Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৬

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৬

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৬
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_ আগে উত্তর দে,,ওর সাথে তোর এতো কি,,,সেদিনো দেখেছি তোকে জরিয়ে ধরে আছে আর তুই সাই দিচ্ছিস,,ওর সাথে কিসের সম্পর্ক তোর,,কেনো জরিয়ে ধরবে তোকে,,,কেনো কাছে আসবে, আমাকে তো কখনো আসতে দিসনি,,
নুবা হাত ঝাড়া মেরে ছাড়িয়ে নিলো,,, আরাফ তেরে এসে নুবার বাহু চেপে ধরলো,,নুবা চেঁচিয়ে উঠলো
_ অসভ্য লোক,,, ছাড়ুন,,
আরাফ ছাড়লো না বরং নুবার বাহু ঝুঁকিয়ে বললো

_ তোর যদি ওর সাথে কোনো সম্পর্ক থেকেও থাকে তাহলেও কেন কাছে আসতে দিবি তুই,,যখন ১/২ বছর লাগিয়ে আমরা প্রেম করেছি তখন তো হাতটাও ধরতে দিসনি,,,তাহলে ওকে কেন জরিয়ে ধরতে দিবি কেন??তোর দোষে তুই আমাকে হারিয়েছিস,,,
নুবা ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ অতীত ভুলে গেছি আমি,,আর আমি আপনাকে চাইও না,,,বিয়ে করেছেন সুখে থাকুন কেনো আমার পিছনে লেগে আছেন,,কি ক্ষতি করেছি আপনার,, বরং এতো কিছু হওয়ায় পড়েও কাউকে কিছু বলিনি,,,
আরাফ রেগে ঠাস করে নুবাকে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিলো,,,ছাদের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা হাজেরা সেই শব্দ শুনে কেঁপে উঠলো,,বুকটা ভারি হয়ে আসলো তার,,,
আরাফ নুবাকে থাপ্পর মেরে তার গাল চেপে ধরে বললো
_ ব্য*** হয়েছো তুমি,, হ্যাঁ,,, একজন কে কাবু করতে পারোনি তাই আবার এক বাচ্চার বাপের পিছনে পড়েছো,, লজ্জা লাগে না তোর,, আমার সাথে প্রেম করে এখন আমার বড় ভাইয়ের পিছনে পড়েছিস,, হ্যাঁ,,,ma ,,,, gপানা শুরু করেছো তুমি হ্যাঁ,,এতো সখ এই বাড়ির বউ হওয়ায় যে এখন আমার ভাইয়ের পিছনে পড়েছো,,খা,,, চু,,,,রানি,,,,

আরফের গালিতে নুবার গা গুলিয়ে আসলো,,,নুবা কান্ত হয়ে গেলো সব কিছু থেকে,,,আরাফ নুবার গাল আরো শক্ত করে ধরে ধরলো,,নুবা কাপড় ফেলে কান্ত দুই হাত দিয়ে সরানোর চেষ্টা করলো তবে পাড়লো না,,
_ কি করে হাত করেছিস আরহামকে,, শরীর দিয়ে হ্যাঁ,,আমি যখন বলেছিলাম তখন তো একদম সতি সাবিত্রী সেজেছিলি এখন কি করছিস তুই,,, হ্যাঁ,,,তোর যোগ্যতা আছে এই বাড়ির বউ হওয়ায়,,তোর মতো নিচের সাথে যে প্রেম করেছি এটাই তো তোর কপাল,, কিন্তু তোর সাও**** এতো ঝাঁঝ আমাকে না পেয়ে এখন আমার ভাইকে পটিয়েছিস,,, হ্যাঁ,,,তাহলে আমাকেও খুশি করে দে,,আর পিছু লাগবো না তোর,, কয়বার বলেছি আমি,,,
নুবার চোখ দিয়ে টুপটাপ ঝরে পড়া পানি গুলো আরাফের হাতে যেএ লাগলো তবু মায়া হলো না তার,,,নুবা বিরবির করে বললো

_ আল্লাহ ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না,,, তুই আমাকে শুধু ব্যবহার করতে চেয়েছিলি,,তবে আমি যাকে সব উজাড় করে দিয়েছি সে আমাকে স্বীকৃতি দিতে চায় তোর মতো কাপুরুষ না,,,এই নুবা তোর মুখে থুথু দেয়,,তোর মতো মানুষকে মনেও রাখেনি,,,এই নুবাইরা রহমান শুধু আরহ,,,,,,,
বাকি কথা বলার আগেই আরাফ নুবাকে ধাক্কা দিয়ে ছাদের ফেলে দিলো,,নুবা মৃদু ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠলো,,,আরাফ নুবার চুল টেনে ধরে বললো
_ এই নুবার শরীরে প্রথম স্পর্শ শুধু এই আরফের হবে,,,তোকে আমার লাগবেই,,এতো কষ্ট করে তোকে ছেড়ে দিবো,,,ছেড়ে দিবো তুই ভাবলি কি করে,,আমি শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছি,,
নুবা শব্দ করে হেসে উঠলো বললো
_ সেই গুড়ে বালি তোর,,,এই নুবাকে ছোঁয়ার আগে তুই তোর ভাইয়ের থেকে অনুমতি নিয়ে নিস,,,না হলে তোর হাত পা একটাও সহিসালামত থাকবে না,,,
_ দেখবো কি করে ও,, বরং আরহামি তোকে ছুরে ফেলবে আমার কাছে সেই ব্যবস্থা করবো,,খুব শীঘ্রই,,
নুবা দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আরহাম যদি আমাকে তোর কাছে ছুরে ফেলে বিশ্বাস কর এই নুবাইরা নিজ ইচ্ছায় তোকে নিজের সব উজার করে দিবে,,,,
_ ওয়াদা করছিস,,
নুবা আরাফের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আমার জবান তোর মতো কুত্তার জবান না,,,,যে মুখ চুয়াবো,,,

সেই ঘটনার কথা ভেবেই হাজেরার চোখ ভিজে উঠলো,,,এতো কিছু শোনরা পড়েও সে কিচ্ছু বলতে পারেনি,,,নিজের মেয়ের প্রতি অবিচার দেখেও মুখ খুলতে পারেনি,,
তবে সে বুঝেছিলো আগে নুবার আর আরাফের সম্পর্ক ছিলো,,,আর বর্তমানে আরহামের সাথে নুবার কিছু একটা চলছে,,,হাজেরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলো না আরাফের এই ব্যবহার আর আরহামের বিষয়টা,,
কিন্তু সে চুপ ছিলো শুধু একটা কারনে “এই বাড়িতে এই সব জানা জানি হলে অশান্তি লাগবে,,আরফ মাত্র বিয়ে করেছে,,ইশিতার সাথে ঝামেলা হবে,, আরহাম ঘ্যাড়ত্যারা কখনোই ছেড়ে কথা বলবে না,,,হাজেরার এই বাড়ির মানুষের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হবে”
হাজেরা শুধু নীরব থেকে ভেবেছিলো নুবাকে এই বাড়ি থেকে দূরে সরিয়ে দিবে,,,ভালো একটা ছেলের হাতে তুলে দিবে তাকে,,তার পর নিজে ঠেলা গুঁতা খেএ বেঁচে থাকলেও সমস্যা নেই,,
কিছুতেই সে তার মেয়েকে এই বাড়িতে রাখবে না,,,এই দুই জানোয়ারের চোখি তার নিষ্পাপ মেয়ের উপর,,যেই ফুলটাকে হাজেরা নিজে হাতে মানুষ করেছে,সেই ফুলটাকে ওরা ছিরে ফেলবে,,তা হতে দিবে না হাজেরা,,, শুধু কোনো ঝামেলা ছাড়া মেয়েটাকে বিদায় করতে চায় হাজেরা,,

না আরহামকে চায় সে তার মেয়ের জীবনে না আরাফকে,,,আরহামের সাথে কোনো সম্পর্ক হলেও এই আরফের জন্য তা টিকবে না,আর আরহামের মতো মানুষের সাথে নুবার কোনো সম্পর্ক হাজেরা মেনেও নিবে না,,তার উপর আরাফ যেই ভাষা গুলো দিলো,,সাথে তার মেয়েকে,,আর ভাবতে পারলো না হাজেরা,, বর্তমানে এই বাড়িটাই নুবরা জন্য নরক,,এখন থেকে মেয়েকে সরিয়ে দিবে সে,,সে শুধু এতো টুকু ভেবেছে
“কোনো ঝামেলা,,, অশান্তি,, সম্পর্ক নষ্ট ব্যতিত নুবাকে বিয়ে দিয়ে এই স্থান থেকে সারা জীবনের জন্য সরিয়ে দিবে হাজেরা,,,মেয়েকে বিয়ে দিয়ে বলে দিবে এই বাড়িতে আর কোনো দিনও পারা না দিতে,,কিছুতেই এই নরকে থাকতে দিবে না তাকে”
এই উপায় ব্যতিত সে আর কোনো উপায় দেখছে না,,

আজ দুপরে একটু ঘুমিয়েছে নুবা,,আয়রাও ঘুমাচ্ছে,, বিশেষ করে আয়রাকে ঘুম পাড়াতে যেএ নুবা নিজেই ঘুমিয়ে গেছে,,,
হাজেরা ওই ঘটনার পর থেকে একদম চুপ হয়ে গেছে শুধু মনে মনে একটা কথাই আড়াচ্ছে সে মেয়েটাকে যত তাড়াতাড়ি পারে বিদায় করবে,,,
আমিনা বেগম হাজেরাকে এরকম মন মার দেখে মৃদু কন্ঠে বললো
_ কি হয়েছে হাজেরা,, ইদানিং চুপচাপ,, শরীর খারাপ নাকি
হাজেরা পেঁয়াজ কাটতে কাটতে বললো
_ না আপা,,এমনি,,,
_ ও,, আচ্ছা তাড়াতাড়ি করো একটু পড়ে আবার বাজারে যেতে হবে

আরহাম আশে পাশে তাকিয়ে নুবাদের রুমে প্রবেশ করলো,,পরপর নজরে পড়লো নুবা এলোমেলো হয়ে ঘুমিয়ে আছে,,, অনেকটা চাপা গড়ম পড়ায় ফ্যানের বাতাসেও মুখে ঘাম জমেছে,,পাশে আয়রা শুয়ে আছে তারো অবস্থা একি মা মেয়ে এক সাথে পাগলের মতো শুয়ে আছে,,
আরহাম এগিয়ে যেএ পাশে বসলো,,নুবা সোজা হয়ে শুয়ে আছে,,হাত দুটো বালিশের উপড়ে,,এক পা সোজা তো আর এক পা বাকানো,,,বুকে ওরনা নেই ঘামের তারনায় মুখে ছোটো ছোটো চুল আঁটকে আছে,,
আরহাম মৃদু হেসে মুখে পরে থাকা চুল গুলো সরিয়ে দিলো,,পরপর ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে বিরবির করে বললো
_ এতো এলোমেলো হয়ে ঘুমিয়ে আছেন,,,আপনি জানতেন না আমি আসবো,,,যদি আপনার ব্যক্তিগত মানুষটা বেসামাল হয়ে যায়,,বেলাগাম হয়ে যায়,,, এলোমেলো হয় তবে,,তবে কি করে বাঁচাবেন নিজেকে,,,
হঠাৎ নিঃশ্বাস আঁটকে আসায় নুবা ভুরু কুঁচকে নড়ে উঠলো,, আরহাম সরে আসলো,,, কিছু সরে আসতে যেয়েও সরতে পারলো না সে,,,নিজ অজান্তেই নুবার ভাঁজ পড়া গলায় আনন ডুবিয়ে দিলো,,হালকা দাঁড়ির খোঁচায় নুবা মুখ দিয়ে বিরক্তিকর শব্দ বেড় করলো,, আরহাম হেলিয়ে হাসলো,,,
আরহাম কিছু সময়ের জন্য নিজের ভিতর থেকে হারিয়ে গেলো,,পরপর নিজের বৈধ সম্পতি লুফে নিতে বেসামাল হয়ে পড়লো,,,

প্রথমে গলা,তার পর নিজ অজান্তেই বক্ষ যুগল,, অতঃপর নুবার বালিশের উপর রাখা দুই হাত আঁকড়ে ধরলো,,আরহামের নিঃশ্বাস ভারি হলো,,,
হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত অংশে কারো অনাবরত বিচরণ পেয়ে নুবার টিপটিপ করে তাকালো,,,ভাবলো হয়তোবা আয়রা,,, নিঃশ্বাস আঁটকে আসলো তার,,,ঘুমের ভিতরে চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,,আবারো চোখ বন্ধ করলে নিলে মৃদু ব্যথায় অতিষ্ট হলো সে,, তার ঠোঁট দুটো ফুলে উঠলো ,, মিনিট খানিক পাড় হতেই নুবার কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে গেলো আলতো করে,, ঝাঁপসা চোখে আরহামের কান্ড দেখলো সে,,,
ঘুমের ভিতর তার কাছে মনে হলো সব শেষ,,,নুবা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো,,, এমন কান্ত সে নড়াচড়া করবে সেই শক্তি টুকু নেই,,,, হঠাৎ নুবার কান্নার শব্দ পেয়ে আরহামের হুস ফিরলো,,,নুবার হাত ছেঁড়ে দিয়ে মুখ তুলে তার বিকৃত মুখের দিকে তাকালো,,,
আরহামকে সরে যেতে দেখে নুবা ঘুমের ঘোরে আরো কেঁদে উঠে বললো

_ ধোঁকা বাজ,,, শয়তান,,,,
হঠাৎ এরকম শব্দে আরহাম অবাক হয়ে নুবার গালে হাত রেখে শুধালো,,
_ what happened ,, কান্না করছো কেন,,,
নুবা নাক টেনে কেঁদে উঠলো,,,
আরহাম না পেরে নুবাকে টেনে তুলে মৃদু কন্ঠে সুধালো,
_ নুবা,,কি হয়েছে,, খারাপ স্বপ্ন দেখেছো,
নুবা ঘুম ঘুম চোখে আরহামের বুকে থাপ্পর লাগিয়ে দিলো,,, ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ আপনি বড় খারাপ স্বপ্ন,,, আপনাকে বলেছিলাম ধৈর্য ধরতে আপনি এভাবে আমার সব শেষ করে দিলেন,,, আপনাকে কত বিশ্বাস করেছিলাম আমি,, ধোঁকাবাজ,, নিশ্চয় এবার আমাকে ছেড়ে দিবেন,,,
আরহাম নুবার কথা আর কন্ঠ শুনে টের পেলো কাঁচা ঘুম ভাঙ্গার উল্টা পাল্টা দেখছে এই মেয়ে,,, আরহাম নুবার গালে আলতো থাপ্পর মেরে বললো

_ কি করলাম আবার,, কান্না থামাও,, কিছুই তো করিনি,,,এই মেয়ে,,,
_ ছাড়ুন,, ছুঁবেন না আমায়,,, আম্মু,,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ আরে মহিলা চোখ খুল,,,কি উল্টা পাল্টা ভাবছিস,,
নুবা কুঁচকে থাকা চোখ খুললো,,তবে হঠাৎ চোখে আলো পড়ায় আবার কুঁচকে নিলো,,নুবার চোখ জ্বলছে এভাবে কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া তার উপর অনেক দিন পর দুপুরে ঘুমিয়েছে সে,,তাই মাতলা মাতলা লাগছে তার,,বুঝতেও পারছে না এখন কয়টা বাজে,,তার কাছে মনে হচ্ছে রাত হয়েছে,,,
নুবার বারবরা নাক টানছিলো,,, আরহাম না পেরে নুবাকে বুকের সাথে জরিয়ে নিলো,,মাথায় হাত বুলিয়ে বললো

_ আচ্ছা আর touch করবো না তাও কান্না করো না,,, sorry তো,,,
ঘুমের নেশা কেটে যেতেই নুবা শান্ত হয়ে গেলো,,দুই চোখ কচলে আরহামের বুকে পড়ে রইলো ,,পরপর বিরবির করে বললো
_ আমাকে বিয়ে করবেন কবে,??
নুবার প্রশ্নে আরহাম নুবার মাথায় চুমু খেএ বললো
_ তুমি যদি বলো এখন তবে এখনি করবো,,
নুবা আরহামের শার্টের বোতাম খুঁটে বললো
_ আমি চাই আমার আম্মু এই সম্পর্কে রাজি হোক,,,বাসার সবাই খুশি থাকুক,, অনেক বড় করে অনুষ্ঠান হোক,,আর আপনার নুবা লাল টুকটুকে বউ সাজুক,,,পুরো ভরা বাড়ির সামনে আপনাকে কবুল করুক আর আপনি তাকে স্বীকৃতি দেন,,
আরহাম নুবার গালে হাত বুলিয়ে বললো

_ তাহলে একটু সময় দেও,, তোমার আম্মাকে রাজি করাই,,তার পর বড় করে অনুষ্ঠান করে তোমাকে স্বীকৃতি দিবো,,,সবার সামনে,,কোনো লুকোচুরি নেই,,,
আরহামের কথায় নুবা সন্তুষ্ট হলো,,দুই হাত দিয়ে জাপটে জরিয়ে ধরলো তাকে,,আবেগে প্রফুল্ল হয়ে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো নুবার,,নুবা কাতর কন্ঠে বললো
_ আচ্ছা,,,কেউ যদি আপনাকে বলে,, আমাকে দিয়ে দিতে আপনি কি আমাকে তাকে দিয়ে দিবেন,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ what !,কক্ষন না,,,এই বিচ্ছু শুধু আমার,, শুধুই আমার,, দরকার পড়লে নিজ হাতে হত্যা করবো তাও এই নুবাকে কারো হতে দিবো না,,
নুবা হতভম্ব হয়ে বললো

_ আপনি কি আমাকে মেরে ফেলার কথা বলছেন,,
_ হুম,, তুমি আমার না হলে আমি কি কারো হতে দিবো,,জানে মেরে ফেলবো,,
নুবা মাথা উঁচু করে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ তাই বলে আমাকেই মেরে ফেলবেন,,,
আরহাম নুবার চোখের পাতায় চুমু খেএ বললো
_আমি,, এই আরহাম শাহারিয়ার মির্জা আজ একটা কথা বলে রাখছি,,এই নুবু যদি আমার না হয় তবে trust me এই নুবুকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে ফেলবো তাও অন্য কারো হতে দিবো না,,,আর যদি মাঝখানে কেউ আসে তাহলে তাকেও শেষ করবো,,,
নুবা ফিক করে হেসে ফেললো আর বললো
_ আমাকে মারতে বুক কাঁপবে না আপনার,,,
_ একটুও না,,, ডিরেক্টর বুকে ছুরি ঠুকে দিবো,,
নুবা আরহামের মাথা গুঁজে বিরবির করে বললো
_ ধরুন আপনার রক্তের কেউ বা খুব কাছের কোনো বন্ধু আমাকে কেড়ে নিতে চাইলো,,i mean কেড়ে নিতে না just এক রাত কাটাতে চাইলো,,আপনি কি আমাকে দিয়ে দিবেন,,যেখানে আমার কোনো দোষ নেই,,,কি করবেন আপনি,,,

আরহাম হঠাৎ এমন কথায় ক্ষিপ্ত হলো,,,নুবার ঠোঁট দুই আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরে বললো
_ এতো বিচ্ছিরি চিন্তা ভাবনা মাথায় আসে কি করে তোর,,,কার সাহস হবে জবান দিয়ে এই কথা বলার,, টুঁটি টেনে ছিরে ফেলবো,, একদম জমিনের ১০ হাত নিচে গেঁথে রাখবো,,
নুবা আরহামের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে আবার তার বুকে মুখ গুজে দুই ফোঁটা চোখের পানি ফেললো,, হয়তোবা কোনো দিন এমন হলে আরহাম কিছুই করবে না,, কারণ তার ভাই তো,,কি আর করবে,,,নুবা কিছু সময় চুপ করে মৃদু কন্ঠে বললো
_ এতো ফিল্মি ডাইলোগ কোথা থেকে শিখলেন,,
আরহাম নুবার কপালে টুকা দিয়ে সুধালো
_সময় হলেই দেখবে কোথা থেকে শিখেছি যখন পিঠের চামড়া আলাদা করবো তখন বুঝবে,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো

_ এভাবে ভয় দেখালে কিন্তু আপনাকে বিয়েই করবো না,,
_ ও তাই নাকি,,তাহলে কাকে করবে,,
_ আয়রার পাপাকে করবো,,ওর পাপা অনেক ভালো,,, আপনার মতো খরুচ না,,
_ আয়রার পাপা একটা মিষ্টি চাইছে দিয়ে দেও,,তবে খুশি হবে,,
নুবা খিলখিল করে হেসে বললো,,
_ একটু আগে পঁচা কাজ করেছে সে,,এখন আর দেওয়া যাবে না,,,
_ একটা দিলে সারাদিনে আর জ্বালাতন করবে না,,
আরহামের কথার ভিতরে নুবা টের পেলো রুমের দিকে কেউ আসছে,পায়ের শব্দ শুনেই নুবা বুঝে ফেললো তার মা আসছে,,
নুবা চোখ বড়বড় করে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো

_ আ,, আম্মু আসছে,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ what,,আসার সময় পেলো না,, অসহ্য,,
_ আরে কথা না বলে কোথাও লুকান,,,
আরহাম কপাল চাপড়ালো কি দিনকাল চলে আসছে এই বয়সে এসে চিপা চাপায় লুকাতে হচ্ছে,,
আরহাম সরে গেলো তবে আবার ফিরে আসলো,,পরপর নুবার ঠোট ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো এই সময়েও মন মর্জি করলো,, অসভ্য লোক,,
নুবা আরহামকে তাড়াতাড়ি আলনার পিছনে লুকাতে বললো,,,পিছন দিয়ে অনেক জায়গা ফাঁকা,, লম্বা আর শরীর স্বাস্থ্য ভালো হলে প্রেম করা ঠিক না কারণ ছোটো খাটো জায়গায় লুকানো যায় না ,, লম্বা মাথা বেড় হয়ে থাকে,,
আরহাম নাকে মুখে ওদিকে যেএ লুকিয়ে গেলো,,, কিন্তু সে বুঝতে পারলো না কেনো লুকাবে সে,,বললেই তো হয় আয়রাকে নিতে এসেছি,, কিন্তু নুবা চায় না তার মা আরহামকে এই রুমে দেখুক,, কারণ দেখলেই বকাবকি আর প্রশ্ন শুরু করবে,,
হাজেরা রুমে প্রবেশ করলো,,,এসেই রুমের অবস্থা দেখে কেমন কেকিয়ে উঠে বললো

_ ঘরটার কি অবস্থা উঠে কি একটু গুছানো যায় না,,, সারাদিন এই বাচ্চাকে নিয়ে পড়ে থাকিস,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ এভাবে বলছো কেন মা,,গুছাই না নাকি,,,
হাজেরা ধমক দিয়ে বললো
_ গুছাস তো,, কিন্তু যখন আমি বলি ,,চোখে দেখে কিছু করিস তুই,,,আর এখন এই বাল একটা পেয়েছিস,, সারাদিন ওর পিছনে,,,
নুবা চোখ টিপটিপ করে বললো
_ দেখো ওকে নিয়ে কিছু বলো না,,
হাজেরা রেগে বললো
_ কেনো বললে কি করবি তুই,,,এই বাল ছাল নিয়ে বসে থাকবি না নুবা,,,কাজ কাম শিখ,,পরের ঘড়ে দিতে হবে তো,,,
নুবা মাথা নিচু করে বললো

_ আস্তে আস্তে সব শিখে নিবো,,,
_ আস্তে আস্তে শিখতে হবে কেন,,মায়ের হাতে হাতে একটু এগিয়ে দিলে কি হয়,, সারাদিন একে(আয়রা) নিয়ে পড়ে থাকিস,,
নুবা চুপ করে রইলো,,হাজেরা ঘড় ঝাড়ু হাতে নিয়ে বললো
_ সকালের বাহি ঘড়টা পড়ে আছে,, এগুলো চোখে দেখবে না,,যে মা করেনি আমি একটু করে দেই,,না সারাদিন উটকো ঝামেলা নিয়ে বসে থাকো,,
বলেই হাজেরা ঘড় ঝাড়ু দিতে শুরু করলো,,পরপর সে আলনার কাছে চলে গেলো,,নুবার নিঃশ্বাস আটকে আসলো,,, কিন্তু ভাগ্যক্রমে হাজেরা আজ আলনার পিছনে ঝাড়ু দিলো না,,
নুবা যেনো নিজের নিঃশ্বাস ফিরে পেলো,,,ঝাড়ু দেওয়া শেষ করে হাজেরা মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ এটাকে রুমে দিয়ে আয়,,, সারাদিন তোর কাছে কি,,,
নুবা মাথা নিচু করে মিনমিন করে বললো
_ ভালো লাগে মা,,এমনে বলো না,,
পরপর হঠাৎ করে নুবা একটা ঝাড়ুর বারি খেলো,নুবা হতভম্ব হয়ে মায়ের দিকে তাকালো,, অবাক হয়ে বললো

_ আম্মু,,,
হাজেরা রাগি কন্ঠে বললো
_ কি আম্মু,, হ্যাঁ কি,,,
_ ঝাড়ু দিয়ে দেওয়ার বেশি দরকার ছিলো,,
হাজেরা রাগি চোখে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো,,
_ ওই ছেলের নাম কি,,কি যেনো,,এই ওর বাপ,,,ওর বাপের থেকে দূরে থাকবি,,,যদি উল্টা পাল্টা কিছু করেছিস তবে বিশ্বাস কর আমি কিচ্ছু বলবো না,,, শুধু গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলবো আমি,,,মনে রাখিস তোর মা আগে নাকি ওই দুই দিনের ছেলে,,,
নুবা‌‌ শুকনো ঢোক গিললো,, ইদানিং আরহামকে দেখতেই পারে না হাজেরা,,তার উপর আরাফ,,আরাফ কে নিয়ে বেশ কথা বলে,, তিক্ত কথা বলে হাজেরা,,নুবা শুধু শুকনো ঢোক গিলে মিনমিন করে বললো
_ কি হয়েছে মা এমন কথা বলছো কেন,,
হাজেরা হাত থেকে ঝাড়ু রেখে বললো

_ তুই শুধু ভেবে রাখ,,মা নাকি পর পুরুষ,,, এতো টুকুই বল্লাম,,,বাকিটা তুই পড়েই বুঝে যাবি,,,
বলেই হাজেরা ঘড়ের কাজ শেষ করে বেড় হয়ে গেলো,,,নুবার বুক কাঁপতে লাগলো হঠাৎ তার মা এরকম কথা বলে গেলো কেন,,নুবার ভাবনার ভিতরে আলনার পিছন থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে আরহাম বেড় হয়ে আসলো,,
নুবা পাশ ফিরে আরহামের দিকে তাকিয়ে আবারো শুকনো ঢোক গিললো,, আরহাম এগিয়ে এসে কেমন রাগি কন্ঠে বললো
_ তোমার মা আমার মেয়েকে নিয়ে এই সব বলে,,হুম,
নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো
_ তো আমি কি করবো,,আপনি আমাকে ঝাড়ি মারছেন কেন,,,
আরহাম এগিয়ে এসে মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে বললো
_ তুমিও ভেবে রেখো তোমার মা আগে না আমি,,
নুবা হতবাক হয়ে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনারা কি শুরু করলেন আমার সাথে,,এভাবে বলছেন কেন,,,
আরহাম মেয়েকে বুকে জরিয়ে কঠোর কন্ঠে বললো
_ তোমার মা যা তাতে মনে হয় না কোনো দিনও মেনে নিবে,,এর থেকে ভালো তুমি আমার সাথে যাওয়ার প্রস্তুতি নেও,,
নুবার রুহ যেনো দেহ ছেড়ে বেড় হয়ে যাবে এমন অবস্থা,,নুবা ছলছল চোখে বললো

_ এই সব কেমন কথা বলছেন,,
আরহাম এগিয়ে এসে আলতো করে নুবার গাল চেপে ধরে বললো
_ তোকে ছাড়ছি না আমি ,,মাকে ছেঁড়ে কিভাবে থাকবি অভ্যাস করে নে,,,তো মা ভালোর চু*** না,,,তোর মাকে হাত করতে হলে আগে তোর পেটে একটা ঢুকাতে হবে,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে আরহামের হাত ধরে ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ কেমন আচরণ করছেন,, আম্মুকে ছেঁড়ে আমি কিভাবে যাবো,,দুনিয়া এক দিকে আমার মা একদিকে,,,
আরহাম রাগি কন্ঠে বললো

_ তার মানে তুই আমাকে চাস না,,
নুবা গুঙ্গিয়ে উঠে বললো,,
_ আমি আপনাকে আর আমার মা”কে সবাইকে চাই,,আমি কাউকে ছাড়তে পারবো না,,
আরহাম নুবাকে ছেঁড়ে দিলো কিছু বলতেই যাবে তার আগেই নুবা হাঁটুতে ভর দিয়ে এগিয়ে আসলো,,আরহামের দুই গালে হাত দিয়ে কাতর কন্ঠে বললো
_ আপনি এভাবে বলছেন কেন,,আমি জানি আম্মুকে আপনি মানিয়ে নিবেন,,,
আরহাম এক হাত দিয়ে আয়রাকে ধরে অন্য হাত দিয়ে নুবার পাতলা কোমর জড়িয়ে ধরে অনাকাঙ্ক্ষিত কাজটা করলো,,নুবা বাঁধা দিলো না বরং তাকে তার মন মর্জি করতে দিলো,,তবে আজ হয়তোবা নুবার উপর ক্ষোপ তুলে গেলো আরহাম,,, মিনিট খানিক পর নুবাকে ছেঁড়ে দিয়ে গটগট করে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,পিছনে ফিরে তাকালো না,,,
নুবা ঠোঁটে কম্পিত হাত দিয়ে দেখলো পাতলা ঠোঁট জুরার উপর এমন জুলুম করেছে কেঁটে রক্ত বেড় হচ্ছে,,,নুবা নাক মুখ কুঁচকে কম্পিত হাতে রক্ত মুছে বিরবির করে বললো
_ অসভ্য লোক কোথাকার ahhh আমার ঠোট,,কি করলো,,,

অনেকটা বিকাল বাড়ির সবাই শপিং এ গেছে,, বিয়ের কিছু কিনা কাটা করতে,, যেহেতু কাল গায়ে হলুদ,,,ইশিতা,আরফ,,আমিনা বেগম,, হারুন মির্জা,,আরশি,,এই কয়জন গেছে মার্কেটে,,
হাজেরা,,তানিয়া,,পরি,,নুবা,, আরহাম বাড়িতে,,হাজেরা যায়নি তাই নুবাকে যেতে দেয়নি,, আরহাম তো যাবেই না এই ঝামেলায়,,আর পরি যায়নি তার ভালো লাগে না,, চোখের সামনে সব স্বপ্ন শেষ হলে কারি বা ভালো লাগবে,,,

হাজেরা মেয়েকে রুমে বসিয়ে রেখেছে,,,পরি আয়রাকে নিয়েছে তবে চুপচাপ,, আরহাম লিভিং রুমে বসে আছে,,চোখ দুটো নুবাকেই খুঁজছে,,
পরি করিডোর দিয়ে আয়রাকে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বললো
_ তোমার মাম্মা আর হওয়া হলো না মামুনি তবে আমার আফসোস নেই কারণ তুমি আমার থেকেও ভালো আম্মু পাচ্ছো,,, আমার জন্য একটু দোয়া করো যাতে আমার কপাল থেকে অভিশাপ টুকু সরে যায়,,
বলতে বলতে পরির বুক ভেঙ্গে আসলো,,,

আরহাম চুপচাপ বসে ছিলো,,, এমন সময় রিহান বাড়িতে প্রবেশ করলো,,এসেছে সে আরশির জন্য তবে এসে জানতে পারলো সবাই শপিংয়ে গেছে,,,
রিহান এসে লিভিং রুমে বসে থাকা আরহামের পাশে যেএ বসে বললো
_ hey bro কেমন আছিস,,
আরহাম উত্তর দিলো না মোবাইল ঘেটতে লাগলো,,,
রিহান ভুরু কুঁচকে বললো
_ তুই শপিং এ যাসনি ভাই,,,
আরহাম কথা বললো না,,রিহান হয়তোবা ৩ নাম্বার কোপ খাওয়া জন্য আরহামের কাছে এগিয়ে এসে বসে তার বাহুতে ধাক্কা দিয়ে বললো
_ আরে শালা বাবু আপনি কি খুশি হননি,,আপনি মামা হচ্ছেন,, আমার মতো ভালো একজন বোন জামাই পেলেন হুম,,কি ব্যপার খুশিতে স্তব হয়ে গেছেন নাকি,,,
দুপুরের বিষয় নিয়ে আরহামের মাথা এমনিতেই গড়ম ছিলো তার উপর রিহানের এরকম কান্ড আরহামের রাগে শরীর জ্বলতে শুরু করলো,, আরহাম গর্জে উঠে বললো,,

_ জানোয়ারের বাচ্চা,,শরীরে হাত দেস কোন সাহসে,,
রিহান ভুরু কুঁচকে বললো
_ প্রথমতো জানোয়ারের বাচ্চা না বলে শুধু জানোয়া বল,, কারণ আমার বাপের এখানে কি দোষ বল,,আর দ্বিতীয় তো তুই গে নাকি ভাই যে আমি হাত দিলে ইয়ে হবে,,তোর বোন জানতে পারলে আমাকে কেলানি দিবে ছ্যে,,,
বলেই আরহামের কাঁধে হাত রাখলো,আরহাম ক্ষিপ্ত চোখে রিহানের দিকে তাকিয়ে বললো
_ হাত সরা,,,
_ আরে একটু রাখি না এমন করিস কেন,,
_ সামনে থেকে দূর হ না হলে তোর কপালে শনি আছে,,
_ আরে শনি না ভাই শুক্র,, শুক্রবার আমাদের বিয়ে,, মানে তোর বোনের সাথে আমার বিয়ে,,,জানিস না তুই,,নাকি কেউ বলেনি,,
আরহাম নিজেকে অনেকটা শান্ত রেখে বললো

_ কাঁধ থেকে হাত সরা রিহান,,না হলে,,,,
_ না হলে কি করবি তুই,,, আমাকে মারবি,, আমাকে,,জানিস আমি কে আরশির husband ,, তুই তোর বোন জামাই কে মারবি,,,
এক কথায় দুই কথায় অরহাম অতিষ্ঠ হয়ে গেলো,,আসলে রিহান শুরু মজা নিতে চাইছে কারণ আরহাম তাকে প্রচন্ড Hate করে,,, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই তার বোনের জামাই হলো এমন কি আরহামের মামা ডাকার কারণ,,,রিহান ভাবছে এখন যাই হোক আরহাম কেলানি দিবে না তাকে,,যতোই হোক বোন জামাই সে,, কিন্তু সে তো জানে না আগুনে ঘি ঢালছে সে,,,,
এক পর্যায়ে আরহাম ঝাড়া মেরে রিহানকে সরিয়ে দিয়ে রাগে দাঁতে দাঁত চেপে বললো বললো,,,

_ তোর জন্য তিন নাম্বার কোপ ফরজ হয়ে গেছে রে রিহান,,, আজকে তুই আমার হাতে মারবি,,,, দাঁড়া,,
বলেই আরহাম রান্না ঘড়ে চলে গেলো,,,রিহান হাসতে লাগলো সে ভাবলো হয়তোবা আরহাম কিছুই করতে পারবে না তবে তার ভাবনা বদলে আরহাম রান্না ঘড় থেকে বড় একটা ছুরি নিয়ে আসলো,,যা দিয়ে আঘাত করলে হয়তোবা রিহান ওখানেই কুপ্রকাত হয়ে যাবে,,
রিহান আরহামকে তেরে আসতে দেখে উঠৈ দাঁড়ালো,,, কেমন তুতলানো কন্ঠে বললো
_ কি,,কি করতে চাইছিস তুই,,ইয়ার তোর বোন বিধবা হয়ে যাবে,,, আরহাম,,,
আরহাম পায়ের গতি বাড়িয়ে তেরে আসলো,,রিহান হতভম্ব হয়ে তাড়াতাড়ি লাফ দিয়ে সোফার অন্য পাশে চলে গেলো,, আরহাম এসে ছুরি নিয়ে রিহানাকে আঘাত করতে নিলো,,রিহান সুযোগ বুঝে সরে যেএ চিৎকার করে বললো
_ কি করছিস তুই,,আমি মজা করছিলাম,,

নুবা মন খারাপ করে রুমে বসে ছিলো তবে হঠাৎ চিল্লাচিল্লির শব্দে নুবা আর হাজেরা দুইজনি বেড় হয়ে আসলো,,পরি ভুরু কুঁচকে নিচে নেমে আসলো,,পরপর দেখলো লিভিং রুমে যুদ্ধ চলছে,,
আরহাম এসে রিহানের বুকে আঘাত করতে নিলো,,রিহানের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো,, তাড়াতাড়ি দুই হাত দিয়ে আরহামের হাত চেপে ধরে বললো
_ আরে পাষান মানুষ রে,,মায়া হীন মানব,, আমার বাচ্চা এতিম হয়ে যাবে,,এবার আমি ডিরেক্ট স্বর্গে যাবো,,, আরহাম ছাড় ভাই,,
আরহাম রেগে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আজকে তোকে মেরেই ফেলবো, ফাজলামি চু**** আমার সাথে,,,
দুই জনের যুদ্ধ দেখে দাঁড়িয়ে থাকা তিন জঞ অবাক হয়ে গেলো তানিয়াও রুম থেকে ছুটে এসে এই সব দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো,,
রিহানের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আয়রা ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে উঠলো,,নুবা আয়রার কান্না শুনে বিচলিত হয়ে এগিয়ে গেলো,,,পরির কাছ থেকে আলতো করে তাকে কোলে তুলে নিয়ে বললো

_ কিচ্ছু হয়নি আম্মু,,,hsss,,,
পরি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,দুই কদম পিছিয়ে গেলো সে,,
এরি ভিতর আরহাম রিহানকে ফ্লোরে ফেলে দিয়ে আঘাত করতে গেলো,,রিহান গড়া দিয়ে সরে যেএ বললো
_ আল্লাহ মারবি নাকি,,,
_ বলেছিলাম তোকে জবান চালাতে না,,,
_ আর চালাবো না ভাই,,মরে যাবো তো,,,
কেউ এগিয়ে আসলো না,,এক পর্যায়ে নুবা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ কি করছেন কি আপনারা,, বাচ্চাটা ভয় পাচ্ছে,,,বুড়ো মানুষ হয়ে বাচ্চাদের মতো যুদ্ধ করছেন,,
রিহান আরহামের ছুরি ধরা হাত চেপে ধরে বললো

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৫

_ আরে,,নুবা এই পাগল থেকে বাঁচাও আমাকে,,মেরেই ফেলবে,,
নুবা বেশ রেগে এগিয়ে যেএ বললো
_ কি করছেন আপনি,, মারবেন উনাকে ছাড়ুন,,, আরহাম ছাড়ুন বলছি,,,
আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বলল
_ সর সামনে থেকে,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here