তাকদীর পর্ব ১
নিরুর কল্পনারাজ্য
যেদিন আমার পাঁচবছরের সংসারে সে একজন পতিতাকে বিয়ে করে আনলো সেদিন আমি কাঁদার পরিবর্তে তার কাছে তালাক চেয়েছিলাম। এতে ফারিশ অবাক হয়েছিলো। তার মতো একজন পুরুষ ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারেনি যে আমার মতো একজন শান্ত-শিষ্ট মেয়ে তাকে এভাবে ছেড়ে দিতে পারে!
সে রুষ্ঠ চিত্তে বলেছিলো,
— ফাহমিদা, এসব তুমি কী বলছো? আমাদের তিন বছরের আমিরার কী হবে?
আমি নির্বিকার কন্ঠে বলেছিলাম,
— আমার সন্তান অবশ্যই আমার সাথে যাবে। আমি তাকে কোনো এমন ব্যক্তির সাথে থাকতে দিতে পারিনা যিনি তার জন্মদাত্রীকে ঠকিয়েছেন।
ফারিশ অবাক হওয়ার সাথে সাথে গর্জে উঠে বলেছিলো,
— এসব কী ধরণের কথা বলছো তুমি? ইসলাম মতে আমি চারটা বিয়ে করতে পারি। এতো ওভাররিয়্যাক্ট কেনো করছো তুমি?
— ইসলাম মতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি এবং পরিস্থিতি সাপেক্ষে দ্বিতীয় বিয়ে করা জায়েজ আছে জনাব। সেক্ষেত্রে আপনার এমন বানোয়াট যুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করছি আমি!
— আমি তোমাকে তালাক দিবো না। তোমার আব্বু-আম্মুর কাছেও বিচার দিবো। এ’কেমন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন তারা আমার সাথে?
আমি শান্ত ভাবেই জবাব দিয়েছিলাম,
— আপনার-আমার বাগদান ছোটবেলা থেকে ঠিক করা ছিলো। এমনকি আপনি বলতেন আপনি আমাকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। সেই মহব্বত যখন বিয়ের পাঁচবছরেই গায়েব হয়ে গিয়েছে তখন আপনি আমার আব্বু-আম্মুকে কী-ইবা জবানবন্দি দিতে পারবেন?
— ফাহমিদা!
আমি তার গর্জনকে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করেছিলাম। তখন তার পাশে নববধূরূপে দাঁড়ানো মোহময়ী নারীটি আমাকে ভাঙতে ফারিশকে আরও উৎসাহ দিতে বলে,
— ফারিশ! দেখলে তো? এরকম মেয়েরা এমনই হয়। বোরকা-হিজাবের আড়ালে যত্তসব নষ্টামি লুকিয়ে থাকে। দেখো কার সাথে কী করছে তোমার থেকে লুকিয়ে। তাইতো তোমাকে এতো সহজে তালাক দিচ্ছে।
আমার সেদিন হাসি এসেছিলো তার কথায়। শান্ত ভঙ্গিতে জবাব দিয়েছিলাম,
— পতিতালয়ের একজন বাইজির হাত ধরে আপনি কিনা আমাকে আর আমার মেয়েকে ত্যাগ করলেন ফারিশ। এর ফলস্বরূপ আল্লাহতায়ালা আপনার কোনো কোনোরূপ অকল্যাণ না করুক এই কামনা করি।
এ’কথার পর তিনি আমাকে রেগে থাপ্পড় বসিয়েছিলেন গালে। আমি অবাক হয়ে তাচ্ছিল্য করে হেসেছিলাম কেবল। তিনি তখনই সজ্ঞানে আমাকে রেগে কয়েকটি শব্দ নিঃসৃত করেছিলেন,
— তালাক, তালাক, তালাক!
এরপর পরই আমি আমার মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলাম। আমি আর আমার প্রাক্তন ঢাকায় আলাদা ফ্ল্যাট নিয়ে থাকতাম বিধায় আমার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ছিলোনা। আমাকে আটকানোর লোকদুটোও ছিলোনা বিধায় আমি সহজভাবেই বেরিয়ে এসপছিলাম। তিনি রাগে আমাকে আটকাননি। তবে আমি দেখেছিলাম ওই বাইজির ঠোঁটের বিদ্রুপের হাসি।
আর আজ প্রায় সারে তিন মাস পর আমাদের ডিভোর্সের দিন। কোর্টে এসে আমি অপেক্ষা করছি ফারিশ জোয়ার্দারের অপেক্ষায়। কিছুক্ষণের মাঝেই তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে এসে হাজির হয়। আমার দিকে সে তাকালো এক পলক। সেই চোখে অবশ্যই আমি আহতমান এক পুরুষকে দেখেছিলাম। তিনি তুবাকে রেখে আমার কাছে এসে আসলেন। বললেন,
— ফাহমিদা, একবার ভেবে দেখো। আমি তোমায় এখনও ভালোবাসি। তোমাকে আমি সেই আগের মতোই রাণী বানিয়ে রাখবো ফাহমিদা….
— যে আমাকে দিলের রাণী বানিয়ে রাখতে পারেনি সে আমাকে কীভাবে রাণী বানিয়ে রাখতে পারে?
লজ্জায় তিনি মাথা নিচু করার পরিবর্তে তেজ দেখিয়ে পাল্টা জবাবে বললেন,
— আবারও এক কথা কেনো বলছো তুমি? তোমার মতো ধার্মিক মেয়ে কীভাবে এই ছোটো বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে পারে?
— তালাকনামায় সই করুন।
আমি সন্তপর্ণে তাকে ডিভোর্স পেপার এগিয়ে দিয়ে বললাম। সে অবাক হয়ে রইলো। রাগান্বিত হয়ে সেই মেয়েকে বললো,
— তুবা! কলম দাও।
অর্থাৎ তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম তুবা! ফারিশ তালাকনামায় সই করতে করতে আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
— যখন পস্তানোর সময় আসবে তখন এই কর্মের অনুতাপ তুমি অবশ্যই করবে।
আমি কানে নিলাম না। ওনার সইয়ের পর আমিও সই করে দিলাম। ব্যস! ওই একটা কাগজেই আমাদের পাঁচবছরের সংসারের ইন্তেকাল হলো। তাকে মনে করিয়ে দিতে দিতে বললাম,
— আমি এবং আমার মেয়ের সাথে সাক্ষাৎ এর চেষ্টা করবেন না আপনি। কোর্টের দেওয়া নির্দেশনামা অনুযায়ী মাসে একবার দেখতে আসতে পারেন।
ডিভোর্সের পর আমি আর তার দিকে তাকালাম না। একবারের জন্যেও নয়। আমি সোজা চলে আসলাম এ’কথা বলে।
ফাহমিদা যাওয়ার পথপানে ফারিশ চেয়ে রইলো। পাঁচ বছরের সংসার ভেঙে গেলো। মন হালকা খারাপ করছে তার। পরিশেষে তার মেয়েকে সে এখন থেকে আর দেখতে পাবেনা। আর না-তো ফাহমিদাকে। ফাহমিদাকে না দেখে সে কীভাবে থাকবে? সে কী ভুল করে ফেললো।
তুবা তার কাধে হাত রাখতেই তার ভাবনার ছেদন ঘটলো।
তুবা তাকে শুধালো,
— তুমি কী মন খারাপ করছো?
কোনো উত্তর এলোনা। তাতে তুবার মেজাজ খারাপ হলেও নরম সুরে বললো,
— তুমি তো তাকে সুযোগ দিয়েছিলে। তোমার দোষ নেই। তুমি ওকে ভালোবেসেছো ফারিশ। সে-ই ভুল ছিলো। ভেবোনা তো এসব নিয়ে। চলো, আজ বাড়ি গিয়ে তোমায় নতুন কিছু রান্না করে খাওয়াবো!
ফারিশ তার দিকে তাকিয়ে হাসলো কেবল। মনের কোথাও না কোথাও ফাঁকা লাগলেও পৌরুষদীপ্ত অহংকার তা হতে দিলোনা। সে বিড়বিড়িয়ে তুবাকে বললো,
— আমি কেবল ভাবছি তার কঠোর আব্বুজান তাকে কীভাবে অনুমতি দিলো তালাকের জন্য? এমনকি তারা আমার সাথে সকল যোগাযোগ ছিন্ন করেছে। এ কী করে হতে পারে?
রাস্তায় এলোমেলো পদক্ষেপে হেঁটে যাচ্ছে ফাহমিদা শেখ আয়রা। শেখ পরিবারের বড় মেয়ে। আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগে তার বাগদান হয়েছিলো ফারিশের সাথে। তখন ফারিশ ১৫ বছর এবং সে দশ বছরের অবুঝ বাচ্চা ছিলো। অতঃপর তার পাঁচ বছর পরই মাত্র পনেরো বছর বয়সেই তার বিয়ে হয়। তার যেনো বিশ্বাস হচ্ছেনা তাকে ভালোবাসা সেই কিশোর ফারিশ এখন অন্যকারো। শেখ পরিবার বরাবরই ধার্মিক। যার দরুণ তাকে বিয়ে দেওয়া হয় জোয়ার্দার পরিবারের সাথে। তারা শেখ পরিবারের বিজনেস পার্টনার। ধার্মিক পরিবার হওয়ায় আয়রাকে বাল্যবিবাহ দেওয়া হয়। যাতে তাদের মেয়ে কোনো খারাপ পথে না যায়। ভীষণ কঠোর আয়রার বাবা নেওয়াজ শেখ। আয়রা নিজেও ধর্মের প্রতি যথেষ্ট অটল। ফারিশ নিজেও এমন ছিলো। বিয়ের সেই পাঁচবছরে সে কখনো ফারিশের অবহেলা পায়নি। ফারিশ ধার্মিক। তবে আয়রার জানা ছিলোনা যে ফারিশ এতটা ধার্মিক যে তাকে সতীন উপহার দিবে। অন্যমনষ্ক হয়ে চলায় এক বাইকের সাথে তার আচমকা ঘর্ষণ হতে যায় তবে বাইকে থাকা ব্যক্তিটি চটজলদি গাড়ি থামায়। যার দরুণ বেঁচে যায়। এমুহূর্তে গিয়ে তার হুশ ফেরে। সামনে বাইকে থাকা পুরুষটি গম্ভীর স্বরে হুংকার ছাড়ে,
— হোয়াট দ্যা হেল, ম্যান!
পুরুষটি বাইকের হ্যালমেট খুলতেই তার গাঢ় নীল চোখ ফুটে উঠলো। তার পোশাক-আশাক ছিলো সম্পূর্ণ অন্যরকম। নাইকির কালো রঙা টি-শার্টের সাথে উপরে কালো রঙা লেদার জ্যাকেট জড়ানো গায়ে সাথে কার্গো জিন্স। কালো কম্ব্যাট বুটের কম্বিনেশনে তার ফর্সা ত্বকে ফুটে উঠছে অন্যতম এক সৌন্দর্যতা। সাথে গলায় চেইন তো আছেই। ডান কানে পাথরের ছোট হুপ ইয়াররিং। আয়রার চোখ একপলক তার পানে যেতেই সে দ্রুত চোখ নামিয়ে নিলো। গম্ভীর স্বরে বললো,
— স্যরি! আমি দেখতে পাইনি।
পুরুষটি বাইকে থেকে তাকে বিরক্ত চোখে দেখলো। সম্পূর্ণ কালো বোরকায় নত মস্তকে এক রমণী তার সামনে। যারপরনাই বিরক্ত হলো সে। বললো,
— যত্তসব ডিজগাস্টিং পিপলস! ইচ্ছা করেই এমন করে বড়লোকদের গাড়ির সামনে এসে পড়ে। যাতে তাদের ফাঁসাতে পারে। আর এসব বোরকাও নামের জন্যই পড়ে যাতে পাবলিক দোষটা আমাদের ওপরই দিতে পারে।
সেই পুরুষটির পেছনে বসে থাকা এক নারী তাকে ডাক দেয়,
— কাম’ন বেইব, এসব ছোটোলোকদের বাদ দাও। আমরা আমােদর লং ড্রাইভটা এভাবে নষ্ট করতে পারিনা।
পুরুষটি ভাঁজকৃত কপালে আয়রা আরেকবার পরখ করলো। আয়রা কিছু বলার আগেই পুরুষটি বাইকের থ্রটল চেপে বাইক নিয়ে স্পিডে চলে গেলো। ফাহমিদা একবার ওদিকে তাকালো। বিরক্ত কন্ঠে বিড়বিড় করে বললো,
— এমন বেলাজ আর বখাটে পুরুষের সাথে যে মেয়ের ভাগ্য জুড়ে আছে সে নির্ঘাত-ই ভীষণ দূর্ভাগা। এমনকি একবার ক্ষমা অব্দি চাইলোনা যেখানে আমি বাম সাইডে থাকার পরপ ক্ষমা চেয়েছি। ম্যানারলেস একজন।
সামনে একটা রিকশা যেতে দেখেই সে তাকে থামালো,
— এই যে রিকশা মামা, যাবেন?
— হ মামা, ওডেন না।
ফাহমিদা নম্রভাবে রিকশায় গিয়ে বসলো। কিছুক্ষণের মাঝেই সে পৌঁছে গেলো শেখ ভিলায়। শেখ বিলায় পৌঁছাতেই ড্রইংরুম থেকে ছোট ছোট পায়ে নরম এক সত্ত্বা দৌড়ে এলো তার পানে। ছোট ছোট আদুরে হাত ছুঁয়ে দিয়ে আদুরে কন্ঠে বললো,
— আম্মিজান, আপনি এসে গিয়েছেন?
মেয়েকে দেখে আয়রা হাঁটু গেড়ে বসলো। মেয়ের গালে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো,
— হ্যাঁ, আম্মু। আপনার দিন কেমন কাটলো?
— খুব ভালো আম্মিজান। আমরা আব্বুজানের কাছে কখন যাবো?
আয়রার মুখ থমথমে হয়ে গেলো। যেদিন ফারিশ দ্বিতীয় বিয়ে করে নিয়ে এলো সেদিন আয়রা বেঘোর ঘুমে। ঘুমন্ত মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলো সে। আয়রা সেসব লুকিয়ে হেসে জবাব দিলো,
— তিনি এখন থেকে আর আমাদের সাথে থাকবেনা আম্মিজান।
আমিরার মন খারাপ হয়ে গেলো। আয়রা মেয়েকে মিথ্যে আশা দেওয়ার পরিবর্তে সত্যটা বলার পরিকল্পনা করলো। সে আর কিছু বলবে তখনই নেওয়াজ শেখ এসে দাঁড়ালেন তার পাশে। বললেন,
— নানাভাই, আপনি আপনার কক্ষে যান। সেখানে আপনার জন্য নানা খেলনা কিনেছি। দেখুন তো, পছন্দ হয় কিনা।
আমিরা মুহূর্তেই খুশি হয়ে ছুট লাগালো তার কক্ষের পানে। আয়রা নেওয়াজ শেখকে সালাম দিয়ে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই সে থমকে গেলো নেওয়াজ শেখের গম্ভীর ডাকে,
— আয়রা! দাঁড়াও।
— জ্বী আব্বাজান?
— তোমার সাথে আমার গুরুত্বপূর্ণ এক কথা আছে।
— জ্বী বলুন আব্বাজান।
— তোমার কথা অনুযায়ী আমি তোমার এবং ফারিশের তালাকের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এমনকি তোমার শ্বশুর বাড়ি থেকে কথা শোনানো হয়েছে আমাদের। তবু আমাদের মেয়ের স্বার্থে আমরা তার পাশে দাঁড়িয়েছি। এখন তোমার সময় এসেছে সে ঋণ শোধ করার।
— অবশ্যই আব্বাজান। বলুন, আমাকে কী করতে হবে?
নেওয়াজ শেখ এবার আরও গম্ভীর হলেন। আয়রা শান্ত দৃষ্টে তাকে অবলোকন করছে। এখন কোনো কঠোর কথা বলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। বেশ ধরতে পারলো তা আয়রা। তার ধারণাকে ঠিক রেখে তিনি বাস্তবিক অর্থেই বললেন,
— তোমাকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে হবে।
এমন কথা মোটেই আশা করেনি সে। চমকে উঠলো আয়রা। বিস্মিত কন্ঠে বললো,
— আব্বুজান, আমার আজ সকালেই তালাক হয়েছে আর আপনি…
— দেখো আয়রা, তুমি নিজ ইচ্ছেতেই নিজের সংসার ছেড়েছো। আর সোসাইটিতে আমাদের একটা সম্মান আছে। একজন ডিভোর্সিকে আমি বসিয়ে রাখতে পারিনা ঘরে। যা বলেছি তাই হবে। তোমার আজ বিয়ে।
আয়রা চোখে অশ্রু চলে এলো। বললো,
— আব্বুজান আমার আমিরার কী হবে? মেয়েটা এতো জলদি সৎ বাবাকে কীভাবে মেনে নিতে পারে? আপনি অন্তত তার কথা ভাবুন।
— আমিরা আমাদের কাছে থাকবে। এর বাইরে আর একটা কথাও হবেনা। আজ সন্ধ্যায় তোমার বিয়ে। শাহরিয়ার বংশের ছোট ছেলে ওয়াজদান জুনায়েদ শাহরিয়ারের সাথে।
লাঠিতে ভর করে তিনি চলে গেলেন। আয়রা সেখানেই ধপ করে বসে পড়লো। চোখ থেকে অনর্গল অশ্রু ঝড়ছে। আমিরাকে ছাড়তে হবে মানে? দ্বিতীয় বিয়ে? নেওয়াজ শাহরিয়ার এটা কীভাবে করতে পারেন? না না, এটা হতে পারেনা। কান্নারত ভঙ্গুর কন্ঠে সে দু’হাত উঠিয়ে খোদাকে ডাকলো,
— হে আল্লাহ! এ আপনি আমার সবরের কেমন পরীক্ষা নিচ্ছেন? আমাকে আমার মেয়ের কাছ থেকে আলাদা করা হচ্ছে আল্লাহ। একজন মায়ের কাছ থেকে একজন সন্তানকে আলাদা করা হচ্ছে। এ আপনার কেমন বিচার? আমাকে এভাবে অসহায় করবেন না আল্লাহ…
কী হবে আয়রার? সত্যিই কী আমিরার কাছ থেকে আজীবনের জন্য মেয়ের ছায়া সরে যাবে? আর সেই জুনায়েদ ই-বা কেমন হতে পারে?
