তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৬
তাবাস্সুম খাতুন
সূর্যের তেজ ছড়িয়ে পড়েছে শহর জুড়ে। সবাই নিজেদের কাজে হেঁটে চলেছে। সময়টা গিয়ে ঠেকেছে সকাল আটটা নয় এর কোটায়..
চৌধুরী ভিলা সেজে উঠেছে নতুন রূপে। অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে আবার। হলুদ অনুষ্ঠান। একটু পরেই বর পক্ষের লোকেরা এসে হলুদ আর কোনের বেনারসি সহ যাবতীয় জিনিষ দিতে আসবে। হইহুল্লরে মেতে আছে গোটা চৌধুরী বাড়ি। নাচ গান করছে ছোট বড়ো সকলেই। সিমি একপাশে বসে আছে তাও নিশান তার সাথে আছে। একটু আগে সেলিনা এসে তাঁদের নাস্তা দিয়ে গেলো। যা নিশান সুন্দর করে খাইয়ে দিলো। সামিয়া কেউ আটক করে রেখেছে জিহান। নিজের পাশে চুপ করে বসিয়ে রেখেছে। শুধু সিমরান আর জারা দুইজনেই মুক্ত পাখির মতো ডানা মেলে বেড়াচ্ছে। রাত্রির বিয়ে তাই সে শুধু বসে বসে দেখছে। এর মধ্যে বর পক্ষের লোকেরা চলে আসলো। সাথে আয়ান ও আসছে তাঁদের কিছু কাজিন আর বন্ধু বান্ধবীরা। আয়ান সাথে তার কিছু কাজিন ছাদে উঠেই দেখল নিশান আর জিহান নিজেদের বউ এর কাছে আছে দ্রুত দৃষ্টি নত করলো। আর তার কাজিন ভাইদের বললো ভুলেও যেন ওই দুই গুহার দিকে যেন না তাকাই। তাকাইলে অকালে চোখ হারাতে হবে। বলে আয়ান রাত্রির কাছে গেলো ফিসফিস করে বললো,
“ভাবি সাবধানে আজকের রাত কিন্তু স্পেশাল একটা রাত।”
রাত্রি কিছু বলবে এর মধ্যে সেখানে জারা আর সিমরান উপস্থিত হয়ে জারা বললো,
“এইযে মিস্টার আয়না সরি আয়ান আমাদের বোন এখনো আপনাদের ভাবি হই নি তাই,পার্সোনাল কথা বলতে দেবো না তো।”
আয়ান ওদের দুইজনের দিকে তাকিয়ে বললো,
“মিস জারা হলুদ নিয়ে এসেছি যেহেতু তার মানে ভাবি আমাদের পার্মানেন্টলি হয়ে গেছে। সাথে আপনি আমার বিয়ান সাহেবা।”
জারা মুচকি হেসে জবাব দিলো,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“আইহাই বলেন কি বিয়াই সাহেব। ভেবে দেখেন এক্সিডেন্টলি আমাদের বোন অন্য একজনের লগে পালিয়ে গেলো তখন কি বিয়ান আমি থাকবো।”
জারার কথা শুনে রাত্রি ধমক দিয়ে বললো,
“কুত্তি তুই বলিস কি এইসব? বেয়াদব আমি কোথায় যাবো?”
আয়ান মুচকি হাসলো জারার পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় স্লো ভয়েসে বললো,
“বিয়ান সাহেবা আই লাইক ইউ…
বলেই আয়ান চলে গেলো। জারা সেইদিকে তাকিয়ে মুখ ভাঙালো।সিমরান জারাকে ধাক্কা মেরে বললো,
“কিরে জাউড়া পাখি কি ইটিশ – পিটিশ চলে হুউ?”
জারা সিমরান এর দিকে বাঁকা চোখে তাকিয়ে বললো,
“বালের পিটিশ চলে শালী মুরগীর রান চল।”
সিমরান জারার মাথায় টোকা মেরে বললো,
“মুই সিমরান নট মুরগীর রান..
জারা ও মুখ ভাঙিয়ে বললো,
“আমিও জারা নট জাউড়া..
রাত আটটা বাজে। চৌধুরী বাড়ি নিস্তব্ধ হয়ে আছে। গানের রেশ আর নেই সবাই নিশ্চুপ। একটু আগেই রাত্রি কে নিয়ে চলে যাওয়া হয়েছে। রাত্রির সাথে সিমরান গিয়েছে। আত্মীয়রাও চলে গেছে। দুই একজন আছে তারা সকালে যাবে। সবার মন খারাপ মেহেরিমা কান্না করাই মাথা যন্ত্রনা করছে তাই রুমে বিশ্রাম নিচ্ছে। কম বেশি সকলে রাতের খাবার খেয়ে রুমে ঢুকলো। জিহান ল্যাপটপ এ কাজ করছিলো এমন সময় সামিয়া এসে দরজা লাগিয়ে বললো,
“আমার নোনোদিনি তাও আমাকে রেখে চলে গেলো কষ্ট।”
জিহান কাজ করতে করতে বললো,
“চলে আসবে কাল পরশু।”
সামিয়া জিহানের পাশে এসে বসে ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো,
“আচ্ছা রাত যে এত কান্না করলো। আপনার বুক কি একটুও কাঁপি নি?”
জিহান ল্যাপটপ থেকে চোখ উঠিয়ে সামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,
“ও একদিনের কান্না করছে আজীবন হাসিখুশি থাকবে বলে। তাই আমার বুক কাঁপে নি। তবে তোমার কাছে আমারো একটা প্রশ্ন আছে ম্যাডাম।”
সামিয়া ভ্রু নাচিয়ে বললো,
“কি প্রশ্ন?”
“তোমারও বিয়ে হলো, কিন্তু কান্না করলে না কেন?”
জিহানের প্রশ্ন শুনে সামিয়া ভেবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। সে উঠে দাঁড়িয়ে বেডে গিয়ে একটা বালিশ জিহানের দিকে ছুড়ে মেরে বললো,
“বিয়ে করে তো এই বাড়িতেই এনেছো। তাহলে কান্না করবো কোন দুঃখে। আজগুবি প্রশ্নের জন্য আজ রাত ওই সোফাতে ঘুমাবেন।”
বলে সামিয়া শুয়ে পড়লো লাইট অফ করে। জিহান দ্রুত উঠে সামিয়ার কাছে আসলো বেডে শুয়ে সামিয়াকে জড়িয়ে ধরে বললো,
“ম্যাডাম এত রাগ ভালো না। ভুল হয়ে গেছে।”
সামিয়া জিহানের থেকে নিজেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বললো,
“সরেন আপনি ঘুমাতে দেন।”
“বউ ভুল হয়ে গেছে সরি। রাতে একা ঘুমাতে পারবো না। ইঁদুর এসে ডিসটার্ব করবে।”
“বিয়ের আগে তো একাই ঘুমাতেন।”
“আরে বিয়ের আগে আর এখন কি এক হলো নাকি। ঘুমাও চুপ করে।”
সামিয়া আর কিছু বললোনা মুচকি হেসে ঘুমাতে লাগলো।
“ইশু কালকে একটা ইম্পরট্যান্ট কাজ আছে আমাকে যেতে হবে। এইজন্য তোকে একা থাকতে হবে। বেশি না মাত্র দুই ঘন্টার জন্য পারবি তো?”
সিমি নিজের চুল আছড়িয়ে উঠে বললো,
“ইনশাআল্লাহ পারবো। তবে কি কাজ আপনার?”
নিশান ল্যাপটপ গুছিয়ে রেখে সিমির কাছে এসে সিমির মুখে থাকা দুই একটা চুল কানে গুঁজে দিয়ে বললো,
“ইম্পরট্যান্ট একটা মিটিং এটেন্ড করতে হবে যে করেই হোক। ভয় পাবি না আমি আছি তোর সাথে সবসময়ের জন্য। নিচে কিন্তু একদম নামবি না। শুধু আমার রুমে থাকবি আর যদি জারার সাথে কথা বলা লাগে ওকে ডাকিস। বেশি হাঁটাহাঁটি করবি না ঠিকাছে?”
সিমি মাথা নাড়লো। নিশান সিমিকে নিয়ে বেডে শুয়ে দিলো। লাইট অফ করে নিজেও সিমির পাশে শুয়ে তাকে আগলিয়ে নিয়ে বললো,
“ঘুমিয়ে পর আমি আছি তোর সাথে সবসময় সবজায়গায়।”
সিমি মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে নিশানকে জড়িয়ে ধরে ঘুমের রাজ্যে হারাতে লাগলো। আর নিশান চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইলো। তার মাথায় বিভিন্ন ধরনের কথা ঘুরতে লাগলো।
তিমিরে ঢাকা আঁধার কেটে ধরণীতে সূর্যের আগমন ঘটলো। পাখিরা কিচির মিচির করে শব্দ তুলে এইদিক থেকে ওইদিকে উড়ে যেতে লাগলো। ব্যাস্ত শহরের মানুষ গুলো ব্যাস্ত হয়ে পড়লো। সময়টা এখন সকাল নয়টা বেজে দশ মিনিট। চৌধুরী বাড়ির সকলের সবার নাস্তা শেষ। জিহান বাড়ির বাইরে নিশানের জন্য অপেক্ষা করছে। নিশান কে কল দিতেই সে রিসিভ করলো না। কেটে দিলো। নিশান সিমির কপালে গভীর চুম্বন এঁকে বললো,
“দুই ঘন্টার জন্য তোকে চোখে হারাচ্ছি। নিজেকে সাবধানে রাখিস। আমি দ্রুত চলে আসবো।”
সিমি মাথা নাড়লো। নিশান রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো সামনে জারা কে পেতেই বললো,
“ইশুর দিকে খেয়াল রাখিস। আমি দুই ঘন্টার জন্য বাইরে যাচ্ছি।”
জারা কনফিডেন্স এর সাথে বললো,
“আমি আছি তো ভাইয়া। সিমির কিছু হবে না তুমি নিশ্চিন্তে যাও।”
নিশান মাথা নাড়লো গম্ভীর মুখে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যেতেই জিহান বলে উঠলো,
“নীল কে এনে রাখছি এক ঘন্টা মতো।”
নিশান কিছু না বলে গাড়ি স্টার্ট দিলো। জিহান ও উঠে বসলো গাড়ি চলতে লাগলো অজানা গন্তব্যের দিকে।
নিশান দুই ঘন্টার জন্য বাইরে যাচ্ছে কথাটা সেলিনার কানে যেতেই সে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। ফোন এ কারোর নাম্বার খুঁজে কল লাগালো। দুই তিন রিং হতেই কল রিসিভ হলো সেলিনা বলে উঠলো,
“নিশান বাইরে গেছে শার্লিন।”
শার্লিন খুশিতে গদগদ হয়ে বললো,
“আলহামদুলিল্লাহ শুভ কাজটা এই বেলায় সেরে ফেল। কাজ হয়ে গেলে জানিয়ে দিস। শান্তিতে দুটো গিলতে পারবো।”
সেলিনা বলে উঠলো,
“হুম আমি যাই হাতে অল্প সময়।”
বলে সেলিনা কল কেটে দিলো। নিজের রুমে থাকা তেলের বোতল নিয়ে চুপিচুপি বাইরে আসলো শাড়ির আঁচল দিয়ে বোতল ঢেকে সোজা উপরে সিঁড়ির কাছে গেলো পুরো সিঁড়ির একপাশে তেল ফেলে দিলো। যেন যে কেউ খুব সুন্দর ভাবে পরে যেতে সক্ষম হই। তেল ফেলে সেলিনা আশেপাশে তাকালো। পরে নিশানের রুমের কাছে গিয়ে বললো,
“সিমি সিমি মামুনি।”
সিমি রুম থেকে বেড়িয়ে এসে বললো,
“জি বড়ো আম্মু কিছু হয়েছে?”
সেলিনা সিমির মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
“সারাদিন বসে থাকলে তো বেবির ক্ষতি হতে পারে মা। একটু হাঁটাহাঁটি কর। নিচে যাওয়ার দরকার নেই এইখানেই হাঁটাহাঁটি কর। আমি নিচে গেলাম।”
সিমি বললো,
“ঠিকই বলেছো ভালো লাগে না বসতে।”
সেলিনা হাসি মুখে চলে গেলো। সবাই যে যার রুমে। জারা ও নিজের রুমে কাজ করছে সামনে ফাইনাল এক্সাম। এই নিয়ে কিছু এসাইমেন্ট তৈরী করছে। সিমি বাইরে বেরোলো। পেটে হাত বুলাতে বুলাতে হাঁটতে লাগলো আর বললো,
“আমার বেবি তুমি কি শুনতে পাচ্ছ? মাম্মামের কথা। আমার একা একা ভালো লাগছে না তোমার পাপা ও চলে গেলো। তুমি তাড়াতাড়ি এসো আমি তোমাকে নিয়ে খেলা করবো সারাদিন।”
সিমি থামলো। যতদিন যাচ্ছে সিমির পেট বড়ো হচ্ছে এখন সাড়ে চার মাস। বেবি নিশ্চই অনেক বড়ো হয়েছে? কত সুন্দর নতুন নতুন অনুভূতির সাথে সে পরিচয় হচ্ছে খুব ভালো লাগে তার এই অনুভূতি। সিমি হাঁটতে লাগলো এমন সময় রোজিনা নিচ থেকে সিমিকে বললো,
“নিচে এসে বস আম্মু। ধীরে ধীরে নেমে আয়। আমি কি আসবো?”
সিমি সিঁড়ির কাছে এসে বললো,
“আমি আসছি ধরে একদম ধীরে ধীরে তুমি বোসো। উপরে ভালো লাগছে না আর।”
রোজিনা কিছু না বলে ডাইনিং টেবিল গোছাতে লাগলো। সিমি এক পা সবাধানে রাখলো সিঁড়িতে। হুট করে কাঁচ ভাঙার শব্দ হলো সিমি সেইদিকে তাকিয়ে যেই সিঁড়িতে তেল ফেলানো বেকায়দা ভাবে ব্যালেন্স না রেখে সে তেলে pa দিতেই তার পা সিলিপ কাটলো। উবুড় হয়ে পড়লো সিঁড়িতে। আওয়াজ হলো গড়াতে গড়াতে ফ্লোরে গিয়ে পড়লো। সিমি আর্তচিৎকার দিয়ে উঠলো পেট ধরে। পেটে আঘাত লাগছে গভীর। সে চিৎকার দিচ্ছে তার চিৎকার শুনে বাড়ির সকলে সেখানে উপস্থিত হলো। সবাই অবাক কি থেকে কি হলো? সিমি সয্য করতে পারছে না পেট ধরে কান্না করছে। বড়ো বড়ো নিশ্বাস নিচ্ছে চিৎকার করছে। এইদিকে তার ব্লিডিং শুরু হয়ে গেলো। রোজিনা আর কিয়া সিমিকে তুলে নিয়ে গেলো বাইরে গাড়িতে উঠালো বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ নেই। সবার চোখে পানি কি থেকে কি হলো? জারা বাড়ির তিন কর্তা কে ফোন দিলো। সাথে নিশান কেউ কিন্তু নিশানের ফোন বন্ধ তাই আর ট্রাই করলো না। সিমি এখনো চিৎকার করছে বাড়ির সকলে গাড়িতে উঠে বসলো সেলিনাও বসলো। চোখে যেন মিথ্যা পানি আনার নাটক করছে। গাড়ি চলতে লাগলো হাসপাতালের উদ্দেশ্য। রোজিনা মেয়ের হাত চেপে ধরে বললো,
“আম্মু আমি আছি তো। কিছু হবে না একটু ধৈর্য ধর।”
সিমি ধৈর্য ধরতে পারচ্ছেনা। ভীষণ কষ্ট হচ্ছে বারবার মনে উঁকি দিচ্ছে তার বাচ্চা ব। তার বাচ্চা কি বেঁচে আছে? কষ্ট হচ্ছে কি তার?
ত্রিশ মিনিটের মধ্যে গাড়ি থামলো হাসপাতালের সামনে। সিমিকে নিয়ে দ্রুত অপারেশন থিউটার এ নিয়ে যাওয়া হলো। বাড়ির তিন কর্তা সহ রুবেল হাজির হলো। মেয়ের জন্য তিন ভাইয়ের বুকের ভিতরে হুঁ হুঁ করছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করছে যেন কিছু না হই। জারা অনবরত কল লাগাচ্ছে নিশানের নাম্বার এ প্রতিবার বন্ধ দেখাচ্ছে নাম্বার টা।
নিশানের গেস্ট হাউস এ বসে ছিলো নীল। সেখানে মাত্র উপস্থিত হলো নিশান আর জিহান। তারা ভিতরে ঢুকতেই নীল ওদের দিকে তাকাতেই ভ্রু কুঁচকে গেলো। যা দেখে নিশান বাঁকা হেসে বললো,
” মিস্টার খানের ভ্রু হটাৎ কুঁচকে গেলো কেন?”
নীল সৌজন্যে মূলক হাসি দিয়ে বললো,
“আমাকে ওয়েলকাম জানাতে যে মিস্টার চৌধুরী আসবে জানতাম না তাই ভ্রু জোড়া কুঁচকে গেলো।”
নিশান নীলের ওপর পাশের সোফায় বসলো। জিহান বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।নিশান শান্ত কণ্ঠে বললো,
“আমি এইখানে বিশেষ কিছু কারণে এসেছি।”
নীল মাথা নাড়িয়ে বললো,
“বলুন মিস্টার চৌধুরী নিশ্চই কোনো সাধারণ কারন না সেইটা।”
নিশান চোখ উঁচিয়ে বললো,
“আমার পার্সোনাল প্রপার্টি নিয়ে।”
নীল একই ভঙ্গিতে বললো,
“কোন সমস্যা হয়েছে প্রপার্টি নিয়ে? সমস্যা নেই খুলে বলেন আমার চেনাজানা অনেক উকিল আছে। রিলাক্স।”
নীলের বেখেয়ালি কথা শুনে নিশানের রাগ যেন বাড়ছে তাই সে বললো,
“পার্সোনাল প্রপার্টি ঐটা কারোর অধীনে আনা সম্পত্তি না। আমার লিগ্যালি সম্পত্তি যার ভাগ শুধু আমার। আমার বুকের বাম পাঁজরের হাড়ের তৈরী যে আমার অর্ধাঙ্গিনী।”
অর্ধাঙ্গিনী শব্দ শুনে নীলের বুকে চিনচিন ব্যাথা হলো। তার শ্যামা পাখির কিছু হয়েছে নাকি? নীলের ভাবনার মধ্যে নিশান সরল ভাবে প্রশ্ন করলো,
“আমার বউ কে নিয়ে তুই এত কাঁদিস কেন?”
নিশানের কথা শুনে নীল নিশানের দিকে গম্ভীর ভাবে তাকালো অরতঃপর নরম সরে বললো,
“আমার লাইফ, আমার চোখ, আমার লাইফের শ্যামা পাখি। এত সবকিছু নিয়ে তোকে ইন্টার ফায়ার করতে বলছি না।”
নীলের কথা যেন নিশানের রাগ বাড়াতে সক্ষম।নিশান উঁচু গলায় বললো,
“ও আমার বউ। আমার পার্সোনাল প্রপার্টি ওর জন্য শুধু আমার চোখ থেকে পানি ঝরবে। আর কারোর না বুঝেছিস? আর কারোর না।”
নিশানের কথা শুনে নীল মৃদু হেসে জবাব দিলো,
“তোর বউ, তোর পার্সোনাল প্রপার্টি তাতে আমার বাল ছিঁড়ে গেলো। নিজের রাস্তায় চলতে থাক। নয়তো..
নীলের কথা সম্পূর্ণ করতে না দিয়ে নিশান তেরে বললো,
“নয়তো কি করবি? আমার বাল ছিঁড়বি? শালা ছিঁড়তে আয় আমি এক টানে তোর বাল ছিঁড়ে আনার ক্ষমতা রাখি, বালের দাপট দেখাও আমাকে।”
নীল ফিক করে হেসে বললো,
“বাল ছিড়া তোর কাজ। আর হাতে ধরিয়ে দেওয়া আমার কাজ।”
নিশান উঠে দাঁড়ালো। নীলের কলার চেপে ধরে বললো,
“শালা হারামি। হাতে ধরাবি ছিঁড়ে হাতে ধরিয়ে দে দেখি। তোর কত বড়ো সাহস আছে আমার বাল ছিঁড়ার।”
নীল রাগী চোখে নিশানের দিকে তাকিয়ে বললো,
“আমি যে কি করতে পারি তার ধারণা তোর নেই নিশান। আমি চাইলেই সিমিকে নিজের করে আনতে পারতাম। কিন্তু ও কষ্ট পাবে বলে ছেড়ে দিলাম।”
নীলের মুখে সিমির নাম শুনে নিশান নীলের কলার আরো জোরে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“তোর ফাকিং মুখ দিয়ে আমার ইশুর নাম উচ্চারণ করবি না।”
নীলের যেন রাগ আর সয্য হচ্ছে na সেও নিশানের কলার চেপে ধরে বললো,
“একশো বার উচ্চারণ করবো কি করবি তুই?”
নিশান হুহংকার ছেড়ে বললো,
“নাইট্রিক এসিডে পুড়িয়ে মেরে দাফন দেবো দাফন।”
জিহানের দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যেই তার ফোনে কল আসলো সামিয়ার। সে কল রিসিভ করতেই সামিয়া কান্না করতে করতে বললো,
“সিমির অবস্থা অনেক খারাপ। হাসপাতালে আছি আমরা। নিশান ভাইয়া কে নিয়ে আসো। সিমি নিশানকে খুজছে।”
জিহান সাথে সাথে কল কেটে রুমে ঢুকলো। দেখলো দুইজন দুইজনের কলার ধরে আছে জিহান গিয়ে তাঁদের সরিয়ে দিলো নিশানের কাছে গিয়ে ধীর কন্ঠে বললো,
“সিমি হাসপাতালে তোকে খুঁজছে।”
সিমি হাসপাতালে এই কথা নিশানের কানে যেতেই তার মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো। কি হলো তার ইশুর? একটু আগেই তো দেখে আসলো সে ভালো আছে। তাহলে এখন কি হলো? তার মাথা ঘুরছে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে কষ্ট হচ্ছে। বুকের ভিতরে যেন কেউ জোরে জোরে আঘাত করছে ছুড়ি দিয়ে অসহ্য যন্ত্রনা হচ্ছে। নীল ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে নিশানের দিকে। জিহান নিশান কে ধরলো। নিশান কোন কথা বলার পরিস্তিতে নেই তবুও নিজেকে সামলিয়ে নীলের দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে বললো,
তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৫৫
“লাস্ট ওয়ার্নিং আমার বউ থেকে দূরে থাকিস।নয়তো এইবার জানে মেরে ফেলবো।”
বলেই এক মুহূর্ত দেরি না করে দৌড়ে বেড়িয়ে গেলো সাথে জিহান ও। দুইজনেই গাড়িতে উঠে বসলো গাড়ি চলতে শুরু করলো হাসপাতালের দিকে। নিশানের চোখ লাল হয়ে গেছে। শ্বাস নিতেও যেন সমস্যা হচ্ছে। কি হলো তার ইশুর? সে তো ভালো দেখে এসেছে। কোন খারাপ কিছু হই নি তো? বারবার মনে খারাপ কথা জাগছে। মনকে শান্ত রাখতে পারচ্ছেনা কিছুতেই হলো কি তার ইশুর? তার প্রিন্সেস ও ঠিক আছে তো?
