Home তোকে ছুয়েছি আঁধারে তোকে ছুয়েছি আঁধারে পর্ব ২৯

তোকে ছুয়েছি আঁধারে পর্ব ২৯

তোকে ছুয়েছি আঁধারে পর্ব ২৯
ভূমিকা তালুকদার

বারে বসে জায়ান একের পর এক ওয়াইনের গ্লাস শেষ করে চলেছে। বারো নম্বর গ্লাসও শেষ,মদের বোতল ফাঁকা হচ্ছে ধীরে ধীরে। মদ খেলেও জায়ানের তেমন নেশা চাপে না, কিন্তু একটানা খেতে খেতে এবার মাথা কেমন চক্কর দিতে শুরু করেছে। নাদিয়া কয়েকবার বারণ করেছিলো, তবে এর বেশি বলার সাহস তার নেই। বার-এর এক স্টাফ আরেকটা বোতল আনতে যাচ্ছিলো ঠিক তখনই নাদিয়া হাত দিয়ে ইশারা করে থামালো।আর এনো না!
তারপর এলেক্সের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো নাদিয়া, চোখ-মুখ রাগে টকটকে।

“তোর মতো শেইমলেস,আমি আমার লাইফে একটা দেখি নাই!”
পাঁচ-ছয়টা মেয়ের মাঝখান থেকে এলেক্সকে কান ধরে টেনে বাইরে নিয়ে এলো নাদিয়া। এলেক্স বারবার কানের হাত ছাড়াতে চাইছে।
“হুয়াট হেপেন্ড দোস্ত ! কান ধরে টানছিস কেন??”
নাদিয়া বুকের ভেতর দু’হাত গুঁজে গম্ভীর স্বরে বললো,
“তোর কি আগের মতো বয়স আছে এসব করার? আর কত? অনেক হয়েছে! তোকে মনে হচ্ছে ধরে বেঁধে একটা বিয়ে করিয়ে দেওয়া উচিত! বউ যদি মানুষ করতে পারে তো করুক।Disgusting!”
এলেক্স হেসে গড়াগড়ি খেতে চাইলো।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“কাম অন ডিয়ার! শোন, লাইফ মানেই একটা এডভ্যাঞ্চার।লেট’স চিল।”
“চিল তাই বলে এভাবে।যা মানলাম।তবে হাই প্রোফাইল ট্যাগ যুক্ত থাকা লোকদের সাথে এইসব যায় না!কখন যে কোন দিক থেকে ফাসিয়ে দিবে টের ও পাবিনা”
বললেই হলো, কোন শা*উয়ার নাতি কি করবে? সামনে এসে দাঁড়ানোর আগেই তার প্যান্ট ভিজে যাবে।
নাদিয়া এলেক্স এর কাধে হাত রাখে।
“সব কিছুতে শুধু তোদের একটাই কাজ নিজেদের পাওয়ার দেখানো।আচ্ছা মানলাম এটলিস্ট নিজের মধ্যে একটু তো লয়ালিটি আনবি নাকি।”

এলেক্স মুখ বাকিয়ে কটাক্ষ করলো।
লয়ালিটি??লয়াল আবার কি জিনিস!যত পারবি প্রেম করবি।ছ্যাঁকা দিবি। লয়াল হবি তো মারা খাবি।
নাদিয়া আর কিছুই বললোনা ঠিকি তো বলেছে এলেক্স, ভুল কিছু তো বলেনি।হাতে গুনা ক’জনই বা লয়াল নিজেদের পার্টনারের প্রতি।যারা লয়াল হয় দিনশেষে তারাই মারা খায়।নাদিয়া এবার কণ্ঠ নামিয়ে ফেললো, কিন্তু শব্দগুলো ধারালো ছুরির মতো।

“আচ্ছা এত বছরেও তোদের কাউকেই আমি ঠিক করতে পারলাম না কেন? কেন আমি তোদের নিয়ে এত ভাবি? ত্রিশে এসে দাঁড়িয়েছি এখন আর পারবো না। আর কোনোদিন কিছু বলবো না। যা খুশি কর তোরা।”
এলেক্স থমকে গেলো। নাদিয়াকে এভাবে সিরিয়াস হতে সে কোনোদিনও দেখেনি।নাদিয়া অনেক স্ট্রং মেন্টালিটির মেয়ে,এক কথায় বুদ্ধিমতি,সর্ব গুনে সম্পূ্র্ণা,তাদের সকলের বন্ধুত্বের গিট বেঁধে পরিবারের মতো করে আঁকড়ে ধরে রাখার পিছনে কারোর সবচেয়ে বেশি অবদান যদি থাকে তার ফার্স্ট ক্রেডিট নাদিয়ার প্রাপ্য।তবে এতক্ষণ ভালোই তো ছিলো, হঠাৎ কী হলো যে এত ক্ষিপ্ত? এখন সব দোষ যেন একা এলেক্সের ঘাড়ে চাপলো।মানে যত দোষ নন্দ ঘোষ না হয়ে এলেক্স ঘোষ হওয়ার দরকার ছিলো। এলেক্স একটু নরম গলায় নাদিয়ার কাঁধে হাত রেখে বললো।

“কি হয়েছে আবার,এভাবে বলতে তো তোকে আর কখনো দেখিনি।”
“কিছু না!”
“কিছু তো একটা হয়েছে! আই থিন্ক মার্কো কিছু বলেছে?”
বলেই এলেক্স এদিক ওদিক মার্কোকে খুজতে শুরু করে।
এলেক্স চারপাশে তাকাতে লাগলো।
“মার্কো কই”
নাদিয়া ঠোঁট কামড়ে ফিসফিস করে বললো,
“আমি কীভাবে বলব? আমি জানি না!”
“ঝগড়া করেছিস আবার?”
“ঝগড়া করব কেন? কিভাবে,কি নিয়ে? মার্কোকে জায়ান ছাড়া আর কারো সাথে কাজের বাইরে কথা বলতে দেখেছিস কোনোদিন?” নাদিয়া মুখ ভার করে উত্তর দিলো।
“তাও ঠিক”
“সেই কখন থেকে ফোন করে যাচ্ছি।একটা ফোনও ধরছে না। আমি কতো ফোন করবো?আমার কি ঠেকা পড়েছে নাকি? শেষ। আর দিবো না। যা খুশি করুক ও! একবারও বলে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করে না! যাই হোক,I don’t care!”

বারের ভেতরে স্লিভলেস টপ আর ডেনিম প্যান্ট পড়ে, লম্বা হিলের ঠক্ ঠক্ শব্দ তুলে এগিয়ে এলো এলেনা।চুল গুলো গোল্ডেন কালার হলেও তা নিচ দিয়ে কালার করে লাল বানিয়ে রেখেছে।এমনিতেই লম্বা, তার ওপর হিল। হাতটা ব্যান্ডেজ করা।জায়ান রেড ওয়াইনের গ্লাসটা ঠোঁটে তুলতে যাচ্ছিলো। এলেনা একটুও দেরি না করে হঠাৎ গ্লাসটা জায়ানের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে পাশের দেয়ালে ছুড়ে মারলো। কাঁচ ভাঙার উচ্চ শব্দে পুরো বার স্তব্ধ হয়ে গেলো।এলেক্স আর নাদিয়া দুজনেই একই সাথে চমকে তাকালো।জায়ানের চোখ তক্ষুনি রক্তলাল হয়ে উঠল। বুক ফুলে উঠছে, শরীর কাঁপছে, যেন ঝড় বয়ে যাচ্ছে ভিতরে। তার দৃষ্টি বড় বড় হয়ে এলেনার ওপর গিয়ে গেঁথে রইলো। চারপাশে এক ধরনের শ্বাসরুদ্ধ নীরবতা।ঠিক তখনই এলেনা হঠাৎ হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো জায়ানের পায়ের কাছে।

“অতিরিক্ত খেলে আউট অফ কন্ট্রোল হয়ে যাবি।গাড়ি চালিয়ে যেতে পারবি না বাড়িতে। রাগ করিস না আমার উপর।আমি তো জানি তোর কিসে কি প্রব্লেম হয়”
জায়ান সোফার উপর মাথা হেলিয়ে রেখেছে। হাত টা কপালে ঠেকালো।এলেনা ব্যান্ডেজ করা হাতটা সামনে বাড়িয়ে ধরলো, জায়ানের মুখের কাছাকাছি তুলে নিয়ে গলা কাঁপানো সুরে বললো
“দেখ কি করেছিস।”
জায়ান কোনো প্রতিউত্তর করলো না।এলোনা বুঝতে পারলো জায়ানকে এসব বলে আদতে কোনো লাভ হবে না।ধীরে ধীরে এসে জায়ানের পাশে সোফায় গিয়ে বসে পড়লো।

“তুই পাষাকে ঢোকার অনুমতি কেন দিস বল তো! কোনদিন যে এই পাষা আমার হাতে খুন হয়ে যায়। আই ডুন্ট নো।”
এলেক্সও এসে সোফায় ধপ করে বসলো
“পাষা? পাষা আবার এসেছিলো নাকি কখন??”
নাদিয়া,
“চিকনি চ্যামেলিদের ভিতর মুখ ঢুকিয়ে রাখলে জানতে পারবি কি করে! ”
“ডাক দিলও তো পারতি।”
জায়ান সোজা হয়ে উঠে বসলো। নিজের চুলে হাত দিয়ে বেক ব্রাশ করতে করতে বললো।
আসলে প্রব্লেম টা কোথায়? যতবার আসবে ততবার দু গ্লাস ম*দ খায়িয়ে দিবি।একে যে কবে আমি ম*দের বালতিতে চুবিয়ে রাখি তা কেবল উপরওয়ালা জানে।পাষা যদি চলে ডালে ডালে চমুও চলি পাতায় পাতায়।

সবার প্রতি কড়া আদেশ দিয়ে জায়ান বার ছেড়ে বেরিয়ে এলো।আজকে সকলকে বারেই থাকতে বললো সে প্রায় সময় তারা বারেই রাত কাটালেও জায়ান আজ থাকলো না।লিয়ানার জন্য তাকে যেতেই হলো।নাহলে সে নিজেও থাকতো, যেটা তার পক্ষে সম্ভব নয় এখন,আজ সেই অভ্যাস ভাঙলো এক অদৃশ্য টানে।।রাতের ডিনার রেডি করে লিয়ানাকে খাইয়ে,ঘুম পাড়িয়ে তবেই বের হয়ে ছিলো জায়ান।বারের ভারী দরজা ঠেলে বাইরে আসতেই চোখে পড়লো খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা কালো ঝকঝকে Lamborghini।চাঁদের আলো পড়ে তার গায়ে যেনো হালকা রুপালি আস্তরণ দিয়েছে।জায়ান গাড়ির দরজা টেনে খুললো, সিটে বসলো দৃঢ় ভঙ্গিতে।চাবি ঘোরাতেই মুহূর্তে গর্জে উঠলো ইঞ্জিন,

রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে কেঁপে উঠলো চারদিক
স্টিয়ারিং শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো সে।
ঠোঁটের কোণে জমে থাকা গম্ভীরতা আরও গাঢ় হলো।পাশাপাশি বুকের ভেতরটা ভারি হয়ে উঠে তার।কিছুটা নেশা ধরলেও তা পুরোপুরি গ্রাশ করতে পারেনি তাকে।এক্সিলারেটরের চাপ বাড়তেই গাড়ি ছুটে গেলো অন্ধকার রাস্তা ধরে,
রাতের শহরকে বিদীর্ণ করে এগিয়ে চললো যেনো ঝড়ের বেগে।

রাত প্রায় ৩টা বেজে ১৫ মিনিট, রাত্রির শেষ প্রহরে আল্পস এর পাহাড়ি অঞ্চলের গভীর রাতের কুয়াশা চারপাশে ছড়িয়ে আছে। এমন সময় চারপাশে এমন অন্ধকার, চাঁদের আলোও ঠিকমতো জমিনে দেখা যাচ্ছে না।বেডরুমে ড্রিম লাইটের আলো মৃদুভাবে জ্বলে, সেই আলোর নরম ছায়ায় লিয়ানা বিছানায় গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে। নিঃশ্বাস নিয়মিত উঠানামা করছে, শান্ত, গভীর, নিঃশব্দ। ঘুমে তার চেহারায় প্রশান্তি, আর ঘরের নরম আলো ঘিরে রেখেছে তাকে এক নিরিবিলি আবহে।লিয়ানা হঠাৎ ঘুমের ভেতরেই অস্থির হয়ে এপাশ-ওপাশ করতে লাগলো। নিঃশ্বাসটা যেন ভারী হয়ে উঠছিলো। পাশের দিকে হাত বাড়াতেই আঁতকে উঠলো জায়ান নেই! বিছানার ফাঁকা জায়গাটায় ঘুমের ঘোরে বারবার হাত বুলিয়ে দেখতে লাগলো, কিন্তু না কোথাও নেই সে।চোখ দুটো ধীরে ধীরে খুলে বিছানায় উঠে বসলো লিয়ানা। নিস্তব্ধ রুমটা যেন আরও ভারী লাগছিলো। চোখ কচলাতে কচলাতে শরীর থেকে লেপটা সরিয়ে নিলো সে। ঠান্ডা মেঝেতে পা ছুঁতেই শরীর কেঁপে উঠলো, তবু ধীরে ধীরে হ্যালো কিটির স্লিপারটা পড়ে নিলো।

সতর্ক পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে যাবে, ঠিক তখনই চোখে পড়লো সিঁড়ির দক্ষিণ দিকের এক বন্ধ রুমের দিকে। রুমটার দরজা আধখোলা,হালকা মিটমিটিয়ে আলো বাহিরে আসছে। লিয়ানার গা শিরশির করে উঠলো। ঘুমের ঝিম ধরা শরীরটাও ঢলতে লাগলো, কপালে হাত রেখলো মাথাটা প্রচণ্ড ব্যথা করছে তার,রাতে কখনই বা ঘুমোলো টের পায়নি।তেমন কিছু মনেও পড়ছে না।কপালটা হালকা গরম যেনো জ্বর আসবে।নিচের ডাইনিং স্পেস থেকে আগত ঠান্ডা বাতাস গাঁয়ের পাশ দিয়ে যেতেই হাঁটু ছুই ছুই চুল গুলো উড়ে গেলো।পড়নে নাইট শার্ট তবে শ্লিভলেস হাতা হওয়ায় ঠান্ডা লাগছে লিয়ানার। এক হাত কপালে, আরেক হাত কোমরে রেখে সাহস সঞ্চয় করলো সে।

উপরের করিডরটা পেরিয়ে শেষ প্রান্তের সেই রুমটার দিকে পা বাড়ালো লিয়ানা।চারপাশটা নিস্তব্ধ, অন্ধকারে ঢেকে আছে। মনে ভয় কাজ করলেও বুকের ভেতর অদ্ভুত এক টান টের পেল সে। মনে হচ্ছিলো হয়তো জায়ান সেখানেই আছে।রুমটার ভেতর ঢুকতেই লিয়ানার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেলো। এ তো এক লাইব্রেরি কক্ষ চারপাশের দেয়াল জুড়ে তাকের পর তাক, হাজারো বই নীরবে দাঁড়িয়ে আছে, যেন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নিস্তব্ধতার প্রহর গুনছে। সিলিং থেকে ঝোলানো একটা হালকা ঝাড়বাতি নিভে আছে, ভিতরে ডুকে দেখলো মাঝখানে রাখা টেবিলের ওপরে একখানা ল্যাপটপ খোলা,রকিং চেয়ারে বসা এক সুঠামদেহী ব্যক্তি মুখটা দেকগা যাচ্ছে না।

পিঠ ভাসমান।এটা জায়ানই হবে তা ভেবে নিয়েছে লিয়ানা।তারপরেও বুকের ভেতর ভয় জমে উঠেছে।দুহাতে জামা খিচে ধরে গুটি গুটি পায়ে এগোতে থাকে।লিয়ানা ডার্ক রোমাঞ্চ, হরর নোবেল বুক পড়ুয়া মেয়ে, ইউটিউব এ ওয়্যাটপ্যাডে এসব পড়ে পড়ে মাথায় উল্টো পাল্টা জিনিস ঘুর ঘুর করছে।যদি জায়ান না হয় যদি তাকে মেরে ফেলে,বন্দী করে নিয়ে চলে যায় তখন কি হবে।তারপরেও আল্লাহর নাম নিয়ে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে। কি অদ্ভুত টেবিলে জ্বলছে মোমবাতি।মোমবাতি কেন! বাড়ির ইলেকট্রিসিটি তো ঠিক আছে তাহলে টেবিলের পাশে মোমবাতি জ্বালিয়ে রেখেছেন কেন।শরীরটা শিরশির করে উঠল তার।

সামনে এগিয়ে গেলো লিয়ানা, নিঃশব্দে, ধীর পায়ে। প্রতিটি পদক্ষেপে মনে হচ্ছিলো চারপাশটা আরও ভারী হয়ে উঠছে। ইচ্ছে হলেও ডাক দিলো না জায়ানকে। শুধু পিনপতন নীরবতাকে ভেঙে নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলো সে।রকিং চেয়ারে বসে আছে উনি। ল্যাপটপের স্ক্রিনের আলো তার মুখটাকে আধো অন্ধকারে আরও কঠিন আর রহস্যময় করে তুলেছে। চোখের নিচে ক্লান্তি, ঠোঁটে অচেনা গম্ভীরতা।লিয়ানা ধীরে ধীরে পিছন থেকে কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। বড় একটা শুকনো ঢুজ গিলে নিলো।কৌতূহলে মাথাটা সামান্য এগিয়ে ল্যাপটপের স্ক্রিনে উঁকি দিতে গেলো। ঠিক তখনই হঠাৎ জায়ান হাত বাড়িয়ে তাকে টেনে নিজের কোলে বসিয়ে দেয়।

অপ্রস্তুত লিয়ানার নিঃশ্বাস আটকে এলো, বুক ধকধক করে উঠলো।চোখ জোরা ভয়ে বন্ধ করে পার্থনা করতে লাগলো যেনো লোকটা জায়ানই হয়।চোখ খুলতেই দেখলো জায়ান তার দিকেই তাকিয়ে আছে।তবে আজকের চাহনিটা একদম অন্যে।জায়ান যেভাবে শীতল দৃষ্টিতে তাকে দেখতো তবে আজ সে-রকম নয়।জায়ানের চোখ জোড়া কেমন যেনো লাল লাল হয়ে আছে । মোমবাতির আলোতে লিয়ানা সেদিকে তাকিয়ে ভয়ে চোখ নামিয়ে নেয়। গলায় কথা আটকিয়ে আসছে।জোরে জোরে শাস নিতে নিতে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে।

“আ…আপনি কিভাবে বুঝলেন আমি এসেছি??আমি তো ডাকিনি।”
“তোর শরীরে থাকা ঘ্রাণ আমি একশো হাত দূর থেকে বুঝে ফেলি জান।”
জায়ান লিয়ানার শার্টের নিচ দিয়ে তার উদরে হাত ঢুকিয়ে দেয়।লিয়ানাকে আরেকটু কাছে টেনে আনতেই লিয়ানার নাকে জায়ানের শরীর থেকে আসা ম*দের বিশ্রী গন্ধ ভেসে আসে।লিয়ানা কিছুটা নাক ছিটকিয়ে বলে,
আপনি আবার এসব ছাইপাস খেয়েছেন??এতো বেশি না খেলে হয় না?
লিয়ানা জায়ানের কোল থেকে উঠে যেতে নিলে জায়ান আরও শক্ত করে চেপে ধরে।

“কোথায় যাচ্ছিস এখানেই বসে থাক।ভালো লাগছে আমার।”
“ছাড়ুন। আমার গা ঘোলাচ্ছে।বমি আসছে।”
লিয়ানার কথায় জায়ান এক প্রকার ক্ষিপ্ত হলো।চোয়াল শক্ত করে বলে উঠে।
“বলেছিনা বসে থাকতে। আর একবারও যেনো না বলতে হয়।”
“নেশায় ধরেছে আপনাকে।প্লিজ ছাড়ুন।”
“তোর চেয়ে ভয়ংকর কোনো নেশা, আমায় আজও ধরতে পারেনি।তোর এই রূপ আমায় বার বার দেওয়ানা বানিয়ে দেয়।”

জায়ান লিয়ানার গাল নিজের দু’হাতের মাঝে রেখে, ঠোঁটে চুমু খেয়ে নেয়। তারপর লিয়ানার চুলগেলো হাতের মুঠোয় করে নাকের কাছে এনে চুলের ঘ্রান নিতে থাকে জোরে জোরে। জায়ানের অদ্ভুত বিহেভিয়ার এ লিয়ানার কেমন যেনো লাগছে।ভয়ে কিছু বলতেও পারছে না।জায়ান লিয়ানার নাকে নাক ঘষতে ঘষতে বলে,
“ইউ আর ডেমেন্ সুইট বেবি।” আই লাইক ইউ।
আ…আপনি……

লিয়ানা কথাটুকু শেষ করার আগেই জায়ান লিয়ানার কাঁপতে থাকা ফোলা ফোলা ঠোঁটে আঙুল ঠেকিয়ে চুপ করিয়ে দেয়।জায়ান একটু একটু করে লিয়ানার জামা কাপড় সব খুলে ফেলে মেঝেতে ফেলে দেয়।লিয়ানা শুধু লজ্জায় জায়ানকে আকড়ে ধরে বসে আছে।এভাবে জায়ানের সামনে নগ্ন অবস্থায় থাকতে তার লজ্জা পাচ্ছে।যদিও তার শরীরের কোনো কোনা কানিও বাদ নেই যা জায়ান দেখেনি। তার পরেও অস্বস্তিবোধ হচ্ছে লিয়ানার। বুক কেঁপে উঠছে বার বার।জায়ান লিয়ানার বক্ষে নিজের হাত বিচরণ করতে থাকে।সেখানে থাকা তিলক এ কামুড় বসাতেই লিয়ানা মুচড়ে উঠে যেতে নেয়।জায়ান লিয়ানাকে টেনে এনে ঘারে মুখ ডুবাতে ডুবাতে বলে,

“আই লাইক দিস্ পজিশন।”
জায়ানের শরীরের গরম উষ্ণতা ছড়িয়ে গেলো লিয়ানার সারা শরীরে।মোমবাতির আলো দুলে উঠলো হাওয়ার ঝাপটায়,কিছুক্ষন পরে তা নিভে গেলো।

এখনও সূর্যের আলো পুরোপুরি ধরা দেয়নি দিগন্তে। ভোরের হালকা কুয়াশা জানালার কাঁচ ঘেঁষে ভেতরে আসছিল। ঘরের আবছা আলোয় লিয়ানার নিঃশ্বাস ধীর আর ভারী হয়ে উঠছিলো।
লিয়ানার শরীর যেনো অদ্ভুতভাবে গরম হয়ে উঠছে। তার কপালে ছোট ছোট ঘামের বিন্দু জমেছে। মুখটা লালচে আভা ছড়াচ্ছে।
চমকে উঠে জায়ান তৎক্ষণাৎ হাত বাড়িয়ে লিয়ানার কপালে রাখলো। গরমে হাতটা যেন ঝলসে উঠলো।এক নিমেষে বুঝে গেলো জ্বর এসেছে।লিয়ানা অস্বস্তিতে কাতরাচ্ছিলো, দু’হাত বুকের কাছে টেনে নিয়ে হালকা গোঙানি দিচ্ছিলো।
জায়ানের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো।
সে এক মুহূর্তও দেরি না করে জায়ান লিয়ানার শরীরে কাপড় জড়িয়ে দিয়ে কোলে করে বেড রুমে নিয়ে গেলো। বিছানার পাশে বসে লিয়ানার মাথার চুল আস্তে সরিয়ে কপালে হাত রাখল আবার।কর্নার টেবিল থেকে একটা প্যরাসিটেমল ঔষধ বের করে খাইয়ে দিলো।তবে অনেক্ক্ষণ অপেক্ষা করেও জর নামার নাম না নেওয়ায়।জায়ান নিজের পার্সোনাল ডক্টর কে কল করে, তিনি বলেন আপাতত একটা অ্যান্টিবায়টিক ইনজেকশন দিয়ে দেখার জন্যে। কাজ না হলে হসপিটালাইজ্ট করতে হবে।

জায়ান নিজেও নিজের শরীরে ইনজেকশন পুষ করেছে বহুবার। তাই লিয়ানাকে দিতে তার অসুবিধা হবে না।লিয়ানা অচেতন ঘোরে অর্ধেক চোখ খুলে দেখে জায়ানের হাতে একটা ইনজেকশন। নিঃশ্বাসের ভেতরেই ভয় জমে যায় তার। বুক ধড়ফড় করতে থাকে।
!না না! ঠোঁট নাড়িয়ে ফিসফিস করে ওঠে সে। মাথা নাড়তে থাকে বারবার।জায়ান লিয়ানার কাঁপতে থাকা হাতটা আস্তে করে ধরে।পুষ করতে থাকে।

তোকে ছুয়েছি আঁধারে পর্ব ২৮

“আহহ!আস্তে ঢোকাবেন প্লিজ.. ব্যথা পাই আমি, অনেক ভয় করে।”
“একটু সহ্য করে নে সুইটহার্ট। বেশি ব্যথা লাগবেনা।চোখ বন্ধ করে এক থেজে দশ পর্যন্ত গুনতে থাক।আস্তেই দিবো।এটা পুষ না করলে ঔষধ কাজ করবে নাতো।”

তোকে ছুয়েছি আঁধারে পর্ব ৩০