নীরব উন্মাদনা পর্ব ১৫
সুরাইয়া জিয়াসমিন
নুবা মায়ের বুকে মুখ গুজে বিরবির করে বললো ,,
_ মা,,মাথা ঘুরে ছাদে পড়ে গেছিলাম,,,পরে উঠে কাপড় নিয়ে আসতে যেএ কাপড়ে পা বেঁধে পড়ে গেছি এর পর কি হয়েছে মনে নেই,,
নুবার কথা হাজেরা বেগমের বিশ্বাস হলো না কারণ সে নিজ চোখে নুবার ক্ষত স্থান দেখেছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে কেউ ধারালো জায়গায় ফেলে তার মেয়েকে নির্মম ভাবে টেনে হেঁচড়েছে তাই এই অবস্থা,,,
তবু হাজেরা কিছু বললো না শুধু মেয়ের কথা ভেবে,,,আমিনা বেগম বেশ চিল্লাচিল্লি করলো,,নুবাকে কেনো ছাদে পাঠিয়েছে,,মেয়েটা এমনিতেই অসুস্থ,,,
রুম থেকে সবাই চলে গেছে,,,হাজেরা বেগম মেয়ের ক্ষততে মলম লাগাতে লাগতে বললো
_ সত্যি করে বল নুবা এই সব কে করেছে
নুবা কান্না চেপে শান্ত কন্ঠে বললো
_ বল্লাম তো পড়ে গেছিলাম মা,,
হাজেরা একটু রেগে বললো
_ মায়ের কাছে মিথ্যা বলছিস,,কোনো ভাবে এটা আরহামের কাজ না তো,,দেখেই বোঝা যাচ্ছে কেউ ইচ্ছা করে এগুলো করেছে,,,আমি কি বলদ নাকি রে,,
নুবা অবাক হয়ে মায়ের দিকে তাকালো,,তার মা আরহামকে এতো খারাপ চোখে কেন দেখে,,লোকটা একটু কেমন অদ্ভুত কিন্তু আরাফের মতো মুখোশধারী জানোয়া**** না
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ মা বিশ্বাস করো,,মাথা ঘুরে পড়ে গেছিলাম,,তার পর উঠে দাঁড়াতে পাড়ছিলাম না তাই হেঁচড়ে হেঁচড়ে ছাদের রেলিং এর পানির পাইপ ধরে উঠে দাঁড়িয়েছি,,তার পর সিরি থেকে পড়ে যেএ মাথা ফুলে গেছে,,,আর আরহাম ভাই তো আমাকে হয়তোবা নিয়ে আসছে তাই না,,
হাজেরা বেগম এক পলক মেয়ের ভীতু মুখের দিকে তাকালো,,,নুবা মায়ের চাহনি দেখে মিলিন কন্ঠে বললো
_ তুমি আমাকে বিশ্বাস করো না মা,,,
নুবা মাত্র খাওয়া দাওয়া করে ওষুধ খেএ শুয়েছে,, এমন সময় একটা মূহুর্তে আমিনা বেগম রুমে প্রবেশ করালো,,,কোলে আয়রা,,আর এক হাতে ব্রেস্ট পাম্প,,,নুবা আমিনা বেগমের হাতে ব্রেস্ট পাম্প দেখে নুবা আবারো চোখ বন্ধ করে নিলো,,,
হাজেরা বেগম এক পলক এই দৃশ্য দেখে বলে উঠলো
_ মেয়েটাকে মারবেন নাকি আপা,,, এমনিতেই মেয়েটা আমার পড়ে যেএ অর্ধ বুকে ছিলে নিয়ে এসেছে,,,
হাজেরার কথায় আমিনা বেগম হাসলো,,,নুবার মাথার কাছে বসে বললো
_ এতোটা অমানুষ ভেবেছো নাকি আমাকে,,আমি তো এটা দিতে আসলাম যাতে নুবা যখন ভালো অনুভব করে তখন যাতে তুমি ওর সাহায্য করতে পারো,,
নুবা ভীতরে ভীতরে শান্তি পেলো কথাটা শুনে,,,
আমিনা বেগম আয়ারাকে নুবার পাশে শুইয়ে দিয়ে আসাম করে বসলো হাজেরা কে উদ্দেশ্য করে বললো
_ মনে হচ্ছে তুমি আমার উপর রেগে আছো,, এই রাগ করি শুধুই মেয়ের কান্না দেখে নাকি আমাদের স্বার্থপর ভেবে,,,
হাজেরা বেগম একটু হাসলো,,হাতে থাকা কাপড় ভাজ করে আলামরিতে রাখতে রাখতে বললো
_ মেয়েটা আমার খুব নাজুক,,, বরাবরই সহ্যক্ষমতা কম তাই একটু আকটু অভিমান হয় তবে আয়রার কথা ভাবলে মনে হয় আজ যদি আমার নাত নাতনির সাথে এরকম হতো তাই বেশি রাগ আসে না,,
আমিনা বেগম নুবার মায়ের কথায় সন্তুষ্ট হলো,,,তারা পাশা পাশি বসে আরো কিছু সময় কথা বললো,,
এদিকে আয়রা ড্যাবড্যাব করে নুবার দিকে তাকিয়ে আছে,,নুবা ছোটো ছোটো চোখ করে আয়রার দিকে তাকিয়ে আছে যেনো দুজনে চোখে চোখে কথা বলছে,,,
আয়রা মাথা নেড়েচেড়ে বুঝালো
_ কিরে ভাই দুধ কবে দিবি আর কত না খেএ থাকবো
নুবা যেনো চোখ গড়ম করে বুঝালো
_ বললেই হলো নাকি,,দুই তিন বাচ্চার মা হয়েছি আমি যে তুই চাইলেই দুধ দিয়ে দিবো,,আজব
এভাবেই দুই জন দুইজনের দিকে শুভদৃষ্টির করতে লাগলো,,,
অনেক টা সময় পর আমিনা বেগম উঠে দাঁড়ালো,, দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ রাত অনেক হয়েছে এখন যাই,,আসেন দাদু ভাই,,,
বলেই আয়ারকে কোলে নিতে লাগলো,,,নুবা আমিনা বেগম কে থামিয়ে দিয়ে বললো
_ থাক,,, আমার কাছে থাক চাচি,,
হাজেরা বেগম আয়রার গাল টেনে বললো
_ এতো ফাজিল,,রাত কয়টা বাজে ঘুমাচ্ছেন না কেন,,হুম
আয়রা গাল টানায় ঠোঁট ফুলালো,,, পরপরই চোখ মুখ খিচে কেঁদে উঠলো,,,হাজেরা মুখে হাত দিয়ে বললো
_ বাপরে বাপ ছোটো মরিচে কি ঝাল,,কিছু বলাও যাবে না,,,
নুবা মেকি হাসলো মায়ের কথায়,,মাকে শাশিয়ে বললো
_ যাও তো মা ,,আয়ারা বাবুকে আর পচিও না,,বেচারি লজ্জা পাবে না,,,
নুবা উঠে বসলো,,আয়ারাকে কোলে নিয়ে শ খানিক চুমু খেএ বললো
_ ঘুমান অনেক রাত হয়েছে,,না হলে পরে ভাউ আসবে আর তোমাকে ধরে নিয়ে যাবে,,,
আয়রা নুবার বুকের সাথে মিশে আস্তে আস্তে চোখ বন্ধ করলো,,,হাজেরা বেগম পাশে শুয়ে শুয়ে বললো
_ আমি শুয়ে পড়লাম,,ওর দাদি ওকে নিয়ে আসলে দিয়ে দিস,,,বলে তো গেলো পড়ে ওকে নিতে আসবে,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ চাচি আসলে আমি ওকে দিয়ে দিবো,, তুমি ঘুমাও,,
আয়রা সময়ের ব্যবধানে ঘুমিয়ে গেলো,, মিনিট খানিক পার হতেই দরজার কেউ এসে কড়া মারলো,,নুবা ভাবলো হয়তোবা চাচি তাই মৃদু কন্ঠে বললো
_ ভিতরে আসো চাচি,,,
তবে আমিনা বেগমের বদলে আরহাম ভিতরে প্রবেশ করলো ,,এসেই কোনো সতর্ক বার্তা ব্যতিত খপ করে মেয়ে কোলে নিয়ে নিলো,,,
হঠাৎ এমন হওয়ায় নুবা কিছুটা চম্কে উঠলো,,,আরহাম ঝড়ের গতিতে এসে তুফানের গতিতে মেয়েকে নিয়ে চলে গেলো
আরহামের এরপর খাপছাড়া আচরনে নুবা অসন্তুষ্ট হলো,,তার কাছে মনে হলো যেনো তার মেয়েকে সে খেএ ফেলছে,,,এসেই তাই খাবলা মেরে মেয়েকে নিয়ে নিলো,,,
কেটে গেছে দুই-তিন দিন।ঘরের জানালার পাশে চুপচাপ বসে আছে নুবা, চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।এই কয়দিনে অনেক কিছু বদলে গেছে, কিন্তু তার মনের অস্থিরতা যেন একটুও কমেনি।প্রতিদিনের মতো না চাইলেও কোনো স্বার্থ ব্যতিত নুবাকে লড়াই করতে হচ্ছে,,,
বাইরে বিকেলের নরম রোদ পড়েছে, অথচ তার হৃদয়ে জমে আছে একরাশ অন্ধকার।কেনো তার জীবন টা এমন হলো,,বাকি সবার মতো হাসি খুশি হলে কেমন হতো,,,নুবার সুন্দর জীবনের অর্ধ অংশ নষ্ট করেছে আরাফ,,না পারে বলতে না পারে সহ্য করতে
নুবার ভাবনার ভিতরে হঠাৎ করেই দরজায় মৃদু শব্দ হলো,নি অজান্তেই তার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। বাইরে থেকে চোখ সরিয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে অবাক হলো,,,আরহমা এসেছে তবে কেন,,সে তো আসে না,,তার মেয়ে এই রুমে থাকলেই আসে,,
নুবার সাথে আরহামের কথাও হয় না,, খাবার টেবিলে দেখা হয়,,মাঝে মাঝে আয়রা কান্না করলে শুনতে পায় এতটুকুই তার জীবনের আরহাম আর তার মেয়ের অস্বস্তি,,
নুবা মাথার কাপড় টেনে এগিয়ে আসলো,, হঠাৎ উঠে দাঁড়ানোতে বুকটা চিনচিন করে উঠলো তার,,তবু এগিয়ে আসলো সে,, মৃদু কন্ঠে বললো
_ আপনি যে,,কোনো সমস্যা,,,
আরহাম উত্তর দিলো না তবে পরপর বিছানার উপর ১টা নয় ২ টা নয় ৮ টা টাকার বান্ডিল ছুরে মারলো,,,দেখেই বোঝা যাচ্ছে সব এক হাজার টাকার নোট,,,নুবা হতভম্ব হলো,,, কিছু সময় টাকার দিকে তাকিয়ে থেকে নিরবতা ভেঙ্গে বললো
_ এগুলো কি,,,
আরহাম শান্ত ও গম্ভীর কন্ঠে বললো
_ তোমার কাজের ফলস্বরূপ এটা সামান্য উপহার,,,৮ লাক্ষ আছে,,,বাকি টা কাজ শেষ হলে তুমি মন মতো চেকে বসিয়ে দিও,,,
নুবা হতভম্ব হলো,,আজ নিয়ে প্রায় ৪ দিন সে দিন গুলো কাটার উপর দিয়ে পার করে আসছে,,এর বিনিময়ে তার উদরতাকে টাকার বিনিময়ে কেনা হচ্ছে,,নুবার হাসি পেলো,,,নুবা ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আপনার কি মনে হয় আমি এগুলো টাকার জন্য করছি ,,,
আরহাম নুবার ক্লান্ত মুখের দিকে তাকালো পরপরই বলে উঠলো
_ of course,, তোমাকে দিয়ে তো আর ফ্রি ফ্রি এই সব করাতে যাবো না,,,
নুবা সময় নিয়ে নরম কন্ঠে বললো
_ আপনি অসুস্থ মস্তিষ্কের হলেও ভেবেছিলাম মনটা পরিষ্কার আছে,,,,তবে আপনিও বুঝিয়ে দিলেন টাকার অহংকার কখনো কাউকে রেহায় দেয় না,,টাকা আছে বলে অহংকারের সাথে আমার সিদ্ধান্তকে কিনে নিতে চাইলেন,,,
পরপরই নুবা বিরবির করে বললো
(আপনার ভাই এক চরিত্রহীন অহংকারী,,আর আপনি তো তার থেকেও খারাপ টাকা দিয়ে মানুষের ভালোবাসা সত্যতা,,উদারতাকে কিনতে চাইছেন,,মনে করছেন এগুলার বিনিময়ে সব ঋন শোধ করবেন)
ভেবেই হাসলো নুবা ,,, বরাবর বাবার মৃত্যুর পর নুবা একটু দুর্বল,, চোখের সামনে বাবার ছেরা ফাটা শরীর দেখে সে নুইয়ে পড়েছিলো সেই ধাক্কা সে এখনো ভুলেনি ,,তাই সে ভীতু,, সহ্যক্ষমতা কম তবে সে লোভী না
_ আপনার এই টাকা আপনিই রেখে দিন,, ভবিষ্যতে কাজে আসবে আমার দরকার নেই,,,
নুবার কথা আরহামের মাথায় না ডুকলেও তখন বলা “আপনি অসুস্থ মস্তিষ্কের” কথাটা শুনে বেশ ক্ষেপে গেলো আরহাম তবে কিছু বললো না,, শুধু নুবাকে শাশিয়ে গেলো
_ আমি অসুস্থ তা তোমাকে এখনি বুঝিয়ে দিতাম,,তবে তোমার ভাগ্য ভালো তুমি এখন আমার মেয়ের বেঁচে থাকার একটা অংশ না হলে””””””
বলেই নুবাকে শাসিয়ে রেখে গেলো,,,নুবা চুপচাপ ওখানেই দাঁড়িয়ে রইলো,,,
হাজেরা বেগম রুমে প্রবেশ বিছানায় এতো টাকা দেখে করে আবাক হলো,,ভুরু কুঁচকে বললো
_ এই সব কি নুবা,,
নুবা ক্লান্ত কন্ঠে বললো
_ আয়রার বাবা দিয়ে গেছে,,,, আমার উদারতার উপহার হিসাবে
হাজেরা বেগম কিছুটা ক্ষিপ্ত হলেন রাগি কন্ঠে বললেন
_ তারা নিজেকে কি মনে করে ,,টাকা দিয়ে সব কিছু কেনা যায়,,,
নুবা হেসে বললো
_ তোমারো যদি এই টাকা প্রয়োজন না হয় তবে যারটা তাকে ফিরিয়ে দিয়ে আসো,,,
_ তুই যেএ দিয়ে আর বলে হয় যাতে এই টাকা দিয়ে তার মেয়ের জন্য মা কিনে আনে,,,
বলেই হাজেরা বেগম রাগে গজগজ করতে করতে ওয়াশরুমে চলে গেলো,,
নুবা টাকা গুলো গুছিয়ে নিয়ে রুম থেকে বেড় হয়ে আসলো,,
_আসতে পারি চাচি,,,
_ আয়,,বলতে হয়,
নুবা ভিতরে প্রবেশ করে দেখলো আমিনা বেগম মুখে রোমাল বেধে রুমে নতুন চাদর পাতছে,,,নুবা মুচকি হেসে বললো
_ মাকে বললেও তো পারতে তুমি এই সব করছো যে,,
__ সব কি সবাইকে বললে হয়,,তোর মাকে সব বললে আমি কি করবো,,
নুবা উত্তর দিলো না চাদত পাতা হয়ে গেলে বিছানায় যেএ বসলো,,,আমিনা বেগম নুবার সামনে বসে বললো
_ হঠাৎ এলি যে,,কি হয়েছে বুক টুক ব্যথা করছে নাকি কোনো সমস্যা হয়েছে,,
নুবা টাকা গুলো বিছানায় রেখে বললো
_ সেটা তো হচ্ছেই তবে অন্য কাজে এসেছি,,
আমিনা বেগম টাকা গুলো দেখে ভুরু কুঁচকে নিলো,,নুবা ক্লান্ত কন্ঠে বললো
_ তোমার বড় ছেলে দিয়ে গেলো,, আমার কাজ দরুন এই টাকা দিয়ে ঋন শোধ করতে চাইছিলো,,তার মতে আমি টাকার জন্য এই সব করছি,,,
বলতে বলতে নুবার চোখ গড়িয়ে পানি পড়লো তবু ঠোঁটে হাসি টেনে বললো
_ জানি না চাচি কোনো এমন মেয়ে এমন আছে কিনা যে নিজ বুকের দুধ পান করানোর বদলে টাকা উসুল করবে,,কোনো বাচ্চার পেট ভরার বদলে উপহার হিসাবে টাকা নিবে,,তবে আমি পারবো না,,,তাই তোমার কাছে আসলাম,,
ছেলের কর্ম কান্ডে আমিনা বেগমের রাগ হলো,নুবা যে কষ্ট পেয়েছে আমিনা বেগম টের পেলো তাই বিনতির কন্ঠে বললো
_ ওর কথায় কষ্ট পাস না মা,,,ছোটো বেলা থেকে অন্য দেশের মাটিতে বড় হয়েছে তো তাই হয়তোবা বুঝতে ভুল করেছে,,তবে আর এরকম কিছু হবে না তুই ভুল বুঝিস না,,,
নুবা টাকা গুলো এগিয়ে দিয়ে বললো
_ তোমার ছেলের সামনে যেএ দুটো কথা বলার আমার সাহস নেই,,,,তবে তুমি তাকে টাকা গুলো দিয়ে বলবে যে এগুলো আমি আয়রাকে দিয়েছি,, অবশ্য আমি জানি না আয়ার আর আমার ভিতরে কি সম্পর্ক বা এই সম্পর্কের নাম কি দিবো,,,তবে যদি ধরি আয়রার কাছের কেউ হিসাবেই ওকে এটা উপহার দিলাম,,,,এই টাকা ওর কাজে লাগবে,, আমার কাছে মূল্যবান কিছু নেই যে ওকে দিবো,,না হয় ওর বাবার টাকায় ওকে ওকে ফিরিয়ে দিলাম,,আশা করি ও নিরাশ হবে না,,,
বলেই উঠৈ দাঁড়ালো নুবা,,আর একটি শব্দ ব্যায় না করে চলে আসলো,,
আমিনা বেগম কর্কশ কন্ঠে বলে উঠলো
_ তোমাকে কে বলেছে নুবাকে আগ বাড়িতে টাকা দিতে,,,ওই মেয়েকে তোমার এরকম মনে হয়,,, তোমার টাকা তোমাকেই মোবারক করে গেছে ও,,
বলেই বিছানায় টাকা গুলো ছুরে মারলো আমিনা বেগম,,,আরহামের প্রচন্ড রাগ হলো এই মেয়ের কত বড় সাহস তার দেওয়া জিনিস কে অবঙ্গা করছে,,,
আমিনা বেগম ছেলেকে শাসিয়ে বললো
_ নুবার থেকে দূরে থাকবে আরহাম,,আমি চাই না মেয়েটা তোমার ব্যবহারে কষ্ট পাক নিজেকে ছোটো ভাবুক,,,আমি যাতে না দেখি তুমি ওর আশে পাশে ঘেষেছো,,মনে থাকে যাতে,,,
আমিনা বেগম রুম থেকে বেড় হতেই আরহাম চোখ বন্ধ করে নিজ রাগ নিয়ন্ত্রণ কররা চেষ্টা করলো,,,
নুবা বুকে বালিশ চেপে শুয়ে আছে,,,বাইরে থেকে ভেসে আসছে বিয়ের আমেজ,,,আর মাত্র কিছুদিন তার পর গায়ে হলুদ,, অলরেডি বাসায় মেহমান আসা শুরু হয়েছে,,আমিনা বেগম এই সব নিয়েই ব্যস্ত,,তাই হাজেরা বেগমের মেয়ের দিকে খেলায় রাখতে হচ্ছে,,তবে মেহমানের আগমনে নুবার দেখা শুনার,, খেয়াল রাখার দিকটাই একটু হলেও ঘারটি পড়েছে,,
গত ৩ ঘন্টা আগে নুবাকে ব্রেস্ট পাম্প দেওয়া হয়েছে,,সেই থেকে নুবার বুকে অসহ্য ময় যন্ত্রণা হচ্ছে,,,এখন বুকে পাম্প দিলেই মনে হয় শরীরের ভিতরের শিরা গুলো কেউ উপড়ে টেনে ফেলছে,, অধৈর্য হয়ে গেছে নুবা,,,সহ্য বাইরে হয়ে যাচ্ছে সবকিছু,,,
নুবা শুয়ে শুয়ে গুগাচ্ছে তবে শব্দ করতে পারছে না,,এখন বুকে ব্যথা থাকায় জোরো শব্দ করে কথা বললে বা কান্না করলেও বুকে চাপ করে,,নুবা নিজেও জানতো না নুবা এভাবে ফেসে যাবে,,এটা এতটা কষ্টদায়ক হবে,,
একটু আগেই হাজেরা বেগম রাগারাগী করে গেছেন কারণ সে ১০০ বার বলেছিলো না করে দিতে কিন্তু নুবা শুনেছি তাই সে বলে গেছে
নীরব উন্মাদনা পর্ব ১৪
_ একদম আমার সামনে কান্না কাটি করবি না, তোকে বলিনি আমি এই ব্যাপারে তুই শুনেছিলি আমার কথা এখন একদম কান্না কাটি করবি না,,,না হলে গলায় ফাঁস দিয়ে তোকে ঝুলিয়ে রাখবো,
কথা গুলো ভাঙ্গা কন্ঠেই বলেছে হাজেরা বেগম,,এই স পরিবারের উপর তার প্রচন্ড ক্ষোপ , কারণ সবাই বলেছিলো শুরু ওষুধি তো খাবে তা ছাড়া কিছু হবে না,, কিন্তু তার মেয়েটা যে এখন গলা কাটা মুরগীর মতো ছটফট করছে এটা কেউ কি ভাগ করে নিবে,,এই দুঃখে রাগ ফরিয়েছে মেয়ের উপর,,,
সে তো জানে তার মেয়েটা সারা রাত বুকের যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারে না,,,সে তো মা সেতো বুঝে তার মেয়েটার কষ্ট,,,,
