তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ১০
রাফিয়া জান্নাত রিফা
আলবান ও আর্দ্র দুজনেই নিজ রুমে অবস্থান করছে।দির্শক এখনো বাড়িতে আসে নি,দির্শকে ফোন দিয়েছিল আলবান কিন্তু নট রিচিবল বলছে।
রাত সাতটা বাজতে চললো কিন্তু ইতি, বিথী, নীধি কোন দেখা মিললো না।এর মধ্যই সিদ্দিকী বেগম বাইরে গিয়ে চেনা পরিচিত সবাইকে ইতি, বিথী নীধিকে দেখছে কিনা তা বলে এলো।সবাই শুধু বললো তিন আলোকছটাদের শেষ বার দাদুর কাছে দেখেছিল। মেয়েদের খোঁজ না পেয়ে সোফায় বসে কান্না করছেন সিদ্দিকী বেগম। সাথে আলিফা বেগম,মিলি বেগম, আছিয়া বেগম, মুহিন সবার দেখাই মিললো।
বাড়ির তিন কর্তাদের ফোন করে জানানো হয়েছে ইতি, বিথী, নীধির নিখোঁজ হওয়ার খবর। তারা আসছে।
আর্দ্র সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামচে সিদ্দিকী বেগম ও আলিফা বেগমের কান্না করা দেখে হকচকিয়ে নিচে নামলো,,
__ মা , মেজো মা তোমরা কাঁদছ কেন?? কি হয়েছে?
কারোই কান্না থামলো না বরং বেড়ে গেলো, সিদ্দিকী বেগম পাশে বসলো আর্দ্র মাথাটা নিজের বুকে নিয়ে বলে,,,
__ মেজো বলো , কি হয়েছে??
কান্নার তোড় আরো বেরে গেল সিদ্দিকী বেগমের আর্দ্রের বুকে মাথা রেখেই হু হু করে জোরে জোরে কেঁদে কেঁদে বলে,,,
__ তিন ঘন্টা যাবৎ ইতি, বিথী, নীধির কোন খোঁজ নেই বাবা কেউ খোঁজ দিতেও পাচ্ছে নি। কিছু করো বাবা?
মুহূর্তেই আর্দ্রের সময় থমকে গেল, পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে গেল, ভিতরে অজানা ভয় হানাহানি করতে লাগলো,,,
__ কিইইইইইইইইই
কান্না আওয়াজ ও আর্দ্র কন্ঠস্বর আলবানের রুম পর্যন্ত পৌঁছাল, হকচকিয়ে উঠলো ল্যাপটপের সাটার টা বন্ধ করে এলোমেলো পায়ে হেঁটে আসলো ড্রায়িং রুমে।
আর্দ্রের অস্হিরতা বেরে গেছে সোফা থেকে উঠে টানটান হয়ে দাঁড়ায়,,,,
__ এ কথা তোমারা আমাকে এখনি বলছো?
আলবান ড্রয়িং রুমে বসে থাকা সবার দিকে নজর দিয়ে সন্দিহান কন্ঠে আর্দ্রকে বলে,,,
__ কি হয়েছে সবার,আর তুই কোন কথা বলছিস।
আর্দ্র আঙ্গুল দিয়ে কপাল স্লাইস করতে করতে বলে,,
__ তিন থেকে চার ঘন্টা যাবৎ ইতি বিথী নীধি নেই,কোন খোঁজ ও নেই।
__ কিইইইইই,কি সব বলছিস।
আতংক ঘিরে নিলো, নিস্তব্ধ হলো কিছুক্ষণের জন্য,,,
__ নিশ্চিত ওরা আবার কোন মজা করেছে,আম সিউর ওরা এ বাড়িতেই আছে, কোথাও লুকিয়ে আছে।
বাড়ির চারিদিক ঘুরে ফিরে বলতে লাগলো,,,
__ ইতি, বিথী,নীধি বেরিয়ে আয় বলছি, বেরিয়ে আয়, তোদের জন্য সবাই টেনশনে আছে।এক থেকে তিন গুনবো এর মধ্যে বেড়িয়ে আয় না আসলে তোদের খবর খারাপ আছে বলে দিলাম।এক,,,,
সিদ্দিকী বেগম কান্না করতে করতে বলেন,,
__ বাবা ওরা নেই বাড়িতে, লুকিয়ে থাকার মেয়ে ওরা না।
আলিফা বেগম বলেন,,,,
__ আমি প্রত্যেকটা রুমে গিয়ে খুজেছি কোথাও নেই ওরা।সেই তিনটার দিক বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেছে, বৃদ্ধের সাথে গল্প করবে বলে।
মুহূর্তেই আলবানের মধ্য রাগ,ভয়, আতঙ্ক দেখা দিল। চোখে মুখে ক্রোধ নেমে এলো রাগে চিৎকার করে বললো,,,
__ এই কথা এখন বলার সময় হলো তোমাদের?
পাশে থাকা খাবার টেবিল থেকে জগটা জোরে আচার মেরে বলে,,,
__ কারো কমন সেন্স নেই তোমাদের।
কাছের জগ খানা মুহূর্তেই টুকরো টুকরো হয়ে গেল,বাড়ির সবাই বড় বড় চোখ করে আলবান কে দেখতে লাগলো,ভয়ে আড়ষ্ট হলো সবাই কথা বলার সাহস দেখালো না আর। আর্দ্র এসে আলবানের কাঁধে হাত রেখে বললো,,
__ এখন মাথা গরম করার সময় নয় আলবান।
হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে রেখেছে ইচ্ছে করছে সব ভেঙ্গে ফেলতে। চোখে ভয় ও রাগ ক্ষোভ তীব্র ভাবে হানা দিচ্ছে,,,
__ এই পরিবারের লোকজনের জন্যই ওরা মাথায় উঠে ধৈই ধৈই করে নেচে বেড়ায়,তার ফল আজ এমন।
আলিফা বেগম, সিদ্দিকী বেগম দিকে তাকিয়ে বলে,,
__ সারাটাদিন নেচে কুদে বেড়ায়,তোমরা কেউ বারণ করো না,কেউ কিছু বলো না বিদ্বায় ওরা নিজেকে মেয়েই মনে করে না।এখন কি করবে, কোথায় খুঁজবে,আদো জানা আছে কি তাদের কি হতে পারে, কোথায় থাকতে পারে।
আর্দ্র ও রাগ দেখিয়ে আলবান কে বলে,,,
__ আলবান স্টপ,কি সব কথা বার্তা বলছিস,এখন এসব বলার সময়।চল এখন খুঁজতে বেরোতে হবে।
কাঁধ থেকে আর্দ্রের হাত সরিয়ে দিয়ে বলে,,,
__ সর,কোথাও যাবো না আমি,ওরা পচে মরুক আই ডোন্ট কেয়ার।
__ আলবান সত্যি এবার আমার খুব রাগ উঠছে? তোর ননস্টপ কথাবার্তা নিতে পাচ্ছি না আমি,মেড হয়ে গেছিস।
আলবান আরো চিৎকার করে বলে,,,,
__ হ্যাঁ আমি মেড,এন্ড সাইকো ম্যান।
এরই মধ্যে হনহনিয়ে প্রবেশ করে নাজিম তালুকদার, নাইম তালুকদার ও নাফিস তালুকদারের।নাঈম তালুকদার এসে রাগি কন্ঠে সিদ্দিকী বেগমকে বলে,,,
__ কুপিয়ে জখম করবো যদি মেয়েদের না পাই, বারবার বলছি ওদের যেখানে সেখানে যেতে না দিতে।
ভয়ে রিতিমত কাঁপছে নাঈম তালুকদার, কন্ঠস্বর ও ক্ষীণ হয়ে গেল।
কোন কথা বার্তা না বলে নাজিম তালুকদার ধুপ করে সোফায় বসে পড়লেন চোখে মুখে বিষন্নতা ছেঁড়ে গেছে। মিশি বেগম দৌড়ে গিয়ে রান্না ঘর থেকে তিন গ্লাস পানি আনলেন, তিন জনেই পানি পান করলেন। নাফিস হতাশার দীর্ঘ শ্বাস ফেলে তালুকদারের বলেন,,
__ পুলিশকে কাছে গিয়েছিলাম ওরা বলছে ২৪ ঘন্টা না হওয়া পযন্ত কিছুই করতে পাবে না।
আলবান রাগে ফেটে আর কোন কথা না বলে ধুপধাপ পায়ে সোজা নিজের রুমে গেল, আর্দ্র মনে হয় বুঝলো আলবান কেন এবং কি কারণে তার রুমে গেল।তাই আর্দ্র ও নিজের রুমে চলে গেল।
কিছুক্ষণ পর আলবান আর্দ্র দুজনেই বের হলো দুজনের পড়নেই কালো হুডি এবং কালো প্যান্ট আর্দ্রের কাঁধে বড় একটা ব্যাগ ঝুলছে। ড্রয়িং রুমে এসে আলবান সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে,,,,
__ সবাই বাড়িতেই থাকবে কাউকে কোথাও যাওয়া লাগবে না কোন পুলিশ কে খবর দিতে হবে না ওটা আমরা বুঝে নিবো। তিনটাকে বাড়িতে নিয়ে আসবো আজ রাতে মধ্যে,পা ভেঙ্গে বাড়িতে ফেলায় রাখবো।তখন দেখবো কে আমাকে কি বলতে আছে।
আর্দ্র বলে,,
__ আলবান স্টপ,চল?
বাড়ির সকলকে আর্দ্র বলে,,,
__ তিন জনেই সহিসালামতে এ বাড়িতে আসবে, আমাদের উপর সবাই বর্ষা রাখুন,আর হ্যাঁ আমাদের না জানিয়ে কোন পুলিশের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবেন না। আননোন নাম্বার থেকে কেউ ফোন বা মেসেজ আসলে, যেকেউ আমাকে একটা মেসেজ বা কল দিবেন।
পিকি অসহায় কন্ঠে বলে,,,
__ আর্দ্র আমি তোদের সাথে যাই।
__ না পিকি।তুই বাড়ির লোকেদের সামলা,পারবি তো।
__ হ্যাঁ পারবো, তুই কিউটিদের তাড়াতাড়ি খুঁজে আন প্লিজ,দেখ বাড়িটা তাদের ছাড়া কেমন ফ্যাকাশে হয়ে আছে।
__ কিছু হবে না ওদের।
আর্দ্র সিদ্দিকী বেগমের দিকে এগিয়ে গিয়ে চোখে পানি মুছে দিয়ে বলে,,,
__ ভরশা হচ্ছে না এই ছেলেকে?
হু হু করে জোরে কেঁদে জরিয়ে ধরলেন আর্দ্রকে,,,
__ হ্যাঁ বাবা হয় ,জানি তোমারাই আমার ধন গুলো কে আমার কাছে এনে দিবে।
__ তাহলে কান্না নয়, শক্ত হও।
হঠাৎ আলবানের ভেতরেটাও ভয়ে মোচড় দিয়ে উঠলো, চোখের কর্নিশে পানি জমছে বোধহয় তা দেখে চোখ বড় বড় করলো, চোখের পানি যাতে না বের হয় এ জন্য তাদের কেও ধমকা ধমকি করলো।
আর্দ্র আলিফা বেগমকে বলে,,,
__ মা তুমি ও কাদছো।
কাঁদতে কাঁদতে আলিফা বেগম বলেন,,,
__ মেয়ে তিনটাকে ছাড়া খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগছে, কলিজাটা বারবার ছ্যাঁত ছ্যাত করে উঠছে,এনে দে বাবা ওদের এনে দে।
কথা গুলো যেন তিরের মতো এসে বিধলো আর্দ্রের বুকে, বুকের চিন চিন ব্যাথাটা বেশ অনুভব করতে পারলো। বুকের বাম পাশে হাত রেখে উঠে দাড়ালো।আলবান গম্ভীর মুখে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে, মাঝে মাঝে আর্দ্র ভেবেই পায় না যে এই ছেলে এত পাষান কিভাবে হয়। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আলবানের কাছে গিয়ে বলে,,
__ লেট’স গো।
দুজনেই চলতে লাগলো,দরজা পার হতেই পিছনে ঘুরে আলবান সবাইকে বলে,,,
__ আমাদের না জানিয়ে কেউ কোন কাজ করবেন না।মনে থাকে যেনো।
এই বলে দুজনেই চলে যায়,
ড্রয়িং রুমে নিরবতা বিরাজ করলো কিছুক্ষণ তারপর আলিফা বেগম তার স্বামী নাজিম তালুকদারকে বলেন,,,
__ কালামের বড় মেয়েটা ও তার ছেলে মুরাদ কেও পাওয়া যাচ্ছে না,পারার সবাই সন্দেহ করছে বট গাছে থাকা বৃদ্ধটাকে, আমাদের এই পারায় এক লোকে নাকি ট্রাক আসতে দেখেছে এবং ওই ট্রাকে কোন এক লোককে বৃদ্ধের সাথে কথা বলতে দেখেছে। আমাদের পাড়ায় তো এমন ট্রাক আসে না তাই পাড়ার সবার ধারণা ওই ট্রাকে করে পাড়ার মেয়ে এবং বাচ্চাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে এর জন্য সবাই ওই বৃদ্ধকেই দায়ি করছে। আপনি গিয়ে দেখুন একটু?
__ হুম যেতে হয় তবে।
তালুকদার বাড়ির গাড়ি রাখার ছোট্ট গ্যারেজ থেকে বাইক বের করলো আর্দ্র ও আলবান। আলবানের বাইক কালো এবং আর্দ্রে বাইক কালো, নীল মিশ্রিত।বাইকে বসে মাথায় হেলমেট লাগাতে লাগাতে আর্দ্র বলে,,,
__ আমাদের সোর্স টিম কে বলেছি।
__ সব রেডি করতে বলছিস।
__ এ নাগাদ হয়ে গেছে বোধহয়।
__ দির্শকের ফোন বন্ধ কেন??
__ হয়তো কাজে আছে?
দুজনেই বাইক স্টাট দিয়ে চললো তিন আলোকছটাদের সহি সলামতে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্য। ফাস্ট গতিতে চললো বাইক দুটি।
বাইক দুটি এসে থামলো নির্জন জঙ্গলে সামনেই একটা ইট পাথরের ছোট ঘর দেখা যাচ্ছে, ছোট ঘর খানা পুরো নীলি ও ঘাস পাতায় আবব্দ হয়ে আছে। ভুতরে বাড়ির থেকে কম কিছু লাগছে না।জঙ্গলের ওপাশ রাস্তা থেকে এই ঘর খানা কোন মানুষের চোখে পড়বে বলে মনে হয় না,তার থেকেও বড় কথা হচ্ছে মানুষ সাহস এই দেখাবে এখানে আসার,গা ছমছমে পরিবেশ।
ছোট ঘর খানাই হলো অ্যানোনেমসদের জন্য একটি প্রকৃতি-সৃষ্ট সার্ভার রুম, যেখানে তারা তাদের হ্যাকিং কাজ নির্দ্বিধায় চালাতে পারে।
আলবান ও আর্দ্র দুজনেই অ্যানোনেমস অনেক দিন যাবৎ কাজ করছে, বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই তাদের টিম এই জঙ্গলে ছিল।তারা দুজনেই USA থেকে টিমকে পরিচালনা করতো। তাদের কাজ হলো:
দেশের নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ পূর্বাভাস, তথ্য সংরক্ষণ ইত্যাদি। তারা মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে না, তাই কেউ বুঝতে পারে না। যাদের কোন নাম পরিচয় নেই।
জায়গাটা অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে আছে, একটু দূরে ছোট ঘরখানায় হালকা আলোর আভাস দেখা গেল,আলবান এবং আদ্র সেই ঘরের দিকে চলে গেল।
ছোট্ট ঘরখানায় হ্যাকিং, ডেটা বিশ্লেষণ, লাইট গেট বা জীবনযন্ত্রের মতো অদ্ভুত প্রযুক্তি আছে।প্রযুক্তি গুলোর প্রত্যেকটা স্তরে স্তরে বসে আছে কয়টি লোক, তাদের চেনার কোন উপায়ই নেই, অদ্ভুত কালো পোশাকে শরীর আবৃত ।দীর্ঘ হুডযুক্ত, যা মাথা ও কাঁধ ঢেকে রাখা। খুব মনোযোগ ও তীক্ষ্ণ চোখ দিয়ে তারা তাদের কাজ করে যাচ্ছে। Lumen veli mask দিয়ে পুরো মুখ ঢেকে রেখেছে, মার্ক্সটি দেখতে বেশ ভয়ংকর ছিল,সেই মাক্সের উপরে চোখগুলো খুবই ভয়ংকর দেখাচ্ছে।
Memory Crystals / Crystal Servers/ Data Vines / Leaf Cables নানা ধরনের বড় বড় কম্পিউটারে লাল নীল বাটাম ও লেখা উঠছে কম্পিউটারের স্কিনে।
ছোট ঘরখানায় প্রবেশ করার আগে আলবান ও আর্দ্র কালো হুডি দিয়ে মাথা ঢেকে নিল, তাঁরাও Lumen veli mask পড়ে নিলো। অ্যানোোনিমস গেটাপ নিয়ে ছোট্ট ঘরখানায় প্রবেশ করলো। ঘরখানার ভিতরে নানা ধরনের প্রযুক্তির স্কিনের আলো লাল, নীল, কমলা, হলুদ ভেসে বেড়াচ্ছিল চারদিকে।
আলবান ও আদ্র ঘরখানায় প্রবেশ করায় ঘরে থাকা চারজন লোক দাঁড়িয়ে গেল ও সালাম জানালো। আলবান ও আর্দ্র হাত ইশারা করে তাদের বসতে বলল। তারপর দুজনেই তাদের নির্দিষ্ট করে রাখা জায়গায় বসল। আলবান বললো,,
__ সব নিষিদ্ধ লোকেশন হ্যাঁক করে,ড্যাস বোর্ড করো।
পাশ থেকে একটি লোক বললেন,,,
__ স্যার এটা তো বেআইনি।
__ হ্যাঁ জানি তাও করো, বেআইনি বলছে তার কারণ হলো এতে দেশের গোপনীয়তা লঙ্ঘন হয় ।তাই লোকশন মোটিভ দিয়ে লোকেশন হ্যাঁক করো যাতে তারা বুঝতে না পারে যে লোকেশন হ্যাক করা হচ্ছে।
__ স্যার ,,তাও আইনের অনুমোদন নিলে ভালো হতো না।
আর্দ্র বলে,,
__ ওদের আজ বললে,কাল নোটিশ দিবে, ওদের নোর্টিশের অপেক্ষায় থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।তাই আলবান যেটা বলছে সেটাই করো।
লোকগুলো মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সম্মতি জানিয়ে নিজের স্তরে বসে।
আর্দ্র আলবানকে বলে,,,
__ আমি সব মেট্রোপুলিশদের অ্যানোনেমস মেসেজ পাঠাই।যাতে তারা প্রত্যেকেই রোডে প্রত্যেক গাড়ি এবং ট্রাকে ভালোভাবে তল্লাশি চালায়।
__ এক মিনিট দ্বারা আমার কি মনে হয় জানিস, অফিস থেকে আসার সময় যে সিলভার রঙা সাটার ওলা পিকাআপ টা দেখলাম,আম ড্যাম শিওর ওটাতে ইতি বিথী নীধি ছিল।
__ তুই গাড়ির নম্বরটা মনে করার চেষ্টা কর আলবান।
__ ওটাই চেষ্টা করছি। ভাবতে দেয়?
আলবান নিজ হাত আঙ্গুলের ভাঁজে ঢুকিয়ে দিয়ে মুষ্টিবদ্ধ করে থুতনিতে ঠেকালো মনোযোগ দিয়ে মনে করার চেষ্টা করতে লাগলো, শুধু XA এ টুকুই মনে পড়লো, এবার হাত দিয়ে অনবরত নিজের চুল গুলোকে টেনে মনে করানো চেষ্টা করলো।
অপ্রত্যাশিত ভাবে মনেও পড়ে গেল তৎক্ষণাৎ আর্দ্র কে বলে,,,
__ গাড়ি নম্বর টা মনে পড়েছে।
আর্দ্র অস্হির হয়ে বলে,,,
__ হ্যাঁ হ্যাঁ বল আমি লিখে নিচ্ছে।
খুব মনোযোগ দিয়ে চোখ বন্ধ করে মনে করলো এবং একট একটা করে বলতে লাগলো,,,
__ ঢাকা মেট্রো গ XA 23564। এটাই।
__ শিওর।
__ হ্যাঁ এটাই।
আর্দ্র দ্রুততরভাবে কম্পিউটারের স্কিনে নাম্বারটাকে ডাটা ব্রেক্যার করে, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন ডাটাবেস চেক করা
নম্বর‑প্লেট দিয়ে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন রেকর্ড থেকে মালিকের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর Motor Vehicle Dept./এনআরএমএস/ডিএমভি টাইপ ডাটাবেস বের করার চেষ্টা করলো কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে কিছুই পেল না।
আলবান বলে,,
__ তুই সাইবার ও ট্রাফিক পুলিশদের অ্যানোনেমস মেসেজ দে।
__ ওকে।
আমি অ্যানোনিমাসভাবে জানাচ্ছি:
আজ [২৬-৯-২০২৫] এ একটি গাড়ি নম্বর [ঢাকা মেট্রো গXA23465 রঙ সিলভার [মডেল [Toyota]দেখা গেছে। গাড়িতে নারী ও শিশু রয়েছে এবং সন্দেহ হচ্ছে তাদের ট্রিপ/লোকেশন তথ্য অননুমোদিতভাবে শেয়ার হচ্ছে। অনুগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন। প্রত্যেক গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে যান।
মেসেজ পাঠিয়ে দিলো আর্দ্র।অন্য একটি লোক এসে আলবানকে কিছু পেপার দিয়ে বলে,,,
__ স্যার এই কয়েকটি নিষিদ্ধ জায়গায় শুধু কিছু গাড়ির ডিএমভি পাওয়া গেছে
__ ওকে যাও এখন। নিজের কাজে মনোযোগ দেও।
পিকআপ এ বন্ধ করে রাখা হতি বিথী নীধি তিনজনই চোখে চোখে কথা বললো ,বলা শেষ হলেই হঠাৎ করে গাড়ির বন্ধ শাটারে পিট দিয়ে ধাক্কা দিতে লাগলো অন্যরাও ভয় পেয়ে পা ছুড়া ছুড়ি করলো।ধাক্কানোটা এমন ভাবে প্রতিধ্বনি হলো যেন মনে হলো তারা কোন ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে আছে,ভয় তাদের আতঙ্কে দিচ্ছে। অথচ তা তাদের কাছে শুধু ব্যঙ্গাত্মক ভয়ের চিৎকার ছিলো।
গাড়ি চালানো লোক গুলো মুহূর্তেই হকচকিয়ে উঠলো গাড়ি থামালো, পিছনে তালাবদ্ধ শাটারের দিকে এগিয়ে গিয়ে রাগি কন্ঠে বললো,,,
__ এই থামো থামো এমন শব্দ করছো কেন? থামো বলছি।
তারা থামলো না আরো জোরে জোরে শাটারে ধাক্কা দিতে লাগলো, লোক গুলো এবার ভয় পেলো কারণ এই আওয়াজ যদি কারো কানে যায় তবে মস্তবড় বিপদে পড়বে। একটি লোক বললো,,,
__ শাটারটা খুলে দে??
__ যদি পালিয়ে যায় তখন?
__ শাটারের সামনেই আমরা দাঁড়িয়ে থাকবো, হয়তোবা ওদের কোন সমস্যা হচ্ছে,বস কিন্তু বারবার বলেছে মেয়েগুলো যেনো কোনভাবে ক্ষতি না হয়।
চাবি এনে লোকটি শাটার টা খুলে দিতে শাটারের ভিতর থেকে লোকটার কাঁধে একটি সাপ ছিটকে আসলো, লোকটি সাপটিকে দেখে ভয়ে তিড়িং বিড়িং করে লাফাতে লাগলো,,,,
__ ও মা গোওওওওওওও
পরক্ষণেই লোকটি সাপটাকে সিটকে ফেলায় দিলো এবং অন্য লোকটির গাঁয়ে গিয়ে পরলো,ওই লোক ও একই ভাবে চিৎকার করে ও লাফালাফি একইভাবে তিনি ও সাপটাকে সিটকে আবার ওই লোকের গাঁয়ে দিলো।এভাবে তাদের সাপ দেওয়া নেওয়া চলতেই থাকলো পাশাপাশি লাফালাফি তো আছেই।
এই ফাঁকে এক এক করে বন্ধ গাড়ি থেকে তিন আলোকছটা ও বাকি সব মেয়ে ও বাচ্চারাও বেরিয়ে এলো, বিথী দাঁত দিয়ে ইতির হাতের বাঁধন খুলে দিলো, ইতির হাত বাঁধান ছাড়া হতেই সে এক এক করে সবার হাতের বাঁধন খুলে দিলো। অন্ধকার গাড়ির ভেতরে আর একটু হলেই দম বন্ধ হয়েই আসছিল সবাই হাঁটু যে ভর দিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলতে লাগলো।
বিথী দ্রুত বেগে বাচ্চাদের ও মেয়ে গুলো কে নিজের পিছনে রাখলো তাদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ালো ইতি, বিথী, নীধি। তিন জনেই ওড়না গুলোকে বুক বরাবর করে কোমড়ে গুজে নিল, আবার এলোমেলো চুল গুলো দুই হাত দিয়ে খিচে খোঁপা করে নিল তিন জনেই। পরক্ষণেই তিন তিনজনের দিকে তাকিয়ে চাওয়া চাওয়ি করলো।এমন এক অ্যাটিটিউড নিল যেন এরা কোন মাফিয়ার থেকে কম কিছু না।
গলায় জোর ও তেজ রেখে বিথী লোকদুটোর লাফালাফি দেখে বললো,,,
__ আরে ওই আস্তে আস্তে লাফা বে,এমনিতেই একজন লুঙ্গি পড়ছিস আর একজন প্যান্ট। প্যান্ট ওলার তো প্যান্টটা গতি সীমার বাইরে গেলে ও বেশি একটা সমস্যা হবে না। কিন্তু লুঙ্গি ওলার লুঙ্গি খুললে সব স্ক্যান হয়ে যাবে। আস্তে আস্তে লাফালাফি কর।
লোকগুলো তাও থামলো তারা একই ভাবে লাফিয়েই গেল। তাদের এমন লাফালাফি দেখে তিন আলোকছটার সহ বাকি সবাই জোরে জোরে হাসতে শুরু করলো।ইতি বলে,,,
__ আরে গাধারা ওটা নকল সাপ।থাম এবার।
লোকটা হাতে থাকা সাপটাকে ফেলে দিলো, লাফালাফি থেমে গেল,ভালো ভাবেই বুঝলো তারা যে তাদের বোকা বানানো হয়েছে। প্রচুর রাগ হলো তাদের প্রবল ক্ষোপ নিয়ে এগোতে লাগলো ইতি, বিথী, নীধির, দিকে।ইতি তাদের হাত দিয়ে থামিয়ে বলে,,,
__ থাম থাম থেমে যা,কয়টা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যা?
লোকগুলো তাও এগোতে লাগলো বিথী এবার রাগ দেখিয়ে বলল,,,
__ আবে বাল ছিড়া তোদের থামতে বলছে থাম?
ইতি লোকগুলো বলে,,,
__ তোরা বিয়ে করেছিস?
লোকগুলো থম খেয়ে গেলো,চোখ বড় বড় করে চেয়ে রইল ইতি বিথী নীধি দিকে। এবার নিধি ধমক দিয়ে বলে,,,
__ আবে হালা কথা ক? মুখে বোমা হামলা করলো নাকি।
বিথী বলে,,,
__ বাল বল না? এত সময় নিয়ে লাভ আছে। এমনিতেই ধৈর্য কম।বিয়ে হয়েছে কি না বল?
লোক দুজনের রাগ হলো খুব,,
__ তোমাদের তা জেনে লাভ কি?
ইতি বলে,,,
__ বিয়ে করবো তোদের?
লোক দুজনেই একসাথে বলে,,,
__ এ্যাঁ।
দুজন লোকই মনে মনে বেশ খুশি হয়, দুজনের মুখেই হাঁসির দেখা মিললো,একটি লোক লজ্জা লজ্জা করে মাথা নুইয়ে বলে,,,
__ আমার বিয়ে হয়েছে, কিন্তু বউ প্রতিদিন ধরে কেলায়, বাড়ির সব কাজ করিয়ে নেয় তাই ওই বউ কে তালাক দিয়ে আর একটা বিয়ে করতে চাই। তোমাদের মধ্যে একজন হলে তো আর কোন সমস্যাই রইলো না।
অন্য লোকটি নিরেট কন্ঠে বলে,,,
__ আমি একদম চাঙ্গা সিংগেল, প্রতিদিন কোন না কোন মেয়েকে প্রপোজ করি, কিন্তু প্রতিদিনই হয় জুতোর বাড়ি খাই না হয় থাপ্পড় আর না হয় পাড়ার মানুষের উধ্দোম মদ্ধোম।
মূহুর্তের ইতি তড়িৎ বেগে এসে লোকটির কাছে হাঁটু গেড়ে বসে হাতেটা ফুল ধরার মতো করে বলে,,,
__ আই লাউ কদু ।
লোকটা খুবই খুশি হলো সাথে ডের লজ্জা ও পেলো,,,
__ আই লাউ কদু টু। কিন্তু এই ইংরেজির মানে বুঝি নাই যাই হোক ভালোবাসার কোন নতুন ইংরেজি হবে হয়তো।
লোকটা আবার লজ্জা পেয়ে বলে,,,
__ এবার আপনি উঠুন। আমার খুব লজ্জা করছে।
বিথী ও অন্য লোকটির পাশে এসে বলে,,
__ এই লুঙ্গি ওলাটার গলায় ঝুলবো আমি।
এবার নিধি অসহায় কন্ঠে আকাশের পানে তাকিয়ে বলে,,,
__ বিধি তুমি পাঠায় দাও আমার জাঙ্গিয়া লোকটারে,আমি এক অধম অসহায় সিঙ্গেল পোড়ামুখি।ডাবলে ডাবলে নেষ্টাগেস্ট এই সিঙ্গেল বান্দি দেখতে পাবে না।তার আগেই হয় তুলে নেও না হয় আমার কালা জাঙ্গিয়া পকিটারে পাঠায় দেও।
বিথী নিধিকে কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনি বিথীর পাশে থাকা লোকটার ফোন বাজে, বাটন ফোনের স্ক্রিনে নাম্বারটা স্পষ্ট ভাবে দেখতে পেল বিথী, নাম্বারটি মস্তিষ্কে গেঁথে নিলো,লোকটা কাঁপতে কাঁপতে ফোনটি ধরলো।
ফোনের ওপাশ থেকে গম্ভীর রাগি কন্ঠে বললো,,,
__ জানোয়ারের** কাকে ধরেছিস তুই।
লোকটা একটা শুকনো ঢোঁক গিলে বলে,,,
__ তিনটি মেয়েকে।
__ নাম কি ওদের?
লোকটা কান থেকে ফোনটা সরিয়ে ইতি বিথী নীধিকে বলে,,,
__ তোমাদের নাম কি গো?
তড়িৎ বেগে লোকটার হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে বিথী বলে,,
__ মাফিয়া বস সালাম ।আঙ্গে আমি বিথী বলছি।আমরা এখন এই লোকরে নিয়া কাজি…..
ফোনটা কেড়ে নিলো লোকটি কাঁপাকাপি দিগুন হাড়ে বেরে গেল,,,,
__ বস বলুন।
__ কাজি মানে কি বললো?
__ না মানে ইয়ে স্যার,ওরা আমাদের ইচ্ছা বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে করতে চায়, স্যার আমি বারবার বললাম আমি আমার বউরে ভালোবাসি তাও বুঝলো না।আমি তো ভালো মানুষ তাই আর না করতে পারলাম না।
বিথী মনে মনে বলে,,
__ ওরে বাটপার।
ওপাশ থেকে দীর্ঘ শ্বাস ফেলার শব্দ পাওয়া গেল, ,,
__ তোর কলিজা টুকরো টুকরো করে কুকুরকে খাওয়াবো তোর ধারনা নেই তুই কাদের কে ধরে এনেছিস।আর যত দ্রুত পাশ ওখান থেকে পালা পুলিশ আসছে তোদের ধরার জন্য।
দুজন লোকেই মুহূর্তে আতঙ্কে উঠলো কাঁপাকাপি দশ গুণ বেড়ে গেল কি করবে বুঝে উঠতে পারলো না, মুহূর্তেই দুজনেই গাড়ির দিকে ছুটতে লাগলো লুঙ্গি পরা লোকটার তো অর্ধেক লুঙ্গি খুলে পড়ার মতো অবস্থা, কোন রকমে লোকটা লুঙ্গির এক পাশ ধরে দৌড়াচ্ছে। দৌড়ে গিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে উধাও হলো।
ইতি বিথী নীধি বুঝলোই না যে এদের হঠাৎ হলোটা কি বিথী হতাশার দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে,,,
__ আমাদের বিয়ের কথা উঠলেই সবাই এভাবে পালায়।বিয়ে রেয়য়য়য়।
ইতি হাসতে হাসতে বলে,,,
__ লুঙ্গিটা খুলে পড়লে খুশি হতাম।
উপস্থিত থাকা সবাই হাসা শুরু করে দিলো। হঠাৎ নিধি নাকে মূত্র মূত্র গন্ধ এলো ,নাক সিঁটকে নিয়ে এদিক ওদিক ফিরে বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে বলে,,,
__ কি রে প্রসাব করেছিস নাকি?
ছোট ছেলেটা দাঁত বের করে খিলখিল করে হেসে বলে,,,
__ বেশি হাসলে আমি প্যান্টে প্রসাব করি দেই।
নাকে গন্ধ যেতে ইতি নিধি ও বাকি সবাই নাক ঢেকে নেয় ইতি বলে,,,
__ অটোমেটিক মেশিন তোর।
সেখানে উপস্থিত থাকা সকলে হো হো করে আবার হেঁসে ওঠে। নিধি হাঁসি থামিয়ে বলে,,,
__ বলদিরা আর হাসিস না,এখন বাড়ি যাবো কি ভাবে সেই চিন্তা কর।এর রাতে এখানে আমার তো গাঁ শিউরে উঠছে।
এবার সবাই চিন্তিত হয়ে গেল, তারা মোট সাতজন, ইতি, বিথী, নীধি আরো দুইটি মেয়ে এবং দুইটি দশ বছরের ছেলে।
হঠাৎ ই দ্রুত বেগে সেখানে একটা জিপ গাড়ি আসলো। ড্রাইভিং সিট থেকে চেনা এক মুখ বের হলো,সে আর কেউ না দির্শকে। জিপ গাড়িটির পিছনে আরো একটি জোয়ান ছেলেকে দেখা গেল,দির্শক গাড়ির জানালা দিয়ে মুখ বের করে বললো,,,
__ আরে আরে উজ্জ্বল নারীরা এখানে যে।
বিথী বলে,,,
__ আরে দু্ষ্শমন স্যার যে।
__ তোমরা এখানে কেনো?
__ আপনি এখানে কেন??
__ কাজ ছিল।
__ আমরা নারী পাচার চক্রে ফেঁসে গেছিলাম।
দির্শক আতঙ্কে ওঠে বলে,,,
__ তোমরা নারী পাচার চক্রে ফাসবে এটা আমি বিশ্বাস করি না, তবে নারীর পাচার চক্র তোমাদের চক্রে ফাসবে এটা বিশ্বাস করি।
ইতি বলে,,,
__ তা ঠিক।
দির্শক বলে,,
__ এখন গাড়িতে ওঠো সবাই।
কেউ আর কোন কথা না বলে জিপ গাড়িতে উঠে বসলো যে ছেলেটা প্যান্টে মুতে দিয়েছে সে ছেলেটা ওঠাতে পারলো না,আর জায়গা ও নেই পিছনে।দির্শকের সাথে আসা জোয়ান ছেলেটিকে বিথী বলে,,,
__ এই যে একটু ছেলেটাকে তুলে আপনার কোলে বসান ?
ছেলেটি খিল খিল করে হেসে বলে,,,
__ হ্যাঁ হ্যাঁ ভাবী।
ইতি, নিধি চোখ বড় বড় হয়ে গেল বিথী রাগ দেখিয়ে বললো,,,
__ দুর মিয়া চুপেন, বিয়েই হলো না এখনো আর একজন আবার ভাবি বলছে। দিলেন তো মনটাকে জ্বালায়ে পুড়িয়ে সাঁই করে। আচ্ছা আপনার কি বড় ভাই আছে??
__ হ্যাঁ ভাবী আছে।
__আমাকে আপনার পছন্দ হয়েছে ??
__ হ্যাঁ ভাবী?
__ আচ্ছা তবে আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েন আপনার ভাইরে, আমার আবার এসব ব্যাপারে কথা বলতে লজ্জা দজ্জা করে ওই জন্য বাবা মার সাথে কথা বলিয়ে পাকা পোক্ত করিয়েন সব।
__ আচ্ছা ভাবি।
ইতি, নীধির দিকে তাকিয়ে বিথী বলে,,,
__ নারী পাচার চক্রে ফেঁসে গিয়ে ভালোই হলো বল,বেশ নিজের বিয়ের কলকাঠি নাড়তে পারলাম।
ইতি বলে,,,
__ বলদি চুপ কর?
বিথীর বসার জন্য জায়গাই রইলো না, ছেলেটি বললো,,
__ ভাবি আপনি ভাইয়ের পাশে বসেন ওখানে জায়গা আছে।
__ আচ্ছা।
দির্শক জানালার কুনূই ঠেকিয়ে চোখে চেপে রেখেছে বিথীর ননস্টপ বকবকে মাথা ধরে গেছে।দির্শকের পাশে সিটে উঠে বসলো বিথী। দীর্ঘ শ্বাস ফেলল দির্শক বলছ,,
__ কথা শেষ?
__ হ্যাঁ।
মুতে দেওয়া বাচ্চাটাকে ছেলেটা কোলে তুলে নিতেই, প্রসাবের গন্ধে নাক মুখ কুঁচকে নিয়ে বলে,,,
__ এই ছেলে তোমার গাঁ থেকে এমন প্রসাবের গন্ধ আসছে কেন?
__ কারণ আমি প্রসাব করেছি।
__ কিইইইইইইই।
ইতি বলে,,,
__ কোলেই রাখবেন,।
__ কেনো।
__ ও ঘুমোলো আবার প্রসাব করে দিবে, কারণ ওর ওটা অভ্যাস।
বাচ্চা ছেলেটি বলে,,,
__ হ্যাঁ হ্যাঁ আপু ঠিক বলেছে।এই সময় তো আমি ঘুমাই তখন স্বপ্নে দেখি খেলতে খেলতে ক্লান্ত হই তখন খুব জোরে মুত ও চাপ দেয় তখন কলাগাছের ধারে আরাম চেয়ে মুতে দেই। কিন্তু এদিকে যে বিছানায় প্রসাব করি দিচ্ছি তা তো আমি জানিই না। পরদিন সকালে মায়ের সে কি কেলানী
রে বাবা। কাঁদতে কাঁদতে আবার প্রসাব করে দিই।
সেখানে উপস্থিত থাকা সকলেই হো হো করে হেসে উঠলো,হাসলো না শুধু জোয়ান ছেলেটা নাক মুখ আরো ছিটিয়ে নিলো নিজেকে। বাচ্চা ছেলেটাকে না পারছে কোল থেকে নেমে দিতে আর না পারছে কোলে রাখতে।গন্ধের জ্বালায় মুখ উঁচিয়ে অন্য দিকে অসহায় মুখে চেয়ে রইল ছেলেটি।
দির্শক গাড়ির ইঞ্জিন স্টাট করলো গাড়ি চললো নিজ গন্তব্যে।
তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৯
বেশ কিছুক্ষণ পর সেখানেই আলবান আর্দ্র ও পুলিশ আসলো। গাড়ির রেজিঃ নাম্বার মিলে গেছে এবং সেই গাড়িটিকে পুলিশ সন্দেহ করে জিপিএস ট্র্যাকিং করে আলবানের হুকুমে। অপ্রত্যাশিতভাবে এই গাড়িটির ট্র্যাকিং লিস্ট চেক করে বুঝতে পারে সেখানে কিছু নারী ও বাচ্চা আছে,গাড়ি রং দেখে চিনতে আরো সুবিধা হলো আলবানের।তার থেকেও বড়ো কথা হলো অবৈধ ভাবে পুরো সিম হ্যাক করে ফেলছে , যদিও কেউ টের পায়নি তবে কিছুক্ষণের জন্যে হলেও নেটওয়ার্ক ও হ্যাকিং করে নেট বন্ধ রেখে ছিল যদিও তাতে কোন কাজ হয়নি।পরে জিপিএস দ্বারা সহজেই কাজ হয়ে গেছে।
