তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১৭
জান্নাতি আক্তার জারা
বিকাল ৫:৪৩ মিনিট, তাকবীর বেলকনিতে গিয়ে বেলকনির দড়ি তে কোট-টা বিছিয়ে দিয়ে কফি হাতে নিয়ে এক সাইটে এসে দাঁড়ালো। বেলকনির মাঝখানে সোফাতে বসে আড্ডা দিচ্ছে, আশিক হাবিব আনাস আদিল হানিয়া। আদিল আনাস সের সঙ্গে দুপুরে এসেছে। আশিক হাবিব মাঝেমধ্যে তালুকদার বাড়িতে ঘুরতে এলে-ও হানিয়া’র আজকে আসা নিয়ে হবেই তো হাতেগুনা তিন-চার বার।
আশিক তাকবীর কে নিজেরদের থেকে একা দূরে দাঁড়াতে দেখে মুখ বেঁকে বিরবির করে বলল,এর সঙ্গে কথা বলায় বেকার, তারপর সবাইকে এক নজর দেখে নিয়ে, হানিয়ার দিকে তাকালো, মেয়েটা বারবার আরচোখে তাকবীরের দিকে তাকাচ্ছে, আর সবার কথায় শুধু হুম হা করছে। আশিক হানিয়া-র মনোযোগ পেতে গলা পরিস্কার করে নিয়ে বলে উঠলো,
“আচ্ছা হানিয়া তোমার কোনো ফ্রেন্ড নেই?
আশিকের কথায় চারজোরা চোখ আশিক কে পর্যবেক্ষণ করতে লগলো, হানিয়া আশিকের কথায় মাথা নাড়িয়ে ছোট্ট করে হুম বুঝিয়ে জানতে চাইলো,
” হ্যাঁ রয়েছে, কিন্তু কেনো?
“তাড়া তো সিঙ্গেল তাইনা?
“না, তাদের বিএফ আছে!
“ওহহহ আচ্ছা, শুনো যদি কখনো তোমার বান্ধবীদের ব্রেকআপ হওয়ার পরে প্রেম করার জন্য ছেলে খুঁজে না পায়, তাহলে আমার নাম্বারটা দিয়ে তাঁদের উপকার কইরো কেমন!
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
কথাটা বলা মাএ সবার মুখ স্বাভাবিক দেখা গেলো, এটা নতুন না। আশিক এমনই সারাদিন এই মেয়ে ওই মেয়ের সঙ্গে কথা বলবে, তার জীবনে মেয়ের অভাব নেই। সকালে একটা ব্রেকআপ হবে। বিকালে আরেকটার সঙ্গে ডেটে যাবে। কেউ তার জীনের পার্মানেন্ট ভাবে থেকে যায় না এবং আশিকও তাদের রাখে না। আশিকের বাবা একজন বড়ো বিজনেসম্যান হওয়ার ছেলের কোনো আবদান অসম্পূর্ণ রাখে না। আশিক পড়াশোনা শেষ করে দুইতিন বছর হবে বাবার টাকা দিয়ে ভ্রুমন করে বেড়াচ্ছে। জবের কথা বললে তার একটা কথা , বাবার টাকা থাকতে আমাকে কেনো জব করতে হবে।
আশিকের কথায় আনাস আশিক কে ধমকের বলে উঠলো,
আনাস :
“নেকামি বন্ধ কর,কী সারাক্ষণ শুধু এ মেয়ে ওই মেয়ে করোস, তোর এসব নেকামি সহ্য হয় না আমার।
আনাস সের কথায় আশিক মুখ বেঙ্গে বলে উঠলো,
আশিক :
” শোন আনাস, একদম ফাউল বকতে যাবি না, আমি কোনো মেয়ে না যে মেয়েদের মতো নেকামি করবো।
আনাস :
“তুই নেকামি করছিস না?
আশিক :
” একদম না, আমার এ-সব নেকা নেকা মেয়ে একদম সহ্য হয় না, আমি কেনো নেকামি করতে যাবো।
আনাস :
“ও রিয়েলি হুহহ! তাহলে সারাদিন নেকা মেয়েদের সঙ্গে কথা বলিস কেনো?
আশিক :
” নেকামি সহ্য করতে পারলে এত ব্রেকআপ হতো না দোস্ত। আজ অনেক মেয়েদের প্রিয়জন হয়ে থাকতে পারতাম। মেয়েদের পিছনে আমার বড়োলোক বাপ-টার যতগুলো টাকা বাঁশ খিলাইছি, সবগুলো একএ করলে আমার বিয়ের পেন্ডালটা হয়ে যেতো।
আনাস বিদ্রূপে সুরে বলে উঠলো,
” তোর ফয়দা ছাড়া এমনই এমনই মেয়েদের পিছে টাকা নষ্ট করোস, তুই তো ধনেপাতা তাই-না।
আশিক :
“ওটা ধনেপাতা হবে না দোস্ত ধোয়া তুলসীপাতা হবে।
আনাস :
” ধনেপাতা বা ধোয়া তুলসীপাতা যেটাই হোক, পাতা তো!
আনাস সের কথায় আশিক তাকবীর কে একনজর দেখে নিয়ে,তাকবীর কে অন্যমনস্ক হয়ে কফি খেতে খেতে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে পুনরায় আনাস কে তাচ্ছিল্য করে বলে,
আমিক :
“তোদের দুই ভাই প্রেম ভালোবাসা বুঝবি কী করে, তোদের হৃদয় বলতে কিছু রয়েছে না-কি, আমাকে দেখ মেয়েরা আমাকে নিজের করে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে থাকে।
হাবিব :
“হ্যাঁ থাকবেই না কেনো, এটা তো তোর দিল না, পাবলিক টয়লেটে উপান্তরিত হয়ে গেছে।
আশিক পুরো কথা শেষ করার আগেই হাবিব আশিক কে জ্বালাতে কথাটা বলে উঠলো, হাবিবের কথায় আশিক এবার বলে উঠলো,
আশিক :
” দেখ দোস্ত আমার মন অনেক বড়ো, এজন্য হাজারো বয়ফ্রেন্ড শূন্যতা ভুগা নারীদের জায়গায় এই আশিক তার মনে রাখে। তোদের ব্যাপারটা বুঝতে হবে।
আশিকের কথায় আনাস হাবিব বিরক্তি দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো, হানিয়া আশিকের কথাগুলো দুষ্টুমির ছলে চুপিচুপি বসে এনজয় করছে আদিল দুষ্টু হেসে আশিক কে বলল,
আদিল :
“ভাই আপনার বুকে যদি লয়াল কেনো বয়ফ্রেন্ড শূন্যতা ভুগতে থাকা অসহায় নারী থেকে থাকে।তাহলে আমার দিকে ফিকে মারেন, আমিও পার্মানেন্ট ভাবে তাকে সাহায্য করতে চাই।
আদিলের কথায় আনাস আদিলের মাথায় একটা গাট্টা মেরে বলে,
আনাস:
” আগে বউকে রাখার জন্য নিজস্ব একটা বাংলো বানিয়ে দেখা,তারপর মানবতার ফেরিওয়ালা হতে যাস।
আদিল:
“ভাইয়া আমার খাল কাটা রয়েছে, এখন শুধু আমার কুমির টার এন্ট্রি নেওয়ার পালা।
আদিলের কথায় সবাই একসঙ্গে শব্দ করে হেসে উঠলো, হাসির শব্দে তাকবীরের মনোযোগ নষ্ট হয়ে গেলো, নিমেষেই চোখ মুখে রাগের রেশ ফুটে উঠলো, রাগী চোখে আনাস সের দিকে তাকাতেই আনাস সবার উদ্দেশ্য বলে উঠলো,
” আমাদের এখন ওঠা উচিত, চল নিচে যাওয়া যাক!
আশিক নাকচ করে আনাস কে বলে উঠলো,
“হ্যাঁ উঠবোই তো, আগে বল তোর আর আইরা-র বিয়েটা কবে খাওয়াচ্ছিস?
” যেইদিন তুই মেয়েদের সঙ্গে ফ্ল্যাট করা বন্ধ করবি ওইদিন।
“মেয়েটা সত্যি তোকে অনেক ভালোবাসে দোস্ত। জীবন তো একটাই, তাই আমার মতো হাজারো মেয়েদের কে ভালোবাসতে না পারলে,শুধু আইরা কে অন্তত ভালোবাস।
আনাস বিরক্তি হয়ে কথা না বলে ফোন ঘাঁটতে লাগলো, এভাবে আড্ডা দিওয়ার মধ্যে দিয়ে তাদের বিকেলটা কেটে যাচ্ছে, তাকবীর ওদের কথায় বিরক্তি হয়ে নিজের রুমে যাওয়ার উদ্দেশ্য পা ঘোরাতেই পা দুটো পুনরায় থেমে গেলো। মাথাটা ঘুরিয়ে নিচে দিকে তাকাতেই ফুল বাগানে এক সিগ্ধপরীর দিকে চোখ দুটো থমকে গেলো। বাঙালী সাজে লাল পাড়ের সাদা রংয়ের শাড়ি পরিহিত আরাত কে দেখে। দুহাত ভরা লাল রেশমি চুরি, কানে কান টানা লাগিয়ে হালকা কুঁকড়ানো লম্বা চুলগুলা খুলা রাখা অবস্থাতে একেকবার একের রকমের স্টাইল করে দাড়িয়ে ফটো ওঠাচ্ছে। তাকবীর সেদিকে মনোমুগ্ধকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলো,
আচ্ছা পাগল টা-কে এতোটা ম্যাচিউরিটি লাগছে কেনো। ইস আজকে যেন পাগলটাকে কেমন যেনো গিন্নি দের মতো লাগছে, আচ্ছা ও কী চোখে কাজল দিয়েছে,দিয়েছে হয়তো।
তাকবীর সেদিকে থেকে চোখ ঘুড়িয়ে নিয়ে বিরবির করলো,
“মহান রব্বুল আলামীন যেইদিন তোমাকে আমার খুব কাছে থেকে ওই সৌন্দর্য গুলো দেখা হালাল করবে। আমি দেখবো, মনভরে দেখবো। তোমার ওই সিন্ধভরা মায়াবী মুখটা দেখে চোখের তৃষ্ণা মিটাবো।
আরাত কলেজ থেকে এসে কলেজ ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে মেরে সোজা ওয়াশরুমে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখতে লাগে। আয়নায় সামনে নিজেকে দেখতে দেখতে হটাৎ কলেজে মাহিরের মুখে বিরক্তিমাখা কন্ঠে সেই কথাটা মনে পরে গেলো।
“আজব আমি কেনো তাকে কিছু করতে যাবো, সে কী আমার বউ লাগে। _____মাহিরের কথাটা আরাতের মনে পরত-ই আয়নার নিজের মুখটা দিকে তাকিয়ে নিজেই লজ্জা পেলো। লজ্জায় দুই হাত মুখে রেখে ভাবতে থাকে। আচ্ছা প্রেম কাকে বলে, সে আমার সামনে আসলে তার দিকে অপলক চেয়ে থাকতে মন চায়, এটাকেই কী প্রেম বলে। আমি কী তাহলে মাহিরের প্রেমে পড়েছি, হ্যাঁ যদি এটাকে প্রেম বলে তাহলে আমি প্রেমে পড়েছি, মেহরাব ইসলাম মাহিরের প্রেমে পড়েছি। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে আবারো লজ্জায় হাত দিয়ে মুখ ডেকে নিলো।
যৌবনে পা রাখলে মনে অনেক কিছু খেলা করে , হটাৎ মনের মতো কাউকে দেখলে তাকে নিয়ে ভাবতে ভালো লাগে, মনের অজান্তে তাকে নিয়ে অনেক গভীর ভাবে ভাবতে মন চায়। অথচ আস্তে আস্তে তাকে নিয়ে অল্পস্বল্প ভাবতে ভাবতে তাকেই নিজের করে পেতে মন চায়। আরাতের প্রথম দেখাতেই মাহিরকে ভালো লাগতে শুরু করেছে, মনের অজান্তে বার বার মনে হতে লাগছে। ইস আবার যদি কোনো বাহানায় তার সঙ্গে দেখা হতো। তার সঙ্গে কথা হতো। তাকে সামনাসামনি দেখতে পারতাম। আরাত মনের মধ্যে হাজারো রং বেরংগের ভাবনা নিয়ে নিজেকে সাজাতে মন চাইলো। কেনো জানি নিজেকে বারবার আয়নায় দেখতে দেখতে নিজেকে নিয়ে ভাবতে ভালো লাগছে। সেই ভাবনা ভালো লাগা থেকে গোসল করে নতুন শাড়ি বের করে নিজেকে সাজাতে লাগলো।
বাঙালী শাড়ি পড়ে কানে কানটানা দিয়ে চুলগুলো খুলা রেখে, হাত ভরা কাঁচের চুরি ঝনঝন আওয়াজে ঠোঁটে লিপজেল লাগিয়ে চোখে গাড়োকরে কাজল দিতে লাগলো। কাজল দেওয়ার শেষে নিজেকে আয়নায় পুনরায় ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে দেখতে লাগলো। সবদিক দিয়ে পারফেক্ট লাগছে শুধু মাথায় বেলি ফুলের একটা গজরা কমতি থেকে গেলো। আরাত বিছানায় থেকে ফোনটা হাতে তুলে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে আহিন কে সঙ্গে নিয়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগলো। আদনান তালুকদার আহাদ তালুকদার ডায়িং রুমে সোফাতে বসা ছিলেন। আদনান তালুকদার সিড়ি দিকে তাকাতেই আরাত কে শাড়ি পড়ে নিচে নামতে দেখে মুখে হাসিফুটে উঠলো। আরাত সিড়ি থেকে নিজের বাবা বড়আব্বু কে ডায়িং রুমে দেখতে পড়ে লজ্জা পেয়ে পুনরায় নিজের রুমে দিকে দৌড় লাগাতেই, বাবার ডাক শুনে দাঁড়িয়ে পরলো।
“মা…..?
আরাত বুঝতে পারে বাবা বড়আব্বু আরাত কে দেখে নিয়েছে, কথাটা ভেবেই আরাতের মুখে লজ্জাটা আরো গাড়ো হয়ে গেলো। যখন বাড়ির বড়োরা বাড়িতে থাকে না শুধু মা বড়মা সামনে আরাতের ইচ্ছা হইলেই শাড়ি পড়া হয় কখনো বাড়ির পুরুষদের সামনে শাড়ি পড়ে যাওয়া হয় নাই। আজকে প্রথম বাবা বড়আব্বু সামনে শাড়ি পড়ে যেতে নিজেকে কেমন লজ্জা লজ্জা লাগছিলো, লজ্জা রাঙা মুখ নিয়ে মুখটা নিচু করে নিচে নেমে এলো। আহাদ তালুকদার বসা থেকে ওঠে এসে হাসি মুখে মেয়ের মুখটা খুব যন্তসহ কারে হাতদিয়ে উপরে দিকে উঠিয়ে বলে উঠলো,
“মাশাআল্লাহ মাশাআল্লাহ আমার মা’কে দেখতে খুব সুন্দর লাগছে, কারো নজর না লাগুক।
আরাত বাবা-র কথায় লাজুক হেসে মুখটা পুনরায় নিচে নেমে নিলো, আহাদ তালুকদার চঞ্চল মেয়েকে হটাৎ লজ্জা পেতে দেখে মনে মনে ভাবলেন মেয়েটা অনেক বড়ো হয়ে যাচ্ছে। আরাত বাবাকে বলে আহিনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির ফুল বাগানে চলে গেলো ফটো ওঠাবে বলে। আহাদ তালুকদার মেয়ের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলেন। আদনান তালুকদার আরাতের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছোট্ট ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,
” মেয়েটা দেখতে দেখতে চোখের সামনে অনেক বড় হয়ে গেলো তাই-না, কয়েকবছর পড়ে তাকে-ও অন্যর ঘরে দিতে হবে?
আদনান তালুকদার আফসোসের শহিদ কথাটা বললেন, আহাদ তালুকদার বড়ভাইয়ের কথায় মলিন হাসলেন, হ্যাঁ আর কয়েকবছর তাহলে নিজের কলিজার টুকরো কে অন্যর হাতে তুলে দিতে হবে। এটাই তো প্রকৃতির নিয়ম। মানতে তো হবেই।
আরাত একা একা বাগানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আহিন আলভী কে ডেকে নিয়ে এলো, আলভী বাগানে এসে শাড়ি পড়া আরাত কে দেখেই দুহাত বুকের বামপাশে রেখে দিয়ে আহিনের শরীরে উপর পড়ে গেলো। আলভী কে নিজের শরীরে উপর পড়তে দেখে আহিন বিরক্তি হয়ে বলে,
“কী নাটক শুরু করলি ভালো হয়ে দাড়া বলছি।
আহিনের কথায় আলভী ঠিক হয়ে দাঁড়িয়ে আরাত কে নিচথেকে মাথা উপধি দেখতে লাগলো,আরাত আলভীর তাকানো দেখে দুষ্টুমি হেসে মুখে লজ্জা ফুটিয়ে তুলে আলভী কে নাটকীয় ভঙ্গীমায় বলতে শুরু করলো,
” ক্রাশ আমাকে কেমন লাগছে ? দেখো ক্রাশ আমি তোমার জন্য নিজেকে সেজে এসেছি ক্রাশ।
আলভী খুশিতে গাধোগাধো হয়ে বলল,
” মায়াবতী তুমি আমার জন্য শাড়ি পড়েছো?
আরাত নাটক করে লাজুক হেসে বলে,
“হ্যাঁ জনাব!
” হায় হায় মায়াবতী তোমাকে দেখে আমার হুদ পন, না না হুদীপন,দুরু আহিন বললা এটাকে কী বলে যেনো?
” হৃদপিণ্ড!
“হ্যাঁ হ্যাঁ তোমাকে দেখে আমার হুদ, হুদপি, হৃদপিণ্ড হৃদপিণ্ড ধমকে গিয়েছে। দুরু এই ভাষা গুলো এত কঠিন কেনো? শান্তি মতো প্রেম করতে দেয় না।
কথাটা বলেই বড়ো একটা নিঃস্বাস ছাড়লো,
আলভীর কথায় আহিন বিরক্তি হয়ে বিরবির করে উঠলো,
” হৃদপিণ্ড ঠিক মতো উচ্চারণ করতে পারে না, সে নাকি করবে প্রেম, গাধা একটা।
আরাত আলভীর কথায় শাড়ির আঁচল মুখে গুঁজে বলল,
“আপনার বলতে না পাড়া ভাষাগুলো আমি খুব সহজে বুঝতে পারি জনাব!
আরাতের কথায় আলভী লজ্জামিশ্রত হাসি দিয়ে আহিনের বুকে মুখ গুজে এক হাত দিয়ে আহিনের বুকে এলোপাতাড়ি থাপ্পড়াতে লাগলো।
আলভীর কান্ড দেখে আরাত পেট ধরে খিলখিলিয়ে শব্দ করে হেসে ওঠলো, আহিন থাপ্পড় খেয়ে বুকে ব্যাথায় মুখচোখ কুঁচকে আরাতের দিকে তাকাতেই, বোনের মুখের হাসি দেখে নিজের বুকের ব্যাথা ভুলে গিয়ে নিজেও হেঁসে উঠলো। এতক্ষণ যাবত বেলকনিতে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে সবকিছু লক্ষ করে আরাতের খিলখিলিয়ে হাসির শব্দে তাকবীরের মুখে এক চিমটি হাসি ফুটে উঠলো যেন। সোফাতে বসে দূর থেকে তাকবীরের মুখের নিঃশব্দে হাসিটুকু অবাক হয়ে মুগ্ধ চোখে চেয়ে রইলো হানিয়া। হানিয়ার চিওনিতে একে একে সবাই সেদিকে তাকালো। তাকবীর কে নিঃশব্দে হাসতে দেখে সবাই একসঙ্গে বসা থেকে অবাক চোখে দাঁড়িয়ে গেলো । তাকবীর হাসতে’সে কথাটা ভেবেই সবার মনে তাকবীরের হাসির কারণ দেখার উৎপলতা ফুতে উঠলো। পাঁচজন পাচজনের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে, সেদিকে এগিয়ে গিয়ে বেলকনির ঠাঁই ঘেঁষে দাঁড়ালো। তাকবীরের চোখ অনুসরণ করে নিচে ফুল বাগানের দিকে তাকাতেই অবাক চোখ যেনো অবিশ্বাস্য চাইনিতে ফুতে উঠলো,
গম্ভীর তাকবীর হাসতাছে, তাও আবার একটা মেয়ের কারণে, আনাস তাকবীরের হাসির কারণ বুঝতে পেয়ে স্বাভাবিক ভাবেই পুনরায় সোফাতে গিয়ে বসলো। আদিল আগেও তার স্যার কে কিছুটা সন্দেহ করছিলো, আজকে ব্যাপারটাই সবকিছু স্পষ্ট হয়ে গেলো তার কাছে। এদিকে আশিক হাবিব একটার পর একটা অবাক হতে লাগলো।___প্রথমে যে গম্ভীর তাকবীর কারো সঙ্গে মন খুলে কথা পর্যন্ত বলে না, সেই তাকবীরের মুখে হাসি। তাও একটা মেয়ের কারণে। অন্যদিকে আনাস সের রিয়েকশন দেখে মনে হচ্ছে এটা স্বাভাবিক বিষয়,তার ব্যাপারটা পূর্ব থেকে সবকিছু জানা। তাকবীর নিজের পাশে আশিক হাবিব কে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে মুখে বিরক্তি ফুটে উঠলো,
তাকবীর বিরক্তি হয়ে গম্ভীর মুখে বলে,
“হোয়াট হ্যাপেন্ড?
আশিক : ইউ হ্যাব চেঞ্জ ব্রো?
” হোয়াট দা হ্যাল ইউ আর টকিং এবাউট?
আশিক : তোমার মুখে কিছুক্ষণ আগে হাসি ছিলো, এন্ড সেই হাসির কারণ একটা মেয়ে ছিলো। ইউ হ্যাব চেঞ্জ ব্রো!
“ননসেন্স।
তাকবীর কথাটা বলেই বেলকনি থেকে নিচে নেমে এসে নিজের গাড়িটা পার্কিং থেকে বের করে নিয়ে শো শো করে চলে গেলো গাড়িটা। তাকবীরের গাড়ি যাওয়াতে আরাতে ফটো তুলার কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলো আরাত গাড়ির যাওয়ার শব্দে সেদিকে তাকিয়ে পুনরায় নিজের মতো করে ফটো তুলার মগ্ন হয়ে ওঠলো। হানিয়া বেলকনি থেকে তাকবীরের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আরাতের দিকে তাকালো। আরাত কে আজ কেনো যেনো হানিয়া-র কাছে অসহ্য লাগছে। তাকবীর কেনো ওই মেয়েটাকে মুগ্ধ চোখে দেখবে আর কেনোইবা মেয়েটার হাসির শব্দের তাকবীরের ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে উঠবে। হানিয়া আরাতের দিকে তাকিয়ে আনমোড়া হয়ে ভাবনায় ডুবে ছিলো। হাবীব বোনের মনের অবস্থা বুঝতে পেয়ে বোনের ঘাড়ে হাত রাখতেই হানিয়া ভাইয়ের ছোঁয়া পেয়ে পিছনে তাকিয়ে মলিন হাসলো। হাবিব বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে স্থির করে তাকবীরের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
হানিয়া প্রায় তিন বছরের বেশি হবে তাকবীর কে পছন্দ করে, তাও তাকবীর যখন প্রথম প্রথম অফিসে জয়েন করে। একদিন হাবিব সবফ্রেন্ড দের নিজের বাসায় ইনভাইট করে। সেই সূত্র থেকে সবার মতো তাকবীর হাবিব দের বাসায় যাওয়া। ওইদিন প্রথম হানিয়া তাকবীর কে দেখে। হানিয়া প্রথম দেখায় তাকবীর কে ভালো লেগে যায়। হানিয়া তাকবীর কে পছন্দ করে সেই পছন্দ থেকে এখন ভালোবাসার রুপ নিয়েছে। হাবিব যখন বুঝতে পারলো তার বোন তাকবীর কে ভালোবাসে হাবিব ওর পরিবার কে বিষয়টা জানিয়েছে। হাবিবের পরিবার বলতে, হাবিব হানিয়া আর ওদের আব্বু আম্মু, চারজনকে নিয়েই তাদের সুন্দর একটা পরিবার। মেয়ের পছন্দ তাকেও উনারা মেনে নিয়েছে। হানিয়ার সঙ্গে তাকবীরের বিয়ের কথা নিয়ে তালুকদার বাড়ির সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলো শুধু হাবিব তার মা বাবাকে বুঝিয়ে রাখছে।
তাকবীরের কাছে সে নিজেই তার বোনের বিয়ের প্রস্তাব রাখবে, তাকে শুধু সময় দিতে হবে। হটাৎ এভাবে বোনের বিয়ের আর্জি জানানো তে যদি তাদের বন্ধুত্বর মধ্যে ফাটল ধরে যায়, এই কথাটা ভেবেই হাবিব নিজের পরিবার, বোনের কাছে সময় নিয়েছে। তাকবীরের কাছে চোখ বন্ধ করে বোনকে দিতে পারবে। হাবীবের জানা মতো তাকবীরের অন্য কোথাও পছন্দ নেই, ওর পরিবার যেখানে বিয়ে করাবে তাকবীর সেখানেই বিয়ে করবে এই বিশ্বাসে উপর হাবিব আগে তালুকদার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব রেখেছে। মূলত এই কারণে রাবেয়া তালুকদার আজকে হানিয়া কে ইনভাইট করেছে।
কেটে গেছে আরো দুটোদিন, আরিশা আমানের বিয়ের ডেট ফিক্স হয়ে গেলো। আর মাএ এক সপ্তাহ, বড়ো-রা সবাই মিলে ডিসিশন নিয়ে নিলো সামনে শুক্রবারে বিয়ে, শনিবারে বউভাত। বিয়ে নিয়ে ছোটদের মধ্যে উৎসহ থাকলেও মন খারাপের রেশ দেখা গেলো। আরাত তার বড়মা কে দিয়ে আদনান তালুকদারে কাছে কথাটা বলতে বলছিলো আদনান তালুকদারের গায়ে হলুদ মেহেদি এগুলো পছন্দ না বিধায় তিনি রাবেয়া তালুকদার কথাটা তুলতেই বারণ করে দিয়েছে।
এখন শুধু বিয়ে বৌভাত নিয়ে বড়দের কথা বলতে দেখে দরজার আড়াল থেকে আরাত আইরা আরিশা মন খারাপ করে রাবেয়া তালুকদারের দিকে তাকালো। রাবেয়া তালুকদার ড্রয়িং রুম থেকে আরাত দের দিকে তাকিয়ে মাথার ইশারায় না বুঝালো। অর্থাৎ আদনান তালুকদার রাজি হয়নাই,এবার আরাত আইরা দুজন বারবার আরিশা-কে বলতে লাগলো। সবার সামনে গিয়ে গায়ে হলুদের কথাটা বলতে। আরিশা নাকচ করছে বারংবার। নিজের বিয়ে বিষয়ে বড়দের কে কিভাবে বলবে, ব্যাপারটা খারাপ দেখায় বিধায় আরিশা আরাত কে বলতে লাগলো,
“তুই তাকবীর ভাইয়া কে ম্যানেজ কর, তাহলে সবকিছু হয়ে যাবে।
আরিশার কথায় আইরা সায় জানিয়ে বলে উঠলো,
” হ্যাঁ হ্যাঁ আরাত, তাকবীর ভাইয়া তোর কথা শুনবে, আমাদের সঙ্গে তো কথায় বলে না, তোর সঙ্গে টুকিটাকি কথা বলে।
আরিশা আইরা কথাটাতে আরাত নাকচ করে বলে উঠলো,
“আমার বীর ভাইয়ার সামনে যেতে কেমন যেনো ভয় করে! আমি পারবো না।
আরিশা আরাতের কথায় বিরক্তি মুখে বলল,
” তোর মুখে ভয় মানায় না, অন্তত আমি বিশ্বাস করি না তুই কাউকে ভয় পাস। হ্যাঁ মানছি তাকবীর ভাইয়া কথা কম বলে বিধায় আমাদের কাছে ভাইয়া কে রাগী রাগী লাগে, বাট ভাইয়া রাগী না। তুই পারবি ভাইয়া কে রাজি করাতে,যা বোন।
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১৬
আরিশা আরাত কে সিড়ির দিকে ঠেলে দিতে দিতে কথাগুলো বলল,আইরা আরিশার মতো একইভাবে আরাত কে ঠেলে বলে উঠলো,
“মনে কর এটাই তোর তরফ থেকে আরিশা আপুর বিয়ের গিফট, যা আপুর আবদার টা পূরণ কর।
