দাহশয্যা পর্ব ৮৪ (৩)
Raiha Zubair Ripti
পতিতালয়ের ঠিক পেছনে মাটি খুঁড়ে কবর দেওয়া হলো সেই লোককে। যাকে প্রেমা খু’ন করে ফেলেছে। ইকবাল লাশ টাকে যখন বস্তার ভেতর দেখলো তখন শেখর কে জিজ্ঞেস করলো-
“ লাশ কোথা থেকে আসলো? আর এটা তো ঐ শিল্পপতি। ”
শেখর মাটি চাপা দিতে দিতে বলল-
“ ঝামেলা পাকাচ্ছিলো এখানে এসে। ধস্তাধস্তি হলো। তারপর একপর্যায়ে ম’রে গেল। ”
“ কি নিয়ে ঝামেলা পাকাচ্ছিলো?”
শেখর আমতা-আমতা করলো কিছুক্ষণ। ভাবলো বোধহয় কথা। ভাবার শেষে বলল-
“ অপূর্ণা কে জোর করছিলো। সেটা নিয়ে। ”
অপূর্ণার নাম শুনে ইকবালের মনে পরলো তখনকার কথা।
“ তাহলে কি তখন ঐ ঘরে ঐ মেয়েটাই গোঙাচ্ছিলো? ”
শেখর হাত ধুতেধুতে বলল-
“ কোন রুমে? ”
“ ১১ নম্বর রুমে। ”
শেখরের টনক নড়লো এবার। ঐ রুমে তো প্রেমা ছিলো। ইকবাল কি দেখে নিয়েছে নাকি? না,দেখে নি বোধহয়।
“ হয়তো। চল ভেতরে চল। শরীর এখন কেমন আছে?”
“ আছে ভালো। ”
শেখর ইকবাল হেঁটে ভেতরে চলে গেলো।
আট মাসের পেট নিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে যাচ্ছে অপূর্ণা। খুব কম বের হয় সে রুম থেকে। পতিতালয়ের মেয়েদের ভেতর সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে সে। শুনেছে আজ নাকি কাকে মেরেছে খুব ওরা। আর মেয়েটা নাকি শেখরের বউ! খুব দেখতে ইচ্ছে করছে শেখরের বউ টাকে। কিভাবে একটা অমানুষের সাথে ঘর করলো এই মেয়ে! শেখর অপূর্ণা কে ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে এই পতিতালয়ে এনে দেহ নিয়ে ব্যবসা করছে!
শেখরের বাচ্চা পেটে নিয়ে ঘুরছে এখন অপূর্ণা বউ না হওয়া স্বত্বেও।
গুটিগুটি পায়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়ালো। পাশেই চাবি টাঙানো দেওয়ালে। অপূর্ণা চাবিটা নিয়ে দরজাটা খুললো।
পুরো রুম অন্ধকার। অপূর্ণার মুখস্থ এই ঘরের প্রতিটি কোনা। একসময় তাকেও এই ঘরে আঁটকে রাখা হতো। অপূর্ণা দেওয়াল হাতরে লাইট জ্বালালো। ঘুরে পেছন ফিরে নিচে তাকাতেই দেখলো সেই কাঙ্ক্ষিত নারী টিকে। যাকে দেখার জন্য তার আসা। ফ্লোরে একপাশ হয়ে শুয়ে আছে। পেছনে হাত বাঁধা, পা বাঁধা, মুখ বাঁধা। শরীরে জায়গায় জায়গায় মরিচের গুঁড়োর মতো পাউডার দেখা যাচ্ছে। ব্যথায় ক্লান্ত স্বরে ধীর ভঙ্গিতে গুঙিয়ে চলছে। একটু সাবধানের সহিত নিচু হয়ে ঝুঁকে বসে প্রেমার গায়ে হাত রাখলো। প্রেমা লাইটের আলো জ্বলতেই চোখ মেলে তাকিয়েছিল। কিন্তু উল্টো ঘুরে থাকায় বুঝতে পারে নি রুমে কে এসেছে। এবার ঘাড় বেকাতেই দেখলো একটা অচেনা মেয়েকে। মেয়েটা প্রেমার মুখ থেকে বাঁধন খুলতে খুলতে বলল-
“ ইশ অমানুষ গুলো কি করেছে তোমার। ব্যথা করছে খুব তাই না? আমাকেও এভাবে মা’রতো। তুমি একটু উঠো কষ্ট করে। আমি পানি আনছি। ”
অপূর্ণা প্রেমাকে ধরে উঠালো। হাত পায়ের বাঁধন গুলো খুলে দিতে নিলে প্রেমা ব্যথাতুর গলায় জিজ্ঞেস করলো-
“ ক..কে তুমি?”
“ আমি অপূর্ণা। ”
অপূর্ণা ধীর হয়ে উঠে দাঁড়ালো। প্রেমা এবার খেয়াল করলো মেয়েটার উঁচু পেট। পোয়াতি এই মেয়ে! বাপ কে? এই মেয়েটাও শরীর বিলায় এখানে?
অপূর্ণ একটা বাটিতে পানি,কাপড় আর মেডিসিন নিয়ে আসলো। প্রেমার কেটে যাওয়া শরীর গুলো ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে মলম লাগিয়ে দিলো। তারপর জিজ্ঞেস করলো-
“ ক্ষুধা লেগেছে নিশ্চয়ই? আমি রাতে খাই নি। আমার খাবার টা আছে। খাবে তুমি? নিয়ে আসবো?”
এখানে আসার পর থেকে না খাওয়া প্রেমা। পেটে প্রচুর ক্ষুধা। খাওয়ার লোভ হচ্ছে। কিন্তু সে খেলে মেয়েটা খাবে কি?
“ তুমি খাবে কি তাহলে? ”
“ আমার ক্ষুধা নেই। এমনিতে নষ্ট হবে তুমি না খেলে। আমি বরং নিয়ে আসি?”
প্রেমা হা না কিছুই বললো না। অপূর্ণা তার কক্ষ থেকে খাবারের প্লেট আর পানির গ্লাস নিয়ে আসলো। প্রেমা এক অভুক্ত মানুষের মতো খাবার খেতে লাগলো। তবে খাবার গুলো গিলতে কি যে কষ্ট হলো প্রেমার। গাল কেটে যাওয়ায় চিবোতে পারছিলো না ঠিক মতো। কিন্তু ক্ষুধা সেই ব্যথা মানতে নারাজ। তার খেতেই হবে। হোক কষ্ট।
খাওয়া শেষ করে প্রেমা এঁটো হাত ধুয়ে অপূর্ণার দিকে এবার পূর্ণ দৃষ্টি দিলো। নাম শুনে মনে হলো হিন্দু। প্রেমা জিজ্ঞেস করলো-
“ এই নরকে কেনো থাকো তোমরা? ”
“ যাওয়ার জায়গা যে আর নেই আমাদের। এটাই এখন আমাদের বাড়ি ঘর। ”
“ সেচ্ছায় আসো? ”
“ সেচ্ছায় কেউ আসে বুঝি এই নরকে পুড়তে? শুনেছি তুমি শেখরের বউ? জানোয়ার টা বউকেও নিয়ে আসলো এখানে! কত যে বকেছি তোমাকে জানো? ”
প্রেমা অবাক হলো। তাকে বকেছে এই মেয়ে!
“ আমাকে বকেছো কেনো?”
“ এই যে এমন একটা স্বামীর সাথে কি করে থাকো। তোমার স্বামী তো একটা অমানুষ। আমাকে বিয়ে করার লোভ দেখিয়ে এখানে নিয়ে এসেছে। এই যে দেখছো পেটটা। ঐ জানোয়ারের রক্তকে সাথে নিয়ে ঘুরছি। ”
প্রেমা চমকে উঠলো এমন কথা শুনে। শেখরের বাচ্চা এই মেয়ের পেটে! কমাস হবে? ৮ মাস? ৮ টা মাস ধরে পেটে বড় হচ্ছে,অথচ তার সন্তান গুলোর মেয়াদ তার পেটে ছিলো আড়াই থেকে তিন মাস! অথচ প্রেমা তার বউ ছিলো। বউয়ের বাচ্চাদের বাঁচালো না। মে’রে ফেললো। এদিকে এই মেয়ের বাচ্চা কদিন পর দুনিয়ায় আসবে!
মনি অপূর্ণা কে খুঁজতে খুঁজতে এই ঘরের সামনে এসে অপূর্ণা কে প্রেমার সাথে দেখে রাগে ফেটে উঠলো। কতবড় সাহস! এই মেয়ে এখানে এসেছে! পাশে ঔষধ, খাবারের এঁটো প্লেট দেখে বুঝতে বাকি নেই সবটা।
হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে এসে অপূর্ণার চুলের মুঠি ধরে বসা থেকে উঠিয়ে রাগান্বিত গলায় বলল-
“ বা’ন্দির বাচ্চা। তোর এত বড় সাহস! তুই এইখানে আসছিস! ”
অপূর্ণা ব্যথায় চোখ খিঁচে ধরলো। প্রেমা ব্যথাতুর শরীর নিয়ে বসা থেকে উঠে মনির হাত থেকে অপূর্ণা কে ছাড়িয়ে বলল-
“ খবরদার ওর গায়ে হাত দিবে তো। চোখে দেখো না ও প্রেগন্যান্ট? ”
“ ওর এই বাচ্চাটাই যত নষ্টের মূল। শা’লি হা’রামি পেটের ভেতর একটা নিয়ে বসে আছে। এভাবে কি শেখর কে তুই হাতের মুঠোয় রাখতে পারবি ভেবেছিস? ভুল। ”
অপূর্ণা কাঁপতে কাঁপতে বলল-
“ ঐ জা’নোয়ার কে হাতের মুঠোয় রাখার রুচি নেই আমার। অমানুষ কোথাকার। ”
প্রেমা দু’জনের মুখের দিকে তাকাচ্ছে। স্বামী হয় প্রেমার,অথচ তাকে নিয়ে এদের দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি! মনি অপূর্ণার হাত ধরে নিয়ে যেতে যেতে বলল-
“ এখানে যেন তোকে দ্বিতীয় বার না দেখি। এই মেয়ের থেকে দূরে থাকবি। নইলে তোর খবর আছে। ”
ইকবাল শেখরের সাথে কথা বলা শেষ করে চলে যাচ্ছিলো। অপূর্ণাকে এভাবে টানতে টানতে নিয়ে যেতে দেখে ইকবাল ভ্রু কুঁচকালো।
“ কোনো সমস্যা? ”
মনি অপূর্ণা কে তার রুমে নিয়ে বলল-
“ শালি বেশি বাড় বাড়ছে। বাচ্চাটা খালি হয়ে নিক। এর জন্য বেশি খদ্দের আসে। তা না হলে কবেই মা বাচ্চা দুটো কে মাটির ত’লে নিয়ে রাখা হতো। ”
ইকবাল বিরক্ত হলে। সে জিজ্ঞেস করলে কি আর মনি উত্তর দিলো কি। মনি চলে যেতেই ইকবাল অপূর্নার দিকে তাকিয়ে বলল-
“ ওদের কথা মতো চলতে পারো না? ”
“ না পারি না। ”
“ সেজন্যই এত বিপদে পড়ো। ”
“ আপনারা এক একজন অমানুষ। ”
“ সার্টিফিকেট জানতে চেয়েছি আমি? ”
“ আপনারা আমার বাচ্চাটাকে নিয়ে কি করবেন? মে’রে ফেলবেন? ”
“ সেটা আমাকে কেনো জিজ্ঞেস করছো? বাচ্চার বাপ যে তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করো। ”
ইকবাল হাঁটা ধরলো। ওর বাচ্চা নিয়ে ইকবাল কি করে আশ্চর্য!
মনি অপূর্ণা কে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রেমার কক্ষের দরজা বন্ধ করে যেতে ভুলে গেছিলো। প্রেমা এই সুযোগ টা হারাতে চায় না। যদি এখান থেকে বের হয়ে পালিয়ে যাওয়া যায়? প্রেমা খোঁড়াতে খোঁড়াতে মুখ ঢেকে বের হলো। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো কেউ আছে কি না। নাহ নেই। প্রেমা হাঁটা ধরলো। যদিও প্রেমা জানে না, এখান থেকে বের হওয়ার রাস্তা কোন দিকে। তাকে এখানে আনার সময় তো বস্তায় বেঁধে নিয়ে এসেছিল।
প্রেমা বাম দিকের করিডর দিয়ে হাঁটতে লাগলো। কক্ষের পর কক্ষ পেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বের হবার দরজা কোন দিক দিয়ে তা দেখা যাচ্ছে না। এদিকে হাঁটার ফলে শরীরের কে’টে যাওয়া জায়গা থেকে র’ক্ত বের হচ্ছে। ফ্লোরে তা গড়িয়ে পড়ছে।
ইকবাল নিচের দিয়ে তাকিয়ে হাঁটছিলো। হুট করে ফ্লোরে র’ক্ত দেখে হাঁটা থামিয়ে দিলো। কি আশ্চর্য এখানে র’ক্ত আসলো কোথা থেকে? এদিকে তো মানুষজন তেমন আসে না। ইকবাল র’ক্তের ছাপ অনুসরণ করে হাঁটা ধরলো। কিছুদূর যেতেই দেখলো একটা মেয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে এদিক ওদিক তাকিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ওদিক দিয়েই তো বাহিরে যাওয়ার পেছনের গেট। যেটার দরজা আজ খোলা হয়েছে। পালানোর চেষ্টা করছে! ইকবাল পকেট থেকে ফোন করে মনি কে বলল-
“ একটা মেয়ে যে পেছনের গেট দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে,হুঁশ কোথায় তোমাদের? ”
“ কে পালানোর চেষ্টা করছে? ”
“ আমি চিনবো কি করে?”
“ আমি আসছি। তুমি ধরে রাখো।”
ইকবাল ফোন কে’টে প্রেমার কাছে গিয়ে হাত ধরে ফেললো। হুট করে কেউ হাত ধরে ফেলায় ভয়ে শিউরে উঠলো প্রেমা। কে ধরেছে হাত টা? শেখর নাকি মনি!
ইকবাল হেঁচকা টান দিলো হাত ধরে। প্রেমা ব্যথায় আহ্ সূচক শব্দ করে নিজের টাল সামলাতে না পেরে গিয়ে পড়লো ইকবালের বুকের উপরে। ইকবাল হকচকিয়ে গেলো। কি নরম শরীর রে বাবা। টান দিতেই উপরে এসে পড়লো বাতাসের মতো!
নিজের থেকে তৎক্ষনাৎ সরিয়ে দিলো মেয়েটাকে। প্রেমা চোখ তুলে তাকালো এবার। অপরিচিত এক মুখ। সুঠাম দেহ। মুখে চাপ দাঁড়ি। পড়নে পাঞ্জাবি।
মনি ততক্ষণে এসে গেছে। প্রেমাকে দেখে থাপা দিয়ে প্রেমার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। ইকবাল ঘাড় বেঁকিয়ে তাকানোর সময় প্রেমার মুখের সামনে থেকে কাপড় টা সরে যেতেই মুখটা দেখতে পেলো। তারপর এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। অচেনা একটা মেয়ে। নতুন এসেছে নাকি? গালে লেগে আছে হাতের আঙুলের ছাপ। ঠোঁটের কোনায় কাটা। এক পাশ ফোলা। প্রেমা দৃষ্টি সীমার বাহিরে যেতেই ইকবাল চলে যায়।
মাহি আজ ব্লু কালারের সেলোয়ার-কামিজ পড়েছে। একটু শপিংমলে যাবে। এজওয়ান কে ফোন করলো। কিন্তু এজওয়ান ফোন ধরলো না। অগ্যতা নিজের সাইড ব্যাগ টা নিয়ে হাঁটা ধরলো।
এজওয়ান সন্ধ্যার দিকে ক্লাবে গিয়েছিল মন ফ্রেশ করতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে উল্টো আর মুডের চৌদ্দ গুষ্টি সহ খারাপ হয়ে গেলো। ফোনটা সাইলেন্ট মুডে থাকায় এজওয়ান বুঝতে পারে নি তরিকুলের বেটি যে তাকে ফোন দিয়েছিল। এজওয়ান ক্লাব থেকে বেরিয়ে রাস্তায় আসলো। কিছুদূর হাঁটার পর প্রস্রাবের চাপ আসলো। আসেপাশে তাকালো। কেউ নেই। সেজন্য একপাশে দাঁড়িয়ে চেইন খুলে এক নম্বর করতে করতে গলা ছেড়ে গেয়ে উঠলো-
~আমি যদি পঁচিশ বছর বাঁচতাম রে
তবে তোমার কাছে আসতাম না
তোমায় ভালোবাসতাম না
কেন আমি পৃথিবীতে আসলাম রে
কিসের আশায় তোমায় ভালোবাসলাম রে
আমি যদি জন্মের আগে মরতাম রে
তবে তোমার দেখা পাইতাম না
তোমার ভালোবাসতাম না….তরিকুলের বেটি
ফাঁকা নির্জন রাস্তা দিয়ে দুজন লোক দৌড়ে দৌড়ে পালাচ্ছে হাতে একটা ব্যাগ নিয়ে। বারবার পেছন দিকে তাকাচ্ছে। দূরে ঝোপেরর ধারে কাউকে দেখতে পেয়ে একজন ব্যাগটা নিয়ে এগিয়ে গিয়ে বলল-
“ ভাই ব্যাগ টা একটু এখানে রাখলাম? ৫ মিনিটের মধ্যে আসছি। খুবই আর্জেন্ট।
এজওয়ান মাথা নাড়তেই সে চলে গেলো।
সেই সেম রাস্তা দিয়ে দুটো পুলিশ দৌড়ে আসছিলো। আকস্মিক চোর গুলো কে আর দেখতে না পেয়ে পাশে ঝোপের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো একজন কে। সেম কালারের জ্যাকেট ছিলো চোরের গায়ে। পাশেও দেখা যাচ্ছে সেই ব্যাগ টা। পুলিশ দুজন সতর্কতার সহিত এসে এজওয়ানের কলার চেপে ধরে টান দিলো। আকস্মিক টান দেওয়ায় এজওয়ানের প্রস্রাব বাঁধা আসলো। কিছুটা ছিটকে গিয়ে পড়লো একজন পুলিশের ইউনিফর্মে। এজওয়ান তড়িঘড়ি করে পেছনে ফিরে চেইন লাগাতে লাগাতে বলল-
“ লজ্জা নেই আপনাদের? ম্যানারলেস পুলিশ কোথাকার। দেখছেন না আমি এক নম্বর করছি। এসে জড়িয়ে ধরছেন। ”
পুলিশটা হতভম্ব হয়ে গেছে নিজের দিকে তাকাতেই। বেয়াদব চোর টা মুতে দিয়েছে তার শরীরে! এটাকে যদি আজ রিমাইন্ডে না পিটাইছে তো তার নামও আকবর না। পুলিশ টা ফের এজওয়ানের কলার চেপে ধরে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল-
“ হাবিলদার এটাকে গাড়ি তে তোল। ”
এজওয়ান ভ্রু কুঁচকালো এ কথা শুনে।
“ এই গাড়িতে তোল মানে? কি করছি কি আমি? অপরাধ কি আমার? ”
“ চোর জিজ্ঞেস করছে তার অপরাধ কি? চুরি করার সময় মনে ছিলো না? এই ব্যাগ তার প্রমান। ”
“ এই মুখ সামলে কথা বলুন। কাকে চোর বলছেন আপনি? জানেন আমি কে? আর এই ব্যাগ আমার না। ”
“ তুই জানিস না তুই কে? আমাকে জিজ্ঞেস করছিস চোর কোথাকার। এই হাবিলদার টেনে তোল এটাকে গাড়িতে। ”
ধস্তাধস্তি করে এজওয়ান কে গাড়িতে তোলা হলো। এজওয়ান চাইলেই দু চারটা ঘুষি মে’রে দিতে পারতো। কিন্তু নাহ্ মারলো না। এটাকে সে থানায় গিয়ে দেখবে।
থানায় নিয়ে আসার পর এজওয়ানের কাছ থেকে এজওয়ানের ফোন, টাকার কার্ড সব নিয়ে নিলো। তারপর লোকাবে ঢুকে কোনো কথা না বলেই আকস্মি এজওয়ানের মুখে ঘুষি মে’রে বলল-
“ চোরের বাচ্চা কার বাসায় চুরি করছিস জানিস? আওয়ামী লিগের বাসায়। তোরে তো জ্যান্ত মে’রে ফেলব। ”
এজওয়ান এবার ভয়ঙ্কর রেগে গেলো। আকবরের গলা চেপে ধরে বলল-
“ এই মাদা*র*দ একবার বলছি না আমি চোর না। কথা কানে ঢুকে নি? তোর ঐ আওয়ামী লিগের বাপ রে আসতে বল। দেখি আমার কোথাকার বা’ল ফেলতে পারে। যা। ”
পুলিশটাকে বের করে দিলো এজওয়ান লোকাব থেকে। এদিকে টেবিলে থাকা এজওয়ানের ফোনটা বাজছে। আকবরের নজরে আসলো ফোনটা। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে মাহি বলল-
“ ফোন দিচ্ছি ধরছেন না কেনো? কোথায় আপনি? ”
আকবর জিজ্ঞেস করলো-
“ আপনি কে? ”
মাহি ভ্রু কুঁচকালো। কান থেকে ফোন টা নামিয়ে দেখে নিলো নম্বর ঠিক আছে কি না। নম্বর তো ঠিকই আছে।
“ আপনি কে? এটা তো এজওয়ানের ফোন। ”
“ উনার নাম এজওয়ান? ”
“ ফোন টা আপনার কাছে কি করে? এজওয়ান কোথায়? ”
“ উনি পুলিশ স্টেশনে। ”
মাহি চমকানো গলায় বলল-
“ কিহ! উনি থানায়! মারপিট করেছে নাকি কারো সাথে? ”
“ উনি চুরি করার সাথে সাথে মারপিট ও করে নাকি?”
“ হোয়াট ননসেন্স! চুরি করতে যাবে কেনো উনি? ”
“ আপনি কে হন উনার? ”
“ যেই হই। উনি চুরি করার মতো লোক না। ”
“ চুরি করার মতো লোক না কেনো? ”
“ উনি চুরি করতে যাবে কোন দুঃখে? ”
“ আম্বানির মেয়ের জামাই নাকি?”
“ মাইন্ড ইউর ল্যাঙ্গুয়েজ অফিসার। হি ইজ মাই হাসবেন্ড। আই নো হাউ হি ইজ। আপনার কোথাও মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং হচ্ছে। ”
“ কোনো মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং হচ্ছে না। প্রমান সহকারে ধরেছি। ”
“ কোন থানায় ধরে নিয়ে গেছেন? ”
“ রমনা থানায়। ”
“ আসছি আমি। ”
এজওয়ান জিজ্ঞেস করলো-
“ কে ফোন করেছিল? আমার বাপ নাকি ভাই? ”
“ বোধহয় তোর বউ। আসছে সে। দেখি কি করে তোকে ছুটিয়ে নিয়ে যায়। ”
এজওয়ান ভ্রু কুঁচকে আসলো এ কথা শুনে। তরিকুলের বেটি আসছে? সিরিয়াসলি! গালে আঙ্গুল দিয়ে দেখলো একটু কেটে গেছে। র’ক্ত বের হচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর মাহি আসলো হাত ভর্তি শপিং ব্যাগ। হাবিলদারের কাছে জিজ্ঞেস করলো-
“ এজওয়ান কোথায়? ”
মাহির গলার আওয়াজ শুনে এজওয়ান হাত নাড়িয়ে বলল-
“ তরিকুলের বেটি। আমি এখানে। ”
মাহি তাকালো বাম দিকের লোকাবের দিকে। তার সামনেই টেবিলের সামনে বসা আকবর। মাহি তার সামনে গিয়ে বলল-
“ কিসের চুরি করেছে উনি? দেখি। ”
আকবর ব্যাগটা বাড়িয়ে দিয়ে দেখালো। ব্যাগের ভেতর লাখ টাকার তিনটে বান্ডিল। স্বর্ণের কয়েকটা গয়না।
“ প্রুফ কি যে উনি করেছেন চুরি গুলো? ”
“ ব্যাগটা উনার কাছে পাওয়া গেছে। এরচেয়ে বড় প্রুফ আর কি হতে পারে? ”
মাহি এজওয়ানের দিকে তাকালো।
“ ব্যাগ আপনার কাছে আসলো কি করে? ”
এজওয়ান সবটা খুলে বলল।
মাহি এজওয়ানের দিকে এগিয়ে এসে দেখলো ঠোঁটের নিচে রক্ত লেগে আছে।
“ মেরেছে আপনাকে? ”
এজওয়ান অসহায়ের মতো করে বলল-
“ হুমম। চেয়ারে বেঁধে মেরেছে খুব। দেখো র’ক্ত বের হচ্ছে। ”
মাহি আকবরের দিকে তাকিয়ে বলল-
“ উনাকে ছাড়ুন। আর সেটাও ৫ সেকেন্ডের মধ্যে।”
“ আপনার কথায়? ”
“ ইয়েস আমার কথায়। ”
“ হু আর ইউ ম্যাডাম? চোরের বউ। ”
চোরের বউ সম্বোধন টা শুনেই মাহি সামনে গ্লাসে থাকা পানিটা অফিসারের মুখের দিকে ছুঁড়ে মে’রে বলল-
“ সরকারের টাকা খেতে খেতে ভুঁড়ি আর নড়াতে ইচ্ছে করে না বুঝি? সেজন্য আসল চোর কে না খুঁজে উনাকে ধরে নিয়ে আসছেন। ”
আকবর রেগে গেলো। একজন ডিউটিরত অফিসারে গায়ে পানি ছোঁড়া! তেড়ে এসে মাহিকে ছুঁতে চাইলে মাহি গলা চেপে দেওয়ালের সাথে লাগিয়ে বলে-
“ ভুলেও এই কাজ করার চেষ্টা করবেন না। তাহলে আর এই পুলিশের চাকরি করে খাওয়া লাগবে। দু’দিন পর আপনারই চুরি করে খেতে হবে। ”
কথাটা বলেই মাহি কাউকে ফোন করলো। মিনিট দশেক পর একজন লোক আসলো। রাস্তার সিসিটিভির ফুটেজ এনেছে। মাহি সেটা অফিসারের মুখের উপর ছুঁড়ে দিয়ে বলল-
“ প্রমান দিয়ে গেলাম। আসল চোর খুঁজে বের করুন। মাহি চৌধুরীর স্বামী জেলে থাকার মতো লোক না। ”
তার কয়েক সেকেন্ড ব্যবধানের মধ্যে আকবরের কাছে একটা ফোন আসে। ফোনের ওপাশ থেকে বলা কিছু কথাবার্তা শুনে রীতিমতো ঘাম বেয়ে পড়তে শুরু করে শরীর দিয়ে।
মাহি গিয়ে তালা খুলে বের করে আনলো এজওয়ান কে। আকবর দু’জনে সামনে দাঁড়িয়ে কপালে হাত রেখে বলল-
“ সরি ম্যাম সরি স্যার। আমি চিনতে পারি নি আপনাদের। প্লিজ আমার চাকরিটা নিয়ে নিবেন না। ”
এজওয়ান বলল-
“ বউ আছে সামনে সেজন্য কিছু বললাম না। নইলে একদম জায়গা মতো ভরে দিতাম। আবাল পু’লিশ কোথাকার। এরপর যদি এমন ভুল দেখছি তো…”
“ আর হবে না স্যার। ”
এজওয়ান হাঁটা ধরলো। কিছু দূর গিয়ে ফের পেছন ফিরে আকবরের দিকে তাকিয়ে বলল-
“ সিসিটিভি ফুটেজে যদি আমার ১ নম্বর করার কিছুমিছু দেখা যায়। তাহলে নিজ দায়িত্বে তা ডিলিট করে দিবেন। আমার খেয়াল ছিলো না ওখানে সিসিটিভি ফুটেজ আছে। ”
“ জ্বি স্যার। ”
এজওয়ান চলে গেলো। মাহি গাড়ি নিয়ে এসেছিল। এজওয়ান কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল-
“ আপনার গাড়িতে উঠুন। আপনার গাড়ি নিয়েই বের হয়েছিলাম। ”
এজওয়ান গিয়ে বসলো ড্রাইভিং সিটে। মাহি পাশে বসতেই গাড়ি স্টার্ট দিলো এজওয়ান। কি অকৃতজ্ঞ এই ছেলে! মাহিকে ধন্যবাদ অব্দি দিলো না! মাহি গলা ঝেড়ে বলল-
“ আমি বোধহয় আপনার কাছে কিছু পাই। ”
“ কি পাও? টাকা? ”
“ ভেবে দেখুন কি পাই। ”
“ মনে পড়ছে না। কিছুতো নেই নি কখনও তোমার থেকে। তাহলে কি পাবা আমার কাছে?”
“ অসভ্য অকৃতজ্ঞ লোক। আপনাকে যে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনলাম। তার বিনিময়ে কি ধন্যবাদ প্রাপ্য নই আমি? ”
“ চেয়ে চেয়ে নিতে চাও ধন্যবাদ! ওকে বেশ তো। ধন্যবাদ তোমাকে তরিকুলের বেটি। তুমি না বাঁচালে তো আমাকে ঐ লোকাবের ভেতরই সারাজীবন পড়ে থাকতে হতো। থ্যাংক ইউ সো মাচ। ”
“ ফালতু লোক কোথাকার। আপনি ভালো ব্যবহার পাওয়ার যোগ্যই না। আমি ভুলেই গিয়েছিলাম আপনার মতো অখাদ্য কে কি আর খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে হজম করা যায়? পেটের ভেতর ঢুকে ঠিকই পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে যান। ”
এজওয়ান বাকা চোখে তাকালো। শালি তাকে কি গুয়ের সাথে তুলনা করলো তাহলে! গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দিয়ে বলল-
“ তোর পেট যদি আমাকে হজম করতে নাই পারে, তাহলে এক কাজ কর,তোর পেছন দিক দিয়ে পা’ছায় কস্টিপ লাগিয়ে আমার বের হওয়ার রাস্তাটা বন্ধ করে দে। ”
মাহি এজওয়ানের চুল মুঠোয় নিয়ে টেনে ধরে বলল-
“ শয়তান বেডা। সবসময় আমাকে হিউমিলিয়েট করে কথা বলেন। অকালে টাকলা হবেন বদ দোয়া দিলাম। ”
এজওয়ান মাহি কে টেনে এনে ঠোঁটে একটা চুমু খেয়ে বলল-
“ এমন করে বদ দোয়া দিয়ে বলতো পারে না অকালে বাপ হয়ে যাই যেন। ”
“ কচু হবেন আপনি। আপনার সন্তান হলে তারা আপনাকে দেখে উল্টা লজ্জা পাবে। এই ভেবে যে, তাদের এমন অসামাজিক, তাড়ছেড়া বাপ জুটেছে কপালে। বউ কে সম্মান দেয় না। ”
“ ওপ্স তাদের মা বুঝি তাদের বাপ কে সম্মান দিয়ে তাল গাছের উপরে বসিয়ে রাখে। ও মাই গড..”
“ আমি আগে খারাপ ব্যবহার করি? করেন তে আগে আপনি। আর আমি পাল্টা উত্তর দিলেই খারাপ? ”
“ না ম্যাডাম আমিই খারাপ। আপনি ভালো। ”
“ স্বীকার করলেন তাহলে। ”
“ জ্বি ম্যাডাম। আপনাকে একটা কথা বলার ছিলো। ”
“ বলুন। ”
“ আপনার ঠোঁট জোড়া ভীষণ ইয়াম্মি। দেখলেই খেতে ইচ্ছে করে। টসটসে গোলাপি ঠোঁট। ”
“ লিপলস দিছি সেজন্য টসটসে লাগছে। ”
এজওয়ান ট্যিসু দিয়ে মুখ মুছতে মুছত বলল-
“ আমার ফাইন মুডটার উপর এটা বলে জাস্ট মুতে দিলে তুমি তরিকুলের বেটি। ”
“ দেখছেন সত্যি কথা বললেও কিভাবে কথা বলেন। ”
“ এমন সত্যি না বললেও তো চলতো। বললে কেনো। যাই হোক আই লাভ ই….”
“ আই লাভ ইউ বলবেন জানি তো। এই এক কথা শুনতে শুনতে কান পঁচে গেছে। ”
এজওয়ান মাহি কে নিজের থেকে ঝাড়া দিয়ে দূরে সরিয়ে দিলো। এজওয়ান কি আই লাভ ইউ বলতে যাচ্ছিলো নাকি? কি মনে করে কি তরিকুলের বেটি নিজেকে? এজওয়ান তো বলতে যাচ্ছিলো আই লাভ ইউর লিপিস। কিন্তু না, এই মাইয়া বলতে দিলো না। এজওয়ান রেগে বলল-
“ তোর নানির হেডা বলবো আমি। যা ভাগ। ”
প্রেমার শরীরের ঘা গুলো আস্তেধীরে শুকাতে শুরু করেছে। তবে শরীরে ব্যথা প্রচুর। অপূর্ণা প্রেমাকে তার জামাকাপড় দিয়ে গপছে। যেহেতু এখন সে মেক্সি পড়ে সেহেতু আগের জামাকাপড় গুলো পড়া হয় না। প্রেমা গোসল করে নিলো। অনেক দিন হলো নামাজ কালাম থেকে দূরে আছে প্রেমা। এমন এক অপবিত্র জায়গায় কি নামাজ পড়া যাবে? জায়নামাজ ও তো নেই। প্রেমা ঘরের এক কোনাটা মুছে নিলো। প্রেমা কে এখন জোর করা হচ্ছে না শরীর বিলিয়ে দেওয়ার জন্য। শরীরে মারের দাগ বলে। প্রেমা ওজু করে এসে এশার নামাজ টা পড়ার জন্য নিয়ত ধরলো।
দিপা নামের মেয়েটা যাচ্ছিলো খদ্দরের কাছে। এক লোক নাকি এসেছে আজ। কিন্তু দরজার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় প্রেমাকে নামাজ আদায় করতে দেখে চমকে উঠলো। খদ্দরের কাছে না গিয়ে ছুট লাগালো মনির কাছে। মনি প্রেমার নামাজ পড়ার কথা শুনে চমকে উঠলো। নামাজ পড়ছে প্রেমা! দ্রুত পায়ে হাঁটা শুরু করলো। প্রেমার ঘরে এসে প্রেমাকে নামাজ পড়া অবস্থায় ধাক্কা দিয়ে নামাজ ভঙ্গ করতে চাইলে এক হাত এসে থামিয়ে দেয় মনি কে। মনি রেগে উঠে এমন কাজে। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখে ইকবাল ধরেছে তার হাত। কিছু বলার জন্য মুখ খুললে ইকবাল মনির মুখ চেপে ধরে বাহিরে নিয়ে গিয়ে প্রেমার রুমের দরজাটা চাপিয়ে দিয়ে বলল-
“ কি করতে যাচ্ছিলে এটা তুমি? ”
“ তুমি দেখছিলে না ও নামাজ পড়ছিলো? ”
“ মুসলিম মেয়ে ধরে এনেছো? কোথা থেকে নিয়ে এসেছো ধরে? ”
“ তোমাকে কেনো বলবো সেসব? তুমি শুনে কি করবে? এখানে কোনো নামাজ টামাজ পড়া যাবে না। ”
“ ঐ মেয়ের নাম কি? ”
“ কেনো? ”
“ জানতে চেয়েছি। তুমি বলতে বাধ্য। ”
“ প্রেমা। ”
ইকবাল কয়েকবার আওড়ালো ঠোঁটের কোনে এই নাম।
“ ক’জনের কাছে পাঠিয়েছো ওকে? ”
“ একজনের কাছেও পাঠাতে পারি নি এখনও। শালির তেজ অনেক। যাকে পাঠাচ্ছি হয় তাকে খু’ন করছে না হয় ছু’রি নিয়ে তেড়ে আসছে। সম্মান নাকি বিক্রি করবে না সে। ”
ইকবাল ভাবনায় তলিয়ে গেলো। এই প্রেমা টা কে? যে কি না পতিতালয়ে সর্বপ্রথম নামাজ আদায় করা প্রথম মুসলিম নারী। কোথা থেকে নিয়ে এসেছে শেখর তাকে? দেখতে হবে মেয়েটা কে।
গভীর রাতে ইকবাল প্রেমার রুমের সামনে আসে। আজ আর সে যায় নি বাসায়। এখানেই ছিলো। বের হয়েছিল রাতে বাহিরে যাওয়ার জন্য, হাওয়া বাতাস খেতে। এখানে হাওয়া বাতাস খুব কম আসে। কিন্তু প্রেমার দরজার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কান্নার আওয়াজ পেয়ে দাঁড়িয়ে যায় ইকবাল। দরজাটা ভেতর থেকে লাগানো।
দাহশয্যা পর্ব ৮৪ (২)
প্রেমা মোনাজাতে দু হাত তুলে আল্লাহর কাছে নিজের দুঃখের কষ্টের ফরিয়াদি জানাচ্ছে। এই নরক থেকে বের হওয়ার জন্য পথ দেখাতে বলছে। অসম্মানিত হয়ে অন্তত মরতে চাচ্ছে না। সম্মানের সহিত যেন আল্লাহর কাছে যেতে পারে। জাস্ট এই টুকুই চাচ্ছে প্রেমা। এই শেষ চাওয়াটা যেন তার পূরণ হয়।
