Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৪৩

দাহশয্যা পর্ব ৪৩

দাহশয্যা পর্ব ৪৩
Raiha Zubair Ripti

সোলেমান ইতস্তত হয়ে মিয়াচির সামনে দাঁড়ালো। মিয়াচি কুয়ো থেকে জল তুলে সেই র’ক্তাক্ত চাদর টা সাবান পানিতে ভেজাচ্ছে। সোলেমানের মুখটা দেখার মতন ছিলো। কি বাজে সিচুয়েশনেই না তাকে পড়তে হলো। এমন সিচুয়েশনে সে এর আগে কখনও পড়ে নি। সোলেমান গলা ঝেড়ে বলল-
-” শুনুন।
মিয়াচি শব্দ করে বালতি টা হাত থেকে মাটিতে রেখে বলল-
-” কও।
-” আপনাদের ব্যাংক একাউন্ট আছে?
মিয়াচি সাথে সাথে সোলেমানের দিকে ঘুরলো।
-” আমাগো দেইখা মনে হয় তোমার আমাগো ব্যাংক একাউন্ট আছে?
-” বিকাশ?
-” হ ঐ টা আছে। আমার পুলা মাঝেসাঝে টাকা পাঠায়।
-” ওটাই দিন তাহলে।
মিয়াচি সন্দিহান চোখে চেয়ে বলল-
-” ক্যান কি করবা? টাকা মাইরা দিবা? মাত্র ১০০ টাকাই আছে বিকাশে।
সোলেমান এত অপমানিত বোধ হলো যা বলার বাহিরে। তাকে কি চোর মনে হয়?

-” আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে। আমি আপনার টাকা মে’রে দিব না। আপনি নম্বর টা দিন।
মিয়াচি তার স্বামীর ফোনটা এনে বলল-
-” তোমার কি বিকাশ নাই নাকি? ভোটার আইডি কার্ড নাই তোমার? একটা খুইল্লা নাও। আমার টা নিয়া টানাটানি করতাছো ক্যা?
-” নম্বর টা দিন।
মিয়াচি ফোনটা এগিয়ে দিয়ে বলল-
-” বের কইরা লও। আমি কি মুখস্থ করে রাখছি নাকি।
সোলেমান ফোনটা থেকে নম্বর টা তুলে তার ব্যাংক একাউন্ট থেকে মিয়াচির একাউন্টে ১০ হাজার টাকা ট্রান্সফার করলো। তারপর মহিলার হাতে ফোনটা দিয়ে বলল-
-” নিন হয়ে গেছে।
মিয়াচি ফোন উল্টেপাল্টে দেখে বলল-
-” কি হইয়া গেছে?
-” টাকা ট্রান্সফার।
মিয়াচি কপাল কুঁচকে রেগে বলল-
-” ১০০ নিয়া নিছ বেডা?
সোলেমান কপালের এক পাশ স্লাইড করলো বা হাত দিয়ে। কোনো জবাব না দিয়ে রুমে আসলো। মেহরিন কে বসা থেকে উঠিয়ে বলল-

-” চলো যাওয়া যাক।
বাহিরে বেরিয়ে দেখলো চেংকিম ও এসে গেছে। তারা দুজনেই ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে। সোলেমান তাদের সামনে দাঁড়িয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলল-
-” আপনাদের ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাচ্ছি না। আপনারা দু’জন কাল আশ্রয় না দিলে হয়তো অনেক বড় কিছুই হয়ে যেত আমাদের সাথে। আপনাদের এই উপকার ভুলবো না আমি।
মিয়াচি তার ভেজানো চাদর টার দিকে তাকিয়ে বলল-
-” তোমাগোও জীবনে ভুলমু না আমি। যেই অকাম কইরা যাইতাছো। জীবনে আর মাইনসের বাড়ি গিয়া এইসব কইরো না। আবার বিপদে পড়লে আমাগো বাড়িতেই আইসো। অন্য বাড়ি না যাইয়া। আসার আগে বইলা দিও। চাদর রেডি কইরা রাখমু।
চেংকিম বউয়ের হাত টেনে থামিয়ে দিলো। সোলেমান চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো। মহিলার সামনে যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ ই মহিলা কথা শুনিয়ে শুনিয়ে সোলেমান কে মে’রেই ফেলবে। কি ধার কথায় বাপ্রে।
চেংকিম বউকে সাইডে টেনে বলল-

-” মাথা টা কি একেবারে নষ্ট হইয়া গেছে? বেডায় তো টাকা দিলো।
-” কই দিছে টাকা? কিসের টাকা দিছে?
-” বিকাশে।
-” কত?
-” ১০ হাজার।
চোখ বড়বড় হয়ে গেলো মিয়াচির। এগিয়ে এসে বলল-
-” এই বেডা টাকা ক্যান দিবা। পারলে আমার চাদর টা ধুইয়া দিয়ে যাও।
-” চাদর টা ফেলে দিন। ওটার জীবন শেষ। ঐ চাদর আর বিছানায় আসতে চাইবে না লজ্জায়।
-” টাকা নিয়া যাও তোমার।
-” সম্ভব না। আমায় আর আমার ওয়াইফ কে সাহায্য করেছেন আপনারা। তার উপর আপনাদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। প্লিজ ফেরত নিতে বলবেন না। ধরে নিন নাতি হিসাবে দিয়েছি। এখন আসি তাহলে?
মিয়াচি এগিয়ে আসলো। রাগে শরীর কাঁপছে। বেডায় টাকা কেনো নিবে না?
সোলেমান মেহরিন কে নিয়ে হাঁটা শুরু করলো। জীবনে ফের এমন বিপদে পড়লে রাস্তা তেই ম’রবে। তারপরও এই গারো পাহাড়ের আশেপাশে সে আসবে না। ছি কি লজ্জা।

সোলেমান সচারাচর বাংলাদেশে তার গার্ড নিয়ে চলাফেরা খুব একটা করে না বললেই চলে। জঙ্গল পেরিয়ে তাদের গাড়ির কাছে এসে তার গার্ডদের ফোন করে বলল এই লোকেশনে এসে গাড়িটা যেন নিয়ে যায়। ইব্রাহিম সোলেমান দের জন্য গাড়ি পাঠাচ্ছে। সেই গাড়ি আসতেই সোলেমান ড্রাইভার কে নামিয়ে দিয়ে মেহরিন কে নিয়ে উঠে পড়ে।
সোলেমান মেহরিন কে নিয়ে সোজা সুলতান নিবাসে যাবে।
সুলতান নিবাসে বসার রুমে ইব্রাহিম আর বাশার সুলতান একের পর এক নিউজ চ্যানেল দেখছে। সব নিউজ চ্যানেলে আজকের ব্রেকিং নিউজ সোলেমান কে ঘিরেই। উপর থেকে এজওয়ান আর মাহি দেখছে।
ইব্রাহিম নিউজ দেখে হাসতেছে। শা’লার নিউজ চ্যানেল গুলো। বউরে সোজা অচেনা নারী বানায় দিলো! সোলেমান ঢাকায় ফিরে যে এদের কি করবে সেটা ভেবেই পেট ফেটে হাসি বেরিয়ে আসতেছে।
মাহি ইব্রাহিমের সেই হাসি মনোযোগ দিয়ে দেখলো। ফর্সা শরীর। মুখে চাপ দাঁড়ি। পড়নে কালো ফুল হাতার গেঞ্জি যা কনুই অব্দি গোটানো। একটা গজদাঁত আছে ইব্রাহিমের। হাসলে সেটা বেরিয়ে আসে।
এজওয়ান মাহিকে ইব্রাহিমের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে সন্দিহান চোখে জিজ্ঞেস করলো-

-” লু’ইচ্চা মহিলা। চোখ দিয়ে বড় ভাসুর কে গিলে খাচ্ছ নাকি?
মাহি ঠোঁট কামড়ে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল-
-” ইব্রাহিম পাশা দেখতে কিন্তু অনেক সুন্দর।
এজওয়ান মাহির চোখ চেপে ধরলো হাত দিয়ে। টেনে রুমে নিয়ে গিয়ে বলল-
-” একদম কবরে পাঠিয়ে দিব বলে রাখলাম ১২ ব্যাটারির মতন কাজকর্ম করলে। ভাসুরের মতন রেসপেক্ট দিবি। তোর জামাই আমি। আমার সৌন্দর্য দেখ।
-” সৌন্দর্য তাও আবার আপনার মাঝে! হাস্যকর।
এজওয়ান মাহিকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে বলল-
-” আমার মাঝে সৌন্দর্যের কোনো কমতি আছে?
-” অবশ্যই।
-” তাহলে চোখের ট্রিটমেন্ট করাও তোমার মিসেস মাহি সুলতান। তোমার চোখে সমস্যা আছে। অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের ক্রাশ এই এজওয়ান সুলতান। ভার্সিটির টপ বয় আমি। আর সেই তুমি টিটকারি করছো আমায় নিয়ে!
-” ছাড়ুন আমায়। কথায় কথায় চেপে ধরবেন না। আমি উনার প্রশংসা করেছি জাস্ট। এতো উত্তেজিত হচ্ছেন কেনো? হিংসা হয় নাকি?

-” ভীষণ।
কথাটা বলেই এজওয়ান ছেড়ে দিলো। নিচে নেমে ইব্রাহিম কে অনেকক্ষণ চেয়ে চেয়ে দেখলো। ইব্রাহিমের মতন গজদাঁত তার নেই। তাছাড়া তো সবই আছে।
ইব্রাহিম এজওয়ান কে এভাবে তার দিকে অদ্ভুত ভাবে চেয়ে থাকতে দেখে অস্বস্তিবোধ করলো। হাতের ইশারায় কাছে ডেকে বলল-
-” কি হয়েছে? কি দেখছিস?
এজওয়ান আবার পেটে কথা লুকিয়ে রাখতে পারে না। যা বলার সাথে সাথপ সামনে সামনে মুখের উপর বলে দেয়। এজওয়ান চোখ মুখ কুঁচকে বলল-
-” তোমার থেকে দেখতে কি কম সুন্দর আমি?
-” হঠাৎ এই কথা কেনো বলছিস?
-” আমার বউ তোমায় পছন্দ করে। তুমি ভাই আমার বউয়ের সামনে আর আইসো না। একে তো সাফওয়ান নামক কাটা আছে মাহির জীবনে। তার উপর তুমিও এসে জুটলে আমি ভাই নিঃস্ব হয়ে যাব।
ইব্রাহিম বুঝলো না এজওয়ানের কথার মানে। মাহি কেনো তাকে পছন্দ করবে? কখনও কথাই তো হয় নি তাদের মাঝে।

-” মাথা ঠিক আছে তোর?
-” হুমম।
-” তোর বউ কেনো আমায় পছন্দ করবে?
-” বলে তুমি নাকি দেখতে অনেক সুন্দর। ১২ ব্যাটারি তো। জায়গায় জায়গায় চোখ দিচ্ছে খালি দেখে।
-” মেহরিনের মতই মাহিও আমার ছোট বোন। প্যারা নিস না। হয়তো তোকে রাগানোর জন্য বলছে।
-” তুমি বিয়ে করে নাও না। তাহলেই তো আর প্যারা নিতে হয় না।
-” মেয়ে পাবো কই বিয়ে করার জন্য?
-” দেশে কি মেয়ের অভাব নাকি? চাইলে বলো ঘটকালি করি।
-” থাক দরকার নেই। নিজের টা নিজে খুঁজে নিব নি।
-” তাড়াতাড়ি কইরো ভাই।
দুপুর আড়াই টার পর সোলেমান দের গাড়ি এসে পৌঁছায় সুলতান নিবাসের সামনে। আসার পথে সোলেমান ফার্মেসীর দোকান থেকে পিল আনতে ভুলে নি বউয়ের জন্য।
সোলেমান গাড়ি থেকে বের হয়ে বউকেও বের করে বলল-

-” ওয়েলকাম টু সুলতান নিবাস, মিসেস মেহরিন সুলতান।
মেহরিন গাড়ি থেকে নেমে সামনে মাথা তুলে তাকাতেই চোখ গুলো আপনাআপনি বড় বড় হয়ে যায়।
এটা বাড়ি নাকি কোনো রাজপ্রাসাদ! এতবড়!
সোলেমান বউয়ের মুখের এক্সপ্রেশন দেখে বলল-
-” এর চেয়েও বড় বাড়ি তোমার স্বামীর আছে। এটা তোমার স্বামীর বানানো বাড়ি নয়।
মেহরিন আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো। সুলতান ভিলার থেকে অনেক বড় বাড়ি এটা। কি সুন্দর বাড়ির সামনের টা।
সোলেমান মেহরিনের হাতটা ধরে বাড়ির ভিতরে ঢুকলো। বসার ঘরে এজওয়ান, বাশার সুলতান আর ইব্রাহিম কে দেখতে পাওয়া গেলো।
তিনজনই বেশ অবাক মেহরিন কে সুলতান নিবাসে দেখে। সোলেমান তাদের মুখের এক্সপ্রেশন দেখে বলল-

-” রেস্ট নিয়ে তারপর কথা বলছি। আর আমি যা যা বলেছিলাম সব করা হয়েছে?
ইব্রাহিম জবাবে বলল-
-” হুমম। সন্ধ্যার পর আসতে বলেছি মিডিয়া ওয়ালাদের।
-” গুড। আর ওদের?
-” কয়েকটা কে ধরতে পেরেছি। বাকি গুলোর খোঁজ চলছে।
-” রাতের মধ্যে সব ক’টাকে চাই।
-” হুমম পেয়ে যাবি।
-” খাবার পাঠিয়ে দিতে বল রুমে।
সোলেমান মেহরিন কে নিয়ে তার রুমে চলে আসলো। মেহরিন রুমে ঢুকে আরেক ধাপ চমকালো। এত বড় রুম! সোলেমান মেহরিন কে বিছানায় বসালো। ম্যেড এসে খাবার দিয়ে যেতেই সোলেমান মেহরিন কে খাবার খাইয়ে দিয়ে পিলের পাতা থেকে একটা পিল বের করে মেহরিনের হাতে দিলো।
মেহরিন পিলটার দিকে তাকিয়ে সোলেমানের দিকে তাকালো। সোলেমান পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলল-

-” খেয়ে নাও।
মেহরিন খেয়ে নিলো। খাওয়াদাওয়া শেষে ম্যেড এসে এঁটো থালাবাসন সব নিয়ে গেলো।
সোলেমান বউয়ের গায়ে চাদর দিয়ে বলল-
-” রেস্ট নাও আমি পাশেই আছি।
সোলেমান সোফায় ল্যাপটপ নিয়ে বসলো। মেহরিন সোলেমান কে দেখতে দেখতে ঘুমের দেশে তলিয়ে যায়।
সেই ঘুম ভাঙে মাগরিবের পর। রুমের কোথাও তখন সোলেমান ছিলো না। মেহরিন কিছুটা হকচকিয়ে যায়।
পাশ থেকে ফোনটা নিয়ে সোলেমান কে মেসেজ দিয়ে জিজ্ঞেস করে –
-” কোথায় আপনি?
সোলেমান থার্ড ফ্লোরের এক কক্ষে বসে মিডিয়ার লোকদের সাথে কথা বলছে। রাগে চোখমুখ ফুলে উঠেছে সোলেমানের। তার ইচ্ছে করতেছে এদের কাঁচা চিবিয়ে খেতে। সে তার পার্সোনাল জীবন পাবলিক করতে চায় না। একপ্রকার হুমকি দিয়েই বলল-

-” আজকের রাতটাই সময় দিলাম। পুরো সোশ্যাল প্লাটফর্ম থেকে যদি এই নিউজটা না মুছে তাহলে নিউজ চ্যানেল গুলো একদম বন্ধ করে দিব বলে রাখছি। আপনাদের সাহস দেখে আমি আশ্চর্য হচ্ছি। কোথা থেকে কে কোন একটা ছবি দিলো সেটা আপনারা আমার সাথে ডিসকাশন না করেই পাবলিশ করে দিলেন! আমার বউ নিয়ে আমি পালাতে কেনো যাব? রাতটাই শুধু সময় আপনাদের। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিউজ একটাও চোখে পড়লে খবর আছে। আমার বিষয়ে কোনো নিউজ ছাপানোর আগে আমার সাথে ডিসকাশন করবেন। আমি অনুমতি দেওয়ার পর পাবলিশ করবেন। এখন যান।
মিডিয়ার মালিক গুলো চলে গেলো। সোলেমান বউয়ের মেসেজ দেখার সাথে সাথে থার্ড ফ্লোর থেকে লিফটে করে সেকেন্ড ফ্লোরে এসে নিজের রুমে ঢুকলো। মেহরিন কে পুরো রুমের কোথাও না দেখে ডেকে উঠলো। মেহরিন বেলকনি থেকে সারা দিয়ে বলল-

-” আমি এখানে।
সোলেমান বেলকনিতে আসলো। বউ তার বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে। সোলেমান পাশে এসে দাঁড়ালো। মেহরিন পাশ ফিরলো। সোলেমান মেহরিনের উন্মুক্ত কোমর চেপে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। মেহরিন ভরকে গেলো। সোলেমান মেহরিনের ঠোঁটে চুমু খেয়ে বলল-
-” আগের তুলনায় তোমার থেকে দূরে থাকাটা এখন আমার জন্য আরো কষ্ট হয়ে পড়বে। নিজেকে সামলাবো কি করে? ইশ এতো দূর্বল কেনো তুমি? আমার লোডই সামলাতে পারলে না! কি লজ্জায় পড়েছিলাম জানো? এমন লজ্জায় আমি জীবনে পড়ি নি।
মেহরিন সোলেমানের বুকে মুখ গুঁজে বলল-
-” লজ্জায় কি শুধু আপনি একাই পড়েছিলেন? আমি পড়ি নি?
-” কথা তো শুনতে হয়েছে আমাকে। ঐ মহিলা কে আমি জীবনে ভুলবো না। কথার কি ধার! তোমায় ছুঁতে গেলেই শুধু গ’জব নেমে আসে।
মেহরিন সোলেমানের শার্টের বোতাম ঘুরাতে ঘুরাতে বলল-

-” এরপর থেকে সাবধানে কাছে আসবেন।
-” লোভ দেখাচ্ছ কিন্তু।
-” কোথায় গিয়েছিলেন?
সোলেমান মেহরিন কে তার কোলের উপর বসিয়ে বলল-
-” কাজে। মিস করছিলে নাকি আমায়?
-” হুমম।
সোলেমানের হাত এবার মেহরিনের পেটে নাভির কাছটায় চলে গেলো। মেহরিন সোলেমানের গলা জড়িয়ে ধরে এলোমেলো গলায় বলল-
-” ক…কি করছেন।
-” নাথিং।
-” হাত সরান।
-” না।
-” আমার অস্বস্তি হচ্ছে।
-” হোক। ব্যথা তো দিচ্ছি না।
মেহরিন নিশ্চুপ হয়ে গেলো। এখন আর বলে লাভ নেই। সে তার কাজ করবেই।
রাতের ডিনার খেতে এসে মাহি জানতপ পারলো মেহরিন এসেছে। কিন্তু খাবার টেবিলে দেখা পেলো না। মাহও এজওয়ান কে জিজ্ঞেস করলো-

-” মেহরিন করবে না?
এজওয়ান খেতে খেতে জবাব দিলো-
-” ভাইজান আর ভাবি রুমেই করেছে।
-” দেখা করবো মেহরিনের সাথে।
-” ভাইজানের রুমে ঢোকা নট এলাও। সকাল হলে দেখিও।
রাত তিনটার দিকে যখন সবাই ঘুমে তখন সুলতান নিবাস থেকে সোলেমান আর এজওয়ান বেরিয়ে পড়ে।
বাড়ি থেকে একটু দূরে গোডাউনে অপেক্ষা করছিলো ইব্রাহিম। সোলেমান কে আসতে দেখে এগিয়ে আসলো। সোলেমান জিজ্ঞেস করলো-
-” সব কটা আছে?
-” হুমম। তোর বিজনেস শত্রু ইকবাল পাঠিয়েছিল ওদের। গতকালকের ডিলটা তুই নিয়ে নিয়েছিলি। সেটা মানতে পারছিলো না।
সোলেমান গোডাউনের ভেতরে ঢুকলো। ৫ টা চেয়ারে হাত পা চোখ বাঁধা ৫ জনের। সোলেমান তাদের সামনে চেয়ারে পা তুলে বসলো।
ইয়াসিন এগিয়ে আসতেই সোলেমান বলল-

-” এদের ইতিহাস বল।
ইয়াসিন বলতে শুরু করলো-
-” এদের নাম নাদিম,রাব্বি,রুবেল,সিয়াম,রাজেশ । বাড়ি ময়মনসিংহ, খুলনা,চট্টগ্রাম, বরিশাল,ঢাকা। ৫ জনের বিরুদ্ধেই ধ’র্ষণের অভিযোগ আছে। দুজন জেল খেটেছিল। ৩ জনকে পুলিশ ধরতে পারে নি ইলবালের জন্য। এরা এলাকায় মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে।
সোলেমান চুপচাপ সব কথা শুনলো।
-” কত টাকা দিয়েছিল আমায় মা’রার জন্য তোদের?
রুবেল নামের ছেলেটা কাঁপতে কাঁপতে বলল-
-” এক লাখ করে।
সোলেমান ঠোঁটে কামড়ে ধরলো। সোলেমানের মৃত্যুর মূল্য মাত্র ১ লাখ করে! এত কম! বিষয় টা হজম হচ্ছে না সোলেমানের। পাশ থেকে গ্লাভস পড়ে নিলো হাতে। তারপর ধারালো ছুরি টা হাতে নিয়ে ওদের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল-

-” ক’জন মেয়েকে ধ’র্ষণ করেছে ওরা?
-” মোট হবে ৬-৭ জন।
-” মেয়েরা তাদের বিচার ঠিক মতো পেয়েছিল?
-” না।
-” এদের মধ্যে ছবি মিডিয়ার কাছে পাঠিয়েছিল কে?
-” রুবেল।
সোলেমান গ্লাভস টা খুলে ফেললো। না সে কাটবে না। গোডাউনের বাহিরে থাকা গার্ড দের ডেকে আনলো।
তারা আসতেই সোলেমান তাদের হাতে ছু’রি দিয়ে বলল-
-” কেটে ফেলো ওদের ঐ জিনিস টা। যেটা ভুল জায়গায় ব্যবহার হচ্ছে বারবার।
গার্ড গুলো এগিয়ে গেলো। ভয়ে আত্মা শুঁকিয়ে যাচ্ছে ঐ ছেলেদের। আকুতি করছে বারবার। তারা আর জীবনে এসব করবে না। ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু সোলেমান তো এসব শোনার পাত্র নয়।
গার্ড গুলো ছেলেদের প্যান্টের চেইনটা খুলে সাথে সাথে শরীর থেকে পুরুষা’ঙ্গ টা আলাদা করে নিয়ে আসলো। গলা ফেটে চিৎকার করতে শুরু করলো ছেলে গুলো। ইব্রাহিম চোখ বন্ধ করে ফেলছে। এজওয়ান গালে হাত দিয়ে দেখছে। মনে হচ্ছে ভীষণ মজার কিছু হচ্ছে তার সামনে। র’ক্তে ভিজে গেছে ফ্লোর।

-” ভাই একটার তো দেখি মুসলমানি করা হয় নি।
ইয়াসিন সরু চোখে তাকিয়ে বলল-
-” ওয় হিন্দু।
গার্ড গুলোর হাতে পুরুষা’ঙ্গ। জিজ্ঞেস করলো-
-” কি করবো স্যার এগুলো?
-” রাস্তার কু’ত্তাকে দিয়ে দাও।
-” আর ওদের?
-” না খাইয়ে এভাবেই রাখো। ম’রে গেলে শরীরের ভেতরে থাকা জিনিস গুলো কে’টে ডিলারে হাতে দিয়ে দিবে। আর বাকি দেহ টা বন্দি করে রাখা হায়নার ঘরে দিয়ে দিবে।

দাহশয্যা পর্ব ৪২

সোলেমান চলে যায়। গার্ড গুলো পুরুষা’ঙ্গ নিয়ে চলে যেতে চাইলে এজওয়ান থামিয়ে দেয়। মাথায় তার একটা কুবুদ্ধি উদয় হয়েছে। কু’ত্তাদের যখন দিবেই তখন একটু আয়োজন করেই দেওয়া যাক।
পকেট থেকে ফোনটা বের করে বাহাদুর কে কল করে সকাল সকাল আসতে বলল। কাল পিকনিক করবে সে বাহাদুর কে নিয়ে। যাকে বলে ভুনা খিচুড়ি পিকনিক উইথ টুনটুনি।

দাহশয্যা পর্ব ৪৪