প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৬ (২)
লামিয়া ইসলাম শাম্মী
বাগানের চারপাশ স্তব্ধ হয়ে আছে। বাগানের মাঝে মুখে হাত চেপে সামনের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তায়েব, তায়েবা, মাহির, ইভান, ইমন, হামিদা,লামহা, ছবি,শারমিন, আয়না, আরিফ,হাফসা, ফারিয়া।
কায়সার লামিয়ার কোমড় আঁকড়ে ধরে বেশ মুগ্ধ নয়নে আছে তাঁর দিকে। লামিয়া বিরক্ত চোখে তাকিয়ে আছে কায়সারের দিকে।
” এখন অবশ্য নাটক সিনেমার মতো লালা লালা লালা করে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজবে না তাই সরুন সামনে থেকে।” বেশ বিরক্ত হয়ে বলে কায়সার এর বুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে দূরে দাঁড়ালো লামিয়া।
কায়সার একটু দূরে সরে দাঁড়িয়ে লামিয়ার দিকে তাকালো। লামিয়া বিরক্ত চোখে তাকিয়ে কোমড়ের যে অংশে কায়সার হাত রেখেছে সেখানটায় ময়লা ঝাড়ার মতো করে ঝাড়ছে। তা দেখে কায়সার এর চোখ ছোট্ট হয়ে এলো। পাশে তাকিয়ে দেখলো ছবি দাঁড়িয়ে আছে তা দেখে কায়সার ভ্রু উঁচিয়ে আবার লামিয়ার দিকে তাকালো। সে এখনো বুঝতে পারছে না লামিয়া কে। অবশ্য এইটুকু জেনেছে যে লামিয়ার মতো দেখতে তাঁর ফুপাতো বোন আছে। তাই কোনটা লামিয়া কোনটা ছবি তা নিয়ে কায়সার কনফিউজড। তবে সামনে দাঁড়ানো মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছে এই তাঁর বুলবুলি। কায়সার সিউর হতে গলা পরিষ্কার করে বেশ ভদ্রতা বজায় রেখে বললো ” দেখে চলতে পারেন না এইভাবে ছোটাছুটি করছেন কেনো? আর বায় দ্যা ওয়ে আমি কায়সার মনে আছে আমাকে??”
লামিয়া কায়সারের কথায় বিরক্ত কন্ঠে বললো ” আমার বাড়ি আমার বাগান আমি যেখানে মন চায় সেখানে দৌড়া দৌড়ি করবো তাঁতে আপনার কী?? আর আপনি কী কোনো বিশেষ দিন নাকি যাকে মনে রাখতে হবে?” বলেই পিছন ঘুরে চলে যেতে লাগলো।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
কায়সার লামিয়ার চলে যাবার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেঁসে উঠলো। তারমানে এই তাঁর বুলবুলি।
লামিয়া সামনে এগোতেই মাহিরদের সামনে দেখে রেগে সবাইকে বললো ” বলেছি না শাড়ি পড়বো না এক ক…”
আর কিছু বলতে পারলো না তাঁর আগেই কোথা থেকে শুভ্র এসে হঠাৎ লামিয়া কে কাঁধে তুলে নিলো। আচমকা এমন হওয়াতে লামিয়া বেশ স্তব্ধ হয়ে বুঝার চেষ্টা করলো কী হচ্ছে। যখন বুঝতে পারলো ততক্ষণে শুভ্র তাঁকে কাঁধে তুলে হাঁটতে শুরু করেছে। লামিয়া শুভ্রর পিঠে কিল থাপ্পড় দিচ্ছে শুভ্রর তাঁতে ও কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।
” ফালতু লোক ছাড়ুন আমাকে। বাড়ি ভর্তি মানুষ ছাড়ুন আমাকে। খুব খারাপ হয়ে যাবে।”
বলেই চেঁচাতে লাগলো। পিছন পিছন রাশেদ, আরিফ, লামহা, হামিদা, তায়েব, তায়েবা, মাহির, ইভান, ইমন, শারমিন, হাফসা, ফারিয়া,ছবি, আয়না মুখ চেপে হাসতে হাসতে হাঁটছে।
আজমেরী বেগম শাড়ি পড়বে তাই লামিয়া আর তায়েবার খোঁজ করতে করতে নিচে আসতেই শুভ্রর কাঁধে লামিয়া কে দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেললো।
শুভ্রর চোখ অসম্ভব লাল হয়ে আছে। কপালের রগ ফুটে উঠেছে।
রাশেদা আর মনিরা বেগম লামিয়ার চেঁচামেচি শুনে রান্না ঘর থেকে হল রুমে আসতেই দেখলো শুভ্র লামিয়া কে কাঁধে তুলে সিঁড়ির দিকে হাঁটতে।
রাশেদা বেগম রাশেদ কে জিজ্ঞেস করতেই রাশেদ সব কিছু বুঝিয়ে বলতেই রাশেদা আর মনিরা বেগম হেঁসে রান্না ঘরে চলে গেলো।
শুভ্র দ্রুত রুমে এনে লামিয়া কে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে দরজা বেশ শব্দ করে লাগিয়ে দিলো। হামিদারা সবাই দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো তাঁর সাথে আজমেরী বেগম ও কপালে ভাঁজ নিয়ে দাঁড়িয়ে বললো ” ওরে এমন কান্দে কইরা নিয়া আইলো ক্যান রে? তাঁর উপরে দরজা বন্ধ কইরা দিছে?”
” তুমি বুঝবা না দাদী। চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখো শুনো কী হচ্ছে” পাশ থেকে মাহির বলে উঠলো।
সবাই দরজায় ভর করে কান পেতে শুনছে। তা দেখে আজমেরী বেগম ও দরজায় কান পাতলো।
” ফালতু লোক মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে আপনার? এসব কোন ধরনের ফাজলামি?” বেশ ঝাঁঝালো কন্ঠে বললো লামিয়া।
শুভ্র কথা বলছে না। হাত মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁতে দাঁত চেপে চোখ বন্ধ করে আছে। ফর্সা মুখ খানা লাল টুকটুকে হয়ে আছে।
তা দেখে লামিয়া আরো রেগে গিয়ে বললো ” কথা বলছেন না কেনো? আর বারণ করেছি না আমাকে স্পর্শ করবেন না সবসময়। আর দরজার বন্ধ করেছেন কেনো দরজা খুলুন। ”
লামিয়ার কথায় জেনো আগুনে ঘি ঢালার মতো অবস্থা হলো। শুভ্র নিজের রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছিলো এতোক্ষণ কিন্তু এখন লামিয়ার কথা শুনে রাগ কন্ট্রোল করতে পারলো না।
লামিয়া উঠে দরজার কাছে যেতেই শুভ্র লামিয়ার হাত টেনে ধরতেই লামিয়া শুভ্রর হাত ছাড়াতে চাইলে শুভ্রর রাগ আরো তিরতির করে বেড়ে গেলো।
রুম কাঁপিয়ে শক্তপোক্ত হাত দিয়ে লামিয়ার গালে চড় বসিয়ে দিলো। হঠাৎ গালে থাপ্পড় পড়তেই লামিয়া গালে হাত রেখে হতভম্ব হয়ে তাকালো শুভ্রর দিকে।
শুভ্রর চোখ অসম্ভব লাল হয়ে গেছে। চোখ দিয়ে মনে হচ্ছে এখনই জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করবে সব। লামিয়া তাঁর বৃদ্ধা আংগুল দিয়ে ঠোঁটের কোণে চেপে ধরতেই দেখলো তাঁর ঠোঁট ফেটে গিয়েছে। লামিয়া এইবার চোখ মুখ শক্ত করে তাকালো শুভ্রর দিকে। হঠাৎ রুম কাঁপিয়ে আরো একটা থাপ্পড় এর শব্দ হতেই রাশেদ রা দরজার ওপাশ থেকে একজন আরেকজনের দিকে তাকালো।
শুভ্র গালে হাত রেখে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। লামিয়া রাগে ফুসফুস করতে করতে বললো ” সাহস কি করে হয় আমার গাঁয়ে দ্বিতীয় বার হাত দেওয়ার?? মানা করেছি না আমার গাঁয়ে হা…”
লামিয়া বলার আগেই শুভ্র লামিয়ার চুলের মুঠি শক্ত করে ধরে নিজের কাছে নিয়ে এসে রাগে হিসহিসিয়ে বললো ” আমি তোকে স্পর্শ করলে তোর গায়ে ফোস্কা পড়ে আর ওই কায়সার যখন তোর গায়ে স্পর্শ করেছিলো, তোর দিকে লালসার দৃষ্টিতে তোর দিকে তাকিয়ে ছিলো তখন বেশ ভালো লেগেছে না তোর কাছে??” লামিয়া দাঁতে দাঁত চেপে তেজি চোখে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে। শুভ্র লামিয়ার এমন তেজ দেখে চুল আরো শক্ত করে চেপে ধরে লামিয়ার কোমড়ের যে অংশে কায়সার হাত রেখেছিলো ঠিক সেখানে খামচে ধরতেই লামিয়া ব্যাথায় ঠোঁট চেপে চোখ বুজে ফেললো। শুভ্র রাগে এইবার বেশ চেঁচিয়ে বললো ” তোর উড়না কোথায়?? তোর শরীরের উড়না কোথায় লামিয়া । ”
শুভ্রর কথায় লামিয়া ব্যাথা ভুলে দ্রুত চোখ খুলে বেশ অবাক দৃষ্টিতে তাকালো শুভ্রর দিকে। শুভ্রর চোখে চোখ রাখতেই শুভ্র রাগে বলে উঠলো ” কথা বলছিস না কেন? কথা বলতে পারিস না তুই?? বল তোর উড়না কোথায়? উড়না ছাড়া বেরিয়ে ছিলি কেনো?”
লামিয়া কোনো কথা না বলে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে। শুভ্র তা দেখে ভ্রু কুঁচকালো। হঠাৎ শুভ্র কে চমকে দিয়ে লামিয়া হাত দিয়ে শুভ্রর গলা জড়িয়ে ধরলো। লামিয়ার এমন কান্ড দেখে শুভ্র বেশ অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। নিমিষেই রাগ উধাও হয়ে
গিয়ে শুভ্র আস্তে আস্তে শান্ত হলো। লামিয়া শুভ্রর গলায় মুখ গুঁজতেই শুভ্র লামিয়ার চুল আর কোমড় থেকে হাত সরিয়ে নিলো। রাগের মাথায় কি থেকে কি বলে ফেলেছে শুভ্র জানে না। তবে কী লামিয়া শুভ্র কে চিনে ফেললো। এসব ভাবনার মাঝেই শুভ্র গলায় তীব্র ব্যথা অনুভব করতেই আহ্ বলে উঠলো। লামিয়া তা শুনে আরো জোড়ে শুভ্রর ঘাড় কামড়ে ধরতেই। শুভ্র এবার দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করতেই লামিয়া আরো জোরে কামড়ে ধরতেই শুভ্র এবার ব্যাথায় চেঁচিয়ে উঠলো।
” আহহহহহহহহ ছাড়ুন আমাকে। আপনি কি কুকুর নাকি আহহহহহহহহ মিসসস ছাড়ুন আমাকে ব্যাথা পাচ্ছি। ”
লামিয়া তবুও ছাড়ছে না দেখে শুভ্র লামিয়া কে জোড়ে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চাইলো। কিন্তু সাপের মতো গলা পেঁচিয়ে ধরায় ধাক্কাতে ও কাজ হচ্ছে না।
শুভ্র এমন চিৎকার শুনে আজমেরী বেগম ভ্রু কুঁচকে বললো ” কী হইলো? শুভ্র ওমন চিক্কুর দিয়া উঠলো ক্যান? চিক্কুর তো লামিয়ার দেওয়ার কথা।”
” কেন লামিয়ার দেওয়ার কথা ক্যান দাদী?” পাশ থেকে বেশ আগ্রহী হয়ে জানতে চাইলো ইভান।
” আরে ছেমড়া উনিশ বিশ হইলে তো মাইয়ারাই চিক্কুর দিবো নাকি পোলারা?”
আজমেরী বেগম এর কথায় সবাই থতমত খেয়ে অন্যদিকে ঘুরলো। আজমেরী বেগম যা বোঝাতে চেয়েছে তা বুঝতে কারোর বাকি নেই।
রাশেদ আজমেরী বেগম এর কথা ঘুরিয়ে দরজায় টোকা দিয়ে বললো ” আবরার ঠিক আছিস তুই দরজা খোল। আবরার।”
লামিয়া শুভ্রর ঘাড় ছাড়ছে না। শুভ্র উপায় না পেয়ে লামিয়ার কোমড় চেপে হাঁটতে লাগলো দরজার দিকে। খট করে দরজা খুলতেই সবাই হুমড়ি খেয়ে নিচে পড়লো। সবার নিচে আজমেরী বেগম।
আজমেরী বেগম এর উপর সবাই পড়তেই আজমেরী বেগম চিৎকার করে উঠলো।
লামিয়া সবার শব্দ শুনে শুভ্র কে ছেঁড়ে দূরে সরে দাঁড়ালো।
” দুম্বার দল গুলি। উঠ আমার উপরে থেইক্কা। এক এক টা মানুষ না তো খাসির বাচ্চা সব। উঠ আমার উপরে থেইক্কা।” বেশ চেঁচিয়ে বললো আজমেরী বেগম।
তাঁর চিৎকার শুনে সবাই দ্রুত উঠে দাঁড়ালো। শারমিন বেশ ব্যাথা পেয়েছে পায়ে দাঁড়াতে তাঁর কষ্ট হচ্ছে। তা রাশেদ খেয়াল করলো। শারমিন এগিয়ে আসতেই রাশেদ সবার আড়ালে শারমিনের কোমড় চেপে তাঁর সাথে দাঁড় করালো। কোমড়ে পুরুষয়ালী স্পর্শ পেতেই শারমিন কেঁপে উঠলো। রাশেদ এর দিকে তাকাতেই দেখলো রাশেদ শুভ্রর দিকে তাকিয়ে আছে।
সবাই উঠে লামিয়া আর শুভ্রর দিকে তাকাতেই চমকে উঠলো। দুজনের গালেই থাপ্পড়ের চিহ্ন। লামিয়ার ঠোঁটে রক্ত লেগে আছে। হামিদা দ্রুত বোনের ঠোঁট ধরতেই লামিয়া সরিয়ে দিলো।
তায়েব লামিয়া কে কিছু বলতে যাবে তার আগেই ছবি চেঁচিয়ে উঠলো
” আপনার গলা থেকে রক্ত বের হচ্ছে শ..আবরার ভাই।”
লামিয়া ভ্রু কুঁচকে ছবির দিকে তাকালো। ছবির কথায় সবাই শুভ্রর দিকে তাকাতেই আঁতকে উঠলো। ভীষণ বিশ্রী ভাবে কামড়ানো হয়েছে তাঁর গলায়। সেখান থেকে রক্ত পড়ছে।
রাশেদ দ্রুত শুভ্র কে বিছানায় বসিয়ে মাহির কে বললো ফার্স্ট এইড কিট বক্স আনতে। মাহির দ্রুত চলে গেলো তা আনতে।
শুভ্র নিচের ঠোঁট কামড়ে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। লামিয়া ও শক্ত চোখে তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে।
” ভাই তুই মানুষ নাকি কুকুর বলতো এভাবে কেউ কামড়ায়?” লামিয়ার দিকে তাকিয়ে আরিফ বলে উঠলো।
লামিয়া কিছু না বলে মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলো। মাহির ফার্স্ট এইড কিট বক্স এনে রাশেদের হাতে দিলো। রাশেদ সেখান থেকে তুলো বের করে শুভ্রর গলার রক্ত মুছে দিতেই চমকে উঠলো। গলার ক্ষত বেশ গভীর। রাশেদ আলতো হাতে মলম লাগিয়ে দিতে লাগলো।
” এই মাইয়া মানুষ না ডাইনি ডাইনি তাই তো পোলাডারে এমন কইরা কামড়াইছে।” আহাজারি করে বললো আজমেরী বেগম।
” ভালো করেছি কামড়েছি তোমার এতো জ্বললে আসো তোমাকে ও কামড়াই।” বেশ বিরক্ত হয়ে বললো লামিয়া।
” এতো সুন্দর পোলা দেখলেই চুমাইবার মন চায়। কী সুন্দর কইরা কান্দে কইরা তোরে ঘরে নিয়া আইলো। কুথায় আদর কইরা চুমা পারবি তা না কইরা এমন কইরা কামড় দিলি?”
” এতোই সুন্দর লাগলে চুম্মা চাটি তুমি করো আমাকে বলছো কেনো?? আর কাঁধে নিয়েছে কেনো আমি কি বলেছি আমাকে কাঁধে নিতে?? এতোই যখন আদর করার কথা বলছো তাহলে তুমি করো না কেনো করো তুমি আদর। আর এতো মনে ধরলে বলো কালকে বিয়ে টা ও করিয়ে দেই তারপর বাসর করে পরের দিন একটা বাম্পার ফলন দিয়ে চাচা এনে দিও আমাদের তাহলেই হয়।”
” চুপ থাকবি তুই কি বলছিস এসব?” পাশ থেকে লামহা লামিয়ার মাথায় গাট্টা মেরে বললো।
” দেখছোস দেখছোস কি কয় আমারে?? যা যা দরকার পড়লে তাই করুম। তোর ভাগ্যে এমন জামাই জুটলে সবাই কইবো ডাইনির গলায় মুক্তার মালা। তোর কপালে কাইল্লা পাডা পড়বো পাডা। তহন আমার এমন হ্যান্ডসাম দেখলে জ্বইল্লা যাবি।”
” কালা পাডা আসুক বা ধলা ভালো আর সৎ মানুষ জানি আসে তবুও জানি মিথ্যাবাদী কোনো লোক আমার জীবনে না আসে।” বেশ শক্ত গলায় শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বললো লামিয়া।
শুভ্র শান্ত চোখে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। লামিয়া তা দেখে চলে যেতে লাগলো। শুভ্র হামিদা কে ইশারা করতেই সব মেয়েরা লামিয়া কে চেপে ধরতেই লামিয়া হাত পা ছুড়তে লাগলো। তা দেখে সবাই আরো শক্ত করে লামিয়া কে চেপে নিয়ে চলে গেলো হামিদার রুমে। আজ তারা মরে গেলেও লামিয়া কে ছাড়বে না তা বেশ বুঝতে পারছে লামিয়া। সবাই চলে যেতেই আরিফ বলে উঠলো
” এই মাহির গাড়ি বের কর দ্রুত।”
” গাড়ি কেনো? কোথায় যাবে?”
” হাসপাতালে যাবো গাড়ি বের কর।”
আরিফের কথায় সবাই ভ্রু কুঁচকে তাকালো তাঁর দিকে।
তা দেখে আরিফ ঠাট্টা স্বরে বললো
” ক্ষত বেশ গভীর বড় ভাই। শুভ্রর যদি কিছু হয়ে যায় লামিয়ার কামড়ে তখন?? তাই একটা ইনজেকশন পুশ করলে ভালো হতো না?”
আরিফের কথায় সবাই হেসে উঠলো। শুভ্র বিরক্ত হয়ে বললো ” বের হ আমার রুম থেকে তোরা রুম থেকে।”
শুভ্র এর কথায় পাত্তা না দিয়ে তাঁকে নিয়ে বেশ মজা করছে সবাই। তা দেখে শুভ্র বিরক্ত হয়ে সব কয়টাকে বের করে দিয়ে দরজা লাগিয়ে হেঁসে উঠলো।
” ইসলাম বাড়িতে নাকি বিয়ের উৎসব??”
” হ্যাঁ!”
” আমার তুষার রানী কে দেখতে চাই এক নজর।”
” কীভাবে দেখবে?? পুরো বাড়িতে ছিটিয়ে আছে ফ্যালকনের মানুষ। যারা চোখ কান সজাগ রেখে পাহারা দিচ্ছে ইসলাম বাড়ি।”
” সো হোয়াট?? যেভাবেই হোক আমাকে ইসলাম বাড়িতে ঢোকার ব্যাবস্থা করে দাও।”
” কিন্তু!”
” কোনো কিন্তু শুনতে চাই না আমি।”
” ওকে দেখছি কী করা যায়। ” বলেই ফোন কেটে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে হুডি পড়া অবয়ব টি গাড়িতে উঠে গেলো।
সময় সন্ধ্যা সাতটা।
হলুদের সাজে সজ্জিত হয়েছে সবাই। আজ হামিদা, লামহা আর আয়না কে পড়ানো হয়েছে লাল পারের হলুদ শাড়ি। আর সব মেয়েরা পড়েছে হলুদ শাড়ি।
বেশ সুন্দর করে সেজেছে সবাই আজকে। পার্লারে মানুষ খান আর ইসলাম বাড়ির মেয়েদের সাজিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছে। আজ সাজের মধ্যে তায়েবা ও যোগ দিয়েছে তাদের সাথে।
লামিয়া থম মেরে বসে সব দেখছে। ইসলাম আর খান বাড়ির কর্তিরা মেয়েদের দেখে বেশ খুশি হয়ে প্রশংসা ও করলেন। লতিফা বেগম দু মেয়েকে জড়িয়ে কেঁদে উঠলো। যতোই কাছে বিয়ে দেক না কেনো তবুও মায়ের মন তো। লামিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। লামহা, হামিদা ও মা কে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে।
রাশেদা বেগম ধমকে লতিফা বেগমকে ছাড়িয়ে নিলেন দু মেয়ের থেকে। লাতিফা বেগম চোখের পানি মুছে মেয়েদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে পাশে তাকাতেই ভুত দেখার মতো চমকে উঠলো। কান্না সাইডে ফেলে হা করে তাকিয়ে আছে পাশে। তাকে এমন হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে সব কর্তীরা তার দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকাতেই তাদের ও মুখ হা হয়ে গেলো।
লামিয়া বেশ বিরক্ত হয়ে অন্যদিকে ঘুরলো।
মনিরা বেগম এর মুখ থেকে বেরিয়ে এলো ” মাশাআল্লাহ।”
তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে শারমিন, হাফসা, ফারিয়া, ছবি,হামিদা, লামহা, তায়েবা হাসছে।
তাঁদের সামনে হাত পা বেঁধে বসে আছে লামিয়া। গায়ে তাঁর লাল রঙের কলসি হাতার ব্লাউজ, জামদানি লাল শাড়ি তাও বাঙালি স্টাইলে পড়া, মেহেদী রাঙা দু হাত ভর্তি লাল কাচের চুড়ি, কোমড় পর্যন্ত গোছা চুল গুলো মাঝখানে সিঁথি করে বেঁধে রাখা, সিঁথির মাঝে একটা ছোট্ট টিকলি, কানে কান টানা, চোখে তাঁর কালো মোটা কাজল, ঠোঁটে হালকা খয়েরি লিপস্টিক।
এই রূপে লামিয়া কে কোনোদিন কেউ দেখেছে কি না সন্দেহ। আর সবচেয়ে বড় কথা শাড়ি পড়া জীবনে কেউ দেখেছে কি না তাও কেউ বলতে পারবে না।
বেশ মায়াবতী লাগছে আজ লামিয়া কে। কে বলে কালো বা শ্যামলা মেয়েরা সুন্দর না? শ্যামলা মেয়েরা ও সুন্দর হয়। ফর্সা মানুষের চেয়ে শ্যামবর্ণের মানুষ যে কতো সুন্দর তা যদি কেউ চোখ খুলে দেখতো তাহলে কেউ কোনোদিন কালো বা শ্যামলা মেয়েদের তুচ্ছ করতো না।
লতিফা বেগম অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। লামিয়া বিরক্ত হয়ে বললো ” কী সমস্যা এইভাবে তাকিয়ে আছো কেনো তোমরা?? আর মা এই হাতের বাঁধন খুলো দ্রুত আমাকে ওরা ধরে বেঁধে শাড়ি পড়িয়েছে। দেখো এই শাড়ি আমি কি কোনো দিন পড়েছি বলো?? দেখো আমার পেট দেখা যাচ্ছে। আমার কিন্তু অনেক বিরক্ত লাগছে। ”
রাশেদা বেগম হেঁসে লামিয়ার কাছে এসে একটা পিন দিয়ে কোমড়ের অংশটুকু পিন দিয়ে লাগাতে লাগাতে বললো ” আজকে তোর দিক থেকে চোখ সরাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।” বলেই চোখ থেকে কাজল টেনে লামিয়ার কানের পিঠে লাগিয়ে দিয়ে বললো ” ইসলাম বাড়ির রায় বাঘিনীর নজর জানি না লাগে।”
” উফফ বড় চাচি এসব কি করছো? ছোট্ট থেকে এমন কালা টিকা দিয়েছো যার কারণে আজ পর্যন্ত কারোর প্রিয় মানুষ হতে পারিনি।”
লামিয়ার কথা শুনে সবাই হেসে উঠলো। লতিফা বেগম চোখ গরম করে লামিয়ার দিকে তাকালো। টুকটাক কথা বলে সবাই চলে গেলো।
খান আর ইসলাম বাড়ির ছেলেরা বসে আছে চেয়ারে।
সবার গাঁয়ে সাদা পাঞ্জাবি। এক একজন কে দেখে মনে হচ্ছে কোনো রাজ্যের রাজপুত্র গুলো এখানে এসে পড়েছে।
হঠাৎ সেখানে মনিকা এসে উপস্থিত হতেই লাবিব এর সাথে ঘেঁষে বসতেই লাবিব বিরক্ত হয়ে বললো ” প্লিজ একটু দূরত্ব রেখে বসো। সবসময় এমন ঘেঁষাঘেঁষি কেনো করো?”
লাবিব এর এমন কথা শুনে মনিকার হাঁসি মুখে অন্ধকার নেমে আসলো।
হলুদের পর্ব একটু পর শুরু হবে তাই সবাই বউদের বাগানে আনার জন্য বললো।
তা শুনে শুভ্র, রাশেদ, তায়েব, মাহির, ইভান, ইমন,লাবিব , ,জাহিদ, ফাহিম আর সামির চলে গেলো তাদের আনার জন্য।
প্রথমেই হামিদা কে লাইনে দাঁড় করালো। তাঁর মাথার উপর উড়না ধরে আছে। তায়েব, মাহির, ইভান, ইমন।
তারপর আয়না কে দাঁড় করানো হলো। তাঁর মাথায় উড়না ধরে আছে শুভ্র, রাশেদ, লাবিব আর জাহিদ।
তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে আছে লামহা। তাঁর মাথায় উড়না ধরে আছে সামির, ফাহিম, শারমিন আর তায়েবা।
শুভ্র সবাই কে দেখে আশেপাশে তাকিয়ে লামিয়া কে খুঁজলো কিন্তু কোথাও না পেয়ে হাঁটতে লাগলো সবার সাথে বাগানে।
বাগানে আসতেই আরিফ, আবির, সাফওয়ান তাদের প্রিয়তমা দের দেখে মুচকি হেসে হাত বাড়িয়ে দিতেই হামিদা, আয়না, লামহা হালকা হেসে তাদের হাত ধরে স্টেজে উঠে বসলো।
একে একে সবাই আস্তে ধীরে হলুদ লাগানো শুরু করলো।
কিন্তু আশেপাশে লামিয়া কে না দেখে শুভ্র পিছন ফিরতেই থমকে গেলো। লাল টুকটুকে পরি যেনো এগিয়ে আসছে তাঁর দিকে। জীবনের প্রথম লামিয়া কে শাড়িতে দেখছে শুভ্র।
লামিয়ার শাড়ি ভীষণ প্রিয় এটা শুভ্র জানে। লন্ডনে যাওয়ার পর যখন লতিফা বেগম এর ফোন দিয়ে কথা হতো লামিয়ার সাথে তখন বলতো শুভ্র ভাই আপনাকে যখন এয়ার পোর্টে আনতে যাবো তখন আমি শাড়ি পড়ে যাবো। লাল টুকটুকে শাড়ি পড়ে আমি আপনার জন্য বউ সাজবো শুভ্র ভাই। শুভ্র কিছু বলতো না শুধু চুপচাপ শুনতো।
শুভ্রর মৃত্যুর খবর আর ছবির বানানো গল্প শুনে শান্ত, ভীতু লামিয়া কেমন অশান্ত, রাগি জেদি, বদমেজাজি হয়ে উঠলো। মুছে গেলো তাঁর জীবনের সব রং, মুছে গেলো শুভ্র কে নিয়ে সংসার করার স্বপ্ন। সেদিনের পর থেকে কোনোদিন লামিয়া শাড়ি পড়েনি। শুভ্র ভায়ের লাল টুকটুকে বউ সাজা আর হয়নি তাঁর।
লামিয়া বেশ সাবধানে হাঁটছে। হাঁটার কারণে পায়ে নূপুর গুলো ঝুনঝুন করে বাজছে। শুভ্র মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। এ এক অন্য লামিয়া কে সে দেখছে।
কোথা থেকে জ্যাকি আর ব্ল্যাকি এসে লামিয়ার চারপাশে গোল হয়ে ঘুরছে। দেখে মনে হচ্ছে তাঁরা বেশ খুশি। লামিয়া হেঁসে ঝুঁকে তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। শুভ্র মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো
~ ওই লাল টুক টুক শাড়ি পড়া মাইয়া
আমার মন প্রাণ সব ই নিছে কাইড়া।।
আমার ভালোবাসার ময়না পাখি টিয়া
তোমায় ভালবাইসা করমু আমি বিয়া।।।
পাশ থেকে লাবিব, তায়েব, মাহির, ইভান, ইমন, রাশেদ, জাহিদ, সামির, আরিফ সবাই এক সাথে বলে উঠলো ওওওওওওওওওহোওওওওওও।
তাদের কথায় শুভ্রর ধ্যান ফিরলো। তাঁদের দিকে তাকিয়ে মাথা হালকা চুলকিয়ে হেঁসে উঠলো। তারপর সামনে লামিয়ার দিকে তাকালো।
লামিয়া হেঁটে শুভ্রর দিকে না তাকিয়ে চলে গেলো স্টেজে।
আজ ছবি আর লামিয়া একরকম সেজে তাই লাবিব বেশ বিরক্ত। একে তো এক চেহারা তাঁর উপর এক রকম সেজেছে। কে ছবি কে লামিয়া তা চিনতে বেশ কষ্ট হচ্ছে লাবিব এর।
বর আর বউ দের হলুদ দেওয়া শেষে সবাই হলুদ নিয়ে দৌড়া দৌড়ি করছে। যে যাকে পাচ্ছে একজন আরেকজনকে ভুত বানিয়ে দিচ্ছে হলুদ দিয়ে। লাবিব ছবি কে খুঁজছে কিন্তু পাচ্ছে না। লামিয়া চুপচাপ এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর হলুদ লাগানো পছন্দ নয়।
হঠাৎ পিছন থেকে উন্মুক্ত কোমড়ে কারোর শীতল স্পর্শ পেতে লামিয়া কেঁপে উঠলো। পিছন ফেরার আগেই লামিয়া কে টেনে অন্ধকারে নিয়ে গেলো। লামিয়া পিছন ঘুরে রেগে কিছু বলার আগেই দেখলো শুভ্র দাঁড়িয়ে আছে। লামিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই শুভ্র লামিয়ার গলায়, গালে, কোমড়ে হলুদ লাগিয়ে দিতেই লামিয়া বেশ কেঁপে উঠলো। শুভ্র মুচকি হেসে একটু ঝুঁকে লামিয়ার হলুদ মাখানো গালের সাথে নিজের গালে হলুদ লাগিয়ে নিয়ে লামিয়া কে ছেঁড়ে দূরে সরে দাঁড়ালো।
লামিয়া রেগে কিছু বলার আগেই শুভ্রর ফোনে কল আসতেই শুভ্র ফোন নিয়ে সাইডে চলে গেলো। লামিয়া বিরক্ত হয়ে গালের হলুদ মুছতে মুছতে বাগানে যাবার আগেই হাতে টান অনুভব করতেই পিছনে তাকাতেই দেখলো লাবিব দাঁড়িয়ে আছে। লামিয়া ভ্রু কুঁচকে কিছু বলার আগেই লাবিব লামিয়ার মুখ চেপে ধরে ঘোর লাগা কন্ঠে বললো ” চুপ একটা কথাও বলবি না। আজকে আমি তোকে একটা চুমু খাবো। তুই যতোই নানা করিস না কেনো?? আজকে আটকাতে পারবি না। বলেই লামিয়ার গলায় মুখ নিতেই লামিয়া ছটফট করে উঠলো। লাবিব গলায় মুখ নিতেই লামিয়া লাবিব এর মেইন পয়েন্টে লাথি মেরে বসলো। লাবিব ব্যাথায় মাটিতে বসে বললো ” পাগল হয়ে গেলি নাকি?? নিজের হাতে কেউ নিজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে নাকি?”
লামিয়া রাগে গজগজ করতে করতে বললো ” আমাকে কী আপনার ছবি পেয়েছেন যে লতুপুতু করতে আসবেন আর আমি সাঁই দিবো? একজন কে ধরার আগে দেখবেন না চোখ দিয়ে যে কাকে ধরলেন। যতসব।” বলেই চলে গেলো।
লাবিব কিছু বলার আগেই ছবি ছলছল চোখে সেখানে উপস্থিত হলো। তাঁর পাশেই অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শুভ্র।
লাবিব তা দেখে অসহায় চোখে বললো ” বিশ্বাস কর আমি ভেবেছিলাম ছবি কিন্তু লামিয়া হবে আমি জানতাম না।
শুভ্র চোখ গরম করে চলে গেলো সেখান থেকে। ছবি লাবিব এর দিকে তাকিয়ে ” ছিঃ ” বলে চলে গেলো।
লাবিব অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে ছবির যাওয়ার দিকে।
লামিয়ার পাশেই বসে আছে জ্যাকি। হঠাৎ জ্যাকি কিছু আঁচ করতে পেরে কান গুলো নাড়িয়ে ঘেউ ঘেউ করতে করতে গেটের দিকে দৌড়াতে লাগলো। লামিয়া তা দেখে বেশ চিন্তিত হয়ে দৌড়াতে লাগলো জ্যাকির পিছু।
এইদিকে লামিয়া কে খুঁজতে খুঁজতে বেশ চিন্তিত হয়ে বাগানে এসে দাঁড়ালো শুভ্র। হঠাৎ নূপুরের ঝুমঝুম শব্দ কানে আসতেই দেখলো লামিয়া জ্যাকির পিছু গেটের দিকে দৌড়াচ্ছে। শুভ্র কিছু আঁচ করতে পেরে দ্রুত দৌড়ে গেলো। জ্যাকি গেটের কাছে এসে থেমে ডান দিকে দৌড়াতে লাগলো। রাতের বেলা জ্যাকি কে এমন আচরণ করতে দেখে লামিয়া এইবার আরো চিন্তায় পড়লো। হঠাৎ জ্যাকির কি হলো বুঝতে পারছে না। তাই জ্যাকি জ্যাকি বলতে বলতে দৌড়াতে লাগলো।
হঠাৎ দৌড়াতে দৌড়াতে কারোর সাথে ধাক্কা লাগতেই লামিয়া রাস্তায় পড়ে গেলো। লামিয়া মাথা তুলে তাকাতেই একজন লোক তাঁর ঘাড়ে একটা সুই পুশ করতেই লামিয়ার চোখ অন্ধকার হয়ে এলো। তবুও তাকানোর চেষ্টা করতেই আবছা দেখতে পেলো তিনজন লোক দাঁড়িয়ে আছে আর কিছু দেখতে পেলো না লুটিয়ে পড়লো রাস্তায়। জ্যাকি সামনে এগিয়ে আবার পিছন ঘুরে লামিয়া কে পড়ে যেতে দেখে ঘুরে দৌড়ে এসে লামিয়ার আঁচল টেনে দৌড়াতে চাইলো। কিন্তু পারলো না । লামিয়ার দিকে একজন লোক এগিয়ে আসতেই জ্যাকি ঢাল হয়ে দাঁড়ালো। বেশ রেগে ঘেউ ঘেউ করতে লাগলো। জ্যাকি কে এখন দেখতে বেশ হিংস্র কুকুরের মতো লাগছে। একজন লামিয়ার দিকে এক পা এগিয়ে আসতেই জ্যাকি তাঁর সামনের দাঁত বের করে ঘেউ ঘেউ করে উঠলো। তা দেখে লোকটি পিছিয়ে গেলো।
জ্যাকি তাঁর মালকিন কে বাঁচাতে চাইছে এই লোকদের হাত থেকে। তাঁকে দেখেই মনে হচ্ছে লামিয়ার গায়ে কেউ হাত দিলে তাঁকে কামড়ে ছিঁড়ে ফেলবে।
হঠাৎ একজন বেশ সাহস করে এগিয়ে এসে লামিয়ার হাত ধরতেই জ্যাকি লোকটির হাত কামড়ে ধরলো। লোকটি ছাড়ানোর জন্য ছটফট করতে লাগলো। উপায় না পেয়ে জোড়ে ধাক্কা দিতেই জ্যাকি লোকটির হাত থেকে মাংস ছিঁড়ে আনলো।
তা দেখে আর দুটো লোক ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলো।
একজন আরেকজনকে দিকে তাকিয়ে পেন্টের পিছন থেকে বন্দুক বের করে জ্যাকির দিকে তাক করলো।
প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৬
“এই কুকুর থাকলে এই মেয়েকে নিয়ে যেতে পারবো না”
লোকদের থেকে একজন বলে উঠলো।
” তাহলে সুট করে দে।”
বন্দুক হাতে থাকা লোকটা মাথা নেড়ে জ্যাকির দিকে তাকিয়ে বন্দুক তাক করলো। জ্যাকি বেশ হিংস্র চোখে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বন্দুকের সামনে।
লোকটি আর কিছু না ভেবে ঠাস করে গুলি চালিয়ে দিতেই জ্যাকি রাস্তায় শুয়ে পড়লো।
