তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩৪
আশফিয়া হিয়া
আরু যেন এখন মুক্ত পাখি, পাখির মতোই সে এদিক ওদিক উড়ে বেড়াচ্ছে। ইচ্ছে মতো খাচ্ছে ঘুমাচ্ছে আর সুযোগ পেলেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। কাল রুদ্ধকে একবার বলেছিল তাকে ঘুরিয়ে আনতে প্রতিওরে রুদ্ধর শক্ত চোখের চাহনি দেখে তার আর কিছু বলার সাহস হয়নি। চুপচাপ মুখ ভেংচি কেটে চলে এসেছে। পরবর্তীতে আরু বাবাকে পাকড়াও করে ধরেছে তাকে ঘুরতে নিয়ে যেতেই হবে আজাদ শেখ শত ব্যস্তটার মাঝেও মেয়ের আবদার পুরণ করেছে। বাবা – মেয়ে মিলে সারাদিন ঘুরাঘুরি ও খাওয়া – দাওয়া করেছে। সে কথা আবার সে রুদ্ধকে ম্যাসেজ করেও বলেছে। রুদ্ধ ম্যাসেজ সিন করে রেখে দিয়েছে কোনো উওরই করেনি। আরু মাঝে মধ্যে মানুষটার ভাব দেখে অবাক হয়ে যায় একটা মানুষের কতগুলো রুপ থাকতে পারে? উনি তো গিরগিটির মতো নিজের রুপ বদলাতেই থাকে। আরুও এইবার ঠিক করেছে সেও রুদ্ধকে দেখে ভাব ধরে থাকবে তাকে এইভাবে ইগনোর করল যেনো সে কিছুই না।
আরু আজ রান্নাঘরে মায়ের পিছু ঘুরঘুর করছে, আজ সে বাড়ির সকলের জন্য কাচ্চি রান্না করবে, কথাটা শুনেই মিতা বেগম না করে দিয়েছে যেই মেয়েকে রান্না করে হারিকেন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না সে নাকি এতগুলো মানুষের জন্য রান্না করবে। আরু মায়ের পেছনে ঘুরঘুর করতে করতে বলল,
– ” ও আম্মু প্লিজ দাও না রান্না করতে, আমি একদম নষ্ট করবো না তোমরাও থেকো আমার সাথে।”
– ” একদম না আজকে সবার খাওয়াটাই মাটি হয়ে যাবে। যাও বিরক্ত না করে নিজের ঘরে যাও, কাজ করতে দে।”
আরু এবার অসহায় চোখে বড় মা ও ছোট মায়ের দিকে তাকাল। তারা নিজেরাও ভরসা পাচ্ছে না, আরুকে একা রান্না ঘরে ছাড়তে। আরু তাদের চোখ জোড়া দেখে বুঝল এখানেও বলে লাভ নেই। এরা কেউ তাকে রান্না করতে দেবে না। আশ্চর্য তাকে রান্না করতে না দিলে সে রান্নাটা শিখবে কি করে? বিয়ের পর কি সে এভাবে বসে থাকতে পারবে,রুদ্ধকে এটা ওটা রান্না করে খাওয়াতে হবে না? তখন তো সবাই তাকেই বলবে বাড়ির মেয়ে বলেই কোনো রান্না বান্না করে না মেয়েটা। না না সে কাউকে কোনো অভিযোগ করার সুযোগই দেবে না সে সব থেকে বেস্ট বউ হয়ে দেখাবে। আরু মুখ ভার করে ড্রয়িং রুমের সোফায় গিয়ে বসে পড়ল। রুদ্ধ ভোরবেলা কাজের জন্য বেরিয়েছিল, মেইন ডোর দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতেই তার চোখ জোড়া আরুতে স্থির হলো মেয়েটা সোফায় মুখটা ভার করে বসে আছে সাথে কি যেন বিরবির করছে। আশে – পাশে বাড়ির কেউ নেই যে যার কাজে ব্যস্ত আছে হয়ত। রুদ্ধ নিশব্দে আরুর পাশে গিয়ে বসল। রুদ্ধর পারফিউমের ঘ্রাণ পেয়েই আরু বুঝে গেছে রুদ্ধ এসেছে তবুও সে ফিরেও তাকাবে না ঠিক করছে। তার সাথে ভাব দেখানো, এবার সেও রুদ্ধকে পাট্টা দেবে না।
– ” আরু?”
– ” (………..)
– ” তোকে ডাকছি শুনতে পাচ্ছিস না?”
– ” (…………)
পরপর কয়েকবার আরু একই কাজ করল। রুদ্ধ রেগে আরুর হাত ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দিল। আরু তার দিকে একপলক তাকিয়ে মুখ ভেংচি কেটে সরিয়ে নিল। মুখের ওপর আরুর এমন ভেংচি কাটা দেখে রুদ্ধ কিছুটা থতমত খেয়ে গেল। মেয়েটার সাহস দিনদিন বাড়ছে, আগে তারদিকে তাকিয়ে ঠিক মতো কথাটাই বলতে পারত না আর এখন রীতিমত তার মুখের ওপর ভেংচি কাটছে। রুদ্ধ নিজেকে সামলে বলল,
– ” কি হয়েছে ডাকছি শুনতে পাচ্ছি না?”
– ” না শুনতে পাচ্ছি না, আপনি যেমন আমাকে ইগনোর করেন এখন থেকে আমিও তেমনটা করবো।”
রুদ্ধ ভ্রু কুঁচকে বলল,
– ” আমি কখন তোকে ইগনোর করেছি?”
আরু রেগে গিয়ে বলল,
– ” কাল আপনাকে ম্যাসেজ দিয়েছিলাম আমি আপনি কি করেছেন? একটা রিপ্লাইও দেননি আমাকে, যেন আমি আপনার কিছুই না। আমার একটা ম্যাসেজের জাবাব দেওয়ার মতোও সময়টুকু আপনার কাছে নেই।”
এক নাগাড়ে এতগুলো অভিযোগ করে থামল আরু। চোখ তুলে রুদ্ধর দিকে এক পলক তাকাতেই দেখল সে মিটিমিটি হাসছে। আরু চোখ রাঙিয়ে তাকাল। রুদ্ধর এই জিনিসটা দেখতেও ভীষণ ভালো লাগছে। ভেতরে ভেতরে হালকা প্রশান্তির হাওয়া বইয়ে চলেছে। আরুর চোখগুলো বেশ ডাগর ডাগর, যখন এভাবে চোখ রাঙিয়ে তাকায় রুদ্ধর তখন সেটা উপভোগ করতে ভীষণ ভালো লাগে।
– ” আপনার তো ভীষণ ইমপ্রুফমেন্ট হয়েছে ম্যাডাম, আগে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথার বলার সাহস আপনার ছিল না, আর এখন আমার সামনে বসে আমাকেই চোখ রাঙাচ্ছেন?” কথাটা বলেই রুদ্ধ ভ্রু নাচাল।
কথাটা শুনে আরু লজ্জা পেল খুব। আসলেই তো আগে রুদ্ধর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে গেলেই তার বুকের হ্দস্পন্দন বেড়ে যেত। ভয়ও পেত খুব এখন সেই মানুষটার সাথে কথা বলতেও তার কোনো ভয় কাজ করছে না। রুদ্ধ বলল,
– ” যেখানে তোর সব খবর আমার কানে আগে থেকেই পৌছে যায়, সেই খবর আবার নতুন করে শুনে কি রেসপন্স করতে পারি বল।”
– ” মানে..আমার সব খবর আপনার কাছে আগে থেকেই থাকে?”
– ” হুহ।”
আরু অবাক হয়ে বলল,
– ” কিভাবে?”
রুদ্ধ জবাব দিল না রহস্যময় হাসল। আরু তার হাত ঝাঁকাতে লাগল,
– ” বলুন না কিভাবে জানতে পারেন?”
রুদ্ধ আরু সোফায় একে অপরের মুখোমুখি হয়ে বসে আছে। আরু রুদ্ধর হাত ধরে কথা বলছিল। দুজনে অনেকটা কাছাকাছিই বসা ছিল। আসলাম শেখ নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এই দৃশ্য দেখে কেঁশে উঠলেন। ওনার কাঁশির শব্দ শুনতেই আরু ছিটকে সরে গেল। তবে রুদ্ধর মাঝে কোনো হেলদোল দেখা গেল না সে একদম স্বাভাবিকভাবেই বসে আছে। আরু দ্রুত নিজের রুমের দিকে চলে গেল। আসলাম শেখ ছেলের দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকালেন। রুদ্ধর উদ্দেশ্য গম্ভীর স্বরে বললেন,
– ” ছোট বোন হয় তোমার সেই চোখেই দেখতে শেখ।”
রুদ্ধ নিরুওাপ কন্ঠে বলল,
– ” অনেক আগে থেকেই বউয়ের নজরে দেখা শুরু করেছি,এখন আর বোনের নজরে দেখা সম্ভব নয়। কথাখানা বলেই সে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হেঁটে নিজের রুমে চলে গেল। আসলাম শেখ তাজ্জব বনে গেল। কি অসভ্য হয়েছে তার ছেলেটা বাবার সামনে কেউ এভাবে কথা বলে?
দুদিন পর,
আজ আসলাম শেখ তার বন্ধু রিয়াদ সাহেব ও তার পরিবারকে শেখ বাড়িতে দাওয়াত করেছেন। রিয়াদ সাহেব অনেকদিন ধরেই আসলাম শেখের সঙ্গে একান্তে কিছু আলাপ করতে চাইছিলেন তাই তিনি ভাবলেন আজই নিজেদের বাড়িতে বন্ধুকে ডেকে নেওয়া যাক। সেই মতোই শেখ বাড়িতে আজ রান্নার আয়োজন করা হচ্ছে। দুপুর একটায় বাড়ির অতিথিরা চলে এল। রিয়াদ সাহেবের এক মেয়ে এক ছেলে। বড় ছেলে রিশাদ এ বছর মাস্টার্স শেষ করেছে। ছোট মেয়ে রাএি রুহানির সমবয়সী। বাড়িতে অতিথি এসেছে শুনেই বাড়ির বড়রা সবাই ড্রয়িং রুমে উপস্থিত হয়েছে। আসলাম শেখ বাড়ির সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সকলের সাথে পরিচয় শেষে রিয়াদ সাহেব বললেন,
– ” রুদ্ধকে তো দেখছি না, বাড়িতে নেই?”
আসলাম শেখ বললেন,
– ” বাড়িতেই আছে, আসছে। ”
কিছুক্ষণের মাঝেই রুদ্ধ চলে এল। এসেই সবার উদ্দেশ্য সালাম দিল। রিয়াদ সাহেব সালাম গ্রহণ করে রুদ্ধকে উনার পাশে বসালেন। রুদ্ধকে দেখেই রাএি মেয়েটা কেমন লজ্জায় মিইয়ে গেল। আর চোখে কিছুক্ষণ পরপর রুদ্ধর দিকে তাকাচ্ছে সে। আসলাম শেখ এবার বাড়ির মেয়েদের ডাকলেন। তিন বোন ধীরে সুস্থে নিচে নামল। রিয়াদ সাহেব তিনজনকে দেখেই মাশাল্লাহ বলে উঠলেন। তিনজন যেয়ে রাএির পাশে বসল। চারজন পরিচিত হচ্ছিল। হঠাৎ আরুর প্রখর দৃষ্টি শক্তি বলছে কেউ তার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। আরু সামনের দিকে তাকাতেই দেখল রিশাদ তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বিষয়টি দেখতেই আরু থতমত খেয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল। রুদ্ধ শক্ত চোখে রিশাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আরুর প্রতি রিশাদের এই দৃষ্টি রুদ্ধ একদমই সহ্য করতে পারছে না, কিছু বলতেও পারছে না বাবার অতিথি এরা এসব নিয়ে সিনক্রিয়েট করলে বাবার অসম্মান হবে। আরুর দৃষ্টি রুদ্ধর দিকে যেতেই দেখল সে রিশাদের দিকে শক্ত চোখে চেয়ে আছে আরু শুক্ন ঢোক গিলল। তার যা বোঝার বুঝা হয়ে গেছে। রুদ্ধর এবার আরুর সাথে চোখা – চোখি হলো রুদ্ধ শক্ত চোখেই আরুকে ইশারা করল উপরে যেতে। আরু পড়েছে মহাঝামেলায় সে এখন উঠে গেলে খারাপ দেখায় না? আরু বুদ্ধি করে রাএিকে বলল,
– ” চলো আপু আমরা ওপরে যায়।’ রাএিও রাজি হয়ে গেল। তারা তিনজন ওপরে চলে গেল। রিশাদের মুখটা চুপসে গেল। মেয়েটাকে দেখতেও তার ভীষণ ভালো লাগছিল।কেমন গোল – গাল, বাচ্চা বাচ্চা একটা মুখ।
দুপুররের খাওয়া – দাওয়া কিছুক্ষণ আগেই শেষ হয়েছে। আরু, রুহানি, আহি তিনজন রাএিকে নিয়ে ছাদে এসেছে। আরু বেশকিছুক্ষণ যাবৎ খেয়াল করছে রাএির আগ্রহ সবটা রুদ্ধকে ঘিরেই । সে রুদ্ধকে নিয়ে অনেকগুলো প্রশ্ন করেছে, যেটা আরুর একদমই ভালো লাগছে না। সে মুখটা থমথমে করে চুপচাপ রেলিং এর ওপরে বসে আছে। আরুদের ছাদের রেলিং খুব চওড়া আলতো করে বসলে পড়ে যাওয়ার খুব একটা ভয় নেই। আকস্মিক নিচ থেকে রুদ্ধর কথা শুনে আরু চমকে পেছনে তাকাল। রুদ্ধ বাগান থেকেই আরুকে ধমকে বলল,
– ” রেলিং এ বসেছিস কেনো? তোকে মানা করেছি না? ভেতরে যা।” রুদ্ধর সাথে রিশাদ ও ইয়াজ ও ছিল। রুদ্ধ বাধ্য হয়েই রিশাদকে নিয়ে বাগানে এসেছিল। আরুকে রেলিং এ বসে থাকতে দেখে রুদ্ধ চিন্তত হলো মেয়েটা যদি পড়ে যায় তখন কি হবে সেই খেয়াল আছে এই মেয়ের?
রিশাদ এতক্ষণ আরুকেই দেখছিল। আরুও এবার তার দিকে তাকাল। রিশাদ আরুকে দেখে হালকা হাসল, সেটা রুদ্ধর চোখে পড়তেই রুদ্ধ আবারও ধমকে উঠল,
– ” কি হলো আমি ভেতরে যেতে বলেছি তো।”
ব্যাস আরু তড়িঘড়ি করে রেলিং থেকে নেমে ছাদের ভেতরের দিকে চলে গেল। রাএি আরুকে বলল,
– ” উনি বোনদের খুব শ্বাসন করে তাই না?”
আরু ভ্রু কুঁচকে বলল,
– ” উনি কে?” রুহানি ও আহিও প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে রাএির দিকে চেয়ে। ওদের দৃষ্টি দেখে রাএি লজ্জা পেয়ে বলল,
– ” রুদ্ধ। ”
রুদ্ধের নাম শুনতেই আরুর থমথমে মুখ আরও থমথমে করে ফেলল। রুদ্ধ ভাই কি ওর ছোট নাকি কেমন নাম ধরে ডাকছে দেখো। মুখটাও কেমন লাজুক বানিয়ে রেখেছে। আহি রাএিকে শুনিয়ে বলল,
– ” বড় ভাইয়া সবাইকে শাসন করে তবে আপুকে একটু বেশিই চোখে চোখে রাখে।” বলেই মিটিমিটি হাসল।
রাএি অবুজ স্বরে বলল,
– ” কেনো? আরু বুঝি খুব দুষ্টমি করে?”
– ” না না তা না আছে কিছু একটা পরে এমনিতেই জানতে পারবে। ”
রুহানি বলল,
– ” এখন এসব কথা থাক চলো আমরা নিচে যাই।”
আরু ফোণের চার্জারটা ইয়াজের রুমে রেখেছিল। সে এক ফাঁকে নিজের রুম থেকে বেরিয়ে ইয়াজের রুমের দিকে যেতেই রিশাদের সাথে দেখা হয়ে গেল। রিশাদ ইয়াজের রুমেই বিশ্রাম নিচ্ছিল। সেটা আরু জানত না, জানতে কি আর সে এখানে আসত এখন তো হুট করে সরে যেতেও পারছে না। রিশাদ আরুকে দেখে হালকা হেসে বলল,
– ” তোমার নাম আরু তাই না?”
– ” জ্বী।”
– ” তুমি দেখতে খুব মিষ্টি।” আরু অপ্রস্তুত হেসে বলল,
– ” ধন্যবাদ। আমার একটু কাজ আছে আমি আসি।” আরু যেতে নিলে রিশাদ তাকে পিছু ডাকল। আরু ঘুরে তার দিকে তাকাতেই সে বলল,
– ” তোমার ফেসবুক একাউন্টের নাম কি?”
– ” ফেসবুক আমার তো কোনো ফেসবুক নেই।” রিশাদ অবাক গলায় বলল,
– ” এই যুগের মেয়ে হয়ে তোমার ফেসবুক নেই? আচ্ছা বেশ তাহলে মোবাইল নাম্বারটা দাও।”
– ” আমার তো মোবাইল ও নেই ভাইয়া সবে এইচএসসি দিয়েছি তো এখনই মোবাইল দিবে না বলেছে।”
রিশাদ আরও কিছু বলবে তবে রুদ্ধকে আসতে দেখে চুপ হয়ে গেল। রুদ্ধ শক্ত চোখে আরুর দিকে চেয়ে রইল। আরু ভয়ে ঢোক গিলল। রুদ্ধ রিশাদকে বলল,
– ” তোমাকে নিচে খুঁজছে। ” রিশাদ আরুর দিকে একপলক তাকিয়ে নিচে চলে গেল। রিশাদ নিচে যেতেই রুদ্ধ তার হাত চেপে ইয়াজের ঘরে নিয়ে এল। রুদ্ধ আরুকে দরজার সাথে চেপে ধরে শান্ত স্বরে বলল,
– ” এত কিসের কথা হুম?”
– ” আমি তো কথা বলতে চাইছিলাম না উনিই তো বলছিলেন।”
– ” এখন আর নিচে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, মনে থাকবে?”
– ” হুহ।” রুদ্ধ তার হাত ছেড়ে দিল। আরু রুদ্ধকে বলল,
– ” শুনুন?”
রুদ্ধ ভ্রু উঁচিয়ে তাকাল। আর বলল,
– ” রাএি আপুর থেকে দূরে দূরে থাকবেন।”
– ” কেনো?”
আরু মুখটা থমথম করে বলল,
– ” উনি কেমন আপনার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে আমার একদমই ভালো লাগে না।”
রুদ্ধ আকস্মিক আরুর কোমর জরিয়ে ধরে নিজের কাছে টেনে নিল। আরু নিমিষেই চোখ জোড়া বন্ধ করে ফেলল। রুদ্ধ বৃদ্ধাঙ্গুল আরুর চোখ জোড়ায় ছুঁইয়ে বলল,
– ” তাকা আমার দিকে আরু।”
আরু ধীরে – সুস্থে চোখ জোড়া খুলতেই রুদ্ধর সাথে তার দৃষ্টি মিলিত হলো। রুদ্ধ বলল,
– ” এই অসম্ভব সুন্দর চোখ জোড়ার দৃষ্টির মায়ায় আমি যেদিন থেকে পড়েছি, ঠিক সেদিন থেকেই অন্য কোনো নারীর দিকে আমার চোখের দৃষ্টি পড়াটাও আমি নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছি।”
আরুর চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ল। এই মানুষটা তাকে কখনো ভালোবাসি শব্দটুকু বলেনি, তবুও প্রতিটি কথায়, কাজে তাকে বুঝিয়ে দিচ্ছে রুদ্ধ ঠিক কতটা ভালোবাসে আরুকে। আরু রুদ্ধর বুকে আছড়ে পড়ল। রুদ্ধও তাকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়েছে।
বাড়ির অতিথিরা চলে গেছে সেই সন্ধ্যা বেলায়। ড্রয়িং রুমে আপাতত বাড়ির বড়রা উপস্থিত আছেন। রুদ্ধ সোফার এক কোণে গম্ভীর মুখে বসে আছে। আসলাম শেখ সবাইকে ডেকে পাঠিয়েছেন তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে চান।
মিতা বেগম রুমা বেগমকে বললেন,
– ” ভাইজান কি বলতে পারে বলো তো আপা?”
– ” কি জানি আমি তো নিজেও বুঝতে পারছি না।”
আরু আহি রুহানি ইয়াজ ও উপস্থিত আছে সেখানে। তারা চারজন এক জোট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আজাদ শেখ বললেন,
– ” কি বলবেন ভাইজান?”
– ” বলছি।” তিনি রুদ্ধর দিকে এক পলক তাকিয়ে ধীরে – সুস্থে বলতে শুরু করলেন,
– ” আমার বন্ধু রিয়াদকে তো আজ দেখলেই তোমরা ও আমাকে অনেকদিন ধরেই একটা প্রস্তাব দিচ্ছিল আমি এতদিন খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি, তবে আমার মনে হয় এখন বিষয়টা নিয়ে ভাবার সময় এসে গেছে।”
রুদ্ধর মুখ ক্রমশই শক্ত হয়ে উঠছে, সে খুব ভালোই বুঝতে পারছে বাবা কোন বিষয়ে কথা বলবে। সকলের আগ্রহের দৃষ্টি আসলাম শেখের ওপর নিবদ্ধ যেন তারা অপেক্ষা করছে তার পরবর্তী কথা শোনার জন্য। আজাদ শেখ বললেন,
তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩৩
– ” কিসের প্রস্তাব ভাইজান?”
– ” রিয়াদ তার মেয়ে রাএিকে রুদ্ধ বউ করতে চাইছে।”
কথাটা শুনা মাএই আরুর হৃদপিণ্ড ধ্বক করে উঠল। চোখ জোড়া ছলছল করছে যেন এখনই চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়বে। আহি রুহানি ও ইয়াজের দৃষ্টি আরু ও রুদ্ধ দিকেই নিবদ্ধ। এরই মাঝে সবাইকে অবাক করে দিয়ে রুদ্ধ উঠে দাঁড়াল। আরুর পাশে দাঁড়িয়ে তার এক হাত নিজের হাতের মুঠোয় ভরে নিল। রুমা বেগম ও ছোটরা বাদে সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাদের দিকেই তাকিয়ে রইল।
