Home নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২২

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২২

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২২
সুরাইয়া জিয়াসমিন

বলেই নুবা হাতে মেহেদি নিয়েই আরহামের উপর ঝাপিয়ে পড়লো। আরহাম একটু হাসলো।নুবা মেহেদি দেওয়া হাত উঁচু করে রেখে অন্য হাত দিয়ে আরহামের কাঁধে চেপে ধরে তার গালে দাঁত বসিয়ে দিলো। আরহাম শব্দ করে হাসলো নুবার কান্ডে ।আরহামকে এখনো হাসতে দেখে নুবা এবার গাল ছেঁড়ে আরহামের ঠোঁট দাঁত দিয়ে চেপে ধরলো। আরহাম তাও যেনো হাসার চেষ্টা করলো।তা দেখে নুবা এবার দুই ঠোঁট দিয়ে আরহামের ঠোঁট দুটো চেপে ধরলো।এই সুযোগে আরহাম বেশ ভালো ভাবেই বউটাকে আদর করে নিলো।
নুবা আরহামের সুযোগে সৎ ব্যবহার করা টের পেয়ে নিজেই ছেড়ে দিলো তাকে তবে সরে গেলো না, বরং এক হাত দিয়ে আরহামের দুই গাল চেপে ধরে ফুলো লালচে ঠোঁটে চুমু খেলো বারবার।নুবার কান্ড দেখে আরহাম ফুলো ঠোঁট দুটো নাড়িয়ে বলে উঠলো

_”বেশি সময় এভাবে থেকো না জান,তবে গোসল ফরজ হয়ে যাবে। আমার সব টাইট হয়ে আসছে।Move away।”
নুবা সরলো না,আরো শরীর ঘেঁষে আরহামকে জরিয়ে ধরলো এক হাত দিয়ে অতঃপর তার গলা আর বুকে অজস্র চুমু এঁকে দিলো। আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে মৃদু কন্ঠে বলে উঠলো
_”আজ প্রেম উতলে উতলে পড়ছে যে? কোনো বিশেষ কারন আছে?”
নুবা একটু স্থির হয়ে বিরবির করে সুধালো
_”কেনো,এর জন্য বিশেষ করাণ দরকার হয় বুঝি?”
_”অবশ্য তা না,তবে আজ একটু বেশি বেশি কাছে টানছেন,তাই জিগ্গেস করলাম।”
নুবা আরহামের গলায় ঠোট চেপে ধরে আলুরে কন্ঠে বললো
_”আমার কাছে,আপনিই একটা বিশেষ কারন। সবসময় নতুন কিছু। বুঝলেন,তাই এতো প্রেম প্রেম পাচ্ছে।”

পরি কম্পিত দৃষ্টিতে নাবিলের দিকে তাকালো। কয় একদিন পর আবার এসেছে সে।পরিকে হসপিটাল থেকে আনার পর আজ বাড়িতে ফিরলো।এতো দিন আসেনি।তবে পরির প্রচন্ড ভয় লাগছে।এসেছে নিশ্চয় এবার পরির জীবনটা জাহান্নাম করে দিবে।পরি নাবিলের দৃষ্টি দেখে হাঁসফাঁস করে উঠলো।নাবিল পরিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে প্রথমেই বিচ্ছিরি গালি দিয়ে বললো
_”কিরে, এমনে শকুনের মতো তাকায় আছোস কেন?”
পরি মাথা নিচু করে নিলো।নাবিল শার্টের একটা দুইটা বোতাম খুলতে খুলতে বললো
_”মিথ্যা কইছিলি আমারে? তাই না?”
পরির বুকটা ছ্যাত করে উঠলো। শুকনো ঢোক গিললো সে,কিসের মিথ্যার কথা বলছে নাবিল?পরি কাতর চোখ তুলে নাবিলের দিকে তাকালো।নাবিল শার্ট খুলে ছুরে ফেললো বিছানায় পরপর পরির দিকে এগিয়ে আসলো।পরি মাথা নিচু করে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বিছানার চাদর দুই হাত দিয়ে খামচে নিলো।পরপর বিছানায় হেলান দিয়ে নিজেকে কিছুটা স্থির করার চেষ্টা করলো।যাতে সে ভীতু না হয়।
নাবিল এগিয়ে এসে পরির দিকে ঝুঁকে গেলো,পরপর পরির থুতনি দুই আঙ্গুল দিয়ে ধরে নিজের মুখোমুখি করলো।পরি অজানা ভয়ে চোখ মুখ খিচে নিলো। নাবিল পরিকে ভয় পেতে দেখে বেশ আনন্দ পেলো, ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বিরবির করে বললো

_”মির্জা বাড়ির বউ হইতে গেছিলি,সবি খবর নিছি আমি।”
পরি যেই ভয়টা পাচ্ছিলো সেটায় হলো।পরি তিরতির করে কেঁপে উঠলো।নাবিল থুতনি ছেড়ে পরির গাল চেপে ধরলো পরপর কেমন শীতল কন্ঠে বললো
_”কি নডিরে তুই! আল্লাহগো ভাবলেই অবাক লাগে হাঙ্গা-নিকা করার আগেই মাসের পর মাস যাইয়া ওই বাইত্তে থাকোস।কি সাহস তোর,আমি যহন জানতে পারলাম তহন পুরাই বলদ বনে গেছিলাম।কত বড় সত্যিডা আমার থাইকা লুকাইলি।আর কি কইছিলি টিউশনি করায়তে গেছিলি।চুতমারানি।”
শেষ শব্দ টুকু দাঁতে দাঁত চেপে বললো নাবিল পরপর ঠাস করে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিলো পরির গালে।পরি থাপ্পর খেয়ে স্তব হয়ে গেলো,তবে টু শব্দ করলো না।নাবিলের আজ হঠাৎ আসার ভঙ্গিমাই পরিকে ভাবিয়ে তুলেছিলো। কারণ আজ সে এতো দিন পর কিরকম ভয়ংকর ভাবে বাড়িতে ফিরেছে।
পরিকে টু শব্দ করতে না দেখে নাবিল পরির লম্বা চুলের বেনি হাতে পেঁচিয়ে শক্ত করে চেপে ধরলো। পরি কিছুটা নুইয়ে পড়লো।নাবিল চুলের মুঠো আরো শক্ত করে চেপে নিজের দিকে অগ্রসর করলো পরিকে পরপর বাজখাঁই কন্ঠে বললো

_”কিরে,কথা কস না কেন?যেইদিন তোরে আমি জিম্মি করইরা আনছিলাম,হেইদিনো তুই ওই এলাকায় ছিলি,তহন থাইকাই আমার সন্দেহ। কারণ তোর তো কোনো ভিওআইপি লাং নাই যে হনে যাইয়া উঠবি।পড়ে দেখি,ওরে আল্লাহ লাং আছে তো,ভাতার বানাই লোইছিলি।আর আমারে বলছিলি,হোনে তোর খালার বাড়ি, না?তা লাংয়ের লোগে কয়বার হুইছোস? হ্যাঁ কয়বার?”
পরি আজ নিজেকে যথেষ্ট পরিমাণ শক্ত রাখলো, এগুলো তার জন্য নতুন নয়,নাবিল থেকে এরকম কিছু বলবে সে আগে থেকেই আন্দাজ করেছিলো,পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে পরপর শান্ত কন্ঠে বললো
_”আপনার মতো না আমি ,যে যার তার সাথে শুয়ে পড়বো।আর না সে আপনার মতো,উনি অন্য কাউকে ভালোবেসতো,কখনোই আমার দিকে ফিরেও তাকায়নি ,আর ওরা হয়তোবা বিয়েও করে নিয়েছে।তাই শুধু শুধু ব্যপারটাকে টানাহেঁচড়া করবেন না।”
নাবিল পরির কথায় তেতে উঠলো,রাগে দাঁত কিরমির করে বললো

_”জবান বেশি চলতাছে না,একে তো সাহস দেখাইয়া নতুন লাং জুগাইছিলি আবার জবান চালাছ,ডর ভয় নাই নাকি?”
পরি অধৈর্য কন্ঠে বললো,
_”কোনো লাং জুটাইনি আমি,আপনার থেকে বাঁচার জন্য ওখানে আশ্রয় নিয়েছিলাম,তবে আপনি এমন সময় আবারো ফিরে এসেছিলেন যে আমার কিছুই করার ছিলো না।তাই ফিরে আসতে হলো,এটাই আমার জীবনের সব থেকে বড় আফসোস।”
নাবিল পরির কথায় শব্দ করে হেসে উঠলো অতঃপর আবারো স্থির হয়ে বললো
_”ওই মাগির পুত,তোরে আমার থাইকা বাচায়বো।ওই শুয়ের তো আমার দুই চোখের বিষ, বর্তমানে ওর থাইকা বড় দূষমান আমার আর নাই।খানকির পোলাতে টুকরা টুকরা করমু।”
পরি কান্ত হলো, সবকিছুর একটা সীমা থাকে।এখন বিরক্ত লাগছে তার ‌।পরি নাবিলের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো পরপর কম্পিত কন্ঠে বললো

_”কেনো এমন করছেন, আপনার কি স্বাভাবিক একটা জীবন পাওয়ার ইচ্ছে হয় না। সবসময় কেনো এরকম করেন,আর ওরাই বা কি করেছে?কেনো উনাদের পিছনে পড়ে আছেন?”
নাবিল পরির অস্থির মুখের দিকে তাকিয়ে, নিজের পেটের দিকে ইশারা করে বললো
_”ওই বাইনচোদ আমার এইহানে গুলি ঠুকছিলো,আমি ওর মাথায় ঠুকমু।আর শালার একটা বউ পাইছে,শালি জামাইরে বাঁচানোর লাইগা আমার দিকে বন্দুক ত্যাগ করে। ইস্,একটা চিজিওই বানায়ছে।দুইটারেই জম্মের ভাত পানি দিয়া খাওয়ামু।”
নাবিলের কথায় পরি নিরবে তাকিয়ে রইলো , পরপর পরির কাছে সবটা ক্লিয়ার হয়ে গেলো, নিশ্চয় কোনো ঝামেলা হয়েছিলো।পরি বেশ শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো

_”নিশ্চয় কিছু করেছিলেন,না হলে তো কেউ এমনি এমনি আপনার পিছনে লাগবে না।আর নুবা যা করেছে তা ওর কর্তব্য।তবে ওর জায়গায় আমি হলে দ্বিতীয় বার আর ভুল করতাম না, আপনাকে বাঁচানোর জায়গায় আপনাকেই মেরে ফেলতাম।দোয়া করি যাতে ওরকম একটা দিন বা মূহুর্ত আমার জীবনেও আসুক।তবে এবার আমি প্রথম বারের মতো বোকামি করবো না।চোখ বুজে আপনাকে মেরে ফেলবো।”
কথা গুলো দাঁতে দাঁত চেপে বললো পরি,প্রথমবার সব ঠিক হয়ে যাবে,এই আশায় নাবিলকে সুযোগ দিয়েছে,তবে দ্বিতীয় বার আর এরকম করবে না, কারণ সে বুঝে গেছে।নাবিল সুধরানোর মতো মানুষ নয়।তার জন্ম হয়েছে এই সব করার জন্য।তার সাথে ভালো ভাবে সংসার করার স্বপ্ন দেখা বিলাশিতা।
নাবিল পরির কথায় তার দিকে ছোটো ছোটো চোখ করে তাকিয়ে অদ্ভুত কন্ঠে বললো

_”আমাকে মারবি তুই?”
পরি ঠাটফাট উত্তর দিলো
_”হ্যাঁ,মেরে ফেলতাম, কারণ আপনি একটা অমানুষ।আর অমানুষোই থেকে যাবেন। আপনার মতো জানোয়ার থেকে একটা স্বাভাবিক সংসার আশা করা আমার ভুল ছিলো।আর আপনি যেই জীবনে বেঁচে থেকে মস্তানি করছেন,না!‌ সেটা আমার ভিক্ষায় দেওয়া, কারণ সেদিন আমি আপনাকে মায়া দেখিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলাম,না হলে আপনি এতো দিন জাহান্নামে থাকতেন।”
নাবিল পরির কথায় অনেক রেগে গেলো তবে প্রথমবারের মতো দাঁতে দাঁত চেপে কথা গুলো হজম করলো,পরি সুযোগ পেয়ে আবারো বলে উঠলো

_”আপনি না বাবা হওয়ার যোগ্য,না কারো স্বামী হওয়ার। কারণ আপনার সে অধিকার নেই।আপনি অন্ততপক্ষে একবার নিজের সন্তানের কথাও ভাবেন না। আমার সাথে কুকুরের মতো ব্যবহার করেন। আমার শুধু আফসোস হয়,আপনি যদি সেদিন মরে যেতেন তবে আমার কতোই না ভালো হতো।কত মানুষ আপনার হাত থেকে বেঁচে যেতো। সেদিন আমি কেনো আপনাকে ছেড়ে দিলাম সেই জন্য আমার আফসোস হয়।আসলে আপনি ভালো ব্যবহার ডিজার্ভি করেন না।এতো কিছুর পড়েও আমি শুধু টিকে থাকতে চেয়েছি।বারবার আপনার কাছেই ফিরে এসেছি।তবে আমি আস্ত একটা বোকা তাই এই সব করেছি।আসলেই আমি বোকা।”
সবটুকু বলে সময় নিয়ে আবারো বলে উঠলো

_”আপনার কি একটুও মায়া দয়া হয় না। ইচ্ছা করে না স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করতে।এই খুন খারাবি করে কি পান আপনি?টাকা,নাকি সম্মান।সবাই ভয়ে আপনাকে সম্মান করে তবে পিঠ পিছে আপনার মুখে থুথু দেয়।আর আপনার মতো একজন পশু বাবা হতে চলেছে আমার ভাবেই ইচ্ছে হয় নিজেই গলা টিপে ওই বাচ্চাটাকে মেরে ফেলি।কতটা দূর ভাগ্য নিয়ে বাচ্চাটা পৃথিবীতে আসছে, আমার ভাবলেই নিজের দম বন্ধ হয়ে আসে।একটা কাজ করুন আমার উপর প্রচন্ড রাগ করুন, এমন তেজ যে আমাকে মেরে ফেলতে ২ বার ভাববেন না।তাহলেও আমি শান্তি পাবো।না হয় নিজেকে মেরে ফেলুন।মরে যান আপনি,মরে যান।”
শেষ বাক্যে টুকু চিৎকার করে বললো পরি,নাবিল চেয়ে রইলো পরির দিকে,পরি আর একটুও ভয় পাচ্ছে না নাবিলকে বরং কেমন রাগে দুঃখে বিষাক্ত শব্দ উচ্চারণ করছে।নাবিলকে চুপ থাকতে দেখে আবারো পরি চেঁচিয়ে উঠে বললো

_”মরছেন না কেনো আপনি। আপনার লজ্জা হয় না যে কতটা জঘন্য হলে একটা মানুষ আপনার তার মৃত্যু কামনা করছে।তাও বেঁচে আছেন আপনি? কতটা ফাটা কপাল আমার এতো আঘাত পাই তাও মরি না।সাথে এই নাদান বাচ্চাটাও বেঁচে যায়। ইচ্ছা তো করে নিজেকে শেষ করে দি তবে সেই অধিকার তো আমার নেই কারণ আমার একটা পরিবার যে আছে।আমি কেনো যে এতিম হলাম না তবে নিশ্চয় কারো কথা আমার চিন্তা করতে হতো না,আর না এভাবে এই জঘন্য জীবন চালিয়ে যেতে হতো।আমি অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। সংসার করার আশা মরে গেছে আমার।আপনি কখনোই মানুষ হবেন না,এটা আমার বুঝা হয়ে গেছে।”
পরি কথা গুলো বলে হাঁসফাঁস করে উঠলো পরপর নাবিলের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছু সময়।নাবিল যে কিনা একদম চুপচাপ হয়ে আছে।
পরি কিছুটা কাতর কন্ঠে ফুঁপিয়ে উঠলো পরপর মিনতি করে বললো

_”আপনার সাথে একটা সুন্দর সংসার করার স্বপ্ন দেখা আমার জন্য পাপ স্বরুপ হয়ে দাঁড়িয়েছে,আপনি আমাকে একটা মিথ্যা সংসারো দিতে পারবেন না,সেখানে একজন পারফেক্ট husband আর তার অনাগত সন্তানের বাবা কি করে আশা করেছি আমি? আমি ভেবেছিলাম আমি মানিয়ে নিলে আপনি আমাকে বুঝবেন . আচ্ছা আপনার কাছে আমার একটা প্রশ্ন,যদি আমাদের বিয়েটা ওরকম ভাবে না তো তবেও কি আপনি আমার সাথে এরকমি ব্যবহার করতেন?”
প্রশ্ন টুকু করে নাবিলের দিকে তাকিয়ে রইলো পরি,সে জানতে চায় যদি সুন্দর ভাবে তাদের বিয়েটা হতো তবে কি নাবিল একি আচরণ করতো?
তভে নাবিল উত্তর দিলো না,পরি নাক টেনে বললো

_”কি হলো বলুন, তখনো কি কথায় কথায় আঘাত করতেন?তখন কি আমি সুস্থ সবল একটা জীবন পেতাম না?আমি তো সব মানিয়ে নিয়েছে তবে কেনো আপনি আমার সাথে এমন করছেন? আমি আপনার সন্তান গর্ভে ধারন করেছি, আপনাকে নিজের স্বামী মেনে নিয়েছি, আপন কথা শুনে চলছি তবে কেনো এমন করছেন?’
পরির কথা গুলো কেমন করে নাবিলের বুকে যেয়ে লাগলো তবু নাবিল চুপ রইলো ,পরি নাবিলকে কথা বলতে না দেখে উঠে দাঁড়ালো পরপর ফ্লোরে দাঁড়িয়ে এক হাত পেটে চেপে ধরলো।নাবিলের সামনে হাঁটু গেঁড়ে বসতে বসতে বললো

_”এই সময় আমার জন্য ঝুকা বসাটাও অনেক কষ্টদায়ক তবু আমি মাথা নিচু করছি আপনার কাছে,আমি নতো হয়েছি, আমাকে শান্তি দিন।”
বলতে বলতে পরি মৃদু কেঁদে উঠলো পরপর কপাল ফ্লোরে ঠেকিয়ে, আহাজারি করে বললো
_”মরে যান আপনি,না হলে আমাকে মেরে ফেলুন।এই সব আর সহ্য করার মতো নয়।আমি অনুরোধ করছি মরে যান, আমাকে এই নরক থেকে বেড় হতে দিন।”
পরি কি সুন্দর করে চোখের পানি ফেলে নাবিলের কাছেই তার মৃত্যু কামনা করছে।পরি অতিষ্ঠ হয়ে গেছে নাবিলের অত্যাচারে ।পরি মাথা উঁচু করে নিবিলের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো

_”আপনা মা বাবা তো আপনাকে ভালো শিক্ষা দেয়নি,তবে আমি এই অনাগত সন্তানের সাথে এরকম অবিচার করতে চাই না।চাই না সে অমানুষ হোক।আমি আপনার কাছে হাত জোর করছি আপনি আমাকে মেরে ফেলুন।না হলে নিজে মরে যান ‌। তবেই আমি শান্তি পাবো।”
পরি আরো বিভিন্ন কথা বলতে লাগলো।তার একটাই উদ্দেশ্য,নাবিল প্রচন্ড রেগে যাক আর নিজের হাতে তাকে শেষ করে দিক তবে আশ্চর্য জনক ভাবে নাবিল একটুও রাগছে না বরং পরির দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।যে কিনা হাঁটু গেড়ে ফ্লোরে বসে আছে।
পরি আবারো ফ্লোরে মাথা ঠেকিয়ে কিছু তিক্ত কথা বললো তবে মাথা উঁচু করে দেখলো নাবিল নিজের শার্ট নিয়ে রুম থেকে বেড় হয়ে যাচ্ছে।নাবিলের এরকম চলে যাওয়ায় পরি অবাক হলো।এতো কিছু বললো সে তাও নাবিল কিছু না বলেই চলে গেলো।বেশ অবাক হলো পরি, স্তব হয়ে ওখানেই বসে রইলো।

নুবা দুই হাতে মেহেদি দিয়ে বাড়ির আনাচে কোনাচে ঘুরছে। কারণ পুরো বাড়ি প্রায় সাজানো হয়ে গেছে।কাল গায়ে হলুদ, আজকে মেহেদী ছিলো।ইতি মধ্যেই অনেক আত্মীয় স্বজন চলে এসেছে।আর আমিনা বেগম খুব সুন্দর করে নুবাকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলে,
_”এটা আমার বড় ছেলের বউ।”
এই বাক্য টুকু নুবার মন ছুঁয়ে যাচ্ছে।দূর থেকেই হাজেরা মেয়ের মুখের হাসি দেখে সন্তুষ্ট হচ্ছে‌ন,আরহামকে যতটা খারাপ ভেবেছিলো ততটাও না।
_”হ্যাঁ,দুটো ছেলে বউই তো আমার লাক্ষে একটা।আসলে বিয়ে তো অনেক আগেই হয়েছে তবে অনুষ্ঠান হয়নি তাই আরকি।”

দুই ছেলের বউকে পাশে রেখে গল্প করেই যাচ্ছেন আমিনা বেগম।নুবা তো মাথা নিচু করে হাতের মেহেদী পরখ করছে,কত সুন্দর করে দিয়ে দিয়েছে আরহাম,বেশ পছন্দ হয়েছে নুবার। এদিকে আরশিও সবার সাথে মেয়েকে নিয়ে বসে আছে।সেও গল্প করছে,সবাই তাকে ভালো মন্দ জিগ্গেস করবে,আবার বলছে তার বিয়েছে তাদের দাওয়া কেন দিলো না,আরো কত কি।সব মিলিয়ে বাড়িতে একটা আনন্দদায়ক পরিবেশ বিরাজমান করছে।

নাবিল সাগর আর ইমনের সামনে বসে আছে,ওখান থেকে এসেই একটু মদ্যপান করেছে সে।এখন আপাতত মাথা নিচু করে বসে আছে।সাগর আর ইমন একটু অবাক কারন নাবিলকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে কেমন উদাস সে। এরকম নীরবতার ভিতরে হঠাৎ করেই নাবিল উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো পরপর মাতাল কন্ঠে বললো
_”ওই ছেমরি আমারে মরতে কয়,বুঝছোসনি,আমি যাতে মরি,তাই আমার কাছেই মাথা নতো কইরা অনুরোধ করে।”
নাবিল কথায় সাগর আর ইমন দুইজন দুইজনকে দিকে তাকিয়ে জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_”কি বলতাছেন ভাই,আপনে ঠিক আছেন তো?”
সাগরের প্রশ্নে নাবিল আরো এক ঢোক গিলে নিলো বোতল থেকে পরপর এলোমেলো কন্ঠে বললো
_”ও কইছে আমি নাকি বাপ হওয়োনের যোগ্য না। ওর নাকি আমার ভবিষ্যৎ পোলাপাইনের কথা ভাইবা আফসোস হয়।”
নাবিলের কথায় দুইজনি কিছুটা ভরকে গেলো।দুইজন দুইজনের মুখ চাওয়া চাওয়ি করলো পরপর ইমন বলে উঠলো

_”কে কইছে ভাই,খালি নমডা কন,একবারে গাইথা রাখমু।”
নাবিল পাশ ফিরে ইমনের দিকে তাকিয়ে একটু রাগি ভাব নিয়ে বললো
_”আমার বউ আমারে এই কথা শুনাইছে। কি করবি তুই ওরে, হ্যাঁ কি করবি?গাইথা রাখবি?”
চেঁচিয়ে উঠলো নাবিল,পরপর ইমনের দিকে রুখে গেলো।ইমন থতমত খেয়ে গেলো।আমতা আমতা করে বলল
_”আমি তো মনে করছিলাম অন্য কেউ। আমারে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন ভাই,আমি বুঝতে পারি নাই।”
নাবিল যতো যাই করুক না কেন,বউ তো তার,গেথে রাখবে,মেরে ফেলবে একান্তই তার ব্যপার। অন্য কেউ পরিকে নিয়ে একটা শব্দ উচ্চারণ করলে সে ছেড়ে দিবে নাকি?তার উপর নাবিল একটু উদাস এই কারনে যে আরহাম নাকি পরির fiance ছিলো,এটা সে মানতেই পারছে না।

নাবিল আর কোনো কথা বললো না,রাগে দুঃখে নিজের কষ্ট মেটানোর জন্য বাচ্চাদের মতো সাগর আর ইমনকে ইচ্ছে মতো কেলানি দিতে শুরু করলো। সাগর আর ইমন টু শব্দ করলো না। কারণ তারা জানে নাবিল যখন মাতাল হয়ে যায় তখন যত রাগ দুঃখ আছে তাদের উপরেই উঠায়।তখন যেনো সে সেন্সে থাকে না।
নাবিল সোফার উপর শুয়ে পড়লো,পরপর সাগরকে লাথি মেরে সোফা থেকে ফেলে দিয়ে বিরবির করে বললো

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২১

_”ওই মাগি কমনে বললো আমি বাপ হওয়ার যোগ্য না?”
নাবিলের যেনো এখনো পরির কথা গুলো কানে বিঁধছে,সে চাইলে তখন পরিকে আঘাত করতে পারতো তবে সে করেনি কারণ তার কেমন অনুভূতি হচ্ছিলো পরির প্রতি।

নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ২৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here