Home তিন তরঙ্গের আলোকছটা তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৯

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৯

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৯
রাফিয়া জান্নাত রিফা

আজ সকাল আটটার সময়ই দির্শক তিন আলোকছটাদের পড়ালো। পড়ানোর সময় সে কি অবস্থা, ইতি বিথী নীধি জানতো বিকেলের দিক পড়াবে ওই জন্য রাতে কোন পড়া পড়ে নি সকালে জন্য রেখে দিয়েছিল।এখন কে জানতো যে সকালে পড়াবে।
সিদ্দিকী বেগমের কঞ্চি নিয়ে পড়াতে এসেছিল, কঞ্চিটি সিদ্দিকী বেগমই দেয় দির্শকে ও মারার জন্য হুকুম জারি করে।
পড়া হয় নি বলে অনেক বকাঝকা ও দিয়েছে দির্শক যদিও কঞ্চি দিয়ে মারে নি তবে মারার জন্য কঞ্চিটি উঁচিয়েছিলো।বাবা বড় বাবারা ও এসে দেখে গিয়েছিল ইতি, বিথী, নীধির পড়ার অবস্থা।বাবা ও বড় বাবাদের কারণে দির্শকের সব কথা ও কাজ বাধ্য মেয়ের মতো শুনেছে।
২ ঘন্টা যাবৎ বকবক শুনে বিরক্তি ধরে গেছিলো,এখন বিছানায় আসলে ভাব নিয়ে বসে আছে ইতি, বিথী,নিধি । বিথী তো সমানে কানে আঙ্গুল নাড়াতে লাগলো আর বলে,,,

__ দুর বাল‌, দুষ্শমন স্যারের এত কাছে বসাটা মোটেও ঠিক হয়নি আমার,বকবক করে করে আমার কানের পোকা নাড়িয়ে দিয়েছে হালায়।
ইতি বলে,,,
__ দির্শক স্যারই তো তোকে ওনার পাশে বসতে বললো।
__ ওই জন্যই তো সব পড়া আমাকেই ধরলো।আর আমিই বাঁশটা খাইলাম।
নিধি বলে,,
__ সামথিং ইস রং।
__ কেন??
__ দির্শক স্যার তোকে কেমন কেমন করে দেখে যেনো।
ইতি বলে,,
_এটা আমিও লক্ষ্য করছি,,,
__ আরে‌ বলদি রা চুপ থাক?? ওই শালার চোখ বোমা মেরে উড়িয়ে দিবো।শালা বিদেশি গাই।

তালুকদার বাড়ির তিন গিন্নি রান্নাঘরে গল্প গুজব করছে ও রান্না।
পিকি কানে হেডফোন গুঁজে গান শুনছে সেই তালে তালে হাত পা কোমর নাড়িয়ে নাচছে। সেভাবেই যেতে লাগলো রান্না ঘরের দিকে। গিয়ে দেখলো তিন গিন্নি ঝড়ের বেগে কাজ করছে।পিকি তাদের কাজ দেখতেই এসেছে রান্নাঘরে। সিদ্দিকী বেগম পিকি কে দেখে হাসি মুখে বললেন,,,
__ কিছু লাগবে তোমার?
__ না আন্টি। রান্না করা দেখতে আসলাম।
মিলি বেগম বললেন,,,
__ দেখো তবে।

আলিফা বেগম হাসলেন শুধু।
পিকি আর‌ কিছু না বলে রান্নাঘরের তৈরিকৃত সরঞ্জাম রাখার সমতল জায়গাটিতে না দেখেই উঠে বসতে গেলো।মিলি বেগম সেখানে একটু আগেই রুটি ভাঁজার গরম তাওয়াটা রাখলেন।তাই সেখানে পিকি বসতে পশ্চাৎ গুদায় চরম ভাবে ছ্যাঁকা লাগলো। ছ্যাঁকা লাগতেই পিকি পশ্চাতে হাত দিয়ে গগন কাঁপানো চিৎকার করে বলে,,,,
__ ওওওওওওও লেলললয়য়য় পেছোন গেল আমাল।
রান্নাঘরে থাকা তিন গিন্নিই মুহূর্তেই হকচকিয়ে উঠলো।পিকি পশ্চাৎ গুদায় হাত দিয়ে অনবরত লাফাতে লাগলো এবং চিৎকার করতে লাগলো,,,

__ আংটি কিছু করেন জ্বলছে খুব আংটিইইইইইইইই,,
মিলি বেগম ও অস্হির হয়ে হাত গুলোকে সমানে লাফাতে লাফাতে বললেন,,,,
__ আংটি নয় আন্টি।
তিন গিন্নি বুঝতে পারছে তারা কি করবে ,তারা তো আর পিকির পশ্চাতে হাত রাখতে পারবে না,পিকির এমন লাফানো দেখে তিন গিন্নি অস্হির হলেন,কি করবেন বুঝতে পারলেন না। আলিফা বেগম বলেন,,,
__ বাবা তুমি শান্ত হও।
__ খুব জ্বলছে আন্টি।
এমন গগন কাঁপানো আকস্মিক চিৎকার শুনে মুহিন দৌড়ে রান্নাঘরে আসে। হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,,,
__ ক কি কি হয়েছে মা।

মুহিন দেখে পশ্চাতের হাত রেখে পিকি লাফালাফি করছে।পিকি কে দেখে মুমিনের আগের সব কথা মনে পড়তেই বুকটা ছ্যাঁত ছ্যাত করে উঠছে, কষ্ট গুলো আবার হানা দিতে লাগলো।
মাঝে মধ্যে ইচ্ছা করে এই পিকিকে মাছের মতো তেলে ভাজতে,তাতে একটু হলেও যদি মনের কষ্টটাকে নেভানো যেতো।
মুহিনের হু হু করে কান্না করতে ইচ্ছে করলো, ঠোঁট কাপড়ে কান্নাকে সংযত করলো।আর কিছু না বলে অসহায় মুখ নিয়ে চলে যেতে লাগলো তার ঘরে । এমন সময় আলিফা বেগম বলেন,,,,

__ মুহিন ফ্রিজ থেকে আইস কিউব টা বের করে পিকির পশ্চাৎ এ লাগিয়ে দে না বাবা।আমরা তো আর সেটা করতে পারি না তাই না,ছেলেটা কেমন ছটফট করছে দেখ।যা বাবা?
এমনিতেই তো কষ্টে মুহিনের কান্নার সাথে নাসারন্ধ্রে সর্দির আগমন ঘটছে, কষ্ট সইতে না পেরে বেচারা ঘরে যাচ্ছিল,মনে মনে প্লান করলো ঘরে গিয়ে কষ্ট নিরাময়ের জন্য হিরো আলমের মিষ্টি কন্ঠের স্যাড গান শুনবে। কিন্তু মুহিনের তো শান্তি নেই। কাঁদো কাঁদো মুখে একবার পিকির দিকে তাকালো আর ভাবলো,,,
__ ইসস এই পিকি যদি মেয়ে হতো তাহলে কি এমন খারাপ হতো। কি সুন্দর ফর্সা দেখতে,লিপস্টিক,কাজল,সবই তো ব্যবহার করছে শুধু চুল গুলো ছোট,আর ছেলেদের মতো শার্ট প্যান্ট পড়েছে। ইচ্ছা তো করছে একে কোন এক বিজ্ঞানীর কাছে নিয়ে গিয়ে লিঙ্গটা পরিবর্তন করে আনি। ফালতু পাংকু কোথাকার, আমার এই টুকু মন নিয়ে খেলতে পারলো।ছি ছি।
মুহিনের মা মিলি বেগম ধমক দিয়ে বললেন,,,

__ ফোন এত ব্যবহার করে কানের মাথাটা ও খেয়েছিস,কানে গেল‌ না তোর বড় মায়ের কথা।যা গিয়ে আইস কিউব টা আন।
বেচারা মুহিনের গলা দিয়ে কোন কথাই বেড়ালো না, মিনমিনিয়ে শুধু একটা কথাই বললো,,
__ পাবনা যাওয়ার টিকিটটা কেটে রেখো মা।
এই বলে মুহিন ফ্রিজে দিকে গেল।
মিলি বেগম শুনলেন কিন্তু স্পষ্ট নয়,তাই তিনি উল্টো টা বুঝে বলেন,,,
__ দেখছো বুবু জান দেখছো? নিশ্চিত আমাকেই মিনমিন করে গালিগালাজ করলো।
সিদ্দিকী বেগম বলেন,,,
__ আহহ ছোট তুই থামবি।
মুহিন ফ্রিজ থেকে আইস কিউব টি বের করে নিয়ে পিকির কাছে আসলো,পিকি এখনো লাফাচ্ছে আর বলছে,,,
__ আমার জ্বলে যাচ্ছে,আমাকে ভাতাও।
সিদ্দিকী বেগম বলেন,,,

__ বাবা ওটা বাঁচাও হবে।
মুহিন গম্ভীর কন্ঠে পিকি কে বলে,,,
__ আমার দিকে পশ্চাৎ টা ঘুরান।
পিকি ও কথা মতো কোমরটা কুজো করে পচ্ছাৎ দিলো মুহিনের দিকে।পিকির পশ্চাতের ভঙ্গিমা দেখে মুহিনের ছোট মনে কচি একটা প্রশ্নের প্রশ্নের জাগলো।
__ হঠাৎ যদি গ্যাস ছাড়ায় নির্ঘাত এবার কষ্টে, দুঃখে, দুর্গন্ধে মৃত্যু ঘটবে।এই পাংকু আমাকে মেরেই ছাড়বে।পাংকু তোরা অভিশাপ দিলাম তোর পাশ্চাতে একশত কুকুর এসে এক কোটি কামড় দিয় চলে যাক।
নাক, মুখ কুঁচকে নিলো মুহিন পিকির থেকে একটু দুরত্ব বজায় রেখে পিকির পশ্চাতে আইস কিউব টা লাগানো শুরু করলো।পিকি নিচু হয়ে হাঁটুতে ভর দিয়ে আছে।
__ মুহিন ভালো কলে লাগিয়ে দাও। এখনো জ্বলছে তো।
মুহিনের ইচ্ছে করছে জোরে কান্না করতে।রাগি কন্ঠে মুহিন বলে,,,

__ দেখে শুনে বসতে পারেন না।
__ বুদি নাই তো।
__ ওটা বুদি না বুঝি হবে।
পিকির এমন দশায় তিন গিন্নি মুখে কাপড় চেপে হাসছে, পরক্ষণে আবার নিজ কাজে মনোনিবেশ করলেন
মুহিনের এবার মনে হতে লাগলো “সে পিকির বউ আর পিকি তার স্বামী” এটা ভাবতেই আরো কষ্টে দুমড়ে মুচড়ে, খন্ড খন্ড,পিস পিস, টুকরো টুকরো হয়ে গেল হৃদয় মুহিন এর ছোট হৃদয়।
আজ যদি পিকির জায়গায় তার ওই পিংকি পাগলি টা থাকতো তবে তার পাশ্চাতে ও এমন করে আইস কিউব লাগিয়ে দিয়ে মেলা রোমান্টিক সিন তৈরি করতো।
কিন্তু কি আর করার মুহিনের তো পোড়া কপাল, দীর্ঘ শ্বাস ফেলে নিজের কাজে মনোযোগ দিলো।
কিছুক্ষণ পর আইস কিউব টা পাশ্চাৎ থেকে সরিয়ে মুহিন বলে,,,

__ এমন করে আর আর কতক্ষণ ?? এখন কেমন লাগছে তোমার।
__ আইস কিউব সরাইলা কেন মুহিন,এখন জ্বলছে তো খুব?
রাগি কন্ঠে দাঁতে দাঁত চেপে মুহিন বলে,,,
__ তো কি সারাদিন আপনার পশ্চাতে আইস কিউব লাগিয়ে দিবো। আমার কি আর কাজ কাম নাই আমি কি আপনার ইয়ে লাগি।
__ রাগ করচো।
__ নাহ ।
__ দেখো তো প্যান্টটা পুড়ে গেছে কিনা??
এই দিন ও দেখা লাগলো মুহিন কে, ছেলেটা এত দুঃখ কই রাখে। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে অসহায় কান্না ভারাক্রান্ত মন নিয়ে পিকির পাশ্চাতে ঝুঁকে বলে,,,

__ পুড়ে যায়নি,তবে ভিজে গেছে।
__ এখোন‌ কি করি বলোতো।
__ কি করবে?
__ জ্বলছে খুব।
__ মলম লাগাও।
__ হাত তো সেখানে যাবে না।
ক্রুদ্ধ কন্ঠের ন্যায় মুহিন বলে,,,
__ তো কি আমি লাগিয়ে দিবো।
__ দিলে ভালো হতো।
__ কিইইই, অসম্ভব। আমাকে আপনার ইয়ে পেয়েছেন নাকি যে বলছেন।
__ খুবই জ্বলছে মুহিন,মলম লাগানোটা জরুরি।
__ ছিইইইইই।আমি পাবো না।ওসব চিপায় চাপায় হাত দিতে।উুয়াক থু।
এই বলে মুহিন চলে যায় তার পিছোন পিছোন পিকি চলতে লাগলো,,,

__ মুহিন দারাও। প্লিজ। আমার কষ্ট দুঃখ একটু বোঝ প্লিজ।
__ ছ্যাঁ ওসব ফালতু কষ্ট বুঝে আমার লাভ নেই।একদম পিছু পিছু আসবে না বলে দিলাম।
এই বলে মুহিন বাগান দিকে দৌড়াতে লাগলো পিকি ও পাশ্চাতে হাত রেখে মুহিনের পিছনে দৌড়াতে লাগলো। দৌড়াতে দৌড়াতে অনেক ডাকলো পিকি কিন্তু শুনলোই না। মুহিন বাগান ডিঙ্গিয়ে বড় গেট দিয়ে এক প্রকার দৌড় পালালো।
পিকি পশ্চাতে ভীষণ জ্বালা করার কারণে আর দৌড়াতে পাড়লো না।কি করবে বুঝতেও পারলো না বেচারা পিকি। বাগানের এদিক ওদিক কিছু খুঁজতে লাগলো, দেখতে পেলো একখান কলতলা কালের মুখে বালতি ভরা পানি,তাই আর কিছু না ভেবে সেখানে দৌড়ে গিয়ে ধপাস করে বসে পড়লো।
আর্দ্র বাগানে এসেছিল দেখতে সেই ছোট্ট বেলায় বাগান টা দেখেছে, তালুকদার বাড়ির বাগানটা আর্দ্রের সবচেয়ে পছন্দের ছিলো,কত স্মৃতি তার।এপাশ ওপাশ মাথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাগান দেখেছে। হঠাৎ চোখ পড়লো পিকি কে , তাড়াহুড়ো করে সেদিকে গেল।পিকি তখন চোখ বন্ধ করে লম্বা শান্তির শ্বাস ফেলছিলো।

__ হেই পিকি,তুই এখানে পানিতে এভাবে বসে কেন?
__ ছ্যাঁকা খাইয়াছি।
__ ওয়াট???
__ আরে গরম কিছুর একটা ছ্যাঁকা খাইচি।
__ সেটা পাশ্চাতে লাগলো কেমনে?
__ বসতে ধরে?শোন না।
__ বল না।
__ আমার সাথে আমার রুমে চলে না।
আর্দ্র আবাক হলো সে মুলত নেগেটিভ মাইন্ডের চক্রে চলে গিয়েছে,আমতা আমতা করে বলে,,,
__ কিইইইই, তোর রুমে যাবো মানে,কি বোঝাতে চাচ্ছিস। আমার বউ নেই বলে তোর সাথে সি সি, নির্দ্বিধায় একজন খাঁটি পুরুষ আমি। আমার বউয়ে জন্যই অপেক্ষায় আছি, তুই এভাবে আমার লয়ালিটি নষ্ট করতে পারিস না।সি সি তুই কি অশ্লীল পিকি।
পিকি আর্দ্রের অর্ধেক কথাই বুঝতে পারে নাই, যেটুকু বুঝলো তাও ভালো করে বুঝে নাই তবে আর্দ্র যে নেগেটিভ মাইন্ডে চলে গেল তা ভালোই বুঝলো পিকি।

__ একটু দরকার ছিল বলে বললাম।তুই তো দেকি আমার ইজ্জতকে ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে দিলি।
__ ক কি দরকার?
__ মলম লাগায় দিবি?
__ কোথায়??
__ যেখানে ছ্যাঁকা লেগেছে।
__ কিইইইইইই।
__ হুম।দে না।
__ ছি পটেটো, থুক্কু পিকি।
__ আর্দ্র প্লিজ ফিল মাই পেইন।
__ নোপ, ওসব এ আমি নাই, হাতে গন্ধ হবে।
__ লাইক সিরিয়াসলি,এভাবে বলতে পারলি।
আমি ওখানে ও ব্যান্ডের পারফিউম ইউজ করি?

__ কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না।
__ ওয়াট??
__ নো।
এই বলে পিকিকে ইগনোর করে যেতে লাগলো আর্দ্র।পিকি মাথা উঁচিয়ে আর্দ্রকে বলে,,,,
__ বুঝবি না রে বুঝবি কাল,যখন বুইড়া ব্যাটি ধরবো তোর দুইটা গাল,আর আমার মতো করে বলবে জান্স আমার পেছন গেল মলমটা লাগিয়ে দাও।
__ ওহহ রিয়েলি।
আর্দ্র এবার পিছন ঘুরে পিকিকে বলে,,,,
__ কে তোকে এসব শেখাচ্ছে,কোবরা টুইস্টরা।
__ যে বলুক,সে আমার ভালোই চায় বিদ্বায় বলছে।
__ পরে বুঝবি, এখন রুমে গিয়ে পশ্চাৎ এ ফ্যানের বাতাস লাগা।
এই বলে চলে যায় আর্দ্র।পিকি অসহায় মুখে থ মেরে বসেই রইল।
আর্দ্র কিছু দুর যেতেই হঠাৎ কোথা থেকে যেনো নিধি আসলো তা বলা বাহুল্য।হুট করেই আর্দ্র সামনে দাঁড়িয়ে সুর টেনে বলে,,,

__ পাদরো ভাই?
আর্দ্র ও নিধির মতো সুর টেনে বলে,,
__ কে , কোথায়?
সুর টেনে,,,
__ এই তো আপনি।
সুর টেনে,,,
__ আমি তো পাদরো না।
__ আপনি??
__ নোপ।
__ ইয়েস।
__ আমার সাথে সাথে নামটা বানান করো।বলো আ দ-রেফ র-ফলা।
__ আ কে পা ধরলাম,দ-দো,আর র-রো।সব মিলিয়ে হলো পাদরো,ওয়াও বানান করতে পেরেছি।
আর্দ্র কিছুটি চিৎকার করেই বলে,,,
__ দির্শক কোথায়,ওই শালার আজ বারোটা বাজানো,এই নাকি ও ভালো একজন শিক্ষক, বাংলা ভাষার বানান কে অশুদ্ধ করে দিলো একেবারে।

__ এক মিনিট আপনি শালা কারে বললেন।
__ দির্শককে।
__ ওনার বোন যে তাইলে আপনি বিয়ের করেছেন।
এমন কথায় থ মেরে গেল দির্শক কিছু বলার আগেই রাগি স্বরে নিধি বলে,,,
__ অসভ্য ভদ্রলোক বিয়ে করে বউ কে বিদেশে রেখে এসেছেন।বড় মা কে বলে দিবো।
__ বিয়ে করছি আমি।
__ আপনি তো বললেন।
__ মনে অন্য কাউকে রেখে কি বিয়ে করা যায়?
কথাটি শুনে সন্দেহজনক ভাবে নিধি তাকালো আর্দ্রের পানে। মুখে অন্য কিছুর ভয়ের আভাস ফুটে উঠল,,,
__ কে সে??
__ বলা যাবে না??
নিধি মুখ উপরে তুলে কিছুক্ষণ ভাবলো তারপর বললো,,
__ আমার ও আছে কিন্তু বলবো না?
মূহুর্তের আর্দ্র ভ্রু দুটি কুঁচকে রাগি চোখে তাকালো নিধির পানে,,,

__ নাম বলো নাহলে তুমি আজ শেষ?
__ ভয় দেখাচ্ছেন বুঝি।
__ হ্যাঁ।
__ কই তা ভয় পেলাম?? আচ্ছা শুনুন না।
সুর টেনে আর্দ্র বলে,,,
__ বলো না??
__ আমাকে আজ কেমন লাগছে?
আর্দ্র নিধির উপর নিচ শীতল দৃষ্টি দিয়ে পরখ করে নিলো,কালো গোল জামা পড়েছে,তার উপর গোলাপি সুতোর হালকা কারুকাজের বুনন,ফর্সা চামড়ায় জামাটি বেশ ফুটে উঠেছে, চুলগুলো কে টিলা বেনুনি করে রেখেছে,কালো সিল্কি ওড়নাটি আধো মাথায় দিয়ে রেখেছে।মুখে ব্যবহার্য কোন প্রকার ক্রিম , মেকআপ বা লিপস্টিক দেখা গেল না।আর্দ্রের চোখে বেশ পরিপূর্ণ লাগলো, পরিপূর্ণ তৃপ্তির চোখ দেখলো,বুকে এক শান্তির টেউ খেলা শুরু হলো।

__ কালো তোমাকে বেশ মানায়।
নিধির পাশে থাকা বড় সিঁড়িটাতে গা ভর দিয়ে লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে বলে,,,
__ কালার টা আপনার কাছ থেকেই কালেক্ট করা।
আর্দ্র ভ্রু নাচিয়ে বলে,,
__ কিভাবে?
ব্যঙ্গ লজ্জায় ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে নিধি বলে,,,
__ এতো তাড়াতাড়ি সব ভুলে গেলেন।
কিছুক্ষণ হা হয়ে ভাবার পর আর্দ্র মনে পড়ে গেল।রাগি মুখে নিধি কে বলে,,,
__ তুমি খুব অসভ্য হয়েছো নিধি??
__ হ্যাঁ?
আর্দ্র একটু লজ্জা লজ্জা লাগলো পাশাপাশি রাগ ও হলো,নিধি কে এক ধমক দিয়ে গোমড়া মুখ করে চলে যেতে লাগলো। নিধি কিছু একটা ভেবে আর্দ্রের যাওয়ার পানে তাকিয়ে গান ধরে,,,

🎶ফোলা ফোলা ফর্সা গালে।
জমেছে জল ফর্সা গালে
ফোটা ফোটা মুক্ত দানা
না না সোনা আর কাঁদে না
থাকো যদি গোমরা মুখে
কাতুকুতু দেবো তোমাকে
ফোটা ফোটা বৃষ্টি শেষে সোনা…🎶
এই বলে ভো দৌড় দেয় বাগানের দিকে। আর্দ্র গানটা শুনেই পেছনে ঘুরে তাকালো নিধি দৌড়ের পানে তাকিয়ে বলৈ,,,
__ আমি গোমড়া মুখো,যাই হোক ফর্সা তো বলছেই। আবার আমাকে সোনা ও বললো।
মুহূর্তেই হাসির ঝিলিক ঝলমল করতে থাকে আর্দ্রের মুখে , অতঃপর হাসতে হাসতে চলে যায়।

সকালের খাবার খেয়েই যে যায় মতো নিজ কর্মস্থলে চলে গেছে। বাড়ির তিন কর্ত নিজ অফিসে চলে গেছে।
দির্শক তার কলেজে গেছে।আলবান বাংলাদেশের শীর্ষে থাকা Top ranking আউটসোর্সিং Cloud, Web, Mobile App, AI/ML সব সেক্টরে নিযুক্ত আছে। আর্দ্র ও একই কোম্পানিতে জয়েন করেছে ERP, Smart City, IoT সলিউশন সেক্টরে নিযুক্ত আছে। ইউএসএ বড় কোম্পানিতে চাকরি করার ফলে কোম্পানিতে তাদের বেশ নাম ডাক রয়েছে, সম্মানিত করা হয়েছে।
ইতি বিথী নীধি ও খাবার খেয়েছে। মোকলেছ চাচা দ্বারায় দাদুর খবার ও পাঠিয়ে দিয়েছে।এখন ঘরে পড়ার টেবিলে বসে সিরিয়াস ভঙ্গিতে পড়ালেখা করছে।করবে নাই বা কেন? পাশে যে তাদের মা জননী হাতে কঞ্চি নিয়ে বিছানায় বসে আছে।

বিকেলে পাঁচটা বাজে উদাসিদের মতো হেলে দুলে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে ইতি বিথী নীধি।আজ দাদুর সাথে গল্প করার জন্য এসেছিল।দাদু আজ তার দীর্ঘ জিবনের পীড়াদায়ক গল্প শুনিয়েছে। দাদুর জীবনে এত কষ্ট ,এত ক্ষতি তাও কেন আফসোস নেই,এই কথাটা তিন বোনকে প্রচুর ভাবায়। কিন্তু আজ দাদু কষ্টের জীবনি শুনে তিন বোনের মনে হৃদয়বিতারক এক যন্ত্রণা হানা দিচ্ছে, দাদুর প্রত্যেকটা কথায় ইতি, বিথী, নীধি শুনলো তাতে টলটল চোখে পানি গড়িয়ে মাটিতে পড়েছিল।তিন আলোকছটাদের মতে, “মানুষ কিভাবে এত খারাপ আর নোংরা মানসিকতার হয়”
আজ দাদুর কথায় তিনবোনেই হয়তো জীবনের মানে বুঝতে পারলো, জীবনের উদ্দেশ্য বুঝতে পারলো।আজ কিছুতেই দাদুকে ছেড়ে আসতে চায়নি তিন আলোকছটারা,”সিহাবের দ্বারায় মায়ের হুকুম এসেছে বাড়ি যেতে হবে”।তাই তিন বোনেই কিছুটা মন খারাপ করেই হাঁটছে।কারো মুখে কোনো কথা নেই, দাদুর বলা প্রতেকটা কথা তিন আলোকছটাদের প্রবল ভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। হৃদয় বেতারক যন্ত্রণা দিয়েছে।তিন বোনেই তিনজনের হাত ধরে চুপচাপ হাঁটছে।

বিথীদের বাড়ি যাওয়ার পথটি এমনি সময় শুনশান থাকেই ,তবে আজ একটু বেশীই শুনশান হয়ে আছে।বট গাছের ওদিকে বেশ কয়েকটা দোকান থাকায় সেখানে বেশ লোকজনের ভিড় থাকে কিন্তু বট গাছের পাশ দিয়ে তালুকদার বাড়ি যাওয়ার রাস্তাটায় খুব কমই লোকজনেরই দেখা মেলে। গুমোট অস্বস্তিকর লাগছে আজকের পরিবেশটা।
হঠাৎ কিছু মেয়ে ও বাচ্চাদের গোঙানির আওয়াজ ভেসে আসলো ইতি, বিথী, নীধির কানে, মুহূর্তেই তারা থমকে গেলো। গুমোট আওয়াজ গুলো স্পষ্ট ভাবে শোনা গেল না। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনজনেই শোনার ও বোঝার চেষ্টা করলো শব্দগুলোকে।ইতি বলে,,,,

__ আওয়াজ গুলো শুনে মনে হচ্ছে কেউ বড় বিপদে আছে।
বিথী বলে,,,
__ আওয়াজটা অনুসরণ করে আমাদের সেখানে যাওয়া উচিত??
নিধি বলে,,,,
__ তিনজন তিনজনের হাতই শক্ত করে ধরে রাখি,কেউ কারো হাত ছাড়বো না।
এই বলে তারা শব্দ অনুসরণ করে ধীরে চলতে লাগলো।এই রাস্তাটায় গাছপালা ও পথের ধারে জঙ্গল থাকায়, সন্ধ্যা বেলায় ও রাএি মনে হচ্ছলো, এমনিতেও সন্ধ্যা যার ফলে চারিদিকে অন্ধকার নেমে আসতে লাগলো, চারপাশে গুমোট নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।
গুটি শুটি পায়ে এগোতেই চোখে পড়লো একটি মাঝারি সাইজের ট্রাক দার করানো।তিন বোনেই ভালোভাবে শব্দ গুলোকে মস্তিষ্ক দিয়ে অনুসরণ করলো, বিথী বলে,,,,

__ আমি সিউর এই আওয়াজ ওই ট্রাক থেকেই আসছে।
তিন বোনেই এবার ওই ট্রাকের দিকে এগালো, ট্রাক পেছোন টা ছিল এক প্রকার ভারি দিন দ্বারা আবদ্ধ ।তিন বোনেই সেই ভারী টিনে কান পেতে দিলো,শুনতে পেল আহাজারি কান্না, ভয়ের কান্না, বাঁচানো আকুতি।তিন বোনেই বুঝতে পেল এখানে অনেক মেয়ে ও বাচ্চারা আছে।
বুঝতে বেশি সময় ও লাগলো না যে এই গাড়িতে নারী ও বাচ্চা পাচার করার জন্য মিশন চলছে, কিন্তু এই পাড়ায়?? এই পাড়ায় তো এমন নারী পাচার,মাদক ব্যবসা, অস্ত্র পাচার এসব করার কখনো কারো সাহস হয় না।তবে আজ বা এখন কেন?
ইতি ভয়ার্ত কন্ঠে কাঁপতে কাঁপতে বলে,,,

__ ওদের এই আহাজারি আমার সহ্য হচ্ছে না। কিছু করা উচিত নিধি, বিথী।
বিথী হালকা করে মাথা নাড়িয়ে ট্রাকের গা ঘেঁষে গাড়িটি সামনের দিকে দেখলো দুইটা লোক আরাম চেয়ে মূএ ত্যাগ করছে ও ধুমপানের ধোঁয়া আকাশের দিকে উড়িয়ে দিচ্ছে সাথে গুন গুন করে গান ও বলছে। বিথীর ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে যায় কিন্তু দমে যাওয়ার পাএী না,,,
__ একদম জোরে কথা বলছি,ওরা দুজন আসার আগেই এদের বাঁচাতে হবে।
ইতি বলে,,,
__ কিন্তু ট্রাকের দরজায় তো তালা দেওয়া।এটা খুলবো কেমনে??
নিধি কিছুক্ষণ ভেবে বলে,,,
__ আমার মাথায় একটা আইডিয়া এসেছে??
__ বল বল।
নিধি তার মাথা থেকে কালো চিকন পিনটা খুলে ফিসফিস করে বলে,,,

__ এটা দিয়ে চেষ্টা কর,স্টার জলসার নাটকে দেখেছি এক নায়িকা এই পিন দিয়ে তালা খুলছে।
বিথী বলে,,,
__ এই না হলে আমার বোন, আমাদের সিরিয়াল দেখে ভালোই উপকার হয় বল?
ইতি বলে,
__ হ্যাঁ, আস্তে কথা বল।
বিথী ফিসফিসিয়ে বলে,,,
__ নিধি হাত ছাড়।
নিধি এক মুহূর্তেই চপকে উঠে বলে,,,
__ নাহ একদম না,কেউ কারো হাত ছাড়বো না।
__ আরে বলদি,তালাটা দুহাত দিয়েই খুলতে হবে।ছাড়,তালা খুলে আবার হাত ধরবো এলা?
ইতি বলে,,,

__ নিধি হাত ছেড়ে দে।
নিধি কান্নারত চোখে বিথীর হাত ছেড়ে দেয়। বিথী তালায় চিকন পিনটা ডুকে দিয়ে নাড়াতে লাগলো, অনেক শক্তি দিয়ে চেষ্টা করলো কিন্তু কিছুই হলো না।তালার দিকে মনোযোগ রেখেই বিথী বলে,,,
__ ইতি হচ্ছে না তুই এসে একটু চেষ্টা কর?
ওপাশ থেকে কোন শব্দ আসলো না।আবার বিথী বলে,,,
__ কি রে বলদিরা।
কোন উওর আসলো না, বিথী এবার বেশ বিরক্ত হয়ে ইতি, নিধির দিকে ফিরে তাকালো, তাকাতেই চোখ জোড়া বড় বড় হয়ে গেল ভয়ে আঁতকে উঠলো।
লোক দুটি ইতি ও নিধি মুখে টেপ মেরে দিয়েছে ও হাত দড়ি দিয়ে বাঁধেছে, দুজনেই নড়াচড়া করছে কিন্তু কোন শব্দ বের করতে পাচ্ছে না।ইতি ,নিধির চোখ বেয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে।তার বোনদের এমন কান্না কান্না দেখে বিথীর প্রচুর রাগ হলো রাগে শরীরের রগ গুলো ফুলে উঠলো চোখ জোড়া অসম্ভবভাবে রক্ত লাল হয়ে উঠলো, দাঁতে দাঁত চেপে বলে,,,

__ কুত্তার বাচ্চা আমার বোনদের ছেড়ে দে বলছি??
লোক দুজন অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে একটি লোক বলে,,
__ নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই ফেঁসে গেছো।বাহ,তিনটি মেয়েরই শর্ট ছিলো তা পেয়েও গেলাম,বস মেলা টাকা দিবে।বস আমাদের প্রশংসা ও করবে।
অন্য লোকটি বলে,,,
__ ইনজেকশনের মাধ্যমে ঘুম পাড়িয়ে দেই।
__ না না একদম না বসের নিষেধাজ্ঞা আছে।
এই বলে লোকটি বিথীর দিকে এগিয়ে এসে মুহূর্তেই বিথীর মুখে টেপ লাগিয়ে দিল,ও হাত গুলো বাঁধলো, তিন বোনেই তিনজনের দিকে কান্নারত চোখে দেখতে লাগলো,ইতি কান্নাকে সংযত রেখে বিথী ও নিধিকে চোখের ইশারায় বোঝালো”মাথা ঠান্ডা রাখতে ও ভয় না পেতে , বাঁচলে একসাথে বাঁচবো মরলে একসাথে মরবো, আল্লাহ সাথে আছেন”
লোক দুটি ট্রাকের শাটার খুলে টানতে টানতে তিন আলোকছটাদের ভিতরে ঢুকিয়ে দিলো।তখন তিন আলোকছটার মাথায় তখন দাদুর বলা কিছু কথা ঘুরছিলো,,,,

__ তোদের তিন জনের তিনটি গুন আছে, ইতির মধ্য আছে বুব্দি, বিথীর মধ্য আছে সাহস,নিধির মধ্য আছে দৃঢ় মনোবল। তিন আলোকছটা তোরা এক সাথে থাকলে তোদের কোন বিপদ স্পষ্ট করতে পারবে না।কালো ছায়া ও তোদের পিছু ছাড়তে বাধ্য থাকবে।তোরাই হবি নারীময় পরিপূর্ণ নারী শুধু কেউ কারো বন্ধন ছিন্ন করবি না।
কথা গুলো মনে হতে এক অদ্ভুত সাহস সঞ্চয় হলো তিন জনের ভিতরে, ইতি ভাবতে লাগলো কি করে,এই বিপদ থেকে নিজেদের ও মেয়ে, বাচ্চা গুলোর রক্ষা করা যায়।
গাড়ির শাটার টা বন্ধ করে তালা মেরে দিলো লোকটি। হঠাৎ লোকটির ফোন বেজে উঠলো, ফোনের ওপাশ থেকে পুরুষালি এক কন্ঠস্বর ভেসে আসলো,,,,

__ কাজ হয়েছে?
কথাটি স্পষ্ট ভাবে কানে গেল বিথীর গলার আওয়াজটা তার খুব খুবই চেনা মনে হলো কিন্তু মনে করতে পারলো কার গলা।
লোকটা বলে,,,
__ হ্যাঁ স্যার কাজ ওকে আরো তিনটে মেয়েকে পেয়েছি।
__ গুড।

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ৮

কল বিচ্ছিন্ন করে লোকটি গাড়ি স্টাট দিলো। গাড়ি চলতে লাগলো।
আলবান ও আর্দ্র অফিস শেষ হওয়ায় বাইকে করে বাড়ি ফিরছিল, তালুকদার বাড়ির যাওয়ার পথেই আলবানের চোখ গেল ওই ট্রাকটাকে,তার মতে ” এই পারায় তো এমন গাড়ি দেখা যায় না”,বাইক চলন্ত অবস্থায় গাড়িটিকে দেখতে লাগলো, আর্দ্রের মনেও একই প্রশ্নের উদ্ভব, হঠাৎ করেই আলবান আর্দ্র দুজনেরই বুক ছ্যাত করে উঠলো, ধুকপুক হতে লাগলো। কিন্তু দুজনেই সেটাকে আর পাত্তা দিলো না শুধু মনে খটকা রইল। পুনরায় আবার নিজ গন্তব্যে চলমান গাড়ি চললো।

তিন তরঙ্গের আলোকছটা পর্ব ১০