তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৫
রাফিয়া জান্নাত রিফা
সকাল ছয়টার সময় সিদ্দিকী বেগম আলোকেছটাদের রুমে দরজা জোরে জোরে ধাক্কাছে আর বলছে,,,,
__ওঠ নামাজের সময় হয়েছে।
তিনজনই বেশ আরাম আয়েশ একে অন্যের শরীরে পা তুলে দিয়ে ঘুমে নিমগ্ন।দরজা ধাক্কানোর শব্দ হালকা হালকা কানে যাচ্ছে নিধীর কিন্তু সেই শব্দকে স্বপ্নে রুপে দেখছে “কেউ ঢোল বাজাচ্ছে আর নিধি এক কোনে দাঁড়িয়ে সেই ঢোল বাজানো দেখছে” এদিকে যে তা মা বাস্তবে দরজায় ধাক্কিয়ে ঢোল বাজাচ্ছে সে বুঝলে তো?
এদিকে সিদ্দিকী বেগম তো রাগে আগুন আরো জোরে জোরে দরজা ধাকাচ্ছেন।
শব্দ বিকট হতেই নীতি তড়িৎ বেগে চোখ খুলে লাফিয়ে উঠে বসলো। কিছুক্ষণ ঝীম হয়ে বসে থেকে বাস্তবতাকে অনুভব করলো ,আসতে ধীরে একটু নড়ে চড়ে বসলো শুনতে পেল তার মায়ের বাশ ফাটার মতো চিল্লানি,নীধি আর দেরি না করে ইতি বিথীকে ডাকতে লাগলো,ইতি ও বিথী দুজন দুজনকেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে সুন্দর ঘুমে আচ্ছন্ন।নীধি তাদের ডাকে ও বলে,,,
__বলদিরা ওঠ,নাহলে মা দরজা ভেঙে এলো বলে??
তাও কোন নড়াচড়া ও দেখা গেল না ,নীতি এবার রাগ ও বিরক্তি নিয়ে বিথীকে জোরে ধাক্কা দিতে দিতে বললো,,,
__ওরে বাল গুলো ওঠ না হলে আজ তিন জনেই খতম।
বিথী পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায়,ইতি ও চোখ খুলল আসতে ধীরে উঠে বসলো,ঝিম ধরা ভাব নিয়ে বসে থাকে। নিধি এলোমেলো পা ফেলে মাথা চুলকাতে চুলকাতে দরজা খুলে দিল, হুড়মুড়িয়ে প্রবেশ করলো সিদ্দিকী বেগম।নানা ধরনের হুমকি ধুমকি,রাগ দেখিয়ে কানের পোকা নাড়িয়ে দিলো তিন আলোকছটাদের, তাদের মায়ের বকবক করাতে তিনজনই সজাগ হয়ে গেছে, সিদ্দিকী বেগম বলেন,,,
__নামাজ পড়ে কোরআন তেলাওয়াত করবি,যা এখন ওযু কর??
এবার প্রচুর রাগে গর্জে বলেন,,,,
__যাযয়য়য়য়য়,,,
তিন বোনই এলোমেলো পা ফেলে বাথরুমে চলে গেল। সিদ্দিকী বেগম ও চলে গেলেন।
ওযু করে মাথায় দোপাট্ট করে ওড়না পড়লো।ইতি পরপর তিনটা জায়নামাজ বিছালো তিনজনই একসাথে চার রাকাত ফরজরের সালাত আদায় করলো। নামাজ পড়া শেষ হলেই কোরাআন মাজিদ নিয়ে সূরা আল-বাকারা পড়তে শুরু করে। ১ ঘন্টায় ৩ পারা পড়ে উঠলো। তিন বোনই সেই রমজান মাসে কোনআন খতম দিয়েছিলো এরপর আর কোরআন তেলাওয়াত করা হয়নি।
শেষ করেই তিন বোনেই ড্রয়িং রুমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
মেঝেতে বসে সিদ্দিকী বেগম ও মিলি বেগম সবজি কাটছে আর আলিফা বেগম ময়দা মাখছেন।আছিয়া বেগম (দাদিমা) খাবার টেবিলের চেয়ারে বসে চা খাচ্ছে।
ইতি এসে পেছন থেকে আছিয়া বেগমকে জড়িয়ে ধরে বলে,,,,
__কাল দাদুর সাথে পিরিতি করছো??
আছিয়া বেগম একটু অভিমান করেই বলে,,,
__সর আমার সামনে থাইকা??
বিথী জরিয়ে ধরে বলে,,,
__কি হয়েছে জান এমন করছো কেন?
নিধি বলে,,,
__আরে দাদু মনে হয় কাল আবার জানকে ধোঁকা দিছে??
আছিয়া বেগম কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে,,,
__দুইদিন থাইকা আমার কাছে তোরা কেউ আছিস না।
বিথী হালকা রাগ দেখিয়েই,,,
__দুইদিন না দেখেই এই অবস্থা,বুঝলি ইতি ,নিধী এই বুড়ি জানের জন্য আমাগো তিন বোনের বিয়ে হবে না,আজীবন আইবুড়ো হয়ে থাকা লাগবে,এই বুড়ি জান খালি ফেছফেছ করে কাঁদবো আর বাবা,বড় বাবাদের বলবে “আমার নাতনি গুলো রে ছাড়া আমি থাকতে পাবো না বাছা তোরা ওদের বিয়ে দিস না বাছা দিস না।” বলি ওই বুড়ি জান আমরা কি সোয়ামীর মুখ দেখবো না, সংসার করবো না।আজব তো আজ হোক বা কাল হোক পরের ঘরে আমাদের যেতেই হবে।এ কথাটা একদিন ও বললে না।
ইতি লম্বা শ্বাস ফেলে বলে,,,
__বাদ দে বইন সারাজীবন আমরা সিঙ্গেলে সিঙ্গেলে ঢলাঢলি করমু, তাছাড়া আমাগো কপালে বিয়ের ভাত নেই,হাহহহহ সবই কপাল রে কপাল।
নীধি ও কিছু বলতে যাবে তখনি রান্না ঘর থেকে আলু আর কিছু টমেটো তেড়ে আসে অল্পের জন্যই তিনজনের শরীর আঘাত লাগলো না।
আলোকছটারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই রান্না ঘর থেকে তাদের মা সিদ্দিকী বেগম দৌড়ে আসতে লাগলেন এক হাতে ঝাড়ু অন্য আর অন্য হাতে খুন্তি। তিন আলোকছটারা আর কিছু না ভেবে প্রাণপণ দৌড়াতে লাগলো । সিদ্দিকী বেগম চিৎকার করে বলতে লাগলো,,,
__থাম বলছি থাম ভন্ডামি আজ ছুড়াবো তোদের??
আছিয়া বেগম বলেন,,,
__আহ বউমা ওদের এমন রাগ দেখাচ্ছো কেন??ওরা ওসব মজা করে বলে।
__আপনাদের সবার লাই পেয়ে পেয়ে মাথায় উঠেছে।
আলবানের বাবা নাজিম তালুকদারের রুমের দিকে ছুটে আসলো তিন আলোকছটারা। তাদের এটা নিত্যদিনের কাজ সকালবেলা নাজিম তালুকদারের ও বাবার রুমে যাওয়া। রুমের একটু সামনে এসেই নিজেদের পরিপাটি করে নিলো।একে অপরকে ভালো করে দেখে নিলো সব ঠিকঠাক আছে কিনা।
আসতে আসতে করে পা ফেলে নাজিম তালুকদারের রুমে ঢুকলো। নাজিম তালুকদার নামাজ কোরআন তেলাওয়াত শেষ করেই খবরের কাগজ নিয়ে পড়েছেন টেবিলে।তিন আলোকছটারা উপস্থিতি না দেখেই টের পেলান তিনি,এবং বললেন,,,
__আম্মাজানেরা নামাজ পড়ছেন??
তিন জনেই একসাথে বললো,,,,
__ হ্যাঁ বড় বাবা।
__ কুরআন তেলাওয়াত করছেন??
__ হ্যাঁ।
খবরের কাগজ চোখ রেখেই তিন আলোকছটারাদের বলেন,,
__ মাশাআল্লাহ খুব ভালো করেছো আম্মুজানেরা, তোমাদের মায়ের কাছ থেকে যেন আর না শুনি যে নামাজ পড়ো নি,একদম বেশি দুষ্টুমী করবে না,আর হ্যাঁ আজ থেকে তোমাদের এক শিক্ষক পড়াতে আসবে, সুন্দর করে পড়াশোনা করবে,ভালো ইউনিভার্সিটিতে চান্স নিতে হবে,মনে রাখবা।এখন যেটা নিতে এসেছো সেটা নিয়ে যাও।
তিন জনেই হ্যাঁ সম্মতি জানিয়ে আলমারির দিকে চলে গেল। বিথী আলমারি খুলে বড়বাবার পকেট থেকে তিনজনের জন্য ১০০ টাকার তিনটে চকচকে নোট নিলো। পাঞ্জাবিটাকে আবার আগের জায়গায় রেখে,ভদ্র মেয়ে মতো রুম ত্যাগ করলো।
নাজিম তালুকদারের এই তিন আলোকছটারা এক কথায় ওনার প্রাণ বলা চলে, শুধু উনারই না নাঈম তালুকদার ও নাজির তালুকদার তিনজনেরই।এই তিন জনেই তাদের হাঁসি খুশি থাকার ওষুধ। সমস্ত কষ্টের অবসান।
টাকা পেয়ে তিনজনই খুশিতে গদগদ অবস্থা।একই ভাবে তাদের বাবা নাইম তালুকদারের ঘরে গিয়েও টাকা উসুল করলো। নাজির তালুকদের কাছ থেকে টাকা আজ আর টাকা নিলো না।
খুশিতে নাচতে নাচতে রুমে এসে,তিন জনের টাকা একত্রিত করলো মোট টাকা হলো ৬০০ শত টাকা। চোখে মুখে খুশি উপচে পড়ছে তিনজনেরই।১০০ টাকা নিজেদের জন্য রেখে বাকি ৫০০ টাকা মাটির ব্যাংকে রেখে দিলো, ওদের কাছে ব্যাংকটির নাম সোনালী ব্যাংক। বিথী খুশিতে লাফাতে লাফাতে বললো,,,,
__বলদি রে সোনালী ব্যাংকে তো ১৫-২০ হাজারের মতো টাকা হলোই।
ইতি বলে,,,
__ হ্যাঁ এই টাকা গুলো আমাদের ভবিষ্যৎ। বাবা বড় বাবা রা বিয়ে না দিলে,এই টাকা দিয়ে ছেলে খুঁজে বিয়ে করবো।
নীধি নাকোচ করে বলে,,,
__এতো বিয়ে বিয়ে করিস কেন??
বিথী নীধির মাথায় একটা চাপ্টি মেরে বলে,,,
__তোর আজকাল কি হইছে রে,আগে তো বিয়ের জন্য একসাথে লাফাতাম,এখন এতো না না করিস কেন।এ নীধি এ তোর ব্যাপার স্যাপার আমার কাছে ভালো ঠেকছে না।
বিথী আবার ইতির দিকে তাকিয়ে বলে,,,
__ইতি এরে কিছু বল,না হলে পরে সব ওলোট পালোট হয়ে যাবে।
ইতি বলে,,,
__ডাল মে কুছ কালা হে,বলে ফেলো সোনা কি চলে তোমার মনে।
ইতি গাঁয়ের ওড়নাটা হাতে প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে বলে,,,
__আমার লজ্জা করছে।
বলেই মুখ ঢাকে নিধি।
বিথী কাঁদো কাঁদো স্বরে ছটফটিয়ে বলে,,,
__ওরে ইতি এই চেংরি প্রেমে পরছে রে।
ইতি বলে,,
__বিথী শান্ত হ তুই, ব্যাপারটা বুঝতে দে আমায়।
ইতি আবার নিধিকে বলে,,,
__কোন ছেলে নিধী??
মুখ থেকে হালকা করে হাত সরিয়ে বলে,,,
__আমার ভাই তোমার ভাই পাদরো ভাই??
বলে আবার মুখ ঢাকে।
ইতি, বিথী দুজনেই চিল্লিয়ে বলে,,,,
__কিইইইইইইইইই??
ইতি নিধির পিটে জোরে একটা চাপটি মেরে বলে,,,
__ওরে বলদি এই চলে তোর পেটে পেটে।
বিথী কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে,,,
__শেষমেষ পাদরো ভাইরেই পেলি।
নিধি আলতো করে মাথা জাঁকালো।
ইতি বিথী কিছুক্ষণ মাথায় হাত দিয়ে ভাবলো। আচমকা জোরে একটা শ্বাস নিয়ে বিথী বলে,,,
__ওরে ইতি হার্ট অ্যাটাক করমু মনে হয়।
ইতি বলে,,,
__হার্ট অ্যাটাকের কি আছে??
নিধি বলে,,,
__আজব তো পাদরো ভাইকে যেহেতু আমি পছন্দ করছি। সেহেতু পাদরো ভাইকে তিনজনই বিয়ে করে পার্মানেট ভাবে একসাথে থাকবো। আমাদের আলাদা করা আল্লাহ ছাড়া কারো হাতে নেই।
বিথী এবার মুখে চওড়া হাসি নিয়ে বলে,,,
__এখনি শান্তি পেলাম।
মূলত তাদের একটা ছেলেকে বিয়ে করার রিজন একটাই তারা যেথায় যাবে সেথায় একসাথে থাকবে, কখনো আলাদা হবে না এক সেকেন্ডের জন্য ও না।একে অপরের প্রাণকেন্দ্র হয়ে থাকবে।তাদের আলাদা করার সাধ্য পৃথিবীর কারো হাতে নেই আল্লাহ ছাড়া,এটাই মানে তারা।
হঠাৎ করেই কিছু মহিলা মানুষের চিল্লাচিল্লি শোনা গেল, বিথী দৌড়ে গিয়ে জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখে। খুশিতে গদগদ হয়ে ইতি,নিধি কে বলল,,
__ওরে বলদি চল চল ঝগড়া লেগেছে,চল??
ইতি,নিধি ও খুশি হয়ে হাতে হাত ধরে দৌড়াতে লাগলো।
তাড়াহুড়ো করে তিন বোনই ড্রাইংরুমে আসলো নিঝুম সোফায় সুন্দর মতো ভদ্র মেয়ে মতো বসে ফোন স্ত্রল করছে।
ইতি বিথীকে কিছু একটা ইশারা করাতেই বিথী খাবার টেবিল থেকে একটি আপেল, একটি কলা, একটা কমলা, একটা রুটি নিয়ে ওড়নায় পেচালো।
ইতি নিঝুমের কাছে এসে বললো,,
__চল আমাদের সাথে??
__কোথায়??
__ঝগড়া দেখতে??
নিঝুম মুখ কুঁচকে বলে,,
__ও সবে আমার ইন্টারেস্ট নেই,আর এমনিতেও বাইরে খুব রোদ।তোরা যা।
ইতি বিরবির করে বিথীর কানে কানে বলে,,
__ওরে বিথী এই মেয়ের রুপের সাথে সাথে যৌবন ও উতলে পড়ছে। আমাদের আগে এরই বিয়ে দিতে হয়ে।
তিন জনেই ফিক মেরে হেসে উঠলো।এবং একসাথে পুনরায় চলতে লাগলো।আলবানের মা আলিফা বেগম বললেন,,,
__ও কি তোরা যাচ্ছিস কই??
বিথী বলে,,,
__আরে বড় মা ঝগড়া লাগছে পুঁটলি মা আর সাগরের মা।শুনে আসি কি নিয়ে ঝগড়া।
অন্যর ঝগড়া লাগার ব্যাপারে বরাবরই আলিফা বেগম খুবই সিরিয়াস। বিথী কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলো এবং বললো,,
__ভালো করে শুনে আসবি,আর কিছু খেয়ে তো যা??
ইতি বলে,,,
__খেতে খেতে ঝগড়াই শেষ হয়ে যাবে,পরে খাবো।
এই বলে তিন বোনই যেতে লাগলো।
তালুকদার বাড়ির বাগানে বড় বড় ফল ও ফুলের গাছ গুলো বরাবরই আকর্ষণ কাড়ে বেশি,বেশ প্রকৃতিতে ভরপুর।
গেট পেরিয়ে ঝগড়া লাগার স্থানে উপস্থিত হলো তিন বোনেই।
দুই মহিলা ঝগড়া করছে।বেশ কিছু লোকজন ও জড়ো হয়েছে।এদের ঝগড়ার মূল কারণ হলো, তাদের স্বামীকে নিয়ে। তাদের ভাষ্যমতে যা বোঝা গেলো তাতে।একসময় তারা বসে গল্প করছিলো তখন পুঁটলি মা সাগরের মাকে বললো,,
__ভাবি আপনরে একখান কথা বলতে চাই।
সাগরের মা বলে,,
__কি কথা গো ভাবি?
__আমি কাল বাজারে ভাইজান রে এক মহিলার সঙ্গে হেঁসে হেসে ঝালমুড়ি খেতে দেখছি।
ব্যাস হয়ে গেল, সাগরের মা আবার একটু বেশিই স্বামী ভক্ত তার উপর মানসম্মান তো আছেই। সাগরের মায়ের মতে পুঁটলির মা এসব মিথ্যা বানোয়াট কথা বলে পাড়ায় পাড়ায় রটিয়ে বেরাচ্ছেন। পুঁটলির মায়ের ভাষ্যমতে তিনি মিথ্যা কথাকে অনির্কয করে সবসময় সত্যে অবিচল থাকে।ঝগরা লেগেছে থেকে পুঁটলির মায়ের একটা কথা কথাই শোনা যাচ্ছে,,,
__আল্লাহর কসম, কোরআনে হাত রেখে বলবো আমি মিথ্যে বলছি না।
সাগরের মায়ের কথা,,,
__তুই বিচ্ছু মহিলা, মানুষকে চুলকে চুলকে বেরাস,চুক্লিনেব্লি করিস, আল্লাহ তোর ভালো করবে না, বেইমান মহিলা,তোরে আমি কত সাহায্য করলাম ভুলে গেলি সব।
পুটলির মা
__তোর মুখের বোমা পরুক,পোকা পরুক, জবান বন্ধ হোক।সংসার ভাসিয়ে নিয়ে যাক,কি আমার সাহায্যদাতা আইছে ।
যত ধরনের সব লজিকলেস কথাবার্তা বলছে আরকি, মারার জন্য দুজনই দুজনের দিকে তেড়ে আসছে আবার মধ্য খানে এসে থেমে যাচ্ছে, মূলত থেমে যাওয়ার কারণ হলো কেউ তো এগিয়ে এসে তাদের ধরসে না যদি সত্যি সত্যি মারামারি লেগে যায় এই ভয়ে দুজনেই দমে যাচ্ছে।
এদিকে পুঁটলি মায়ের তো ঝগড়া করতে করতে গায়ের
ওরনা ও চুল খুলে পড়ে গেছে সেদিকে কোন খেয়ালই নেই। সাগরের মায়ের ও একই অবস্থা তিনি তো পা দাপিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আর ঝগড়া করছে।একদম যাকে বলে টান উত্তেজনা চলছে।
আচমকা ইতি গিয়ে পুঁটলির মায়ের ওড়নাটা নিয়ে বুক বরাবর পেঁচিয়ে কামড়ের সাথে বেঁধে দেয়।চুল গুলোকে একএিত করে খোঁপা বেঁধে দেয়।
ইতির এমন কান্ডে পুঁটলির মা তম্বা খেয়ে গেল সাথে সাগরের মা ও।
বিথী সাগরের মায়ের কাছে গিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত পরখ করে বলে,,,
__সব পারফেক্ট আছে।
ঝগড়া থেমে গেল বলে নিধি বেশ বিরক্ত হয়ে বললো,,
__ঝগড়া থামালেন কেন?? শুরু করুন।
সাগরের মা একটা ঢোক গিলে বলে,,,
__আম্মাজানের তোমারা এখানে??
ইতি বলে,,
__ঝগড়া দেখতে এসেছি ঝগড়া করুন।
পুঁটলির মা বলে,,,
__তোমাদের বাসায় পর্যন্ত আমাগো ঝগরা শুনা গেছে।
বিথী বলে,,,
__ হ্যাঁ ওই জন্য তো আসলাম ঝগড়া দেখতে।
মূহুর্তের পুঁটলির মা ও সাগরের মায়ে চেহারা রং বদলে গেল পুনরায় দুজনেই একএিত হয়ে কোলাকুলি করে এবং ইতি, বিথী, নীধি কে বলে,,
__তোমরা ভুল দেখছো মায়েরা আমরা ঝগড়া করি নাই।এই দেখো আমার মিলেমিশে আছি।
এই বলে সাগরের মা চলে যায় । পুঁটলির মা আচমকা এসে হাঁসি মুখে থাকা পুঁটলির গালে দিলো একটা কষে চড় বসিয়ে রাগ দেখিয়ে বলে,,
__এটার সারাদিন খালি খেলা আর খাইখাই চল বাড়ি চল।
এই বলে পুঁটলির হাত ধরে গদগদ পায়ে চলে যান।
তিন বোনেই হতবাক হয়ে দেখই গেল কান্ড কারখানা গুলো।
আসলে এই পাড়ার সবাই তালুকদার বাড়ির লোকজনকে প্রচুর সম্মান করে। পাড়ার মধ্যে সম্ভ্রান্ত ও নামিদামি তালুকদার বাড়ি,পাড়ার নানান ধরনের ঝগরা বিবাদে তালুকদার বাড়ির তিন কর্তাদের দেখা যায়।খুবই বিচক্ষণতার সহিত সব সমস্যার সমাধান করেন।যার কারণে এই বিদুষী দুই মহিলা ভয় পেয়ে চলে গেল।
ইতি, বিথী, নীধি অনেক শখ নিয়ে এসেছে যে আজ তার বিচার করে এ ঝগরাকে মীমাংসা করবে। কিন্তু হলো তার উল্টো।
রাস্তা দিয়ে এক পুরুষ সাইকেলে করে যাচ্ছিল এবং বলছিলো,,
__আহা নারা কত সুন্দর অভিনয় করে রে, অভিনয়ের জন্য নারী সেরা রেহহহহহ।
তিন বোনেরই মনটা ভেঙ্গে গেলো হতাশ হতবাক হয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিলো।
বড় বটগাছটা পার করে যেতে হয় তালুকদার বাড়ি। বটগাছটা থাকে এক বৃদ্ধ,পাড়ার অনেকে ভিখারি বলে,কিন্তু ইতি বিথী মোটেও তাকে ভিকারী বলে না এবং কাউকে বলতেও দেয় না,তিনি হলেন তিন বোনেরই দাঁড়িওয়ালা দাদু। এটাও তাদের একটা রুটিন প্রতিদিন এসে এই দাদুর সাথে গল্প গুজব করবে।
দাদু টার দাড়ি গুলো একটু বড় বড় অনেক জ্ঞানী ও কিন্তু পাড়ার কেউ তাকে জ্ঞানী হিসেবে সম্মান করতে চায় না।
প্রতিদিন তিন বেলা করে খাবার এনে দেয় ইতি, বিথী,নীধি দাদুকে। দাদুর প্রত্যেকটা কথার মধ্যে লজিক, উচ্ছাস, প্রণোদনা থাকে যা ইতি বিথী নীধিকে প্রবল ভাবে আকর্ষণ করে।
তার এই ব্যর্থ জীবনের ও বড় একটা গল্প আছে যা এখনো বলেনি তিন আলোকছটাদের।
ইতি, বিথী, নীধি বট গাছে তাদের দাদুকে পুরো শরীরে চাদর মুড়িয়ে সুয়ে থাকতে দেখে হতভম্ব হয়ে ছুটে এলো দাদুর কাছে। ইতি গা থেকে চাঁদর সরালো, বিথী কপালে নেড়ে দেখলো ভিষন জ্বর এসেছে দাদুর গায়ে। তিন জনেই দাদুকে তুলে বটগাছে হেলান দিয়ে রাখলো।
নিধি দৌড়ে গিয়ে পাশের কলতলা থেকে দাদুর পানি খাওয়া মগে করে পানি আনলো।ইতি কাপড়ের টুকরো ভিজিয়ে কপালে পট্টি দিতে লাগলো। বিথী ওড়নার আঁচল খুলে আপেল,কমলা ও রুটি বের করলো।
দাদুর এমন অবস্থা দেখে তিন আলোকছটার চোখেই পানি টলমলে হয়ে গেল। দাদু তো সহজে অসুস্থ হয় না,তবে আজ কেন দাদুর এমন হলো।
নিধি দাদুর গা নেড়ে নেড়ে ডাকলো,,
__ও দাদু ওঠো ,দেখো আমরা এসেছি গল্প করতে, তোমার
তিন আলোকছটা এসেছি চোখ মেলে দেখো।
দাদু পিট পিট করে চোখ খুলতে লাগলো,খুলে বললো,,
__তিন আলোকছটা তোরা এসেছিস, তোদের অপেক্ষায় ছিলাম।
ইতি বলে,,,
__ হ্যাঁ এসেছি।
বিথী আর একটি পাএে পানি আনলো এনে রুটি ভিজিয়ে খাওয়াতে লাগলো দাদুকে।
পাশেই মতলব কাকার দোকান নিধি সেখানে দৌড়ে গিয়ে বললো,,,
__কাকা দুইটা প্যারাসিটামল দাও।
দোকান থেকে ওষুধ নিয়ে পুনরায় দাদুর কাছে গেল নিধি।দাদু। এই বৃদ্ধ বয়সে ও অনেক স্ট্রং কিন্তু আজ জ্বরের প্রভাবে শরীরটা আজ নেতিয়ে পড়েছে,এক রাতেই চোখ গুলো বসে গেছে।
ইতি , বিথী, নীধি অনেক বলছিল যে “দাদু তুমি আমাদের সাথে আমাদের বাড়ি চলো” কিন্তু দাদু যেতে একদমই নারাজ,তিনি কিছুতেই এই বটগাছ ছেড়ে যাবেন না।
বিথী রুটি খাওয়ানো পর কলাটি খাওয়ালো , দাদুর কিছু ছোট খাটো আসবাবপত্র রাখার জায়গার আপেল ও কমলাটি রেখে দিল।ইতি মাথায় পানি পট্টি দিয়েই চলেছে।
নিধি দাদুকে ওষুধ খাওয়ালো।দাদু কাঁপা কাঁপা স্বরে আওড়ালো,,,
__ এত যত্ন করে কি হবে,সেই তো একদিন মরতেই হবে।
ইতি বলে,,,
__একদম বাজে কথা বলবে না, এখন আমাদের সাথে চলো?? এখানে আর এক মিনিট ও না।
__আমি এখান থেকে কোথাও যাবো না,??
বিথী বলে,,,
__দাদু এতো জেদ কেন করো এখানে কি আছে ?কেন যেতে চাও না তুমি??
__আছে অনেক কিছু আছে, আমার সর্বস্ব এখানে আছে।
নিধি বলে,,,
__সেই কবে ওই এক কথাই বলে যাচ্ছো, কিন্তু আমাদের আর তোমার জীবনি শোনাচ্ছো না,কি আছে এ বটগাছে দাদু??
__বলবো, বলবো, সময় হলে সব বলবো??
বিথী বলে,,
__এখন আর বেশি কথা বলো না?? চুপচাপ বসে থাকো।
ইতি বলে,,
__আমরা বাড়ি থেকে তোমার খাওয়া জন্য ভাত আনছি?কি লাগে তা মতলব কাকাকে বলবে। আচ্ছা??
অসুস্থ নেতিয়ে পড়া শরীরে দাদু দু দিকে মাথা ঝাঁকিয়ে হ্যাঁ সম্মতি জানায়।
বাড়ি যাওয়ার জন্য উদিত হলে বিথী গলা উঁচিয়ে পাশে দোকানদার মতলব কাকাকে বলে,,,
__ কাকা দাদুকে দেখে রাখবে,কি লাগবে তাই দেবে,আমরা শুধু যাবো আর আসবো।
__আইচ্ছা আম্মারা।
এই বলে বাড়ির দিকে দৌড়াতে লাগলো তিন বোনেই।আলবান, আর্দ্র,পিকি জগিং করে বাড়ি ফিরছিল এমন সময় চোখে পড়ে তিন আলোকছটাদের ও বৃদ্ধ দাদুকে। তিন জনেই বেশ মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখছিল তিন আলোকছটাদের কাজ,মায়া মমতা সহিত যত্ন, বৃদ্ধ দাদুর জন্য উতলা হওয়া। তাদের এই যত্ন এক মূহুর্তের জন্য হলেও মন নাড়িয়ে দিয়েছে আলবান, আর্দ্র ও পিকির। চোখে মুখে এক সুন্দর মুগ্ধতা যা আলোকছটাদের প্রতি ছড়িয়ে আছে।
আলবান দাদুর কাছে যায়, কপালে হাত রেখে জ্বর দেখলো। ওষুধ খাওয়ার ফলে অনেকটাই কমছে।কপালে হঠাৎ কারো স্পর্শে পিট পিট করে চোখ খুলল দাদু ও বললেন,,,
__আলবাল দাদুভাই নাকি?
__ হ্যাঁ?এখন কেমন লাগছে আপনার??
__ আলোকছটারা আমাকে কখনই খারাপ থাকতে দেয় না। ওদের জন্য ভালো আছি?
__আমাদের বাড়ি চলুন?
__আলোকছটারাও অনেক বলে, আমি এখান থেকে যেতে পাবো না দাদুভাই।
__এখন চলেন পরে নাহয় আবার এখানে আসবেন।
__না দাদুভাই তোমরা চলে যাও।আমি ঠিক আছি, আলোকছটারা আমাকে ঠিক ভালো রাখবে?
আলবান চলে যাওয়ার জন্য উদিত হলেই দাদু আবার বলে,,,
__আলোকছটাদের বেশি বকো না দাদুভাই??
আলবাল প্রতিওর না দিয়ে মুচকি হেঁসে যেতে থাকে। আর্দ্র বলে,,,
__কোবরা টুইস্টরা আসলেই গ্রেট,পাড়ায় কত সুনাম তাদের। আসলেই তারা নিবেদিত প্রাণ, উচ্ছাসে ভরা তিন প্রাণ।
পিকি বলে,,
__আমি আগেই বলেছি আমার সুইটিরা খারাপ হতে পারেই না।
আলবান কিছু বলে না শুধু মুচকি হাসে হয়তো আলবানের ও অনেক ভুল ধারণা গুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে। আগের অতীতের সেই ভুল ধারণা গুলো এখন তাকে সেই দাম্ভিকতা থেকে মুক্ত করছে, এলোমেলো বেড়াজাল থেকে মুক্তি দিচ্ছে।আলবানের মনে হচ্ছে বারবার “আসলেই কি আমার ভুল ছিল “।
তারা কিছুদুর যেতেই দেখলো হাতে খাবারের প্লেট নিয়ে ছুটে আসতে তিন নিবেদিত আলোকছটারা। আলবান, আর্দ্র, পিকি তাদের দেখে দাঁড়িয়ে যায়।
তিন বোনেই তাদের একবার দেখলো কিন্তু কোন প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজ কর্মে চলে গেল।
ইতি ভাত,ইলিশ মাছ, পাতলা আলু ভাজি দিয়ে মেখে খাওয়াতে লাগলো দাদুকে। বিথী পানি এনে খাওয়ায়,নিধি থেকে থেকে মুখ মুছে দেয়।
বৃদ্ধ দাদু শুধু তাদের এই যত্ন গুলো পানি টলমলে চোখে দেখেই গেলো, দাদুকি আদৌও এমন যত্ন পেয়েছে। পেয়েছিল মনে হয় কিন্তু এখন বোধ করতে পারলো না।
যোহরের নামাজ শেষ করেই খাওয়া দাওয়া করে ড্রইং রুমে বসে আছে ইতি, বিথী, নীধি নিঝুম ও মুহিন। টিভিতে মুভি দেখছে।
এখন দুপুর ২ টা ৩০ বাজে। মুহিন কিছু একটা ভেবে ড্রয়িং রুম ত্যাগ করে বাগানের দিকে চলে গেল। নিঝুমের ও ফোন কারো কল আসায় সে ও অন্য দিকে চলে গেল।
বাড়ির সকল গিন্নিরা এখন নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছে।
এখন শুধু ড্রইংরুমে পড়ে রইলো ইতি, বিথী, নীধি।ইতি তড়িৎ বেগে রিমোট টা নিয়ে চ্যালেঞ্জ পাল্টাতে শুরু করলো, হঠাৎই একটা দারুন ইংরেজি মুভি চোখে পড়ল, যদিও তারা ইংরেজি কোন মাথাই বোঝে না, তাও ইংরেজি মুভির কথায় কথায় কিস করা এটায় বেশ আকর্ষণ কাড়ে তিন বোনের।
মুভির নাম love actually। মুভিতে নায়ক হিউ গ্রান্ট স্কুলের এক অনুষ্ঠানের ভরা প্রাঙ্গণে নায়িকা মার্টিন ম্যাককাচনকে লিপ কিস করছে,হিউ গ্র্যান্ট আসতে আসতে মার্টিন ম্যাককাচন এক ঠোঁটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে থাকা সকল হা হয়ে তা দেখছে।
মূহুর্তেই তিন বোনেই চোখ বড় বড় করে টিভির দিকে ঝুঁকে দেখতে লাগলো,নিধি একবার আশেপাশে চোখ বুলিয়ে দেখলো আশে পাশে কেউ আছে কি নি ,নাহ কেউ নেই, আবার মনোযোগ দিলো টিভিতে।
এদিকে সোফার পেছন থেকে এদের সব কান্ড দেখে ফেলা আলবান, আর্দ্র, ও দির্শক হুট করেই ডুকে যাওয়ার ফলে তাদের চোখে সব স্পষ্ট। ভড়কে গিয়ে তিনজনই হা হয়ে তিনজনের মুখের দিকে দেখতে লাগলো।
বিথী তো সোফায় বসে লাফাচ্ছে আর বলছে,,
__আর একটু আর একটু, একটু।
ইতি বলছে,,
__ধুর বাল এসব কি মুভি,একটা কিস করতে এতো সময় নেয়। তখন থেকে ঠোঁটের দিকে এগিয়ে আসছে তো আসছেই।
নীধি টিভির দিকে চোখ দিয়েই হাত হাঁটুতে ঝেড়ে ঝেড়ে বলে,,,
__আর একটু হলেই তো খেলা জমে ঘি,এত নাটকের কি আছে ভাই তাড়াতাড়ি কাজটা ফেল না??
এদিকে অসহায় তিন ছেলে প্রাণী বারবার শুকানো ঢোক গিলছে। যেখানে ইতি বিথী নীধির লজ্জা পাওয়ার কথা সেখানে আলবান, আর্দ্র, দির্শক লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে।আলবান রাগ হবে ,নাকি কাঁদবে ,নাকি হাসবে, বেচারা বুঝতে পারছে না।আলবান একবার আর্দ্র ও দির্শক কে দেখে মাথাটি নিচু করে আলোকছটাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে পাশে থাকা ছোট লম্বা টেবিলটায় শব্দ করে থাবা পাড়লো হাত দিয়ে।
মূহুর্তেই তিন বোনই হকচকিয়ে উঠে দেখলো আলবান ভাই লাল চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
ইতি, বিথী, নীধি কি করবে বুঝতে পেল না। তিনজনেরই হৃদস্পন্দন বেড়ে টর্নেডো সাইক্লোন সব একসাথে শুরু করেছে। দ্রুততার সাথে ইতি রিমোটটা খুঁজতে লাগলো।
বিথীর হতে যে রিমোট সেটা কারো চোখেই পড়ছে না। তিন বোনেই অনবরত রিমোট খুঁজতে লাগলো।
হঠাৎ ইতি চোখ গেলো বিথীর হাতের দিকে তড়িৎ বেগে ইতির মাথায় একটা চাট্টি মেরে হাত থেকে রিমোট টা নিলো।
ইতি রিমোট দিয়ে টিভি বন্ধ করবে কিন্তু এবার রিমোট টাও যেনো কাজ করছে না। অনেক জোরে জোরে রিমোটের লাল অংশটায় চাপ দিচ্ছে কিন্তু তাও কাজ হচ্ছে না।
এদিকে সবার চোখ আটকে গেল টিভির স্ক্রিনে,যা হবার তাই হয়ে গেল। টিভির স্ক্রিনে একদম ভালোভাবেই দৃশ্যমান হলো দুই মানব মানবীর চুম্বন।
সেখানে উপস্থিত থাকা ছয়জনেরই চোখ স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক ভাবে বড় হয়ে গেছে।তিন বোনের অবস্থা তো বেগতিক,গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে,তিন শরীর অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপছে,এ এমন পরিস্থিতিতে পড়লো তারা। চোখ মুখে অন্ধকার নেমে এসেছে বারবার শুকানো ঢোঁক গিলছে।
তিনজনই আর কিছু না ভেবে ইতির হাতে থাকা রিমোট টা ফেলে দিয়েই সিঁড়ি দিয়ে প্রাণপণ দৌড় লাগায় নিজ রুমে।
এদিকে আলবান, আর্দ্র, দির্শক তম্বা খেয়েছে এমন দৃশ্য দেখে।আলবানে ইচ্ছা করছে টিভি টাকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে।তাও নিজেকে সংযত রেখে রিমোট দিয়ে টিভিটা বন্ধ করলো।
আর্দ্র, দির্শক সোফার দিকে এগিয়ে এসে ধফ করে সোফায় বসলো।আলবান ও বসে পড়লো।দির্শক আজ থেকেই ইতি বিথী নীধি কে পড়ার জন্য এসেছিল।আর আজকেই এমন ঘটনা।
দির্শক খুবই চিন্তিত হলো মাথায় হাত দিয়ে ভাবছে।তার মতে এই মেয়ে গুলোর সামনে সে যাবে কিভাবে এবং পড়াবে কিভাবে, লজ্জায় তো নিজেরই নাক কাঁটা যাচ্ছে।এখন বেশ বুঝতে পারলো দির্শকের এই তিন মেয়ের লজ্জা সরম ও নেই।
ইতি বিথী নীধি রুমে গিয়েই দরজা বন্ধ করে বিছানায় বসে জোরে জোরে শ্বাস নিতে শুরু করেছে।এ কেমন পরিস্থিতিতে পড়লো আজ? বিথী বলে,,,,
__বালগুলো ফির কোথ থেকে এলো??
ইতি বলে,,,
__ইস কি লজ্জা? কি লজ্জা?
নিধি ইতিকে বলে,,,
__বলদি তোর জন্যই এমন, তুই তো মুভিটা দিলি??
__ওরে আমি কি জানি যে পাটা গুলো চলে আসবে এ সময়?
বিথী ইতির কাঁধে হাত রেখে বলে,,,
__ইসস কি সুন্দর ছিল কিসটা কিন্তু পাটা গুলো জন্য ভালোভাবে দেখতেই পেলাম না।
ইতি বলে,,,
তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৪
__তা ঠিক, কিন্তু তোকে ধাক্কা দেওয়া লোকটা মানে দাবালন ভাইয়ের বন্ধুটা এখানে কি করে??
নিধি বলে
__আচ্ছা ! দাবানল ভাই কি জানে না যে তালুকদার বাড়িতে চারটি জোয়ান মেয়ে আছে।
ইতি বলে,,
__আজ দাবালন ভাইয়ের সামনে পড়লে ভালোই দফারফা হয়ে যাবে, একদম সামনে পড়া যাবে না, নাহলে মৃত্যু নিশ্চিত।
একসাথেই তিন বোন হো হো করে হাসতে শুরু করলো।
