Home তুই শুধু আমার উন্মাদনা তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৩

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৩

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৩
তাবাস্সুম খাতুন

শার্লিন বলে উঠলো,
“সেলিনা তোর ছেলে এইটা কি বললো? আমার মিষ্টি মারা গেছে মানে? এইসব কি? তুই তো আমাকে সবসময় বলতিস যে মিষ্টি খুব ভালো আছে সবার সাথে মিশে গেছে।নিশান কেউ আস্তে আস্তে ভুলে যাচ্ছে। আমি যখন বলতাম আমার মিষ্টি কে ফোন দে আমি কথা বলবো। তুই বলতিস ও কথা বলতে চাই না ভালো আছে থাক। আর এখন এইটা কি শুনছি আমি!সেলিনা কি শুনলাম আমি?”

সেলিনার চোখ ঝাঁপসা হয়ে আসছে। এখনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে মিষ্টিকে যেইভাবে ফিজিক্যাল সংস্পর্শ করে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছিল। শার্লিন যেই কয়বার তাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করছে সেলিনা সবসময় সত্যিটা চেপে গিয়েছে। কিন্তু এখন তো সে সত্যির মুখে দাঁড়িয়ে আছে কিভাবে মোকাবিলা করবে এই সত্যির সে?সেলিনা কে চুপ থাকতে দেখে শার্লিন সেলিনার বাহু ঝাঁকিয়ে বললো,
“কথা বলছিস না কেন? আমার মেয়ে কিভাবে মরলো? আমার মিষ্টি আমার মিষ্টি কোথায়? সে মরে গেছে? কবে হলো এইসব।আমি কিছু জিজ্ঞাসা করছি সেলিনা উত্তর দে।”
বলে শার্লিন ফুঁপিয়ে উঠলো। তার মিজান তাকে শান্তনার বাণী দিলো। নিজেরও কষ্ট হচ্ছে এইখানে এসে মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনবে? এইটা তারা কখনো কল্পনা করি নি!সেলিনার চোখ থেকেও পানি টুপটাপ করে পড়ছে দীর্ঘ নিরাবতা পরে সেলিনা মুখ খুললো,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“শার্লিন একটা প্রবাদ বাক্য শুনেছিস? এক পৌষে কখনো শীত যাই না!ঘুরে ফিরে আবারো সেই পৌষ মাস আসে।”
সেলিনার এই প্রবাদ শুনে শার্লিন ভ্রু কুঁচকে বললো,
“তুই কি বলতে চাচ্ছিস এখন?”
সেলিনা চোখে পানি নিয়েই মলিন হাসলো বলে উঠলো,
“তোরা চলে যা, সঠিক সময়ে সঠিক খবর পেয়ে যাবি। আমি ফোনে কন্টাক্ট করবো। হয়তো অসম্ভব কিছু করার পরে আমার বুকে ছুড়ির আঘাত পড়তে পারে। তবে মূল্য দিয়েই আঘাত আনবো তোরা চলে যা।”
সেলিনার কথার মানে তারা দুইজনের মধ্যে কেউ বুঝলো না। শার্লিন বলে উঠলো,

“তুই কি বলতে চাচ্ছিস? একটু খুলে বলবি?”
“সবকিছু খুলে বলতে নেই, কিছু কথা মনের গোপনে রাখতে হয়। তোরা বাড়ি ফিরে যা আমি আছি নিজের জীবনের বিনিয়ে যোগ্য মূল্য হাতে নেবো! এখন যা।”
সেলিনার কথা শুনে তারা দুইজন চলে গেলো। সেলিনা চৌধুরী ম্যানশনের দিকে তাকালো তার দৃষ্টি যেন কত কথা বলে দিচ্ছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো অরতঃপর বলে উঠলো,
“সময়ের অপেক্ষাতে দিন গুনছি আমি।হাতে এখনো দুইটা মাস আছে। তোর জন্য আমি নিজের জীবন কুরবান করে দেবো।”
বলে আর দাঁড়ালো না বাড়ির ভিতরে ঢুকলো। আপাতত কেউ জানেনা বিষয়টা সেলিনাও চেপে গেলো কাউকে বুঝতে না দিয়ে কাজে মনোযোগী হলো।

নিশান সিমিকে টানতে টানতে রুমে নিয়ে আসলো। দরজা লক করে সিমিকে বেডে বসালো হাঁটু মুড়ে বসলো ফ্লোরে সিমির গাল ভালো ভাবে দেখতে লাগলো। নিশান বাড়ির প্রতিটা কোনায় হিডেন ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছে সিমির প্রতি নজর রাখার জন্য। সে অফিসে ছিলো ল্যাপটপ এ ড্রইং রুমের সিন চলছিল যখন দেখে শার্লিন সিমিকে থাপ্পড় মারছে তখনি নিশানের মাথা একদম আগুন হয়ে যাই। রাগে দাঁত কিড়মিড় করতে থাকে যত দ্রুত সম্ভব বাইক চালিয়ে সিমির কাছে চলে এসেছে সিমি ঠিক আছে কিনা সেইটা দেখতে? সিমি নিশানের এমন কাজ দেখে মিনমিনে সুরে বললো,

“আমি ঠিক আছি। আমার কিছু হয় নি।”
নিশান কিছু না বলেই উঠে দাঁড়ায়। আলমারি থেকে সিমির জন্য একটা ঢিলা গ্রাউন বাহির করে দেই সেইটা সিমির হাতে দিয়ে বললো,
“ওয়াশরুম থেকে একেবারে ফ্রেশ হয়ে আয়।”
সিমি কিছু বললোনা গ্রাউন টা হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। সময় নিয়ে সাওয়ার শেষ করে জামা পরে পনেরো মিনিট পরে বেড়িয়ে আসলো। সিমি বেড়িয়ে আসতেই নিশান ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। সিমি ধীরে ধীরে ডেসিং টেবিলের সামনে বসলো হেয়ার ডেয়ার দিয়ে চুলগুলো শুকিয়ে নিলো। পাঞ্চ কিলিপ দিয়ে চুলগুলো আটকিয়ে, হাতে পায়ে লোশন দিলো আর ঠোঁটে লিপবাম। আলমারি থেকে উড়না বাহির করে চুল সহ বুক ঢেকে নিলো। এর মধ্যে নিশান বেড়িয়ে আসলো শুধু কোমরে এক খানা টাওয়াল জড়িয়ে। সিমি আড়চোখে নিশানের দিকে তাকালো দ্রুত নিজের দৃষ্টি নত করলো। নিশান আলমারি থেকে একটা কালো প্যান্ট আর সাদা শার্ট বাহির করে পরিধান করলো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলগুলো সেট আপ করলো। সবকিছু শেষে নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে সিমির হাত চেপে ধরে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো। সিমি প্রশ্ন করলো,

“আমরা কোথায় যাচ্ছি?”
নিশান গম্ভীর কন্ঠে সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে বললো,
“তোকে প্রশ্ন করার রাইট আমি দিই নি।”
সিমি মুখটা অন্ধকার করে রাখলো। মাঝে মাঝে এই বিদেশি কুত্তা যে কিভাবে রং পাল্টাই আল্লাহই জানে? গিরগিটিরাও এই বিদেশি কুত্তা কে দেখলে লজ্জা পাবে ছিঃ। নিশান সিমিকে নিয়ে বাড়ির বাইরে বেরোতেই তাজউদ্দিন ভ্রু কুঁচকে বললো,
“ওকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছ? একটু পরেই এঞ্জেজমেন্ট। তুমি কি থাকবে না নাকি?”
নিশানের নির্লিপ্ত জবাব,
“আমরা না থাকলে আর এঞ্জেজমেন্ট থেমে থাকবে না। এইসব প্যারা নেওয়ার সময় আমার নেই। বউকে নিয়ে প্রাইভেসি চাই তাই চলে যাচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ।”

তাজউদ্দিন মনে মনে রাগানিত্ব হলো। ঠোঁটকাঁটা ছেলে জন্ম দিয়েছে সে ছিঃ কি ভাষা। সিমি নিজেও লজ্জায় মাথা নিচু করে নিলো। নিশান সিমির হাত টেনে নিজের গাড়িতে বসালো। নিজেও উঠে বসলো। স্টেয়ারিং ঘুরিয়ে গাড়ি চালাতে লাগলো। সিমি আপাতত চুপ আছে। নিশানের গম্ভীর্য মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে না আসলে হয়েছে টা কি? নীরবতার মধ্যেই নিশান গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো,
“খেয়েছিস তুই?”
সিমি মাথা নিচু রেখেই জবাব দিলো,
“এখনো সময় হয় নি।”
নিশান আর কিছু বললোনা। তবে সিমির মাথায় হুট করে এক প্রশ্ন ঘুরতে লাগলো।এই বিদেশি কুত্তা তাকে কবে থেকে চাই? এই প্রশ্নটা প্রায় তার মাথায় ঘোরে। কিন্তু জিজ্ঞাসা করি নি। আজ কেন জানি জানতে ইচ্ছা করছে তার। তাই জিভ দিয়ে শুষ্ক ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বললো,

“একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো আপনাকে?”
নিশান গাড়ির স্টেয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে জবাব দিলো,
“বল..
সিমি একটা ঢোক গিলে বললো,
“আমাকে কবে থেকে চান আপনি?”
নিশান হুট করে গাড়ি ব্রেক করলো। সিমি ভয় পেলো কোন খারাপ কিছু বলে ফেললো নাকি সে? ভয়ে ভয়ে নিশানের দিকে তাকালো। নিশান চুপ করে মাথা নিচু করে আছে, আচমকা সিমির কোমরের খাঁজে হাত দিয়ে নিজের কোলে বসালো। সিমি কেঁপে উঠলো নিশান সিমির কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠলো,
“তোকে আপন করে পাওয়ার তীব্রতা আমাকে গ্রাস করেছে অনেক বছর আগেই। তীব্র নেশাক্তময় ভালোবাসার দহনে না পুড়ে তোকে নিজের আসক্তি তৈরি করছি, শুধু নিজের মালিকানায় আটকে রাখবো বলে।”
নিশানের গরম নিশ্বাসে সিমির সর্বাঙ্গ কেঁপে কেঁপে উঠছে তবুও বললো,

“অনেক বছর আগে বলতে কত বছর?”
নিশান সিমির ঘাড়ে জোরে একটা কামড় দিলো সিমি নিশানের জামা খামচে ধরলো দাঁতে দাঁত চেপে সয্য করলো। নিশান সেই কামড়ানো জায়গাতে গভীর চুমু এঁকে দিলো এরপর সিমির মাথাটা সুন্দর করে নিজের বুকের উপর চেপে ধরে গাড়ি চালাতে চালাতে বললো,
“কিছু কথা তোর না জানা উচিত।”

সিমি কিছু বললোনা চুপ রইলো। সে অনুভব করছে নিশানের হার্টবিট অতি দ্রুত বিট করছে। কেন এমন হচ্ছে? তার কি কোন কিছুতে ভয় কাজ করছে? কিন্তু কিসের ভয়?সিমি আর ভাবতে পারছেনা ঐভাবেই পরে রইলো নিশানের বুকে।দীর্ঘ তিন ঘন্টা ড্রাইভ পরে নিশানের গাড়ি থামলো শহর থেকে কিছুটা দূরে একটা নিরিবিলি রিসোর্ট এর সামনে।সিমি নিশানের বুকেই ঘুমিয়ে আছে। নিশান গাড়ি পার্ক করলো সিমির মুখটা নিজের মুখের সামনে আনলো। মুখে আসা ছোট ছোট চুলগুলো আলগোছে সরিয়ে দিলো। কপালে গভীর চুম্বন দিলো, আবারো বুকে সিমির মাথাটা শক্ত করে চেপে ধরে বললো,

“আমি তোর প্রতি অনেক দুর্বল জানবাচ্চা। আজ তোকে যখন চড় মারছিলো তখন মনে হচ্ছিলো চড় টা যেন আমাকে মারা হয়েছে। আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছিলো।তোকে আমি কখনো হারাতে চাই না নিজের জীবন থেকে। আর না হারাতে চাই আমার প্রিন্সেস কে। তোরা দুইজন আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।”

বলে নিশান গাড়ি থেকে নামলো। সিমিকে পাঁজা কোলে তুলে রিসোর্ট এর ভিতরে ঢুকলো। লিপ্ট এ ঢুকে বাটন চাপলো পাঁচ তলায়। সেখানে রুম নেওয়া আছে নিশানের। লিফ্ট পাঁচ তলায় আসতেই নিশান বেড়িয়ে আসলো। একটা হেল্পার কে দিয়ে রুমের দরজা খুলে নিলো। নিশান সিমিকে কোলে নিয়েই ভিতরে ঢুকলো দরজা লাগিয়ে দিলো। সোজা বেডরুমে চলে গেলো। সিমিকে বেডে শুয়ে দিয়ে খাবারের জন্য কল করে দিলো। নিশান দরজা লক করলো লাইট অফ করে সিমির কাছে গেলো। গায়ে থাকা শার্ট খুলে ফেলে দিলো। সিমির পাশে শুয়ে সিমিকে নিজের বুকের মাঝে টেনে নিলো। সিমি বিড়াল ছানার মতো গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছে। নিশান ধীরে ধীরে সিমির গলার কাছে মুখ আনলো সেখানে কামড় দিলো। ঘাড়ে কামড় দিলো। সিমি ঘুমের ঘরেই “উফ” শব্দ উচ্চারণ করলো। নিশান এক পর্যায়ে সিমির কোমল ঠোঁট জোড়া নিজের দখলে করে নিলো। গভীর চুম্বনে লিপ্ত হলো। সিমির ঘুমের ঘরেই যেন মনে হচ্ছে তার দম আটকে আসছে। শ্বাস নিতে পারছেনা খুব কষ্ট হচ্ছে। গা ঘেমে যাচ্ছে দম একদম বন্ধ হয়ে আসছে। হুট করেই চোখ জোড়া খুলে গেলো নিশানকে দেখে তাকে ঠেলে দূরে দিয়ে উঠে বসলো জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে লাগলো। নিশান উঠে বসলো গম্ভীর কন্ঠে বললো,

“খাবার আসছে খাবি চল।”
সিমি বাঁকা চোখে নিশানের দিকে তাকালো। খাবারের কথা বলছে? এতক্ষন কি করছিলো? ডাকছিলো তাকে? এইটা কেমন ডাকার নিয়ম? ভালো ভাবে ডাকলে কি সে উঠতো না? আরেকটু হলে তো মরেই যেত। তখন কি হতো? সিমির ভাবনার মধ্যেই নিশান আবারো বলে উঠলো,
“কানে কথা যাচ্ছে না? তোকে উঠে আসতে বলেছি।”
সিমি আর কিছু না ভেবে উঠে পড়লো, ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেশ হতে গেলো। নিশান নিজের শার্ট পরিধান করে রুমের লাইট অন করে,দরজা খুলে খাবার রিসিভ করলো।টি টেবিলে খাবার গুলো রাখলো। সিমি ফ্রেশ হয়ে সোফায় বসলো। নিশান ও ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে খেতে বসলো। নিজ হাতে সিমিকে খাইয়ে দিলো। নিজেও খেলো। খাওয়া শেষ হতে সিমি রুমের বেলকুনিতে গেলো। সেখানে যেতেই সিমির চোখ আটকে গেলো প্রকৃতির অপুরূপ সৌন্দর্য দেখে। নিশান ও আসলো পেছন থেকে সিমিকে জড়িয়ে ধরলো সিমি প্রশ্ন করলো,

“আমরা কোথায় আছি এইটা? ইস কত সুন্দর জায়গা?”
নিশান স্লো ভয়েসে বললো,
“আপাতত তোকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছি।”
সিমি নিশানের কথার অর্থ বুঝলো না। আর প্রশ্ন ও করলো না প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে লাগলো। বড়ো বড়ো নিশ্বাস নিতে লাগলো। কি সুন্দর স্নিগ্ধ বাতাস। সময়টা মাগরিবের আজান দেবো দেবো। পাখিরা উড়ে যাচ্ছে দূরের মাঠ সেখানে ফুল গাছের বাগান। বড়ো বড়ো গাছ সাথে ছোট খাল। ইস কি অপুরূপা দৃশ্য!সিমি আচমকা বায়না ধরলো নিশানের কাছে,

“একটা গান গায়বেন?”
নিশান সোজাসুজি জবাব দিলো,
“আমি গান পারিনা।”
সিমি একই ভঙ্গিতে বললো,
“প্লিজ একটা গান না বেবি শুনতে চাই গান।”
নিশান ভ্রু কুঁচকে বললো,
“দিনদিন তোর ডিমান্ড বেড়ে যাচ্ছে ইশু!”
সিমি মুচকি হেসে বললো,
“বেবি আমাকে বলে দিচ্ছে তাই আমি বাড়িয়ে দিচ্ছি। প্লিজ একটা গান না।”
সিমির এত জোড়াজুড়িতে নিশান গানের দুই তিন লাইন গেয়ে উঠলো,

“Talab hain tu tu hai nesha..
Gulam hain dil ai tera..
Khulke jara ji lu tuje..
Aja meri saso main ah..
Marij a ishq hu main..
Kar de dawa hat rakhde..
Tu dilpe jara..”

নিশান থামতেই সিমি চোখ খুললো। নিশানের গভীর কণ্ঠের গান শুনতে ভালো লাগছিলো। বলে উঠলো,
“খুব সুন্দর হয়েছে। প্রতিদিন একটা করে শোনাতে পারেন। আমাকে আর বেবি কে।”
নিশান সিমিকে ছেড়ে দিলো আবারো গম্ভীর্যতা বজিয়ে রেখে বললো,
“ফাজলামো বাদ দিয়ে রুমে আয়। ঠান্ডা পড়ছে বাহিরে ঠান্ডা লাগবে তোর।”
সিমি কিছু না বলে রুমে প্রবেশ করলো। নিশান বেলকুনির দরজা লাগিয়ে দিলো। সিমিকে বেডে বসতে বললো সিমি বেডে বসলো। সিমির হাতে নিজের ফোন তুলে দিয়ে সিমির কোলে মাথা রেখে কোমর জড়িয়ে ধরে বললো,
“আমি টায়ার্ড প্রচুর। তাই ঘুমাবো ডিসটার্ব করবি না। বোর হলে আমার ফোন দেখ। তবুও নড়বি না।”
বলে নিশান চোখ বন্ধ করে ঘুমের দেশে পারি জমাতে লাগলো। নিশান কথা বলাই তার গরম নিশ্বাস সিমির জামা ভেদ করে উদরে উপচে পড়ছে যার দরুন সে কেঁপে উঠলো। তাতে নিশান আবারো মুখ খুললো,

“আমি একবার বলেছি ইশু don’t distrub to me..
সিমি স্থির হয়ে গেলো। পুরো পাঁচ মিনিট তব্দ খেয়ে বসে রইলো। শুনতে পেলো নিশানের ভারী নিশ্বাসের শব্দ। হয়তো ঘুমিয়ে পরেছে। সিমি নিজেকে রিলাক্স করলো ফোনটা পাশে রেখে নিশানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো নিশানের মুখের এক পাশের দিকে তাকিয়ে থেকে বললো,
“ঘুমিয়ে আছে একদম শান্ত বিড়ালের মতো। আর ঘুম থেকে উঠলেই হিংস্র চিতা বাঘের মতো।”
বলে নিজেই হাসলো। সিমি বেডে হেলাম দিলো ফোনটা তুলে সোজা ইউটুব এ ঢুকলো।অনেকদিন সে কোরিয়ান ড্রামা দেখি নি। এখন এই সুযোগে দেখতে হবে।বলে সাউন্ড একদম আস্তে দিলো যেন নিশানের কানে না পৌঁছায়। দেখা হয়ে গেলে ডিলেট করে দেবে যাতে নিশান বুঝতে না পারে।

রাত্রি আর অভির এঞ্জেজমেন্ট শেষ হতেই সবাই খাওয়া দাওয়া করে চলে গেছে। শুধু দূরের দুই এক আত্মীয় রয়ে গেছে। সিমরান কে আলাদা একটা রুমে থাকতে দেওয়া হয়েছে। রাতের খাবার খেয়ে যে যার রুমে অবস্থান করছে। সময়টা এখন রাত দশটা বেজে দুই মিনিট। জিহান বেডে বসে ফোন স্ক্রল করছিলো। সামিয়া রুমে ঢুকে সোজা ওয়াশরুমে গেলো। ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে আয়ানার সামনে দাঁড়িয়ে চুলগুলো আছড়িয়ে নিলো। তার লজ্জা লাগছে জিহানের মুখোমুখি হতে তাই এত বাহানা। সামিয়া চুল ঠিক করে আলমারি খুলে ভাজ করা কাপড় আবার ভাজ করে রাখলো। জিহান ভ্রু কুঁচকে দেখছে সামিয়া কি কি করছে? সামিয়া এইবার সোফার বালিশ ঠিক করলো সেখানে পরিষ্কার করলো। টি টেবিল মুছলো। এরপর বেডের কাছে এসে বালিশে হাত দিতে গেলেই জিহান বলে উঠলো,

“এখন কি বেড পরিষ্কার করবেন ম্যাডাম?”
সামিয়া থতমত খেয়ে বললো,
“না তা করবো কেন?”
“না মানে সেই থেকে দেখছি। আপনি ভাজ করা কাপড় আবার ভাজ করছেন।”
সামিয়া চোখ খিচে বন্ধ করলো। জিহান ভ্রু কুঁচকে বললো,
“বাই এনি চান্স তুমি কি লজ্জা পাচ্ছ?”
সামিয়া জিহানের দিকে তাকিয়ে মাথা এইপাশে ঐপাশে নাড়াতে নাড়াতে বললো,
“না না আমি কেন লজ্জা পাবো। উহুম একদম না।”
“তাহলে শুয়ে পড়ো।”

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫২

সামিয়া শুয়ে পড়লো। গায়ে ব্লাঙ্কেট টেনে একপাশে কাত হয়ে শুয়ে রইলো চোখ খিচে বন্ধ করে।জিহান লাইট অফ করে দিলো। নিজেও শুয়ে সামিয়াকে টেনে নিজের হাতের উপরে মাথা রাখিয়ে জড়িয়ে ধরে বললো,
“এত লজ্জা পাবেন না ম্যাডাম। আমি কন্ট্রোল হারা হতে পারি। চুপচাপ ঘুমান। আমরা আমরাই তো। সো লজ্জা এলাও না।”
জিহানের কথা শুনে সামিয়ার আরো বেশি লজ্জা লাগছে কিছু বলতেও পারচ্ছেনা। চুপচাপ ঘুমানোর চেষ্টা করছে শুধু।

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৪