Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৪

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৪

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৪
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_ আমি চাইলেই সব ওদের বলতে পারি,,,ওদের মাথা গুজার জন্য একটা বাড়ি তৈরি করতে পারি কিন্তু এগুলো বিশেষ করে নুবার জন্য,,নুবার সামনে আরো জীবন পড়ে আছে,,হাজেরা আর নুবার নামে অর্ধেক অর্ধেক রেখেছি,,নুবার কিছু হলে হাজেরা পাবে হাজেরা কিছু হলে নুবা,,,আমি চাই নুবার বিয়ের সময় এই সব বুঝিয়ে দিতে,, কারণ এই সমাজের মানুষ অনেক খারাপ আমিনা,,, তুমি তো জানো আমার ছেলেকে নিয়ে আমি কতটুকু ভুগেছি,, সেই স্থানে ইয়াশ নেই,,,আর নুবা একজন মেয়ে,,সেটাই ভয়,,,দুই মা মেয়ে একা থাকবে কে কখন কোথা থেকে গায়ে তামাকা লাগিয়ে দিবে জানা নেই,, আমি থেকেও আমার সন্তানে রক্ষা করতে পারিনি সেখানে নুবার মাথার উপর বাপের ছায়া নেই,,,আলাদা থাকবে কোনো ঝামেলা হলে আমার নিজেকে দোষী মনে হবে,, এমনিতেই হাজেরা সেদিন বলে ফেলেছে আমার জন্য তার স্বামীর জীবন শেষ হয়েছে __
কথা টুকু বলতে বলতে হারুন মির্জার চোখ ভিজে আসলো,,,পরপর চোখের টানি মুছে বললো

_ নুবার বিয়ের পর আল্লাহ না করুক কোনো ঝামেলা হলে নুবা যাতে নিজে চলে খেতে পারেই সেই ব্যবস্থা করেছি,,, দুই জন চোখের সামনে আছে কোনো বিপদ হলে ছুটে যাওয়া যাবে,,দূরে গেলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তখন কি ছুটে যাওয়া যাবে কি,??॥,,,নুবার এই অবস্থার পর আমি ভেবেছিলাম ও আর ফি___
হারুন মির্জা থেমে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,, কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_ নিজের ছেলেকে সাবধান করে দিবে আমিনা,,আমি চাই না দ্বিতীয় দফা এমন কিছু হোক,,, যথাসম্ভব নুবাকে চোখে চোখে রাখবে,,,
আমিনা বেগম স্বামীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে বললেন
_ আপনার কি মনে হয় না,,জমির বিষয়ে ওদের কে বলা,,
_হ্যা দেখি এই বিষয়ে আমি হাজেরার সাথে কথা বলবো,,,,আর কয়টা দিন যাক,,,নুবার HSC শেষ হলে নুবাকেই সব বুঝিয়ে দিবো,,,
আমিনা বেগম কিছু সময় চুপ থেকে ভুরু কুঁচকে বললেন
_ এই সব বিষয়ে আপনি আমাকেও বললেনি,, আল্লাহ না করুক আপনার কিছু হয়ে গেলে এগুলো অজানাই থেকে যেতো,,,
হারুন মির্জা স্ত্রীর কথায় একটু হেসে বললো
_ এমন টা হতো না,,যখন আমার কিছু হয়ে যেতো অবশ্যই তুমি বা আরাফ কেউ না কেউ সকল সম্পত্তি ঘেটে দেখতো তখন জানতেই পারতো,,আর তার থেকেও বড় কথা আমরা উকিল কি করতে আছে,, সম্পতি ভাগ করতে আসলে অবশ্যই এগুলো তোমরা জানতে বুঝলে বেগম,,,
আমিনা বেগম স্বামীর কথায় মৃদু হাসলেন,,,

নুবা নীরব হয়ে বসে আছে,, এমন একটা মূহুর্তে আরাফ রুমে প্রবেশ করলো,,অবশ্য হাজেরা রুমেই আছে,,,
আরাফ এসে সরু চোখে নুবার দিকে তাকালো,,আরাফকে রুমে আসতে দেখে নুবা ভুরু কুঁচকে নিলো,,
হাজেরা আরাফকে দেখে শান্ত কন্ঠে বললো
_ তুমি এখানে যে বাবা
আরফার মুচকি হেসে বললো
_ চাচি আপনাকে আম্মু ডাকছে,,, আমাকে বললো ডেকে দিতে,,,
হাজেরা উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ও আচ্ছা,,
পরপর হাজেরা রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,নুবা মায়ের পিছন পিছন যাওয়ার চেষ্টা করলে আরাফ নুবাকে আটকে নিলো,,
নুবার দাঁতে দাঁত চেপে আসলো,,বিরবির করে বললো

_ হাত ছাড়ুন,,,
আরাফ নুবার হাতের কব্জি ধরে রাগি কন্ঠে সুধালো,,
_ বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছিলি,, অনেক সাহস হয়েছে হুম,,,
নুবা কোনো উত্তর দিলো না হাত ছাড়াতে ব্যস্ত হলো,,,আরাফ নুবার থুতনি চেপে ধরে নিজের দিকে টেনে বললো
_ কি হলো কথা বলছিস না কেন,,,
নুবা রাগে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আপনার কাছে কৈফিয়ত দিতে আমি বাধ্য না,,,
_ তুই বাধ্য তোর ১৪ গুষ্টি বাধ্য,,,
নুবা ত্যাচ্ছিলের হাসি দিয়ে বললো
_ ইশিতা ভাবিকে ডাক দিয়ে বলতে ইচ্ছা হচ্ছে,, দেখুন ভাবি কি চরিত্রহীন মানুষকে বিয়ে করেছেন,যে আপনাকে রেখে বাইরে মুখ দিতে চাইছে,,১২ ঘাটে মুখ লাগনো মানবের মন কি আর এক ঘাটে টিকে,,,
নুবার চোখে ঘৃনা আর ত্যাচ্ছিলো,,,
আরাফ নুবার গাল চেপে ধরে smirk করে বললো
_ আপাতত তোর ঘাটে মুখ দিতে পারলে শান্তি মিলবে,,,বুঝলি জান,,,
নুবা এক গাদা থুথু আরাফের মুখ ছুঁড়ে মেরে বললো
_ ছি,,, জা,,নোয়ার কোথাকার
থুথু মারাতে আরাফ নুবাকে ছেড়ে দিলো,,নুবা ছাড়া পেতেই দৌড়ে বাইরে চলে আসলো,,,
আরাফ পকেট থেকে টিস্যু বেড় করে মুখের থুথু গুলো মুছে রক্ত বর্ন চোখে বিরবির করলো
_ তোকে দেখে নিবো,, just watch and see,,,

করিডোর পার করে আমিনা বেগমের রুমের দিকে যেতে নিলেই দেখলো হারেজা ফিরে আসছে,নুবা মাকে দেখে বিরবির করে বললো
_ কি হয়েছে মা,,,
হাজেরা সামনে এগিয়ে বললো,,
_ তেমন কিছু না,,তোর ব্যাপারেই কথা বললো,,সামনে HSC ,,তাই বাড়িতে teacher আনবে,,,আয়ারা আছে কলেজে যেএ পড়তে সমস্যা হবে তাই আরকি,,বাড়িতেই প্রস্তুতি নিতে বললো
নুবা মায়ের কথা শুনে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,সে ভুলেই গেছিলো সামনে তার পরিক্ষা,,,

বাগানের বড় দোলনায় নুবা আর আরশি বসে আছে,,নুবা বসে বসে তার পড়ালেখার অবস্থা বলছে কিন্তু আরশি মোবাইলে রিহানের সাথে চেটিং করছে,,
নুবা এই সব দেখে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ তুমি বসো আমি চলে যাই,,,
বলেই নুবা উঠতে নিলো,,আরশি টেনে ধরে বললো
_ আরে বস ভাই,,আমি একা বসে এখানে খিলখিল করে হাসছে আম্মু এসে আমার ঘাড় মটকে দিবে,,, তুই থাকলে সন্দেহ করবে না,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো আর বললো
_ তাহলে দেখাও কি করছো,,একটু দেখি,,
বলেই নুবা এগিয়ে গেলো,,,আরশি কিছু বললো না,,তবে তাদের কথাপোকথন দেখে নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,,দুই জনি মোবাইলে বাসর সেরে ফেলছে,, ইস্ কি romantic কথাপোকথন,,,নুবার গাল গড়ম হয়ে গেলো,,বিরবির করে বললো,,”আস্তাগফিরুল্লাহ”
আরশি নুবাকে নাক ছিটকাতে দেখে বললো,,,

_ এখানে,” আস্তাগফিরুল্লাহ ” বলার কি আছে, জামাই হয় আমার,,,
নুবা চোখ উল্টে বললো
_ তাই বলে এই সব,,,কার কোথায় কয়টা তিল আছে,,ছ্যে,,,
আরশি এক পা লম্বা করে নুবার হাঁটুতে মৃদু লাথি মেরে বললো
_ চুপ কুত্তী,,,বিয়ে হোক তার পর বুঝবি,, জামাইদের এভাবেই আটকে রাখতে হয়,,না হলে হাতছাড়া হয়ে যাবে,,,
নুবা বিরবির করে বললো
_ যদি আটকে রাখতে হয় তবে এটা আমার কেমন ভালোবাসা,,, ভালোবাসাতো এমন হতে হবে না চাইলেও দুই জন দুইজনের সাথে থেকে যাবে,,
আরশি মুখ বাঁকিয়ে বললো
_ তা কয়টা প্রেম করেছিস,,এতো কিছু জানিস হুম,,
নুবা দাঁত দিয়ে জিভ কামড়ে বললো
_ প্র,,প্রেম করতে হয় নাকি,,এই সাধারণ বিষয় জানার জন্য,,,
_ উফ্ চুপ কর,,প্রেম করছি না ,,আমারা বিবাহিত,,so বেশি পটপট করিস না,, চুপচাপ বসে থাক,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,কি সুন্দর বসে বসে জামাই এর সাথে লুতুপুতু করছে,,,

আরহামের দাঁতে দাঁত লেগে আসলো,,, মোবাইল টা শক্ত করে চেপে ধরে বললো,,,
_ কার সাথে ডিল টা করছে,,,
অপাশ থেকে একটি লোক ফিসফিস করে বলে উঠলো,,
_ sir,,বড় একটা প্রজেক্ট আছে,,এর সাথে আপনার চাচারো হাত আছে,,, টেন্ডারটা নেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে,,,তবে আপনার dad এটা নিতে চাইছে সব ফাইনাল আমাদের কম্পানিতেই invest করবে,, কিন্তু এর ভিতরে ঝামেলা করে আপনার চাচা বেশি দামে অন্য কোনো বড় পার্টির হাতে দিতে চাইছে,,,এটা হাতছাড়া হয়ে গেলে আমাদের কম্পানি মাটিতে পড়তেই ২ সেকেন্ড ও লাগবে না,,,তবে এই ব্যপারে বড় sir কিছুই জানে না,,আমি এই মাত্র খবর পেলাম,,
আরহাম কথা গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনে ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বললো
_ বড় পার্টি খুঁজতে থাক,, কিন্তু এই contact টা আমাদের কম্পানিই নিবে,, নিশ্চিন্তে থাকো,,, তুমি just dad কে ভুলিয়ে রাখো বাকিটা আমি দেখে নিবো,,,

_ ok sir,,
_ কম্পানিতে কি হচ্ছে না হচ্ছে সব খবর আমার চাই আর ওই শু**** সব কালা কারনামার একটা ফাইল তৈরি করো,,ওতি শিঘ্রই ওকে জেলের ভাত খাওয়াবো,, আমার বাপেরটা খেএ তার সাথেই গাদ্দারি,,,এই প্রজেক্টে যে যে ঝামেলা করার চেষ্টা করছে প্রত্যেকটার লিস্ট তৈরি করো,,,কত বছর কাজ করছে আজ পর্যন্ত কি কি গাবলা করেছে ইন টোটাল সব ঘেটে বেড় করো,,এই দায়িত্ব তোমাকে দিলাম,,,সব কয়টাকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাবো,,
ওপাশ থেকে গর্বে ভরা সুর ভেসে উঠলো
_ আমি শিঘ্রই আপনাকে এই সব নিয়ে একটা ফাইল তৈরি করে দিবো,,,
আরহাম ফোন কেটে দিলো,,,, বরাবরই আরহাম হারুন মির্জার ব্যপারে বা তার কম্পানির ব্যপরাএ ততটা সতর্ক না,,,বিদেশে থাকা কালিন কখনোই এই সব সে ঘেটে দেখেনি,, কিন্তু দেশে আসার পর খেয়াল করলো কম্পানি আস্তে আস্তে ডাউন হয়ে যাচ্ছে,,, সন্দেহ হলো তার,,তার পিতার কাজে যে কোনো ঘাটতি নেই সেটা সে জানে তবে পিছন থেকে কেউ এই সব টেনে ধারার চেষ্টা করছে,,তাই এই বিষয়ে মনযোগ দিচ্ছে সে,,অতী শিঘ্রই কম্পানিতে জয়েন হবে,,তারপর এক একটাকে দেখে নিবে,,, বিশেষ করে তার চাচা হেলাল শাহারিয়ার মির্জাকে,,, অর্থাত্ মেহেরিমার বাপ,,,

আরশি বিরবির করে বললো,,
_ শুন নুবা,,,
নুবা ব্যাঙের মতো উপুড় হয়ে বসে ছিলো,,আরশি ডাকতেই নুবা মাথা তুলে তাকালো,,,
_ কি,,,
_ নাচতে ইচ্ছা করছে,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ মানে কি,,,
_ একটু নাচবো একটা ভিডিও করে দে তোর ভাইকে পাঠাবো,,
নুবা মুখ বাঁকিয়ে বললো
_ যতসব,,,, আচ্ছা দেও,,,
আরশি উঠে দাঁড়ালো,,পড়নে তার হাঁটুর উপর টপ টাইপের গোল ড্রেস আর জিন্স,,,আরশি উঠে চুল গুলো ছেড়ে দিলো,,পরপর একটা গান ছাড়লো
_ Man Dole Mera Tan Dole,,,
আরশি শরীর দুলিয়ে গানের সাথে তাল মিলালো,,, এদিকে আরশির ড্রান দেখে নুবা মোবাইল ধরা বাদ দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলো,,,সেই হচ্ছে,,,নুবা গানের সাথে গুনগুন করে উঠলো,,,

ইতি মধ্যেই দুই পাগল মিলে সামনে দোলানর উপর মোবাইল রেখে ড্যান্স দিচ্ছে,,,নুবার পড়ছে হালকা নিল রাঙ্গা থ্রিপিস,,,গলায় ওরনা ঝুলানো,,,গানের তালে তালে আরশির আর নুবা মন খুলে নাচতে শুরু করলো,,, দুই জন ভুলে গেলো দিন দুনিয়া,, দুই জন দুই জনের হাত ধরে ঘুরতে লাগলো,,,
এমন একটা হাস্যোজ্জ্বল মূহুর্তে ইশিতা প্রকট হলো,,,ইশিতাকে দেখে নুবা আর আরশির মুখের রং উড়ে গেলো,,,দুই জনি থেমে গেলো,,পরপর আরশি যেএ মোবাইল অফ করে বিরবির করে বললো
_ আসসালামুয়ালাইকুম ভাবি,,,
ইশিতা ভুরু কুঁচকে বললো
_ what happened আমাকে দেখে থেমে গেলে কেন,,,আমি তো তোমাদের সাথে জয়েন হতে এসেছিলাম,,শাড়ি পড়ে আছি দেখে কি old model মনে হচ্ছে,,no baby,,I am Gen Z ,,,এটা তো নতুন নতুন বিয়ে হয়েছে দেখে শাড়ি পড়ে আছি,,But I prefer to wear shirts and pants. ,,,,
ইশিতার কথা শুনে নুবা আর আরশির মুখের রং ফিরে এলো,,ইশিতা শাড়ির আঁচল কমড়ে গুঁজে বললো
_ let’s play,,,,dance pe chance dance,,,,
আরশি খুশিতে গদগদ করে গান বাচালো,,,ইশিতা খুবি দক্ষ ভাবে ডান্স স্টেপ গুলো দিলো,,,আরশি আর নুবা খিলখিল করে হেসে উঠলো,,ইশিতার ডান্স টা সেই ছিলো,,,,
পরপর এক এক করে সবাই নাচলো,,নুবা একটি hindi song বেছে নিলো “মেরি পাতলি কামর তেরি তিরছি নজর “,,,

নুবা অনেক রকম অঙ্গ ভঙ্গি করে কোনো রকম অসুবিধা ছাড়া ড্যান্স দিলো,,, অতঃপর গানের তালে তালে আরশি আর ইশিতাও মনের মতো নাচানাচি শুরু করলো,,,
তিন জন মন খুলে খিলখিলি করে হেসে উঠলো,,মনে হলো তিন বান্ধবী,,না আছে তাদের ভিতরে কোনো রকম কষ্ট না আছে উদাসীন ভাব,, শুধু সুখ আর সুখ,,
তিন জনের নাচ তখনি অফ হলো যখন আয়ারার কান্না শুনা গেলো,,তিনজিন পিছন ফিরে তাকালো,,দেখতে পেলো আরহাম আয়রাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,,সে এসেছে অনেক আগেই যখন নুবার প্রায় অর্ধেক ড্যান্স শেষ,,,সে তীক্ষ্ণ চোখে সব কিছু দেখছিলো,,, চোখে যেনো তাক লেগে গেছিলো তার নুবার ডান্স দেখে,,,এই মেয়ে আঁকিয়ে বাঁকিয়ে নেচে শরীরের গঠন বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা লাগে,,, শরীর এতোটাই নরম যে সাপের ন্যায় বাকিয়ে যাচ্ছিলো,,,
তবে একটা কথা মানবে হবে আরহামের বেশ ভালোই লেগেছে,, enjoy করেছে সে,,
হঠাৎ করেই আরহামকে দেখে সবার ডান্স অফ হয়ে গেলেও গানের সুর শুনা গেলো,,আরশি তাড়াতাড়ি যেএ মোবাইল অফ করলো,,,
ইশিতা লজ্জা পেলো না,,তবে একটু বিব্রত হলো ভাসুরের সামনে যতোই সে modern হোক না কেন,,, এদিকে নুবা আরশির পিছন দিকে উঁকি মেরে দেখছে কে এসেছে,,,পরপর আরাহামকে দেখে তার কান দিয়ে ধোঁয়া ছুটছে এই ভেবে যে তার পাগলের মতো ড্যান্স আবার দেখে ফেললো না তো,,,,
আরশি নিরোপেক্ষ,,সে কিছুই জানে না,,সে নিষ্পাপ,,,ইশিতা মাথা নিচু করে সুন্দর করে শাড়ির আঁচল কমড় থেকে খুলে টুকটুক করে আরহামের দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে চলে গেলো,,,আরশি পিছন দিয়ে কেটে পড়তে চাইলে নুবা টেনে ধরলো,,তবে আরশি নুবাকে ছাড়িয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে ভাই এর দিকে তাকিয়ে দাঁত কেলিয়ে বললো

_ আসসালামুয়ালাইকুম,,,ভাইয়া,,,
আরহাম মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ওয়ালাইকুম আসসালাম ,,(পররপ জিগ্গেস করলো)
_ এই সময় এখানে কি হচ্ছে,, এগুলো কি ভ্রদ বাড়ির মেয়ে মানুষের কাজ,,,
আরশি অনুমান করলো আরহাম এগুলো পছন্দ করে না,, কারণ গায়ে হলুদেও ড্যান্স নিয়ে এই শালা ঝামেলা করেছিলো,,তার উপর চিল্লাচিল্লি তো আরো পছন্দ করে না,,তাই আরশি কি বলবে ভেবে পেলো না,, সবসময় তাদের খুশিতে পা,,নাক,,হা ডুকিয়ে দেয়,,,আজব মানুষ,,নিজেও হাসি খুশি থাকবে না অন্যদেরও থাকতে দিবে না,,আরশি কিছু সময় ভেবে মাথা চুলকালো,,পরপর বললো
_ না মানে,,ওই আরকি,,এই যে নুবা আছে না ও সব জানে ওকে জিজ্ঞাসা করো,,
নুবার দিকে আঙ্গুল ত্যাগ করে কথাটা বললো,,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,নিজের দিকে এক আঙ্গুল তুলে বললো,,,
_ আ,,আমি আমি জানি,,তুমিই তো শুরু করলে,,,
আরশি পিছন কেটে পড়তে পড়তে এক হাত দিয়ে নিজের কান ধরে নুবাকে চোখ টিপি মেরে জিভ কেটে ঠোঁট নাড়িয়ে বললো,,,

_ so,, sorry বনু,,সামলে নে,,
বলতে বলতে আরশি ওখান থেকে সরে গেলো,,নুবা একবার কেলানি খেয়েছে,,,আর তাকে কেলানি দেওয়ার কারনে বাবার হাতে আরহাম কেলানি খেয়েছে,,সেই জন্য নুবা সেভ,, আরহাম কিছু বলতে পারবে না ওকে,, কিন্তু আরশিকে বোন হিসাবে দুটো থাপ্পর বসিয়ে দিলে মন্দ হয় না,,তাই মার থেকে বাঁচার জন্য বেচারি নুবাকে ফাঁসি দিয়ে বাগার পাড় হলো সে,,
আরহাম চোখ ফিরিয়ে নুবার দিকে তাকিয়ে দেখলো নুবা উল্টো দিকে হাঁটছে,,নুবার ধান্দা ওই পাশ দিয়ে বেড় হয়ে বাড়িতে ডুকবে,,তবে তার ধারনার ভিতরে এক বাতলি পানি ডেলে দিয়ে আরহাম ডেকে উঠলো,,,
নুবার চোখ জোরা বন্ধ হয়ে আসলো যা ভাবছিলো,,মনে মনে ভাবলো আজ কথা শুনালে বা চড় থাপ্পড় দিলে যেএ ডিরেক্ট চাচার কাছে বিচার দিবে,, একদম চুপ থাকবে না,,,
আরহাম যেএ আয়ারকে নিয়ে দোলনায় বসলো,,আর বললো

_ এদিকে আসো,,,
নুবার রাগ হলো,,হুকুম করছে যেনো তার পার্সোনাল কাজের লোক,,,
নুবা নিজেকে শান্ত করে বললো
_ কুল ডাউন নুবা,, হারুন মির্জা আছে তোকে কিছু বললে একদম কেলিয়ে দিবে,,,হিহিহি,,,
পরপর মুখে স্বাভাবিক ভাব টেনে এগিয়ে যেএ মাথা নিচু করে বললো
_ জ্বী বলুন,,,
আরহাম নুবার মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখে আয়ারার দিকে তাকিয়ে বললো
_ ওরনা ঠিক করো nonsense,,,
কিছুটা বিরক্তি তার কন্ঠে,,নুবা খেয়াল করলো এক কাঁধের উপর দিয়ে ওরনা নিয়ে কমড়ের কাছে বেঁধে রেখেছে,,,নুবা খেয়াল করেনি,, তাড়াতাড়ি ওরনা খুলে মাথায় টেনে দিয়ে বললো
_ sorry actually খেয়াল করিনি,,
আরহাম বিরবির করে বললো

_ বাঁদরের মতো লাফালাফি করলে খেলায় করবে কখন,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে নিলো,,অন্য দিকে মুখ করে বললো
_ আপনার সাথে কথা বলাও আমার রুচিতে আসে না,, এখন চুপচাপ বলুন কেনো ডাকছেন,,,
আরহাম নুবার কাঠকাঠ কথা শুনে smirk করে বললো
_ তোমার আবার রুচিও আছে interesting,,,
আরহামের কথায় কিছুটা খোঁচা মারা ভাবে,,,নুবা টিপটিপ করে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ মানে কি বলতে চাইছেন আপনি,,,
_ সকাল থেকে আয়ারার কাছে আসোনি,,বুঝতে পারছো আমার ভিতরে এখন কি চলছে,,,দু একটা কপ বসিয়ে দিলেও আমার আফসোস হবে না,,,
নুবা পিলে চমকে উঠলো,,, চক্ষুদয় বড়বড় করে আরহামের দিকে তাকালো,, আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো
_ আমার মেয়ের প্রতি হেলামি আমার একদমি সহ্য হবে না,,,আর কথা রইলো যে তুমি বলবে এটা কি আমার দায়িত্ব,,, হ্যাঁ,,এটা তোমারি দায়িত্ব,, যতদিন আমার মেয়ে বুকের দুধ না ছাড়ছে,,এই কাজে হেলামি অথবা উপেক্ষা করার চেষ্টা করলে এবার মারবো না ঠুকে দিবো,,, সাবধান
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো

_ আপনি কি আমাকে হুমকি দিচ্ছেন,,
_ তুমি যা ভাবো,,সেটাই,,,
নুবা আয়রার দিকে এক পলক তাকালো,,যে কিনা মুখে আঙ্গুল গুঁজে আরহামের কোল থেকে উঁকি দিয়ে তার তার দিকেই তাকিয়ে আছে,,,চোখের কোনায় পানি জমেছে,,আসলেই ইদানিং আয়ারার খোঁজ রাখা হয় না,,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আলতো করে আয়ারকে কোলে তুলে নিয়ে বুকের সাথে ঠেকিয়ে নিলো,,,কোনো কথা না বলে বাড়ির ভিতরে যেতে লাগলো,, কিন্তু তখনি আরহাম নুবার ওরনার কোনা টেনে ধরলো,,,দোলনা থেকে উঠে দাড়িয়ে বললো
_ আমি কি তোমাকে যেতে বলেছি,,,
নুবা ফিরে তাকালো,,,,, আরহাম এগিয়ে এসে হঠাৎ নুবার ভিষন নিকটে চলে আসলো,,নুবা আত্মকে দুই কদম পিছিয়ে গেলে আরহাম এগিয়ে গেলো,,,
নুবা আরাহামকে এভাবে এতোটা কাছে আসতে দেখে ভীষণ ঘাবড়ে গেলো,,নিজের ধরে রাখা ওরনার দিকে একবার তাকিয়ে বললো

_ স,, সমস্যা কি,,,
আরহাম নুবার ওরনা ছেড়ে দিয়ে আদেশ স্বরুপ বললো,,,
_ ভালো মতো চলা ফেরা করবেন,,,খোলা ময়দানে এতো নাচানাচি,,, হাসাহাসি আমার পছন্দ না,,, ড্রেসে শালীনতা বজায় রাখবেন,,, সবসময় যাতে স্পর্শকাতর স্থান গুলো ভালো মতো ডাকা থাকে,,, উঁকি চুকি দিয়ে যাতে কেউ বুকের ভাঁজ,,বাম কমড়ের তিল,,,না দেখতে পায়,,, বরাবরই এই সব বিষয়ে আমি সতর্ক,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৩

নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো আরহামের কথায়,,,চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকিয়ে রইলো,,পরপর বাম হাত বাম কমড়ে রাখতেই অনুভব করলো নাচানাচির ঠেলায় থ্রিপিস চিরে কিছুটা উপড়ে উঠে গেছে,,কখন হলো নুবা টের পেলো না কিন্তু আরহাম কি করে পেলো,, নিশ্চয় তাকে চোখ দিয়ে গিলে খেয়েছে না হলে বুঝলো কি করে,,,
তার পড়েও নুবা ডেবে গেলো না,,কিছুটা রাগি কন্ঠে বললো
_ মেয়ে মানুষ দেখলে চোখ ঠিক থাকে না নাকি,,,কোথায় কোথায় তাকান আপনি,,,আর,,
ঠাস ____

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here