নীরব উন্মাদনা পর্ব ১৬
সুরাইয়া জিয়াসমিন
সে তো জানে তার মেয়েটা সারা রাত বুকের যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারে না,,,সে তো মা সেতো বুঝে তার মেয়েটার কষ্ট,,,,
হাজেরা বেগম ব্যস্ত হাতে কাজ করছিলো,,,তখনি আমিনা ব্যস্ত পায়ে হেঁটে আসলো,, তাড়াতাড়ি কন্ঠে বললো
_ নুবা কি দুপুরের খারাপ খেএ ওষুধ খেয়েছে
হাজেরা বেগম শান্ত কন্ঠে বললো
_ হ্যাঁ খেয়েছে,,,
_ তাহলে তুমি উঠো এখান থেকে,,যেএ নুবার বুকে একটু ___
আমিনা বেগমের কথা শেষ হওয়ার আগেই হাজেরা বুঝে গেলো সে কি বললে তাই কাঠ কাঠ কন্ঠে বললো
_ ওর বুক ব্যথা করছে,,,
_ তাও একটু তো পাম্প দিতে হবে তো হাজেরা না হলে সমস্যা হবে না,,,যাও তুমি এগুলো রেখে উঠো আমি তানিয়াকে বলছি এগুলো করতে,, আমার হাতেও কাজ না হলে আমিও যেতাম,,,
বলেই আমিনা বেগম চলে গেলো,,হেজেরা বেগম রেগে রান্না ঘড়ে বটি ফেলে রুমে গেলেন,,,এই মাত্র মরিচ কেটেছছ সেই হাতো ধুলেন না তিনি,,
রুমে যেএ দেখলেন নুবা গুটিসুটি মেরে বালিশে মুখ গুজে শুয়ে আছে,,,হাজেরা বেগম যেএ মেয়ের হাত ধরে টেনে উঠালেন
_ উঠ,,,
নুবা চোখ তুলে মায়ের দিকে তাকালো,,,হাজেরা বেগম হাতে ব্রেস্ট পাম্প নিয়ে কোনো সতর্কতা ব্যতিত নুবার নাজুক জায়গায় হাত দিলো,,
নুবা তিরতির করে কেঁপে উঠলো,, কম্পিত কন্ঠে বললো
_ মা,,,এ,,এখন না,, আমার পুরো বুক শিরশির করছে,,
হাজেরা বেগম মেয়ের কথা শুনলেন না রাগি কন্ঠে বললেন
_ মর তুই,,, মরলেও তাদের কি,, তাদের তো নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে,,,
হাজেরা বেগমের বেশ খারাপ লেগেছে বললো মেয়েটা তার অসুস্থ তার পড়েও কিভাবে একি কাজ করতে বলে,,, ওদের উপর রাগ না তুলতে পেরে মেয়ের উপর তুলছে,,
নুবা কাঁপতে থাকা হাত দিয়ে তার মাকে সরিয়ে দিতে চাইলো,,চোখের পানি নাকের পানি এক করে বললো
_ অনেক কষ্ট হচ্ছে মা,,, please তুমি অন্ততপক্ষে আমার দিকটা বোজার চেষ্টা করো,,,
নুবার কান্না দেখে হাজেরা বেগম ব্রেস্ট পাম্প টা ছুটে ফ্লোরে ফেলে দিলো,,,মেয়ের সাথে তিনিও হু হু করে কেঁদে উঠলো,,,মেয়ের দুই গাল আকড়ে ধরে বললো
_ তোকে ১০০ বার না করেছিলাম আমি,,, তুই বুঝতে পারছিস যেখানে তুই মাই হোস নি সেখানে শুধু ওষুধ এর মাধ্যমে এই সব করা হচ্ছে,,কতটা ক্ষতি হচ্ছে তোর,,,এখন কি এই কষ্টের ভাগ কেউ নিবে,,,
নুবা বিছানায় লুটিয়ে পড়লো,,,এমনিতেই তার একটু আকটু ব্যাথা পেলে মাথা ঘুরে উঠে এর ভিতরে এতো জালা আর সহ্য হচ্ছে না তার,,,এর থেকে ভালো মনে হচ্ছে,,একটা বিয়ে করে নিতো সে,, বাচ্চাও নিয়ে নিতো বাচ্চা হলে তার পর দুই জনকে এক সাথে বুকের দুধ দিতো,,এটাও মনে হয় এই কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা থেকে সহজ ছিলো,,,
হাজেরা বেগম রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,মেয়েটার জালা যন্ত্রণা আর সহ্য হচ্ছে না,,
নুবা সহ্য করার চেষ্টা করলো তবে ৩/৪ বার পাম্প দেওয়ায় ব্যাথা এখন আরো বেড়েছে ,,
আরশি মাত্র একদিকে আসছিলো হঠাৎ নুবার গুনগুন কান্না শুনে রুমে প্রবেশ করলো,,নুবাকে এভাবে কান্না করতে দেখে চম্কে উঠলো,,কিছুটা বিচলিত হয়ে বললো
_ এই নুবা কি হয়েছে তোর,,,
নুবা ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ অনেক ব্যথা হচ্ছে আপু,,,তোমরা কেন আগে বলোনি এতো কষ্ট হয়,,,কেন বলোনি তালহে আমি কখনোই রাজি হতাম না,,,
বলেই নুবা কাঁদতে লাগলো,,আরশি বেশ ভয় পেয়ে গেলো না পেরে তার মাকে ডাকতে গেলো
_ মা নুবা কান্না কাটি করছে,, তুমি একটু এসে দেখতো কি হয়েছে
রুমে সবাই হাজির হয়েছে,,কয় একজন মেহমানো এসেছে কানা ঘুষা করছে এর আবার কি হলো,,,
আমিনা বেগম নুবার বেহাল অবস্থা দেখে রুম থেকে সবাইকে বেড় করে দিলো, মোবাইল টা নিয়ে doctor এর কাছে কল করলো
৩ বার রিং হতেই নাইম সাহেব ফোন উঠিয়ে সালাম দিলো,,,আমিনা বেগম সালামের উত্তর নিয়ে বললো
_ ভাইজান আপনি তো বলেছিলেন কোনো ক্ষতি হবে না,, কিন্তু নুবার তো বুকে ব্যথা হচ্ছে,,মেয়েটা অনেক কান্নাকাটি করছে,,,
নাইম সাহেব শান্ত কন্ঠে বললেন
_ চিন্তার বিষয় নেই,, হয়তোবা বাইরে থেকে কোনো অজানা বস্তু শরীরে প্রবেশ করায় শরীর প্রতিক্রিয়া করছে,, এমন হবেই,,ওকে রেস্ট রাখুন,,
_ মেয়েটা অনেক কান্নাকাটি করছে,, ফার্মেসি থেকে কোনো ওষুধ এনে দিবো
নাইম বিরক্তি নিয়ে বললো
_ আরে না সমস্যা হবে,,রাতের ওষুধের সাথে ব্যাথার ঔষুধ আছে,, ধৈর্য ধরতে বলুন সব ঠিক হয়ে যাবে,,
_ ব্যথায় ব্রেস্ট পাম্প করতে দিচ্ছে না কি করবো
_ আয়রাকে দিয়ে sucking করান,,,বেশি সমস্যা সমস্যা হলে ব্রেস্ট পাম্প দেওয়ায় দরকার নেই,,,
নুবা দাঁতে দাঁত খিচে শুয়ে আছে,,না বসে শান্তি না শুয়ে,, শরীরের ভিতরে অশান্তি থাকলে কি ঘুম আসে,,,
হাজেরা বেগম পাশে বসে আছে,, আমিনা নুবাকে শান্ত করছে,,,
_ কান্না করিস না,,
নুবা বিরবির করে বললো
_ আমি ওই বাল ছাল আর করবো না আমার কষ্ট হয়,,
নুবার কাঠ কাঠ গলার শব্দ,,,আমিনা বেগম বুজতে পরালো নুবা ব্যথায় উল্টা পাল্টা বকছে ,
_ doctor কে বলেছি তোর কষ্ট হলে ওই সব দরকার নেই বলেছে
নুবা যেনো আমিনা বেগমের কথায় একটু শান্ত হলো,,
রাতের দিকে ওষুধ খাওয়ার পর নুবা একটু শান্তি পেলো সারাদিনের অত্যাচারের পর একটু শান্তিতে ঘুম দিলো,,
মেহেরিমা সকাল সকাল পায়ের উপর পা তুলে কফি খাচ্ছে,,,সে খেতে খেতে তার মাকে জিগ্গেস করলো
_ mom ,,ওই মেয়েটার কি হয়েছিলো চাচিকে জিগ্গেস করেছিলে
মেয়েটা মা বললো
_ না,,তোর চাচি কিছু বলেনি,,,
মেহেরিমা আরাফের চাচাতো বোন,,দেখতে খুবি সুন্দর,,, যেমন রুপ তেমন পা অব্দি চুল,,তবে একটা জিনিসের কমতির আছে তা হলো ভদ্রতা,,খুবি অভদ্র মানে অহংকারী,,হবেই বা না কেন যেমন বাপের টাকা আছে তেমনি রুপো আছে,,তার ছোটো একটা ভাই আছে মাহাদি,,,,,তারা কালকেই এখানে এসেছে,,
আরহাম সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে নিচে আসলো,,তার ঘুম ভালো হয়নি কারণ মেয়েটা প্রচন্ড জ্বালাতন করেছে,,,
আরহাম লিভিং রুমে এসে বসলো তবে শান্তি পেলো না,, কারণ তার চাচি তার চাচাতো বোন বসে আছে,,আর বরাবরই তার বেশি মানুষ পছন্দ না,,তার উপর এরকম আত্মীয়দের সে দুই চক্ষে সহ্য করতে পারে না,,এর অবশ্য কারণ আছে,,,
মেহরিমা আরহাম কে দেখে এগিয়ে আসলো কারণ তার কোলে আয়রা,,,এসেই হেঁসে বললো
_ good morning bro,,,
আরহাম শুরু ছোট্ট করে “হুম” বললো,,,
মেহেরিমা আয়ারার দিকে তাকালো,,তার গাল টেনে বললো
_ ahhh cute baby,,
আরহাম মেয়েকে সরিয়ে নিয়ে বললো
_ Don’t touch hre,, আমি মোটেও বরদাস্ত করবো না এই সব,,
মেহেরিমা কপাল কুঁচকে বললো
_ কেন,,,মনে হচ্ছে আপনার মেয়েকে খেএ ফেলছি,,, আমার তো মনে হচ্ছে আমাদের দেখে আপনি খুশি হননি ভাই,,,
আরহাম মুখের উপর বলে উঠলো
_ একদম ঠিক ধরেছো,,,
মেহেরীমার মুখ চুপসে গেলো,,,তবে মেহেরিমার মা মারিয়া মির্জা এগিয়ে আসলো কৌশল বিনিময় করে বললো
_ কবে বাড়ি ফিরলি,, একবার দেখাও করলি না,,তার উপর কাল থেকে এসেছি কথাও বলছিস না,আবার নাকি বিয়ে করে বাচ্চা নিয়ে এসেছিস,,ব্যপার কি,,,হুম,, বউ কোথায়,,তোর মা বললো সে নাকি আসেনি,,,
এতো গুলো প্রশ্ন শুনে আরহাম এক রাশ বিরক্তি নিয়ে বললো
_কারো সাথে ফালতু পেচাল পেড়ে সময় নষ্ট করতে আমি মোটেও ইচ্ছুক নই,,
মারিয়া মির্জা রাগি কন্ঠে বললো
_ অভদ্রই রয়ে গেলি,, শুধু শুধু কি আর ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বেড় করেছিলো,,
আরহাম ক্ষিপ্ত চোখে মারিয়া মির্জার দিকে তাকালো,,,উনি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো,, আরহাম হুংকার ছেড়ে বললো
_ you uuu,,তোরটা খাই আমি,, আমাকে নিয়ে কথা বলার সাহস কি করে হয়,,,তোকে তো (বলেই রুখে গেলো আরহাম মারিয়া মির্জা পিছিয়ে গেলো)
এর ভিতরে আমিনা বেগম ছুটে আসলো আরহামকে ধাক্কা দিয়ে দূরে ধমক দিয়ে বললো
_ আরহাম,,চাচি হয় তোর,,মুখ সামলে কথা বল,,,
আরহাম রাগি কন্ঠে বললো
_ তুমি আমাকে বাড়িতে ডেকেছো তাহলে এদের কেন ডেকেছো,,,যদি একবারো বলতে বিয়ের অনুষ্ঠানে জন্য আমাকে বাড়ি ফিরতে পায়ে তেলাচ্ছো তবে আমি কখনোই আসতাম না,,,
আমিনা বেগম ছেলের মুখের উপর আলতো করে থাপ্পর মারলো ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ হায় আল্লাহ,,,চুপ কর,,দয়া করে তুই রুমে যা বাবা,,
আরহাম এক পলক মারিয়া মির্জার দিকে তাকিয়ে বললো
_ এই মহিলাকে আমার থেকে দূরে থাকতে বলবা,,, mind it,,
বলেই আরাহাম আয়ারাকে নিয়ে চলে গেলো,,,আমিনা বেগম কপালে হাত চেপে বসে পড়লো,,,বিরবির করে বললো
_ মারিয়া কিছু মনে করিস না,,,জানিসিতো একটু সমস্যা ছেলেটার,,
মারিয়া ভীত কন্ঠে বললো
_ ভাবি তুমি এই শুভো সময়ে তোমার এই ছেলেকে ডেকে নিজ হাতে ছোটো ছেলের বিয়েতে অলক্ষি ডেকে এনেছো,,,
আমিনা শুধু কপাল চাপড়ালো,,,এখন তার কাছে মনে হচ্ছে আরহামকে না ডাকাই উত্তম ছিলো
আরাফ এসে প্রথমে চাচিকে জরিয়ে ধরলো মিষ্টি হেসে বললো
_ my sweetheart চাচি,, কালকে রাতে এসে দেখি ঘুমিয়ে পড়েছিলে,,,
_ hmm তোর অপেক্ষায় ছিলাম,, তুই তো দেরি করে ফিরলি
_ তা কেমন আছো,,,
_ এই তো আলহামদুলিল্লাহ,, তুই,,,
পরপরই তারা অনেক কথা বললো,,,আরাফের চাচা আসেনি ,গায়ে হলুদের দিন আসবে,,,আরাফ চাচির সাথে কথা শেষ করে মেহেরিমার দিকে তাকালো মেহেরিমা আরাফের দিকে ফিরেও তাকালো না চুপচাপ সরে গেলো ,, কারণ কেন জানি এদের বনে না
মারিয়া মির্জা আরাফের ব্যবহারে খুশি হয়ে সুনামের পঞ্চমুখী হলো
_ তুই কতো ভদ্র বাবা তোর বড় ভাইটা এরকম জল্লাদ কেন
আমিনা বেগম নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
_ বলছিলাম কি আয়রাকে ফিড করাতে,,যদি তোর ভালো লাগে তবে ___
নুবা শান্ত কন্ঠে বললো
_ সমস্যা নেই নিয়ে আসো চাচি,,এখন এতো খারাপ লাগছে না,,
আমিনা বেগম হালকা হাসলো,,,
আরহাম ছাদে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুকছে,, মেজাজ টা তার টঙ্গে উঠে আছে,,ভেবেই অসহ্য লাগছে দুই দিনের ভিতরে আত্মীয় স্বজন দিয়ে বাড়ি ভরে যাবে,,তার ইচ্ছা হচ্ছে চলে যেতে তবে মেয়েটার কথা ভেবে চুপ আছে
পরপরই আরহাম ভেবে উঠলো নুবাকে নিয়ে যদি চলে যায়,,আবারো ভাবলো নুবা যাবে না,, আবার ভাবলো ওর কথাই হবে নাকি,,, কিন্তু না আরাহাম এখন ফিরে যেতে চাইছে না,,,, ওখানে গেলে তার মস্তিষ্ক আরো শূন্য পড়ে যায়,,মেয়েকে ঠিক মতো সামলাতে পারে না,,,
আরাফের ভাবনার ভিতরে পিছন থেকে মেহেরিমা বলে উঠলো
_ সিগারেটও খান আপনি,,
আরহাম মুখ দিয়ে বিরক্তিকর শব্দ বেড় করে বললো
মেহেরিমা এগিয়ে এসে বললো
_ এতে জানেন আয়রার সমস্যা হতে পারে,,
_ just shut up,,Get out of here. ,,
মেহেরিমা মুচকি হেসে বললো
_ চাচি দেখি ঠিকি বলেছে আপনি মানুষিক ভাবে অসুস্থ,,ভালো কথাও আপনার কাছে খারাপ লাগে,,,
আরহাম ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো পরপরই সিগারেটে সুখটান দিলে বললো
_ মা ঠিকি বলেছে,,,
বলেই সিগারেট বাম হাত থেকে ডান হাতে নিয়ে মেহেরিমার গলায় চেপে ধরলো,, পরিস্থিতি বোঝার আগেই মেহেরিমার গলা অর্ধ পুড়ে গেলো,,সে ভয়ে দুটো ফাল দিয়ে দূরে সরে গেলো,,,,আরহাম সিগারেটে শেষ টান দিয়ে পায়ের তলে পিষে বললো
_তুমি জানো না আমি কি,,, তোমাকে কোপানোরো ক্ষমতা রাখি,,নিজের ভালো চাইলে আমার ভালো ভাববে না,,It’s better for you to stay away from me.
বলেই আরহাম পকেটে হাত গুঁজে চলে গেলো,,,মেহেরিমি গলায় হাত চেপে আরাহামকে কিছু বিচ্ছিরি বকা দিলো,,আরাহাম শুনলে হয়তোবা আজ তার শেষ দিন হতো,,
মেহেরিমা বিরবির করে বললো
_ আস্ত সাইকো,,
বলেই মেহেরিমা নিচে চলে গেলো,,
এদিকে পানির ট্যাংকের পিছনে আরশি আর নুবা মুখে হাত চেপে দাঁড়িয়ে আছে,,,
আয়রা ঘুমাচ্ছে তাই ফিড করাতে হবে না দেখে আর নুবার একটু ভালো লাগছিলো,তাই আরশিকে নিয়ে ছাদে এসেছিলো,,
কিন্তু আসার পরপরই দেখে আরহায় ছাদে এসেছে তাই তারা চুপটি করে এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো এর ভিতরে মেহেরিমার সাথে এরকম হতে দেখে তারা দুজনি হতভম্ব হয়ে গেছে
নুবা মুখ থেকে হাত সরিয়ে বললো
_ তোমার ভাই পাগল নাকি,,,
আরশি শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ আমি কি জানি,,,
_ ভালো কথা বললো বেচারির গলা পুড়িয়ে দিলো,,ছ্যে,,,
আরশি বিরবির করে বললো
_ ভালোই হয়েছে একটু সুন্দর দেখে সব জায়গায় ভাব নেয়,,
আরশির কথা শুনে নুবা মিটিমিটি হেসে বললো
_ তোমার অন্যের সৌন্দর্য দেখে হিংসে হচ্ছে বুঝি
_ তা না অবশ্য আমি কম সুন্দর নাকি,,,(বলেই আরশি ভাব নিলো)
নুবা চোখ ছোটো ছোটো আয়রার দিকে তাকিয়ে আছে,,,,,এই মেয়েটা অনেক ফাজিল,,,
আমিনা বেগম নুবাকে বুঝিয়ে বললো
_ আর কত সময় বসে থাকবি,,কাজ কাম আছে তো আমাদের,,
নুবা বিরবির করে বললো
_ ও মুখ দিলেই সুরসুরি লাগে আমি কি করবো,,,
আমিনা বেগম কপাল চাপড়ালো,,হাজেরা এগিয়ে আসলো আয়ারাকে নুবার কোলের ভিতরে সুন্দর মতো শুইয়ে দিয়ে বললো
_ কিছু হবে না,,যা বলছি তাই কর
নুবা শুকনো ঢোক গিলে আয়ারাকে ফিড করাতে লাগলো,,প্রথম বারের মতো আয়রা নরম ঠোঁটের স্পর্শে নুবা কেঁপে উঠলো,,, এদিকে অনেক দিন পরে বুকের এরকম নরম অংশ পেয়ে আরায়া দুধ খাওয়ার জন্য উতলা হয়ে পড়লো চকচকচ শব্দ করে খেতে লাগলো,,নুবার যেমন যেমন সুরসুরি লাগলো তেমন আয়রার মুখের চকচক শব্দ শুনে হাসি পেলো,,,
এর ভিতরে আয়রা বুকের দুধ না পাওয়ায় কিছুটা রাগে নুবার বুক খামচে ধরলো,,
নুবা চোখ বড়বড় করে আয়রার দিকে তাকালো,,,বিরবির করে বললো
_ এতো খামচি দিচ্ছে মা,,
আমিনা বেগম নাতনির হাত সরিয়ে দিয়ে বললো
_ পচা বুড়ি,,খামচি দেয় না,,
বেশ সময় পার হলো আয়রা এক পর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লো,,নুবা যেনো ব্রেস্ট পাম্প থেকে শান্তি পেলো,,ওটার থেকে এটা হাজর গুনে ভালো,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ১৫
মেহেরিমা মুখে গু গবর ঘষতে ঘষতে আরশিকে বলে উঠলো
_ রুমের দরজা আটকিয়ে ওই মেয়ের সাথে চাচি কি করছে আরশি,,,
আরশি এক রাশ বিরক্তি নিয়ে বললো
_ যা মালা তাই করুক তোমার কি,,
_ মানে সত্যি কিছু করছে,,
