Home চেকমেট ২ চেকমেট ২ পর্ব ২২

চেকমেট ২ পর্ব ২২

চেকমেট ২ পর্ব ২২
সারিকা হোসাইন

শাহরান রোদ কে ছেড়ে এগিয়ে গেলো ডেস্কের দিকে।এরপর চোখের রিমলেস রেক্টেঙ্গুলার শেপের চশমা খানা তর্জনী আঙুলে ঠেলে চোখে ঠিক মতো লাগিয়ে ,শার্টের হাত কুনুই পর্যন্ত গুটিয়ে ডেস্ক থেকে একটা মার্কার তুলে হোয়াইট বোর্ডে খসখস করে লিখলো আজকের পাঠ্য বিষয় বস্তু।এরপর বিজ্ঞ প্রফেসর এর ন্যয় পুরো ক্লাস রুম জুড়ে পায়চারি চালিয়ে বোঝাতে লাগলো একের পর এক সূত্র ।রোদ বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইলো।মানুষটা কেমন সহজ ভাবে কঠিন বিষয় গুলো মুখে মুখে রপ্ত করিয়ে দিচ্ছে সেই সাথে প্রতিটি স্টুডেন্টসকে পটাপট উত্তর দিচ্ছে স্টুডেন্ট এর পক্ষ থেকে ছুঁড়ে দেয়া প্রত্যেক প্রশ্নের।রোদ বিমোহিত হলো।মানুষটার দক্ষতায় চমকিত হলো ও বটে।কিন্তু পরক্ষনেই মানুষটার সাথে তার পূর্ব সম্পর্ক মনে পড়তেই সমস্ত তাল কেটে গেলো তার।শাহরানের লেকচার ফোকাস করার মত ধারালো মস্তিষ্ক তার রইলো না।সে ডুবে গেলো সাড়ে ছয় বছর আগের পুরোনো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত স্মৃতিতে।
স্মৃতি পটে শাহরানের র*ক্তাক্ত সাদা হুডি, জন নামক এক ছেলের ছি-“”ন্নভিন্ন দে*হ আর শাহরানের ক্রুর নজর ভেসে উঠলো।সেই সাথে কানে বাজলো―

“I will never leave you. I’ll stay by your side like a shadow. God promise.”
হঠাৎ রোদের ডাক পড়লো―
“এতক্ষন যেসব বিষয়ে আলোচনা করেছি তার সারসংক্ষেপ এক্সপ্লেইন করুন রোদসী চৌধুরী।আপনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমার বিরক্তি কাজ করছে।আপনার জন্য পেছনের স্টুডেন্ট দের প্রবলেম হচ্ছে।”
রোদ হকচকিয়ে উঠলো।এতক্ষন সে তো কিছুই শুনেনি।তবে এবার উপায়?শাহরান যেন উত্তর নেবার জন্য নাছোড়বান্দা।রোদ ফাঁকা ঢোক গিললো।শাহরান চশমার উপর দিয়ে অদ্ভুত নজরে তাকিয়ে রোদসীর কুপোকাত হওয়া চেহারা দেখলো।সেই দৃশ্যে তার পিশাচ সত্তায় আনন্দ হলো কিনা বুঝা গেলো না।চোখ মুখের অভিব্যক্তির বিশেষ পরিবর্তন ঘটলো না।শাহরান তাচ্ছিল্য গলায় ভরা ক্লাস রুমে রোদ কে হেয় করে শুধালো―
“আমার জানা মতে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি কোনো ব্রেইনলেস স্টুডেন্ট এলাউ করে না।আপনি চান্স পেলেন কি করে?so this is how you got your place here? Nepotism.”

আত্মীয়স্বজনের সুবিধা ভোগ করে রোদ এখানে চান্স পেয়েছে এটা বলা মাত্র ক্লাস রুম জুড়ে ফিসফিস শুরু হলো।এহেন কুৎসিত কথায় রোদের চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এলো।সে মাথা নত করে ঠোঁট কামড়ে ভেতরের কষ্ট দমন করার চেষ্টা চালালো।শাহরান পূর্ব প্রতিশোধ নিতে তাকে ইচ্ছে করে ছোট করছে।রোদ বুঝলো সবটা।তবুও কোনো প্রতিবাদ বা প্রতিক্রিয়া দেখালো না।কারন শাহরান আজ যা করছে তার সবটাই তার প্রাপ্য।একদিন এর চাইতে অধিক অপমান অপদস্থ্যে মানুষটাকে জর্জরিত করেছিলো সে।এতেই কি শেষ?শাহরানের অর্ধেক জীবন ধ্বংস হতে হতে বেঁচে গিয়েছিল শুধু মাত্র তার একটা ভুল মিথ্যে সাক্ষীতে।
রোদ নীরবে কপোল গড়িয়ে পড়া জল হাতের উল্টো পিঠে মুছে বহু কষ্টে সাহস সঞ্চয় করে বলে উঠলো―
“সরি স্যার।নেক্সট টাইম থেকে এরকম হবে না।আমি চেষ্টা করবো প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর দেয়ার।”
শাহরান সন্তুষ্ট হলো না ।সে চোখে মুখে বিরক্তি ঢেলে বলে উঠলো;―

“সিট ডাউন।”
বলেই নেক্সট ক্লাসের বিষয়বস্তু মার্ক করে নিজের সবকিছু গুছিয়ে নিলো।ক্লাস পিরিয়ড এখনই শেষ হবে।শাহরান টাইয়ের নট ঠিক করে বেরিয়ে গেলো বাইরের উদ্দেশ্যে।রুদ্ধশ্বাসে ভরা ক্লাসরুম যেনো দম ছাড়ার ফুসরত পেলো।শাহরান চলতে গিয়ে দরজার কাছে থেমে দাঁড়ালো।অতঃপর ভারী ঠান্ডা গলায় বললো―
“আমার কেবিনে আসুন রোদসী চৌধুরী।”
বলেই হনহন করে বেরিয়ে গেলো।শাহরান যেতেই ডোম ঘরের ন্যয়
নীরব ক্লাস শব্দে উদ্বেলিত হলো।রোদ এখনো মাথা নত করেই দাঁড়িয়ে আছে।ক্লাস রুমের ত্রিধারে শাহরান আছে কি না তা পরখ করতে ছুটে গেলো লিওনা।ফিরলো তাৎক্ষণিক।এরপর রোদের বাহু ঝাকিয়ে বলে উঠলো―
“আমরা এর আগেও উনার অনেক ক্লাস করেছি।কখনো এতো হার্ড দেখিনি।আজ যেনো নতুন করে তাকে আবিস্কার করলাম ।ঘটনা কি বলো তো?সে কি তোমার পূর্বপরিচিত?”
হড়হড় করে প্রশ্ন গুলো জিজ্ঞেস করে উত্তরের আশায় উন্মুখ তাকিয়ে রইলো লিওনা।কিন্তু রোদ একটা শব্দ পর্যন্ত উচ্চারণ করলো না।শুধু নিজের ব্যাগ কাঁধে তুলে বেরিয়ে গেলো বাইরে।উদ্দেশ্য শাহরানের কেবিন।

নিজ কেবিনে ল্যাপটপে গত দিনের ক্লাস টেস্টের রেজাল্টের রিপোর্ট খুলে বসেছে শাহরান।নম্বর গুলো এখনো ক্লাসে এনাউন্স করা হয়নি।পুরো শিট গুছিয়ে আগামী কাল এক্সাম পেপার গুলো ক্লাসে দিয়ে দেবে।কয়েকজন বাদে সকলেই ভালো নম্বর পেয়েছে।যারা পই পই করে বোঝানোর পরেও শূন্য খাতা ফেরত দিয়েছে তাদের জন্য স্পেশাল ট্রিটের ব্যবস্থা করেছে শাহরান।গত কাল সবার সামনে সেই ট্রিট ওপেন করবে সে।
শাহরানের কেবিনের বাইরে ব্যগ প্যাকের দুই ফিতা টেনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে রোদ।লোকটা কেনো তাকে ডেকেছে সে জানেনা।হতে পারে নিউ কোনো পানিশমেন্ট।মানুষটার সঙ্গে দেখা হবার পর থেকে ভয় যেনো বুকের খাঁচায় গট করে আটকে রয়েছে।নিশ্বাস নিতে পর্যন্ত কষ্ট হচ্ছে।মনে হচ্ছে আজন্মের হাঁপানি রোগী সে।অথচ সকাল বেলায় ও দিব্যি ভালো ছিলো।মনের ভেতর নানান অশনি সঙ্কেত কু গাইতে শুরু করেছে ইতোমধ্যে।মন বলছে ভেতরে নিয়ে রোদকে বেধড়ক পেটাবে শাহরান।নয়তো গলা টিপে ধরে বলবে―
“মিথ্যে সাক্ষী দিয়ে আমায় জেলে পাঠিয়েছিলে কেনো রোদসী অরোরা?তোমাকে ভালবাসতে চেয়েছিলাম বলে এভাবে ঘৃণা করেছিলে?এখন যদি তার হাজার গুণ ঘৃণা তোমায় ফিরিয়ে দিই তবে কি করবে তুমি?সহ্য করতে পারবে?”

রোদ মাথা নাড়ালো।নিজেকে শান্ত করে বলে উঠলো এমনটি কিছুই হবে না।পরক্ষনেই মন বললো―
“ও তোকে ছাড়বে না।তোকে জ্বালিয়ে ছারখার করে দেবে দেখিস।”
মনের দ্বিধাদ্বন্দ্বে এক পা এগুতেই দু পা পিছিয়ে নেয় রোদ।চিবুক নিংড়ে নোনতা ঘাম ঝরছে।সেই সাথে ভিজে উঠছে হাতের তালু।বুক ভরে দম নিয়ে কিঞ্চিৎ সাহস সঞ্চয় করে রোদ গলা খাকরি দিলো।কিন্তু আশ্চর্য ! কোনো শব্দ হলো না।দরজার ফাঁক গলিয়ে অল্প মাথা ভেতরে দিয়ে উকি দিলো রোদ।শক্ত চোয়াল আর বিরক্তির ভাঁজে কপাল নিয়ে খটখট করে ল্যাপটপ টিপছে শাহরান।আশেপাশের বিষয়ে তার যেনো কিচ্ছুটি ধ্যান নেই।রোদ ফস করে শ্বাস ছাড়লো।দরজায় নক করে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে চাইলো।কিন্তু তার আগেই ভেসে এলো মোটা গলা―
“আপনি পাঁচ মিনিট বাইশ সেকেন্ড ধরে দাঁড়িয়ে আমার কাজের ডিস্টার্ব করছেন।ভেতরে আসুন।”
রোদের চোয়াল ঝুলে গেলো।ঈষৎ ফাঁকা হলো ফিনফিনে পাতলা ঠোঁট জোড়া।সেই সঙ্গে বিস্ফারিত হলো নীল মনির চোখ জোড়া।শাহরানের আদেশ পেতেই বড় বড় পাপড়ি ঝাপ্টে তড়িঘড়ি করে ভেতরে ঢুকলো রোদ।এরপর শাহরানের ডেস্কের সামনে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে ব্যগের ফিতা টানতে টানতে বলে উঠলো―

“ডেকেছিলেন।”
শাহরান দীর্ঘ তপ্ত শ্বাস ফেললো।এরপর ড্রয়ার থেকে একটা প্রশ্ন বের করে বলে উঠলো―
“এক্সাম দিন।”
রোদ যেনো মাটি ফাঁক হয়ে গহ্বরে তলিয়ে গেল।সে তো ক্লাসই করেনি।কিসের এক্সাম দেবে?না পড়ে কেউ এক্সাম কি করে দিতে পারে?”
রোদ ফাঁকা ঢোক গিলে চৈত্রের খরার ন্যয় চৌচির হয়ে শুকিয়ে উঠা গলা একটু ভিজিয়ে নিলো।এরপর মিহি কম্পিত গলায় বললো―
“বিগত দিনে এক্স প্রফেসর যেসব ক্লাস করিয়েছেন আমি সেগুলোতে এটেন্ড করিনি স্যার।সত্যি বলতে রিভিশন ছাড়া এক্সাম দেয়া পসিবল নয়।”
শাহরান ল্যাপটপ ফেলে উপরে তাকালো।মেয়েটার সাহস কতখানি তা পরখ করলো।অতঃপর শ্লেষত্বক গলায় বললো―

“আপনি ক্লাস করেননি সেটা কার দোষ?আমার নাকি আপনার?”
রোদ মিইয়ে গেলো।মানুষটার সাথে জবাব দিতে গেলেই বিপত্তি বাঁধবে।যত কম কথা বলে এখান থেকে কেটে পড়া যায় ততোই উত্তম।রোদ চুপসে যাওয়া গলায় বললো―
“বিগত দিনে আমি অসুস্থ ছিলাম।এজন্য ক্লাসে এটেন্ড করতে পারিনি।যেহেতু অসুস্থ আমি ছিলাম সেহেতু দোষ আমারই।”
রোদের উত্তরে শাহরানের মসৃন কপালে সূক্ষ ভাঁজ পড়লো।বিরক্তির নাকি চিন্তার তা বোঝা গেল না।ফর্মালিটি রক্ষার্থে শুধালো―
“কি হয়েছিলো?”
রোদ তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলে উঠলো―
“আমি মেন্টালি ডিপ্রেসড ।আমার সাইকোলজিক্যাল ডিসওর্ডার আছে।”
বলেই মাথা নুইয়ে ফেললো রোদ।আকস্মিক কান্না পাচ্ছে তার।সুডোবালবার এফেক্ট এট্যাক করছে তাকে।অনিয়ন্ত্রনহীন কান্না দলা পাকাচ্ছে গলায়।রোদ নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করতে অস্থির হয়ে উঠলো।শাহরান সবটাই খেয়াল করলো।ল্যাপটপ ছেড়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে বুকে দুই হাত গুঁজে রোদকে আগাগোড়া পরখ করলো।এরপর ডেস্কের ড্রয়ার থেকে একটা চকলেট এগিয়ে রোদের পানে মেলে বলে উঠলো―

“নিন।”
চকলেটের পানে কিছুক্ষন শান্ত স্থির তাকিয়ে রইলো রোদ।মস্তিষ্ক হঠাৎ মানুষটার নমনীয় আচরণের হেতু খুঁজতে ব্যস্ত হলো।শাহরান নিজের সামনের চেয়ার নির্দেশ করে বলে উঠলো―
“বসুন।”
রোদ অল্প স্বস্তি অনুভব করলো।সন্ত্পর্নে কাঁপা হাতে চেয়ার টেনে বসে ধন্যবাদ জানালো।কিন্তু চকলেট নিলো না।শাহরান রোদের সামনে চকলেট রেখে টেবিলে কিঞ্চিৎ ঝুকে বলে উঠলো―
“আমার জানা মতে আপনার পড়াশোনা শেষ হবার কথা।কিন্তু আপনি মাস্টার্স ফার্স্ট ইয়ারে কি করছেন?”
রোদ জবাব দিতে ইতস্তত বোধ করলো।সে মুখ ঘুরিয়ে নিলো।শাহরান ত্বরিত প্রসঙ্গ পাল্টে ফেললো।এসব পেশেন্ট এর ঘনঘন মুড সুইং হয়।যত দ্রুত এদের চিন্তা ভাবনা অন্যদিকে ডাইভার্ট করা যায় ততো ভালো।
শাহরান টেবিলের উপর থাকা কয়েকটা শীট নিয়ে এগিয়ে রোদের সামনে রেখে বলে উঠলো―
“এই শিট গুলো ধরে ধরে পড়বেন।এক্সামে এগুলো আসবেই আসবে।এর আগেও আপনি দুটো ক্লাস টেস্ট মিস করেছেন।রিপোর্ট কার্ডে দেখেছি আমি।আমি চাইবো পড়াশোনায় একটু সিরিয়াস হবেন প্লাস ক্লাসে মনোযোগী হবেন।আর….

শাহরান বাকি কথা শেষ করলো না।টেবিলে থাকা গ্লাস থেকে ঢকঢক করে জল খেয়ে গিলে নিলো বাকি কথা।শুধু হাত ইশারা করে বলে উঠলো―
“আপনি আসুন।”
রোদ নিঃশব্দে উঠে দাঁড়ালো নির্দেশ পেতেই।যেনো বহু বছর বাদে কয়েদ খানা থেকে মুক্তি মিলল তার।সে হন্তদন্ত করে উঠে বেরিয়ে গেলো।শাহরান পিছু ডাকলো―
“আরে নিজের ফোনটা তো নিয়ে যাবেন!”
রোদ শুনলো না।এক প্রকার দৌড়ে পালালো।শাহরান রোদের যাবার পানে তাকিয়ে বিরক্তিতে চ’ সূচক শব্দ করলো।মেয়েটা এখনো আগের মতোই রয়েছে।দু লাইন বেশি বোঝার অভ্যেস এখনো বদলেনি।চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো শাহরান ,এরপর ফোনটা হাতে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো।মেয়েটির ছায়া পর্যন্ত কোত্থাও নেই।ফোনটা হাতের মুঠোয় চেপে ঠোঁট শক্ত করে এদিক সেদিক তাকাতেই মাঠের দিকে নজর গেলো।ঐতো রোদসী অরোরা।উম্ভ্রান্তের ন্যয় দৌড়ে পালাচ্ছে।শাহরান কপাল কুচকালো।সে কি ভাগ ভাল্লুক?এভাবে ভয় পাবার কি আছে?

ভার্সিটির এরিয়া ছাড়িয়ে আরো কয়েক হাত দূরে দৌড়ে এসে দম ছাড়লো রোদ।মনে হলো আরেকটু হলেই কলিজা বেরিয়ে যেতে নিচ্ছিলো।সেদিনের সেই হাস্যজল মানুষটা এমন কঠিন রূপে কাম ব্যক করেছে ভাবতেই রোদের সর্বাঙ্গ শিউরে উঠলো।হাঁপাতে হাঁপাতে কোনো মতে একটা ট্যাক্সি ধরে নিজের বাসার দিকে ছুটলো।বাড়ির সামনে ট্যাক্সি থামতেই ভাড়া পে করতে গিয়ে রোদের মাথা ঘুরে উঠলো।ফোনটা শাহরানের কেবিনে ফেলে এসেছে।রোদের ইচ্ছে হলো দেয়ালে বাড়ি মেরে নিজের মাথা নিজেই ফাটাতে।আপাতত টাকা দিয়ে ভাড়া মিটিয়ে বাড়ির ভেতরে পা বাড়ালো রোদ।মাথায় ফোনের চিন্তা ঘুরছে।ফোনটা নিতে গিয়ে কাল আবার মানুষটার মুখোমুখি হতে হবে।বিধাতার ইচ্ছেই যেনো শাহরান শাহজাইন এর সামনে রোদকে নাকানি চুবানি খাওয়ানো।নয়তো এতগুলো বছর পর কেনো আবার তাদের মুখোমুখি সাক্ষাৎ হলো?রোদ তো কখনো চায়নি তাদের আবার কখনো দেখা হোক।মুহূর্তেই রোদের অবচেতন মন ধমকে উঠলো―

চেকমেট ২ পর্ব ২১

“তুই মিথ্যে বলছিস।তুই খুব করে চেয়েছিলিস মানুষটার সঙ্গে তোর পুনরায় দেখা হোক।তুই নিজে তাকে কোথায় কোথায় খুঁজেছিস তা আমার চাইতে আর কে ভালো জানে?দেখা যখন হয়েছেই তবে কিসের এতো দ্বিধাদ্বন্দ্ব তোর?”
রোদ জবাব দিতে পারে না।শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে।পূর্বের ভয়ানক স্মৃতি গুলো হৃদয়ে হিংস্র ভাবে আঁচড় কাটে।নিদারুণ যন্ত্রনা তাতে।হাজার চেয়েও তার থেকে পরিত্রাণ পাওয়া দুষ্কর।দগদগে তাজা ক্ষততে কবে মলমের প্রলেপ পড়বে তাও অজানা।শুধু অপেক্ষা ,
“সবটা একদিন ঠিক হয়ে যাবে।সব!”

চেকমেট ২ পর্ব ২৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here