তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৮
তানিশা সুলতানা
বাইক আদ্রিতার বড়ই প্রিয়।
তবে মজার ব্যাপার হলো এখন পর্যন্ত ও বাইকে ওঠেনি। বাবা বা মামার বাইক না থাকা এই স্বপ্ন কখনো পূরণ হয়নি।
আজকে মনে মনে আশা করে রেখেছে আবরারের সঙ্গে একটুখানি বাইকে ঘুরবে। খুব বেশি না হলে রেস্টুরেন্ট থেকে বাসা।
এইটুকু লিফট দিলেই হবে।
নিজের খোলা চুল গুলো হাত খোপা করে নেয়। বাইক উঠলে তো প্রচন্ড বাতাস লাগবে। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে যাবে না?
তারপর পিজ্জার লাস্ট স্লাইস মুখে পুরে বেরিয়ে যায় রেস্টুরেন্ট থেকে।
একদম বাইকের সামনে কে দাঁড়ায়।
আবরার বিল মিটিয়ে মিনিট দুয়েক পরে আসে। এসেই আদ্রিতার কোল থেকে এ্যানিকে নিয়ে নেয়। ওকে বাইকের উপর বসিয়ে ওর মাথায় হেলমেট পরিয়ে দেয়। তারপর নিজে বাইকে বসে। কপালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বড় বড় চুল গুলো পেছনে ঠেলে নিজে হেলমেট পড়ে।
আদ্রিতা বড়ই আশা করে আছে কখন তাকে বসতে বলবে।
তবে পাষাণ আবরার আদ্রিতার ইচ্ছেতে এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে কোন কিছু না বলে বাইক চালিয়ে চলে যায়।
চোখ দুটো বড় বড় হয়ে যায় আদ্রিতার। দাঁতে দাঁত চেপে কিছু মুহূর্ত তাকিয়ে থাকে আবরারের চলে যাওয়ার দিকে।
তারপর বির বির করে বলে
“জল্লাদ হাতি
আমি তোকে কোনদিনও বিয়ে করবো না। সারা জীবন সিঙ্গেল হয়েই থাক।
নিজের কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একদল মেয়ে এসে জেঁকে ধরে আদ্রিতাকে।
হাজারটা প্রশ্ন করে মাথা ধরিয়ে দেয়।
“আবরার তাসনিনের সঙ্গে আদ্রিতার কি সম্পর্ক?
উনি কি সিংগেল?
কিভাবে ওনাকে পটানো যাবে?
ওনার ফোন নাম্বারটা দাও।
আরও কতো কি।।
তিথি এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছে। মনে মনে ও সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। মেয়েদের ভিড় কমলে চুপি চুপি আবরারের নাম্বারটা নিয়ে নেবে আদ্রিতার থেকে।
এরই মাঝে বৃষ্টির স্রোত বাড়তে থাকে। এতক্ষণ গুরি গুরি বৃষ্টি নামলেও এবার ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ছে।
সবাই দৌড়ে চলে গেল কলেজের ভেতরে।
শুধু আদ্রিতা দাঁড়িয়ে রইলো।
প্রচন্ড মন খারাপ হচ্ছে ওর।
একটা মানুষের প্রতি সব মেয়েদের ইন্টারেস্ট কেনো থাকবে? কেনো তাকে সবাই চাইবে?
সবাই কেনো জানে না আবরার তাসনিন শুধু এবং শুধুমাত্র আদ্রিতা চৌধুরীর।
ওই একটা মানুষের প্রতি শুধু আদ্রিতার অধিকার রয়েছে।
আবরার কেনো সবাইকে জানাচ্ছে না?
এসব ভাবতে ভাবতেই চোখ দুটো ছলছল করে ওঠে আদ্রিতার।
সে বৃষ্টির মধ্যেই হাঁটতে শুরু করে।
কয়েক পা এগোনোর পরেই একটা বাইক এসে থামে আদ্রিতার সামনে। আদ্রিতা চমকালো। দু পা পিছিয়ে ভ্রু কুচকে তাকায়।
সিয়াম হেলমেট খুলে সব গুলো দাঁত বের করে হাসলো। তারপর বলে
” আব্বা বললো
তোমার না কি বাইকে ঘুরতে মন চাচ্ছে?
চলো তোমায় ঘুরিয়ে আনি।।
আদ্রিতার হাসি পেলো। লোকটা খেয়াল করেছে? তবে নিজে কেনো নিলো না?
প্রশ্ন খানা মনে উদয় হওয়ার সাথে সাথেই সিয়াম জবাব দিলো
“আব্বার কাজ পড়ে গিয়েছে। ইমপটেন্ট কাজ। চলো আমিও ভালো বাইক চালাতে পারি।
আদ্রিতার মন একদমই ভালো হয়ে গেলো। সব অভিযোগ অভিমান শেষ। তবুও একটুখানি রাগ দেখিয়ে বললো
” কে আপনার আব্বা?
“আবরার
” সে এতো বড় ছেলে পয়দা করলো কবে?
“এই তো আজকেই।
আম্মো প্লিজজ উঠো। ভিজে যাচ্ছো। জ্বর আসলে আমায় খু/ন করবে।
” আমি কারো আম্মো না।
“তোমাকে আম্মো না ডাকলো আব্বো আমাকে মে/রে ফেলবে।।
আদ্রিতা মুখ বাঁকালো। সিয়ামের হাতে থাকা হেলমেট নিয়ে মাথায় পড়ে নিলো।
তারপর বাইকে উঠে পড়লো।
সিয়াম শুকনো ঢোক গিললো।
কিছু মুহুর্ত আগে আরামসে ঘুমুচ্ছিলো সিয়াম৷ তখনই কল করলো আবরার।
রিসিভ করার সাথে সাথে প্রশ্ন করলো
“আমার বউ তোর কে হবে?
সিয়াম সরল মনে জবাব দিলো
” ভাবি
সঙ্গে সঙ্গে আবরার ধমকের স্বরে বলে
“ইডিয়েট তোর জিভ কে/টে কুত্তা দিয়ে খাওয়াবো।
সিয়াম বুঝতে পারলে না তার দোষটা কি। তাই জানার জন্য জিজ্ঞেস করল
” কি করলাম আমি?
“আমার বউ তোর মা হবে।
“কেমনে?
আমি জীবনেও মা বলে মানবো না।
অদ্রিতা আমার ক্রাশ। লাগলে জিভ কে/টে ফেল।
“ওকে
আমি আসছি।
ভয় পেলো সিয়াম। বিরক্তির স্বরে বলল
“আচ্ছা মানলাম
তোর বউ আমার মা।
এবার বল কি করতে হবে?
“তোর মায়ের বাইকে ঘুরতে ইচ্ছে করছে।
জানিসই তো আমি ব্যাড বয়। আমার সাথে ও সেফ থাকবে না।
ওকে একটু ঘুরিয়ে সেফলি বাসায় দিয়ে আসবি।
ব্যাসস কল কেটে যায়।
সিয়াম ফোন খানা জায়গামতো রেখে অলস ভঙ্গিমায় বিছানা ছাড়ে। কোনো রকমে ফ্রেশ হয়ে শার্ট গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে যায় বাসা থেকে।
আমান ইভান এবং আহাদ তখনও আরাম করে ঘুমোচ্ছে।
ওরা যাতে ঘুমাতে না পারে তাই কারেন্ট এর মেইন সুইচ বন্ধ করে দিয়ে যায়।
সিয়াম ঘুমাতে পারবে না আর বাকিরা ঘুমাবে।
এটা আবার হয় না কি?
সিয়াম খুব সুন্দর বাইক চালায়। একদমই ধীরেসুস্থে। আদ্রিতার বেশ মজা লাগছে।
সে দুই হাত মেলে দিয়ে চোখ বন্ধ করে উপভোগ করছে জার্নিটা।
তখনই ফোন বেজে উঠলো সিয়ামের। বেশ বিরক্ত হলে আদ্রিতা। বিরক্তির স্বরে বললো
” কোন পাডা কল করেছে?
সিয়াম পকেট থেকে ফোন বের করে বললো
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৭
“আমার আব্বো পাডা
দাঁত দিয়ে জিভ কাটলো আদ্রিতা।।
এভাবে সত্যি কথা কিভাবে বলে ফেললো?
ছিহহ ছিহহ ছিহহ
সিয়াম কল রিসিভ করে ফোনটা আদ্রিতার হাতে দিলো কথা বলার জন্য।
তখনই
