Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৪০

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৪০

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৪০
আশফিয়া হিয়া

বিয়ে বাড়ি মানেই সে সেখানে আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে বিষন্নতা ও কষ্টের মিশ্রণ থাকে। তবে আজ শেখ বাড়িতে কষ্ট বা বিষন্নতার ছায়ামাএ নেই। সকলেই ভীষণ খুশি ও আনন্দিত। বাড়ির মেয়ে বিয়ে করে বাড়িতেই থাকছে, সারাজীবন মা- বাবার চোখের সামনে থাকবে, এর চেয়ে আনন্দের কিছু আপাতত নেই। বিয়ের স্টেজ খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। রুদ্ধ বিয়ের স্টেজে বসা। তার পাশে বন্ধুরা ও ইয়াজ রয়েছে। এর মধ্যেই মেয়েদের হাসাহাসি ও পদধ্বনি কানে যেতেই রুদ্ধর হৃৎপিন্ড কেঁপে উঠল। কাল রাত থেকেই চেনা অনুভূতির অজানা আনন্দোলনে রুদ্ধ ভেতরটা ভীষণ জোরে কাঁপছে। ছোট মেয়েটা যাকে সে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসে সেই মেয়েটা তার বউ হবে? ভাবতেই হৃৎস্পন্দন হাজারগুণ বেড়ে গেল। রুদ্ধর এহন অবস্থা দেখে ফারিশ ফিসফিস করে বলল,

– ‘ বউয়ের পায়ের শব্দ শুনেই যদি আমার শালা সাহেবের এই অবস্থা হয়, তবে বউকে দেখে তোর কি অবস্থা হবে ভাবতে পারছিস?’
রুদ্ধ তার দিকে তাকাতেই সে মিটিমিটি হাসতে লাগল। পদধ্বনি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রুদ্ধ সেদিকে ফিরতেই থমকে গেল। আরুর পরনের তার পছন্দ করা সেই ডার্ক মেরুন রঙের শাড়ি। মাথায় মুখ পর্যন্ত ঘোমটা টানা যার কারণে মুখটার দেখা পেল না। দু হাত ভর্তি অলংকারের রিনিঝিনি শব্দ ঠিকই তার কানে পৌছাল। ঘোমটার আড়াল থেকে আরু রুদ্ধকে স্পষ্ট দেখতে পেল। মানুষটার পরনে সাদা শেরওয়ানী, মাথায় পাগলি। সব মিলিয়ে রুদ্ধকে আরুর কাছে নিজের সপ্নে দেখা রাজকুমারের মতো মনে হচ্ছে।
আরুর বসার জন্য স্টেজ থেকে কয়েক হাত দূরে আলাদা জায়গা তৈরী করা হয়েছে। বিয়ে পড়ানো শেষ হলেই দুজনকে একসাথে স্টেজে বসানো হবে। দুজনের বসার জায়গার মাঝে পর্দা দিয়ে আলাদা করা হয়েছে। আরুকে সেই পর্দারর আড়ালে বসানো হলো। আরুর এক পাশে আহি ও অন্য পাশে রুহানি দাঁড়িয়েছে। মেয়েটা এদিক ওদিক তাকিয়ে মা – বাবাকে খুঁজল। অজান্তেই তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। মিতা বেগম মেয়ের অবস্থা বুঝতে পেরে আরুর পাশে গিয়ে তাকে জড়িয়ে নিল। আজাদ শেখও মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে জরিয়ে ধরলেন।
এবার বিয়ে পড়ানোর পালা কাজি সাহেব সব নিয়ম কানুন পালন করে রুদ্ধকে কবুল বলতে বললেন তিনবার৷ রুদ্ধ সময় না নিয়েই ফটাফট কবুল বলে ফেলল। কাজি সাহেব থতমত খেয়ে গেল। বিয়েতে সাধারণত বর কবুল বলতে মিনিট খানেক সময় নেয় সেখানে এত ফটাফট কবুল বলে ফেলল। রুদ্ধর কান্ড দেখে সকলেই হেসে ফেলল। আহি শব্দ করে হেসে বলল,

– ‘ বড় ভাইয়া আর অপেক্ষা করতে পারছে না।’
রুদ্ধ পর্দার আড়াল থেকেই তার দিকে চোখ তুলে তাকাতেই মেয়েটা মুখে আঙুল দিয়ে চুপ হয়ে গেল। সাদমান রুদ্ধর পাশ থেকে ফিসফিসিয়ে বলল,
– ‘ শালা একটু মান – সম্মান রাখ, বুঝেছি তোর বিয়েতে অনেক তাড়া তাই বলে এইভাবে ফটাফট কবুল বলে দিবি একটু ভাব ধরে তো থাকতেই পারতিস তাই না?’
রুদ্ধও ভ্রু কুঁচকে বলল,

– ‘ বিয়ে করতে এসেছি এখানে ভাব নিয়ে বসে থাকার কিছু তো দেখছি না।’
এবার আরুকে কবুল বলতে বলা হলো। মেয়েটা কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে কবুল বলে দিল। আরু কবুল বলার সঙ্গে সঙ্গে রুদ্ধ স্বস্তির শ্বাস ফেলল। অবশেষে তাদের দুজনের পরিণয়ের খাতা পরিপূর্ণ হলো। তৎক্ষনাত চারিদিকে বাতাস শুরু হলো, যেন প্রকৃতিও আজ তাদের পরিণয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।
রুদ্ধকে এবার তাদের মাঝের পর্দা সরিয়ে আরুর ঘোমটা তুলতে বলা হলো। রুদ্ধ উঠে দাঁড়াল পর্দা তুলে আরুর দিকে এগিয়ে গেল। আরুর হাত – পা অচেনা অনুভূতিতে কাঁপতে লাগল। রুদ্ধ তার ঘোমটা তুলতেই থমকে গেল। চোখ জুড়ে শীতলতা ভর করল। আরুর দৃষ্টি নিচের দিকে নিবদ্ধ রুদ্ধর চোখে চোখ রাখার আজ তার সাহস হচ্ছে না। কপালে ঠোঁট জোড়া চেপে ধরার ইচ্ছে হলেও সেটা করতে পারল না। বাবা – চাচা, মা – চাচী সকলেই সামনে রয়েছেন। রুদ্ধ আরুর দিকে নিজের হাত বারিয়ে দিল। আরু কাঁপা কাঁপা হাতে রুদ্ধর হাতে হাত রাখল। রুদ্ধ তার হাত ধরে দাঁড় করাল। রুদ্ধর হাতের মাঝেই আরুর এক ফোটা চোখের পানি গড়িয়ে পড়ল। রুদ্ধ সে দৃশ্য দেখতেই নিজের হাত উঠের আরুর চোখের পানি মুছিয়ে দিল। প্রত্যকের চোখেই রয়েছে তাদের দুজনকে ঘিরে একরাশ মুগ্ধতা।

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে অনেক আগেই। আরুকে নিজের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মিতা বেগম মেয়ের জন্য খাবার নিয়ে এসে খাইয়ে দিল। এত মানুষের মাঝে মেয়েটা খেতেও পারবে না তাই বাড়িতেই খাইয়ে দিয়েছে। অন্যান্য অতিথিরা খাওয়া – দাওয়ায় ব্যস্ত। ইয়াজ নিজের ঘরে এসেছিল কিছু প্রয়োজনীয় কাজে ঘর থেকে বের হতেই কারোর মিনমিনে স্বরে ডাক শুনতে পেয়ে পেছনে ফিরে তাকাল। রুহাকে দেখতে পেয়ে তার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,
– ‘ তুমি এখানে, কিছু বলবে?’
– হুম।’
– ‘ বলে ফেলো?’
রুহা মুখের ওপরেই প্রশ্ন করল,
– ‘ আপনার গার্ল ফ্রেন্ড আছে?’
ইয়াজ ভ্রু কুঁচকে বলল,
– ‘ হঠাৎ এসব বলছো কেনো?’
– ‘ বলুন না?’ তার কন্ঠে স্পষ্ট মিনতি।
– ‘ না।’
রুহা খুশিতে গদগদ হয়ে গেল। চোখ বন্ধ করে এক নিশ্বাসে বলল,

– ‘ আমার আপনাকে ভীষণ ভালো লাগে। আই লাভ ইউ।’
ইয়াজ ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। বয়স কত এই মেয়ের? আহির এক – দু বছরের ছোট হবে, এভাবে মুখের ওপর প্রপোজ করে দিল। কোনো ভয় – ডর নেই। ইয়াজ বলল,
– ‘ বয়স কত তোমার? আই লাভ ইউর কি বোঝ তুমি?’
রুহা ফট করে বলল,
– ‘ আই লাভ ইউ মানে আপনাকেই বুঝি। ইয়াজ হতবাক হয়ে গেল এইটুকু মেয়েটার কি পাকা পাকা কথা। পুরো আহিটার মতো। অবশ্য হবে নাই বা কেনো? মামাতো বোন তো দুজনের মিল না থেকে যাবে কোথায়? ইয়াজ বলল,
– ‘ ছোট ছোটর মতো থাকবে বুঝেছো? আমার গার্ল ফ্রেন্ড নেই তবে বউ আছে বুঝেছ, আমার বউ কিন্তু খুব ডেঞ্জারাস, আমাকে কেউ প্রোপস করেছে জানতে পারলে সেই মেয়ের চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলবে।
রুহা ভীত হল সাথে হৃদয়খানা ভেঙ্গে চুড়মার হয়ে যাওয়াই কষ্ট পেল খুব। এই বয়সের মেয়েরা ভীষণ আবেগী হয়। রুহার চোখ দুটো ছলছল করে উঠল। ইয়াজের দেখে খারাপ লাগলেও কিছু বলল না। একটু সময় দিলেই মেয়েটা ঠিক হয়ে যাবে তার ধারণা এটা।

রুদ্ধ ফ্রেশ হয়ে বন্ধুদের নিয়ে ছাদে এসেছে। তার ঘর ছোটরা মিলে সাজাচ্ছে এখন প্রবেশ করা বারণ। তাই ছাদে এসেছে। সাদমান পকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরাল। তার দেখাদেখি তুষারও একই কাজ করল। সাদমান বলল,
– ‘ কিরে এক টান মারবি নাকি?’
– ‘ না।’
তুষার হেসে বলল,
– ‘ আরেএ বুঝিস না কেনো আজ সিগারেট খেলে আরু ওর পাশেই ঘেষবে না।’
সাদমান ও ফারিশ হাসল। সাদমান ভ্রু নাচিয়ে বলল,
– ‘ তা মামা বিড়াল কি আজ রাতেই মারবা।’ রুদ্ধ কটমট করে তাকাল। ফারিশ বলল,
– ‘ সাবধানে ভাই আরু কিন্তু বাচ্চা মানুষ।’
– ‘ সেটা আমি বুঝে নিব।’
তুষার বলল,

– ‘ আরে ছাড় তো কাকে কি বলছিস আমার তো মনে হয় এই শালা আরুকে একটা কিস ও করতে পারবে না,আর সেখানে তোরা ভাবছিস ও আজ বাসরটাই সেরে ফেলবে।’
রুদ্ধ এদের কথায় পাওা না দিল না, সে পুরো ছাদ জুড়ে পাইচারী করতে লাগল। মেয়েটাকে দেখার জন্য তার ভেতরটা কেমন ছটফট করছে।
আরু রুদ্ধর ঘরেই ফ্রেশ হয়েছে । রুহানি তাকে সুন্দর করে লাল রঙয়ের সুতি শাড়ি পড়িয়ে দিল। মুখে কোনো সাজসজ্জা নেই। দু হাতে স্বর্ণের চুড়ি ও গলায় চেইন। ভেজা চুলগুলো ছেড়ে দেয়া। রুদ্ধ রুহানিকে আগেই বলে দিয়েছিল। রাতের খাবার আরুকে খাইয়ে দিতে রুহানি সেই মতো আরুকে খাবার খাইয়ে বেড এ বসিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। আরু অস্বস্তিতে বার বার ঘেমে যাচ্ছে। তার শরীরটা প্রচন্ড পরিমানে কাঁপছে। বেডের দিকে তাকিয়ে নিশব্দে হাসল একদিন রুদ্ধই তাকে বলেছিল আমার ঘরে আসবি না। আজ সেই ঘরেই তার রাজত্ব। এই ঘর ও ঘরের মালিক সবটায় আরুর নিজের। রুদ্ধর জন্য অপেক্ষা করতে করতে বিছানার এক কোণায় গুটিগুটি হয়ে শুয়ে পড়ল।
রুদ্ধ ছাদ থেকে নেমে নিজের ঘরের দিকে হাঁটা দিল। দরজার সামনে যেতেই ভ্রু জোড়া কুঁচকে ফেলল। তার দরজার সামনে আহি রুহানি ইয়াজ সহ তাদের আরোও কয়েকজন কাজিনরা দরজা আটঁকে দাঁড়িয়ে রয়েছে। রুদ্ধ গম্ভীর স্বরে বলল,

– ‘ সামনে থেকে সর, আমি ভেতরে যাব।’
আহি এগিয়ে এসে বলল,
– ‘ এভাবে তো যাওয়া চলবে না ভাইয়া আগে আমাদের প্রাপ্যটা আমাদের বুঝিয়ে দাও।’
– ‘ কিসের প্রাপ্য? ‘
রুহানি বলল,
– ‘ নতুন বউয়ের কাছে যেতে হলে টাকা ছাড়তে হবে এটাই নিয়ম।’
– ‘ কে বানিয়েছে এই নিয়ম? আমার বউয়ের কাছে আমি যাবো এতে টাকার দিতে যাবো কেনো?’
রুহা এগিয়ে এসে বলল,
– ‘ এটাই নিয়ম ভাইয়া।’
ইয়াজ বলল,
– ‘ তাড়াতাড়ি টাকাটা দিয়ে দাও তো ভাইয়া ঘুমে আমার চোখ জ্বলে যাচ্ছে। ‘
রুদ্ধ ভ্রু উচিয়ে বলল,
– ‘ কত দিতে হবে?’
আহি ফট করে বলে দিল,
– ‘ ৩০ হাজার।’ ইয়াজ সাথে সাথে তার মাথায় গাট্টা দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
– ‘ গাঁধা একটা আগেই বলে দিলি কেনো আমি আরোও বেশি বলতাম।’ আহি নিজের মাথায় চাপর মারল, আসলেই তার মাথায় বুদ্ধি নেই।
রুদ্ধ বলল,

– ‘ আমার হাতে এখন ক্যাশ নেই ঘরে আছে, ঘর থেকে এনে দিচ্ছি।’
রুহানি অবিশ্বাসের স্বরে বলল,
– ‘ তুমি ঘরে গিয়ে যদি আর টাকা না দাও?’
– ‘ তোর আমাকে ধান্দাবাজ মনে হচ্ছে?’
রুহানি দু পাশে মাথা নেড়ে না বোঝাল। আহি আত্মবিশ্বাসের স্বরে বলল,
– ‘ আরেএ যেতে দাও ভাইয়াকে, ভাইয়া এমনটা করবে না আমি জানি।’
সকলে সরে দাঁড়াল, রুদ্ধ নিজের ঘরে প্রবেশ করে বিছানায় দৃষ্টি যেতেই থমকে গেল। হৃদস্পন্দন দূত গতিতে বিট করতে লাগল। আরু তার বিছানার গুটিগুটি হয়ে শুয়ে আছে ঘুমিয়ে পড়েছে বোধ হয়। রুদ্ধ আলমারি থেকে টাকাটা বের করে বাইরে চলে এল। টাকাটা ইয়াজের হাতে ধরিয়ে দিয়েই মুখের ওপর দরজা আটকে দিল। সকলেই ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল, কাহিনী এত দ্রুতই ঘটেছে যে কেউ কিছু বলার সুযোগ হয়নি।
রুদ্ধ বিছানার কাছে গিয়ে গলা খাঁকারি দিল। আরু ধরফর করে উঠে বসল। রুদ্ধকে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে থতমত খেয়ে বলল,

– ‘ সরি সরি চোখটা একটু লেগে গিয়েছিল।
রুদ্ধ কিছু বলল না এই নিয়ে শুধু বলল অযু করে আসতে, আরু জানাল সে অযু করেছে। রুদ্ধ মাথা নেড়ে জায়নামাজ নিয়ে এল দুজন দু রাকাত নফল সালাত আদায় করল। আল্লাহর নিকট রহমত ও শুকরিয়া আদায় করল দুজন দুজনকে পাওয়ায়।
নামাজ শেষ হতেই আরু বেড সাইড টেবিল থেকে মিষ্টি প্লেটটা নিয়ে রুদ্ধকে বলল,
– ‘ বড় মা বলেছে আপনি এলে মিষ্টি খাইয়ে দিতে।’
রুদ্ধ তার দিকে এগিয়ে এসে প্লেটটা নিয়ে আগের জায়গায় রেখে বলল,
– ‘ মিষ্টি খাব তো, তবে আজ কোনো কৃএিম মিষ্টি নয় আমার জন্য তৈরী বিশেষ মিষ্টি খাব।’
আরু অবুজ স্বরে বলল,

– ‘ বিশেষ মিষ্টি?’
রুদ্ধ তৎক্ষনাৎ এসে মেয়েটাকে কোলে তুলে নিল। আরু হকচকিয়ে উঠল,কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগেই আরুর পিঠ বিছানায় ঠেঁকে গেল। নিজের গায়ের ওপর রুদ্ধর ভর টের পেতেই লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নিল। রুদ্ধ তার গলায় মুখ ডুবিয়ে লম্বা এক শ্বাস টানল। আরু কেঁপে উঠে রুদ্ধর পিঠের টি শার্ট খামছে ধরল। রুদ্ধ আরোও একবার শ্বাস টেনে বলল,
– ‘ ইউর সেন্ট মেইকস মি ফিল লাইক ইউ’র ওনলি মাইন।
আরু রুদ্ধর মাথা দু হাতে আগলে নিয়ে বলল,
– ‘ আপনাকে আজ অন্যরকম লাগছে কেনো?’
রুদ্ধ তার চোখে চোখ রেখে ভ্রু উচিয়ে বলল,
– ‘ অন্যরকম বলতে?’
– ‘ ইউ আর লুকিং লাইক মাই হ্যাসবেন্ড। ‘

রুদ্ধ নিশব্দে হাসল তার কথা তাকেই ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে? রুদ্ধ আরুর ছোট মুখটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে হুট থেকে কপালে ঠোঁট জোড়া চেপে ধরল। বেশ অনেকটা সময় পর কপাল থেকে ঠোঁট সরাল। এরপর দু চোখের পাতায়, নাকের ডগা, দু গালে চুমু দিল। আরু রুদ্ধকে বাঁধা দিয়ে বলতে চাইল,
– ‘ শুনুন আমার স… তবে তার কথা রুদ্ধ শুনলে তো? আরুর ঠোঁট জোড়া আঁকড়ে ধরল। আরুর শ্বাস নিতে পারছে না তবুও রুদ্ধর ছাড়ার নাম নেই। শেষমেষ যখন ছাড়ল আরু জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল।সমস্ত কায়া জুড়ে রুদ্ধর হাতের স্পর্শ অনুভব করতেই মেয়েটা বুঝে গেল আজ আর তার কোনো ছাড় নেই। রুদ্ধ নিজের টি – শার্ট খুলে ফেলল। আরুর শাড়ির আঁচলে হাত দিতেই আরু চোখ – মুখ খিঁচে বলল,
– ‘ লাইটটা বন্ধ করুন প্লিজ।’
রুদ্ধ উঠে গিয়ে লাইট অফ করে ড্রিম লাইট জ্বেলে দিল। আরুর সমস্ত শরীর জুড়ে আকাঙ্খিত পুরুষের স্পর্শ বইতে শুরু করেছে । আরু একট সময় পর সবটা স্বয়ে নিল। খামছে ধরল রুদ্ধর উদাম পিঠ।

আহি রুহানি ও রুহা এক ঘরে শুয়েছে। মাঝরাতে রুহার ফ্যাঁচ ফ্যাঁচে স্বরে কান্নার শব্দ পেতেই আহি বিরক্ত হয়ে উঠে বসল। রুহানি গভীর ঘুমে তার এতদিকে হুশ নেই। আহি রুহাকে ঠেলে বলল,
– ‘ কি হয়েছে এমন ফ্যাঁচফ্যাঁচ করছিস কেনো?’
রুহা ঠোঁট ভেঙ্গে কেঁদে দিয়ে বলল,
– ‘ ইয়াজ ভাইয়াকে প্রপোজ করেছিলাম, আমাকে রিজেক্ট করে দিল। বলেই নাক টানতে লাগল।
ইয়াজকে প্রপোজ করেছে শুনেই আহি রাগে কটমট করে উঠে বলল,
– ‘ ভালো করেছে।’
রুহা আরোও কেঁদে ফেলল। আহির এবার খারাপ লাগল। চোখ মুছিয়ে বলল,

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৩৯

– ‘ থাক কাঁদিছ না তোর জন্য আরোও হ্যান্ডসাম ছেলে খুঁজে দিব। ঔই বাঁদরের কথা তোর মনেও পড়বে না।’ পরপরই বলল তোকে কি বলে রিজেক্ট করেছে?’
– ‘ বলেছে তার বউ আছে, আমি তাকে প্রপোজ করেছি জানতে পারলে চুল টেনে ছিড়ে ফেলবে।’
আহির হাসি পেলেও হাসল না, মেয়েটা এভাবে কাঁদছে হাসাটা ঠিক হবে না। অনেক কষ্টে হাসি চেপে মনে মনে ভাবল,
– ‘ কত বড় ফাজিল ছেলে ভাবা যায়?’

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৪১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here