তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৭
তানিশা সুলতানা
কয়েক ঘন্টার মধ্যে দামী কিছু ব্যান্ডের ৪ টা বাইক কিনে ফেলে আবরার। তার মধ্যে সব থেকে বেশি পছন্দ হয় “Yamaha R15M BS7”
সেই বাইক নিয়ে বের হয় আশপাশটা একটু ঘুরে দেখতে। সঙ্গে নিয়েছে এ্যানিকে। তার জন্যও কেনা হয়েছে হেলমেট।
প্রথমবার বাইকে উঠতে একটুখানি ভয়ই পাচ্ছিলো এ্যানি। তবে আবরার সঙ্গে আছে বলে বোধহয় ভয়কে জয় করে ফেললো।
লক্ষী বাচ্চার মতো বসে রইলো বাইকের সামনে।
বাকি চারজন ঘুমুচ্ছে।
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। আসমানে ক্ষণে ক্ষণে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।
রাস্তা খাট ফাঁকা। জনসংখ্যা নেই বললেই চলে।
এমন ফাঁকা রাস্তাই আবরারের পছন্দ।
এক্কেবারে কলেজের সামনে গিয়ে বাইক থামায় আবরার। প্রতি দিনের ন্যায় আজকে স্টুডেন্ট কম এসেছে।
যে কয়জন এসেছে সকলেই মাঠের মধ্যে আড্ডা দিচ্ছে।
বৃষ্টি মুখর পরিবেশে তারা ক্লাস করতে আগ্রহী নয়। টিচাররাও ক্লাস নিতে আগ্রহী নয়। শুধুমাত্র চাকরি বাঁচাতেই কলেজে উপস্থিত হয়েছে। নাহলে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাতো।
সুন্দর বাইক এবং হেলমেট পরিহিত সুদর্শন যুবক দেখে সবার নজর এই দিকেই।
আবরার প্রথমে এ্যানির হেলমেট খুলে দিলো। বাচ্চাটা এক লাফে নেমে পড়লো বাইক থেকে। ভেজা ঘাসের মধ্যে ছোটাছুটি করতে শুরু করলো।
আবরার যখন নিজের হেলমেট খুললো তখন সবাই চিৎকার করে উঠলো।
দৌড়ে এগিয়ে আসলো আবরারের দিকে। এটা ওটা অনেক কথাই বলতে শুরু করলো।।
ভিড়ের মধ্যে তিথিও ছিলো। সে কি বলছে সেদিকে মনোযোগ দিলো আবরার।।
“আদ্রিতার মুখে আপনার অনেক কথা শুনেছি + ফেসবুক, টিভিতে দেখেছি।
আপনি আমার ক্রাশ। কখনো সামনাসামনি দেখতে পাবো এক্সেপ্ট করি নি।
এতো ভিড় দেখে এ্যানি বোধহয় ভয় পেলো। সে এক লাফে বাইকে উঠলো। একটা মেয়ে এ্যানিকে কোলে নিতে গেলো।
সঙ্গে সঙ্গে আবরার গম্ভীর স্বরে বলে ওঠে
” ডোন্ট টাচ
মেয়েটা ভয় পেলো এবং দু পা পিছিয়ে গেলো।
বাকি সবার মুখও থমথমে হয়ে গেলো। আবরার তাসনিন কঠিন হৃদয়ের মানুষ। কখনোই নরম স্বরে কথা বলতে দেখা যায় নি তাকে।
তবে সামনাসামনি এতগুলো মেয়েকে দেখেও এমন ভাবে কথা বলবে কেউ আশা করেনি।
আদ্রিতা সকলের পেছনে ছিলো। হিংসা এবং রাগে তার শরীর জ্বলে যাচ্ছে।
কে বলেছে মহারাজকে কলেজে আসতে?
সব সময় শুধু নিজের সৌন্দর্য দেখানোর ধান্দা।
মেয়ে পাগল করতে হবে না?
আবরার সকলকে এড়িয়ে আদ্রিতা কে ঠিক খুঁজে নিলো। বাইক থেকে নেমে সবাইকে সাইট দিতে বলে সে আদ্রিতার কাছে আসলো।
এইবার নরম স্বরে বলল
“কথা আছে।
চলো আমার সাথে।
আদ্রিতা প্রতিত্তরে জবাব দিল না। বড় বড় পা ফেলে চলে গেলো।
আবরারও ওর পেছন পেছন যেতে থাকে।
কলেজে সবাই জানে তিথি এবং আদ্রিতা বেস্ট ফ্রেন্ড। তাই এবার সবাই তিথিকে থেকে চেপে ধরল। আবরার এবং আদ্রিতার মধ্যে কি সম্পর্ক জানতে চাইলো।
তিথি এক কথায় উত্তর দিল
” ওরা দুজন কাজিন।
আদ্রিতার মামাতো ভাই আবরার।
এবার সকলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।
পাত্তা দিক আর না দিক সুন্দর ছেলেদের গার্লফ্রেন্ড বা বউ আছে এটা মেনে নেওয়া সব থেকে বেশি কষ্টের।
আদ্রিতা একটা রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে ঢুকলো। একদম পেছনের সিটে গিয়ে বসলো। চিংড়ি মাছ দিয়ে রান্না করা নুডলস, বার্গার, কোল্ড কফি, আর পিজ্জা অর্ডার করলো।
আবরার আদ্রিতার পাশে বসলো। এ্যানি এক লাফে আদ্রিতার কোলে চলে গেলো। খানিকক্ষণ মুখের দিকে তাকিয়ে মিউ মিউ আওয়াজ তুললো। যেনো এতোদিন পরে মাকে দেখে সে খুবই খুশি হয়েছে।
আদ্রিতা ঠোঁট ডুবিয়ে চুমু খেলো এ্যানির শরীরে। সোনা মনা কলিজা কত আদরের নামে ডাকলো।
আবরার বিরক্ত হলো। সে চোখ মুখ কুঁচকে অন্যদিকে মুখ ফেরালো।
তখনই আদ্রিতা বলে উঠলো
“আপনি কি ইংরেজি পারেন না? ছোটবেলায় স্কুলে যাননি?
আমি যে ইংরেজিতে কাঁচা। আই, এম, বাট ইয়েস নো সরি এই কয়টা শব্দ ছাড়া আর কিছুই পারি না। তবুও তো হি এবং সি এর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারি। এ্যানি মেয়ে। আপনি সাংবাদিকদের হি বললেন কেনো?
আবরার ভ্রু কুচকে জবাব দিলো
” ও ছেলে।
আদ্রিতা আঙুল তুলে বলে উঠলো
“আমি বেশি জানি না কি আপনি?
ও মেয়ে। নাম দেখেও কি বোঝেন না?
আবরার বুকে হাত গুঁজলো। এতক্ষণে ওয়েটার খাবার নিয়ে হাজির। সবগুলো খাবার টেবিলে সাজিয়ে দিয়ে সে চলে গেল।
আদ্রিতা আবারি বললো
“ভুল করেছেন স্বীকার করুন।
আমি আর এ্যানি আপনাকে মাফ করে দেবো।
নিজের মুখে বলুন ও মেয়ে।
আবরার এবারেও স্পষ্ট স্বরে বলে
” নাহহ। ওকে ছেলে। আমি চেক করেছি।
আদ্রিতা চেক করতে চায়।
অ্যানি কে উল্টো করতে যেতেই আবরার চোখ পাকিয়ে তাকায়।
“ইডিয়েট
এটা পাবলিক প্লেস।
আশেপাশে তাকিয়ে দেখো কত মানুষ।
আদ্রিতা সত্যিই আশে পাশে তাকালো। ভালোই মানুষ। তবে আবরার যেভাবে বলল অত মানুষ নেই। তাও সে চেক করলো না।
আবরার ব্লাক কফি অর্ডার করেছিলো। তাতে চুমুক দিয়ে বলে
“আমি আর সিঙ্গেল থাকতে পারছি না।
ইমিডিয়েটলি বউ লাগবে।
এন্ড তোমাকে সেকেন্ড টাইম বিয়ে করতে চাই।
আদ্রিতা পিজ্জার স্লাইসে কামড় দিয়ে বলে
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৬
“প্রপোজ করছেন তো একটু সুন্দর করে করুন।
এভাবে হাতির মতো প্রপোজ করলে রিজেক্ট করে দেব।
“আমি কক্সবাজার যাচ্ছি আজকে। তিনদিন পর ফিরবো।
মেন্টালি এবং ফিজিক্যালি প্রিপারেশন নিয়ে রেখো। তোমার মামা না মানলে তাকে
আবরারের কথা শেষ হওয়ার আগেই আদ্রিতা বলে ওঠে
“কি করবেন?
মা/মা/মা/রি করবেন?
