প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ২
মুন্নি আক্তার প্রিয়া
গুনগুনের দৃষ্টিতে অ’গ্নি’শিখা। প্রণয়ের হুমকিতে সে মোটেও ভয় পাচ্ছে না। শেলী চৌধুরী প্রণয়ের হাত ধরে সরানোর চেষ্টা করে বললেন,
“প্রণয়, বাদ দাও। ঝামেলা কোরো না।”
প্রণয় সরল না। শেলী চৌধুরীর হাত সরিয়ে দিল। গুনগুনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলল,
“মেয়েদের গায়ে আমি হাত তুলি না। অসম্মানও করি না। ঠিক তেমনই আবার মেয়ে মানুষের অতিরিক্ত রাগ, তেজ, অহংকার আমার পছন্দ না।”
“আপনার পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে ভাবার জন্য তো আর আমার জন্ম হয়নি। আর না আমি আপনার বিয়ে করা বউ। সূতরাং আপনার অপছন্দ নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই। আর যেন কী বললেন? মেয়েদের সম্মান করেন আপনি? তার নমুনা তো মাত্রই দেখলাম। আপনার চ্যালাপ্যালারা আমাকে রাস্তায় ই’ভ’টিজিং করছে। আপনি প্রতিবাদ করার পরিবর্তে উল্টো এসেছেন আমাকেই হুমকি-ধামকি দিতে। কা’পু’রু’ষ যেন কোথাকার!”
প্রণয় রাগে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ফেলল। অবস্থা বেগতিক দেখে শেলী চৌধুরী এবার গুনগুনকেই জোর করে টেনে নিয়ে গেলেন। একটা খালি রিকশা পেয়ে উঠিয়ে দিলেন সঙ্গে সঙ্গে। প্রণয় এবার আর কোনো বাঁধা দিল না। রিকশা চলে যাওয়ার পর শেলী চৌধুরী প্রণয়ের কাছে গিয়ে বললেন,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“তুমি ওর কথায় কিছু…”
তিনি কথা শেষ করতে পারলেন না। তার আগেই সামনে এগিয়ে মাসুদের গালে চ’ড় বসাল প্রণয়। গালে হাত দিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মাসুদ। প্রণয় যে কখনো ওর গায়ে হাত তুলতে পারে এটা সে কল্পনাতেও আনেনি। মাসুদ অবাক হয়ে বলল,
“তুই আমাকে মা’র’লি?”
“মেয়েদের ই’ভ’টিজিং করতে নিষেধ করেছিলাম না?”
“আমি তো জাস্ট একটু মজা করছিলাম।”
“এই ধরনের মজা আমার পছন্দ না। নেক্সট টাইম একই কাজ যদি আবার করিস তাহলে ভুলে যাব তুই আমার বন্ধু।”
মাসুদ আর কিছু বলার সুযোগ পেল না। প্রণয় রাগ করে হনহনিয়ে চলে গেল। বাকিরাও বেশ অবাক হয়েছে এরকম কাণ্ডে। এমনকি শেলী চৌধুরী নিজেও। মাসুদ প্রণয়ের জানের জিগার। কখনো দুজনের ঝগড়াও হতে দেখেনি কেউ। সেখানে আজ প্রণয় ওর গায়ে হাত তুলেছে! শেলী চৌধুরীর এখন সবচেয়ে বেশি ভয় হতে লাগল গুনগুনের জন্য। মেয়েটা এতটা রাগ, জেদ না দেখালেও পারত।
গুনগুনের প্রেজেন্টেশন খারাপ হয়েছে। শুধু খারাপ নয়, খুব খারাপ। সকালের বিষয়টি সে মাথা থেকে বেরই করতে পারেনি। যার ফল পেতে হলো খারাপ প্রেজেন্টেশন দিয়ে। সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগছে এটা ভেবে যে, তার প্রিয় শিক্ষকের কোর্সের প্রেজেন্টেশন ছিল এটা। প্রণয়ের ওপর তার ভীষণ মেজাজ খারাপ হচ্ছে।
মন খারাপ করে ক্যান্টিনে একা একাই বসে ছিল গুনগুন। আমজাদ স্যারও এলেন তখন। গুনগুনকে দেখে পাশের চেয়ারে বসলেন। গুনগুন অপ্রস্তুত হয়ে সালাম দিল,
“আসসালামু আলাইকুম, স্যার।”
“ওয়া আলাইকুমুস-সালাম। দাঁড়াতে হবে না। বসো।”
গুনগুন কাচুমুচু হয়ে অপরাধীর মতো বসে রইল। স্যার জিজ্ঞেস করলেন,
“তোমার কী হয়েছে? আজ তোমাকে ভীষণ ডিস্টার্ব লাগছিল। এনিথিং রং?”
“তেমন কিছু না স্যার।”
আমজাদ স্যার গুনগুনের পারিবারিক অবস্থা সবটাই জানেন। কতটা মানসিক অশান্তি নিয়ে গুনগুন সেখানে থাকে, সেটিও তিনি জানেন। দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললেন,
“ফোকাস হারিয়ে ফেললে হবে না, গুনগুন। তোমার স্বপ্ন ভীষণ বড়ো। তবে অসাধ্য নয়। সেই স্বপ্নের খুব কাছাকাছি গিয়ে হার মেনে, নিও না। যতই কষ্ট হোক না কেন কনসেন্ট্রেশন হারানো যাবে না। স্বপ্নকে ছুঁতে তো হবে?”
গুনগুনের এখন কিছুটা নির্ভার লাগছে। মনটাও শান্ত লাগছে। এজন্যই আমজাদ স্যার ওর সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষক। গুনগুন মৃদু হেসে বলল,
“জি, স্যার। আমার দ্বারা আর এমন হবে না ইন-শা-আল্লাহ্।”
স্যার হেসে বললেন,
“গুড গার্ল। আল্লাহ্ তোমার স্বপ্ন পূরণ করুক দোয়া করি সর্বদা।”
প্রণয় বাসায় শুয়ে আছে একা। বাসা বলতে একটা ফ্ল্যাট নিয়ে থাকে। তিনটা রুম। প্রতিটা রুমে দুজন করে। বাকি দুইটা রুমেও ওর বন্ধুরাই থাকে। বিলাস-বহুল জীবন তার আছে। তবে সেই জীবন ওকে আকৃষ্ট করে না। বরং আরও ঝামেলা বাড়ায়।
প্রণয়ের জীবন গুনগুনের চেয়েও করুণ। একটা সময়ে প্রণয় বাবা-মায়ের ভীষণ আদরের সন্তান-ই ছিল। অল্প বয়সে মা বিধবা হয়, সে তার বাবাকে হারায়। বছর দুয়েক যেতেই নানা, মামারা জোর করে মাকে আবার বিয়ে দেয়। তার নতুন বাবা বিশাল বড়োলোক। অনেক টাকার মালিক। রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি। সেই রাজপ্রাসাদে অবশ্য প্রণয়ের জায়গা হয়নি। মায়ের বিয়ের পরও সে নানার বাড়িতেই থাকত। মাস শেষে বিশ হাজার টাকা পাঠাতেন ওর খরচের জন্য। ইন্টারের পর নানা-নানিও মা’রা যায়। তখন সে হয়ে যায় মামা-মামির কাঁধে বোঝা। তবুও তারা প্রণয়কে নিজেদের কাছে রাখত মাস শেষে আসা ঐ বিশ হাজার টাকার জন্য। প্রণয় মেধাবী ছাত্র ছিল। টিউশনি করেও টাকা আনত। মাঝে মাঝে যেত নতুন বাবার বাড়িতে। বাবা অবশ্য কথা বলতেন না। সবসময় গম্ভীর হয়ে থাকতেন। প্রণয় এতটুকু বুঝতে পারত যে, তার নতুন বাবা তার এই বাসায় আসাটা পছন্দ করছে না। তাকে কিছু না বললেও তার মায়ের ওপর রাগ ঝাড়ে পরে। এটা বোঝার পর থেকে প্রণয় আর যায় না ঐ বাড়িতে। মাঝে মাঝে মা নানার বাসায় এসে দেখা করে যেত।
প্রণয় ধীরে ধীরে এটাও বুঝতে পারে যে, মামা-মামি তাকে টাকার জন্যই উপরে উপরে যা একটু ভালোবাসা দেখায়। মামি বেশিরভাগ সময়ই খারাপ ব্যবহার করে। রাগ করে প্রণয় নানার বাড়ি থেকে বের হয়ে আলাদা থাকতে শুরু করে। দেড় বছর পড়াশোনা চালিয়ে গেলেও অনার্স তৃতীয় বর্ষে উঠে মাঝামাঝি সময়ে সে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। স্বপ্ন ছাড়া কখনো সামনে আগানো যায় না। প্রণয় ভেবে দেখল, তার কোনো স্বপ্ন নেই। পিছুটান নেই। এই জীবনে ও পৃথিবীতে তার আসলে কেউই নেই। পড়াশোনা করে সে কী করবে? তবে মাস শেষে এখনো তার একাউন্টে বিশ হাজার টাকা চলে আসে। মা পাঠায়। কখনো কখনো বাড়তি টাকাও পাঠায়। প্রণয় নিষেধ করে না। কোনো কাজকর্ম করে না। মায়ের পাঠানো টাকাতেই কোনো রকম জীবন চলে যায়।
নানার বাড়ি ছেড়ে চলে আসার পর-ই প্রণয়ের নতুন নতুন অনেক বন্ধু-বান্ধব হয়। ওদেরও কোনো স্বপ্ন নেই, ঘর নেই। ভবঘুরে হয়ে ঘুরে বেড়ায়। প্রণয়ের এতটা বিগড়ে যাওয়ার পেছনে ওর নতুন বন্ধুদেরও কিছুটা হাত আছে, যাদের সঙ্গে এখন ও থাকে। কথায় আছে, ‘সৎ সঙ্গে সর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’, অথবা ‘সঙ্গদোষে লোহা ভাসে’। প্রণয়ের সাথেও অনেকটাই এরকমই হয়েছে।
প্রণয় শুয়ে শুয়ে আজকে সকালের কথা ভাবছিল। রাতে খায়নি এখনো। মাসুদকে মা’রা’র পর থেকে মনটা ভালো লাগছে না। এমনিতে মাসুদ যেমন-ই হোক না কেন, প্রণয়কে সে খুব ভালোবাসে। কখনো ওকে ছাড়া কিছু খাবে না, ওকে রেখে কোথাও যাবে না। মাসুদের অবশ্য বাবা-মা আছে। গ্রামে থাকে। একদম-ই দরিদ্র ওরা। মাসুদ মাঝে মাঝে কিছু টাকা পাঠায়। ওর কাজকর্মের কোনো ঠিক নেই। তবে হালাল ইনকামের চেয়ে ওর হারাম ইনকাম-ই বেশি বলা যায়।
মাসুদ রুমে এসে চুপচাপ নিজের বিছানায় শুয়ে পড়ল। প্রণয় আড়চোখে তাকাল একবার। শোয়া থেকে উঠে বসে ডাকল,
“মাসুদ?”
মাসুদ জবাব দিল না। প্রণয় আবার ডাকল,
“ঐ মাসুদ?”
এবারও মাসুদ নিশ্চুপ। প্রণয় উঠে এবার ওর নিতম্বে একটা লা’থি দিয়ে বলল,
“এই শা’লা, ডাকতেছি যে শুনিস না?”
মাসুদ উঠে বসল। রাগ ও অভিমান মেশানো কণ্ঠে বলল,
“আমারে ডাকস ক্যান? তুই যাইয়্যা তোর গুনগুনের কোলে উইঠা বইসা থাক।”
প্রণয় ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
“গুনগুন কে আবার?”
“কে আবার? জানিস না মনে হয়? যার জন্য তুই আমার গায়ে আজ হাত তুলছিস। ঐ শা’লির নাম গুনগুন।”
“আহ্! গা’লা’গা’লি করতেছিস কেন শুধু শুধু?”
“আরে রে বাবা! খুব দেখি দরদ ওর জন্য? ঐ শা’লা সত্যি কইরা বল ঐ মাইয়্যা কেডা? কী লাগে তোর?”
“ঐ মেয়ে কে আমি কেমনে বলব? আজব তো! আমি তো ওর নামও জানতাম না। কিন্তু ওয়েট, তুই ওর নাম জানলি কীভাবে?”
“শুধু নাম না। ওর পুরো ডিটেইলস জানি এখন আমি। ঐ মেয়ের জন্য আজ মা’ই’র খাইছি সবার সামনে। আর ওর পরিচয় বাইর করমু না?”
“যতদূর এগিয়েছিস ঐ পর্যন্তই স্টপ থাক। আর আগানোর দরকার নেই। আর তাছাড়া ভুল তো তোর ছিল-ই।”
“আমি খালি মজা করছিলাম। খারাপ উদ্দেশ্য আছিল না আমার কোনো।”
“ই’ভ’টিজিং কখনো মজার বিষয়বস্তু হতে পারে না, মাসুদ। মজা অনেকভাবেই করা যায়। আমি এসব পছন্দ করি না তুই ভালো করেই জানিস। তাও আমি প্রথমে তোর সাপোর্ট-ই নিছিলাম।”
“তাইলে পরে ওই মাইয়্যার জন্য আমারে মা’র’লি কেন?”
“তুই শুনিস নাই আমাকে কী বলছিল? আমি নাকি কা’পু’রু’ষ!”
“ওহ তোমার পুরুষত্ব প্রমাণ করতে তুমি আমারে সবার সামনে মা’র’ছ?”
“যা! বাজে কথা বলিস না।”
“বাজে কথা আবার কী?”
“ওর কথা শুনে আমি মেজাজ ঠিক রাখতে পারিনি তখন। যাই হোক, সরি।”
“ধুর শালা! তোর সরি তুই পেছনে ঢুকিয়ে বসে থাক। ঐ মাইয়্যারে আমি দেইখা নিমু।”
“হুদাই এলাকায় ক্যাচাল করিস না তো। আর ঝামেলা বাড়াইস না।”
“আহা! কী দরদ। শা’লা দোয়া করি যাতে ঐ আইটেম বো’ম-ই তোর কপালে জোটে। সকাল, দুপুর, রাত তিনবেলা যখন তিনটা করে থা’প্প’ড় আর লা’ত্থি খাবি তখন বুঝবি আমার দুঃখ।”
প্রণয় হেসে বলল,
“তোর দোয়া কবুল হওয়ার চান্স কম। কারণ বিয়ে-শাদীর চক্করে আমি নাই।”
মাসুদও ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে, মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলল,
“জীবনের কলম তো আর তোমার হাতে না, বন্ধু। আল্লাহ্ কার কপালে কী লেইখ্যা রাখছে তা তো কেউ কইতে পারব না।”
রাতে শিশিরকে দিয়ে গুনগুনকে ডেকে পাঠিয়েছেন শেলী চৌধুরী। মেয়েকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন,
“রুমে গিয়ে পড়তে বসো যাও।”
শিশির চলে যাওয়ার পর তিনি গুনগুনকে বললেন,
“বসো।”
গুনগুন নিঃশব্দে বসল। শেলী চৌধুরী কিছু সময় নিরব থেকে বললেন,
“তোমার যে এত রাগ দেখে বোঝা যায় না।”
গুনগুন মজা পেয়ে বলল,
“যেরকমটা আমার বয়স বুঝতে পারেননি?”
শেলী চৌধুরী গম্ভীরকণ্ঠে বললেন,
“হুম। তবে তোমার একদম উচিত হয়নি ওদের সাথে ঝামেলায় জড়ানো।”
“আমি তো ইচ্ছে করে ঝামেলা করিনি, আন্টি। ওরা আগে আমাকে উলটা-পালটা কথা বলেছে।”
“বিষয়টা আমি দেখে নিতাম। এতবার করে বলার পরও তুমি আমার কথা শুনলে না। শোনো গুনগুন, তুমি শিক্ষিত মেয়ে, পরিবার আছে। একটা রেপুটেশন নিয়ে চলো তোমরা। ওদের না আছে শিক্ষা আর না আছে কোনো পরিবার। দিনশেষে ইমেজ নষ্ট হলে তোমাদের-ই হবে। ওদের কিছু-ই হবে না। এন্ড ইউ নো, দিনশেষে দোষ সবসময় মেয়েদের-ই হয়।”
“তাই বলে তো অন্যায় হচ্ছে দেখেও আমি চুপ করে থাকতে পারি না তাই না?”
“যেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে নিজের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সেই প্রতিবাদ না করা-ই ভালো।”
গুনগুন চুপ করে আছে। সে জানে, শেলী চৌধুরী যা বলছে তা ওর ভালোর জন্যই বলছে। ভালো চায় বলেই বারবার ঝামেলায় জড়াতে নিষেধ করছে। নয়তো কার এত দায় নিজের খেয়ে অন্যের মেয়ের জন্য এত চিন্তা করার? এসব ভেবেই গুনগুন আর শেলী চৌধুরীর সাথে তর্কে গেল না।
“তোমাকে শুধু এসব কথা বলার জন্যই ডাকিনি। আরেকটা কথা বলার আছে।” বললেন শেলী চৌধুরী।
গুনগুন বলল,
“হ্যাঁ, বলুন আন্টি।”
“শিশিরকে প্রাইভেট পড়াতে পারবে? যদি তোমার সময় হয় আরকি!”
গুনগুন এমনিও বেশ কয়েকটা টিউশনি করায়। নতুন আরেকটা পেলে তো মন্দ হয় না। তার মধ্যে আবার বাড়িতেই। গুনগুন রাজি হয়ে গেল। শেলী চৌধুরীও খুশি হলেন। বললেন,
“চা খাবে তো?”
“না, আন্টি।”
“কেন? গতকাল রাতে ঘুম হয়নি?”
“হয়েছিল। কিন্তু কম। অনেক রাত পর্যন্ত ঘুম আসেনি।”
তিনি হেসে ফেললেন। বললেন,
“ঠিক আছে, বসো। শরবত বা জুস বানিয়ে আনি। এসবে তো সমস্যা নেই?”
গুনগুনও এবার হেসে বলল,
“না।”
সকালে ঘুম থেকে উঠে গুনগুন নামাজ পড়ে নাস্তা বানাল। যেদিন সময় থাকে সেদিন গুনগুন-ই শিহাবকে স্কুলে দিয়ে আসে। আজ গুনগুনের ক্লাস, এক্সাম কোনোটাই নেই। তাই শিহাবকে খাইয়ে দিয়ে ও স্কুলে নিয়ে গিয়েছিল। বাড়িতে ফিরে আসার সময় দেখতে পেল চায়ের টং দোকানে প্রণয় ও ওর বন্ধুরা আড্ডা দিচ্ছে। গুনগুন চোখ-মুখ কুঁচকে ওদের পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল।
প্রণয় বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মগ্ন। সে রাস্তার দিকে পিঠ করে বসেছে বলে গুনগুনকে দেখেনি। সিগারেট খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছিল। সিগারেটে শেষ টান দিয়ে বলল,
“শা’লা’র এই বেনসন ছাড়া অন্য সিগারেট মজা লাগে না। খেয়ে মজা পেলাম না।”
এরপর আর পেছনে না তাকিয়েই জ্ব’ল’ন্ত সিগারেটটি পেছনে ছুঁড়ে মারল। ঠিক তখনই ওকে ক্রস করছিল গুনগুন। যার দরুণ সিগারেটটা গিয়ে পড়ল ওর পায়ে। সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়ল গুনগুন। রাগে টগবগ করে ফু’ট’তে লাগল। তার ধারণা, প্রণয় কাজটা ইচ্ছে করেই করেছে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। মাসুদ-সহ অন্য বন্ধুরা ফ্যাকাশে মুখে একবার গুনগুনকে দেখছে, আরেকবার দেখছে প্রণয়কে। প্রণয় ওদের দৃষ্টি লক্ষ্য করে বলল,
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১
“কী?”
এরপর পেছনে তাকাতেই গুনগুনকে দেখে চমকে গেল। এই মেয়ে এখানে দাঁড়িয়ে আছে কেন? পরক্ষণেই আবার পুরো বিষয়টা মাথায় এলো, যখন দেখল গুনগুনের পায়ের কাছে ওর খাওয়া সিগারেট পড়ে আছে। এখনো ধোঁয়া উঠছে সিগারেট থেকে। প্রণয় উঠে দাঁড়াল। গুনগুন আর কোনো কালক্ষেপণ করল না। কোনো প্রশ্নের উত্তরও চাইল না। সোজা সামনে এসে প্রণয়ের বাম গালে থা’প্প’ড় বসিয়ে দিল।
