নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪২
সুরাইয়া জিয়াসমিন
ভাবনা চিন্তা শেষ হওয়ার আগেই আরহাম এগিয়ে আসলো,,,ফিড করতে থাকা আয়রার দিকে ঝুঁকে গেলো,,,
হঠাৎ এমন হওয়ায় নুবা চম্কে উঠলো,,, পিটপিট করে আরহামের দিকে মাথা উঁচু করে তাকালো তবে আরহাম এক বিন্দুও তাকে সিমপ্যাথি দিলো না,,, বরং নিজের ছোট্ট মেয়ের এক হাত ধরে নিজের কাছে টেনে নিয়ে আসলো,,,নুবা ভেবে পেলো না এই লোকের আক্কেল জ্ঞান কি পাছায়,,না মানে ফিড করছিলো আয়রা,,,নুবা যদি ওরনা দিয়ে নিজেকে কাভার করে না বসতো তবে কিরকম বিব্রত কর পরিস্থিতি তৈরি হতো,,,
আরহাম কোনো দিকে মোনোযোগ না দিয়ে মেয়েকে কলিজার সাথে ঠেকালো,,তার মুখ ভর চুমু খেলো,,,আয়ারাকে বুকের সাথে লাগিয়ে বললো
_পাপা অনেক মিস করেছে তোমাকে আম্মু,,, অনেক,,,
আয়রা বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে এক কলিজা জুড়ানো হাসি উপহার দিলো,,তবে পরপর ঠোঁট বাঁকালো,,,মুখে দুধ লেগে আছে,,,গাল বেয়ে হাসি দেওয়াতে সেই দুধ গড়িয়ে পড়ছে,,,
আরহাম ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে আয়রার গালের লেগে থাকা দুধ মুছে চুমু খেএ বললো
_আমার আম্মু নাকি দুপুর থেকে কিছু খায়নি,, ক্ষুধা লেগেছে মা,,তাই না,,,পাপা আপনার পেট ভরার আগেই কেড়ে নিলাম,,রাগ করেছেন কলিজা,,,
আয়রা বাবাকে কথা বলতে দেখে হাসে,,, আরহাম অনেকটা সময় মেয়েকে আদর করে অতঃপর নুবার কোলে ধরিয়ে দিয়ে বললো
_দুপুর থেকে কিছু খায়নি,,আশা করি পেট ভরিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখে যাবে,,,
নুবা শুধু চুপ রইলো কারণ আরামের পিঠের আঘাত দেখে সে হতভম্ব,,,এখনো ছোটো ছোটো কাঠের অংশ ডুকে আছে,,,এই লোকটা কি একটুও অনুভব করতে পারছে না,,,
(আরহামের মতো আমার এক ভাই আছে,,, কাছের (খালাতো,,মামাতো)গুন্ডা টাইপের,,বাপে এলাকার রাজনীতি দলের অন্তর্ভুক্ত,,বড় ভাই সেম,,,যেটার কথা বলছি ওটা ছোটো,,, একবার মারামারি করে কে জানি ওর ডান কাঁধের একটু নিচে চাকু মেরে দিছে,, একদম লাম্বা করে,,,শালা ব্যথা তো পায়নি উল্টা বাড়িতে এসে গামছা দিয়ে ক্ষতো ডেকে অস্ত্র খুঁজে,আজকে ওটাকে মেরেই দম নিবে তাই,,,তার পর আমার নানু দেখে পুরাই হতবাক,,,মাংশ হা হয়ে আছে কিন্তু একটু রক্ত নাই,,,৬/৭ টা সেলাই পড়ছিলো,,,আমি দেখছিলাম ভাই পুরাই চেলার মতো মানে যখন যখম শুকিয়ে গেছিলো তখন দেখছিলাম 🤐 আমার দেখার পর মাথা ঘুরে উঠছে,,,যা গ্গে মনে পড়লো তাই বল্লাম)
নুবা আয়ারকে নিয়ে চুপচাপ বসে আছে,,, এদিকে এই মাত্র doctor আসলো,,এই বৃষ্টির ভিতরেও আসতে হয়েছে তাকে,,বাড়িতে একটু ঘুমাচ্ছো doctor সাহেব তবে তাদের জ্বালায় আর ঘুম হলো কই,,,
Doctor আরহামের যখম দেখে নিজেই আহত হয়েছে,,,আর বলছে হসপিটালে নিয়ে গেলে ভালো হয়,,তবে আরহাম যাবে না,, সোজাসুজি কথা তার,,,
ইশিতা চুপচাপ শুয়ে আছে,,,আরাফের মুখ মন্ডল তার বক্ষ স্থলে স্থানা করছে,,,ইশিতা আরাফের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললো
_ বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে,,,
আরাফ মৃদু কন্ঠে বললো
_ তো,,,,
_ বাইরে ঝড় চলছে আরাফ,, তোমার ভাই,,,
আরাফ এক রাশ বিরক্তি নিয়ে বললো
_ বাইরে ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে,, romantic কথা বলা বাদ দিয়ে ফালতু কথা শুরু করছো,,,
ইশিতা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,এই লোকটা কোনো কিছু গায়ে মাখে না,, এদিকে আরাফ আস্তে আস্তে নিজ স্ত্রীর সাথে ঘ নিষ্ঠ হওয়ার পায়েতারা করতে লাগলো,,,
ডাক্তার ক্ষতস্থানের চারপাশে অবশ করার ইনজেকশন দিতে চাইলেন,,তবে আরাহাম doctor কে থামিয়ে দিয়ে সুধালো
_ No need to give a sedative injection,,,,(অবাশ কররা ইনজেকশন দিতে হবে না)
আরহামের কথা শুনে,,রুমে থাকা আরশি,,,আমিনা নুবা সবাই ভুরু কুঁচকে নিলো,,,আমিনা ছেলের কাঁধে হাত রেখে বললো
_ আরহাম এটা দিতে হবে,,
_ no mom,,,I don’t need this. ,,I want to feel this pain, see what it feels like. ,,,
আমিনা বেগম doctor এর দিকে তাকিয়ে বললেন
_ ভাই আপনি দেন তো,,,ওর কথা শুনবেন না,,
আরহাম কিছুটা বিচলিত হয়ে বললো,,,
_ ইনজেকশন দিলে আমি কিছুই করতে দিবো না,,এভাবেই থাকবো,,,
_ আরহাম এই সব কিরকম পাগলামি,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ no need,,,,, understand mom,,,
আমিনা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে doctor সোহাগের দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় নিজের কাজ করতে বললেন,,,
ডাক্তার ক্ষতস্থানটা দেখে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন,,,কাঠের ধারালো টুকরাগুলো মাংসের ভেতরে গভীরভাবে ঢুকে আছে , ক্ষতস্থানের চারপাশ পরিষ্কার করে নিলেন ,,,
প্রয়জীন যন্ত্রপাতি দিয়ে কিছুক্ষণ পর ডাক্তার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে একে একে কাঠের টুকরাগুলো বের করতে লাগলেন।
প্রতিটি টুকরা বের করার পর ক্ষতটা ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করলেন,,জমে থাকা রক্ত পরিষ্কার করে দেখা গেল কয়েকটি জায়গা বেশ গভীরভাবে ছিঁড়ে গেছে। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ক্ষতস্থান আবারও ধুয়ে পরিষ্কার করা হলো।
পরপর doctor সোগাম নিজের কাজ শুরু করলেন,,,কোনো রকম অবাশ ব্যতিত আরহামের পিঠে,, অর্থাৎ কাঁধের কাছে ৩ টা সেলাই পড়লো,,,
পুরো সময়টুকু জুড়ে তার মুখে যন্ত্রণার ছাপ স্পষ্ট ছিল, সে শুধু অনুভব করলে চাইলো ব্যাথা টুকু,,যা সে পেরেছে,,,
সেলাই করার পর মেডিসিন লাগিমে ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হলো,,চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর যেন কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারল আরহাম ,,পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর বুকেও তখন জমে থাকা দুশ্চিন্তা একটু একটু করে কমতে শুরু করল।
পরপর কোনো মতে আরহামকে কিছুটা কাত করে শুয়ানো হলো যেহেতু পিঠে ব্যান্ডেজ,,, অতঃপর আরহামের বুকে আর পেটে সব মিলিয়ে ৭/৮ টা সিলি পড়লো,,, গভীর ক্ষতো গুলো ব্যান্ডেজ করে দিয়ে বাকি লা কালচে দাগের উপরে মলম লাগিয়ে দেওয়া হলো,,, আরহাম উঠে বসলো পায়েও মাংশ ভেদ গেছে,,, আরহাম পড়নে রাখা তাওয়াল ডান পার থেকে উচু করতে আমিনা বেগম আতংকে উঠলেন,,,
হাঁটুর কিছুটা উপরে এখানেই মাংস ভেদ করে বড় এক খানা কাঠের টুকরা দেখা যাচ্ছে,,, doctor দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,পরপর সেই স্থান ক্লিন করে সেলাই করার জন্য উদ্যোগ হতেই আরহাম বলে উঠলো,,
_ আমি করছি,,,
সোহাগ কিছুটা অবাক হয়ে বললো
_ আমার কাজ তুমি কথা শুরু করলে কবে থেকে,,,
আরহাম doctor এর হাত থেকে প্রয়জীয় জিনিস পত্র নিয়ে বললো
_ অভ্যস্ত আমি,,, এগুলো আমাকে শিখাতে আশা নির্ঘাত বোকামি,,,
আমিনা বেগম বিচলিত হয়ে এগিয়ে এসে বললো
_ পরবি না তুই,,,যারটা তাকে করতে দে,,
কে শুনে কার কথা,,, আরহাম নিজে নিজেই ২ সিলি ঘুচে দিলো,,চোখ মুখে যন্ত্রনার চিহ্ন মাত্র দেখা গেলো না,,,তবে তার কর্ম কান্ডে রুমে থাকা বাকি সাবার বেশ ব্যথা লাগলো,,,
নুবা শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো,,, মানুষ না বস্তু আল্লাহই জানে,, আল্লাহ সহায় থাকায় নুবার শরীরে কোনো রকম সিলি(সেলাই) পড়েনি,,
আরহামের পুরোপুরি ট্রিটমেন্ট করে doctor কিছু মেডিসিন সাথে অনেক গুলো বক্তব্য দিয়ে চলে গেলেন,,,
আরহাম সারাদিন না খেএ থেকেও doctor এর দেওয়া সব ওষুধ গিলে ফেললো,,তার উপর ব্যথার মেডিসিন ৩ টা এক সাথে খেলো,,,যা দেখে আমিনা বেগমের মাথা ঘুরিয়ে গেলো,,,বারবার সে না করতে লাগলো কিন্তু আরহাম কি কারো কথা শুনবে,,
সময় পরিবর্তন হয়েছে আরহাম বসে আছে,,পিঠে আর বুকের আঘাতের তারনায় শুতে পারছে না,
এদিকে আয়রাকে ফিড করাতে করাতে কখন যে নুবা আর আয়রা দুই জনি ঘুমিয়ে গেছে তা তাদের জানা নেই,, পরিবেশ ঠান্ডা হতেই আমিনা বেগম নুবার কাছে এগিয়ে গেলেন,, মৃদু কন্ঠে বললেন
_ নুবা,,ঘুমিয়ে পড়েছিস,,
আরহাম পাশ ফিরে তাকালো,,,পরপর শান্ত কন্ঠে বললো
_ ঘুমাচ্ছে,,ডাক দিও না,,ঘুমাক,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ এখানে বসে বসে ঘুমাবে,, দুইজনি পরে যাবে,,,
আরহাম মায়ের কথা শুনে উঠে আসলো,,বরাবরের মতো মেয়েকে সব নুবাকে পাজা কোলে তুলে নিলো,,,আমিনা বেগম তাড়াতাড়ি যেএ দুই হাত দিয়ে আয়রাকে ঠেস দিয়ে চোখ বড় বড় করে বললো
_ এখনি পড়ে যেতো,,
আরহাম বিছানার দিকে এগোতে এগোতে বললো
_ পড়তো না,,নুবা দুই হাত দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে আছে,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেন,,এই ছেলের এই জঘন্য অভ্যাস কবে ঠিক হবে,,যখন তখন মেয়েটাকে কোলে তুলে নেয়,,,
আরহাম নুবা আর আয়রাকে আলতো করে বিছানায় শুইয়ে দিলো,,,নুবা নড়েচড়ে উঠলো,,,বুকের উপর আয়রা ওরনা দিয়ে যার ছোট্ট শরীর ডাকা,,,ঘুমের ভিতরেও নুবার বক্ষ স্থল জুরে তারি বিচরণ,,, শক্ত করে আকড়ে ধরে আছে তাকে,,,
আরহাম সরে দাঁড়ালো,,মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ ওদের ঠিক করে শুইয়ে দেও,,আমি একটু বাইরে যাচ্ছি,,,
আমিনা বেগম এগিয়ে এসে কাতর কন্ঠে বললো
_ কোথায় যাচ্ছিস,,,
_ কাজ আছে,,
_ কোনো কাজ নেই,, চুপচাপ এখানে বস,,,
_ আসছি তুমি বসো,,
আমিনা বেগম ছেলের হাত ধরে টেনে বসালেন,,ছলছল চোখে বললেন
_আমার কোনো কথার অমান্য করবি না তুই,, চুপচাপ যেএ বস,,, মার খেয়েও শান্তি হয়নি এখন আবার কোথায়ও যেএ কি উল্টা পাল্টা করবি,,,হুম,, চুপচাপ মায়ের কথা শুন বাপ আমার,,,
আরহাম চোখ উল্টালো,,,মহিলা মানুষের এতো কান্না কোথা থেকে আসে আল্লাহই জানে
কাল রাতের ভয়ংকর ঝড় যেন সব তাণ্ডব শেষে বিদায় নিয়েছে।আজ আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে আছে কোমল রোদের আলো।গাছের পাতায় পাতায় জমে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা মুক্তোর মতো ঝিলমিল করছে।
চারপাশে এক অদ্ভুত প্রশান্তি, যেন প্রকৃতি নতুন করে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।ঝড়ের ক্ষতচিহ্ন রয়ে গেলেও নতুন দিনের আলো আশা জাগাচ্ছে মনে।প্রকৃতি যেন বলছে
সব ঝড়ের পরই একদিন সুন্দর সকাল আসে। তবে সবার ক্ষেত্রে না,,,
এক অচেনা জায়গায়,,নুবার কাছে সব কিছু ঘুলাটে লাগছে,,,আশে পাশে এরকম গলি মহল্লা,,নুবা আশে পাশের পরিস্থিতি দেখে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,
হাজেরা এবং এগিয়ে এসে বললো,,
_ কষ্ট করে এখানেই থাকতে হবে,,
নুবা শুধু হাসলো,,,তার কাছে মনে হলো দুর থেকে কেউ তাদের পর্যবেক্ষণ করছে,,,
হঠাৎ করেই দিনের আলো সরে যেএ রাত নেমে এলো,,নুবা আশে পাশে তাকিয়ে নিরাশ হলো,,হাজেরা বেগম সামনের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বললেন
_ আয়,,ওই যে ওই ঘড়টা,,,
নুবা মায়ের পিছনে এগিয়ে যেতে নিলেই হাজেরা ধোঁয়াশা হয়ে গেলো,, অন্ধকারে মিশে একাকার হয়ে হারিয়ে গেলো,,,নুবা স্তব হয়ে দৌড়ে গেলো নিজ মায়ের কাছে,,,তবে আচমকা পিছন থেকে কিছু হাত তাকে টেনে ধরলো,,,নুবা পিছনে তাকাতেই ভয়ে চম্কে উঠলো,, কিছু মানুষ রুপি জানোয়ার তাকে আঁকড়ে ধরেছে,,,
নুবা ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলো,,,তবে গলা দিয়ে শব্দ বেড় হলো না,,,নুবা তাদের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে দৌড়ে দিলে চাইলো তবে একি জায়গায় সে দাঁড়িয়ে রইলো,,সে দৌড়াচ্ছে তবে দৌড়াতে পারছে না,,
নুবার চোখ দিয়ে টুপ টুপ করে পানি গড়িয়ে পড়লো,,, শেষ পর্যন্ত অনেক চেষ্টার পর নুবার গলা দিয়ে শব্দ বেড় হলো
_ বাঁচাও,,,বা___তবে হঠাৎ অনেক গুলো মানুষ সেএ নুবার চার পাশ দিয়ে দেওয়ার তুলে দিলো যাতে তার শব্দ বাইরে পর্যন্ত না আসে,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,কি করবে কিছুই বুঝতে উঠতে পারলে না,,তখনি পিছন থেকে ভয়ংকর শব্দ ভেসে আসলো,নুবা কম্পিত শরীরে পিছনে ঘুরতেই অনেক গুলো পরপুরুষ মহিলা তার উপর ঝাপিয়ে পড়লো,,,,
পুরুষ গুলো এক এক করে নুবার শরীর থেকে সকল সুতার অস্তিত্ব সরিয়ে ফেললো,,,তার শরীরে সকল স্থানে হিংস্র পশুর মতো খাবলে ধরলো,,মহিলা গুলো তার শরীরে কলঙ্কের ছিলমোহর লাগাতে শুরু করলো,,,তার শরীরে ঘৃণিত তামাকা লেগে গেলো,,,
নুবা নিজেকে ছাড়াতে চাইলো,,গলা ফাটিয়ে আর্তনাদ করে উঠলো,,,
_ ছাড়ো,, আমাকে ছাড়ো,,মরে যাচ্ছি আমি,,,
তার আর্তনাদ,,আহাজারি কেউ শুনলো না,, বরং বাইরের দেওয়াল গুলো তার গলার শব্দ আঁটকে ধরলো,,,নুবা মা মা বলে চিৎকার করলো,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪১
দেওয়ালের বাইরে থেকে হাজেরার শব্দ শুনা গেলো,,,নুবা আশার আলো খুঁজে পেলো,,তবে ততখনে তার বদনখানাকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলা হয়েছে,,,,তবু বেঁচে আছে সে,,নিজের মায়ের কন্ঠ স্পষ্ট শুনতে পারছে,,,
বাইরে থেকে হাজেরা কন্ঠে আহাজারি আর্তনাদ শুনা গেলো,,
_ আমার মেয়েকে ছেড়ে দেও,,ছেড়েও দেও,,,
পরপর কিছু মানুষ হাজেরার গলা চেপে ধরলো,,,হাজেরা ছটফট করতে লাগলো,,,নুবার চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,,নুবা বিরবির করে বললো,,,
_ কি দোষ ছিলো আমার,,,,,
