Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১১

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১১

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১১
জান্নাতি আক্তার জারা

রশ্মি কে এয়ারপোর্টে রেখে এসে আরাত মন খারাপ নিয়ে পুরো দিনরাত না খেয়ে শুধু ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছে। রাবেয়া তালুকদার একবার রাতে খাওয়ার জন্য ডাকতে এসেছিলেন। আরাত খিদা নেই বলে রুমের দরজা খুলে নাই। না খেয়ে পুরো দিনরাত এক করে ঘুমানোর কারণে খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গে যায় আরাতের, বিছানায় কিছুক্ষণ এপাশ ওপাশ করতে করতে। চারদিকে মসজিদ থেকে ফজরের আজানের মধুময় ধ্বনি ভেসে এলো। আরাত বিছানা থেকে ওঠে ফ্রেস হয়ে ফজরে নামাজ আদায় করে পুনরায় বিছানায় শুয়ে পড়লো। কিছুক্ষণ ফোন ঘাটাঘাটি করে রশ্মির কোনো মেসেজ আরছে কিনা চেক করতেই রশ্মির কোনো মেসেজ না পেয়ে, পেটে খিদা নিয়েই আরো কিছুক্ষণ বিছানায় গড়াগড়ি দিলো। প্রায় আধাঘন্টা এভাবে বিছানায় গড়াগড়ি করার পর রুম থেকে বের হইলো।

সিড়ি বেয়ে নিচে নিমে ড্রয়িং রুমে কাউকে না পেয়ে কিচেনের দিকে এগুলো, কিচেনে গিয়ে ফ্রিজ খুলে রাতের ঠান্ডা খাবার বের করে গরম করে নিজের রুমের দিকে এগুতেই সদর দরজায় দিকে চোখ আটকে গেলো আরাতের।
তাকবীর কে সাকালে জর্গিং ওয়াক শেষ করে বাসার ফিরতে দেখে সিড়ির সামনে হাতে খাবার প্লেট নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো আরাত, টাউজার সঙ্গে ব্ল্যাক ঢিলাঢালা গেঞ্জি পরিহিত ফর্সা শরীরে ঘামগুলো মুক্তার মতো চিকচিক করছে যেন। আরাত সেদিকে একবার তাকিয়ে চোখ নিচে নেমে নিলো।
তাকবীর বাসায় প্রবেশ করতেই, আরাত কে এত সকালে সিড়ির সামনে খাবার প্লেট নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকালো, বাসায় বড়োরা ওঠে পড়েছে তবে নিজেদের ঘরে, এখনো কেউ নিচে নামে নাই। তাকবীর কিছুটা এগিয়ে এসে আরাতের সামনে দাঁড়ালো।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“এনি প্রবলেম?
আরাত মাথা ঝাকালো,
“নো!
তাকবীর আরাতের সামনে দাঁড়িয়ে আরাত কে কয়েক সেকেন্ড পর্যবেক্ষণ করলো, তাকবীরের কথায় আরাত কে মাথা নিচু করে মাথা ঝাকানো দেখে তাকবীর ভ্রু কুঁচকে আরাত কে পাঁশ কেটে সিড়ি বেয়ে উপরে ওঠে গেলো, আরাত চোখ তুলে একবার তাকবীরের চলে যাওয়া দেখে, সেও নিজের রুমের দিকে এগোলো। বিছানায় ফোনে মেসেজ আসার শব্দে তাড়াহুড়ো করে খাবারের প্লেট টা বেড সাইড উপর রেখে দিয়ে, মেসেজ চেক করলো, রশ্মির মেসেজ।
” আরাত খুব টায়ার্ড লাগছে রে, ফার্স্ট টাইম এতটা দৈর্ঘ্য জার্নি করলাম, আমি এখন ঘুমাবো তুই আম্মুরে বলে দিস, পড়ে কথা হবে আল্লাহ হাফেজ।

“ওকে ওকে তুই রেস্ট নে, আন্টিকে আমি বলে দিবো এতক্ষণে আঙ্কেল বলে দিয়েছে হয়তো, তুই ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পর আল্লাহ হাফেজ।
রশ্মি আরাতের মেসেজ সিন করে একটা লাভ রিয়েক্ট দিলো, আর আরাত সঙ্গে সঙ্গে রুম থেকে বের হয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে আলভী দের বাসায় গিয়ে চিল্লিয়ে উঠলো,
আন্টিইইইই রশ্মি, রশ্মি তো!
আরে আরে আরাত শান্ত হও, হ্যাঁ আমি জানি রশ্মি পৌঁছেছে , তোমার আঙ্কেল ফোন করে আমাকে জানিয়েছে।
আলভী আরাতের চিৎকারে ঘুম থেকে ওঠে রুম থেকে তারাহুরো করে বের হইলো। আরাত কে হাঁপাতে দেখে দৌড়ে কিচেনে গিয়ে এক গ্লাস পানি এনে আরাত দিতে দিতে বলল,

মায়াবতী পানিটা খেয়ে নেও, তুমি তো দেখছি একদম কথায় বলতে পারছো না। তোমার কী হয়ছে?
“রশ্মি পৌঁছে মেসেজ করেছে, তাই তোর মায়াবতীর এতো উৎফুল্লতা।
কথাটা বলেই রাহিমা সুলতানা কিচেনের দিকে এগোলেন। সকালে নামাজ শেষ করে রুম থেকে বের হয়ে মেইন গেট খুলে কিচেনের দিকে যাচ্ছিলেন রাহিমা সুলতানা, ঠিক তখনই আরাত ডাকতে ডাকতে দৌড়ে আসলো।
“তাই বলে তুমি এভাবে চিৎকার দিবে মায়াবতী, আমি তো ঘুমের মধ্যে বিছানায় লাফিয়ে বসে পড়েছি, আমি ভাবছি কেউ এই পৃথিবীর মায়া ট্যাগ করেছে হয়তো।

“তোকে উল্টাপাল্টা কে ভাবতে বলছে, সবসময় দু’লাইন বেশি ভাবিস, সর সামনে থেকে আমার খিদা লাগছে!
” আন্টি আমাকে খাবার দেও, খুব খিদা লাগছে আমার শক্তি নেই ও বাসা অব্ধি যাওয়ার।
“হু দিতেছি ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসো, দু’মিনিট ডিমটা ফ্রাই করে এনে দিতাছি গিয়ে বসো।
“না আমি ডাইনিং যেতে পারবো না, চল আলভী সোফাতে বসে টিভি দেখবো।
কথাটা বলে আলভী হাত টেনে নিয়ে গেলো ড্রয়িং রুমের সোফাতে, রাহিমা সুলতানা কিচেনের দিকে যাইতে যাইতে বললেন,

” রাতে খাবার না খাইলে এই সাতসকালে খিদা তো লাগবেই।
” উফফ আন্টি তুমিও মা’র মতো শুরু করলে?
“তো কী করবো, রাতে খাবার খাও নাই কি জন্য, তুমি যানো না তোমার খিদা সহ্য হয় না।
“ও আন্টি কথা না বাড়াইয়া আমাকে খেতে দেও না প্লিজ! আমার খুব খিদা লাগছে।
“এইতো হয়ে গেছে রে মা একটু দাঁড়াও।
“আম্মু মায়াবতীর খিদা লাগছে, দাড়িয়ে থাকতে পারবে না, মায়াবতী বরং সোফাতে বসে দুমিনিট ওয়েট করুক, এটাই ভালো হবে।
রাহিমা সুলতানা ছেলের প্রতি বিরক্তি হইলেন, বিরক্তি নিয়েই ডিমফ্রাই করতে করতে বললেন

“আহিন তোকে আর এমন-ই গাধা বলে না, সবসময় দু’লাইন বেশি ভাবিস।
আলভী একটু ভাব নিয়ে মায়ের কথা উত্তর করলো,
” এইটাই তো আমার কাজ।
কথাটা বলে আরাত আর আলভী শব্দ করে হেঁসে উঠলো, দুজনের হাসার মধ্যে আরাতের হাতের ফোনটা শব্দ করে বেজে উঠলো, আরাত ফোনটা রিসিভ করতে করতে বলল,
“এই সাতসকালে কে আবার ফোন দেয়, ও আইরা আপুর ফোন, হ্যাঁ আপু বলো এতো সকাল সকাল আমাকে মনে করলে যে?

” কেনো মনে করতে পাড়ি না বুঝি!
“মনে করতেই পাড়ো, তবে আমাকে ছাড়াও তোমার মনে করার মানুষ রয়েছে তো এজন্য বললাম। হায়-ই আমাকে আবার মনে করার মতো কেউ নেই তো, তোমরা যতটুকু মনে করো এটাই আলহামদুলিল্লাহ।
“অন্য কেউ পড়ে বানিয়ে নিস, আগে আমার কথা শোন!
“হুম বলো?
“তুই তো ফ্রি আছিস তাইনা?
“হুম?
“আমি আজকে ভার্সিটি শেষে লাইব্রেরীতে যাবো, তুই একটু আসতে পারবি?
“কেনো আমি গিয়ে কী করবো? তোমার সঙ্গে তো মায়া আপু রয়েছেই।
” আরে ও তো থাকবেই, একটা প্রবলেম আছে।
“কী প্রবলেম?

“এতো কথা বলিস কেন, তোকে আসতে বলছি আসবি!
“হ্যাঁ বুঝতে পারছি, লাইব্রেরী থেকে বই নিবে, ফুপি জানতে পারলে ঝাড়ু পিটানি দিবে, এজন্য আমাকে ফাঁসাতে চাইছো তাইনা?
“আরে আপুরে, ঠিক ধরেছিস, আম্মু জানতে পারলে বকা দিবে, তুই তো ফ্রি বাড়িতে সময় কাটাচ্ছিস, আম্মু যদি যানতে পারে আমি লাইব্রেরী থেকে বই নিয়েছি, তাহলে বলবো তুই সময় কাটানোর জন্য পড়তে চাস এজন্য ।
” ফুপি কিন্তু জানে আমি বই পড়ি না, যেখানে পাঠ্যবই খুললেই দেখি না সেখানে উপন্যাস তো বিলাসিতা মাএ।
“থাক তোকে আসতে হবে না যাহ, ফোন রাখলাম আল্লাহ হাফেজ।
” এই আপু এতো রাগ করো কেনো, এই রাগটা আমার ভাইয়ের সামনে দেখাতে পারো না, সেখানে তো হাওয়া ফুস হয়ে যায়।

“আরাততত……
” হ্যাঁ হ্যাঁ বুঝতে পারছি, কখন আসতে হবে এটা বলো আমি আসবো?
“এইতো সোনাবনু আমার, দুপুর দুইটায় আমার ভার্সিটির সামনে এসে ফোন দিবি তাহলে হবে।
” ওকে, তোমার সঙ্গে মায়া আপু থাকবে তো তাইনা?
“হ্যা! থাকবে।
“ওকে, অনেক দিন পর আপুর সঙ্গে দেখা হবে, এখন রাখি আল্লাহ হাফেজ।
“আল্লাহ হাফেজ।

আইরা সঙ্গে লাইব্রেরীতে গিয়ে বই নিয়ে আবার রাস্তায় তিনজন মিলে ফুচকা খেয়ে কিছুক্ষণ বাহিরে আড্ডা দিতে দিতে দুপুর গড়িয়া বিকাল ৪:৪৩ বেজে গেছে, মায়ার সঙ্গে অনেক দিন পর দেখা হওয়ার আরাত যেনো কথার ঝুরি নিয়ে বসে পরছে।
” মায়া আপু, তুমি আরিশা আপুর বিয়ে তে থাকছো তো?
” আম্মু কে রাজি করাতে পারবো, বাট আব্বু রাজি হবে কি না!
“হয়ে যাবে টেনশন নেও না, আরিশা আপুর বিয়ে তে কিন্তু ডান্স করতে হবে, আগেই বলে দিলাম ।
” তারজন্য সবাইকে বিয়ের দুএকদিন আগে একখানে হতে হবে , সব প্লানিং করতে হবে।
“হ্যাঁ আপু, আর শুনো বিয়াই সাব দের কিন্তু স্পেশাল কঠিন খাতির যন্ত করতে হবে।
কথাটা বলেই আরাত সয়তানি হাসি দিলো, মায়া আরাতের কথার মানে বুঝতে পেড়ে আরাত কে শুধালো,
” সব ঠিক আছে, কিন্তু বিয়ে টা কবে?
“জানি না মেবি কিছুদিনের মধ্যে দুই পরিবার বসবে হয়তো, এই আইরা আপু তুমি কী এ বিষয়ে কিছু জানো?
আরিশা মাঠের একপাশে বসে বইগুলো দেখছিলো, দুজনের কথায় মধ্যে তার কোনো মনোযোগ নেই, মায়া আইরা কে ডেকে উঠলো,

“এই আইরা, আরিশা আপুর বিয়ের ডেট কবে রে?
মায়া এবারেও আইরা কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আইরা হাত থেকে বইটা কেরে নিয়ে পুনরায় বলল,
“কী সারাক্ষণ উপন্যাস নিয়ে পড়ে থাকোস, কী পাইছোস, এই উপন্যাসের মধ্যে হুম?
“এ….একাকী
মনের স্থিরতা সুখ!
ও আচ্ছা তোর সুখ নিয়ে থাক তুই, আমি বাসায় যাবো এখন, আরাত আবার দেখা হবে, আর হ্যাঁ মেসেঞ্জারে নক দিও, বিয়াই সাব দের আপ্যায়নের কিছু টিপস বলে দিবো নি।
“ওকে আপু, সাবধানে যাইও আল্লাহ হাফেজ,
মায়া বসা থেকে ওঠতে নিজের গন্তব্য দিকে হাঁটা ধরে বলল,
“আল্লাহ হাফেজ তোমরাও সাবধানে যাইও, এই আইরা চলে গেলাম রে, বাসায় গিয়ে ফোন দিয়ে জানাস।
“ওকে।
“চলো আপু আমরাও যাই, আমার ফোনে দাটা নেই রশ্মি হয়তো ফোন দিয়ে আমাকে না পেয়ে হয়রানী হয়ে গেছে।
__হুম চল।

বাংলাদেশ টাইম রাত ১০: ৩৭ ঘড়ে, আরাতের নিত্যদিন রাত সাড়ে নয়টাতে রাতের খাবার খেয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, বাড়ির বড়োরা বাড়িতে আসে রাত সাড়ে দশটায় দিকে, সবাই একসঙ্গে রাতের ডিনার শেষ করে কিন্তু আরাত সবার সঙ্গে ডিনার করে না, বিশেষ করে তাকবীরের সঙ্গে, আরাতের মনে হয় বীর ভাইয়ার মতো গুরুগম্ভীর মানুষের সামনে খাবার খেয়ে পেত ভরে না। খাবার টেবিলে খাবার খাবো আর এটা ওটা নিয়ে গল্প করবো হাসবো তবেই না পেত ভরে যাবে। কিন্তু বীর ভাইয়া সামনে খাবার খাইলে। যদি খাইয়ার সময় কথা বলা দেখে ইয়া বড়ো একটা ধমক দেয় তাহলে তো মানসম্মান সব উগান্ডায় চলে যাবে।
এই নিয়ে একদিন রশ্মি বলছিলো তুই তাকবীর ভাইয়া কে দেখে এত শান্ত হয়ে যায় কেনো। ভাইয়া তো কখনো কাউকে ধমক তো দূরের কথা, ভাইয়া তো প্রয়োজন ব্যতীত কারো সঙ্গে ঠিকমতো কথাপর্যন্ত বলে না। সবসময় শান্ত প্রকৃতিক মতো চুপচাপ থাকে তাহলে?

রশ্মির কথায় উত্তরে আরাত বলছিলো,,,জানি না বীর ভাইয়া কেমন যেন সবার সঙ্গে কথা বলে না হাসে না, দেখলেই ভয় করে, এমন গুরুগম্ভীর মানুষ থাকে নাকী এই দুনিয়াতে।
রশ্মি : এটা ঠিক বলছিস, ভাইয়া যেনো কেমন একটা, এতো ড্যাশিং হ্যান্ডসাম লুক হায়,মেয়েরা তো ফিদা কিন্তু ভাইয়া এতো গম্ভীর্যর কারণে মেয়েরা ভয়ে তো দূরে দূরে থাকে। হানিয়া আপুর দিকে দেখ, যখন হাবিব ভাইয়ার সঙ্গে এবাড়িতে ঘুরতে আসে, কিভাবে দূরথেকে চুপিচুপি দেখে শুধু। কাছে যাওয়ার সাহস পায় না, কী এক অবস্থা। বলেই দুজন একসঙ্গে হেসে দিয়েছিলো।

আরাতের সঙ্গে আহিনও দুজন মিলে রাত সাড়ে নয়টাতে ডিনার শেষ করে প্রতিদিন। আহিন ডিনার শেষ করে সাড়ে দশটায় পর্যন্ত পড়াশোনা টেবিলে বসে বইখাতা ঘাটাঘাটি করবে, আদিবা তালুকদারের আদেশ সাড়ে নয়টাতে ডিনার শেষ করে সাড়ে দশটায় পর্যন্ত পড়াশোনা করতেই হবে। মায়ের কথা বাধ্যতামূলক বইখাতা ঘাটাঘাটি করে যখন ঘড়ির কাঁটা সাড়ে দশটায় যাবে, সঙ্গে সঙ্গে আহিন আরাতের রুমে হাজির, সঙ্গে আলভী যোগ হবে।
আজকেও বাদ পড়ে নাই, সাড়ে দশটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে আহিন আলভী, আরাতের রুমে হাজির হয়ে গেছে, আরাত রশ্মির সঙ্গে ফোনে ভিডিও কলে কথা বলছিলো, আহিন আলভী আরাত কে ফোনে কথা বলতে দেখে চুপিচুপি আরাতের পাশে এসে দাড়ালো।

আরাত : ওইদেশে ওয়েদার কেমন রে রশ্মি, আমি তো গুগলে দেখছিলাম বছরের সাত-আট মাস শীত থাকে।
রশ্মি : হুম রে, এয়ারপোর্ট থেকে বের হতেই আবহাওয়া টা যেন শরীরে কাটা দিয়ে গেলো।
আরাত : কয়েকদিন কাটাতেই অভ্যস্ত হয়ে যাবি।
রশ্মি : হুম! আরাত ?
“বল?
“মিস করছিস?
আরাত মলিন হাসলো, আলভী আরাতের কাছে থেকে ফোনটা নিয়ে বলল,
“শুধু মায়াবতী না আপু, আমরাও তোকে মিস করছি, আপু জানিস তোর রুমটা ফাঁকা থাকে, আমার ওই বাড়িতে একদম মন টেকে না।
আলভী কথায় রশ্মি একটু অবাক হয়ে আরাত কে ডাকলো,

“এই আরাত এই! আমি ঠিক শুনছি তো?
আহিন আলভী আরাত তিনজন ফোনের দিকে অবুঝের মতো চেয়ে আছে, রশ্মির কথা না বুঝতে পেয়ে আরাত বলল,
“মানে! বুঝলাম তোর কথা?
” বুঝতে পারছিস না, তোর ক্রাশ আমাকে আপু বলে ডাকছে, শুনতে পাস নাই ?
আহিন : হ্যাঁ তাইতো, আমি লক্ষ করেছি আলভী রশ্মি আপু কে আপু বলে ডাকছে, মতলব’টা কী বলতো বন্ধু?
“এখানে মতলবের কী পাইলি, দূরে গেছে এজন্য একটু সম্মান করতাছি,এখন আমার মনে হচ্ছে সন্মান জিনিস টা ওই শাঁকচুন্নি সঙ্গে যায় না হুহ।
মুখ বাঁকা করে কথাটা বললো আলভী, আলভীর কথায় রশ্মি ফোনের ওপাড়ে থেকে বলে উঠলো,

“তোর সম্মান তোর কাছেই থাক ভাই, আমার লাগতো না, তুই তো আমাকে সম্মান দিয়ে একদম কানাডা পাঠিয়ে দিলিরে।
আরাত মুখে দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল,
“দেখছিস আমার ক্রাশ কতটা উপকারী, তোকে একদম পার্থ চৌধুরীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে, তো বল দেখা করবি কবে?
” তুই ওই দুই বিচ্ছু কে রুম থেকে বের কর, তারপর এই বিষয়ে কথা বলছি।
আহিন আরাতের কাছে থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে রশ্মি কে বলল,
“আপু তুমি দূরের মানুষ দূরেই থাকো, তুমি এখন কেটে পড়ো, আমরা তিনজন মিলে আড্ডা দিবো এখন।
রশ্মি : তোরাই ভাগ আরাতের রুম থেকে,এক মিনিট এক মিনিট এই তোরা দুজন এত রাতে আরাতের রুমে কী করিস? পড়াশোনা নেই তোদের, যা গিয়ে পড়তে বস,যা বলছি।
আহিন: আরে আপু আমরা তো পড়াশোনা নিয়েই আরাত আপুর সঙ্গে একটা এডভাইস নিতে আরছি।
রশ্মিরাত : মানে?
আহিন ফোনে রশ্মি কে একবার দেখলো, তারপর আরাতের দিকে তাকিয়ে পুনরায় বলতে শুরু করলো,,,

“আরাত আপু চলো আমরা আন্দোলন শুরু করে দেই।
“কেনো?
” নিজের ক্যারিয়ারের জন্য হইলেও, পাঠ্য বই ছাপানোর কালিতে ঘুমের ঔষুধ মেশানো বন্ধ করতে হবে।
আরাত আহিনের থেকে ফোনটা নিয়ে রশ্মি কে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে। ফোন কেটে দিতে দিতে রশ্মির উদ্দেশ্য বলল,
“তোর সঙ্গে পড়ে কথা বলছি।
কথাটা শেষ করে আরাত ফোনটা বিছানায় রেখে আহিনের দিকে ভ্রু কুচকালো চেয়ে বলল,
“মানে কী বলতে চাইছিস তুই?
“বুঝলা না?
“উওহুম___না।
আহিন এবার আলভীর ঘাড়ে এক হাত রাখলো তারপর একটু সিরিয়াস হয়ে নিজের বক্তব্যে শুরু করলো,
“এই-যে সারাদিন ফোনে কাটুন দেখি, ভন্ডামি করে বেড়াই, এগুলো বেলায় একবারো জন্যও চোখে ঘুম ধরা দেয় না। কিন্তুও যখনই পড়ার টেবিলে বসে পড়ি, ঘুম আমাকে বলে, মে আই কামিং স্যার? __ বলো আপু কেমন দা লাগে?

” এটা তো বহুদ জটিল সমস্যা তাহলে?
” হুম গো, মায়াবতী আমারও সেম প্রবলেম। আচ্ছা মায়াবতী তাহলে কী আহিনের কথা ঠিক। পাঠ্য বই ছাপানোর সময় ওরা সত্যিই ঘুমের ঔষুধ মিশায়?
আহিন, দাঁতে দাঁত চেপে আলভীর গালে হালকা করে থাপ্পড় দিয়ে,
“না মিশাইলে আমাদের ঘুম ধরে কেনো বল?
আলভী আহিনের দিকে তাকিয়ে গালে হাত রেখে গাল ফুলিয়ে বলল,
” তুই আমাকে থাপ্পড় দিলি কেনো?
“আরে তোর গালে মশা ছিলো বলদ।
” তাই বলে এতো জোরে থাপ্পড় দিবি?
“বেশি জোরে হয়ে গেছে, তাইনা?
আহিনের গা জ্বলানোর কথায় আলভী আরাতের দিকে অভিযোগে চোখে তাকালো, আলভী তাকানো দেখে আরাত, আহিনের উপর একটু রাগী লুকে,

” এটা তুই কী করলি আহিন?
“আমি আবার কী করলাম?
তুই এভাবে খুন করতে পারলি,তুই তো খুনি হয়ে গেলি। এক থাপ্পড়ে সংগীতশিল্পীকে খুন করে দিয়ে বলছিস, আমি আবার কী করলাম। বাহ আসামী ভাই আমার বাহ,তোর প্রশংসার কোনো তুলনায় হয়না।
আহিন মুখ ভেংচি কেটে বলল,
“তোমারও ভন্ডামীর কোনো তুলনা হয় না আপু।
আরাত আহিনের কথায় দু-হাত কোমরে রেখে মুখা’টা একটু রাগমিশ্রন করে, আহিনের উদ্দেশ্য বলল,
“তোর এতো বড়ো সাহস, তুই আমাকে ভন্ড বলছিস?
“তো বলবো না , সামান্য মশা মরার কারণে তুমি আমাকে, আসামী বানাইতাছো তার বেলা।
“তুই যানোস, মশা আমাদের কতটা ভালোবাসে!
আরাতের কথায় আহিন অবাক চোখে তাকিয়ে ব্যঙ্গ করে হাসলো, আর আলভী বুঝার চেষ্টা করে আরাত কে জিজ্ঞেস করল,

” মায়াবতী তুমি সত্যি বলছো, মশাও আমাদের ভালোবাসে?
আলভীর কথায় আহিন,মুখে চ জাতীয় শব্দ করে নিজের কপালে হাত রাখতে রাখতে বিরবির করলো,
“নেও এক ব’লদ আরেক ভন্ড কে জিজ্ঞাস করছে, আমি কী সাধে এটাকে ব’লদ অপাদি দিয়েছি, হায় রে সবই আমার কপাল ।
আরাত আলভী কে নিজের কথায় বিশ্লেষণ করতে পুনরায় বলল,
“তা নয় তো কি, দেখোস না মশা কত নিখুঁত ভাবে আমাদের পুরো শরীরটা ক্যাচ করে, নিজের ভালোবাসার পরশ রেখে দেয়।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১০

“হুমও এখন বুঝলাম।
আলভী মাথাটা ঝাকিয়ে মুখটা বুঝার মতো করে কথাটা বলল,আর আরাত নিজের কথা গুলো শেষ করে, আহিনের দিকে তাকালো , আহিনের দিকে তাকিয়ে পুনরায় আহিন কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“তুই বুঝছোস ?
” হুহউ,বুঝলাম।
” কী,বুঝলি?
“কীর আর বুঝবো, তোমার ভন্ডামী।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১২