নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৭
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_ হ্যাঁ তাই তো পিছন ফিরে ফিরে দেখছিস,,
অতঃপর সিরি বেয়ে উঠতে উঠতে সুধালেন,,
_ নুবার নতুন teacher ,,আরশিকেও আগে ছোটো বেলায় পড়াতো,,তাই তোর বাবা এই কয়দিনের জন্য পরিকেই রেখেছে,,,
আরহাম মায়ের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_পরি,,,
_ হ্যাঁ ওর নাম পরি,,,নামের মতো সুন্দর,,,তাই না,,
বলেই একটু পিছনে ফিরে তাকালো আমিনা বেগম,,,আরাহাম কোনো রিয়াকশন দিলো না,,,
পরপর আরহাম নুবার দিকে এগিয়ে গেলো,,,আরহামকে এদিকে আসতে দেখে নুবা বুঝতে পারলো কেন আসছে তাই ব্যস্ত কন্ঠে বললো
_ আয়রা আপনার রুমেই আছে ঘুমাচ্ছে,,,
তবু আরহাম এগিয়ে আসলো,,,নুবা ভুরু কুঁচকে দুই কদম পিছিয়ে গেলো,,, আরহাম এগিয়ে এসে নুবার দিকে ঘড়িটা এগিয়ে দিয়ে বললো
_ এটা লাগিয়ে দেন তো,,,এক হাত দিয়ে পারছি না,,,
নুবা চোখ টিপটিপ করে আশে পাশে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি ডান হাত সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে থাকা আরশির দিকে দিকে বললে
_,,ও ,,ওইযে আপু আ,আসছে,,উনাকে বলুন,,আমি পারি না,,,
তবে আরহাম সরে যাওয়ার বদলে আরো দুই কদম এগিয়ে আসলো,,,নুবা পুরোপুরি রুমের ভিতরে ডুকে গেলো,,, আরহাম ১/২ কদম করতে করতে নুবার দিকে এগিয়ে যেএ বললো
_ তোকে বলছি তুই দিবি,,বেশি পটপট করিস কেন,,,আর আয়ারকে একা রুমে রেখে আসছিস,,যেএ যদি দেখি কোনো উল্টা পাল্টা,,বা মেয়ে আমার বিছানা থেকে পড়ে গেছে তখন তোকে ছাদে নিয়ে যেএ ঘাড় ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলবো তখন দেখবি কেমন লাগে,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে নিলো,, অতঃপর ভদ্রতা বজায় রেখে বললো
_ দেখুন,,,আপনার___
_ দেখাও,,দেখতে চাই,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,,চোখ বড় বড় করে বললো
_ কি,,কি দেখবেন,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ তুমি যা দেখাবে,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ আ,,আমি আবার কি দেখাবো,,,
আরহাম এগিয়ে এসে নুবার বেশ নিকটে দাঁড়িয়ে বললো
_ আপনিই তো একটু আগে বললেন “দেখুন” তো দেখান ,,আমি ধৈর্য ধরতে পারিনা,,,যা দেখাবেন তাতেই আমি সন্তুষ্ট,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,, আরহাম অন্য লাইনে যাচ্ছে তা তার বোঝা হয়ে গেলো,,,নুবা এক কদম পিছিয়ে যেএ বিরবির করে বললো
_ আমি আপনার ছোটো বোনের মতো,,, আপনি আমার সাথে এরকম তুরোকারি,,তার উপর এরকম কথা বার্তা বলতে পারেন না,,,
আরহাম আবারো এগিয়ে যেএ নুবার দিকে ঝুঁকে বললো
_ কি রকম কথা বার্তা বল্লাম,,আপনি তো বেশ পাকা,, mind এ সবসময় উল্টা পাল্টা জিনিস ঘুরে তাই না,,,
নুবা দুই পাশে মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_না না,,একদমি না,,,ওই আরকি,,আমি তো বললাম,,,
আরহাম আর একটু এগিয়ে এসে নুবাকে কাবার করে নিলো,,পিছনে পিছানা নুবা আর পিছনেও সরতে পারছে না,, আরহাম নুবার দুই পাশ দিয়ে বিছানায় হাত রেখে বললো
_ কোন দিক দিয়ে আমার বোন মনে হয় তোমাকে,,না উচ্চায় মিলে,,না গায়ের রংএ না অন্য কিছুতে,,,
নুবা সরতে যেএ বিছানর উপর বসে পড়লো,,,চোখ বড়বড় করে বললো
_ এগুলো কিরকম আচরন,,আমি কিন্তু আপনার এই অভদ্র আচরণ নিয়ে নালিশ করবো,,,
আরহাম নুবার কথা শুনে আরো এগিয়ে আসলো,,নুবা হতভম্ব,,চোখ যেনো এখনি কাঠগড়া থেকে বেড় হয়ে আসবে,,, আরহাম ফিসফিস করে বলে উঠলো,,,
_ দুপুর বেলা কার সাথে চেটিং করছিলেন যে মুখ থেকে হাসি সরছিলোই না,,,
নুবা আরহামের দিকে এক পলক তাকিয়ে আবারো মাথা নিচু করে নিয়ে ভাবতে লাগলো কি বলছে এই লোক,,
_ কি হলো বলুন,,, তাড়াতাড়ি,,,
নুবার মুখের রং উড়ে গেলো এই লোক কি বলছে,,,আজব তো,,, অতঃপর কিছু সময় ভাবার পর নুবার তৌসিফের কথা মনে পড়লো,,নুবা ফট করে মুখ তুলে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_তা,,তাতে আপনার কি,,,,
আরহাম নুবার কান ঘেঁষে কাছে এগিয়ে আসলো,,নুবার নিঃশ্বাস আটকে গেলো,,, আরহামের নাক আর খোঁচা খোঁচা দাড়ি নুবার গাল স্পর্শ করে কান পর্যন্ত গেলো,,,
নুবার স্তব হয়ে গেলো,,বুঝে উঠতে পারলো না কি করবে,, আরহাম ফিসফিস করে বললো
_ আমি যদি আপনার চাচার কাছে নালিশ করি যে পড়া লেখা রেখে কোন ছেলের সাথে আপনাদের আদরের নুবা চেটিং করছিলো,,তখন কেমন হবে,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না বললো,, কারণ তৌসিফের সাথে তার অনেকটাই দুষ্টি কথা হয়েছে,,যা দেখলে যেকেউ মনে করবে তারা রিলেশনশিপে আছে,,আসলে এমন কিছুই না,, দুই ইতর এক সাথে হয়ে just জাওরামি করেছে,,,তবে সবাই তো আর বুঝবে না,,কম মেসেজ হলেও এটা ভাববে আগের মেসেজ ডিলেট করে দেওয়া হয়েছে,, অনেক কিছু ভেবে নুবা বেশ ভয় পেলো,,,
এদিকে আরহামের যেনো অদ্ভুত লাগছে সে হঠাৎ করেই নুবার কমড় জরিয়ে ধরলো,, অনাকাঙ্ক্ষিত কারন তাকে নুবার কাছে টানলো,,, নিজের নিয়ন্ত্রন হারালো সে,,,,নুবার কানের পিঠে ঠোঁট ছুয়ালো,,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,,,পুরো শরীর ঝিমঝিম করে উঠলো তার,,, আরহাম নুবার গলায় ঠোঁট স্লাইড করলো,,,তাকে টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো,,,,পরপর আরহাম নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেললো,,,যেটা সে কখনোই করতে চায়নি,,,যা তার নিজেরো ধারানর বাইরে ছিলো,,, আরহাম নুবার গলায় ওধর দাঁড়া শক্ত ভাবে চুমু বসালো,,
আরহামের বাম হাত নুবাকে আরো আস্টে- পিস্টে ধরলো,,,নুবার বক্ষ স্থল যেএ আরহামের শক্ত পেশিবহুল বুকে ঠেকলো,,, আরহাম নুবাকে আর কাছে টানার জন্য উতলা হয়ে পড়লো,, অবাধ্য ঠোট দুটো গলা ছেড়ে অধরের দিকে এগিয়ে আসলো,,,,,,নুবা যখন অনুভব করলো সবকিছু বে লাইনে যাচ্ছে,,তখন তার টনক নড়লো,,,,এতো সময় সে কিছুই অনুভব করতে পারছিলো না যেনো অনুভূতি শূন্য,,আরহামের ভারি নিঃশ্বাস তার গলায় পড়তেই তার অস্তিত্ব নড়ে উঠলো
নুবা দুই হাত দিয়ে নিজের শরীরের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে আরহামকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে দিলো,,,,ঘৃনায় তার চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো,,,চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো তার,,, আরহাম ইতি মধ্যেই অনুভব করলো সে অতিরিক্ত করে ফেলেছে,,,,
নুবার দিকে তাকাতেই তার চোখে স্পস্ট ঘৃনা দেখতে পেলো আরহাম,,, অতঃপর সে explain করার জন্য এগিয়ে আসতে চাইলো,,
_ don’t mind নুবু,,, actually,,,,
নুবা হাতের ইশায় আরহামকে থামিয়ে দিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিলো,,,হুহু করে কেঁদে উঠে বললো
_ আ,, আপনি আমার কাছে আসবেন না,, আপনি,, আপনারা সবাই খারাপ,,,সব এক বংশের চরিত্রহীন,,,সুযোগ নিতে চাইছেন,,ছি আমি তো আপনাকে বড় ভাই এর মতো ভাবি,, আপনাদের মতো পুরুষরা শুরু কাপুরুষের মতো অসহায় মেয়ের শরীরে কলঙ্কই লাগাতে পারে,,কখনোই কলঙ্কমুক্ত করতে পারে না,,যদি শরির চাই এদের,, লজ্জাও করে না,,এরা পারলে মা বোনকেও ছাড় দিবে না,,,
নুবা নিজে কথাটা বলেই নিজেই হতবাক হয়ে গেলো,,আরহাম রেগে হুংকার ছেড়ে বললো
_ নুবা,,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ চিৎকার করবেন না,,, বাড়ির সবাই জানলে আমারি সম্মান যাবে আপনার আর কি,,, আপনি তো ছি,, কাপুরুষ কোথাকার,,,,যে পুরুষ মেয়েদের দেখে নিজের পুরুষস্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না সে আবার কিসের পুরুষ,,, শুধু পারে শরীরের জোর দেখাতে,,,
আরহাম মারার জন্য তেরে আসলো,,নুবা ভয়ে চোখ মুখ খিচে নিজেকে গুটিয়ে নিলো ,মুখ দিয়ে বুক ফাটা কান্নার শব্দ ভেসে আসলো,,,আরহামের হাত থেমে গেলো,,,কেন জানি আরহাম নুবাকে কান্না করতে দেখে অস্থির হয়ে পড়লো,,,এই বাড়িরে প্রবেশ করার পর থেকে,,আর সেদিনের নুবাকে মারার পর থেকে আরহামের কি যেনো হয়ে গেছে,,সে যেটা না চাইছে তাই হচ্ছে,,নুবার ভিতরে এমন কিছুই নেই আকর্ষন করার মতো তবু আরহাম নুবার প্রতি কেমন অদ্ভুত ফিল করছে,,আজ আসলেই সে আবেগে পড়ে বেশি কিছু করে ফেলেছে,,যেটা সে কখনোই চায়নি,,,
আরহাম নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করে শুকনো ঢোক গিলে এগিয়ে এসে নুবার হাত ধারার চেষ্টা করে বললো,,
_ নুবু,, please don’t cry,,, i explain,,,আমি হঠাৎ করেই ____
নুবা কথা শেষ হওয়ায় আগেই ধাক্কা দিয়ে আরহামকে সরিয়ে দিলো আর কান্নারত কন্ঠে বললো
_এতো দিন সব লিমিটের ভিতরে ছিলো,, সেদিনের বাগানের ওই ঘটনার পড়েও আমি সব কিছু স্বাভাবিক নিয়েছি ,,তবে কেন আপনি একরকম করেছেন,,, সমস্যা কি আপনার,,,, লুচ্চামির একটা সিমা থাকা দরকার,,,মেয়ে দেখলে মাথা ঠিক থাকে না তাই না চরিত্রহীন কোথাকার,,,ছি,,,,এই দিন দেখার জন্য আমি আয়ারকে আগলে নিয়েছিলাম,,,যে আপনার মেয়েকে বাঁচালো তারি সর্বনাশ করবেন,,, স্বার্থপর,,,
পরপর থেমে আবারো বলে উঠলো
_ ছুলেন যে আমাকে অপবিত্র করে দিলেন,,, পারবেন পবিত্র করতে,, আপনারা পারেন শুধু অবৈধ ভাবে আমাদের মতো মেয়েদের অপবিত্র করতে,, পবিত্র করার মতো পুরুষ আপানারা না,,,
এই কথা গুলো নুবা আরফের মতো মানুষদের প্রতারণার স্বীকার হয়ে একজনের রাগ আর একজনের উপর ঝাড়লো,, অবশ্য ঠিকি আছে পবিত্র ভাবে স্পর্শ কররা মুরদ নেই আছে শুধু অবৈধ ভাবে ভোগ করার,,,,
নুবা কিছু সময় চুপ থেকে ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_১২ ঘাটের পানি খেতে ভালোই লাগে,,বেশি জ্বালা থাকলে ৫০০ টাকায় কত মানুষ দেহ বিক্রি করে সেখানে যান,, আমাকেই কেন চোখে পড়ে আপনাদের,, মানুষ মনে হয় না নাকি,, মানুষ হয়ে অমানুষের মতো কর্ম,,,,
নুবা ধিক্কার জানালো আরাহামকে,,, বরাবরই আরাফের ওই ব্যবহারের পর থেকে সবার উপর থেকে নুবার মন উঠে গেছে আর আরাহমের এরকম আচরন দেখে নুবা আঁচ করতে পারলো কেউ ভালো না,,সব পুরুষ চরিত্রহীন ,,,,না তাদের ভিতরে কোনো সম্পর্ক আছে,,না তারা দুজন দুজনকে ভালো মতো চিনে তবে কেন আরাহাম এমন একটা কাজ করবে,,,
আরহাম চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,কপালে হাত দিয়ে ভাবলো কি করলো এটা সে,,,
নুবা এবার বেশ রেগেই বললো
_আপনার মেয়েকে দেখার দায়িত্ব আমার না,,না আপনার এরকম আচরণ বহন কররা দায়িত্ব আমি নিয়েছি,,যে আপান লুচ্চামি সহ্য করবো,,,, আয়ারকে শুধু ফিড করানোর দায়িত্ব আমার,,,,,আপনি আমার কাছে আসবেন না,,আর কক্ষনো না,,দূরে থাকবেন আমার থেকে না হলে আমি সবাইকে সবকিছু বলতে বাধ্য হবো,,,
নুবার কথা শেষ হলো,,, আরহামের রাগে মাথার রগ ফলে উঠলো,,ফাতে থাকা ঘড়ি ফ্লোরে শব্দ করে ছুঁড়ে গটগট করে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,নুবা ফুঁপিয়ে উঠলো,,,সবাই খারাপ এই সমাজের কেউ ভালো না,,
হারুন মির্জা কাদের থেকে বাঁচাতে নুবাকে এই বাড়িতে এনেছে যখন বাড়িতে দুটো জলোজন্ত অসভ্য,,, চরিত্রহীন মানুষ ঘুরছে,,,
এদিকে হাজের কাজ শেষ করে হাজেরা রুমে এসে দেখলো নুবা মাথা নিচু করে বসে কান্না করছে,,হাজেরার বুক ছ্যাত করে উঠলো,,,ছুটে যেএ বিচলিত হয়ে বললো
_ কি কি হয়েছে,,,
নুবা জাপটে তার মাকে জরিয়ে ধরে কেঁদে উঠলো,,,,হাজেরা অবাক হয়ে গেলো,,মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
_কি হয়েছে কান্না করছিস কেন,,,
নুবার বলতে ইচ্ছা করলো
(মা please আমাকে এখান থেকে দূরে কোথাও পাঠিয়ে দেও,, হোস্টেলে পাঠিয়ে দেও,,না হলে আমাকে বিয়ে দিয়ে দেও মা,,,আমি নিজেকে নিজেই সেভ রাখতে পারছি না,,,)
তবে এমন কিছু বললো না সে,,মায়ের বুকে মাথা গুঁজে কান্ত কন্ঠে বললো
_ জ্বর আসবে মনে হয়,,মাথা অনেক ধরেছে,,, ব্যথা করছে,,একটু মাথা টিপে দেও,,
হাজেরা একটু অবাক হলেন,,এই মাত্র সব তো ঠিক ছিলো,, আবার কি হলো
আরহাম ঠান্ডা পানি দিয়ে শাওয়ার নিচ্ছে,,,ভিতরে কেমন টকবক করে আগুন জ্বলছে তার,,তার পুরুষস্ত এতোটাও ঠুকনো না যে সে কোনো মেয়ের প্রতি এতোটা দূর্বল হয়ে পড়ছে,,, তবে আজ ব্যতিক্রম হলো আরাহামের ইচ্ছা হচ্ছিলো নুবাকে নিজের সাথে গেঁথে নিতে,,সে যেনো কিছু মূহুর্তে জন্য নিজের ভিতরেই ছিলো না,,
এই অল্প সময়ের ভুল নিয়ে সে খুবি চিন্তিত,,, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আছে তার কাছে তবে নুবার সামনে ফিকে পরে গেলো,,,
আরহাম এই সব ভেবেই দেওয়ালে পাঞ্চ করলো,,দুই হাত দিয়ে ঠেলে ভিজা চুল গুলো পিছনে নিয়ে শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ why,,,
ঠান্ডা পানির ভিতরে থেকেও নুবার বলা কথা গুলো আরহামের শরীরে আগুন জ্বালিয়ে দিলো,,,
“সুযোগ নিতে চাইছে সে”
“আপনাদের মতো পুরুষরা শুরু কাপুরুষের মতো অসহায় মেয়ের শরীরে কলঙ্কই লাগাতে পারে,,কখনোই কলঙ্কমুক্ত করতে পারে না,, শুধু শরির চাই এদের,,”
“ছুলেন যে আমাকে অপবিত্র করে দিলেন,,, পারবেন পবিত্র করতে,, আপনারা পারেন শুধু অবৈধ ভাবে আমাদের মতো মেয়েদের অপবিত্র করতে,, পবিত্র করার মতো পুরুষ আপানারা না,,,”
কথা গুলো কানে বাজতে লাগলো আরহামের,,,আসলেই আসলেই সে অনেক বড় ভুল করেছে,,মেয়েটার সাথে একটার পর একটা ভুল করছে,,, আরহাম বড় একটা নিঃশ্বাস ফেললো,,,আরহামের মাথায়,,”পবিত্র”অপবিত্র “কলঙ্ক”অবৈধ “শব্দ গুলো ঘুরপাক খেলো,,,, অনেকটা গভীর ভাবে ছুঁয়ে ফেলেছে নুবাকে,,, অপবিত্র করে ফেলেছে তাকে,,,ভিতরটা কেঁপে উঠলো তার,,, কেমন কেমন অনুভূতি হলো,,,বুকটা ফাঁকা ফাঁকা লাগলো,,,এই অপবিত্র কে কি পবিত্র কথা যাবে,, অবৈধ কে কি বৈধ করা যাবে,?? এই প্রশ্ন গুলো তার মাথায় ঘুরপাক খেলো,,,
তাখন অনেকটা রাত,, হারুনন মির্জার বুকে অবস্থান করছে আমিনা বেগম,,, স্বামীর সাথে খোশগল্প করছেন তিনি,,,
গল্প করতে করতে হঠাৎ কলে উঠলেন,,
_পরি কে চিনেন আনপি,,,ওই যে ___
_ হ্যাঁ চিনি বাবা,,ভারী সুন্দর মেয়ে,,,
আমিনা বেগম এক গাল হেসে বললেন
_ এমন একটা মেয়ে আমার ছেলের বউ হলে মন্দ হয়,,
হারুন মির্জা মৃদু হেসে বললেন
_ মন্দ হয় না তবে তোমার ছেলে কয়টা,,৩ টা নাকি,,তিন নাম্বার ছেলেটা কোথায় লুকিয়ে রেখেছো
আমিনা বেগম স্বামীর বুকে চিমটি কেটে বললেন
_ আরে না,,আরহামের কথা বলছিলাম যে,,ওর সাথে ভালো মানবে,,,
হারুন মির্জা কিছু সময় ভাবনা চিন্তা করে বললেন
_ হ্যাঁ,,তবে তোমার ছেলে কি রাজি হবে
_ সেটা আপনি আমার উটরে ছেড়ে দেন,,,
হারুন মির্জা স্ত্রীর মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন
_ এক দেখায় এতো তাড়াতাড়ি কিছু করা ঠিক না আমিনা,,বাড়িতে আসুক কথা বার্তা বলো,,, মাস খানিক যাক,,তার পর না হয় দেখবো,,,
_ মেয়েটা বড্ড মিষ্টি জানেন তো,,আগে জানলে আরাফের সাথে আমি পরিকেই আনতাম,,
স্ত্রীর কথায় হারুন গম্ভীর কন্ঠে বললেন
_ ভুলেও ইশিতার সামনে এই সব বলবে না,,ও কষ্ট পাবে
_ আরে ধূর,,আমি পাগল নাকি,,আমি তো মজা করলাম,,, আমার বাড়ির সব মেয়েই মিষ্টি,,ইশিতা,,আরশি,, নুবা,,কেউ কারো থেকে কম নাকি,,,
_ সেটাই তো,,আর সৌন্দর্য ধুয়ে পানি খাবে যদি মন ভালো না হয়,,,তবু তুমি আসলে ভালো মান্দ জিগ্গেস করো,,নুবার পরিক্ষা শেষ হোক,,তার পর যদি তোমার ছেলে রাজি হয় তাহলে একটা চেষ্টা করা যায়,,মেয়েটাকে আমারো বড্ড ভালো লেগেছে,,,লক্ষী একটা মেয়ে,,,
সকাল বেলা বাড়িতে হৈচৈ পড়েছে,, হারুন মির্জা অনেক কষ্টের পর প্রজেক্ট টা পয়েছে,,এই টেন্ডার ভালো মতো সম্পূর্ণ করতে পারলে তাদের কম্পানি ২ নাম্বার থেকে ১ নাম্বারে চলে আসবে,, হারুন মির্জা ডিল ফাইনাল করতে পরে নিজে মিষ্টি এনেছেন,,
তিনি রাত থেকে চিন্তিত ছিলেন কাল সকালে কি না কি হয়,,তবে সকাল সকাল ফোন আসলো তারাই এই প্রজেক্ট টা পেয়েছে,,,
হারুন মির্জা বুঝতে পারছেন না যেই কাজটা একদম হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিলো সেটা তাদের কম্পানিই কি করে পেলো,,, অতঃপর অনুভব করলেন,, আরহাম হয়তোবা কিছু করেছে তাই,,তবে প্রকাশ করলেন না,,
আমিনা বেগম স্বামীর খুশি দেখে নিজেও বেশ আনন্দিত,,,সবার হাতে হাতে মিষ্টি পৌঁছে গেলো,, বাচ্চাদের মতো খুশিতে পাগল হচ্ছেন হারুন মির্জা,,,তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে,,কত মাসের স্বপ্ন ছিলো তার,,,
আরাফ সিরি দিয়ে নামতে নামচে খেয়াল করলো ইশিতা আর নুবা এক সাথে বসে আছে,, কেমন ভয় হলো তার,,আবার সবকিছু বলে না হয়,,,তবে সে জানে এমন কিছুই হবে,,এক পলক বসে থাকা নুবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে বললো
_ এই মেয়েকি দিনদিন সুন্দর হওয়ায় ওষুধ খাচ্ছে নাকি,,, উজ্জলতা বেড়েই চলেছে,,আজব,,
হারুন মির্জা আরফের হাতে মিষ্টি দিয়ে বললো
_ খেএ নে বাপ আমার,,, টেন্ডারটা আমার পেয়ে গেছি
বাবার কথায় ও বেশ অবাক হলো,, মিষ্টি মুখে বলে এক গাল হেসে বললো
_ finally,,, 😃
নুবারো একটা মিষ্টি মুখে পুড়ে দেওয়া হলো,, এমন একটা মূহুর্তে আরহাম ঘুম ঘুম চোখে মেয়েকে নিয়ে নিচে নামলো,,কাল ওই যে রুমে ডুকেছিলো আর বেড় হয়নি,,,
নুবা আরহামকে আসতে দেখে উঠে রুমে চলে গেলো,,কালকের পর থেকে আরাফের থেকে আরহামকে বেশি ভয় লাগে তার,,
আরহাম অনুমান করলো নুবা তাকে দেখেই উঠে চলে গেলো,,আরহামের ভিতরটা কেমন ফেটে গেলো,,সে বুঝলো না কেন,,,তার সাথে এমন কেনো হচ্ছে,,,আরহাম নুবার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো,,,
অতঃপর আরহাম আয়ারকে নিয়ে তার মায়ের কাছে এগিয়ে যেএ বললো
_ একটু ওকে দিয়ে আসো তো মা,, কান্না করছে,,
আমিনা বেগম ছেলের দিকে ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে বললেন
_ হাতে দেখছিস কি,,এই মাত্র মরিচ ব্লেন্ড করলাম,,, তুই একটু দিয়ে আয়,,সবাই ব্যস্ত,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৬
আরহাম শুকনো ঢোক গিললো,,, কেমন অনুভূতি হলো তার,,কালকে যা করেছে তার পরে মেয়েটার সামনে যেছ কি করে দাঁড়াবে,,অবশ্য সে এরকম না,,একটা মুখ কাটা নির্লজ্জ তবে আজ বিব্রত হচ্ছে তার,,,
আরহাম তাও দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আয়ারকে নিয়ে নুবাদের রুমের দিকে এগিয়ে গেলো,,,
নুবা যেএ পড়ার টেবিলে বসে ছিলো,,রুমে কাউকে ডুকতে দেখে পিছন ফিরে মানুষটার মুখ দেখতেই নুবার শরীর জ্বলে উঠলো,,,নুবা মুখ খুলে কিছু বলার আগেই আরহাম কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_ Don’t __
