Home না চাইলেও তুমি শুধু আমারই না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৬

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৬

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৬
মাইশা জান্নাত নূরা

ইলমা ছুটে এসে অনুর পাশে বসতেই ওর বুকটা কেমন কেঁপে উঠলো। অনু নি*থর হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। অনুর মুখমণ্ডল দেখতে কেমন র*ক্ত*শূন্য লাগছে। ওর নিঃশ্বাসের গতি অনেক ক্ষীণ। হাত-পা’ও স্বাভাবিক এর তুলনায় অনেকটা ঠাণ্ডা হয়ে আছে অনুর। অন্যরকম ভ*য় ও চাপা আ*তঙ্কে হাত কাঁপছে ইলমার। তবুও ইলমা নিজেকে সামলে নিয়ে টেবিলের উপর রাখা গ্লাসটা এনে অনুর চোখে-মুখে পানি ছিটিয়ে দিলো। অনুর দু’গালে আলতো হাতে চা*প*র মা*র*তে মা*রতে বললো….

—“অনু, অনু শুনছো! চোখ খোলো। অনু!”
অনুকে ডাকতে গিয়ে ইলমার কন্ঠস্বরও কাঁপছিলো মৃদুভাবে। কিছুক্ষণ পর অনুর চোখের পাতা সামান্য নড়ে-চড়ে উঠলো। কম্পিত হলো অনুর হাতের আঙুলগুলো। পরক্ষণেই অনু ঝ*ট করে শোয়া থেকে উঠে বসে হাঁপা*তে শুরু করলো। যেনো এতোসময় ওর নিঃশ্বাস গুলো কোথাও আটকে ছিলো তা এখন বাঁধনহারা হয়ে বেড়িয়ে আসছে বেগতিক ভাবে। অনুর দু’চোখ জুড়ে ভ*য়েরা জেঁ*কে বসেছে। সেই মুহূর্তেই অনু দু’হাতে ইলমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। যেনো এইমূহূর্তে একটা নিরাপদ বুক ওর ভিষণ দরকার ছিলো নিজেকে লুকিয়ে ফেলার জন্য। অনু হা*উ-মা*উ করে কেঁদে উঠলো। অনুর সর্বশরীর থর-থর করে কাঁপছে। অনু ওভাবেই কাঁদতে কাঁদতে বললো…..

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

—“আমি-আমি বাবাকে মা*রতে চাই নি। বিশ্বাস করো আমাকে। আমি চাই নি। আমি খু*ন করি নি!”
অনুর বেসামাল ভাবে করা কান্নায় ইলমার কাঁধ অনেকটাই ভিজে গিয়েছে। অনুর অবস্থা দেখে ও ওর বলা কথাগুলো শুনে ইলমা বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে প্রায়। অনু আরও তীব্র কন্ঠে বলে উঠলো….
—“আমার হাতে যে র*ক্ত লেগে আছে এই র*ক্ত গুলো আমি ইচ্ছা করে লাগাতে চাই নি। এই র*ক্তগুলো সব আমার বাবার শরীর থেকে বের হওয়ার র*ক্ত। কিন্তু আমি আমার বাবাকে মা*র*তে চাই নি। আমি ইচ্ছে করে মা*রি নি তাকে। তাহলে এই র*ক্ত কেনো আমার পিছু ছাড়ছে না। কেনো আমাকে হুটহাট তাড়া করে! কেনো? কেনো?”
একটানা বি*ভ্রা*ন্ত ও ভ*য় মিশ্রিত কন্ঠে এতোগুলো কথা বলতে গিয়ে অনুর শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি আবারও অস্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। অনুর আকস্মিক এমন স্বীকারোক্তি শুনে ইলমার গাঁয়ের লোমকূপ গুলো দাঁড়িয়ে গিয়েছে। তবুও ইলমা নিজের আ*ত*ঙ্ককে নিজের মধ্যেই দমিয়ে রেখে অনুর পিঠে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো……

—“শান্ত হও অনু। প্লিজ শান্ত হও। তোমাকে আগে স্বাভাবিক হতে হবে। দেখো আমি আছি তোমার পাশে। আমি কোথাও যাচ্ছি না তোমায় ছেড়ে। শ্বাস নাও। ধীরে ধীরে শ্বাস নাও।”
ইলমা নিজের বক্ষডোরে খানিকটা শক্ত ভাবে জড়িয়ে রাখলো অনুকে। এইমূহূর্তে অনুকে শান্ত করাটা জরুরি। অনুর বলা কথাগুলো নিয়ে কোনো প্রশ্ন করার উপযুক্ত সময় এটা নয়। অনু স্বাভাবিক হয়ে হওয়ার পরই ইলমা জানতে পারবে অনুর এভাবে ভে*ঙে পড়ার পিছনে লুকিয়ে থাকা সত্যটা আসলে কী?

তেজ আর নির্ঝর সারফারাজের রুমের ভিতর প্রবেশ করতেই দেখলো সারফারাজ বিছানার উপর আধশোয়া হয়ে বসে আছে কপালের উপর একহাত ভাঁজ করে দু’চোখ বুঁজে। তেজ ও নির্ঝরের উপস্থিতি উপলব্ধি করতে পেরে সারফারাজ ওভাবে থেকেই বললো….
—”আমার রুমে কেনো এসেছিস তোরা?”
নির্ঝর একবার ঢোক গি*ললো। তেজের দিকে তাকিয়ে আছে নির্ঝর। কারণ ওর পক্ষে কিছু বলা সম্ভব না সারফারাজের সামনে দাঁড়িয়ে। তেজ শব্দ করে একবার নিঃশ্বাস ফেলে বললো….
—”ভাইয়া, তোমার সাথে একটু কথা ছিলো।”
সারফারাজ কোনো প্রতিত্তুর করছে না দেখে তেজ আবারও বললো……

—”ভাইয়া একটু আগে নিচে যা যা বললাম তা পুরোপুরি সত্য না হলেও আংশিক সত্যতা তাতে আছে।”
সারফারাজ ওর কপালের উপর থেকে হাত সরিয়ে শক্ত নজরে তাকালো ওদের দিকে। তেজ অনুভব করলো ওর গলা শুকিয়ে গিয়েছে ইতোমধ্যেই। তেজ ওর জিহ্বার অগ্রাংশ দিয়ে ঠোঁটদ্বয় হালকা ভিজিয়ে নিয়ে বললো….
—”আমি জানি আমি অনেক বড় অন্যায় করেছি। পরিবারের সবার সরল মন ও চিন্তাধারা নিয়ে খেলা করেছি। কিন্তু বিশ্বাস করো ভাইয়া ভবিষ্যতে বিষয়টা এতোটা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে তা আমি কল্পনাতেও ভাবতে পারি নি। তুমি সব সত্য জেনে গিয়েছো যেকোনো ভাবে। তারপর থেকে তুমি আমার উপর নারাজ। আমাকে ঘৃ*ণা করছো। আমি তোমার রাগ সহ্য করতে পারলেও তোমার ঘৃ*ণাটুকু সহ্য করতে পারছি না। তোমার ঘৃ*ণি*ত দৃষ্টি আমার ভিতরটা ক্ষ*ত-বি*ক্ষ*ত করে দিয়েছে গত পড়শু রাত থেকে। দিক-বেদিক শূন্য হয়ে গিয়েছিলাম যখন আমি তখন আমার মাথার উপর আল্লাহর অশেষ রহমত হয়ে ছায়া প্রদান করেন বড় ভাবী।”
তেজের মুখে ‘বড় ভাবী’ শব্দটা শোনামাত্র সারফারাজের ভ্রু যুগল কিন্ঞ্চিত কুঁচকে এলো। সারফারাজের মনে প্রশ্ন জাগলো…..

‘বড় ভাবী বলতে তেজ কাকে সম্বোধন করলো? পিহুকে? কিন্তু পিহু এসবের মাঝে ঢুকলো কখন? কিভাবে?’
তেজ শান্ত কন্ঠে বললো….
—”বড় ভাবী আমাকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করেছিলেন সত্যিটা সকলের সামনে আনার জন্য। বড় ভাবীই পরিকল্পনা করেছিলেন সত্যিটা এমন ভাবে সকলের সামনে আনতে হবে যেনো পরিবারের আর কেউ ক*ষ্ট না পায় এবং আমাকে তোমার মতো ঘৃ*ণা না করে। সংসারে শান্তি নষ্ট না হয়।”
রুমের বাহির থেকে সবটা শুনতে পেয়ে পিহু ঠোঁট কাঁ*ম*ড়ে ধরলো। নীরা কপাল চাঁ*প*ড়ে ফিসফিসিয়ে বললো…..
—”এই গাঁ*ধা গুলো তো তোমার নামে সবকিছুই বলে দিলো ভাবীপু। এবার কি হবে?”
পিহু বললো….
—”বেশি কিছু না, আমার চল্লিশার ব্যবস্থা করবেন এবার এমপি সাহেব স্বযত্নে।”
সারফারাজ বললো….
—”নিচে যা হলো এই সবকিছুই তোদের বড় ভাবীর প্লান ছিলো?”
তেজ আর নির্ঝর একসাথে মাথা উপরনিচ নেড়ে সম্মতি জানালো। সারফারাজ আবারও বললো….
—”কোথায় তিনি এখন?”

তেজ আর নির্ঝর একসাথে পাশ ফিরে দরজার দিকে তাকালো। ওদের দু’জনের ইশারাতেই সারফারাজ বুঝতে পারলো পিহু রুমের বাহিরেই দাঁড়িয়ে আছে নিজেকে আড়াল করে। সারফারাজ গলা হালকা উঁচু করে বললো…..
—”বাহিরে যে দাঁড়িয়ে আছে সে যেনো এক্ষুণি ভিতরে আসে। নয়তো আমি এখান থেকে উঠলে ফল ভালো হবে না।”
সারফারাজের এরূপ কথা শুনে পিহুর মুখ ভ*য়ে কাঁচু-মাঁচু হয়ে গেলো। নীরা তৎক্ষনাৎ ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ বলে স্থান ত্যগ করতে নিলে পিহু পিছন থেকে নীরার টপসের কলার টেনে ধরে বললো…..
—”কোথায় যাওয়া হচ্ছে ননদিনী? আমাকে একা সিংহের গুহায় ঢু*কি*য়ে দিয়ে প*ল্টি কাটবে তা তো হবে না সোনামনি। চলো আমার সাথে। ফাঁ*স*ছিই যখন তখন চারজন একসাথে সমান সা*জা ভোগ করবো।”
নীরা ঠোঁট উল্টে বললো….

—”ভাবীপু, এতো নি*ষ্ঠুর হইও না তুমি।”
নীরার কথা শোনার সময় আর হলো কই? সারফারাজ আবারও বলে উঠলো….
—”কি হলো? এতোক্ষণ সময় লাগে ভিতরে আসতে?”
পিহু ওভাবেই নীরাকে টেনে নিয়ে রুমের ভিতরে প্রবেশ করলো। নীরা উল্টোপিঠ হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁ*ত দিয়ে নখ কাঁ*ট*ছে সমানে। পিহু মাথা নুইয়ে রাখা অবস্থায় ঘাড় হালকা বাঁকিয়ে তেজ ও নির্ঝরের দিকে তাকালে দু’জনেই একসাথে নিজেদের ৩২ পাঁটি দাঁত বের করে নিঃশব্দে হাসলো। ওদের দু’জনের হাসি দেখে পিহুর ইচ্ছে করছে হাঁ*তু*ড়ি দিয়ে ওদের ৬৪ টা দাঁত-ই ফেলে দিতে। সারফারাজ তীক্ষ্ণ দৃষ্টি স্থির করে রেখেছে ওদের ৪ জনেরই উপর। সারফারাজ পিহুকে উদ্দেশ্য করে বললো….
—”আমাকে না জানিয়ে এমন কিছু করার কথা ভাবলে কিভাবে তুমি বউ?”
এইমূহূর্তে দাঁড়িয়ে সারফারাজের মুখে বউ ডাকটা শুনে পিহুর মনে হচ্ছে কলিজার সবটুকু পানিই শুকিয়ে গিয়েছে। পিহু শুকনো ঢো*ক গি*লে বললো….

—”আপনি রেগে ছিলেন তেজ ও নির্ঝরের উপর। আপনার মন-মাইন্ডের অবস্থা স্বাভাবিক ছিলো না দেখেই যা করার আপনাকে না জানিয়েই করেছি এমপি সাহেব।”
—”মি*থ্যে দিয়ে এতো বড় একটা সত্যকে ঢাকার কথা চিন্তা করার সময় তোমার ভ*য় করে নি একটুও?”
পিহু নিজেকে সামলে নিয়েছে অনেকটা। চোখ তুলে সারফারাজের দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো…..
—”পরিবারের সুখ-শান্তি রক্ষার্থে সত্যটাকে যখন হালকা-পাতলা মি*থ্যে*র আবরণ দিয়ে ঢেকে সকলের সামনে তুলে ধরা হয় তখন আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেন হয়তো। খুব বড় কোনো পা*প করা হয়ে যায় কি এতে, এমপি সাহেব?”
পিহুর কথার কোনো উত্তর সারফারাজ করলো না।সারফারাজের মুখশ্রী জুরে আগের মতো সেই তেজ, রাগ, ঘৃ*ণা*র ছাপ আর ফুটে থাকতে দেখা যাচ্ছে না। পিহু বললো….

—”ছোটরা ভু*ল করলে বড়রা তাদের শাষণ করবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তাঁদের উপর থেকে একেবারের জন্য মুখ ফিরিয়ে নেওয়াটা কি ঠিক বলেন? সব ভুল কেবল শাষনের মাধ্যমেই শুধরানো যায় না। কিছু ভু*লের প্রতিত্তুর হিসেবে তার প্রতি একটু নমনীয়তা দেখালে, ক্ষমা করলে ও ভালোবাসলেও সে নিজেকে শুধরে নিতে পারে সহজেই। বিশেষ করে যারা নিজের করা কর্মের জন্য অনুশোচনায় ভু*গে, বারবার ক্ষমা চায়, নিজেকে শুধরে নেওয়ার জন্য একটা সুযোগ চায় তাদের ক্ষমা করে একটা সুযোগ, অন্তত শেষ একটা সুযোগ দেওয়া উচিত। নয়তো দেখা যাবে জীবনের কোনো একটা পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়ে আমরা সেই মানুষটাকে যখন হারিয়ে ফেলবো তখন তাঁকে ক্ষমা না করার জন্য ভিষণ ভাবে অনুশোচনার আ*গুনে দ*গ্ধ হবো।”
নীরা সামনে ঘুরে দাঁড়ালো। পিহুর বলা প্রতিটি কথা ওদের তিনজনেই হৃদয়কে ছুঁয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। তেজ অনুশোচনা ভরা দৃষ্টিতে সারফারাজের তাকিয়ে কিছুটা ধরা গলায় বললো….

—”ভাইয়া, ভুলটা আমি করেছি। পা*পী আমি। তাই তুমি যদি ক্ষমা নাই করতে পারো তবে তা শুধু আমার জন্য প্রযোজ্য রেখো। এখানে নির্ঝরের কোনো দো*ষ ছিলো না। ওকে আমিই ভ*য় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রেখেছিলাম। আর এখন ভাবী ও নীরা আমায় যে সাহায্য করেছে , আমার জন্য তোমার সামনে দাঁড়িয়ে এতো গুলো কথা বলার সাহস ভাবী করেছে তার জন্য তুমি ওদেরও কিছু বলো না প্লিজ। ওদের উপরে নারাজ হইও না। আমি কথা দিচ্ছি তোমায়, আমি নিজেকে শুধরে নিবো। সব পাপ কাজ ছেড়ে দিবো। নেশাজাতীয় দ্রব্য ছুঁয়েও দেখবো না। কোনো মেয়ের দিকে চোখ তুলেও তাকাবো না। আর আমি এখান থেকে চলেও যাবো। অনেক দূরে কোথাও গিয়ে থাকবো ততোদিন পর্যন্ত যতোদিন না তুমি আমাকে ডাকছো আর বলছো, ক্ষমা করেছো তুমি তোমার এই পা*পী ভাইকে।”
তেজের এরূপ কথা শুনে নির্ঝর ওর ডান হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে মাথা এপাশ-ওপাশ নাড়িয়ে ওকে কোথাও যেতে না করলো। পিহু শান্ত দৃষ্টিতে একটু আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে সারফারাজের দিকে এই ভেবে যে, এবার হয়তো সারফারাজের মনটা গলবে। তেজ নির্ঝরের হাতের বাঁধন থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে দু’চোখে জমে আসা অশ্রুটুকু মুছে রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে নিলে সারফারাজ বললো….

—”দাঁড়া। কোথায় যাচ্ছিস এভাবে?”
সারফারাজের এই ডাকটার আশাই করছিলো পিহু, নীরা ও নির্ঝর। তেজ দাঁড়িয়ে গেলো। কিন্তু পিছু ফিরে তাকানোর শক্তি সে পেলো না। তেজের বুকের ভেতরটা কেমন যেনো করছে একটু পর পর। সারফারাজ বিছানা থেকে নেমে তেজের পিছনে এসে দাঁড়িয়ে ওর কাঁধে হাত রেখে বললো….
—”কি রে বেটা ঘোর এদিকে!”
তেজ ঘুরে দাঁড়ালো। মাথা নুইয়ে নিয়েছে সে। তেজের দু’চোখ ছলছল করছে। সারফারাজ তৎক্ষনাৎ তেজকে নিজের বুকে টেনে নিলো। তেজ এবার শব্দ করে কেঁদে ফেললো। একদম ছোট বেলার মতো। যখন তেজ খেলতে গিয়ে পরে গিয়ে শরীরে কোথাও ব্য*থা পেতো তখন আর সবার সামনে নিজের য*ন্ত্র*ণাকে আড়াল করতে সক্ষম হলেও সারফারাজের সামনে এসে দাঁড়ালেই আর নিজেকে শক্ত রাখতে পারতো না সে। সারফারাজকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে-কাঁদতে প্রতিটা কথা শেয়ার করতো তেজ। তেজ বললো….

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৫ (৩)

—”তুমি আমাকে ক্ষমা করেছো ভাইয়া? সত্যিই ক্ষমা করেছো আমায় তুমি?”
সারফারাজ বললো….
—”ছোট ভাই তুই আমার। কতোক্ষণ পারবো তোর উপর রেগে থাকতে? ক্ষমা না করে উপায় আছে আর?”
নির্ঝর, নীরা আর পিহুর ঠোঁটেও হাসির রেখা ফুটে উঠেছে তেজ ও সারফারাজকে এভাবে মিলে যেতে দেখে। পরক্ষণেই সারফারাজ সামনের দিকে ঘুরে দাঁড়ালো। নিজের এক হাত দিয়ে তেজেকে ধরে রেখেছে সে আর অন্য হাত দিয়ে নির্ঝরকে কাছে আসার জন্য ইশারা করলে নির্ঝর ছুটে গেলো ওর কাছে। সারফারাজ দুই হাতে নিজের দুই ভাইকে জড়িয়ে রেখেছে নিজের বুকের সাথে। তেজ আর নির্ঝর ওভাবে থেকেই একে-অপরের সাথে হাইফাইভ করলো হাসিমুখে।
পরক্ষণেই নীরার হাসিমুখ খানা মলিন বর্ণ ধারণ করলো। নীরা মনে মনে বললো…..
—”আমার সত্যটা জানার পরেও কি বড় ভাইয়া আমাকে বিশ্বাস করে সব রাগ-অভিমান ভুলে এভাবেই বুকে আগলে নিবে?”

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৬ (২)