Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩৮

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩৮

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩৮
আশফিয়া হিয়া

পৃথীবীর বুকে রাএি নেমেছে। পুরো আকাশ মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে তার সাথে বাতাসের ছন্দে পৃথিবী ঠান্ডা হয়ে আছে। চারদিকে শীতল বাতাস বিরাজমান, এই শীতল বাতাসে আরুর মন – প্রাণ সবটা জুড়ে আরোও শীতলতা ছড়িয়ে পড়েছে। আরুর ঘরের বেলকনিটা বিশাল বড় তার এক প্রান্তে দোলনা জুলছে। এই দোলনা তার ভীষণ শখের। আরুর বয়স তখন বছর পনেরো, রুদ্ধ তখন ২৪ বছরের এক যুবক। আবেগ অনুভূতি বোঝার পর থেকেই আরু কিভাবে যেন রুদ্ধতে মেতে উঠল। তার ধ্যান – জ্ঞান সমস্তটা জুড়ে তখন রুদ্ধর বসবাস। তার কম বেশী সব আবদারই রুদ্ধ পূরণ করেছে। মুখে ধমক দিলেও পরবর্তীতে সেই জিনিসটাই রুদ্ধ তার সামনে হাজির করে ফেলত, আরুর তখন খুশির অন্ত থাকত না।

সে বার তাদের তিন বোনকে নিয়ে রুদ্ধ পার্কে গিয়েছিল, যদিও সে নিয়ে যেতে চায়নি তাদের তিন বোনের কান্না- কাটিতে এক প্রকার বাধ্য হয়েই নিয়ে গেছিল। দোলনা দেখে আরুর কি খুশি ফাঁকা পেয়ে দোলনায় বসে ইচ্ছে মতো দোল খেতে লাগল মেয়েটা, রুহানি আহি তাকে টেনেও নামাতে পারেনি, তাদেরও তো উঠার ইচ্ছে হয়েছে তবে আরুর জন্য পারেনি। আহি তখন এগারো বছরের কিশোরী মেয়েটা ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে ফেলেছিল। মেয়েটার কান্না দেখে শেষমেষ তাকে ধমক দিয়ে রুদ্ধ দোলনা থেকে নামিয়েছিল। আরু পুরোটা রাস্তা মুখ বেজার করে বসেছিল,সেখানে তো আরোও অনেক মানুষ ছিল সবার সামনে এভাবে বকবে? সেই অভিমান থেকে রুদ্ধর সাথে কথাও বলেনি পুরো একদিন, রুদ্ধ সেসবে পাওা দেয়নি তবে একদিন পরে ঠিকই তার ঘরের বারান্দায় এই দোলনাটা লাগিয়ে দিয়েছিল। আরুর সেদিন কি খুশি, খুশির চোটে সে দুবার খাবার একবেলায় খেয়ে নিয়েছিল।বাড়ির সবার এই নিয়ে কি হাসি, রুদ্ধও সেইদিন শব্দ করে হেসে ফেলেছিল। আর আরু সে লজ্জায় মুখটা কাঁচুমাচু করে মুখ ডেকে বসেছিল। এসব কথা ভাবতে ভাবতেই মেয়েটা হেসে ফেলল, রুহানি তার কাঁধে ধাক্কা দিয়ে বলল,

– ‘ হাসছিস কেনো?’
আরু দুদিকে মাথা নেড়ে কিছু না বোঝাল। আরুর ঘরের বারান্দার একপাশে মেয়েরা ফোমের বিছানা করে সেখানে চাদর বিছিয়ে বসার জন্য জায়গা তৈরী করেছে। দেয়ালগুলোতে লাইটিং করেছে,বারান্দাটা এখন বেশ ঝলমলে দেখাচ্ছে। রুহানি আহির সাথে তাদের অন্যান্য কাজিনরাও আছে। পার্লার থেকে দুজন মেয়েকে আনানো হয়েছে যারা তাদের সকলের হাতে মেহেদী পড়িয়ে দেবে। সবাই আরুকে রুদ্ধকে নিয়ে ক্ষেপাচ্ছে, আরু রাগ দেখালেও লজ্জা পাচ্ছে খুব। আরুর মামাতো বোন পিহু বলল,
– ‘ কবে থেকে রুদ্ধ ভাইয়ের প্রেমে ডুবে ডুবে জল খাচ্ছিস শুনি?’
আরুকে কিছু বলতে না দিয়েই আহি বলল,
– ‘ কবে থেকে কি বলছো? কত বছর বয়স থেকে সেটা বলো আগে তো আমি তেমন বুঝতেই পারতাম না, আমার ছোট মাথায় কি আর এসব ঢুকে, তবে বুঝ হওয়ার পর থেকেই আপুর হাবভাব দেখেই আমি বুঝতে পেরে গিয়েছিলাম।’
রুহানি তার পিঠে হাত বুলিয়ে বলল,

– ‘ ওরেএএএ আমার ছোট্টো বাবুটা রে। ‘ বলেই সে খিলখিল করে হেসে ফেলল। তার দেখাদেখি বাকিরাও হাসল। আরুর বান্ধুবী জেরিন বলল,
– ‘ তোমার বিয়েটা কবে খাচ্ছি বলো তো আপু?’
রুহানি লজ্জা পেয়ে বলল,
– ‘ আমি কি জানি?’
আহি লাফিয়ে উঠে বলল,
– ‘ আমি জানি আমি জানি।’
আরু তাকে ভেঙ্গিয়ে বলল,
– ‘ এসেছে আমাদের বাড়ির সব জান্তা, আমাদের বাড়ির সব খবর একমাএ ওনার কাছেই থাকে।’
আহি ভাব নিয়ে বলল,
– ‘ এইটার জন্যও গুণ থাকতে হয় যেটা তোমাদের নেই হুহ।’

আরুর দুহাত ভর্তি করে মেহেদি পড়িয়ে দেয়া হয়েছে। শুধুমাএ নাম লেখার জায়গাটুকু ফাঁকা। পার্লারের মেয়েরা নাম লিখে দিতে চাইলেও আরু মানা করেছে এইটুকু সে আপাতত ফাঁকায় রাখতে চাইছি। বাকিরা আরুর কান্ড দেখে মিটিমিটি হাসছে তারা ঠিকই বুঝতে পেরেছে আরু কি চাইছে। তৎক্ষনাএ বেলকনির দরজায় ঠকঠক শব্দ ও কারোর গলা খাঁকারির আওয়াজ শোনা গেল। সকলে দরজার দিকে তাকাতেই রুদ্ধকে দেখে নিশব্দে হাসল। রুদ্ধর সাথে সরাসরি মজার করার সাহস তাদের নেই, আরু রুদ্ধকে এই সময় একদমই আশা করেনি এখানে, কিছুটা অবাক হয়েছে মেয়েটা। তবে আহি রুদ্ধকে তেমন ভয় টয় পায় না, বাড়ির সবচেয়ে ছোট সদস্য সে রুদ্ধর খুব আদরের, আহির ক্ষেএে তার মুখ দিয়ে একটা ধমক ও বের হয় না। আরুর এতে হায়- হুতাশের শেষ নেই, তাকে কথায় কথায় ধমকায় সেখানে আহিকে কিছুই বলে না, একদিন রুদ্ধর মুখের ওপর বলেও ফেলেছিল সেই কথা। রুদ্ধ সেদিন ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর গলায় বলেছিল,

– ‘ আহিকে যেই নজরে দেখি, তুই কি চাস তোকেও সেই নজরে দেখি?’
আরু সেদিন বুঝতে পারেনি কথাটা অনেক ভাবনা – চিন্তা করার পর যখন মাথায় কেচ করল, মেয়েটার পুরো শরীর শীতল হয়ে গিয়েছিল।
আহি গিয়ে রুদ্ধর সামনে দাঁড়ল। কোমরে হাত রেখে ভ্রু নাচিয়ে বলল,
– ‘ এখানে কি ভাইয়া?’
রুদ্ধ হাত দ্বারা ঘাড় ডলে আহিকে বলল,
– ‘ সবাইকে নিয়ে একটু বাইরে যা তো, আমার এখানে একটু দরকার আছে।’
আহি টেনে টেনে বলল,
– ‘ সবাইইইইইইকে নিয়ে যাব?’
রুদ্ধ মুখের ওপরেই বলল,
– ‘ আরুকে রেখে সবাইকে নিয়ে যাবি।’
তার সরাসরি সিকারক্তিতে বাকিরা হাসল, আরু লজ্জায় মুখটা কাঁচুমাচু করে রেখেছে। রুদ্ধকে দেখেই অজানা কারণভশত তার ভীষণ লজ্জা করছে। আহি রুদ্ধ হাত ধরে রুমের ভেতরে নিয়ে গেল সকলের আড়ালে। রুদ্ধকে বলল,

– ‘ এমনি তো যেতে দেয়া যাবে না ভাইয়া, আগে আমার প্রাপ্য আমাকে বুঝিয়ে দাও।’ কথাখানা বলেই নিজের ডান হাত পেতে দিল। রুদ্ধ তার চাওয়া বুঝতে পেরে মাথায় আলতো করে চাটি মারল। মানিক ব্যাগ বের করে পাওয়াটুকু বুঝিয়ে দিল। এরপর শান্ত স্বরে বলল,
– ‘ আধঘন্টার আগে কেউ যেন এই রুমে না আসতে পারে বুঝিছিস?’
– ‘ ডোন্ট ওয়ারি কাজ হয়ে যাবে।’
আহি বেলকনিতে গিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করে ফেলল, পার্লার থেকে আনা মেয়েগুলোকে রুহানির রুমে পাঠিয়ে দিল, বাকিদের সেখানেই মেহেদি দিয়ে দিতে বলল। সবাইকে রুহানির রুমে পাঠিয়ে দিয়ে দরজার কাছে ফ্লোরে বসে আয়েশ করে মোবাইল চাপতে লাগল । আধঘন্টা বসে বসে এখন পাহারা দেবে।

সকলে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই রুদ্ধ বারান্দায় এল। আরুর দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতে থাকতেই মেয়েটার পায়ের কাছে বসে পড়ল। আরুর দু হাত নিজের হাতের ওপর নিয়ে তাকিয়ে রইল অনিমেষ। আরুও সেই নিঁখুত মুখখানায় এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। হঠাৎ রুদ্ধর কপালে ভাঁজ সৃষ্টি হলো। আরুর চোখেও তা স্পষ্ট ধরা পড়ল। রুদ্ধ হাতের দিকে তাকিয়েই করল,
– ‘ হাতটা পরিপূর্ণ লাগছে না কিছু একটা মিসিং মনে হচ্ছে।’
আরু অবুজ থাকার ভান করে বলল,
– ‘ ঠিকই তো আছে।’
রুদ্ধ ঠোঁট কামড়ে বলল,
– ‘ উঁহু এই হাত জোড়ায় আমার নামটা জ্বলজ্বল করার কথা ছিল, সেটায় তো নেই।’
আরু মুচকি হাসল। নিজের পাশে থাকা মেহেদীর কোণটাকে ইশারা করে বলল,
– ‘ যার নাম আমার হাতে জ্বলজ্বল করা উচিত ছিল সেই বরং নামটা লিখে দিক?’
রুদ্ধ নিশব্দে হাসল। আরুর পাশ থেকে মেহেদীর কোণ উঠিয়ে নিজের হাতে নিল,এরপর খুব আলতো করে আরুর মেহেদীতে রাঙানো হাত দিয়ে খুব সুন্দর করে লিখে দিল,

_রুদ্ধ _
সত্যিকার অর্থেই আরুর মনে হলো এই মেহেদী এতক্ষণ তার হাতে ফুটেই উঠেনি। রুদ্ধর নাম লেখার পরেই তার হাতের মেহেদী পূর্ণতা পেয়েছে। রুদ্ধ এবার সম্পূর্ণ হাতে দৃষ্টি বুলিয়ে বলল,
– ‘ নাও পারফেক্ট। ‘
আরু হাসল রুদ্ধ মন ভরে সেই হাসিমাখা মুখখানে দেখে হুট করে আরুর কপালে গভীর ভাবে ঠোঁট ছোঁয়ালো। আরু আবেশে চোখ জোড়া বন্ধ করে নিল। রুদ্ধ কপাল থেকে ঠোঁট সরিয়ে আরুর মুখের দিকে দৃষ্টি দিল। তার দৃষ্টি জোড়া আটকে গেল আরুর ঠোঁটের দিকে, আরু ঠোঁটে লিপগ্লোস দিয়েছিল তাই সেখানটা চিকচিক করছে, রুদ্ধ সেখানে হাত বুলিয়ে বলল,
– ‘ কি দিয়েছিস এখানটাই এমন চিকচিক করছে কেনো?’
আরু কিছু বলবে, তবে রুদ্ধর সেটা শোনার ধৈর্য হলো না সে আরুর ঠোঁট জোড়া নিজের ঠোঁটের ভাজে নিয়ে নিয়েছে। আরুর চোখ দুটো বড়বড় হয়ে গেল।

আহি এখনো আরুর ঘরের দরজার সামনে দরজার সাথে হেলান দিয়ে বসে মোবাইল টিপছে। মিতা বেগম সকাল থেকে ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন একই বাড়িতে দুই ছেলে – মেয়ের বিয়ে বাড়িতে কি কম কাজ রয়েছে তাদের উল্টো ডাবল কাজ করতে হচ্ছে। তবে তার একটাই স্বস্তি তার মেয়েটা তার কাছেই থাকছে। ভাবলেন মেয়েটাকে একবার দেখে আশা যাক বাচ্চারা সবাই মিলে মেহেদী দিবে আনন্দ করছে সেখানে বড়দের থেকে কাজ নেই তাই তারা কেউ আর ওপরেও আসেননি। আরুর দরজার সামনে আহিকে এভাবে বসে থাকতে দেখে তিনি ভারী অবাক হলেন। আহি তখনো মাকে খেয়াল করেনি তার ধ্যান – জ্ঞান সবটাই তখন মোবাইলে নিবদ্ধ। মিতা বেগম মেয়ের সামনে এসে বললেন,
– ‘ কি ব্যাপার তুই এভাবে এখানে বসে আছিস কেনো?’
মায়ের গলার আওয়াজ পেতেই আহি চমকে, লাফিয়ে উঠল। আমতা আমতা করে বলল,
– ‘ ম.. মা তুমি এখানে?’
– ‘ হ্যাঁ আরুটাকে দেখতে এলাম, এত কাজ মেয়েটাকে একটুও সময় দিতে পারছি না। তুই এখানে বসে আছিস কেনো? দেখি সর আমি ভেতরে যাব।’
– ‘ না না এখন যেয়ো না। আপু তো ওয়াশরুমে গেছে, আমাকে বলল এখানেই থাকতে, আমার ঘরে ভালো লাগছিল না তাই বাইরেই বসে আছি।’
মিতা বেগম ভ্রু কুঁচকে বললেন,

– ‘ ঠিকাছে বুঝেছি সর আমাকে যেতে দে, এখানে বসে না থেকে নিচে যা, তোর বাবা রসমালাই নিয়ে এসেছে খেয়ে আয়, আর আরুর জন্যও বাটিতে করে নিয়ে আসবি মেয়েটা খুব পছন্দ করে।’
আহি স্বাভাবিকে তুলায় একটু চেঁচিয়ে বলল,
– ‘ ঠিক আছে মা যাচ্ছি।’ কথাটা বলেও দরজা থেকে নড়ল না।
মিতা বেগম এবার রেগে গেলেন,
– ‘ এক চড় মারব এখনো নড়ছিস না কেনো দরজা থেকে? সমস্যা কি তোর।’ তাদের গলার স্বর ইয়াজের কানেও পৌছে গেল। ইয়াজ দুজনকে এভাবে দেখে মিতা বেগমকে বলল,
– ‘ কি হয়েছে মেঝো মা?’
– ” এই মেয়ে কি শুরু করেছে দেখ তো আমাকে আরুর ঘরে ডুকতে দিচ্ছে না, কেমন চিৎকার করে কথা বলছে দেখ মনে হচ্ছে আমি কানে শুনি না।দিন দিন ফাজিলের চূড়ায় উঠে যাচ্ছে মেয়েটা।
– ‘ কি সমস্যা এমন করছিস কেনো?”

তৎক্ষনাত আরুর ঘরের দরজা খুলে স্বাভাবিকভাবেই রুদ্ধ বেরিয়ে এল। তাকে দেখে মিতা বেগম থতমত খেয়ে গেল। এতক্ষণ তার মানে ভেতরে রুদ্ধ ছিল? ইয়াজ একবার মিতা বেগমের দিকে তাকাচ্ছে তো একবার রুদ্ধর মুখের দিকে তাকাচ্ছে। শেষমেষ বিয়ের আগের দিন হবু বউয়ের সাথে দেখা করতে এসে ভাইয়া এভাবে ধরা খেল? ইয়াজ খুব কষ্টে নিজের হাসিটা চেপে রেখেছে। রুদ্ধ তাকে হাসতে দেখলে খবর করে ছাড়বে। আহি মুখটা কাঁচুমাচু করে দাঁড়িয়ে আছে একপাশে। রুদ্ধ গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
– ‘ আসলে আরুর কাছে আমার খুব প্র‍য়োজনীয় একটা জিনিস রয়ে গেছিল সেটায় নিতে এসেছিলাম। ‘ কথাটা বলে সে আর দাঁড়াল না নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। মিতা বেগম চুপচাপ আরুর ঘরে ডুকে পড়ল।
ইয়াজ আহির নাক টেনে ধরে বলল,
– ‘ তোর অন্য কোনো কাজ নেই? সারাদিন এইসব করে বেড়াচ্ছিস।’
– ‘ বর্তমানে এইটাই আমার পেশা বুঝেছো? এসব করেই আমাকে ইনকাম করতে হয়।’ পর মুহুর্তে কিছু একটা মনে পড়ায় ইয়াজের হাত নাক থেকে সরিয়ে বলল,
– ‘ আমি তোমার সাথে কথা বলছি কেনো, আমি তো ভুলেই গেছিলাম আমি তোমার ওপর রেগে আছি হুহ্।’ আহি নিচে চলে গেল রসমালাই খেতে। ইয়াজ তব্দা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই একটা পিসকে কোথা থেকে আনল মেজো মা?

আরু নিজেকে স্বাভাবিক করে বেডে বসে আছে। রুদ্ধ তার অবস্থা একেবারে নাজেহাল করে ছেড়েছে। আর একটু হলে দম আটকেই মরে যেত মেয়েটা। তখন আহির সঙ্গে মায়ের গলার আওয়াজ পেতেই রুদ্ধ ছেড়ে দিয়েছিল তাকে। মায়ের সামনে কি লজ্জায় পড়তে হলো ছিহ্ ছিহ্ কথাটা ভাবতেই অস্বস্তিতে গাট হয়ে বসে আছে মেয়েটা।মিতা বেগম অবশ্য সেসব নিয়ে কিছুই বললে না। তিনি মেয়ের পাশে বসে মাথাটা বুকে জড়িয়ে নিল। আরুও মাকে জড়িয়ে ধরল । মাকে কাছে পেয়ে আরু নিজের জমানো আবেগগুলো মায়ের কাছে প্রকাশ করে ফেলল। মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল মেয়েটা। মিতা বেগম কেঁদে ফেলল। বিয়ে একটা মেয়ের জীবনে অদ্ভুত এক পরিবর্তন বয়ে আনে৷ চাইলেও মেয়েটা আগের মতো চলতে পারে না। তার জীবনটা দায়িত্বে বাঁধা পড়ে যায়। মিতা বেগম মেয়েকে খুব সুন্দর করে সংসার সম্পর্কে বুঝিয়ে দিল। আরুও লক্ষী মেয়ের মতো মাকে জড়িয়ে ধরে সব কথা শুনতে লাগল।
আহি কিচেন কাউন্টারের ওপরে বসে আয়েশ করে রসমালাই খাচ্ছে। চামচ দিয়ে একের পর পর টপাটপ করে নিজের মুখে পুরছে। ইয়াজ কিচেনের দেয়ালে হেয়াল দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আহি দেখবার দেখে ভেংচি কেটে খাওয়ায় মনোযোগী হলো। ইয়াজ গলা খাঁকারি দিল। তবে আহি কোনো সারাশব্দ করল না সে খাওয়ায় ব্যস্ত। ইয়াজ এগিয়ে এসে তার পাশে বসে পড়ল। আহিকে কাঁধ উঁচিয়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলল,

– ‘ রাগ কমেনি?’
– ‘ না।’
– ‘ কি করলে রাগ কমতে পারে?’
আহি রসমালাই খেতে খেতেই জবাব দিল,
– ‘ তুমি আমার অনুভূতিকে অপমান করেছো, এই রাগ সহজে কমবে না।’
ইয়াজ বিজ্ঞের মতো মাথা নেড়ে বলল,
– ‘ এটা তো আমার খুব অন্যায় হয়েছে, তার জন্য কানে ধরে সরি বলছি চলবে?’
আহি তার দিকে তাকাতেই সে দু কানে হাত দিল ঠোঁট উল্টে সরি বলল। আহি তার ঠোঁট উল্টানো দেখে হাসি পেলেও হাসল না। হাসিটা কোনোরকম চেপে বলল,
– ‘ যেটা পারো না সেটা করতে যাও কেনো, এভাবে কেউ ঠোঁট উল্টায়?’
ইয়াজ সরল মনেই বলল,

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩৭

– ‘ ঠিক বলেছিস, আমি তো তোর মতো ঢং করতে জানি না তাই আমার তা হচ্ছে না।’
আহি রাগে কটমট করে তার দিতে চাইল। ভুল কথা বলে ফেলেছে বুঝতে পেরেই ইয়াজ দাঁত দ্বারা জ্বিভ কাটল। আহি রসমালাইয়ের বাটিটা ফেলেই হনহনিয়ে চলে গেল। ইয়াজ নিজের মাথায় চাপড় মেরে, আহির রেখে যাওয়া অবশিষ্ট মিষ্টিগুলো খেতে খেতে বিরবির করল,
– ‘ আমার কি দোষ, যেই মেয়ের সাথে সারা জীবন ঝ*গড়া, মা*রামা*রি করে এসেছি তাকে এত মিষ্টি মিষ্টি কথা বলা সম্ভব?’

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here