Home প্রফেসর উজান চৌধুরী প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৯ (৪)

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৯ (৪)

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৯ (৪)
বন্যা সিকদার

​”এতো যে বউ বউ করছেন‚ মন থেকে বউ মানেন আমায়?
​প্রশ্নটা শোনা মাত্রই উজান নিজের চোখ দুটো বড় বড় করে মৌ’য়ের দিকে তাকাল। সে দেখল মৌ নিজের ঘাড়টা কিছুটা কাত করে‚ এক বুক আশা আর আকুতি নিয়ে তার চোখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। উজান তার সেই গভীর ও তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি দেখেই এক পলকে বুঝতে পারল মৌ এই মুহূর্তে তার মুখ থেকে ঠিক কোন কথাটা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সে শুনতে চায় তাসফিয়া মৌ শুধু উজান চৌধুরীর একমাত্র অর্ধাঙ্গিনী‚ তার ওয়াইফ। ​কিন্তু উজান চৌধুরী তো সহজে গলে যাওয়ার মতো নরম ধাতু দিয়ে গড়া নয়। সে মৌ’য়ের ওই কাতর ও আশাবাদী দৃষ্টি দেখে নিজের ঠোঁট দুটো কামড়ে ধরে ভেতরের হাসিটা চেপে রাখল। তারপর সোজাসাপ্টা গম্ভীর গলায় উত্তর দিল।

​“সরি মিসেস চৌধুরী। আপনাকে আমি মন থেকে আদেও ‘বউ’ বলে মানি না।
​উজানে’র এই নির্মম বাক্যটি শোনা মাত্রই মৌ’য়ের পুরো মুখখানা এক সেকেন্ডের মধ্যে ফুসকুড়ি দেওয়া বেলুনের মতো চুপসে গেল। সে কত বড় আশা নিয়ে এই পাথরটার মুখ থেকে নিজের অধিকারের কথা শুনতে চেয়েছিল কিন্তু এই অহংকারী লোকটা তার সেই ছোট্ট আশাটা কোনোভাবেই পূরণ হতে দিল না। মৌ এবার পুরোপুরি নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কেন এই লোকটা একটা বার ছোট করে বলতে পারে না ‘তাসফিয়া মৌ শুধু উজান চৌধুরীর ওয়াইফ’? এই সামান্য একটুখানি স্বীকারোক্তি দিলে কি তার পুরুষালি অহংকারের খুব বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যেত? না তো। তাহলে কেন বলল না?
​এই চরম অবহেলা আর উপেক্ষায় মৌ’য়ের ভেতরের পুরো মনটা এক নিমেষে কালবৈশাখী মেঘের মতো কালো হয়ে গেল। সে অত্যন্ত অভিমানী ও ভাঙা স্বরে প্রতিধ্বনিত করলো।
“তাহলে সকলের সামনে কথায় কথায় আমাকে এত ‘বউ বউ’ বলে ডাকেন কেন?
​উজান নিজের চোখ দুটো ছোট ছোট করে মৌ’য়ের দিকে তাকিয়ে বেশ দম্ভের সাথে আওড়াল‚ “আপনি যে আমার আইনত খাতা-কলমে বিবাহিত বউ সেই চিরন্তন সত্যের খাতিরেই তো আমি আপনাকে ‘মিসেস উজান চৌধুরী’ বলে ডাকি।

​”ওহ্‚ তার মানে শুধু খাতা-কলমের জোর আছে বলেই…আজ সবার সামনে এত বড় বড় অধিকার দেখালেন আর নিজের বউ বলে দাবি করলেন? মন থেকে তো কিছুই না…
​মৌ’য়ের গলার সেই বিষাদমাখা সুরটা উজান’কে কেমন যেন ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিল। তাই মৌ’য়ের এই আবেগঘন কথাটি এক ঝটকায় এড়িয়ে যাওয়ার জন্য উজান দ্রুত মৌ’য়ের নরম হাতটা নিজের শক্ত মুঠোয় আকঁড়ে ধরল। তারপর নিজের কণ্ঠস্বর কিছুটা দৃঢ় করে গম্ভীর গলায় বলল‚ ​“পেটে প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে পিচ্চি। ফাস্ট চলো।

​”খিদে পেটেই পায়‚ মাথায় নয় হুহ্!
​মৌ মুখ বাঁকিয়ে কথাটি বলল। উজান তার সেই অভিমানী মুখের দিকে তাকিয়ে মনের ভেতর একচিলতে মুচকি হাসল। তারপর মৌ’কে আলতো করে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে সে নিজে শান্ত পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর‚ সে নিজের হাতে একটি প্লেটে রাতের খাবার নিয়ে রুমে ফিরে এলো। ​মৌ তখন বিছানায় গুটিসুটি মেরে বসে একমনে উজানে’র ফোন স্ক্রল করছে। এটা ইদানীং তার একটা মস্ত বড় বদঅভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে উজানে’র ফোনটা একটু না ঘাটলে তার যেন পেটের ভাতই হজম হয় না। অবশ্য বিগত তিনটে দিন অভিমানের কারণে সে এসবের ধারেকাছেও আসেনি। এমনকি উজান নিজেও কখনো এই ফোন ঘাটাঘাটি নিয়ে মৌ’কে একটা কথাও বলে না বরং মনে মনে বেশ উপভোগই করে। ​উজান প্লেট হাতে নিয়ে মৌ’য়ের পাশে এসে বসা মাত্রই ততক্ষণে মৌ হুট করে বাঘিনীর মতো উজানে’র সুস্থ হাতটায় সজোরে এক কামড় বসিয়ে দিল। আচমকা এমন পৈশাচিক কাণ্ডে উজান চৌধুরী কিছুটা ঘাবড়ে গেল। এই পুঁচকে মেয়েটা কখন যে কী অদ্ভুত কাণ্ড করে বসে, তা বোঝা সাধারণ মানুষের ক্ষমতার বাইরে। উজান নিজের চোখ দুটো বড় বড় করে সুধাল।
​“পিচ্চি তুমি আমার হাতে ওভাবে কামড় দিলে কেন?

​মৌ এবার কাঁদো কাঁদো ফেস করে ফোনের স্ক্রিনটা উজানে’র চোখের সামনে ধরে বলল‚ “আপনাকে শিরিন আর ললিতা ডাইনি কেন এই মাঝরাতে ফোন করেছে, শুনি? আবার ইনবক্সে কতগুলো মেসেজও পাঠিয়েছে। আপনি কি তলে তলে ডাবল টেম্পো চালাচ্ছেন হ্যাঁ? আপনার একটুও লজ্জা করে না ঘরে এমন সুন্দরী বউ থাকতে বাইরের অন্য নারীদের দিকে ওভাবে নজর দিতে? এত সুন্দর‚ কিউট আর ইনোসেন্ট একটা বাচ্চা মেয়েকে এভাবে মনে কষ্ট দিতে আপনার একটুও বাধল না?
​মৌ’য়ের মুখে এমন তীব্র জেলাসি দেখে উজান এবার নিজের শরীরটা আরও খানিকটা মৌ’য়ের দিকে ঝুঁকিয়ে আনল। দুজনের তপ্ত শ্বাস-প্রশ্বাস একপর্যায়ে এক হয়ে মিশে যাচ্ছিল‚ ঠিক তখনই উজান চোখের দিকে চোখ রেখে ফিসফিসিয়ে আওড়াল‚ “শুনেন মিসেস চৌধুরী‚ উজান চৌধুরী আপনাকে নিজের ‘বউ’ নাই বা মানতে পারে তবে তার ক্যারেক্টার কিন্তু এতটা লুজ নয়। সে নিজের ‘নারী’ ব্যতিত পৃথিবীর অন্য কোনো নারীর দিকে কোনোদিন নজর দেবে না‚ জাস্ট মাইন্ড ইট!
​উজানে’র মুখে ‘পারসোনাল প্রপার্টি’ শব্দটা শুনে মৌ বেশ কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে বোকার মতো তাকিয়ে রইল। উজানে’র কথার গূঢ় অর্থ বোঝার আগেই উজান তড়িঘড়ি করে বলে উঠল। “পিচ্চি প্লিজ ফোকাস অন মি। পেটে প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে তাড়াতাড়ি একটু খাইয়ে দাও নয়তো খিদের জন্য মরেই যাব। এই দেখো আমার পেটের অবস্থা।

​এই বলেই উজান নিজের গায়ের শার্টটা নিচ থেকে খানিকটা উঁচুতে তুলতেই মৌ এক নিমেষে দুই হাতে চোখ ঢেকে চেঁচিয়ে উঠল। “ছিঃ ছিঃ এভাবে নিজের শরীর উন্মুক্ত করছেন কেন? লাজ-লজ্জা কি সব ধুয়ে-মুছে খেয়ে ফেলেছেন হ্যাঁ? আর আমি কোম দুঃখে আপনাকে নিজের হাত দিয়ে খাইয়ে দিতে যাব? পারব না আমি আপনাকে খাইয়ে দিতে।
​“আরে আগেই তো বলেছি লাজ-লজ্জা নামের কোনো ওয়ার্ড আমার ডিকশনারিতে নেই। আর তোমাকে দুঃখে খাইয়ে দিতে হবে না‚ একটু সুখেই খাইয়ে দাও প্লিজ। পেটের ভেতর ইঁদুরেরা অলরেডি অলিম্পিক রেস শুরু করে দিয়েছে।
উজান বেশ মিনতি করল। ​মৌ আবারও মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল‚ “পারব না। আপনার নিজের হাত আছে নিজের হাত দিয়ে নিজে খান!
​“হাত ভীষণ ব্যথা করছে গো পিচ্চি‚ প্লিজ। তুমি যদি আজ নিজের হাতে খাইয়ে না দাও তবে এই উজান চৌধুরীকে আজ সারারাত না খেয়েই উপোস করে থাকতে হবে।
​”আপনি যা ইচ্ছে করুন তাতে আমার কী? পরীক্ষায় যখন আমাকে একটুখানি পাস করিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা বা ইচ্ছা আপনার নেই তাহলে আমি কেন শুধু শুধু আপনাকে খাইয়ে দিয়ে সাহায্য করতে যাব শুনি?
মৌ সুযোগ বুঝে কথাটা বলল।

​উজান’কে একদৃষ্টে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতে দেখে মৌ আড়চোখে বেশ কয়েকবার উজানে’র মুখের অবস্থাটা পর্যবেক্ষণ করল। তারপর মৃদুস্বরে আলতো করে আওড়াল‚ “সুযোগ কিন্তু এখনো হাতছাড়া হয়নি প্রফেসর সাহেব! রাজি কি না ঝটপট বলুন?
​“থাক লাগবে না আমার তোমার হাতে খাবার খাওয়া। আস্ত একটা বজ্জাত মেয়ে। সামান্য একটুখানি খাইয়ে দেবে তার জন্যও নিজের বরের কাছ থেকে এভাবে ব্ল্যাকমেইল করে ঘুষ চায়।
উজান কিছুটা অভিমানী সুরে বলল। ​কথাটা বলেই উজান যখন বিছানায় শুয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতে গেল মৌ এক ঝটকায় তার হাত ধরে তাকে আটকে দিল। “হয়েছে হয়েছে আর ওমন ঢং করতে হবে না। সামান্য একটু পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলেছি তা নিয়ে ওনার কত নাটক। লাগবে না আমার আপনার পাস‚ পরীক্ষার হলে না হয় নতুন কয়েকটা হ্যান্ডসাম বয়ফ্রেন্ড বানিয়ে তাদের খাতা দেখে দেখে পাস করে নেব তবুও আপনাকে আর কোনোদিন বলব না। এবার রাক্ষসের মতো বড় করে হা করুন তো দেখি।

​এরপর অত্যন্ত পরম যত্ন সহকারে মৌ নিজের হাত দিয়ে উজান’কে লোকমা তুলে খাইয়ে দিতে লাগল। উজান নিজের ভাগের অর্ধেক খাবার খাওয়ার পর বাকি অর্ধেকটা মৌ’কে খাওয়ার জন্য জোর করল এবং মৌ-ও কোনো প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই উজানে’র এঁটো প্লেটে বাকি খাবারটুকু নিজের মুখে পুরে নিল। ​বউয়ের ওভাবে খাওয়ার দৃশ্য দেখে উজান নিজের ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসল। সে মুরুব্বিদের মুখে বহুবার শুনেছিল‚ একই প্লেটে স্বামী-স্ত্রী একসাথে ভাগ করে খাবার খেলে নাকি তাদের ভেতরের পারস্পরিক ভালোবাসা ও মায়া বহুগুণ বেড়ে যায়। আর উজান চৌধুরী আজ সেই ভালোবাসার গভীরতাটুকু পরীক্ষা করে দেখতে চাইল। ​খাওয়া শেষ হতেই উজান বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।
রাত এখন অনেকটাই গভীর তবে রুমের ভেতর এসি চলা সত্ত্বেও তার শরীরটা কেমন যেন প্রচণ্ড গরমে ঘামছে। গরম জিনিসটা সে একদম সহ্য করতে পারে না; দিন-রাত মিলিয়ে কম হলেও চার-পাঁচবার শাওয়ার নেওয়া তার পুরোনো অভ্যাস।

​মৌ বিছানায় বসে নিভু নিভু ও ক্লান্ত দৃষ্টিতে উজানে’র গতিবিধির দিকে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎই উজান কোনো ভূমিকা না করে সরাসরি মৌ’য়ের সামনে গিয়ে নিজের গায়ের শার্টের বোতামগুলো এক এক করে খুলতে শুরু করল। উজানে’র এমন অপ্রত্যাশিত কাণ্ড দেখে মৌ’য়ের মাথায় যেন আচমকা মস্ত বড় এক আকাশ ভেঙে পড়ল। সে এক বুক আতঙ্ক আর ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে কাঁপানো গলায় প্রশ্ন করল।
“আ আ আপনি শার্ট খুলছেন কেন?
কথাটা শুনেই ​উজান নিজের ঠোঁটের কোণে এক বাঁকা শয়তানি হাসি ঝুলিয়ে নিল। মৌ’য়ের এই ভয়ার্ত ও নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকালেই আজকাল তার ভেতর কেমন যেন এক অদ্ভুত কৌতুকবোধ কাজ করে। মেয়েটাকে আরেকটু ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে সে নিজের নিচের ঠোঁটটা কামড়ে বলে উঠল‚ “এই রাতের বেলা শার্ট কেন খুলছি বুঝতে পারছো না?

​মৌ নিজের শুকিয়ে যাওয়া মুখের ভেতর কোনোমতে এক ঢোক গিলে অবশ হয়ে রইল। একে তো এই লোকটাকে এখন তার মারাত্মক ভয় লাগছে‚ তার ওপর সে শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে ক্রমশ তার দিকেই এগিয়ে আসছে। মৌয়ের প্রাণপাখি যেন এই মুহূর্তে খাঁচা ছেড়ে উড়ে যাওয়ার জন্য ছটফট করছে। এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়তে হবে জানলে সে নিচে কান্না করে হলেও নিজের শাশুড়ির আঁচল ধরে ওখানেই ঘুমিয়ে পড়ত। কিন্তু এই অবরুদ্ধ রুমে এখন কী করবে‚ সে কিছুই বুঝতে পারল না। সে আবারও কাঁপতে কাঁপতে বলে‚ “আ আ আপনি আমার দিকে এগিয়ে আসছেন কেন?

“পুরুষ মানুষ বউয়ের কাছে কেন এগিয়ে আসে শুনি?
কথাটা শেষ করেই উজান রসিকতা করে মৌ’কে এক চোখ টিপ দিল। উজানে’র ওই চোখের ইশারা বা ফ্লার্ট করা দেখে মৌ’য়ের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে উঠল। তার মাঝেই উজান নিজের গা থেকে শার্টটা পুরোপুরি খুলে এক ঝটকায় তা মৌ’য়ের মুখের ওপর ছুড়ে মারল এবং তার মুখের খুব কাছাকাছি নিজের চওড়া শরীরটা ঝুঁকিয়ে আনল। উজানে’র এমন চরম আক্রমণাত্মক রূপ দেখে মৌ আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে নিজের দুই হাত দিয়ে শক্ত করে নিজের চোখ দুটো বন্ধ করে চিৎকার দিয়ে উঠল।
​“শাশুড়ী আম্মা বাঁচাওওওওও
​মৌ’য়ের চিৎকার শোনা মাত্রই উজান নিজের চোখ দুটো বড় বড় করে রেগে তাকাল। ভাগ্যিস‚ তার এই বেডরুমটা পুরোপুরি সাউন্ডপ্রুফ নয়তো এতক্ষণে মেয়ের এই মরণ চিৎকার শুনে বাড়ির ছোট-বড় সবাই দরজা ভেঙে ভেতরে চলে আসত। ​উজান এক ঝটকায় মৌ’য়ের মাথার ঠিক পেছন থেকে টাওয়ালটা নিজের হাতে টেনে নিয়ে হুংকার ছাড়ল।

“হোপ বেডি চুপ করো। মাথায় এমন নোংরা চিন্তা নিয়ে ঘুরে বেড়াও? এক থাপ্পড় দিয়ে মাথার সব আজাইরা চিন্তা বের করে ফেলবো। আমি জাস্ট টাওয়াল নিতে এসেছি। আর ইনি কী সব ভেবে বসে আছে‚ ছিঃ অশ্লীল মেয়ে!
মৌ এক মুহূর্তের জন্য পুরো থমথমে খেয়ে গেল। মানলো সে একটু মাঝেমধ্যে এক কাঠি বেশি বোঝে তাই বলে নিজের ঘরের বউকে এভাবে কথা শোনাবে? এই পাষাণ লোকটার বুকে কি এইটুকু মেয়ের জন্য একটুও মায়া-দয়া নেই? এর মাঝেই উজান নিজের স্বভাবসুলভ ধুপধাপ পা ফেলে শাওয়ার নিতে চলে গেল। ​উজান বাথরুমে ঢোকা মাত্রই মৌ সুযোগ বুঝে টুকুস করে এক প্রকার পালিয়েই রুম থেকে বেরিয়ে গেল। সে নিজের ছোট্ট ছোট্ট পা ফেলে করিডোর দিয়ে হেঁটে সোজা তুবা আর আরিয়ানে’র রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়াল এবং দরজায় টোকা দিয়ে মৃদু ডাক দিল। ​এদিকে আরিয়ান অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে‚ কতগুলো মিষ্টি কথা বলে মাত্রই তুবার রাগ ভাঙিয়ে তার একটু কাছাকাছি এসেছিল। ঠিক ওমনি বাহির থেকে মৌ’য়ের সেই চেনা কণ্ঠের ডাক শুনে সে এক বুক বিরক্তি নিয়ে দরজার দিকে তাকাল। বাইরে থেকে আরও বেশ কয়েকবার ডাক পড়তেই আরিয়ানে’র ঠোঁটের কোণের সেই রোমান্টিক হাসি এক নিমেষে উধাও হয়ে গেল। সে খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে এই গভীর রাতে মৌ কেন উজানে’র রুম ছেড়ে এখানে হানা দিয়েছে! আরিয়ানে’র এমন চরম অসহায় ও কাঁচুমাচু মুখ দেখে তুবা নিজের হাসি আর ধরে রাখতে পারল না। সে নিজেকে আরিয়ানে’র শক্ত বাহুর বাঁধন থেকে মুক্ত করে হাসতে হাসতে বলল‚ “যাও যাও, দরজাটা খুলে দাও গিয়ে।

​আরিয়ানে’র মুখ মুহূর্তের মধ্যে ফুসকুড়ি দেওয়া বেলুনের মতো চুপসে গেল। সে চরম ক্ষোভে আওরায়‚ “তুমি এটা বলতে পারলে জান? আমি কত কষ্ট করে বউটার অভিমান ভাঙিয়ে মাত্র এইটুকু কাছে এসেছি‚ ওমনি উজানে’র ওই পুঁচকে বউ আমাদের প্রেমের মাঝে ‘কাবাব মে হাড্ডি’ হতে চলে এলো! আমি কোনো জন্মেও দরজা খুলব না। আমি আজ এই রাতে আমার বউকে একদম নিজের করে কাছে পেতে চাই ব্যাস।
​”ইসসস ওনার কত শখ! যাও বেশি কথা না বাড়িয়ে দরজাটা খোলো দেখি।
​“পারব না আমি দরজা খুলতে। নিজের জ্যান্ত জামাইকে রুমে রেখে এখানে আমার পার্সোনাল লাইফে বেগড়া দিতে এসেছে। কত দিন পর আজ বউকে নিজের করে কাছে পাচ্ছি বল তো?
আরিয়ান বেশ মন খারাপ করে বলল। ​তুবা এবার চোখ রাঙিয়ে তাকাল‚ “লজ্জা-শরমের মাথা ধুয়ে খেয়েছো হ্যাঁ?
​“যাহ্ বাবা নিজের বউয়ের কাছে আবার কিসের লজ্জা? তুমি জাস্ট একদম চুপ করে বিছানায় বসে থাকো তো‚ মৌ একটু পর ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে এমনিতেই চলে যাবে। আর ও চলে গেলেই আমি আমার বউকে আবার…

​আরিয়ানে’র মুখের বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই তুবা বিছানা থেকে নেমে দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করল। তা দেখে আরিয়ান বিছানার ওপর থেকেই চেঁচিয়ে উঠল। “এই বউ না প্লিজ এমনটা করো না।
​কিন্তু তুবা তার কোনো কথাই শুনল না। সে দ্রুত গিয়ে রুমের মেইন দরজাটা খুলে দিল আর সাথে সাথে মৌ এক ঝটকায় ঝড়ের বেগে রুমের ভেতরে ঢুকে পড়ল। সে এসেই তুবা’কে আষ্ঠেপৃষ্ঠে দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে উঠল‚ “আমার সুইট মিষ্টি ভাবি! আমি আজ তোমার সাথে ঘুমাবো তুমি আমাকে তোমার পাশে ঘুমাতে দেবে তো?

“দেখি হাঁপাচ্ছ কেন? আগে রিল্যাক্স হও তো।
​”না না ভাবি আমি একদম ঠিক আছি। তুমি প্লিজ ভাইয়াকে এই মুহূর্তে রুম থেকে বেরিয়ে অন্য কোথাও যেতে বলো। আমি আজ রাতে তোমার সাথে ঘুমাবো।
​মৌ’য়ের কথা শোনা মাত্রই ওপাশ থেকে আরিয়ান এক মরণ চিৎকার দিয়ে উঠল. “অসম্ভব! আমি আমার নিজের বউকে ছাড়া এই একা রাতে অন্য কোথাও থাকতে পারব না।
​মৌ এবার নিজের আড়চোখে আরিয়ানে’র দিকে একবার তাকাল। তারপর নিজের ভেতরের সমস্ত রাগ উগরে দিয়ে হনহন করে আরিয়ানে’র সামনে গিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে গেল। চোখ দুটো বড় বড় করে বলল‚ “যাবে না তুমি এই রুম থেকে?

​“ওহ্ নো! কোনোদিনই যাব না।
আরিয়ান বুক ফুলিয়ে বলল।
​”ওকে ফাইন দেখাচ্ছি মজা।
এই বলেই মৌ কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে এক ঝটকায় আরিয়ানে’র দুই পা শক্ত করে ধরে এমন এক টান দিল যে আরিয়ান মুহূর্তের মধ্যে ধপাস করে মেঝের ওপর চিৎপটাং হয়ে আছাড় খেয়ে পড়ে গেল। ​আরিয়ান মেঝের শক্ত আঘাতে ব্যথায় কুঁকড়ে উঠল। কিন্তু মৌ’য়ের তাতে বিন্দুমাত্র দয়া হলো না; সে আরিয়ান’কে মেঝের ওপর দিয়েই টানতে টানতে কোনোমতে রুমের বাইরে বের করে দিল এবং ভেতর থেকে তুবাকে মেইন দরজাটা আটকে দিতে বলল। তুবাও মৌ’য়ের এমন কাণ্ড দেখে হাসতে হাসতে দরজার লকটা আটকে দিল। মৌ দরজার লক লাগাতেই আবারও তুবা’কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আদুরে গলায় বলে‚ “আমার সুইট ভাবি একটা।
​এদিকে দরজার ওপাশে করিডোরের মেঝেতে বসে আরিয়ান নিজের কপাল চাপড়ে চরম আহাজারি শুরু করে দিল। “মৌ বোন আমার প্লিজ আজকের রাত অন্তত অন্য কোথাও গিয়ে ঘুমা না রে বোন। আমি তোর ভাবিকে ছাড়া রাতে একা কীভাবে ঘুমাবো বল? এই বেডি অন্তত আমার বউটাকে তো আমার কাছে ফিরিয়ে দে।

​কিন্তু রুমেট ভেতর থেকে আর কোনো রেসপন্স বা সাড়া এলো না। আরিয়ানে’র মনের যত শখ ছিল তা এক নিমেষেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল। ​এদিকে উজান শাওয়ার শেষ করে টাওয়াল দিয়ে চুল মুছতে মুছতে রুমে এসে দেখে বিছানা একদম ফাঁকা‚ মৌ রুমে নেই। সে মুহূর্তের মধ্যেই বুঝে ফেলল তার সেই অবাধ্য পুঁচকে পাখিটা আবারও সুযোগ বুঝে খাঁচা কেটে পালিয়েছে। কথাটা ভাবতেই তার মেজাজটা এক্কেবারে সপ্তমে চড়ে গেল। সে ক্যাবিনেট থেকে দ্রুত একটি টি-শার্ট বের করে কোনো রকম গায়ে জড়িয়ে এক বুক রাগ নিয়ে নিজের কক্ষ ত্যাগ করল।
​করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় সে দূর থেকেই দেখতে পেল‚ আরিয়ান নিজের রুমের বন্ধ দরজার সামনে হাঁটু গেঁড়ে অত্যন্ত করুণ মুখে বসে আছে। উজান তার সেই দশা দেখে ধীরপায়ে এগিয়ে গেল। তারপর ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে উপহাসের সুরে আওড়াল‚

​“ভাইয়া ভাবি বুঝি আজ মাঝরাতে লাথি মেরে তোমাকে রুম থেকে বের করে দিয়েছে?
​উজানে’র ওমন রসাত্মক কথা শোনা মাত্রই আরিয়ান এক ঝটকায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে উজানে’র পিঠের ওপর সজোরে এক কিল বসিয়ে দিল! আর দাঁত কিড়মিড় করে উঠে। “চুপ কর ইতর ছেলে। আমার বউ বড্ড ভালো‚ সে অন্তত তোর মতো নয়। তুই কেমন পুরুষ মানুষ রে‚ যে নিজের ঘরের এইটুকু একটা বউকে নিজের কাছে আটকে রাখতে পারিস না? বউটাকে যেই না একটু রোমান্স করার জন্য কাছে পেলাম‚ ওমনি তোর ওই ডাকাত বউ এসে আমার সব শখ চাঙ্গে তুলে দিল! এখন আমি এই রাতে বউ ছাড়া কীভাবে একা একা থাকব বল?
​উজানে’র জোড়া ভ্রু এবার কুঁচকে উঠল। সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল। “তার মানে আমার পিচ্চি বউটা এখন তোমার রুমে?

​“হ্যাঁ রে ভাই তাড়াতাড়ি তোর ওই আপদ বউকে নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে যা এখান থেকে আমাকে বাঁচা।
আরিয়ান অনুরোধ করল। ​উজান মূহুর্তেই নিজের ঠোঁটের কোণে এক বাঁকা শয়তানি হাসি ফুটিয়ে তুলল। সে খুব ভালো করেই বুঝতে পারল যে আরিয়ান এখন মস্ত বড় এক বিপাকে পড়েছে। সে সুযোগ বুঝে বলে উঠে‚ “বউ আমি এখনই নিজের দায়িত্বে নিয়ে যেতে পারি ভাইয়া; তবে তার জন্য আমি কী পাব শুনি?
​“হোয়াটটট? তোর নিজের বউ তুই নিজের রুমে নিয়ে যাবি তাতেও আমাকে তোকে ঘুষ দিতে হবে?
​“ওকে তাহলে দিতে হবে না। আমি চললাম ঘুমাতে‚ তুমি এখানেই দরজার বাইরে বসে রাত কাটাও।
উজান উল্টো ঘুরে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল। ​উজান’কে চলে যেতে দেখে আরিয়ান তড়িঘড়ি করে তার হাতটা টেনে ধরল এবং চরম আকুতি করে বলল‚ “ভাই প্লিজ তোর দুটি পায়ে পড়ি‚ তোর বউকে নিয়ে গিয়ে আমাকে এই যাত্রা রক্ষা কর। বল তোর ঠিক কী চাই?

​“বেশি কিছু না‚ জাস্ট আগামী এক মাসের আমার শপিংয়ের খরচ।
​“হোয়াটটট? তুই এক মাস ধরে শপিং করলে তো আমাকে আগামী মাসে রাস্তার মোড়ে বাটি নিয়ে ভিক্ষা করতে বসতে হবে। ভাই প্লিজ একটু কম-সমে চা।
​“ওহ্ নো! কোনো কম হবে না।
​“ভাই বোঝার চেষ্টা কর। আচ্ছা যা আগামী একদিন তুই যত খুশি শপিং করবি‚ তার পুরো টাকা আমি নিজের পকেট থেকে দেব এবার হবে তো?
“ওকে ডান। তবে কন্ডিশন হচ্ছে আমার ওই পিচ্চি বউয়ের শপিংয়ের খরচটাও কিন্তু তোমাকেই দিতে হবে।
​আরিয়ান এবার নিজের অজান্তেই বড্ড কঠিন এক ফাঁদে পড়ে গেল। এখন হ্যাঁ বললেও পকেট ফাঁকা আর না বললে আজ রাতে বউ ছাড়া থাকতে হবে। তবুও কোনো উপায় না পেয়ে সে নিজের চোখ বন্ধ করে বলে উঠল। “ওকে বাবা ওকে‚ ডান। এবার তোর বউকে সরা।
​এরপর উজান দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকবার কড়া গলায় মৌ’কে ডাক দিল। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো রেসপন্স বা সাড়া এলো না। ঠিক তখনই কাকতালীয়ভাবে উজানে’র ফোনের স্ক্রিনে শিরিনে’র নামটা ভেসে উঠল। মুহূর্তের মধ্যে উজানের ঠোঁটের কোণে এক অদ্ভুত ও কুটিল হাসি খেলে গেল। সে দরজার দিকে মুখ উঁচিয়ে চেঁচিয়ে আওড়াল।

​“রুম থেকে কোনো সাড়া দেবে না তাই তো পিচ্চি? ঠিক আছে‚ কোনো প্রব্লেম নেই। তোমার ওই ‘শিরিন ডাইনি’ কিন্তু এই মাত্র আমাকে ভিডিও কল দিচ্ছে। তুমি যদি এখন নিজের ভালোয় ভালোয় দরজা খুলে আমার কাছে না আসো তবে আমি কিন্তু এই গভীর রাতে শিরিনের সাথে ভিডিও কলে…
​উজানে’র মুখের বাকি কথা শেষ হওয়ার সুযোগ পেল না; তার আগেই খট করে রুমের দরজা খুলে গেল এবং মৌ এক ঝটকায় রুম থেকে বেরিয়ে এসে তড়িঘড়ি করে উজান’কে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। বউয়ের এমন তীব্র জেলাসি আর পাগলামি দেখে উজান নিজের মনে মনে মুচকি হাসল। সে মুহূর্তের মধ্যে আর কোনো কথা না বাড়িয়ে মৌ’কে এক টানে নিজের পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিল। ​সে মৌ’কে কোলে নিয়ে নিজের রুমের দিকে হেঁটে যেতে যেতে আরিয়ানে’র দিকে তাকিয়ে এক চোখ টিপলো।
“থ্যাংকস ভাইয়া এবার তুমি তোমার অসমাপ্ত রোমান্স কন্টিনিউ করতে পারো। বাই দ্য ওয়ে পিচ্চি…এই যে মাঝরাতে তুমি আমাকে এত কষ্ট দিলে এর পানিশমেন্ট হিসেবে আজ সারারাত আমি জেগে জেগে অনলি শিরিন আর ললিতার সাথেই ফোনে প্রেম করব হুহ্।

​”অ্যাঁহ ওনি বললেই যেন হলো! আমার দুলহা‚ অনলি আমার। আপনি আজ রাতে শুধু আমার সাথেই কথা বলবেন‚ দুনিয়ার আর কোনো ডাইনির সাথে নয় বলে দিলাম!
​উজান মৌ’কে নিজের রুমে নিয়ে এসে ধীরপায়ে বিছানায় বসিয়ে দিল এবং দ্রুত গিয়ে রুমের দরজাটা লক করে দিল। তারপর সে মুচকি হাসতে হাসতে ধীরপায়ে মৌ’য়ের দিকে এগিয়ে গেল। সে বিছানায় নিজের গা এলিয়ে দেওয়া মাত্রই আবারও উজানে’র ফোনে শিরিনে’র নম্বর থেকে রিংটোন বেজে উঠল। ​ঘন ঘন শিরিনে’র ফোন আসতে দেখে মৌ এবার নিজের ভেতরের সমস্ত ধৈর্য হারিয়ে ফেলল। সে এক প্রকার হিংস্র বাঘিনীর মতো বিদ্যুৎ গতিতে উজানে’র হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিল এবং কোনো কিছুর পরোয়া না করে ফোনটা সোজা মেঝের ওপর সজোরে আছাড় মেরে ছুড়ে ফেলল। ফোনটা এক পলকে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। ​তারপর সে তীব্র গতিতে উজানে’র চওড়া বুকের ওপর নিজের শরীরের সমস্ত ভর ছেড়ে দিয়ে তার গলাটা দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। সে নিজের লাল হয়ে যাওয়া চোখ দুটো তুলে উজানে’র চোখের দিকে চেয়ে চরম শাসানির গলায় সুধাল।

​”আমাকে আর বেশি রাগাবেন না বলে দিচ্ছি। নয়তো সত্যি সত্যি কোনো একদিন আপনাকে আমি নিজের হাতে কোরবানি দিয়ে দেব। এই মাথায় ভালো করে ঢুকিয়ে রাখুন #প্রফেসর_উজান_চৌধুরী অনলি অ্যান্ড অনলি এই তাসফিয়া মৌ’য়ের। তাসফিয়া মৌ নিজের জীবনে সবকিছু ভাগ করতে পারলেও নিজের স্বামীকে অন্য কোনো ডাইনির সাথে কোনোদিন শেয়ার করবে না জাস্ট মাইন্ড ইট।

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৯ (৩)

​কথাটি শেষ করেই মৌ নিজের সমস্ত অভিমান আর ক্লান্তি ভুলে উজানে’র সেই চওড়া বুকের মাঝে নিজের মাথাটা পরম শান্তিতে ঠেকিয়ে দিল। উজানে’র বুকের চেনা সুবাসে সে এতটাই বিভোর হয়ে পড়েছিল যে বিগত তিন দিনের অপলক ক্লান্তিতে মৌ এক মিনিটের মাথায় ওভাবেই উজানে’র বুকে মাথা রেখে ঘুমের ঘোরে পাড়ি জমাল। ​বউয়ের এমন তীব্র অধিকারবোধ আর পাগলামি দেখে উজান নিজের ঠোঁটের কোণে এক প্রশান্তির মুচকি হাসি ফুটিয়ে তুলল। সে নিজের সুস্থ হাতটি দিয়ে অত্যন্ত গভীর মায়ায় মৌ’য়ের মাথার সিল্কি চুলে আলতো করে বিলি কেটে দিতে দিতে মৃদুস্বরে আওড়াল।
​“আমার এই ছোট্ট অগ্নিকন্যাকে রাগলেও দেখতে বড্ড বেশি সুইট লাগে। ইসসস…কত কিউট আমার বাচ্চাদের কিউট মাম্মাহ্!

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here