নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭২
সুরাইয়া জিয়াসমিন
বলেই নুবা পিছনে ঘুরলো,,,তবে বরাবরই সে আরহামের থেকে সর্ট তাই আরহামের দুই পায়ের উপর পা রেখে তার গলা জড়িয়ে ধরে এক পলক ঘাড় ঘুরিয়ে পরির দিকে তাকালো,, পরপর আরহামের পায়ে পাতার উপর নিজের পায়ের আঙ্গুলের সাহায্যে ভর দিয়ে দাঁড়ালো,,, এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের উপর ঠোঁট আলতো করে চেপে ধরলো,,তবে বোকা নুবা বুজতে পারলো না কি করতে হবে তাই ওভাবেই ঠোঁটের উপর ঠোঁট ছুঁইয়ে দাঁড়িয়ে রইলো,,,
আরহাম বুঝতে পারলো তার মিনি হাতি এর থেকে বেশি কিছু করতে পারবে না ,,,তাই নিজেই তার কোমড় আস্তে করে চেপে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো,পরপর নুবার লোয়ার লিপ নিজের মুখে পুরে নিলো,,,নুবা চোখ মুখ খিচে আরো শক্ত করে আরহামের গলা জড়িয়ে ধরলো,,,,
পরি এরকম একটা অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে গেলো,, নিঃশ্বাস আটকে আসলো তার,, বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে এই সব,,
নুবা এবার সরে যেতে চাইলো তবে ব্রিটিশ আরহাম ছাড়তে চাইলো না,,,নুবা ছটফট করে উঠলো,,,পরপর আরহামের ওধরে কামড় বসিয়ে দিলো,, আরহাম বুঝতে পারলো তার মিনি হাতি ছাড়তে বলছে,,, আরহাম ছেঁড়ে দিলো তাকে,,তার থেকে ছাড়া পেয়ে নুবা বুকে হাত দিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেললো,,পরপর একটু শাঁস নিয়ে পরির দিকে তাকালো,,
পরি যেনো কথা বলতে ভুলে গেছে,,,নুবা একটু ভাব নিয়ে এগিয়ে আসলো,,, অতঃপর পরির হাত থেকে আয়ারকে কেড়ে নিয়ে বললো
_ আয়রা আমার,, আমার মেয়ে,,,Get out of the room.,,,হাআ,,,,
পরির ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠলো,,ছলছল চোখে নুবা আর আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো,,,
_ তোমরা,,,তোমরা আমাকে এভাবে ঠকালে,,, আমি,,আমি সবাইকে সব কিছু বলে দিবো,,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ ওকে,,যেএ বলে দেও সবাইকে,,i don’t care.,,,
পরি ছুটে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো ,, কিছু মূহূর্তের জন্য পরির মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিলো,,এই সব জানার আগে তার মরন হলে মনে হয় ভালো হতো,, কারণ মরন তো তার নিশ্চিত,,পরি মানতেই পারছে না এই বিয়েটা হবে না,,,
পরি যেতে নুবা আরহামের দিকে তাকালো,,তবে আরহাম একটু বেশিই গভীর ভাবে যেনো তাকিয়ে আছে,,,নুবা মুখ কালো করে বললো,,
_ ও এই রুমে কি করছিলো,,আর,,আর আয়ারকে কেন ওর কাছে দিলেন,,,হুম,,,
আরহাম এগিয়ে এসে নুবাকে টেনে নিজের সাথে লেপটে নিলো,,নুবা স্থির রইলো,, আরহাম নুবার মাথায় থুতনি ঠেকিয়ে বিরবির করে বললো
_ পরিকে এখানে আসার জন্য ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছা হচ্ছে,,,ও না আসলে হয়তোবা সকাল সকাল এতো সুন্দর মিষ্টিটা মিস্ করে যেতাম,,,
আরহমের কথা শুনে নুবা অনেকটা লজ্জা পেয়ে গেলো,,,ঠোঁট চেপে মিটমিট করে হাসলো সে,,,
নুবা বিরবির করে সুধালো
_ আয়রা,,আয়রাকে উনার কাছে দিবেন না,,,
_ আচ্ছা মেরি জা,,
অতঃপর নুবা আয়ারকে নিয়ে বসলো আর আরহাম চেয়ে রইলো মা মেয়ের দিকে,,,
পরি দুই হাত মাথায় চেপে বসে আছে,,তার শরীর কাঁপছে,, শুধু এটা ভেবে যে তাঁকে আবার কোনো অমানুষের হাতে পড়তে তা না হয় ,,সে কি সবাইকে যেএ এই বিষয়ে বলবে,, কিন্তু লাভ কি হবে,, কারণ আমিনা তো আগেই বলে দিয়েছে তার ছেলে চাইলেই বিয়েটা হবে,,তালহে কি করবে সে,, এখনো সময় আছে চেষ্টা করবে,,,তবে মন ভাংবে,,ভাংগুক তাতে তেমন কি,,সে তো বাঁচতে চায়,,,তবে হয়তোবা পরির ধারনাও নেই আরহাম ঠিক কেমন,,, যেদিন কেলানি খাবে সেদিন বুঝবে,,,
সকালের নাস্তার টেবিলে সবাই বসে আছে,,,নুবা এক পাশে বসা,,,আরহাম টেবিলের দিকেই আসছে,,,নুবা এক পলক আরহামের দিকে তাকালো,, আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,আয়ারকে নিয়ে এসে ঠিক নুবার পাশে বসলো,,,নুবা মনে মনে বেশ খুশি হলো,,
পরপর বরাবরের মতো পরি এসে আরহামের সামনে প্লেট রাখলো,,,পরির মুখে ভাব ভঙ্গি নেই,, কেমন মলিন দেখাচ্ছে,, ফর্সা মুখটা লাল বর্ন ধারন করে ফুলে আছে যেনো কান্না করেছে সে,,
পরির দিকে তাকিয়ে নুবার একটু মায়া লাগলো তবে তার পরের পদক্ষেপে নুবার মুখে শক্ত আবরণ ভেসে উঠলো,,,
পরি নুবার দিকে তাকিয়েই আরহামের প্লেটে খাবার তুলে দিলো,,,নুবা চোখের পলক ফেলে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,, এদিকে আরহাম মেয়েকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আর খেলায় করেনি কে খাবার সার্ভ করেছে,,,তাই সে নিজের মতো খাবার মুখে তুলতে নিলো,,,
তখনি নুবা নিজের ডান হাত দিয়ে আরহামের পা খামচে ধরলো,,, হঠাৎ করে এরকম বিড়ালের মতো পাঞ্জা মারায় আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে ভুরু নাচিয়ে জিগ্গেস করলো “কি”
নুবা মাথা নিচু করে এক পলক খাবারের দিকে তাকিয়ে ঠিক তার মায়ের মতো চোখ গড়ম দিয়ে আরহামকে কিছু একটা বুঝালো,,, আরহাম চেয়ে রইলো,,,পরপর বুঝতে পেরে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে হাতে তুলা খাবার প্লেটে রেখে তা সরিয়ে রাখলো,,,,
আমিনা বেগম খেয়াল করলো সবি পরপর সে একটু হাসলো,,কেউ যাতে খেলায় না করে তাই নিজে উঠে খাবার সার্ভ করতে লাগলো,,,
আরহাম খাবারের প্লেট সরিয়ে রাখলো পরপর আর একটা প্লেট নিলো নুবা এবার নিজে উঠে খাবার তুলে দিলো,,, এদিকে পরি চেয়ারে বসে শক্ত চোখে নুবার দিকে তাকালো,,সেও আরহামের পাশে বসেছে,, এদিকে নুবা এক হাত দিয়ে আরহামকে ধরে রেখছে যাতে সে পরির দিকে সরে না যেতে পারে,,
নুবার এরকম হিংসুটে স্বাভাব দেখে আরহাম খেতে খেতে মিটমিট করে হাসলো,,, খাওয়া অর্ধেক পথে আসলে পরি এগিয়ে এসে খাবার তুলে দিতে চাইলো,,, আরহাম প্লেট সরিয়ে নিয়ে বললো
_ লাগবে না,,,
নুবা আরহামের কথায় সন্তুষ্ট হলো,,, এদিকে পরি শুধু অসহায়ের মতো বারবার আমিনা বেগমের দিকে তাকাচ্ছে,,সে কি করবে বুঝতে পারছে না,,,
খাওয়া শেষে যে যার মতো উঠে গেলো,,,তবে বসে রইলো আরহাম আর নুবা,,,পরি উঠে রাগে দুঃখে ডাইনিং টেবিল থেকে সব সরাতে লাগলো,,,
এর ভিতরে হাজেরা ডেকে উঠলো
_ কিরে,,হলো নাকি তোর খাওয়া,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ হচ্ছে, শুধু ডাকাডাকি,,,
নুবা খাওয়া শেষ করে উঠে যেতে লাগলো তখনি আরহাম নুবার হাত ধরে ফেললো,,,নুবা টিপটিপ করে আরহামের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো
_ আপনিইআআ,,কেউ দেখবে,, ছাড়ুন,,,
আরহাম সামনে রাখা গড়ুর কালো ভুনা থেকে এক টুকরো তুজো মাংস উঠিয়ে মুখে দিয়ে সব ঝাল,,ঝোল চেটে পুছে খেএ নিলো,,,পরপর নুবার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো
_ এটা খান তো ম্যাডাম,,,
নুবা আরহামের কান্ড দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো,,,এর ভিতরে পরি এসে বাকি খাবার গুলো নিতে নিতে আরহাম আর নুবার দিকে তাকালো,,,বুকটা চিনচিন করে উঠলো তার,, কিছু বলতেও পারলো না সে তাই চুপচাপ খাবার নিয়ে চলে গেলো,,,
আরহাম নুবার পাংশুটে মুখের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কি হলো,,,
নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো
_ ছি,,,,
আরহাম আয়রাকে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে ভুরু কুঁচকে বললো
_ আমি নিজেই আস্ত একটা এটো মানুষ,,তার উপর আপনি দুটো চুমু অলরেডি খেএ ফেলেছেন,,এটা আর কি এমন বড় ব্যপার যে ছি বলতে হবে,, চুমু খাওয়া সময় ছি বলেননি আর এখন,,, not fair,,ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে চুমু খাওয়ার সময় নিশ্চয় থুথু,,,,,,,
নুবা নাক মুখ কুঁচকে আরহামকে থামিয়ে দিয়ে বললো
_ অসভ্য,,,(বলেই আরহামের দুই আঙ্গুলে মাঝে আটকে থাকা মাংসের টুকরো মুখে পুরে নিলো,,সাথে নুবা আরহামের শক্তপোক্ত আঙ্গুল দুটো ছাফ করে দিলো,,, মাংস চিবাতে চিবাতে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো)
_ হুম ভালোই,,,
বলেই তাড়াতাড়ি পিছন ঘুরে রান্না ঘড়ের দিকে চলে গেলো,,গা গুলিয়ে আসলো তার,,নাক মুখ কুঁচকে আসলো,,,আর চিবাতে পারলো না নুবা,,,বমি চলে আসলো,,,চুমু খাওয়ার ব্যাপার আলাদা ভাই তাই বলে কারো চাটা পুছা জিনিস খাবে,,,একটু তো খিত খিত লাগবেই,,,ওটার ফিলিং আলাদা এটার আলাদা দুটোকে কখনোই এক সাথে মিলানো যায় না,,,
নুবা তাড়াতাড়ি রান্না ঘড়ে বেসিনের সামনে যেএ মুখের খাবার টুকু ফেলতে নিলো তবে তার আগেই পিছন থেকে আরহাম বলে উঠলো,,,
_নুবাআআ,,,
নুবা কাঁদো কাঁদো ফেস করে চোখটা বন্ধ করে নিলো,,,পিছন পিছন চলে আসছে,,কি জ্বালা এটা,,,নুবা তাও মুখের খাবার টুকু বেসিনে ফেলে কুলি করে আরহামের দিকে ফিরে তাকালো,,,
আরহাম নুবার মুখের জোর পূর্বক হাসি দেখেই টের পেয়েছি এই মেয়ে ভিতরে ভিতরে ঘৃনায় রিরি করে উঠছে,,তাও মন রাখার জন্য এটা করলো,,,
আরহাম কেমন রাগি রাগি চোখে নুবার দিকে তাকালো,,,নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ দেখুন ভক্তিতে না নিলে পেট খারাপ হবে please বোঝার চেষ্টা করুন,,,
আরহাম আর কিছু বললো না,,, এগিয়ে যেএ বেসিনে হাত ধুয়ে নিলো,,,নুবা বিরবির করে জিগ্গেস করলো
_ রাগ করলেন,,,
আরহাম আয়রাকে এক হাতে শক্ত করে ধরে অন্য হাত পাশে রাখা তাওয়ালে মুছে বললো
_ তুমি তো সামান্য আমার এটো টুকু খেতে পারো না তবে আমার মতো মানুষের সাথে থাকবে কি করে,,,কখন আবার দেখা দেখো আমাকেই এভাবে নাক ছিটকে দূরে সরিয়ে দিবে,,,
নুবা বিচলিত কন্ঠে বললো
_ দুটো ব্যপারি আলাদা,,আপনি শুধু শুধু,,,,,
_ আমার কাছে এই সামান্য ব্যাপার টুকুও অনেক মাইনে রাখে নুবা,, তুমি বুঝবে না,,
বলেই আরহাম মেয়েকে নিয়ে চলে গেলো,,,নুবা চোখ বন্ধ করে দুটো নিঃশ্বাস ফেললো,,পরপর ফ্রিজ থেকে পানি বেড় করে খেতে লাগলো,,,পিছন থেকে হাজেরা এসে বললো
_ রেজাল্ট করে দিবে রে,,
নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
_ সামনের মাসে,,,
_ ও,,
পরপর নুবা কিছু একটা ভেবে ভুরু কুঁচকে বললো
_ হঠাৎ জিগ্গেস করলে যে,,
_না এমনি জানতে ইচ্ছা করলো,,,
হাজেরা রান্না ঘড়ের টুকটাক কাজ সেরে চলে গেলো,,,নুবা একা দাঁড়িয়ে রইলো ওখানে,,,আর ভাবতে লাগলো,,
“আজব ব্যাপার সামান্য এটো খাবার না খাওয়ায় রাগ দেখিয়ে চলে গেলো,, কেমন মানুষ রে বাবা,,আজ পর্যন্ত দেখিনি”
নুবা এই সব ভাবতে ভাবতে রান্না ঘড় থেকে বেড় হলো,,,তখনি পরি এসে নুবার সামনে দাঁড়িয়ে শান্ত কন্ঠে বললো
_ এটা কি খুব জরুরী ছিলো নুবা,,কেনো এমন করলে,,দুনিয়ায় ছেলের অভাব পড়েছিলো,,
নুবা ভুরু কুঁচকে পরির দিকে তাকিয়ে মুখ বাঁকিয়ে বললো
_ এই প্রশ্ন টা আমিও ঘুরিয়ে আপনাকে করতে পারি,, আমার উনার পিছনেই কেন পড়লেন,,
পরি ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_আমি পড়েছি নাকি তুমি,,, তুমি জানতে না এই মাসের শেষ দিকে আমাদের বিয়ে,,,
নুবা ঘ্যাড়ত্যারামো করে বললো
_ না জানতাম না,,,আর তার থেকেও বড় কথা আপনি উনার জীবনে আসার আগে এই নুবা এসেছে,, নিজে একটু বেশি সুন্দর দেখে ভাববেন না আপনি উনাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবেন,,,
পরি কেমন করে নুবার দিকে তাকিয়ে হাত মুঠো বদ্ধ করে ছলছল চোখে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আমি উনাকে কেড়েই নিবো,, তুমি শুধু দেখতে থাকো,,, যেহেতু এতো কিছু তবে আগে কেনো বলোনি,, আমাকে কেন ঠকালে,,এর শাস্তি আমি তোমাকে দিবো,,,
বলেই পরি গটগট করে চলে গেলো,,নুবা চোখ বড় বড় করে তাকালো,, কেড়ে নিবে মানে,,কত বড় সাহস কেড়ে নেওয়ার কথা বলে,,
নুবার এবার অনেক চিন্তা হলো,,পরি সুন্দর,,সব দিক দিয়ে পারফেক্ট শেষ সময়ে এসে যদি আরহাম তাকে ঠকিয়ে দেয়,,,পরিকে বিয়ে করে তবে,,,তবে কি হবে??নুবা হালকা শুকনো ঢোক গিলে মনে মনে ভাবলো
_ এই লোককে আমার হাত করে রাখতে হবে,,,আমি আবারো একি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চাই না,,উনি আমার মানে আমার,,এবার আমি কেড়ে রেখে দিবো,,, কাউকে চোখ তুলে তাকাতে দিবো না,,,,
নুবা রান্না ঘরে দৌড় গেলো,,,একটি বাটিতে করে ২ /৩ টুকরো তুজো মাংস তুলে নিয়ে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে আরহামের রুমের দিকে চলে গেলো,, বিশেষ করে হাজেরার চোখ ফাঁকি দিয়ে,,,
নুবা রুমের সামনে যেএ নক করার প্রয়োজন বোধ করলো না,, মাত্র সব শুরু হলো এখন তো মনে হচ্ছে এই ডাইনি পরির জন্য শুরু হতে না হতে শেষ হয়ে যাবে,,,আর এটা নুবা হতেই দিবে না,,, আরহাম আরাফেল মতো না যে প্রেম করে ছেড়ে দিচ্ছে,,সে ডিরেক্টর বিয়ে করতে চেয়েছে এই মানুষ টাকে হারিয়ে ফেললে নুবার থেকে কপাল পোড়া কেউ হবে না,,,
নুবা দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে দরজা লক করে দিলো,,, আস্তে আস্তে সামনে এগিয়ে দেখলো আয়ার বিছানায় শুয়ে আছে তবে এটাকে স্বাভাবিক শুয়া বলে না,,, পঁচা মেয়ে দুই হাত দিয়ে পা তুলে মুখে দেওয়া শুরু করেছে,,আগে হাত দিলো এখন পা মুখে দিচ্ছে,, আল্লাহই জানে এর অধঃপতন হচ্ছে নাকি উন্নতি ,,,
নুবা এগিয়ে যেএ পাশে বাটিটা রেখে আয়রার দিকে ঝুঁকে তাকালো,,,চিনা পরিচয় মুখ দেখে আয়রা খিলখিল করে হেসে উঠলো মুখ দিয়ে,,”আ উ,,মা,,” শব্দ অস্পষ্ট ভাবে উচ্চারণ করতে লাগলো,,,পরপর হাত পা নাড়িয়ে হাসলো সে,, ঠোঁট দুটো গোল করে চকচক শব্দ করলো যেনো সে কিছু খাচ্ছে,,,
নুবা আয়রার সরু ঠোঁটে চুমু খেএ বললো
_ আমাকে দেখলেই ক্ষুধা লেগে যায় পচু মেয়ে,,একটু আগেই খাওইয়েছি ঘন্টাও পেরৌইনি হুম,,এখন আবার কিসের খাওয়া দিন দিন মাম্মার মতো মিনি হাতি হয়ে যাচ্ছো,,,নিজের স্বাস্থ্য বজায় রাখো আয়রা,,,আর মটু হলে তার পর আমি তোমাকে তো কোলে নিতে পারবো না হুম,,বুঝতে হবে তো,,
বলেই আয়রার ফুলো গালে চুমু খেলো,, এমন সময় পিছন থেকে আরহাম বলে উঠলো
_ আমার মেয়েকে কিন্তু অপমান করছো তুমি,,,হাতি আবার কি,,নজর দিচ্ছো ওর উপর,,(কেমন রেগে রেগে কথা গুলো বললো সে)
নুবা পিছন ফিরে তাকালো,,,মুখ কালো করে বললো
_ আপনি যখন আমাকে বলেন,,
আরহামের কেমন রাগি কন্ঠে ধমকে বললো
_ তোমাকে বলি তাই বলে তুমি আমার ছোটো বাচ্চা টাকে বলবে,,,আর কক্ষনো যাতে এই সব ফালতু কথা না বলতে দেখি অন্ততপক্ষে আমার মেয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে,,,
নুবা আরামের ধমক শুনে কেমন কষ্ট পেলো,,,নাক কিছুটা ফুলে গেলো তার,, ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দে বললো,,,
_কি এমন বলে ফেলেছি আমি, যে এভাবে রিয়েক্ট করছেন,,,এক দিনেই মন ভরে গেছে নাকি,,,চুমু টুমু তো নেওয়া শেষ তাই না,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে তাকালো নুবার দিকে কোন কথা কোন জায়গায় টেনে নিয়ে যাচ্ছে,,, আগ্রহ বিরক্ত নিয়ে বললো
_ just shut up,,কেনো আসছো,,
নুবার ঠোঁট কেঁপে উঠলো,,, দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আসতে পারবো না নাকি,,এভাবে রুড বিহেব করছেন কেন,,,,
আরহাম কেমন রুক্ষ কন্ঠে বললো
_ কি রুড বিহেব করলাম,,,কি খারাপ ব্যবহার করলাম আমি,, কিছু কি বলতেও পারবো না নাকি,,,
নুবা শান্ত কন্ঠে বললো
_ ঝগড়া করার জন্য গলা চুলকাচ্ছে,,, হ্যাঁ,,
আরহাম কাঠ কাঠ কন্ঠে বললো
_ একদম ফালতু বকবক করবে না,,একটা বাচাল কোথাকার,,যাও রুম থেকে বেড় হও,,
এতো তাড়াতাড়ি এতো কাঠকাঠ কন্ঠ কেমন বিষের ন্যায় ঠেকলো নুবার কাছে,,,নিজ অজান্তেই চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,, ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠলো,,বিরবির করে বললো
_ নিশ্চয় হুর পরি এসেছিলো রুমে,,কান পড়া দিয়ে গেছে তাই না,,,
_ উফ্,,ফালতু তো তুমি,,,কি মহিলাদের মতো শুরু করলে,,এখন যাও তো মাথা গড়ম আছে,,,আর কথায় কথায় কাঁদবে না নুবা, বিরক্ত লাগে,,
নুবা দাঁতে দাঁত চেপে শরীরের ওরনা ঠিক করে বিছানা থেকে নামতে নামতে বললো
_ চলে যাচ্ছি আমি বলতে হবে না,,বাচলা,, ফালতু,,,কত কিছু হয়ে গেলাম,,এখন বিরক্ত তো লাগবেই এক দিনেই পেট ভরে গেছে,,,
নুবা বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ালো,,
আরহাম বিরবির করে বললো
_ ফালতু কথা কম বলবে,,, তোমার সাথে এমন মহোত কিছু করে ফেলিনি যে তুমি আজাইরা পেচাল পাড়ছো,,,
নুবা ফুঁপিয়ে উঠলো আর বললো
_ শয়তান কুত্তা,,,থাক তুই,,, তুই,,,,, তুই তো তুই,,,,(আর কিছু বললো না নুবা রাগে ধুপধাপ পা ফেলে এগিয়ে যেতে চাইলো,, আরহাম খপ করে নুবার হাত ধরে ফেললো,,,আর বললো)
_ কোথায় যাচ্ছো,,
_ হাত ছাড়ুন,,না হলে সেদিনের মতো মেইন পয়েন্টে আঘাত করবো তাও ইচ্ছা করে,,সেদিন তো অনিচ্ছায় ছিলো,,,
আরহাম চাপা নিঃশ্বাস ফেলে নুবাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো,,নুবা দুই হাতে আরহামের হাত খামচে ধরতে লাগলো,,,আর বললো
_আয়রার পাপা ভালো ভাবে বলছি ছাড়ুন,,,
“আয়রার পাপা “ডাকটা প্রচন্ড ভালো লাগলো আরহামের,,পরপর নুবার কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে বললো
_ এতো রাগ,, কিছু বলতে পারবো না নাকি,,,আর কান্না অফ করো,,, ছিঁচকে কান্দুনি,,,
_ ছাড়ুন,,,
_ কি ছাড়ুন ছাড়ুন ছাড়ুন,,, শুরু করেছো,,মাঝে মাঝে ধরুনো তো বলতে পালো,,সকালের মতো একটা sweet kiss দেও,,,ছেড়ে দিবো,,
নুবা দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ কক্ষনো না,,না না না,,,
আরহাম নুবাকে পিছন দিকে ঘুরিয়ে তার ছটফট করতে থাকা দেহটাকে নিজের সাথে চেপে ধরলো,,নুবার মাথাটা বুকের সাথে আঁকড়ে বললো
_ I was joking, why are you taking this so seriously?,,why,,,
নুবা তেতে উঠে বললো
_ মজা করছিলেন না আপনি,, ব্রিটিশের মতো রাগ দেখাচ্ছিলেন,, ঠিক আগের মতো কেকিয়ে কথা বলছিলেন,,,,আমি সব বুঝি,,
_ হ্যাঁ আপনি সব বুঝেন তাই আজ এই অবস্থা,,,
নুবা দূরে সরে যেতে চাইলো,,, আরহাম বিরক্ত নিয়ে বললো
_ একটু স্থির হয়ে দাঁড়াও তো,,আর তুমি যদি এই কড়া কথা গুলো এভাবে serious নিতে থাকো তবে সারাদিন তোমার রাগ ভাঙ্গাতেই আমার দিন চলে যাবে,,,
_ কে বলেছে রাগ ভাঙাতে,, ছাড়ুন তো বাল,,
আরহাম মুচকি হেসে ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে বললো
_ তোমাকে কাঁদতে ভালো লাগে আমার,, আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই,,সবাই হাসতে দেখলে সন্তুষ্ট হয়,, তবে তোমার কান্না দেখলে আমার ভালো লাগে, কান্না করলে এতো Attractive লাগে তোমাকে,,,trust me তর্ক না করে এসে খপ করে জরিয়ে ধরবে,, ভবিষ্যতের এটা আমাকে নিয়ন্ত্রণ করার টিপস্ হিসাবে জেনে রাখো,, বিশেষ করে আমাকে হাতের মুঠোয় রাখতে চাইলে তর্ক না করে ব্যাস দৌড়ে এসে বুকে ঝুলে পড়বে,,, শব্দ করা ঠোঁট দুটোকে নিজের অধর দিয়ে আলতো করে চেপে ধরবে দেখবে আমি একদম শান্ত হয়ে গেছি,,,
আরহাম একটু থেমে বললো
_ i don’t know why but আমার ছোটো ছোটো কারনে Mood swings হয় আয়রার মাম্মা,,আপনি যদি আমার একটু সামলে নেন তবে এই আরহাম শাহারিয়ার মির্জা শুধু আপনার কথায় চলবে,, শুধু আপনার,,, আপনার ভবিষ্যতে এই কথা গুলো প্রচন্ড কাজে দিবে,,,
আরহমের কথা শুনে নুবা শান্ত হলো,,বুঝতে পারলো আরহাম ওই বিষয়টা নিয়েই রেগে ছিলো,,, নুবা বিরবির করে বললো
_ আমি ফালতু,, বিরক্তিকর তাই তো,,,
_ no,, You are my মিনি হাতি,,,
নুবা নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ অপমান হয়ে গেলো না,আমি এতটোও মোটা না,,
আরহাম ফিক করে হেসে দিলো,,পরপর নুবার চোখের পানি মুছে দিয়ে তার দুই গালে টেনে ধরে বললো
_ আপনি আমার নাদুসনুদুস বউ,,
_ বউ হবো,,
_ হবো না,, হয়ে গেছো,,, তুমি আমারি,, আমার,,আমি বকি,,মারি,,মেরে ফেলি না কেন,, কিন্তু দিন শেষে এই নুবা শুধু আমার,, আমার বউ জান,,
আরহামের অধিকার খাটানো নুবাকে আরো গলিয়ে দিলো,,,নুবা মৃদু কন্ঠে সুধালো
_ কত গুলো নাম রেখেছেন আমার,,,
আরহাম নুবার গালে হাত বুলিয়ে বললো
_ জানতে চাও
_ হুম,,
আরহাম নুবার নাকে নাক ঘষে বিরবির করে বললো
_ নাদুসনুদুস বউ আমার,মিনি হাতি,,মিষ্টি,, রোসো গোল্লা,নুবু,,,জান,,আয়রার মাম্মা,,বিচ্ছু,, আমার বউ,, বান্দর,,ন্যাকা মহিলা,,কঠিন মহিলা,, নরম মনের নুবু,, ছিচকে কানন্দুনি, হিংসুটে,,তুমি,,,,
আর কিছু বলতে দিলো না আরহামকে থামিয়ে দিয়ে বললো
_ এগুলো নাম হলো,,আর আমি ন্যাকা না,,, মাঝে মাঝে একটু আদিখ্যেতা করবো সহ্য করতে হবে, কারণ আপনি আমার ভবিষ্যৎ আপনি ছাড়া কে সহ্য করবে,, আপনি ব্যতিত কার কাছে আমি আমার আবদারের ঝুলি খুলে বসবো,,, প্রত্যেকটা মেয়ে তার ব্যক্তিগত মানুষ ,,আর স্বামীর কাছে ন্যাকা হয়,,আর তার থেকেও বড় কথা মাঝে মাঝে পরিস্থিতি বুঝতে না পেরেও মানুষ অবুঝ বনে যায়,,,আর আমি ন্যাকা না,,না না,,,আমি কি বিনা কারনে কোলে উঠে বসে থাকি হুম,,,,,,,
আরহাম নুবার গালে ঠোঁট হেলিয়ে বললো
_ উঁহু হুম,,,আপনি একটা ইতর,,একটুও ন্যাকা না,, আমাকে কিভাবে ঘায়েল করতে হয় তা জানেন,,আর মোটেও গাল ফুলাবেন না আমার সামলে তাহলে কমড়ে খেএ ফেলবো,,, সবসময় গাল ফুলায় ইতর,,,
নুবা আরহামের দিকে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে বললো
_ কখন গাল ফুলাই আজব,,,
_ এই যে কান্না করলে,,রাগ করলে,, হিংসে করলে,,চোখ গড়ম দিলে,,নাক ফুলালে,,,আর কত কি,,মুড অফ হলেই এই রোসো গোল্লার মতো গাল ফুলিয়ে থাকেন,,আমি ভুল না বললে ইদানিং আপনি আরো মটু হয়েছেন,,সাথে ওজন বেড়ছে i think ৬০+,,
নুবা হতভম্ব হয়ে বললো,
_ না না এতো না,, হ্যাঁ একটু মোটা হয়েছে ঘড়ে বসে থেকে বলে এতো না,,
_ অন্ততপক্ষে ৫৮+ হবেন,, মিথ্যা কথা কম বলেন,,আমি আপনাকে কোলে তুমি আমার একটা ধারনা আছে ,, প্রতিদিন dumbbell দিয়ে Exercise করি আমি জানি না আপনার ওজন কত হবে,,
_ আপনি কিন্তু অপ,,,,,
আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ একদিম না,, আমার আরো প্রয়জন,,,৬০+ হবেন আপনি,,তবে আমি সন্তুষ্ট হবো বুঝলেন,,আপনি লাম্বা তো তাই এতোটা ধরা যায় না কিন্তু এটাই পারফেক্ট,,,
নুবা লজ্জা পেলো,,আরহামের শার্ট খুঁটে বললো
_ আপনি Exercise করেন,,
_ হুম,,কেন,,
_ না এমনি,,,
আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_আমাদের বিয়ের পর আমি আপনাকে নিয়ে এখান থেকে চলে যাবো,, আমার বাড়িতে সব আছে,,জিম,, সুইমিং পুল,,যা চাইবেন,,,
নুবা আরহমের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_ সত্যি,,,
_ হুম,,,
_ আমি কখনো সুইমিং পুলে গোসল করিনি,,,
_ তাই নাকি,,,এটা কোনো কথা হলো,,অতী শিঘ্রই আপনার ইচ্ছা পূরণ হবে,,
নুবা একটু হেসে ফিসফিস করে বললো
_ কখনো bathtub এ গোসল করিনি তবে সেদিন আমাকে bathtuড়b ar পানিতে চুবিয়ে সেই আশা পূর্ন করে দিয়েছেন,,,,আমি তো ভেবেছিলাম আমি শেষ,,, please আর কখনো ওরকম করবেন না অনেক ভয় পেয়ে গেছিলাম,,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে বললো
_ আমি একটুও সুধরাইনি জানেন তো,,তবে আপনার ক্ষেত্রে আলাদা ব্যপার,,, কিন্তু বড় ভুল করলে ছাড় দিবো না তাই সাবধানে থাকবেন,,,আগেই বলেছি মারবো কাটাবো তাও আপনি আমারি,,,
নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ পাগল,,,,
_ আপনার জন্য,,
নুবা কথা পাল্টে বললো
_ মাংস নিয়ে এসেছি,,
আরহাম খেয়াল করেছে,,আর জানেও কেন এনেছে তাও নুবার মুখ থেকে শুনার জন্য বললো
_ কেন,,??
নুবা আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ এঁটো খাওয়ার অভ্যাস করার জন্য,,,আপনি যা বলবেন তাই হবে,,,
আরহাম বাঁকা হেসে বললো
_ এটাই যাতে মনে থাকে, আমার মন মতো চললে দুনিয়ার সব সুখ এনে আপনার পায়ের কাছে রাখবো তবে অমান্য করলে Trust me অনেক কঠিন শাস্তি দিবো,,না বলতে পারবেন না সহ্য করতে পারবেন,,
নুবা চোখ ছোটো ছোটো করে বললো
_ আপনি কি আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন,,,
_ no ,, just বুঝাচ্ছি,,
নুবা মাথা নিচু করে বললো
_ আপনি যদি আমার পাশে থাকেন তবে আমি সব কথা মান্য করবো,,,
আরহাম কি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ,,,সে বলেছে নুবা তার এঁটো খাবে মানে খাবে,,নুবা ভেবছিলো হয়তোবা ছাড় পাবে তবে এমন কিছুই হলো না,,
আরহাম চেটে পুছে নুবার দিকে মাংস এগিয়ে দিলো,,,নুবা শুকনো ঢোক গিললো,,,আর বললো,,
_ আপনি জানেন একজেন মুখের জীবাণু আর একজনের মুখে গেলে সমস্যা হয়
_ তুমি খাবে কিনা বলো
_ না খেএ উপায় আছে আপনার তেজ দেখবো নাকি,,
বলেই দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে পরপর অনেক কষ্ট করে নুবা শেষ পর্যন্ত মাংস চিবিয়ে গিলেই ফেললো,,
আরহাম ঠোঁট কামড়ে হাসলো,,, মজা লাগলো তার নুবার কাহিনি,,,বেশ কষ্ট করেই বেচারি গিললো বোধহয়,,
আরহাম আর একটা হাতে তুলে বললো
_ আরেকটা,,,
_ আপনার ইচ্ছা,,,(বলেই ঢোক গিললো যেনো গলা দিয়ে নামছে না,,,)
পরপর নুবা আর এক টুকরো মুখে নিলৈ তবে গিলতে পারলো না তাই ৪/৫ চিবানি দিয়ে আরহামের হাত টেনে সামনে আনলো,,তার হাতে বাচ্চাদের মতো জিভ দিয়ে ঠেলে সব ফেলে দিয়ে দাঁত কেলিয়ে বললো
_ আপনি খান তো দেখি কেমন লাগে,, অন্যদের বলতে সাহস নিজে খেএ দেখুন,,,পানশে আর কেমন কেমন,,,
নুবা মুখ বিকৃত করতে যেয়েও করলো না যদি কেকিয়ে উঠলো,,,
আরহাম নির্দ্বিধায় নুবার চিবানো খাবার মুখে পুরে নিলো স্বাভাবিক ভাবেই নিজেও ২/৩ চিবানি দিয়ে গিলে ফেললো,,
নুবার মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো বিরবির করে বললো
_ ঘৃন পিত কিচ্ছু নেই,,,
আরহাম পাশ থেকে পানির বোতল নিয়ে নুবার দিকে পানি এগিয়ে দিয়ে কেমন করে হেসে বললো
_ এতো মুখ বাঁকিও না মেয়ে,,,জানা নেই ভবিষ্যতে কোথায় কোথায় মুখ দিতে হয় তোমার,,আবার কি কি খেতে হয় তাই না,, you know আমার সাথে বাইরে গেলে সেখানকার খাবার খেতে হবে তোমাকে,,কাঁচা,,, অর্ধ সিদ্ধ তখন কি করবে,,,
নুবা ভেংচি কেটে বললো
_ ঘড়ে বানিয়ে খাবো হুম,,আসছে,, আপনার খিতখিথ লাগে না তবে আমার লাগে,,আপনি কি দিয়ে তৈরি আল্লাহই জানে,,সবরা ভিতরে খিতখিত থাকে আপনার নেই,,,
আরহাম বিছানায় বসে নুবাকে টেনে নিয়ে সামনে দাঁড়া করিয়ে বললো
_ আছে তো,,তবে আপনার ক্ষেত্রে নেই,, আপনার সব আমার,,,A to Z সব,,,আমি আপনার সবকিছুর স্বাদ নিতে চাই,,ফিল করতে চাই আমার নুবু কেমন,,,
নুবা কেমন কেমন জেনো লাগলো মোচরামুচরি করে বললো
_কি কি বলছেন,,,এই সব,,ছি ছি
_ তোমার mind প্রচন্ড Dirty ,, প্রচন্ড,,,বিচ্ছু হলেও সব গোড়া থেকে ধরে ফেলো তবে অতিরিক্ত,,,লুচু মেয়ে,,, শুধু ছি ছি আর ছি,,,
নুবা মাথা নিচু করে বললো,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭১
_ আমি বলতে চাইনি,, মানে,,,
_ হ্যাঁ এতো মানে টানে বলতে হবে না,,
_ দেখুন সোজা কথা হচ্ছে আগে বিয়ে,,,
