Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৪

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৪

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৪
সুরাইয়া জিয়াসমিন

নুবা মুচকি হাসলো,,,মনের ভিতরে প্রজাপতি উড়লো,, এমনি তো একটা মানুষ জীবনে চাইছিলো সে,,,তবে আসলেই কি তার চাওয়া পাওয়া পূর্ন হলো নাকি শুধু সাময়িক সুখ এটা,,
_ আজকাল কোথায় থাকছো তুমি,,,আবার ওই মেয়ের পিছনে লেগেছো তাই না,,,
নাবিল মাত্র বাড়ি থেকে বেড় হচ্ছিলো তবে বাপের এরকম কথা শুনে সে থেমে গেলো,,পিছন ফিরে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো,,
_ তুমি ঠিক ধরেছো,,
জব্বার খান রেগে উঠলেন তাও নিজেকে শান্ত রাখলেন,, কারণ এখন নাবিলি তার কাজে আসবে তাই তিনি শান্ত কন্ঠে বললেন,,,
_ একটা কাজ আছে,,
নাবিল হেসে বলেন
_ যাক মেইন কথায় আসলে তবে,,বলো কি কাজ,,,
জব্বার খান একটু চুপ থেকে এগিয়ে আসলেন পরপর ছেলের সাথে নিচু কন্ঠে কিছু কথা বললেন,,নাবিল সবটুকু শুনে শান্ত কন্ঠে বললো
_ এটা তো আমার বা হাতের কাজ,,তবে তোমারো আমার একটা কাজ করতে হবে,,,

অসুস্থ পরি নিঃশ্বাস নিতে যেনো ভুলে গেছে,,,গত ২/৩ দিন বিছানায় পড়ে ছিলো সে,, হসপিটাল থেকে এসে উঠতে পারেনি সে,,,তবে আর একটু সুস্থ বোধ করতেই যে চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে যাবে তা যে কল্পনার বাইরে ছিলো,,,
লিভিং রুমে আয়েশ করে নাজমা বেগম,, জব্বার খান এবং তাদের সু পুত্র নাবিল ইফতিয়ার খান বলে আছে,,,সামনে বসে আছে পরশ হাওলাদার,,চোখে মুখে আগুন জ্বলছে তার,,,না কিছু বলতে পারছেন,,আর না সহ্য করতে,,,
জব্বার খান কাজির দিকে তাকিয়ে বললেন,,,
_ কাগজ পত্র তৈরি করার জন্য আরো কিছু দরকার পড়বে,,,
পরশ হাওলাদার দাঁতে দাঁত চেপে ভাঙ্গা কন্ঠে বললেন,,
_ আপনি কি জানেন আপনার অমানুষ ছেলে আমার মেয়ের সাথে কি করেছে,,,
জব্বার খান পরশ হাওলাদারের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললেন,,
_ এই বয়সে বাচ্চারা একটু আকটু অঘটন ঘটায়,,তাতে এমন কি,,,ভুল টা তো আপনার মেয়ের,,,আগেও নাকি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলো রাজি হয়ে গেলেও পারতো,,,হয়নি তাই আজ আমার ছেলে বাধ্য হয়েছে,,,
জব্বার খানের কথায় পরশ হাওলাদার দাঁতে দাঁত চেপে বললেন
_ অপমান মতো মূর্খের সন্তান তো ধর্ষক হবেই,,,,,পশুর সন্তান পশুই হয়,, মূর্খের মতো শিক্ষা দিয়েছেন,,আপনি যে মন্ত্রী তা ভাবতেও আমার লজ্জা হচ্ছে,,, এমন একটা মানুষ শুধু ক্ষমতার জোরে এই পর্যন্ত এসেছে,,ছ্যে,,,

পরশ হাওলাদারের কথায় নাবিল তেতে উঠলো,,, হুংকার ছেড়ে বললো
_ মুখ সামলে কথা বল,,না হলে এখানেই জবাই করবো,,,
নাবিলের কথায় পরশ হাওলাদার ভাঙ্গা শব্দে গর্জে উঠে বললেন,,
_ তুমি আর পারো কি,,, অমানুষ,,, সত্যি কথা গায়ে লেগে গেছে,,
নাবিল রেগে উঠে দাঁড়ালো,,, জব্বার খান ছেলেকে হতের ইশারায় বসতে বললো,,,পরপর পরশ হাওলাদারের দিকে তাকিয়ে বললো,,
_ মেয়ের সম্মানহানি হয়েছে,,,সাহেব রেগে আছে,,, তুই বস,, তুইও যদি তেতে উঠিস তাহলে কি করে হবে,,, ঠান্ডা মাথায় কাজ কর,,
পরশ হাওলাদার উঠে দাঁড়ালেন গর্জে উঠে বললেন,,
_ বেড় হয়ে যান আপনারা ,, আমার নিষ্পাপ মেয়েকে আমি আপনাদের মতো জানোয়ারদের হাতে তুলে দিবো না দরকার পড়লে গলা টিপে হত্যা করবো,,তাও আমার মেয়ে শান্তি পাবে,,,,
নাবিল আর নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করলো পারলো না,,,সাথে সাথে পকেট থেকে গান(বন্দুক) বেড় করে পরশ হাওলাদারের দিকে ত্যাগ করলো,

জব্বার খান চোখের পলক ফেললে,,নিরবে বসে থাকা নাজমা চোখ বড় বড় করে তাকালেন,,,
নাবিল এক মূহুর্তো নিলো না‌ বিকট শব্দে গুলিবিদ্ধ করা হলো পরশ হাওলাদারকে,,, ছোট্ট গুলি যেএ লাগলো পরশ হাওলাদারের পায়ে,,,যার কারণে জব্বার খান ছেলের হাত সাথে সাথে নিচের দিকে করে আঁকড়ে ধরেছেন,,না হলে ছোটো বস্তু টা ডিরেক্টর পরশ হাওলাদারের বুকে যেএ স্তব হতো,,
পরশ হাওলাদার আর্তনাদ করে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়লেন,,, জব্বার খান ছেলের দিকে তাকিয়ে হেলামি করে বললেন,,
_ ধৈর্য ধরতে শিখো নাবিল,,,হবু শশুর হয় তোমার,,আর তুমি,,,বসো তো,,
বলেই ছেলের হাত থেকে বন্দুক নিয়ে ছেলেকে জোর করে বসিয়ে দিলেন,,,নাজমা মাথা নিচু করে বসে রইলেন,,,কিছুটা অতীতের কথা মনে পড়ে গেলো তার,,যেই অতীতে তার সাথেও এরকম কিছু হয়েছিলো তবে প্রেক্ষাপট আলাদা,,,সে চেয়েছিলেন সন্তান গুলোকে ভালো পথে আনতে তবে জব্বার খানের জন্য পারেননি,,,

ছোটো বেলা থেকেই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে
“যা তোমার পছন্দ তা ছিনিয়ে নেও,,, তোমাকে কেউ দুটো মারলে তুমি ১০ টা মেরে দিয়ে আসবে,,জিতেই বাড়ি ফিরবে, দরকার পড়লে জান কবজ করে নিবে,তার পর বাকিটা আমি দেখে নিবো”
নাজমা বেগম ভেবেই দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন,,,সে নিজেও এদের সাথে থেকে খারাপ হয়ে গেছে,,, শুধু চুপ থাকা শিখে গেছে সে,,,
বিকট শব্দ শুনে রুম থেকে প্রিউ,,পরি আর জায়মা বেগম বেড় হয়ে আসলেন,,, অতঃপর বাড়ির কর্তাকে ফ্লোরে পড়ে ছটফট করতে দেখে আহাজারি করে উঠলেন,,
জায়মা বেগম ছুটে স্বামীর কাছে আসলেন,,, এদিকে পরি স্তব,,,চোখ বেয়ে পানি পড়ছে,,এতো ধংস করেও কি হয়নি যে এখন আবার চলে এসেছে,,,
পরি ধীরো পায়ে এগিয়ে গেলো,,,পরপর ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসে অসহায় দৃষ্টিতে বাবার দিকে তাকিয়ে নিজেও অসহায় হয়ে গেলো,,,,
নাজমা পরির দিকে তাকিয়ে কেমন করে হাসলেন,, সুন্দর, হ্যাঁ তাই আর এই অবস্থা,,,নাজমা বেগম নিজেও চোখ ধাঁধানো সুন্দরী,,,যার ফল স্বরুপ সে শাস্তি পেয়েছে জব্বার খানের স্ত্রী হয়ে,,এখন পরিও পাবে নাবিলের সহধর্মিণী হয়ে,,, তাদের বাড়িতে প্রত্যেকটা নারী অপরুপ সুন্দরী,,,

_ শাশুড়ি আম্মা,, আপনার কি মনে হয় না মেয়েকে বেশি লাই দিয়ে বড় করেছেন না মানে খুবি ভালো,,
আরহামের কথায় হাজেরার কাজ করতে থাকা হাত দুটু থেমে গেলো,, কিছু সময় নিরব থেকে শান্ত কন্ঠে বললো
_ এখানে আসার কোনো বিশেষ কারন,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে বললো
_ এই তো মেইন পয়েন্ট ধরে ফেলেছেন,,,, actually মা মেয়ে কাউকে বাড়িতে পাচ্ছি না,,, আপনার বেয়াইন কেও দেখছি না,,একটু কষ্ট করে বলবেন আমার বউ বাচ্চা কোথায়,,,
হাজেরা শব্দ করে মশলার বয়াম রাখতে রাখতে বললেন
_ তোমার বউ বাচ্চা,,, আমি কেন খোঁজ রাখবো,,,
আরহাম মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ সেটাই তো,,,তবে বড্ড বেয়াদব আপনার কন্যা কথা কম শুনে,, কিছু বললেই “না” জিভের ডগায় থাকে,,একটু বুঝিয়ে দিবেন যাতে স্বামীর কথা একটু কানে নেয়,,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ তোমার টা তুমি বুঝিয়ে নিও,,আর সবাই বাগানে,,,,
আরহাম মুচকি হেসে বললো
_ ধন্যবাদ,,, আমার ছেলে মেয়ের হবু নানি,,,
হাজেরা আরহামের কথায় হতভম্ব হয়ে গেলো,,ছেলেটা একটা বেয়াদব ছাড়া কিছু নয়,,তবে পরপর একটু হাসলো হাজেরা,,নুবার জন্য পাগল প্রায়,,,

রিহান কেমন করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ এবার তো বাসায় চলো,,আর কত দিন এখানে থাকবো,,
আরশি সিরি দিয়ে নামতে নামতে বললো
_ কালকে,,,
_ এই কথা তুমি আরো দুই দিন আগে থেকে বলছো,, না গেলে বলো আমি চলে যাই,, আমার তো কাজ কাম আছে তাই না,,
আরশি ঠোঁট টিপে হেসে বললো
_ আপনি চলে গেলে আমি কী করে থাকবো,,রাতে আমার হাত,পা মাথা কে টিপে দিবে,, যত্ন করে পেটে হাত কে বুলাবে আর কেই বা বুকে জরিয়ে নিবে,,,হুম,,কে দিয়ে দিবে পায়ের তলে বালিশ যাতে ঘুমাতে সমস্যা না হয়,,কে করবে এই সব বলুন,,,
_ এই সব করার জন্য দরকার,,তার মানে আমাকে দরকার না তাই তো,
আরশি খিলখিল করে হেসে উঠলো রিহানের অভিমানি কন্ঠ শুনে,,বিরবির করে বললো,,
_কারো‌ সাহস আছে এই সব করার বলুন তো,, আপনাকে ব্যতিত কাউকে এই অধিকার দিয়েছে হুম,,,

পরি নাবিলের দিকে ঘৃনিত চোখে তাকি কম্পিত ঠোঁটে বললো,,
_ কেন পশুর মতো আমার আমার পিছনে পড়ে আছেন,,,কি বলে আখ্যায়িত করলে আপনাদের লজ্জা হবে,,কি বলে,,,
নাবিল উঠে যেএ কিছু বলতেই যাবে তার আগেই নাজমা বেগম মৃদু কন্ঠে বললো
_ তুমি দাঁড়াও,,আমি বুঝাচ্ছি ওকে,
নাজমা পরির কম্পিত শরীরে ধরে টেনে রুমে নিয়ে আসলো,, এদিকে স্বামীর পা চেপে ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন জায়মা বেগম,,আর ধৈর্য ধরতে পারছেন না তিনি,,না তার শরীর সাই দিচ্ছে,,
নাজমা বেগম পরিকে এনে বিছানায় বসালো,, পরপর তার পাশে বসে মৃদু কন্ঠে বললো,,
_ পানি খাবে,,,
পরি তিক্ত কন্ঠে বললো
_ বিষ দেন,,বিষ,,,
নাজমা বেগম পরির কষ্ট অনুভব করলেন,,পরপর পরির এক হাত চেপে ধরে বললেন,,
_ শান্ত হও,,দেখে বুদ্ধিবতীই মনে হচ্ছে,, এমন আচরণ করে নিজের পরিবারকে বিপদে ফেলা মোটেও যথার্থ নয়,,

পরি নাজমা বেগমের থেকে নিজের হাতটা সরিয়ে নিয়ে রাগি কন্ঠে বললো,,
_ ওই জানোয়ারটাকে আপনিই জন্ম দিয়েছেন তাই না,,, লজ্জা করে না আপনার,,, কেনো গর্ভে ধারন করেছিলেন,,খাবারের সাথে বিষ দিয়ে মেরে কেনো ফেলেলনি,,,
নাজমা বেগম মৃদু হেসে বললো
_ শান্ত হও,,যা বলছে তাই করো,, না হলে কেউ বাঁচবে না,, তুমি বেঁচে গেলেও তোমার পরিবার এখানেই চাঁপা পড়ে থাকবে,,,
পরির শরীর রাগে কেঁপে উঠলো,,হাত মুঠো বদ্ধ করে বললো,,
_ হুমকি দিচ্ছেন আমাকে,,,মা যদি এমন হয় ছেলে আর কেমন হবে,,, আপনার কি বিবেকে বাঁধে না,, একজন নারী হয়ে আর একজনের এরকম ধংস হতে সাই দিতে,,কলিজা কাঁপে না আপনার,,, এরকম অমানুষ আমার হলে আমি গলা টিপে মেরেই ফেলতাম তাও কারো ক্ষতি হতে দিতাম না,,,
নাজমা বেগম শান্ত চোখে পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ তুমি কী ভাবছো,,কথা গুলো বলে তুমি মুক্তি পাবে,,একদমি না বরং তোমার আরো সর্বনাশ হবে,, শুধু জন্ম দিয়েছি,, এতটুকুই আমার কর্তব্য ছিলো এর পর তাঁকে অমানুষ বানানো হয়েছে,,আমি শুধু একটা রাস্তা শুধু তাকে পৃথিবীতে আনার এর ব্যতিত আমার আর কোনো অধিকার নেই,,,
পরি কাতর চোখে নাজমা বেগমের দিকে তাকালো,,ভিতরটা জ্বলে যাচ্ছে তার ,, কি করবে সে,,

আমিনা বেগমের সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আলাপ করছিলো নুবা,,, নতুন নতুন বউ হয়েছে বেচারি আলাপতো করাই যায়,,,আমিনা বেগম অতীতের কিছু কথা বলছেন যখন এই বাড়ি তৈরি করা হয়েছিলো,,আর নুবা তার পিছন পিছন হাঁটছে,,,
নুবার ভাবনা চিন্তার ভিতরে হঠাৎ করেই পিছন থেকে কেউ তাকে আঁকড়ে ধরলো,,নুবা কি reaction দিবে বুঝতে পারলো না তবে তার আগেই আরহাম নুবার কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো,,
_ কোথায় ছিলেন,,না দেখতে পেয়ে জানটা বেড় হয়ে যাচ্ছিলো,,, আপনাকে না দেখলেই,আপনার মা”কে কে খুঁজি আমি,,,কি একটা জ্বালা,,,
নুবা আরহামের কন্ঠে শান্ত হলো,, ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে হাঁটতে হাঁটতে বললো
_ কেনো,,মা”কে খুঁজেন কেনো,,
আরহাম বিরবির করে সুধালো,,
_ যদি শাশুড়ি আম্মা আপনাকে নিয়ে উড়াল দেয় সেই ভয়ে,,সে বাড়িতে মানে আপনিও বাড়িতে,,,হুম,,
নুবা মিটমিট করে হেসে বললো
_ এতো ভয়,,,নাকি সবি নাটক হুম,,

_ Don’t say it like that. ,,,নাটক কি,,,একদমি নাটক না,,, যেদিন রুহটা বেড় করে হাতে দিবো তখন বুঝবেন,,,,
নুবা শব্দ বিহীন হাসলো,,,আমিনা বেগম নুবার সারা শব্দ না পেয়ে পিছন ফিরে তাকালো,,, অতঃপর নজরে পড়লো কেনো নুবার সারা শব্দ নেই,,,, আরহাম নুবার কাঁধ থেকে থুতনি সরিয়ে নুবাকে আর আয়ারকে কোলে তুলে নিলো,,নুবা আশ্চর্য বনে গেলো,,, অদ্ভুত কন্ঠে বললো,,,
_কি,,কি করছেন,,,
_ বাড়ি থেকে বেড় হবে না,,বুকটা ধুকপুক করে উঠে,,,,
আমিনা বেগম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে মৃদু হাসলেন,,,
আরহাম এক পলক মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ See you later. ,, bye bye Mom,,,
নুবা বেশ লজ্জা পেলো,,পরপর আরহাম নুবাকে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলো,,, রান্না ঘড় থেকে মেয়ে আর মেয়ে জামাইয়ের হাসির শব্দ শুনে হাজেরা নিজেও মুচকি হাসলেন,,,সুখি হলেই তো ভালো,,,,এটাই তো চান তিনি,,,

পরি ক্লান্ত শরীরে নাবিলের থেকে নিজের হাত ঝাড়া মেরে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো,,
_ মরে যাবো তাও আপনার নামে কবুল পড়বো না,,ছি,,কক্ষনো না,,,,
নজমা বেগম হতাশ এতো বুঝানোর পরেও মেয়েটা বুঝেনি,,আর বুঝবে কি করে পরির মাথা এখন ঠিক নেই,,সে নিজেও জানে না তার কি ইচ্ছা হচ্ছে,,,
নাবিল পরির কথায় তেতে উঠে বললো,,
_ আচ্ছা ঠিক আছে,,তালহে তোকে রক্ষিতা বানিয়ে নিয়ে যাবো,,তাও তোকে যেতেই হবে,,,
কথাগুলো কর্ণপাত হলো সবার,, জব্বার খান উঠে দাঁড়িয়ে মৃদু কন্ঠে বললো,
_ আমার বাড়িতে কোনো সম্পর্কহীন মহিলা মানুষ প্রবেশ করবে না,,আমি নিচে যাচ্ছি,,, একদম বিয়ে সেরে মেয়েকে নিয়ে নিচে আসবে,,এখানে এতো নাটক দেখতে ইচ্ছা করছে না,,,
বলেই জব্বার খান বেড়িয়ে গেলেন,, কারণ সে জানে নাবিলি একাই ১০০,,,
জব্বার খান যেতেই নাবিল দাঁতে দাঁত চেপে প্রিউর দিকে তাকালো,,,পরি নাবিলের নজর খেলায় করতে পারলো,,,পরপর বোনের সামনে যেএ দাঁড়িয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,,
_ আপনার এই অপবিত্র নজর আমার বোনের দিকে দিবেন না ,,
নাবিল পরির নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে শয়তানের মতো বললো,,
_ ইচ্ছা তো করছে তোর বোনটাকে মাঝখান থেকে দুইভাগ করে ফেলি,,,ওর কান্না এতোটা বিরক্তি কর,,,,
পরি নাবিলের দিকে তাকিয়ে ভাঙ্গা কন্ঠে বললো,,

_ সব তো শেষ করে দিয়েছেন,,যা চেয়েছিলেন তা তো অনেক আগেই পেয়ে গেছেন,,তালহে কেন আবার এসেছেন,,দয়া করে আমাকে আর আমার পরিবারকে বাঁচতে দিন,,,
বলেই পরি আনুনয় করে দুই হাত জোর করলো,,যেনো গলা বাজিয়ে কিছু হচ্ছে না তাই সে নতো হতেই চাইছে,,তবে উপায় হলো না,,নাবিল অত্যান্ত শান্ত কন্ঠে বললো,,
_ তোর কি মায়া হচ্ছে না,,তোর বাপটা পড়ে কাতরাচ্ছে আর তুই এখনো ঘরত্যারামো করছিস,,,কসম করে বলছি,,, তুই আমার সাথে চল তবে তোর পরিবারের দিকে ফিরেও তাকাবো না,,,আমি কোনো ঝামেলা চাইছি না,,,
পরি কিছু বলার ভাষা খুঁজে পেলো না,, নিজের প্রতি নিজেরি হাসি পাচ্ছে তার,,,পরি কিছু সময় চুপ থেকে মৃদু কন্ঠে বললো
_ এই রুপ,,এই চুল,,এই সৌন্দর্য যদি নষ্ট হয়ে যায় তবে কি আমাকে রেহাই দিবেন,,,তবে বলুন সব ধংস করে ফেলবো,,সব,,,
পরির কথায় কিছুটা শান্ত হয়ে যাওয়া নাবিল আরো তেতে উঠলো,,,পরির বাহু শক্ত করে চেপে ধরে বললো,,
_ আর আমি তোকে সেটা করতে দিবো,,, চুপচাপ চল,,না হলে তিনটাকে পুতে রেখে তার পর,,,,
নাবিল কথা শেষ করার আগেই পরি ঠাস করে নাবিলের গালে একটা চড় বসিয়ে দিলো,, দারুন সাহস আর রাগ নিয়ে কাজটা করলো সে তবে অবশ্য জানে এর পরিনতি খুব খারাপ হবে,,,পরি থাপ্পর টা মেরে নিজেও অপ্রস্তুত হয়ে গেলো,, ভয়ে দুই কদম পিছিয়ে গেলো সে,,,

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই নুবা ঝাঁপসা চোখে আশে পাশে তাকালো,,, আরহাম আরো ভোর বেলায় উঠেছে তবে কেনো?,,সে তো নুবার আগে কখনোই উঠে না,,,
নুবা উঠে বসে অবুঝ চোখে আরহামের দিকে তাকালো,,, আরহাম মুচকি হেসে এগিয়ে আসলো,,পরপর নুবার ওধরে চুম্মুন করে মৃদু কন্ঠে সুধালো,,
_ উঠেন,, ফ্রেশ হয়ে Breakfast করে নেন,, আমাদের বের হতে হবে,,,
আরহামের কথায় নুবা কিছুটা অবাক হয়ে বললো
_ আমরা কোথায় যাচ্ছি ,,
আরহাম ঘড়ি পড়তে পড়তে বললো
_ অফিসে,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বিছানা থেকে নামতে নামতে বললো
_ তাহলে তো আপনি যাচ্ছেন,,আমি না,,,

আরহাম একটু হেসে এগিয়ে আসলো,,,নুবাকে বাহুডোরে আবদ্ধ করে ফিসফিস করে বললো
_ আপনিও যাচ্ছেন,,, কারণ আমি চাই না ,,আমি যাওয়ার পর কেউ আপনার কানে বিষ ঢেলে দিক,,
নুবা ভুরু কুঁচকে মাথা উঁচু করে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনি কি Indirectly আমার আম্মুকে মিন করছেন,,,
_এই জন্যই তো আমার আপনাকে এতো ভালো লাগে ,, স্বামীর বাক্যে ২ মিনিটেই ধরে ফেলে,, বুদ্ধিমতী,,,
নুবা ঠাস করে আরহামের বুকে কিল বসিয়ে দিলো,,,,ভুরু কুঁচকে সুধালো,,
_অসভ্য লোক ,,, আমার মাকে সম্মান করে কথা বলছেন না হলে একদম,,,,
বলেই আরহামকে শাঁশালো,,, আরহাম নুবার কিল দেওয়া জায়গায় দুই হাত চেপে ধরে আর্তনাদ করে উঠলো,,,নুবা ফিরে তাকালো আরহামের দিকে,, তবে আরহামকে এরকম নাক মুখ কুঁচকে থাকতে দেখে একটু ভীত হলো সে,,,আবারো এগিয়ে এসে তার বুকে হাত রেখে বললো,,

_ বেশি লেগেছে,,, ব্যাথা পেয়েছেন ,,দেখি,,,
নুবাকে অস্থির হতে দেখে ফাজিল আরহাম দাঁত কেলিয়ে হেসে উঠলো,,তার হাসির শব্দে নুবা নাক মুখ কুঁচকে বললো,,
_ অভিনয় করছিলেন,, অসভ্য লোক,,
আরহাম নুবাকে আবারো জরিয়ে ধরে বললো
_ অনেক লেগেছে,, please একটা চুমু দিয়ে দেও,, ঠিক হয়ে যাবে,,,
নুবা একটু লজ্জা পেয়ে মিটমিট হেসে আরহামকে জরিয়ে ধরে বিরবির করে বললো
_ আপনিও না,,,
অতঃপর দুই জনের হাসির শব্দ সাথে বরাবরের মতো আয়রার ঘুমঘুম কন্ঠে কাঁদার শব্দ শোনা গেলো,,,

পরশ হাওলাদার চুপচাপ বিছানায় শুয়ে আছেন,,পাশেই প্রিউ আর জায়মা বেগম বসা,,,রাত শেষ হয়ে দিন হয়েছে তবু তাদের চোখে ঘুম নেই,,,পায়ের যন্ত্রনায় পরশ হাওলাদারের অবস্থা নাজেহাল,,, শুধু স্তব হয়ে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে আছেন যেনো কোনো এক চমৎকার হবে আর তাদের জীবনে সুখ ফিরে আসবে,,,
পরশ হাওলাদারের কানে এখনো বিঁধছে নাবিলের বলা কথা গুলো,,প্রতিটা বাক্যে একজন বাপ হিসাবে সে ব্যর্থ এটাই বুঝিয়ে দিয়েছে তাকে,,
_ আপনার কোনো যোগ্যতা নেই মেয়ে জন্ম দেওয়ার,,, কারণ আপনি এতোটাই অযোগ্য যে মেয়েদের রক্ষা করতে পারেন না,,,
নাবিলের কথায় শুধু অসহায় এক বাবা চেয়ে রইলো,,নাবিল এক গাঁদা থুথু ফ্লোরে ফেলে বললো,,,
_ ছোটো টা বড় হচ্ছে সামলে রেখেন,,,কোনো দিন আর মেয়ে জন্ম দিয়েন না,,, কারণ না আছে আপনার মুরদ আর না অধিকার,,
পরপর নাবিল থেকে তাচ্ছিল্য করে হেসে বললো,,

_ যার নিজের মেয়েকে রক্ষা করার ক্ষমতা নেই তার অধিকার নেই মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া,,এবার মেয়ে হলে আগে গলা টিপে মেরে ফেলবেন না হলে আপনার কপালে শনি লেগেই থাকবে,,,
কথা গুলো ভাবতেই পরশ হাওলাদারের চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,আসলে নাবিল ঠিকি বলেছিলো তার যোগ্যতা নেই মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার ,,যদি থাকতো তবে আজ চোখের সামনে না মেয়েটার সম্মান হানি হতো আর না কেউ চোখের সামনে থেকে মেয়েটাকে তুলে নিয়ে যেতে পারতো,,,

আরহাম নুবাকে নিয়ে তার অফিসের কেবিনে প্রবেশ করলো যা আরহামের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে অনেক আগেই,,,
নুবা কেবিনে প্রবেশ করতেই একটু অবাক হলো,,কেবিনটা বেশ বড় আর সুন্দর,,,সব কিছু সুন্দর করে সাজানো,,,
নুবা মাথা উঁচু করে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো,,
_ এখানে সারাদিন থাকতে হবে,,খুব বোরিং লাগবে,,,
আরহাম মুচকি হাসলো,,আয়রাকে কোলে নিয়ে তার প্রিয়তমার হাত ধরে একটু সামনের দিকে এগিয়ে যেএ একটা ডোর খুলে দিলো,,,,ভিতরে প্রবেশ করতেই নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,এটা তো মিনি সংসারের মতো,,একটা ছোট্ট কক্ষ,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে আরহামের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বললো,,
_এখানে রুমো আছে বুঝি,,,
আরহাম এগিয়ে যেএ চারি পাশে তাকিয়ে বললো,,
_ একটুও বোরিং লাগবে না,,,,টিভি আছে,,,বিছানা আছে,,মেয়েকে নিয়ে সারাটা দিন আরামছে কাটাতে পারবে,,,,

নুবা অনেকটাই খুশি হয়ে গেলো,,,, অনেকের কেবিনে এরকম রেস্ট নেওয়ার জন্য আলাদা একটা রুম তৈরি থাকে,,,,যেখানে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস পত্র রেখে দেওয়া হয় আরহামের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়,,তবে আজ নুবাকে নিয়ে আসবে দেখে নতুন করে সব সেটআপ করেছে,,,
নুবা যখন আশে পাশে তাকিয়ে ভাবতে ব্যস্ত যে এখানেও রুম আছে তখনি আরহাম এগিয়ে আসলো,,পকেট থেকে গান(বন্দুক) বেড় করে সামনের ছোট্ট ড্রয়ারে রেখে দিলো,,নুবা কিছুটা আশ্চর্য হয়ে বললো
_ এটা কেনো এনেছেন,, আমাকে আবার মেরে টেরে ফেলার ধান্দা নাকি,,,
নুবার প্রশ্নে আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ আগে বাসরটা সেরে নি তার পর না হয় দেখা যাবে,,,
আরহামের কথায় নুবা ভুরু কুঁচকে বললো,,
_ মানে,,আপনি কি কোনো কালে পাগল ছিলেন,,,
আরহাম এগিয়ে এসে নুবাকে এক হাত দিয়ে জরিয়ে ধরে কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো,,
_ আপনি একটু রেস্ট নেন,,আমি আসছি,,,
নুবা দুই হাত আরহামের বুকে চেপে ধরে বিরবির করে বললো,,
_ আপনার কি সবসময় জড়াজড়ি করে,চুম্মা চুম্মি করতে ইচ্ছা করে,,কথায় কথায় এসে এই সব শুরু করেন,,
আরহাম নুবার কথায় মুখটা কিছুটা কালো করে বললো

_ কেনো আপনার এই সব পছন্দ না,,,
নুবা মাথা নিচু করে করে মিটমিট করে হেসে বললো,,
_ ইয়ে মানে,,একটু একটু ভালো লাগে,,,
_ তা কি করলে আপনার বেশি ভালো লাগবে,,,
নুবা আরহামের বুকে মাথা রেখে শার্টের বোতাম খুঁটে বললো,,
_ সারাদিন কোলে নিয়ে ঘুরলে,,,,
আরহাম ফিক করে হেসে উঠলো,,ভারি কন্ঠে বললো
_ আচ্ছা,, আমার মিনি হাতিকে কোলে নিয়ে একদিন পুরো দুনিয়া ঘুরে আসবো,দেখবো কত কোলে থাকতে পারে,,,,এখন আপনি একটু বসেন আমি আসছি,,,
নুবা আরহামকে ছেঁড়ে দিলো পরপর হাত পাতলো মেয়েকে নেওয়ার জন্য তবে আরহাম মেয়েকে নিয়েই চলে গেলো,,নুবা বলদের মতো দাঁড়িয়ে রইলো,,হলোটা কি,,তবে চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে নুবা রুমটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলো,,,

আরহাম হারুন মির্জার কেবিনের সামনের যেএ নক করলো,,, হারুন মির্জা মৃদু কন্ঠে বললো
_ coming,,
আরহাম মেয়েকে নিয়ে ভিতরে ঢুকলো,,, হারুন মির্জা ছেলেকে আসতে দেখে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ বসো,,
আরহাম চেয়ার টেনে সামনে বসে বললো,,
_ তো,,আজকি আসছে,,,
হারুন মির্জা চোখের চশমা খুলে রেখে শান্তির নিশ্বাস ফেলে বললেন
_ ওরা কি আর বলে আসার মানুষ,,আসবে হঠাৎ করেই,,,তবে তুমি কি বউ বাচ্চা নিয়ে এখানে ডেরা (ঘর) বাঁধতে এসেছো,,,
আরহাম ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকা আয়রার দিকে তাকিয়ে বললো,,
_ বউ বাচ্চা ব্যতিত মন টিকে না dad,, তুমি বুঝবে না,,, কারণ তোমার তো আমার মতো বাপ শাশুড়ি নেই,,,,so আসলে আমি বউ বাচ্চা নিয়েই আসবো,,This is my last Opinion ,,,i think তুমি অবজ্ঞা করবে না,,,,

হারুন মির্জা ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন,,এতোটা ফাজিল জন্ম দিয়েছে সে ভাবতেই তার অবাক লাগে,,,‌ হারুন মির্জা আয়রার দিকে তাকিয়ে বললেন
_ তোমার বউ এর যে রেজাল্ট বেড় হয়েছে তার কোনো খবর আছে,,,মেয়েটাকে তো বিয়ে করে বসিয়ে রেখেছো,,,পড়া লেখা কি আর করাবে না,,,
_ এটা ওর ইচ্ছা,,,,
_ ওর ইচ্ছা না আরহাম,,নুবাকে সাবলম্বী হতে হবে,, তুমি ওকে সাপোর্ট করো,,তবেই তো ও সফল হবে,,,আর একটু পড়া লেখা করলে না হয় নুবাকে কম্পানির কোনো চাকরি ধরিয়ে দিবো,,,তখন জামাই বউ এক সাথে job করবে,,
আরহাম বিরক্তিকর নিঃশ্বাস ফেলে বললো,,

_ প্রথম কথা হচ্ছে,,আমি থাকতে ওর সাবলম্বী হতে হবে না,,ও আমার পায়ে দাঁড়াবে,,এতো নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে না,, আমার যা আছে সবি তো ওর ,,তার উপর আপনার হয়তোবা জানা নেই আপনার বউ মা যে পড়ালেখায় ফাঁকি মারে,,, রেজাল্ট আমি অলরেডি দেখে ফেলেছি,,,টেনে টুনে পাশ করেছে,, মান ইজ্জত সব শেষ করে দিয়েছে,,ফেল করতে করতে কোনো মতে নাকে মুখে চুবানি খেএ উঠে এসেছে,,,ভেবেছিলাম এই বিষয় নিয়ে ওর সাথে কথা বলবো তবে বলা হয়ে উঠেনি,,,,আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে আমরা এখানে পারিবারিক বিষয়ে কথা বলতে আসিনি,,,
হারুন মির্জা গম্ভীর কন্ঠে বললেন
_ আমরা এখানে পরিবার নিয়েও বসবাস করতে আসিনি,,,
_ এই বিষয় নিয়ে কথা না বললেই আমি খুশী হবো,,,
কিছু সময় নিরবতা কাটলো অতঃপর হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,,
_ আরফ দুটো শক্ত কথা বলতে পারবে না,,ওকে ভালো মতো চেনা আছে আমার,,, তুমি পারবে তাই ডেকেছি তবে আশা রাখছি ঝামেলা ব্যতিত সব কিছু সমাধান করবে,,,আমি ওদের সাথে তর্কে জড়াতে চাই না,, বয়স হয়েছে,, সবকিছু থেকে নিস্তার পেতে ইচ্ছা করে,,তাই না,,,

আরহাম আরো কিছু সময় হারুন মির্জার সাথে কথা বললো,, অতঃপর ওখান থেকে বেড় হয়ে আসলো,,,পরশু রাতে আরহামকে জব্বার খানের বিষয়টা বলা হয়েছিলো,,, কারণ হারুন মির্জার মনে হচ্ছিলো আরহামি সব সমাধান করতে পারবে,,,
এর আগেও টেন্ডারের ব্যপারটাও আরহাম দেখেছিলো,,যা হারুন মির্জার অজানা নয়,,সে মনে মনে খুশি হলেও চুপ ছিলেন,,,যার ফল স্বরুপ এই বিষয়টাও আরহামকে দেওয়া হয়েছে,,তবে কে জানতো বউ বাচ্চা নিয়ে অফিসেই ডেরা বাঁধবে,,,
আরহাম মেয়েকে নিয়ে আবারো কেবিনে ফিরে এলো,,,তবে আশ্চর্য কেবিনে কেউ বসে আছে আরহাম ভুরু কুঁচকে নিলো,,তখনি কিছু একটা মনে পড়তেই মুচকি হাসলো সে,,তবে এসে পড়েছে,,
আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো,,,সব খবর নিয়ে তবেই অফিসে পারা রেখছে আরহাম,,,আরহাম এগিয়ে যে গম্ভীর কন্ঠে সুধালো,,

_ mr খান,,,
নিজের নাম শুনে নাবিল চেয়ার ঘুরিয়ে পিছনে তাকালো,,নাবিলের চেহারাটা দেখেই আরহাম চোখের পলক ফেলে তার ব্যপারে জানা সব তথ্য একবার রিভিশন দিয়ে নিলো পরপর এগিয়ে যেএ চেয়ারে বসতে বসতে বললো,,
_ কি দারুন তাই না,,,অনুমতি ব্যতিত,,,না বলে কি সুন্দর গটগট করে এখানে চলে আসছেন,,,, অসাধারণ,,সবি ক্ষমতা,,,,
নাবিল টের পেলো আরহাম তাকে অপমান করলো তাও ঠোঁট হেলিয়ে বললো,,
_ এখানে আইতে আবার অনুমতি নিতে হয়,,,সেই যোগ্যতা তো থাকা দরকার আপনার ,,,বরাবরে আইলেই তবেই অনুমতি প্রদান করা হয়,,
নাবিলের মুখের বাক্যে শুনে আরহাম ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,,
_ যোগ্যতা কার কতটুকু আছে তা মাধ্য বরাবর তাকালেই টের পাবেন,,,আমি কোন চেয়ারে আর আপনি কোন জায়গায়,,, আমার সাথে দেখে করতে এসেছেন আপনি,,আমি না,, i think বুঝতে পারছেন,,,,
নাবিল আরহামের কথায় এক পলক আয়রার দিকে তাকালো,,,পরপর আশে পাশে চোখ বুলিয়ে পরিস্থিতি টের পেলো সে,,,কিছুটা সময় নিয়ে নিরবে শান্ত কন্ঠে বললো,,,
_ মন্ত্রীর পোলার সাথে কথা কইতাছেন,,,ভুইলা যাইবেন না আমি কেডা,,,
আরহাম মেয়ের গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে শান্ত কন্ঠে নুবাকে ডাকলো,,,

_নুবু ,,,,
ডাক শুনতে পেয়ে নবা ধীরো পায়ে রুম থেকে বেড় হয়ে আসলো,,,রুম থেকে বেড় হতেই নুবার সর্বপ্রথম চোখ গেলো নাবিলের উপর ,,সাথে সাথে নুবার ভুরু কুঁচকে গেলো,,,নাবিলের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নুবাকে ভেদ করে গেলো,,,নুবা চোখ সরিয়ে নিলো,,,
আরহাম আয়রাকে এগিয়ে দিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো,,
_ নিয়ে যেএ ফিড করিয়ে দেও,,মোচরামুচরি করছে নিশ্চয় ক্ষুধার চোটে,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে হ্যাঁ বলে মেয়েকে বুকে আগলে নিলো,, আরহাম চোখের ইশারায় সরে যেতে বললো,,,
নুবা তাড়াতাড়ি করে সরে গেলো,,,
নুবা যেতেই আরহাম নাবিলের দিকে তাকালো,,,নাবিল এক পা চেয়ারে উঠিয়ে বসেছে যা দেখেই হাসলো আরহাম,,, মৃদু কন্ঠে বললো,,

_ কোনো soft drink,,, like,,Jack Daniel’s,, স্কচ হুইস্কি,, কনিয়াক,,,
নাবিল দাঁত দিয়ে ঠোট কামড়ে ভুরু নাচিয়ে বললো,,
_ সবাই চা কফি অর্ডার করে আর আপনি ডিরেক্টর মাল খাওয়াতে চাইছেন,,
_ কারণ আপনার চেহারটাই ওরকম,,i know ভালো জিনিস যে আপনার মুখে রুচে না,,,
নাবিলের দাঁতে দাঁত চেপে আসলো,,চেয়ারে শরীর হেলিয়ে দিয়ে বললো,,
_ ফালতু কথা পাশে রাখেন,,জানেন তো কেন আইছি,,
_ চাঁদাবাজি করতে,,, Am I right?
নাবিল হেসে ফেললো,,,ঘোলা চোখ জোড়া দিয়ে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো,,
_ ইস্,,খুবি দুঃখজনক যে আপনি নতুন নতুন,,,যাই হোক,,,পেপার গুলোতে সই করে দিন,,,৫০% আমাদের,,,
বলেই কিছু কাগজ সামনে রাখলো,,,পরপর ভারি কন্ঠে বললো,,
_কথার এদিক ওদিক হলে,,,,
হাসলো নাবিল,, বন্ধুক বেড় করে টেবিলের উপর রাখলো,, আরহাম ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো,,, শান্ত কন্ঠে বললো,,

_ ঠিক সময় ভুল জায়গায় এসেছেন mr খান,,আমি ভিক্ষা দেই তবে আফসোস সুস্থ মানুষদের না,,,একটা কাজ করুন হাত পা ভেঙ্গে প্রতিবন্ধী হয়ে আসুন তবে যদি আপনার ভিক্ষার থালায় কিছু ভিক্ষা প্রধান করি,,,
এতো সময় নাবিল চুপ থাকলেও এবার তেতে উঠলো,,, টেবিলের উপর শব্দ করে হাত মারলো,,রাগে গর্জে উঠে বললো,,
_ তোর সাথে আমি জাওরামি করতে আইছি ছেমরা(ছেলে) ,,যা বলছি তাই কর না হইছে লাশ ফালাই দিমু,, আমারে চিনোস না তুই,,,
আরহাম চেয়ারে হেলান দিয়ে নাবিলের দিকে তাকালো আদাম দায়ক কন্ঠে বললো,,
_ দুটো চেলা পেলা সাথে নিয়ে ঘুরে,, মন্ত্রীর ছেলে হয়ে নিজেকে পাতি গুন্ডা ভাবছেন নাকি অন্য কিছু,,, আচ্ছা আপনার পরিচয় কি,,,বাপের পরিচয়ে তেজ দেখাচ্ছেন,, আমার একটা পরিচিত আছে,আমি নিজে সাবলম্বী,,,,নিজের ব্যবসা আছে,,, আপনার কি আছে,,,নাকি শুধু খুন করে,,ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করেন,,how ridiculous,,,

সামনে থাকা ছোট্ট কাঁচের paperweight ঘুরাতে ঘুরাতে আরহাম কথা গুলো বললো,,,নাবিল ঘায়ের বাঘের ন্যায় ক্ষেপে উঠলো ,,এর আগে কখনো একু এরকম সামন্য বাক্য দাঁড়া নাবিলকে এভাবে ঘায়েল করতে পারেনি,,,নাবিল হেসে উঠলো,,,আরহামের দিকে ঝুঁকে যেএ দাঁতে দাঁত পিষে বললো,,
_ Who am I? জেনে কি লাভ তোর,,প্রান টাই যদি খাঁচায় না থাকে,, তুই নতুন তো তাই জানিস না আমি কি জিনিস,,,তবে আফসোস জানার আগেই হয়তোবা,,,
বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই আরহাম ঠোঁট বাঁকিয়ে গা জ্বালানি হাসি দিয়ে বললো,,
_ একজন খুনি,,,প্রয়জনে মানুষ খুন করে,,,যে কিনা একজন ধর্ষক,,, সুন্দর মেয়ে দেখলে লোভ সমলাতে পারে না,,, আচ্ছা একটা গল্প শুনাই আপনাকে,,,বসুন,,মেহমানদের আমি অপমান করি না,,,
বলতে বলতে আরহাম উঠে দাঁড়ালো,,নাবিল সোজা হয়ে দাঁড়ালো,,, আরহাম টেবিলের এক হাত দিয়ে ঝুঁকে অন্য হাত দিয়ে paperweight ঘুরাতে ঘুরাতে বললো,

_ অতীতের কথা টেনে নাই তুলি,,তবে আপনি ভাববেন না আমি আপনার বিষয়ে খোঁজ খবর না নিয়ে এখানে বসেছি,,,পুরো নাম নাবিল ইফতিয়ার খান,,, যতটুকু জানি আমরা সমবয়সী,,তবে পার্থক্য অনেক,,, কিছু দিন আগে ঘটনা বলি,,তবে আগেই জেনে রাখুন আমি খুবি স্বার্থপর,,নিজের যেখানে লাভ আছে সেখানেই নাক গলায়,,অন্যরা কি করলো তাতে আমার বিন্দু পরিমাণ সমস্যা নেই তবে আমার কোনো কিছুতে হাত দিলে ব্যপারটা আলাদা,, আচ্ছা চলুন দেখে আসি কিছু সুন্দর দৃশ্য ,,
বলতে বলতে আরহাম সামনে থেকে ল্যাপটপ নিয়ে নাবিলের দিকে ঘুরিয়ে কিছু ফুটেজ চালু করলো,,নাবিলের ভুরটা কুঁচকে আসলো,,, আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো,,
_ বেশি না কয়দিন আগের কথা,,,পরশ হাওলাদারের বড় কন্যা,,,পরি সাবিহা হাওলাদার,,,দেখতে চোখ ধাঁধানো সুন্দরী,,,বহু কাল আগে এক দুষ্ট রাজার নজরে পড়ে যায় সেই সুন্দরী,,,,যে ছিলো অমানুষ,,খুনি,,নামটা চিনা পরিচিত হলেও মুখটা সবার অচেনা কারণ ক্ষমতার এতোই লোভ ছিলো যে সকল প্রমান ঘুচিয়ে দিতো,,, অতঃপর আসা যাক কাহিনিতে,,, কিছু দিন আগে গভীর রাতে পরি হওয়াদের বাড়িতে ঢুকে সেই দুষ্ট রাজা,,,সাথে ছিলো ৫/৬ জন সেনাবাহিনী,,,রাত ২ টা নাগাত পরি হাওলাদারের বাড়িতে আসে,,, অবশ্য আসেনি তাকে নিয়ে আসা হয়েছে,,এই যে দেখুন আপনার গাড়ি থেকে নামছে,,,
বলতে বলতে আরহাম ল্যাপটপে সিসিটিভি ফুটেজের দিকে দেখালো পরপর নাবিলের দিকে তাকিয়ে বিরহের হাসি হেসে বললো,,

_ সেই রাতে সেই দুষ্টু আর নিষ্ঠুর রাজা পরি হওলাদারকে খুব খারাপ ভাবে ঘায়েল করে,,লুটে নেয় তার সব কিছু,,পরের দিন সকালে অর্ধ মৃতো পরি হওলাদারকে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়,,,,৩/৪ টা হসপিটাল খোঁজ করে দেখা মিলে শেষ পর্যন্ত আমাদের হসপিটালেই নিয়ে আসা হয়,,,ওখান থেকে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়,, ইস্,,মেয়েটাকে যে দুষ্ট রাজা নিংড়ে খেয়েছে ফল স্বরুপ মিষ্টি মেয়েটা আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে,,, অতঃপর আবার তাকে বাড়িতে রেখে আসা হয়,,২/৩ দিন ভালোই কাটে তবে পরশুদিন আবারো সেই দুষ্টু রাজা পরি হওলাদারের বাড়িতে যায়,,তবে একা নয়,,সাথে মাতা পিতাকে নিয়ে,,,, অতঃপর দেখা যায় অসহায় মেয়েটাকে দুষ্ট রাজা টেনে হিচরে নিয়ে যাচ্ছে,,, ক্ষমাপ্রার্থী আমি যে একটা খুনের কথা বলতে ভুলে গেছি,,, সেদিন রাতে কোনো কারন বসতো নিজের দলেরি একজনকে খুন করে,,,এটা নিয়ে আমি অনেক আগ্রহী যে কেন mr খান কেনো এমন করলেন,,,
একটু থামলো আরহাম পরপর বলে উঠলো,,

_ এরকম আপনার খুনের,,,সহ আরো অনেক প্রমান আমার কাছে আছে তবে আমি আবারো বলছি অতীত নিয়ে টানা হেচড়া পছন্দ করি না,,তাই বর্তমানের কিছু ঘটনা তুলে ধরলাম,,,,আশা রাখছি আপনি বুঝতে পারছেন আমি চাইলে আপনার সাথে কি কি হতে পারে,, আপনার বাপো আপনাকে বাঁচাতে পারবে না তবে আফসোস এটাই তো যে এতো দক্ষ খুনি হয়ে একটা মেয়ের চক্রে পড়ে সকল প্রমান মিটাতে ভুলেই গেছেন,,,,এতোদিন সবার অবস্থা ছিলো দুঃখী দুঃখী ভাব প্রমানের অভাব ,,তবে আমার বেলায় একটু হেলামি করে ফেলেছেন,,, ঘাঁটলে অবশ্য আরো প্রমাণ পেতাম তবে আফসোস আমার এতো বিরক্তিকর জিনিস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটির অভ্যাস নেই,,,
কথা শেষ হলো আরহামের ল্যাপটপ বন্ধ করে টেবিলের উপর বসে দুই হাত এক হাতে জুরে হাত নাড়িয়ে বললো,,
_ তো mr খান,, কিছু বলার আছে,,,
নাবিল হঠাৎ করে শব্দ করে হাসতে লাগলো,,,নাবিলকে হাসতে দেখে আরহাম ভুরু কুঁচকে নিলো,,নাবিল হাসতে হাসতে বলে উঠলো,,

_আপনি আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন,,খুবি হাস্যকর,,
_ কয়দিন আগে জেল খেটে আসছেন,,আবার হয়তোবা ইচ্ছা হচ্ছে,,am i right,,,
নাবিল দাঁতে দাঁত চাপলো,,,টেবিল থেকে বন্ধুক তুলে আরহামের দিকে ত্যাগ করে গম্ভীর কন্ঠে বললো,,,
_ প্রানের মনে হয় ভয় নেই,,,ভালো মতো জানেন মানুষ খুন করা আমার বা হাতের কাজ তার পড়েও কেনো আমার সাথে পাঙ্গা নিচ্ছেন,,,
আরহাম চেয়ে রইলো,,,তবে কিছু বলতেই যাবে তার আগেই খট করে রুমের দরজা খুলে বাইরে বেড় হয়ে আসলো আরহামের মিনি হাতি,,,হাতে তার আরহামের রাখা সেই বন্ধুক,, আরহাম এক পলক সেদিকে তাকালো,,নুবা দুই হাত দিয়ে নাবিলের দিকে বন্ধুক ত্যাগ করলো,,, কাঁপতে থাকা হাতে ধরে রাখলো বন্ধুক,,, আরহাম নুবার বাচ্চামো দেখে মিটমিট করে হাসলো,,,নুবাকে হাতের ইশারায় নিজের কাছে ডাকলো,,,পরপর নাবিলের দিকে তাকিয়ে আদুরে কন্ঠে সাথে মশকরা করে বললো,,
_ “That’s my lady… I told you, never underestimate my woman.”

বলতে বলতে কাঁপতে থাকা নুবার দিকে এগিয়ে গেলো,,,পিছন থেকে জরিয়ে ধরলো তাকে,,কানের কাছে ফিসফিস করে বললো,,
_ my sweet honey ট্রিগারে আঙ্গুল চাপতে হয়,,,এটা রুটি বেলা বেলুন না যে দুই হাত দিয়ে এভাবে চেপে ধরে রেখেছেন,,,
নুবা পাশ ফিরে আরহামের মুখের দিকে তাকিয়ে কম্পিত কন্ঠে বললো,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৩

_ opss sorry ,,আমি খেলায় করিনি,,,মাথা কাজ করছিলো না,,,
আরহাম নুবার হাতের উপর হাত রাখলো পরপর গুলি চালাতে যা যা করনীয় সব আস্তে আস্তে নুবাকে বুঝিয়ে দিতে লাগলো,, এদিকে নাবিল হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,যেনো এখানে সে মিয়া বিবির খুচুরপুচুর দেখতে এসেছে,, তাকে দামি দিচ্ছে না,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here