো। গুড নাইট।”
বলেই প্রেম ফোন নিয়ে বারান্দায় চলে গেলো। রাহি বোকার মতো কিছুক্ষণ বসে থেকে ঘুমিয়ে গেলো।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৩

সকাল সাড়ে আটটায় রাহি নাস্তার টেবিলে বসে আছে। প্রেমের আব্বু টেবিলে বসতে বসতে রাহিকে বললেন,
“ঘুম ঠিক মতো হয়েছে তো আম্মু?”
রাহি:”হয়েছে বাবা।”
“গুড, প্রেম কি কিছু বলেছে তোমাকে?”
রাহি:”হ্যাঁ অনেক কিছু বলেছে।আপনার নামেও অনেক খারাপ খারাপ কথা বলেছে।”
প্রেমের বাবা ভ্রু কুচকে বললেন,
“কি বলো এসব?কি কি বলেছে বজ্জাত ছেলে আমার নামে?”

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৫