তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২৯
তানিশা সুলতানা
ডাক্তার হা করে কিছু মুহুর্ত তাকিয়ে থাকে আবরারের মুখ পানে। আসলে সে হতভম্ব হয়ে গিয়েছে। দুই সেকেন্ড এর মাঝে কিভাবে ব্যাথা সারাবে?
তার ডাক্তারি বিদ্যায় এমন কোনো ওষুধ এখনো আবিষ্কার হয় নি। তবে সেটা স্পষ্ট সুরে আবরার তাসনিন কে বলার সাহস টাও তার নেই। অগত্য তাকিয়েই রয়েছে।
এতে যেনো আবরার বিরক্ত হলো। চোখ মুখ কুঁচকে বলে ওঠে
“হোয়াটস রং ইউথ ইউ?
এভাবে তাকিয়ে থাকার মানে কি?
ডাক্তার তাড়াহুড়ো করে চোখ সরিয়ে নেয় এবং আদ্রিতাকে চেকআপ করতে শুরু করে।
এক পর্যায়ে আদ্রিতার গালে হাত দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।
তবে ডাক্তারের সাহস হচ্ছে না। সে পূণরায় আবরারের পানে তাকিয়ে বলে
“আমি কি তাকে টাচ করতে পারি?
আবরার জবাব দিলো না। চুপ থাকা সম্মতির লক্ষণ ভেবে ডাক্তার গাল চেক করে।
সবশেষে কিছু ওষুধ লিখে দেয়।
এবং বলে
” নরম খাবার খাওয়াতে হবে তাকে। ঠিকঠাক মেডিসিন নিলে আজকে রাতের মধ্যেই ব্যাথা কমে যাবে অনেকটা।
কথাটা আবরার কে সন্তুষ্ট করতে পারলো না। কেবল সকাল দশটা।
রাত হতে অনেক সময় বাকি। আর নতুন সকাল হতে আরও অনেক সময় বাকি।
এতটা সময় ব্যথা নিয়ে থাকবে আদ্রিতা?
ইচ্ছে তো করছে ডাক্তারের মাথা ফাঁটিয়ে দিতে। কিন্তু ইতিমধ্যে চেম্বারের বাইরে রিপোর্টার এবং সাধারণ মানুষ জন জড়ো হয়ে গিয়েছে। কোনো সিনক্রিয়েট করলে সেটা ভাইরাল হতে খুব বেশি সময় লাগবে না।
তাই চুপচাপ আদ্রিতার হাত ধরে ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়ে পড়ে।
আবরারের লাল লাল চোখ দুটো দেখে রিপোর্টারদের সাহস হয় না কোনো প্রশ্ন করার। তারা শুধু কিছু পিকচার এবং করে রাখে।
সুইজারল্যান্ড এর জুরিখ শহরটা বিখ্যাত জুরিখ নদীর জন্য। এই নদীর একটা বিশেষত্ব রয়েছে
এটার পানি কখনো শুকায় না। মাটিতে থাকা চকমকে পাথরের ওপরে টলমলে পানি। এই পানি এতটাই স্বচ্ছ যে দেখলেই ইচ্ছে করে ছুঁয়ে দিতে।।
আবরার ব্রিজের পাশে গাড়ি থামায়। প্রথমে নিজে গাড়ি থেকে নামে পরে আদ্রিতাকে নামায় এবং ওর হাত ধরেই জুরিখ নদীর পানিতে পা ভিজিয়ে বসে।
আদ্রিতাও বসে পড়ে আবরার এর পাশে।
“কখনো কখনো স্পেশাল ফিল করান আবার কখনো হার্ট করেন।
আপনি এমন কেনো আবরার তাসনিন?
খুবই ধীর স্বরে বললো আদ্রিতা। হালকা হালকা আওয়াক বেরুচ্ছে তার গলা দিয়ে।
আবরার শুনলো তবে প্রতিত্তোরে কিছু বললো না। তার দৃষ্টি পানির পানে। যেনো পানির থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছুই আশেপাশে আর নেই।
আদ্রিতা হতাশ হলো। মুখ বাঁকিয়ে অন্য দিকে দৃষ্টি ফেরায়। এবং বলে
“আমাকে এতো আঘাত করিয়েন আবরার।
ছোট্ট একটা মানুষ আমি।
আপনার আঘাত সইতে না পেরে যদি মা/রা যাই।।
তখন দুঃখ দেওয়ার জন্য আমাকে আর কোথাও খুঁজে পাবেন না।
কথাটা শক্তপোক্ত আবরার এর কলিজায় আঘাত করলো। মুহুর্তেই তার দুই ভ্রু জোড়া কুঁচকে গেলো। পানি থেকে দৃষ্টি সরিয়ে তাকালো আদ্রিতার মুখ পানে।
দুই হাত বাড়িয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ছোট্ট দেহখানা। আদ্রিতা চমকালো। নিজ ঘাড়ে আবরার তাসনিন এর থুতনির অস্তিত্ব টের পেলো।
” ম/রে গেলে সহ্য করে নিতে পারবো।
কিন্তু জীবিত থাকতে অন্য কারো পাশে সহ্য করতে পারবো না।
স্পষ্ট স্বীকার উক্তি আবরারের। নেই কোনো জড়তা বা ভয়। ভালো লাগলো আদ্রিতার।
বুঝতে পারলো লোকটা জেলাস হয়েই ওমন করেছিলো। তবে কি তাকে আর একটু জেলাস করে দেয়া উচিত?
অবশ্যই উচিত
আমরা সবসময় মানুষের উইক পয়েন্ট খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। এবং একবার খুঁজে পেয়ে গেলে সব সময় ওই উইক পয়েন্ট এ আঘাত করার চেষ্টা করি।
আদ্রিতাও তার ব্যতিক্রম নয়।
তার পেটের উপরে থাকা আবরার তাসনিনের হাতের উপর নিজের হাত রেখে বলে
“তবে যাই বলুন টিশান কিন্তু হেব্বি কিউট। আই লাই
বাকিটা শেষ করতে পারে না। তার আগেই কামিজের ফাঁকা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিয়েছে আবরার। শক্ত হাতে খাবলে ধরেছে নরম উদর। সেই সঙ্গে ঘাড়ে ঠোঁট ছুঁয়িয়েছে।
কেঁপে উঠে আদ্রিতার সত্তা। নিঃশ্বাস ভাড়ি হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে ভয় করছে। খোলা জায়গা পাশেই রাস্তা।
এখন কেউ চলে আসলে কি লজ্জা জনক পরিস্থিতি তৈরি হবে।
কাঁপা-কাঁপা স্বরে বলে
” আবরার প্লিজজজ ছাড়ুন
কেউ দেখে ফেলবে।
আবরার ঘাড় থেকে ঠোঁট তুললো না৷ বরং সেভাবেই বলে
“সো হোয়াট?
আদ্রিতার রাগ হলো। সে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নেয় কিছু বলার উদ্দেশ্যে। কিন্তু বলতে পারে না। আবরার উদর ছেড়ে হাত খানা ওপরে ওঠানোর পায়তারা শুরু করে দিয়েছে।
আদ্রিতা চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে জোরে জোরে বলে ওঠে
” টিশান পৃথিবীর জঘন্য অসুন্দর ছেলে।
ছিহহহ কালা পাডার মতো দেখতে।
আবরার ছাড়া পৃথিবীতে সুন্দর কোনো ছেলেই নেই।
আই লাভ আবরার তাসনিন।
আবরার ঠোঁট বাঁকায়। ঘাড় থেকে ঠোঁট তোলে। সেই সঙ্গে কামিজের ভেতর থেকে হাত খানাও বের করে আনে।
তারপর শার্টের কলার ঠিক করতে করতে বলে
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ২৮
“আই নো দ্যাট
এ’ম বেস্ট হ্যান্ডসাম বয়।
আদ্রিতা আড়ালে মুখ বাঁকালো। মনে মনে বললো
” হ্যান্ডসাম না ছাই
হাতির মতো দেখতে
জল্লাদ হাতি কোথাকার।

Eto late Kore keu part dei
30 part kokhon asbe