Home তিন তরঙ্গের আলোকছটা তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৫৩

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৫৩

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৫৩
রাফিয়া জান্নাত রিফা

দির্শকের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল শুধু ইতি, বিথী আর নিধি। কিন্তু শত অনুরোধের পরও তাদের কাউকেই দেখা করার অনুমতি দেওয়া হলো না। এতে বিথীর ভেতরের ক্ষোভ যেন হঠাৎ করেই বিস্ফোরিত হয়ে উঠল।
রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে সে গিয়ে সেই বৃদ্ধ দাদুর পাশে বসে পড়ল। বিথীর অস্থির ভঙ্গি লক্ষ্য করেই দাদু মৃদু হেসে বললেন,
“মনে হচ্ছে খুব রেগে আছো?”
বিথী সংক্ষিপ্ত স্বরে বলল,
“হ্যাঁ।”
“কেন?”
“দুষ্মন স্যারের সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না।”
দাদু ভ্রু তুলে তাকালেন।
“তাকে দুষ্মন বলেও তার সঙ্গে দেখা করতে চাও?”
বিথীর চোখ হঠাৎ অদ্ভুত দৃঢ়তায় জ্বলে উঠল।

“সে দুষ্মন নয়। এই পৃথিবীর নিকৃষ্ট নিষ্ঠুরতাই তাকে দুষ্মন বানিয়েছে।”
বৃদ্ধ দাদু আবারও মৃদু হাসলেন।
“আজ আর দেখা করতে দেবে না। বাড়ি চলে যাও।”
বিথী বিরক্ত স্বরে বলল,
“কেন দেবে না? আজই তো দেখা করার নির্ধারিত দিন ছিল!”
দাদু শান্ত কণ্ঠে উত্তর দিলেন,
“আজ বড় অফিসার আসবেন। তাই আজ কাউকে দেখা করতে দেওয়া হবে না।”
কথাটা শুনে বিথী দীর্ঘ এক হতাশ নিঃশ্বাস ফেলল।
ঠিক তখনই ইতি এগিয়ে এসে বিথীর পিঠে হাত রেখে নরম স্বরে বলল,
“চল আজ যাই। কাল আবার আসব।”
নিধিও সায় দিল,

“হ্যাঁ, কাল আরও তাড়াতাড়ি এসে দাঁড়াবো।”
বিথী কিছুক্ষণ নীরব রইল। তারপর ব্যাগ থেকে ভাঁজ করা একটি সাদা কাগজ বের করে বৃদ্ধ দাদুর হাতে দিয়ে বলল,
“এটা দির্শক স্যারকে দিতে পারবেন?”
দাদু মাথা নেড়ে বললেন,
“হ্যাঁ, দিতে পারব।”
বিথী ধীরে বলল,
“আচ্ছা… তাহলে আজ আসি।”
সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। কিন্তু হঠাৎ করেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন ছ্যাঁৎ করে উঠল। অজানা আতঙ্কে তার শরীর শিউরে উঠল।
ঠিক সেই মুহূর্তে দির্শকের ফাঁসির তারিখটা যেন আবার কানে বাজতে শুরু করল,,
২৭ মার্চ… ২৭ মার্চ… ২৭ মার্চ…
শব্দগুলো যেন তার মস্তিষ্কের ভেতর প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।
বিথীর চোখ ভরে উঠল অশ্রুতে। সে দু’হাত দিয়ে কান চেপে ধরল, যেন শব্দগুলোকে থামিয়ে দিতে পারে। কিন্তু তবুও সেই ভয়ংকর তারিখটা থামল না,

২৭ মার্চ…
হঠাৎ রাগে আর অসহায়তায় সে নিজের কানে একের পর এক থাপ্পড় মারতে লাগল।
ইতি আর নিধি ভয় পেয়ে দ্রুত তার কাছে ছুটে এসে তাকে শক্ত করে ধরে ফেলল।
বিথীর শরীর অদ্ভুতভাবে কাঁপছিল। কয়েকদিনের না খাওয়া, না ঘুমানো আর অবিরাম মানসিক যন্ত্রণায় তার শরীর যেন ভেঙে পড়েছে।
সবকিছু তার কাছে অসহ্য লাগছিল,
শ্বাস নেওয়াটাও যেন কষ্টকর হয়ে উঠছিল।

পরদিন সকাল
বিথীর জন্য তার বাবা পাত্র খুঁজছেন এই খবরটা কানে যেতেই নিধি যেন তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল। পরে ইতি এসে নিধির কাছ থেকেই শুনল, আজ নাকি পাত্রপক্ষ তাকে দেখতে আসবে। নাঈম তালুকদারের ধারণা, বিথীর বিয়ে হয়ে গেলে হয়তো সে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এ কথা শুনেও বিথীর মুখে বিন্দুমাত্র অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। যেন বিষয়টি তাকে স্পর্শই করেনি। অথচ তার নীরবতার আড়ালে ধীরে ধীরে অন্য এক পরিকল্পনা জন্ম নিচ্ছিল।
দিন দিন বিথী কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে উঠছে বটে। আজও তার দির্শকের সঙ্গে দেখা করার দিন ছিল। কিন্তু সিদ্দিকী বেগম কড়া শপথ করে বলে দিয়েছেন,
“তুই যদি আজ সেখানে যাস, তবে আমার মরা মুখই দেখতে পাবি।”
তাই আজ আর যাওয়া হয়নি।

এদিকে ইতি আর নিধিও এখন সংসারের কাজকর্ম আর বিথীর যত্ন নেওয়ায় বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছে। কখনো অনুরোধে, কখনো হুমকি-ধমকিতে, আবার কখনো জোর করেই তারা বিথীকে খাওয়ায়। তিন বোনের বন্ধন এখনো আগের মতোই অটুট, কিন্তু সেই আগের উচ্ছ্বলতা, সেই প্রাণবন্ত চঞ্চলতা যেন কোথাও হারিয়ে গেছে।
সেদিন বিকেলে বিথী বারান্দায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে যেন গভীর কোনো চিন্তায় ডুবে আছে।
ঠিক তখনই নিধি বলতে বলতে ঘরে ঢুকল,
“বিথী, খাবার এনেছি।”
বিথী ধীরে মাথা ঘুরিয়ে নিধির দিকে তাকাল। তার কণ্ঠ ছিল শান্ত, খুবই মৃদু,
“আজ সত্যিই খেতে ইচ্ছে করছে না, নিধি… পরে খাব।”
নিধি ধীরে ধীরে তার কাছে এগিয়ে এল। তারপর হালকা গম্ভীর স্বরে বলল,,
“আজ পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে, জানিস তো?”
বিথীর ঠোঁটে ক্ষীণ এক হাসি ফুটে উঠল।

“তোর কি মনে হয়, আমাকে বিয়ে দিতে পারবে?”
নিধিও হেসে উঠল।
“পাগল নাকি! বিথী তো দির্শক ছাড়া কারোর নয়। আমি তো এমনিই বললাম।”
বিথী দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস ফেলল।
নিধি আবার কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল,,
“তাহলে আজকের প্ল্যান কী?”
বিথীর চোখে তখন এক অদ্ভুত ঝিলিক। ঠোঁটের কোণে বাঁকা এক রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।
সে ধীরে বলল,,
“শুধু দেখ… কী হয়।”

দির্শকের কাছে বিথীর চিঠি এসেছে, এজন্য দির্শকের ঠোঁট প্রশান্তির হাঁসি খেলা করছে,জেল খানার শিকের ভিতরের মেঝেতে বসে চিঠির ভাঁজ খুলে পড়তে লাগলো,,
“কেমন আছেন আপনি? নিশ্চয়ই ভালোই আছেন থাকবেনই বা না কেন! সেখানে তো আর বিথী নেই।অনেক অভিযোগ জমে আছে মনে, তাই লিখতে বসেছি। ডায়েরি লেখা আমার কাছে সবসময় ভীষণ বিরক্তিকর মনে হতো, অথচ আজ সেই বিরক্তিটুকুও অদ্ভুত এক প্রশান্তি দিচ্ছে। মনে হয় প্রেম আর ভালোবাসার অদ্ভুত চক্রে পড়লে তিক্ততার স্বাদও একসময় মিষ্টি হয়ে ওঠে।
আপনি কারাগারে বন্দি, আর আমি যেন মুক্ত আকাশের মাঝেও অন্ধকার এক কবরের ভিতর আটকে আছি। জানেন, দুষ্মন স্যার, মাঝে মাঝে আমার ভীষণ ইচ্ছে করে আপনার সেই নীল চোখ দুটো ছুরি দিয়ে উপড়ে ফেলি। কারণ ওই চোখই আমার জীবনে সবচেয়ে বড় সর্বনাশ ডেকে এনেছে। ওই চোখের মানুষটাকে দেখতে না পেয়েই আজ আমার এই অবস্থা খেতে পারছি না, নিজের যত্ন নিতে পারছি না, কারও সঙ্গে কথা বলতেও ইচ্ছে করে না। অথচ আমি তো এমন ছিলাম না।

আপনি নিশ্চয়ই কোনো জাদু জানেন হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত আপনি জাদু জানেন। না হলে একজন মানুষ আরেকজনের জীবনে এমন অদ্ভুত পরিবর্তন কীভাবে আনতে পারে?
আজ বেশি কিছু লিখতে পারছি না। আমার হাত অস্বাভাবিকভাবে কাঁপছে তিন দিন ধরে ঠিকমতো কিছু না খাওয়ার ফল। খাবারের প্রতি এক অদ্ভুত অনীহা জন্মেছে। আপনি সেখানে কতটা ভালো আছেন তা জানা আছে আমার।
আচ্ছা, দির্শক স্যার, একবারও কি আপনার মনে আসে না আপনার ফাঁসি হলে আমার কী হবে? হয়তো আসে না। আসবেই বা কেন? আপনি তো শুরু থেকেই ভীষণ স্বার্থপর একজন মানুষ।
তবু জানেন, আপনাকে ঘৃণা করতে চেয়েও পারিনি। কী গভীর মায়ার আপনার, দুষ্মন স্যার!এর থেকে বিষপান করাও হয়তো সহজ ছিল। আমার সঙ্গে এমনটা না করলেও পারতেন।
আজ এ পর্যন্তই থাক। তবে একটি কথা মনে রাখবেন আপনার ফাঁসির পরপরই তালুকদার বাড়ি থেকেও একটি লাশ বের হবে। না, আত্মহত্যা করব না তারও প্রয়োজন হবে না।”
চিঠি পড়া শেষে দির্শক ফোঁস করে হাসল। হাসি ছিল অসহায় একটু বিদীর্ণ, একদম ভেঙে যাওয়া হাসির মতো। ফিসফিস করে বলল,,

“তুমি… তুমি… সবখানেই তুমি, বিথী।”
উদ্ভট কথাগুলো বলে সে জোরে জোরে হেসে উঠল। পরক্ষণেই দির্শক হুঁ হুঁ কেঁদে সেজদায় লুটিয়ে পড়ল। দুই হাত উপরে তুলে বলল,,
ইয়া আল্লাহ! আমি ফাঁসি চাই না। ওই মেয়েটার সঙ্গে ছোট সংসার সাজাতে চাই। এখন আমি ফাঁসি চাই না… বিথীকে চাই, আল্লাহ…”
“ইয়া আল্লাহ!” চিৎকার করেই পুনরায় বলল দির্শক।
ঠিক সেই মুহূর্তে তার কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ অনুভব করল। ঘুরে তাকাল নাজিম তালুকদার। আজ সকালেই তাকে কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
দির্শক উঠে দাঁড়াল, চোখে অশ্রু মুছে। বলল,,
“আপনি?”

নাজিম তালুকদারের চোখ ও মুখ শুকনো, পড়নে কেবল লুঙ্গি আর পাতলা গেঞ্জি কারাবন্দির পোশাক দেওয়া হয়নি। চোখে ক্ষুদ্র আর্দ্রতা, যেন পানি চিকচিক করছে।
“হ্যাঁ, আমি… একজন কাপুরুষ। আমার জন্যই তোমার এই অবস্থা।”
দির্শক নীরব।
“বিথী মামনিকে খুব মনে পড়ে?” নাজিম তালুকদার বলল।
দির্শক অসহায় চোখে তাকাল। নাজিম তালুকদার মেঝেতে বসে, দির্শকের হাত ধরে টেনে নিজের পাশে বসাল। বলল,,
“তুমি বিথী মামনির কাছে যাবে। এ থেকে কেউ তোমাকে আঁটকে রাখতে পারবে না।”
দির্শক মাথা নিচু করে বলল,,
“আর দু’দিন পর ফাঁসি… এখন এমন কথা বলছেন?”
“হ্যাঁ, সত্যটাই বলছি।”
নাজিম তালুকদার আবার বলল,,
“এখন থেকে তুমি আমার কোলে শুবে। ঘুমাও না?”
“এখানে আসার পর থেকেই।”
দির্শক কোন কথা না বলে মাথা নাজিমের কোলে রেখে শুয়ে পড়ল। নাজিম তালুকদার ধীরে ধীরে তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,,

“আমায় একটু ‘বাবা’ ডাক।”
“কিন্তু আপনি তো আমার বাবা নন।”
“তবুও তোমার মুখ থেকে শুনতে চাই।”
কাঁপা কণ্ঠে দির্শক বলল,,
“বাবা…”
নাজিম তালুকদার কেঁদে উঠলেন,,
“কি মধুর ডাক, বাবা। কিন্তু আমি এটি শুনার যোগ্য নই।”
“আপনি কাঁদছেন?”
“অনেক কেঁদেছি, অনেক প্রায়শ্চিত্ত করেছি নিজের পাপের জন্য। অবশেষে পেলাম… চেয়েছিলাম ফাঁসিটা যেন আমার হয়। বাবারে আমি ক্ষমার অযোগ্য, কিন্তু তোমার ফাঁসি হতে দেব না, কিছুতেই না। যা করা লাগবে করব।”
“এসব ভুলানো কথা কেন বলছেন?”

“ভুলানো নয়। দেখবে, তোমার ফাঁসি হবে না—শেষ মুহূর্তে এসে আটকানো হবে।”
দির্শক শব্দ করে হেসে বলল,,
“এসব অযৌক্তিক কথা।”
“মনে হতে পারে। তুমি দেখবে শুধু। এখন আপাতত শান্তিতে ঘুমাও।”
নাজিম তালুকদার দির্শকের মাথায় হাত বুলাচ্ছেন এ কারণে দির্শক সত্যিই শান্তি অনুভব করল। তার কোলের দিকে মাথা রাখলে অজানা এক নিরাপত্তা লাগল। বেশিক্ষণ চোখ খোলা রাখতে পারল না, ঘুমিয়ে পড়ল।
নাজিম তালুকদার দির্শকের মুখের দিকে তাকিয়ে, অঝোরে অশ্রু ঝরাতে থাকলেন,,
—“কিছু হবে না তোমার। আমি কিছুও হতে দেব না। একদম না।”

আলবান কপালে দুহাত ঠেকিয়ে বিছানায় বসে আছে। তার চোখ-মুখে দুঃশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। ইতি তখন নীরবে কাপড় ভাঁজ করছে এবং আড়চোখে আলবানের দিকে তাকাচ্ছে। কাপড় ভাঁজ শেষ করে ইতি আলবানের পাশে এসে বসল। তার কাঁধে হাত রেখে বলল,,
“কি হয়েছে?”
আলবান তাকালো না, শুধু সেভাবেই থেকে ধীর কণ্ঠে বলল,,
“কিছু না।”
“বলুন, কি হয়েছে? দির্শক স্যারের কথা ভাবছেন তো।”
হঠাৎ আলবানের চোখে পানি চিকচিক করতে লাগল। সে ঝাপটিয়ে ইতির দিকে ঝুঁকল। এই মুহূর্তে আলবান কেঁদে উঠল। ইতির চোখেও অশ্রু চলে এলো। আলবান সহজে তার কষ্ট কাউকে দেখায় না; যতই হয়, ইতি আজ পর্যন্ত তার কান্না দেখেনি। তবু আজ, আলবানের কান্নায় ইতি নিজেকে ধরে রাখতে পারল না।

“আমাদের সুন্দর পরিবারটা কি থেকে কি হয়ে গেল! এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না।”
ইতি কিছু বলল না। কান্নার ঢোঁক গিলে আলবানের পিঠে নিরবে হাত বুলাল।
“ও আমার বন্ধু বেশি ভাই ছিল, ইতি। ওর ফাঁসির রায় এসেছে আর আমি কিছুই করতে পারছি না। আল্লাহ, এটা কত কষ্টকর আমার কাছে! আর এক কাপুরুষ বাবা যতই পাপ করুক না কেন তিনি আমার বাবা। সে জেলে আছে, থাকুক; তাকে নিয়ে আমার তেমন কষ্ট নেই। দুই বছর পর বের হবে। কিন্তু দির্শক… ওর কি হবে?”
আবার বলে উঠল,,
“আমি কিছুই করতে পারছি না, ইতি। আমি ছটফট করছি দির্শককে বাঁচানোর জন্য, কিন্তু কিছুই করতে পারছি না। দির্শক কেন পুলিশের কাছে ধরা দিল? কেন? কেন?”
ইতি নিজের কান্না সংযত রেখে বলল,,
“শান্ত হন। শান্ত হন। আল্লাহ আছেন। আমার মনে হয় দির্শক স্যারের কিছু হবে না। অন্তত এতগুলো মানুষের মোনাজাতে থাকা ওই দির্শক মানুষটির কিছুই হবে না। আপনি এসব ভেবে কাল রাতেও ঘুমাতে পারেননি। এখন চলুন, ঘুমিয়ে পড়ুন।”

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৫২

“আর কয়েক দিন পর তো দির্শকের ফাঁসি, ইতি।”
ইতি কিছু বলবে কি না, ভাবতে ভাবতে বলল,,
“একটি সুসংবাদ খুব শীঘ্রই শুনব। দেখবেন, এখন ঘুমান।”
আলবান নীরবে ইতির কোলের পাশে বাচ্চাদের ন্যায় শুয়ে পড়ল। ইতি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো ।

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৫৪