Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৬

দাহশয্যা পর্ব ৬

দাহশয্যা পর্ব ৬
Raiha Zubair Ripti

শাহবাগের বিকেলটা নরম রোদের মত। পাকুড় গাছের ছায়ায় বসে থাকা ছাত্রছাত্রীদের হাসি যেন হাওয়ার সঙ্গে ভেসে বেড়ায়। টিএসসির পাশ দিয়ে কেউ হাতে ধরা। প্রেসক্লাবের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিকের কাগজ-পত্র ও চা-পাতার কাপে ঠোঁট ছোঁয়ানো ক্লান্ত তরুণ, কারো আবার কোনো অচেনা গল্পে হারিয়ে যাওয়া। সব মিলিয়ে এক বর্ণিল বিষণ্ন প্রলেপে রাঙায় এই শাহবাগকে।

ফুলওয়ালার ঝুড়ি তখনও আধভরা, রজনীগন্ধার গন্ধে বিকেলটা আরও কোমল মনে হয়। শিশুপার্ক থেকে ভেসে আসে বাচ্চাদের হাসি, আর পাশেই কোনো এক শিল্পী রংতুলিতে আঁকছে শাহবাগেরই মুখচ্ছবি,ছবির ভেতরে মিশে থাকে ঢাকা শহরের দারিদ্র্য, সৌন্দর্য আর সম্ভাবনা।
পুরনো বইয়ের দোকানে তখনও কেউ ঘেঁটে চলেছে ধুলো ধরা পৃষ্ঠা, খুঁজে চলেছে কবিতা কিংবা বিপ্লবের কোনো পুরনো লাইন।
এই শহরে প্রেমও হয় বিকেলের আলোয়,কোনো এক কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা দুজন, চোখের ভাষায় বলে দেয় হাজার শব্দ।

শাহবাগের বিকেল যেন ঢাকার হৃৎস্পন্দন একটু ধীর হয়ার সময়। এক ক্লান্ত কবি, রোদে ঝলসানো চিঠির প্রান্তে বসে, শহরের নিঃশব্দ ব্যথা লিখে যায়। কখনও ইতিহাস, কখনও আন্দোলন, বা কখনও প্রেম। সব একসঙ্গে হাঁটতে থাকে রাস্তার পিচে পা রেখে।
শাহবাগের মোড়ে এসে দাঁড়িয়ে আছে ঊর্মি আর তেহরান। তেহরানের যাওয়ার কথা ছিলো মোতালেব ভুঁইয়ার সাথে হসপিটালে। কিন্তু শেষমেষ কেনো জানি বারন করে দিলেন মোতালেব ভুঁইয়া নিজেই। অগ্যত যেতে হলো মেহরিন আর মেহরিনের মা সানজিদা বেগম কে।
তেহরান ঘর্মাক্ত মুখ টা রুমাল দিয়ে মুছে পকেট থেকে ফোনটা বের করে ঊর্মির দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল-
-” তোমার ভাইকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করো কতদূর।
ঊর্মি ভাইকে ফোন করলো। ইমন নীলক্ষেত অব্দি হেঁটে এসেছে৷ অপরিচিত নম্বর দেখে রিসিভ করতেই ঊর্মির গলা শুনলো।

-” ভাইয়া কই তুই?
ইমন সামনের রাস্তায় তাকিয়ে বলল-
-” নীলক্ষেত।
-” আমি এসে দাঁড়িয়ে আছি।
-” একা?
-” না।
ইমন ভাবলো মেহরিন ও আছে সাথে। তাই কিছু টা খুশি মন নিয়েই বলল-
-” আসছি আমি।
ঊর্মি কান থেকে ফোন নামিয়ে তেহরানের দিকে এগিয়ে দিতেই তেহরান বলল-
-” কতদূর?
-” নীলক্ষেত আছে।
-” ওহ্ তাহলে খুব একটা বেশি দূরে নেই।

ঊর্মি আশপাশে তাকালো। একটা ট্রাক এসে দাঁড়িয়েছে। ট্রাকে চাল ডাল,তেল দেখতে পেলো ঊর্মি। ট্রাক টা দেখেই আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন এগিয়ে এসে ট্রাক টার কাছে দাঁড়ালো। তার পরের মূহুর্তে একটা কালো প্রাইভেট কার এসে থামলো। গাড়ি থেকে নামলো এক পুরুষ। পড়নে তার সাদা পাঞ্জাবি, দেহের রং হলদে ফর্সা,চুল গুলো জেল দিয়ে সেট করা। ঊর্মি তাকিয়ে দেখলো একবার। তেহরান ঊর্মির দৃষ্টি তাক করে সেই দিকে তাকালো। তাদের সিটির মেয়র ইব্রাহিম এসেছেন। গতকাল মাইকিং করা হয়েছিল ত্রান বিতরণ করা হবে। সেজন্য এসেছেন। ইব্রাহিম কয়েকজন কে নিজ হাতে ত্রানের সামগ্রী তুলে দিলো। প্রেস মিডিয়াও এসেছে।

-” কি দেখছো ওদিকে?
-” ওখানে কি হচ্ছে?
-” আমাদের এমপি তার জনগণের জন্য ত্রানের ব্যবস্থা করেছে। সেটাই বিলাচ্ছেন।
ঊর্মি দের গ্রামেও তো তাদের চেয়ারম্যান এভাবে নিজ হাতে চাল ডালের প্যাকেট ধরিয়ে দিত। তারমানে যিনি ত্রান দিচ্ছেন তুলে হাতে তিনি এমপি!
-” এমপি?
-” হুমম এমপি।
-” নাম কি উনার?
-” এমপির?
-” হুমম।
-” নওয়াজ সোলেমান সুলতান।
ঊর্মি মনে মনে নামটা উচ্চারণ করলো। উনি তাহলে এমপি!
ঊর্মির পানি পিপাশা পেয়ে গেল রোদে এতক্ষন ধরে দাড়িয়ে থাকার ফলে। সেজন্য বারবার গলায় হাত দিচ্ছিল।
পাশ থেকে তেহরান ঊর্মিকে দেখে বলল-

-” পানি খাবে? পিপাশা পেয়েছে?
ঊর্মি উপর নিচ মাথা ঝাকালো। তেহরান চলে গেলো পানি আনতে।
ইব্রাহিম কিছু ত্রান নিজ হাতে দিয়ে বাকি গুলো ছেলেপুলেদের দিতে বলে সাইডে সরে আসলো। পকেট থেকে ফোন বের করে সোলেমান কে জানিয়ে দিলো ত্রান বিতরণ করা হয়ে গেছে। কথাটা বলে ফোনটা কেটে ইব্রাহিম হাল্কা ঘাড় ঘুরাতেই দেখলো দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একটা মেয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটাকে অতি সাধারণ লাগলো। পড়নে নীল কালারের থ্রি-পিস। চোখ মুখ কেমন শুষ্ক। ইব্রাহিমের দরিদ্র মনে হলো ঊর্মি কে। চোখাচোখি হলো ঊর্মি আর ইব্রাহিমের। ইব্রাহিম ভেবে নিলো মেয়েটা বোধহয় ত্রান নিতে এসেছে,কিন্তু লজ্জায় এগিয়ে আসছে না মিডিয়ার কারনে। সেজন্য ইব্রাহিম তার দলের একজন কে ডেকে বলল-

-” ঐ যে মেয়েটাকে দেখছিস তাকেও দিয়ে আসবি। বোধহয় লজ্জা পাচ্ছে নিতে।
-” ঠিক আছে ভাই।
ইব্রাহিম গাড়ির ভেতর ঢুকে বসে রইলো। ছেলেটা এক প্যাকেট চাল ডাল নিয়ে ঊর্মির দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল-
-” আপু ধরুন এটা আপনার জন্য।
প্যাকেট টা ঊর্মির হাতে ধরিয়ে দিয়েই চলে গেল। ঊর্মি হতবিহ্বল হয়ে গেল। তেহরান আসলো পানির বোতল নিয়ে। ঊর্মির হাতে ত্রানের সামগ্রী দেখে বলল-
-” এই মেয়ে তুমি ত্রান দিয়ে কি করবে? চাল ডালের অভাব পড়েছে তোমার? আমাকে বলো আমি কিনে দিচ্ছি৷
ঊর্মি ভরকে গেলো।
-” আ..আমি ত্রান নিতে যাই নি। এক ছেলে হুট করে ধরিয়ে দিয়ে চলে গেল।
তেহরান ঊর্মির হাত থেকে ত্রানের সামগ্রী নিয়ে ঐ ট্রাকের কাছে গিয়ে বলল-

-” এ ভাই আপনাদের ত্রান নিন। যার লাগবে তাকে দিন। যার লাগবে না,যে নিতে চায় না তাকে কেনো সেধে দিতে যান।
দূর থেকে ইমন দেখলো ঊর্মি কে। দু মাস পর বোন কে দেখছে। এগিয়ে আসলো বোনের কাছে। ঊর্মি ভাইকে দেখে জড়িয়ে ধরলো। কেমন শুকিয়ে গেছে তার ভাই। ফর্সা শরীর পুড়ে কেমন কালো লাগছে। ইমন বোনকে আদর করে জিজ্ঞেস করলো-
-” মেহরিন কে যে দেখছি না।
-” মেহরিন তো আসে নি ভাইয়া।
ইমন চমকালো।
-” একা এসেছিস তাহলে?
-” না, তেহরান ভাইয়া নিয়ে এসেছে।
তেহরান এগিয়ে আসলো। ইমন কে দেখে বলল-
-” আপনি ইমন?
-” জ্বি।
-” আপনারা দু ভাই বোন কথা বলুন। আমি সাইডেই আছি।

ধানমণ্ডি রোড-৪ এর ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হসপিটালের করিডরে বসে আছে মেহরিন। ভেতরে কি সব বলছে ডক্টর তা জানে না সে। কত করে সাথে যেতে চাইলো ভেতরে কিন্তু মোতালেব ভুঁইয়া আসতে বারন করেছেন তাকে। অগ্যত মাকে নিয়ে বাহিরে বসে আছে চেম্বারের।
ডক্টরের চেম্বারের চেয়ারে বসে আছে মোতালেব ভুঁইয়া। ডক্টর ফাইল গুলো দেখছেন। দেখা শেষ হতেই ডক্টর বললেন-
-” আপনাকে আমি কি বলেছিলাম?
মোতালেব ভুঁইয়া মাথা নিচু করে রাখেন। ডক্টর আব্দুল্লা রিপোর্টের ফাইল টা টেবিলে রেখে বলল-
-“ দেখুন মোতালেব আপনার হার্টের অবস্থা এখন খুব খারাপ। এটি আর স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছে না। আপনার শরীরের অন্যান্য অঙ্গগুলোও এর প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাই, আমরা একমাত্র হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে আপনাকে সুস্থ করতে পারব। আপনাকে বলার পরও আপনি কেনো অপারেশনের দিকে আগাচ্ছেন না? এতে যে আপনার আয়ু ফুরানোর দিকে সেটা কি খেয়ালে আছে?
মোতালেব ভুঁইয়া শান্ত গলায় বলল-

-” সে তো অনেক খরচের ব্যপার ডাক্তার।
-” হ্যাঁ তবে আমাদের কাছে এখন এই একটাই অপশন,হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট। আপনার নতুন হার্টের জন্য আমরা একজন ডোনারের সন্ধান করব, আর যদি সবকিছু ঠিক থাকে, তাহলে অপারেশন হবে। আজকাল এই প্রক্রিয়া অনেক উন্নত হয়েছে, তবে সব সময় কিছু ঝুঁকি থাকে। কিন্তু আপনার হার্টের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, আর দেরি করলে জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
-” খরচ কত হতে পারে?
-” এই ধরুন ২০-২৫ লাখ।
মোতালেব ভুঁইয়া নীরব হয়ে রইলো। ২০- ২৫ লাখ টাকা যদি তার নিজের পেছনে ব্যয় করেন তিনি তাহলে তার পরিবার কিভাবে চলবে? তার ব্যবসার কি হবে? মেয়ে বিয়ে দিবে কি করে?

-” অপারেশন করাটা কি খুব জরুরি ডাক্তার? ঔষধ খেয়ে সারানো যাবে না?
-” শুরুর দিকে আসলে চেষ্টা করা যেত। কিন্তু লাস্ট পর্যায়ে আপনাকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়ার কোনো মানেই হয় না। অপারেশন একমাত্র পন্থা। আপনি যত এগোবেন অপারশনের দিকে ততই আপনার জন্য মঙ্গল। কারন এরপর হার্ট অ্যাটাক করে বসলে মনে হয় না আর বাঁচবেন।
মোতালেব ভুঁইয়া ফাইল টা নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন।
-” আপনাকে পরে জানাব ডাক্তার।
বেরিয়ে আসলেন মোতালেব ভুঁইয়া। বেশ কয়েক বছর ধরেই শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, বুকের চাপ সহ বিভিন্ন সমস্যার ভুগছিলেন। কয়েক মাস হলো সে জেনেছে তার এই রোগের কথা। কিন্তু তার ব্যবসায় নিজের পুঁজি তো এত নেই। কত থাকতে পারে ৭-৮ লাখ। এই টাকায় তো অপারেশন হবে না।
মেহরিন বাবার বিষন্ন চেহারা দেখে বলল-

-” বাবা সব ঠিক আছে? আমাকে কেনো সাথে যেতে দিলে না। ডক্টর কি বলছে?
মোতালেব ভুঁইয়া মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে ম্লান হাসলেন।
-” তেমন কিছু না রে মা। ঔষধ দিয়েছেন। বলেছেন খেলে সেরে যাবে।
-” অনেক দিন ধরেই তো খাচ্ছ ঔষধ বাবা। সারার তো নাম নিচ্ছে না।
-” এবার বলছে সেরে যাবে। বাসায় চল।
মহাদেবপুরে নিজ বাড়িতে এসেছেন ভোরে বাশার সুলতান। ইচ্ছে ছিলো সোলেমানের হবু বউটাকে দেখার কিন্তু এসে শুনতে পেলো তারা ঢাকায় গিয়েছেন। বাশার সুলতান দীর্ঘ শ্বাস ফেলে পকেট থেকে ফোন বের করে ছেলেকে কল লাগালো।
চট্রগ্রামের সবচেয়ে দামি হোটেল এস. এস. খালেদ রোডের লালখান বাজার থাকা রেডিসন ব্লু হোটেলের ১৫ তালার একটি কক্ষে উপর হয়ে শুয়ে আছে এজওয়ান সুলতান। শরীরে তার সাদা রঙের ব্ল্যাংকেট যা কোমর অব্দি ঢাকা। উন্মুক্ত ধবধবে ফর্সা পিঠ।
ফোন বেজে চলছে। কিন্তু এজওয়ান ধরছে না। কিন্তু ফোন ও থেমে নেই। এক নাগারে বেজেই চলছে। এজওয়ান এবার বিরক্ত হয়ে বা হাত দিয়ে ঘুমঘুম চোখেই মোবাইল খুঁজে নম্বর না দেখেই কানে নিয়ে বলল-

-” হ্যালো কে রে? কার এত গুদগুদি উঠছে। ঘরে কি বাপ ভাই নাই? আমাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করছিস। দেখছিস ফোন ধরছি না তারপর ও বারবার কেনো ফোন দিচ্ছিস।
-” আমি তোর বাপ এজওয়ান ভদ্র ভাবে কথা বল।
এজওয়ান কান থেকে ফোন টা নামিয়ে নম্বর টা দেখে নিলো। ভুলে বাপকে এসব বলে দিলো!
-” ফোন কেনো দিচ্ছ?
-” খোঁজ খবর জানার জন্য।
-” কয়টার খবর জানতে চাও? রাতের নাকি দিনের?
-” বেয়াদব..ঢাকা আসছিস কবে?
-” কাল পরশু। তুমি কোথায়?
-” গ্রামে।
-” গ্রামে কেনো?
-” এমনি। আচ্ছা রাখি।

এজওয়ান কান থেকে ফোন নামিয়ে আড়মোড়া ভেঙে পাশে ফিরতেই অর্ধনগ্ন হয়ে এজওয়ানের দিকে তাকিয়ে থাকা মেয়েটাকে দেখে মুহূর্তে মুখের ভঙ্গিমা চেঞ্জ হয়ে গেলো নীল চোখের অধিকারী এই পুরুষটির। বিছানা ছেড়ে উঠে মেয়েটার দিকে এগিয়ে আসলো। মেয়েটার চোখ মুখে হাসি। ভেবেছে এজওয়ান সুলতান বোধহয় কাছে টেনে নিবে। কিন্তু তা ভুল প্রমান হলো। এজওয়ান মেয়েটার মাথার চুল গুলো টেনে ধরে বলল-
-” তোর সাহস তো কম না তুই এখনও আমার রুমের ভেতর আছিস। তোকে বলেছিলাম না চলে যেতে? বলেছিলাম না এই মুখ আর না দেখাতে? তারপর ও তুই এই ভুল কি করে করলি? তুই জানিস না এজওয়ান সুলতান এক মুখ এক শরীর দ্বিতীয় বার দেখতে পছন্দ করে না।
মেয়েটা ব্যথায় চোখ মুখ খিঁচে ধরলো। ছাড়া পাওয়ার জন্য বলল-
-” আমার ভুল হয়ে গেছে এজওয়ান। আমি তো জাস্ট তোমায় খুশি..
মেয়েটাকে থামিয়ে দিয়ে এজওয়ান বলল-

-” তুই আমার নাম ধরে কেনো ডাকলি? তোকে এই অধিকার কে দিছে? এক রাত কি বিছানায় ঠাই পেয়েছিস এতেই তুই সাপের পাঁচ পা দেখে ফেলেছিস? তুমি করে ডাকছিস আমায়! তোর মতন হাজারো মেয়ে একটা রাত আমার সাথে কাটানোর জন্য মরিয়া হয়ে যায়। জাস্ট পাঁচ সেকেন্ড পাবি এই রুম থেকে বের হওয়ার জন্য। ৫ থেকে ৬ এ যাবে মানেই তোকে এখানেই পুঁ’তে রেখে দিব আমি।
মেয়েটার জীবনের ভয় আছে। এজওয়ানের সাথে এক রাত কাটানোর জন্যই গতকাল এসেছিল পার্টিতে। নিজ থেকে ঘেঁষাঘেঁষি করছিল এজওয়ানের সাথে। জানা ছিল না এই ছেলে এমন ব্যবহার করবে। পাশ থেকে ওড়না দিয়ে নিজেকে ঢেকে নিচ থেকে জামাটা নিয়েই দৌড়ে বেরিয়ে গেলো।
বাহাদুর আসছিলো এজওয়ানের রুমের দিকে। আকস্মিক মেয়েটাকে এভাবে বের হতে দেখে রুমে ঢুকে দেখলো এজওয়ান সোফায় বসে টেবিলের উপর দু পা রেখে সিগারেট খাচ্ছে।

-” ওভাবে চলে গেল মেয়েটা?
-” আগে জান পরে মান। আর এই মাতারিকে কাল কে পাঠিয়েছিল আমার রুমে?
-” তোকে নিয়েই তো সাথে ঢুকলো মেয়েটা। ভেবেছি তুই নিজ থে..
-” আমি কখনও মেয়েদের নিজ থেকে আনি না। ওরাই আসে নিজ থেকে। আর জানিস এই মেয়েটা ভা’র্জিন না।
বাহাদুর মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিলো।
-” জিজ্ঞেস কর কিভাবে বুঝলাম।
-” অবশ্যই ছুঁয়ে।
-” উঁহু। আমি কিছুই করি নি।
-” তাইলে বুঝলি ক্যামনে?
-” এক্সপেরিয়েন্স থেকে। এটা বুঝার জন্য এখন আমায় মেয়েদের শরীর ধরা ছোঁয়ার দরকার পড়ে না। চেহারা দেখলেই বুঝে যাই। এজন্য মেয়েটাকে রাতেই বলেছি চলে যেতে।

-” এমনে আর কতদিন চলবে এজওয়ান?
-” যতদিন বেঁচে আছি।
-” বিয়ে শাদির পরও কি এসব চলবে?
-” বিয়ে আর আমি! দুইটা দুই মেরুর হালা। এদের একসাথে করা ইম্পসিবল। গ্লাসে ম’দ ঢাল কথা না বলে।
-” সোলেমান ভাই জানলে কিন্তু খবর আছে।
-” কে জানাবে তুই?
-” আমার কি ম’রার শখ জাগছে নাকি যে বলতে যাব।
-” গুড তাহলে চুপ থাক।
-” আসলেই কি তুই এমনটাই থাকবি?
-” কোনো ডাউট আছে?
-” কি দরকার এত নারীর সাথে মেলামেশা করার। বিয়ে করে বউয়ের সাথেই কর না।
-” এক নারীর শরীরে পড়ে থাকার জন্য এজওয়ান সুলতান জন্মায়নি। আমি ধরার জন্য জন্মাইনি বাহাদুর, আমি ছড়িয়ে দেবার জন্য জন্মেছি। এক নারীর দেহে আমার মন ভরে না। আই ওয়ান্ট ডিফারেন্ট ডিফারেন্ট ফিমেল।
বাহাদুর হেলান দিয়ে পা তুলে বলল-

-” জীবনে কয়টা মেয়ে ছাড়ছোস, হিসাব রাখছিস?
-” হিসাব করি নাই,তোর সময় থাকলে তুই কর হিসাব।
-“তাও একটা মোটামুটি নম্বর দে শুনি।
এজওয়ান সিগারেট ধরাতে ধরাতে বলল-
-” আমি তো নিজেই গুলায়া ফেলছি কয়টা। চেহারা মনে নাই, নাম মনে নাই,নম্বর মনে থাকবে ক্যামনে?
-” জীবনে প্রেম করিস নি?
-” প্রেম? আমার কাছে প্রেম ফকিরের ভিক্ষার চেয়েও সস্তা।
বাহাদুর মুখ ঘুরিয়ে বলল-
-“তাইলে সারাদিন মেয়েমানুষ নিয়া এইডা ওইডা ক্যান করস?
এজওয়ান পায়ের তলায় ফেলে সিগারেটটা দলাই-মালাই করে বলল-

দাহশয্যা পর্ব ৫

– ” চাহিদা মেটানোর লাইগা।
-” তো কি একবার ও মনে হয় ন…
-” আমার মন নাই মাইরী। মনডা আগেই ডাস্টবিনে ফালাইয়া দিছি।
বাহাদুর ঠাণ্ডা গলায় বলল-
– “এমনভাবে কতদিন টিকবি?
-” মরার আগ পর্যন্ত টিকমু।

দাহশয্যা পর্ব ৭