Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১০

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১০

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১০
জান্নাতি আক্তার জারা

আরাতের রুমে মেঝেতে বড়ো করে বিছানা বিছিয়ে দিয়ে গেলেন রাবেয়া তালুকদার। আলভী বাহানা ধরেছে আজকে রাতে রশ্মির সঙ্গে কাটাবে, রশ্মিও ছোট্ট ভাইয়ের সঙ্গে থাকার কথা ভেবে বলল। সবাই মিলে আজকে রাতে একসঙ্গে মেঝেতে বিছানা পেতে থাকবো। মেয়ের সঙ্গে শেষ রাত কাটাতে চেয়ে, বিচ্ছু বাহিনীর মধ্যে রাহিমা সুলতানা থাকতে চাইলেন। এত এত মানুষ বিছানায় জায়গা হবে না বিধায় মেঝেতে বিছানা বিছিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া ।
আরাত, আয়নার সামনে থেকে,চিরুনি নিয়ে মাথার হালকা কোকরানো লম্বা চুলগুলো বেনি করতে করতে পিছনে ঘুড়িয়ে তাকালো , বেনি করতে করতে এদিক ওদিক তাকিয়ে সবাইকে পর্যবেক্ষণ করলো।

মেঝের বিছানায় রাহিমা সুলতানা পা মিলিয়ে দিয়ে বসে রশ্মির মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন , রশ্মি রাহিমা সুলতানার কোলে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে, আহিন আলভী আরাতের ফোন নিয়ে বিছানায় বসে কাটুম দেখতাছে। আরাত চোখ ফিরিয়ে সোফার দিকে তাকালো আরিশা সোফায় বসে আমানের সঙ্গে মেসেজ করছে আর মুচকি মুচকি হাসছে। আরাত বেনি করতে করতে আরিশা দিকে তাকিয়ে মুখে দুষ্টু হাসি টেনে বলে উঠলো।
“হায় আজকে কেউ নেই বলে!
আরিশা ফোন থেকে চোখ উঠিয়ে আরাতের উদ্দেশ্য করে বলল,
“আহারে আফসোস, যা বড়ো বোন হিসাবে তোকে দোয়া করে দিলাম। কলেজে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তোর লাইফে কেউ যেন পা দিয়ে দেয়।
আরাত : “তওবা ‘তওবা ‘তওবা আস্তাগফিরুল্লাহ ‘আপুউ তোমার দোয়া উঠাইয়া নাও, উঠাইয়া নাও!
আরিশা : “কেনো?
আরাত : দোয়া উঠাইয়া নিয়ে, আবার নতুন করে দোয়া করো, শুনো এভাবে দোয়া করবা!
“শুরু হয়ে গেলো ভন্ডামি!

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

রশ্মি চোখ বন্ধ রাখা অবস্থাতেই বিরবির করে কথাটা বলল। রাহিমা সুলতানা আর আরিশা, আরাতের দিকে কৌতুহলি চোখে চেয়ে আছে, আরাত পুনরায় বলতে শুরু করলো,
“হে আল্লাহ তুমি আমার ছোট্ট বোনটার জীবনে, শুধু পা না পুড়ো সম্পূর্ণ সহশরীরলে মালিক টাকে পাঠিয়ে দিও! আমিনননন।
বুঝতে পারছো? এভাবে আমার জন্য দোয়া করবা,
কথাটা বলেই আরাত হাতের চিরনি দিয়ে হালকা করে আহিন আলভী কে মেরে পুনরায় বলল,
” এই তোরা আমিন বলছিস না কেনো, আমিন বল!
সঙ্গে সঙ্গে আহিন আলভী ফোন থেকে চোখ উঠিয়ে কিছু না বুঝে বলতে শুরু করলো,
“আমিন,আমিন!

বলেই আবার দুজন ফোনে কাটুন দেখায় মগ্ন হয়ে গেলো, এদিকে আরিশা হেসে, আরাত কে বিয়ে পাগল মেয়ে বলে আবার ফোনে আমানের সঙ্গে চ্যাটিং করতে ব্যস্ত হইলো।
রাহিমা সুলতানা, বাড়িতে একা থাকায় ফ্রি সময় পাইলে রশ্মিরাত দের সঙ্গে সময় কাঁটায়,বয়সটা ৪১ এর ঘরে। নিজের ছেলেমেয়ে সঙ্গে বন্ধুসুলফ আচরণ করেন সবসময়, সবার সঙ্গে একদম ফ্রি একজন মহিলা, ছেলেমেয়েদের দুষ্টুমি কথা গুলো উনিও এনজয় করেন।
আরাতের কথায়, রাহিমা সুলতানা আরাতের দিকে তাকিয়ে হাসি মুখে বলল — তাহলে ভাইজান কে বলে আরিশার আগে তোমার বিয়ে টা দিতে বলি, কী বলো আরাত? হুম?
রাহিমা সুলতানা কথায় আরাত চিরনি টা ড্রেসিন টেবিলে রাখতে রাখতে দাঁত বের করে হেঁসে বলল,
“উফফ আন্টি এই কথা জিজ্ঞাস করে আমাকে লজ্জা দিবে না, একদম পাএ সামনে নিয়ে এসে লজ্জায় ফেলাইবা ঠিক আছে।

আরাতের কথায় রাহিমা সুলতানা শব্দ করে হেঁসে উঠলেন, আরাত বিছানায় দিকে এগিয়ে গিয়ে আহিনের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিতে নিতে বলল,
সুযোগ পাইলেই শুধু ফোন ফোন, কানা হইবি’রে , কানা! এই আরিশা আপু আইরা আপু কই গো?দেখছি না যে?
এতক্ষণে আলভী বিছানায় থেকে নেমে মায়ের কাছে গিয়ে রশ্মির আরেক পাশে শুয়ে পড়লো।আহিন বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে দিকে গেলো । আরিশা আরাতের কথায় ফোনটা সাইটে রেখে দিয়ে আরাতের দিকে তাকিয়ে বলল,
“যেখানে গেলে তাকে পাওয়া যাবে, সেখানে!
ঠিক সেসময় আইরা আরাতের রুমে দরজায় এসে দাড়ালো, দরজা থেকে রুমের ভিতরে আসতে আসতে মুখ বেঁকে বলল,

“বেডা বদের হাড্ডি রুমে নেই!
কথাটা বলতে বলতে আইরা বিছানায় উপরে গিয়ে উল্টোহয়ে শুয়ে পড়লো, রাহিমা সুলতানা আইরার কথায় বলে উঠলেন,
“কাকে নিয়ে বলছো শুনি শুনি, কে নেই রুমে?
আরাত রাহিমা সুলতানা কাছে এগিয়ে এসে, বসে বলল,,,,,, আন্টি তুমিও না কাকে কী জিজ্ঞেস করছো। আইরা আপুর মাথায় শুধু আনাস ভাই ছাড়া আর কে ঘুরে শুনি , আনাস ভাইয়ে রুমে গিয়ে আনাস ভাইকে রুমে পাই নাই।এজন্য মুখ বাঁকা করে ফিরে এলো।
আরাতের কথায় রাহিমা সুলতানা হেঁসে বলে উঠলেন,
আরাত তুমি আইরা কে, তাড়াতাড়ি আপু থেকে ভাবি বানিয়ে ফেলাও, নাহয়তো দেখা যাবে, অন্য কেউ এসে সানাই বাজিয়ে ঘরে তুলে নিয়ে যাবে।

“এটাই তো আমার ভাইটা বুঝতে পারছে না আন্টি,
তারপর কিছু একটা ভেবে পুনরায় বলল,,,,, বুঝবে বুঝবে এই আইরা আপু তুমি কয়েকদিন ভাইয়াকে ইগনোর করতে পারো না! তুমি পাত্তা না দিলে দেখবে ভাইয়া তোমাকে ঠিক মিস করবে, তখন তোমার কদর’টা বুঝতে পারবে হুম।
কথাটা বলেই আরাত ,আইরা দিকে তাকালো, রশ্মি চোখ মেলে তাকালো আইরা উত্তর শুনার জন্য। রাহিমা সুলতানা চেয়ে আছেন। আইরা বিছানায় শুয়ে থাকা আবস্থা ওঠে চুপচাপ বসে পরলো। আইরা কে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে আরিশা ক্ষিপ্তচোখে তাকিয়ে সোফায় ভালো হয়ে বসে বলে উঠলো।

তারজন্য তো আগে, ওদের দুজনের কাছাকাছি আসতে হবে, আনাস ভাইয়ের মনে আইরার প্রতি অনুভূতি সৃষ্টি করতে হবে। তবেই না আনাস ভাই আইরার দূরত্বটাকে মিস করবে।
কিন্তু দেখ আমি, আইরা প্রতি আনাস ভাইয়ের কোনো অনুভূতি দেখতে পাইনা, অথচ দেখ আমার বোনটা, হুহ বোকার মতো আনাস ভাইয়ের পিছু পিছু ঘুরে।
কথাগুলো শেষ করে আরিশা আইরা দিকে তাকালো আইরা চোখে পানি টলমল করছে, আরিশার বিরক্তি লাগলো, তার বোনটা বড্ড অবুঝ কেউ কিছু বলার আগেই চোখের পানি গাল বেয়ে পড়বে, অল্পতেই কান্না করে দিবে অথচ জ্ঞানী ম্যাচিউরিটি, শুধু আনাস ভাইয়ের বেলায় কেমন বোকা মেয়েটা। আরিশা বোনের প্রতি ক্ষিপ্তমনে তাকিয়ে পুনরায় বলতে শুরু করলো।

“কী জানিস তো আইরা, রিভেন্স অফ নেচার’বলে একটা শব্দ আছে, জানিস তো, যে যাই করুক না কেনো সময় মত তার ফল পেয়ে যাবে ! কিন্তু দেখ আমি তো দেখছি তুই সঙ্গে সঙ্গে তোর ফল পেয়ে যাচ্ছিস!
আরাত চুপচাপ মনোযোগ দিয়ে, আরিশার কথা গুলো শুনছে,রশ্মি মেঝে থেকে ওঠে গিয়ে আইরা পাশে বসে এক হাত আইরা ঘাড়ে রাখলো। রাহিমা সুলতানা এবার আরিশা কে বলল,
” আশিরা অনেক হয়েছে, এবার চুপ করো, মেয়েটা কান্না করে দিবে, কী বলোতো আরিশা। ভালোবাসার মধ্যে কোনো ইগো আনতে নেই। আইরা আনাস সের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য। নিজের ইগো সাইটে রেখে আনাস সের সামনে পাগলামি গুলো করে। এতে আমি ভুল দেখি না তো,ভালোবাসার জন্য পাগলামি করবে তবেই না তোমার ভালোবাসাটা তার সামনে প্রকাশ পাবে।
আরিশা, রাহিমা সুলতানা কথায় একটু নরম হয়ে পুনরায় বলতে শুরু করলো,

” কী বলেন তো আন্টি ও যেমন ভালোবাসার জন্য পাগলামি করে, ওকেও পাওয়ার জন্য অন্য কেউ এমন ভাবেই পাগলামি করে,কিন্তু ওর ওটা চোখে পড়ে না। পড়ে না বলছি কেনো অবশ্যই পড়ে কিন্তু ওর মনে আনাস ভাই ছাড়া অন্য কাউকে রাখতে চায় না,এজন্য অন্য কারো ভালোবাসাটা দেখেও দেখা না।
আরাত এতক্ষণ চুপচাপ আরিশার কথাগুলো শুনার পর, নিজের ভাইয়ের উপর বিরক্তি নিয়ে মেঝে থেকে ওঠে আইরা সামনে এগিয়ে গিয়ে আইরা কে বলল।

“জানো আইরা আপু আমার কী মনে হয়! যে
তোমাকে বুঝতে চাই না তার জন্য পাগলামি বন্ধ করে
যে পাগলের মতো তোমাকে চায় তাকে আপন করে নেওয়া। এটাই তোমার লাইফে মূল্যায়ন হবে।
এত এত কথা আইরা শুধু চুপচাপ চোখ ভরা পানি নিয়ে শুনেই গেলো, কোনো উত্তর করতে পাড়লো না। আইরা এটা একধরনের বাজে অভ্যাস কান্না আসলে কথা বলতে পাড়ে না, আহিন ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে বিছানায় এসে এক কোনায় দাড়ালো, সবাইকে এতটা সিরিয়াস হয়ে থাকতে দেখে আহিন বলল।
“তোমরা এত সিরিয়াস হয়ে আছো কেনো? আরাত আপু তোমার ভন্ডামী গুলো শেষ হয়ে গেছে নাকী। আরে আগে বলবো না। আমার কাছে অনেক রয়েছে হাওলাত নিতা। আচ্ছা দাঁড়াও আমি দেতাছি।
কথাগুলো বলে আহিন আলভী কে ডাকতে যাবে,তখনই রশ্মি আহিন কে ধমক নিয়ে বলল,
” এই ওখানে দাঁড়া বলছি, চুপচাপ বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে যা। নয়তো রুম থেকে বের করে দিবো একদম।
“আরে রশ্মি আপু শুনে না, আমি কী বলছি!

“রুম থেকে বের হতে চাস হুম, আর একটা কথা বললে একদম রুম থেকে বের করো দিবো ।
আহিন বিছানায় শুয়ে গায়ে চাদর জড়িয়ে নিতে নিতে বলল।
“দূরু যাও শুয়ে পরলাম আর কিছু বলবো না!
তারপর শুয়ে থাকা আবস্থাতে মাথাটা একটু উপরে দিকে উঠিয়ে, রাহিমা সুলতানা উদ্দেশ্য করে বলল আহিন,
“আন্টি আপনি একদম, ঠিক করেছেন, আলভী কে নিজের পাশে রেখে ওকে একা একা আদর করছেন, এই রশ্মি আপু তো আপনার ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য রাখে না হুমহহহ।
কথাটা বলেই আহিন বালিশে মাথা রেখে রশ্মির দিকে তাকিয়ে মুখ বাঁকালো, রশ্মি আহিনের কথায় বলল,
“তোকে এটা নিয়ে টেনশন করতে হবে না। আম্মু আমাকেই বেশি ভালোবাসে ওই বিচ্ছু কে শুধু একটু খানি আদর করছে মাএ,এটা ব্যাপার না। তুই এখন ঘুমা যা।
আলভী রশ্মির কথায় মেঝে থেকে অবাক চোখে তাকিয়ে ওঠে বসলো, ব্যাপারটা আহিন লক্ষ করে আলভী কে বললো,

” দেখ দেখ আহিন, তোর বোনের কথা দেখ, তোকে নাকি আন্টি বেশি একটা ভালোবাসে না।
ওদের কথায় মধ্যেই আইরা স্বাভাবিক হয়ে গেছে , সবাই এখন এদের ঝগড়া গুলো ইনজয় করছে । আলভি, রাহিমা সুলতানার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,
“আম্মু তুমি কাকে বেশি ভালোবাসো,শাঁকচুন্নি কে নাকি আমাকে?
আমি জানি তুমি আমাকে বেশি ভালোবাসো শাঁকচুন্নি কে বলে দেও তো, তুমি শাঁকচুন্নির থেকে আমাকে বেশি ভালোবাসো।
রাহিমা সুলতানা সবাইকে একনজর দেখে নিয়ে আলভী দিকে তাকালেন। মুখে দুষ্টুমি হেসে আলভী আশায় এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে তিনি বললেন।
“তোর আব্বু’কে!
রাহিমা সুলতানা কথায় রশ্মি মুচকি হাসি দিলো। আর আরিশা আইরা আরাত আহিন চারজন একসঙ্গে চিল্লিয়ে উঠলো,

“ওওওওওওওও আন্টি একদম ফাটিয়ে দিলেন আপনি সেরা, সেরা।
কথাটা বলেই সবাই একসঙ্গে শব্দ করে হেসে উঠে আলভী দিকে তাকালো। আলভী অসহায় ফেস করে অবুঝের মতো বুঝার চেষ্টা করছে, রাহিমা সুলতানা কী বুঝালেন , আলভী যখন রাহিমা সুলতানা কথাটার মানে বুঝতে পাড়লো, সঙ্গে সঙ্গে আলভী মায়ের উপর অভিমানে মুখ ফুলিয়ে প্রতিবাদ করে উঠলো।
” আম্মু তুমি চিটিং করছো!

আলভী কথায় পুনরায় রুমে হাসির বন্যা বয়ে গেলো, রশ্মি হাসি মুখে আলভী কাছে এগিয়ে এসে হাঁটু গেড়ে বসে পরলো আলভী সামনে,তারপর রশ্মির দুহাত দিয়ে আলভী গাল স্পর্শ করে বলে উঠলো,
“ইস আমার ভাইটা কত হিংসুটে, যা মেনে নিলাম আম্মু তোকে’ই বেশি ভালোবাসে। এজন্য আমি রাগ করে আব্বুর কাছে যাইতেছি বুঝছোস। এখন তুই একা একা আমার আদর গুলো নিজে পুষিয়ে নিবি যা।
রশ্মির কথায় সবার মন খারাপ হয়ে গেলো, রশ্মির যাওয়ার কথা পুনরায় সবার মনে পড়ে গেলো আলভী বোনের দিকে মলিন মুখে চেয়ে আছে রশ্মি মন খারাপ নিয়ে, আলভী কে পুনরায় বলল।

“আমাকে মিস করবি? ভাই!
হটাৎ আলভী কান্না করে দিলো, কান্না করতে করতে রশ্মি কে জরিয়ে ধরে বলল,
” তুই যাস না শাঁকচুন্নি, তুই চলে গেলে আমি কাকে জ্বালাবো, কাকে শাঁকচুন্নি বলে ডাকবো, তুই চলে গেলে দুই বাড়ি আড্ডা জায়গায় গুলো তোকে ছাড়া ফাঁকা ফাঁকা লাগবে, আম্মু আমার চেয়ে তোকেই বেশি ভালোবাসবে,তাও যাস না আপু।
সবার চোখে পানি, মানুষ কে মিস করতে পৃথিবীর থেকে বিদায় নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না,কিছুটা দূরত্ব তৈরি করলেই তার কদর বুঝা যায়। রশ্মি তো একিবারে হাড়িয়ে যাচ্ছে না, তারপর সবার চোখে পানি। অতি আপন মানুষ গুলোর সঙ্গে এতএত সময় কাটানো দিন গুলো খুব করে মনে পড়বে যে। এক আকাশের নিচে থাকবে তবুও এতটা দূরত্ব থাকবে।

সকাল সাড়ে আটটা, প্রতিটা সেকেন্ড প্রতিটা মিনিট রশ্মির কাছে মনে হচ্ছে। একেকটা মিনিট কে সময়কে যদি দেখা যেত,তাহলে জাপটে জরিয়ে রেখে দিতো। আজকে যেন সময়ের অনেক তাড়া, তাইতো রশ্মির বিদায়ের বেলা এত জলদি চোখের পলকে সময়গুলো কেটে যাচ্ছে। একেকটা ঘড়ির কাঁটা টিকটিক শব্দ হচ্ছে তো , রশ্মির মনে হচ্ছে জীবন থেকে একেকটা আপন মানুষদের থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে যেন রশ্মির জীবনটাও বদলে যাচ্ছে।

সবার থেকে বিদায় নিয়ে রশ্মি চললো নিজ গন্তব্য,রশ্মিকে এগিয়ে দিতে বাড়ির গাড়ি নিয়ে বের হয়েছে,আনাস, আরাত, রাহিমা সুলতানা, আনাস কার ড্রাইভ করছে, পিছনে সিটে রশ্মি আরাত রাহিমা সুলতানা তিনজন চুপচাপ বসে গাড়ি জানালা দিয়ে বাহিরে যানবাহন দেখছে।
গাড়িটা এসে দাড়ালো এয়ারপোর্টে সামনে,প্রথমে রাহিমা সুলতানা গাড়ি থেকে নামলেন, রশ্মি গাড়ি মধ্যে থেকে বাহিরে দিকে একবার চোখ তুলে তাকালো, এই-তো এসে পড়েছে এক নতুন জীবনের যান্ত্রিক।
রশ্মি কে গাড়ি থেকে নামতে না দেখে রাহিমা সুলতানা বাহিরে থেকে গাড়ির দিকে একটু ঝুঁকে বললেন,
“কী হইলো রশ্মি গাড়ি থেকে নাম’ছো না কেনো?
আরাত রশ্মির পিছনে থেকে, রশ্মি কে একটু ধাক্কা দিয়ে ইশারা করে বললো,
“কী হইলো নেমে পর!

রশ্মি হুম বলে, গাড়ি থেকে নেমে পড়লো, রশ্মির পিছনে আরাত নামলো, রশ্মি এদিক ওদিক তাকিয়ে এয়ারপোর্ট দেখছে, আরাত রশ্মি কাছে এগিয়ে গিয়ে রশ্মির হাতের মুঠোয় নিজের হাত রাখলো, রশ্মি নিজের হাতে আরাতের ছোঁয়া পেয়ে মলিন মুখে আরাতের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলো।
আনাস গাড়ির ডিক্কি থেকে লাগেজটা বের করে, রাহিমা সুলতানা কে, রশ্মিরাত কে নিয়ে একটু সাইটে দাঁড়াতে বলে, গাড়ি পার্কিং করতে গেলো, রাহিমা সুলতানা মেয়ের কাছে এগিয়ে এসে দুইগালে হাত রাখলেন,
সাবধানে থাকবি, আর হ্যাঁ সময়কার খাবার সময় মতো খাবি , পড়াশোনা দিকে মনোযোগী থাকবি, মনে রাখবি তোকে নিয়ে কিন্তু তোর আব্বুর অনেক স্বপ্ন, কথাটা মনে রাখিস মা।
রশ্মি মায়ের হাতে একহাত রেখে, মুচকি হাসি দিয়ে বলল, ইনশাল্লাহ আম্মু আমার জন্য দোয়া করবা,

“আর আম্মু শুনো! এই পাগলের খেয়াল রাখবা!
কথাটা বলেই রশ্মি আরাতের দিকে তাকিয়ে পুনরায় বলতে শুরু করলো,
“তোকেও আমার পরিবারের দায়িত্ব দিয়ে গেলাম , আমার আম্মু আর তোর ক্রাশ কে দেখে রাখবি কেমন।
আরাত রশ্মির হাত আরেকটু গাড়োভাবে নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে নিলো —- ইনশাল্লাহ! তুইও সবসময় নিজের খেয়াল রাখবি কেমন, মনে রাখবি তোর কিছু হইলে তোর আরাত ভালো থাকবে না।
আনাস এসে তিনজন কে তাড়া দিতে লাগলো, আর মাএ ১৩ মিনিট তাহলে সাড়ে দশটায় বেজে যাবে, চারজন মিলে সামনে দিকে এগিয়ে গেলো, হটাৎ রশ্মি আরাত কে জরিয়ে ধরে কান্নাভেজা কন্ঠে বলে উঠলো ,

“অনেক অনেক আনেকক মিস করবো রে তোকে!
আরাত দুহাত দিয়ে জাপতে জড়িয়ে ধরে শব্দ করে কান্না শুরু করলো,
“আমি বুঝি তোকে মিস করবো না!
রশ্মি মাথা নাড়িয়ে : হুমম করবি তো।
আনাস বিরক্তি হয়ে দুজন কে ধমক দিলো, কী হচ্ছে কী রশ্মিরাত, মানুষজন দেখছে, রশ্মি তোর লেট হচ্ছে, সামনে এগো।

দুজন দু’জনকে ছেড়ে দিলো, রশ্মি আরাত কে ছেড়ে দিয়ে মায়ের মুখের দিকে একবার তাকালো, সবাইকে দেখে নিয়ে রশ্মি মুচকি হাসি দিয়ে সামনে দিকে পা বাড়ালো, আনাস আর রাহিমা সুলতানা রশ্মির যাওয়ার দিকে চেয়ে রইলো, আরাত রশ্মির চলে যাওয়া দিকে তাকিয়ে কিছুটা পিছিয়ে এসে অশ্রুভেজা চোখে অন্যদিকে তাকালো।
রশ্মি এক হাতে লাগেজ ,অন্যহাতে পাসপোর্ট ভিসা নিয়ে একবার পিছনে তাকালো আপন মানুষগুলোকে একনজর দেখতে, পিছনে ঘুড়িয়ে আরাত কে অন্যদিকে তাকিয়ে কান্না করতে দেখে রশ্মির চোখ পানিতে ভরে উঠলো,রশ্মি কে পিছনে তাকাতে দেখে রাহিমা সুলতানা হাতের ইশারায় বিদায় জানালেন,আনাস মুচকি হাসি দিলো হাত দিয়ে বিদায় জানালো। রশ্মি চোখে পানি নিয়ে মুখে মুচকি হাসি টেনে পিছন থেকে সামনে তাকিয়ে হাঁটা ধরতেই হটাৎ কারো সঙ্গে ধাক্কা লাগলো।

“আই এম সরি,আই এম সো সরি মি….
আগন্তুক সরি বলতে বলতে চোখ তুলে সামনে তাকাতেই একজোড়া কাজল কালো অশ্রুভেজা চোখে চোখ আটকে গেলো।
রশ্মি আগন্তুকে একবার দেখে নিয়ে সামনে দিকে এগোতে এগোতে বলল : “ইস ওকে!
আগন্তুক তখনও থমকে যাওয়া চোখে চেয়ে রইলো রশ্মির যাওয়ার পথে, আগন্তুকের কাছে মনে হচ্ছে নিজের সামনে আস্ত একটা মেঘবতীকে চলে যেতে দেখছে।
সাদা গাউনের সঙ্গে সাদা পাতলা ওড়না গলায় দুপাশে ঝুলানো,দু-হাতে কয়েকটা গোন্ডেন চিকন চুড়ি, কানে সাদা বড়ো ঝুমকা,কোমর অব্দি লম্বা কালো সিলকে চুলগুলো ছেড়ে দেওয়ার কারণে দুধে আলতা বদনে একদম মেঘের রাজ্যের মেঘবতী মনে হইলো আগন্তুকের কাছে ।
আগন্তুকে এয়ারপোর্টের ভিতরে দিকে চেয়ে থাকতে দেখে , আগন্তুকের বন্ধু ডেকে উঠলো,

“এই মাহির! কী দেখছিস ওদিকে?
“হুমহহহ!
“বলছি কী দেখছিস এভাবে, তোর চাওনি দেখে মনে হচ্ছে তুই অন্য দুনিয়াতে ছিলিস এতক্ষণ ?
মাহির স্বাভাবিক হইলো ,,,,,,কিছু না চল।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৯

কথাটা বলেই দুইবন্ধু একসঙ্গে এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে আসতেছে , কয়েক পা হেঁটে এসে কারো কান্নার শব্দে আবার পা দুটো থমকে গেলো, অবাক চোখে সেদিকে তাকাতেই দেখতো পেলো, একটা মেয়েকে কান্না করতে, মেয়েটার পাশে একজন ভদ্রমহিলা বসে মাথায় হাত বুলে দিচ্ছেন,দু সেকেন্ডের মাথায় একটা ছেলেকে পানির বোতল নিয়ে আসতে দেখলো, ছেলেটা পানি নিয়ে এসে মেয়েটাকে পানি খাওয়াচ্ছে, আর কী যেন বলছে, দূর থেকে মাহির বুঝতে পারলো না ছেলেটা মেয়েটাকে কী বোঝাচ্ছে। মাহির সেদিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে নিজ গন্তব্য দিকে এগুতে এগুতে বিরবির করল।
“এত বড়ো মেয়ে, তাও এভাবে বাচ্চাদের মতো কান্না করছে, কী অদ্ভুত মেয়ে!

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ১১