প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৬
লামিয়া ইসলাম শাম্মী
রাতের অন্ধকার কাটিয়ে ধরণীতে দিনের আলো একটু একটু ফুটছে। চারদিকে ফজরের আজানের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সাপের মতো শরীর কেউ পেঁচিয়ে রেখেছে তা অনুভব করতেই লামিয়া পিটপিট করে চোখ খুলে দেখলো তায়েবা তাঁকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আছে। হাত ভর্তি মেহেদী তাঁর সেই হাত দিয়েই পেঁচিয়ে আছে তাঁকে। দেখেই লামিয়া বিরক্ত হয়ে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো তায়েবা কে।
উঠে বসে চোখ ডলতে ডলতে পাশে তাকাতেই দেখলো হামিদা, লামহা, আয়না একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে। কালকে রাতে গানের আসর শেষ করে যে যেখানে পেড়েছে ঘুমিয়েছে। অবশ্য কালকে খেলায় ছেলেরাই জিতেছে। কারণ লামহা গান না গাওয়ায় তাদের পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছিলো। খেলা শেষে এই নিয়ে বেশ তর্কাতর্কি হয়েছিলো তাদের সাথে ছেলেদের। অবশেষে মেয়েদের হার মানতে হয়েছে ছেলেদের কাছে। খেলা শেষে লামিয়া রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলো। তায়েবা, লামহা, হামিদা, আয়না কখন রুমে এসে ঘুমিয়েছে সে জানে না। ভেবে লামিয়া ফুস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বিছানা থেকে নেমে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
বেলকনিতে দাঁড়াতেই হালকা শীতল বাতাস এসে তাঁকে ছুঁয়ে দিতেই লামিয়ার অধরে মিষ্টি হাঁসি ফুটে উঠলো। হাত দুটো বুকে বেঁধে চোখ বন্ধ করে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে লাগলো। তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে এই ফজরের সময় টা। তাই তো সবসময় ফজরের সময় উঠে নামাজ আদায় করে নিয়ে হায়তো হাঁটতে বের হয়ে যায় হয়তো আবার ঘুমিয়ে পড়ে। তবে ফজরের সময় তার উঠা চাই চাই।
চোখ খুলে লামিয়া সামনে তাকালো। লামিয়া দের বাড়ি সোজা খান বাড়ি তাঁর পাশেই আরো একটা বাড়ি আছে চারপাশে বাউন্ডারি করা। লামিয়া বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে উড়না গাঁয়ে পেঁচিয়ে ড্রয়ার থেকে একটা চাবির গোছা নিয়ে বেরিয়ে গেলো বাড়ির বাহিরে।
হামি তুলতে তুলতে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো শুভ্র। চোখ মুখ লাল টুকটুকে হয়ে আছে তাঁর। ভীষণ মাথা ব্যাথা করছে তাই চুলে শক্ত করে টেনে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে আছে। মাথা ব্যাথার জন্য সারা রাত ঘুমাতে পারে নি সে। এখনো তেমন দিনের আলো ফুটে নি চারপাশ অনেকটা অন্ধকার। বাড়ির আশেপাশে লাইট জ্বলছে।
দীর্ঘ শ্বাস ফেলে চোখ খুলে তাকাতেই দেখলো লামিয়া দ্রুত পায়ে গেটের বাহিরে যাচ্ছে। শুভ্র তা দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকালো এতো ভোরে এই মেয়ে কোথায় যাচ্ছে আবার ? ভেবেই সে ও দ্রুত লামিয়ার পিছু নিলো।
হাঁটতে হাঁটতে লামিয়া দাঁড়ালো লাবিব দের বাড়ির পাশের বাড়ির গেটের সামনে। লোহার তৈরি গেটে ঝুলছে ইয়া বড় তালা। লামিয়া পাশে তাকিয়ে দেয়ালের দিকে তাকালো। দেয়ালের গায়ে খোদাই করে লেখা আছে শাহরিয়ার শুভ্রা নিবাস। লামিয়া সেখানে আলতো করে হাত বুলিয়ে চাবির গোছা বের করে তালা খুলে বাড়িতে প্রবেশ করলো।
চারপাশ কেমন স্তব্ধ হয়ে আছে চারপাশ। লামিয়া চারপাশে চোখ বুলিয়ে সোজা গিয়ে বাড়ির কাঠের দরজা খুলে বাসার ভিতরে প্রবেশ করে সারা বাড়ির লাইট জ্বালিয়ে দিলো। তাঁরপর সিঁড়ি বেয়ে উপরের রুমের দিকে পা বাড়ালো। শাহরিয়ার শুভ্রা নিবাস হলো শুভ্র দের বাড়ি। প্রায় কয়েক বছর ধরেই এই বাড়ি বন্ধ করা। এই বাড়িতে কোনো মানুষের আনাগোনা নেই। তবে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করলে কেউ বুঝতে পারবে না যে এই বাড়িতে মানুষ থাকে না। হামিদ সাহেব প্রতি সপ্তাহে এই বাড়ি পরিষ্কার করান মানুষ দিয়ে। তা ও লামিয়ার কথায়। এই বাড়িটি শুভ্রা বেশ শখ করে তৈরি করেছিলেন। এই বাড়ির প্রতিটা জিনিস শুভ্রা নিজের হাতে সাজিয়েছিলেন। এই বাড়ির নকশা হুবুহু ইসলাম বাড়ির নকশাতে বানানো তবে কিছুটা ভিন্ন। তাঁরা বেঁচে থাকলে হয়তো লামিয়া শুভ্রর বউ হয়ে এই বাড়িতে এসে যেতো অনেক আগেই।
লামিয়া একটা রুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো। চাবি দিয়ে দরজার লক খুলে রুমের ভিতরে ঢুকলো।
তারপর আলমারি থেকে জায়নামাজ বের করে ফ্লোরে বিছিয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলো।
প্রায় সময় সে এই ফাঁকা বাড়িতে এসে সময় কাটায়। তবে কিছুদিন ধরে আসা হচ্ছে না। এই বাড়িতে তাঁর অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে তাঁর শুভ্র ভায়ের সাথে, তাঁর শুভ্রা মায়ের সাথে তাঁর শাহরিয়ার বাবাইয়ের সাথে।
শুভ্র লামিয়ার পিছু পিছু বাড়িতে প্রবেশ করেছিলো বেশ সাবধানে। লামিয়া এখনো টের পাইনি শুভ্র ও এই বাড়িতে উপস্থিত আছে। লামিয়ার সব কিছু এতোক্ষণ শুভ্র চুপচাপ আড়ালে লুকিয়ে দেখতে লাগলো। তাঁর চঞ্চলা ভ্রমরা যে সবার কাছে বেশ নারিকেল এর মতো শক্ত দেখালেও আসলে সে ভিতরে ভিতরে বেশ নরম।
লামিয়া দু হাত তুলে মোনাজাত ধরতেই ডুকরে কেঁদে উঠলো। শুভ্র অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে।
” হায় আল্লাহ ,
এ কেমন বিধান আপনার ?
সবাইকে দু হাত ভরে কিছু না কিছু দিচ্ছেন।
কিন্তু আমার কপালে কেনো বার বার শূন্যতা দিচ্ছেন ?
সবার বেলা পূর্ণতা শুধু আমার বেলাতে অপূর্ণতা কেনো রেখেছেন আপনি?
কেনো তাঁকে দূরে নিয়ে গেলেন আপনি?
যদি আমার ভাগ্যে তাঁকে লিখেই না রাখেন, তাঁকে জীবন থেকেই দূরে নিয়ে গেলেন , তাহলে আমার এই মন থেকে কেনো মুছে দিচ্ছেন না আপনি তাঁকে।
আর যদি মন থেকে নাই মুছে দেন তাকে, তাহলে অন্তত আমার শেষ নিঃশ্বাসের মুক্তিটুকু দিন,এইটুকু করুণা করুন আপনি আমার উপর।”
শুভ্রর চোখ জ্বলছে হাতের উল্টো দিক দিয়ে চোখ মুছে শুকনো ঢোক গিলে ঠোঁট ভেজালো। লামিয়া কে এই অবস্থায় দেখে শুভ্রর বুক কাঁপছে। ভীষণ ইচ্ছে করছে এখনই ছুটে গিয়ে লামিয়া কে তাঁর বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলতে এই তো তোর শুভ্র ভাই আমি। আমি এসে গিয়েছি ভ্রমরা। আমি খুব সরি খুব খুব খুব সরি। অনেক কষ্ট দিয়েছি তোকে আর কোনোদিন তোকে কষ্ট পেতে দিবো না আমার প্রাণভ্রমর। ইসস যদি পারতো এমন করতে তাহলে তাঁর বুকের যন্ত্রনা টা একটু হলেও কমে যেতো।
লামিয়া নামাজ শেষ করে জায়নামাজ ভাঁজ করে আলমারি তে রেখে একটা নীল রঙের টিশার্ট বের করে হাতে নিয়ে লাইট অফ করে বিছানায় গিয়ে বসলো। হাতে থাকা টিশার্ট টা মুখে চেপে নাক দিয়ে ঘ্রাণ নিলো।
শুভ্র যাবার আগে অনেক শার্ট রেখে গিয়েছিলো। লামিয়া সেগুলো কে বেশ যত্ন সহকারে ভাঁজ করে রেখে দিয়েছে। এই শার্টের গায়ে শুভ্রর গায়ের ঘ্রাণ মিশে আছে।
লামিয়া টিশার্ট টা বুকে জড়িয়ে শুয়ে পড়লো বিছানায়।
শুভ্র আড়াল থেকে চুপচাপ লামিয়ার পাগলামি দেখে মনে মনে হাসলো। তারপর আস্তে করে বাড়ি থেকে বের হয়ে বেরিয়ে গেলো বাড়ির দিকে।
লামিয়া বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই তাঁর চোখ ভর্তি ঘুম এসে গেলো তাই ঘুমের রাজ্যে পারি দিলো টিশার্ট বুকে চেপে।
প্রায় আধঘন্টা পর শুভ্র এলো সেখানে। এসে যখন দেখলো লামিয়া ঘুমিয়ে আছে তা দেখে শুভ্র মুচকি হেসে ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসলো। লামিয়ার মুখে পড়ে থাকা এলোমেলো চুল গুলো বেশ যত্ন করে কানের পিছনে গুজে দিলো। কান্নার কারণে চোখ মুখ ফুলে গিয়েছে তা দেখে শুভ্র লামিয়ার গালে আলতো করে হাত রেখে কপালে বেশ গম্ভীর চুম্বন একে দিলো। তারপর পকেট থেকে মেহেদী বের করে লামিয়ার হাত টা আস্তে করে টেনে আনলো নিজের কাছে। তারপর নিজের মনের মতো করে মেহেদী দিয়ে দিতে লাগলো। বিয়ে বাড়ি ছোট্ট থেকে শুরু করে বড়দের হাত মেহেদী রাঙা হয়ে আছে শুধু লামিয়া নয় হাত বাদে । শুভ্র যাওয়ার পর লামিয়া কোনোদিন মেহেদী পড়েনি হাতে।
শুভ্র লামিয়ার হাতে মেহেদী পড়াতে পড়াতে অতীতে পা দিলো।
অতীত,
” তুবলো ভাই, আমাকে মেদি দিয়ে দেয় নাই হাম আপা।” বলেই মাঠের মাঝে বসে হাত পা ছড়িয়ে কান্না করতে লাগলো।
ক্রিকেট ব্যাট হাতে নিয়ে শুভ্র ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে আছে লাবিব, সাফওয়ান, আরিফ, রাশেদ, জাহিদ। তাঁরা বিরক্ত চোখে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। মাত্র ই খেলা টা জমে উঠেছিলো আর আপদ এসে হাজির হয়েছে।
আজ চাঁন রাত বাড়ির সব মেয়েরা মেহেদী দিচ্ছে। আর তাদের হাতে মেহেদী দিয়ে দিচ্ছে হামিদা আর শারমিন।
ঘুম থেকে উঠে লামিয়া তাদের মেহেদী পড়া দেখে দৌড়ে হামিদার কাছে যেয়ে বায়না ধরেছে হাম আপা মেদি দাও। ছোট্ট দেখে তেমন স্পষ্ট ভাবে কথা বলতে পারে না । লামিয়ার এমন কথা শুনে হামিদা হেঁসে বললো ” আমি তায়েবা কে দিয়ে নেই তারপর তোকে দিয়ে দিবো কেমন?”
লামিয়া তা কোনোভাবেই মানবে না তাঁকে আগে দিয়ে দিবে। আর এইদিকে তায়েবা ও লামিয়া কে আগে দিতে দিবে না। তা দেখে হামিদা রেগে লামিয়া কে ধমকে উঠতেই লামিয়া কেঁদে কেটে দৌড় দিলো শুভ্রদের বাড়িতে। কারণ সেখানে তাঁর শুভ্র ভাই কে বিচার দিবে তাকে ধমক দিয়েছে তারপর তাঁর শুভ্র ভাই আপা কে বকা দিবে। তা ভেবেই হাঁটতে হাঁটতে বাসার সামনে যেতেই দেখলো শুভ্র রা মাঠে ক্রিকেট খেলছে। তা দেখে দৌড় দিলো শুভ্রর কাছে।
শুভ্র লামিয়ার কান্না দেখলে তাঁর যতোই ইম্পর্ট্যান্ট কাজ থাকুক না কেনো সেগুলো বাদ দিয়ে লামিয়া কে আগলে নিবে তাঁর বুকে।
শুভ্র হাত থেকে ব্যাট সাইডে ফেলে মাথা থেকে ক্যাপ খুলে ঘামে ভেজা চুল গুলো ঝাড়া দিয়ে এগিয়ে গিয়ে লামিয়ার সামনে বসে লামিয়ার চোখ মুখের পানি মুছে কোলে তুলে নিলো। লামিয়া কান্না করতে করতে হিচকি তুলে ফেলেছে। কিছু বলতে চাইছে কিন্তু হিচকির কারণে কথা বলতে পারছে না। শুভ্র তা দেখে অস্থির হয়ে উঠলো। লাবিব, রাশেদ, আরিফ, সাফওয়ান, জাহিদ, আবির চুপচাপ তাদের কান্ড দেখছে। কারণ এখন কিছু বললে শুভ্র রেগে যাবে তাই কেউ কিছু বলছে না।
শুভ্র অস্থির কন্ঠে বললো ” কি হয়েছে এমন করছিস কেনো? আমাকে বল কে তোকে কি বলেছে? ”
লামিয়া কিছু বলতে পারছে না হিচকির জন্য। শুভ্র লামিয়া কে কোলে তুলে পায়চারি করতে করতে এটা ওটা বলে বলে লামিয়া কে বেশ কষ্টে শান্ত করলো ।
লামিয়া শুভ্রর গলা জড়িয়ে কান্না কন্ঠে বললো ” হাম আপা আমাতে মেদি দিয়ে দেয় নি ধমক দিছে আমাতে।” বলেই ঠোঁট উল্টে কান্না করতেই শুভ্র বেশ নরম গলায় বললো ” আচ্ছা এখন কান্না করিস না চল তোর হাম আপার কাছে ওর পিঠে আজ এই ক্রিকেট ব্যাট ভাঙবো।” বলেই ব্যাট হাতে হাঁটা ধরলো বাড়ির দিকে। এইদিকে সাফওয়ান হামিদা কে মারবে শুনে রেগে রাশেদ কে বলে উঠলো ” আজকে যদি শুভ্র হামিদার গায়ে হাত দেয় তাহলে ওর হাত আমি ভেঙে দিবো কিন্তু।”
রাশেদ বেশ বিরক্ত হয়ে বললো ” তুই কি পাগল শুভ্র তো লামিয়া কে শান্ত করতে বলেছে এই কথা আর তুই ওর কথা ধরে নিলি আজব ভাই।”
সাফওয়ান বেশ বিরক্ত হয়ে সেও হাঁটতে লাগলো শুভ্রর পিছন পিছন।
শুভ্র বাড়িতে এসে বেশ রাগি গলায় চেঁচিয়ে বললো ” হামিদা কোথায় তুই বেরিয়ে আয় তোর পিঠের চামড়া তুলে নিবো আজকে।”
শুভ্রর এমন চিৎকার শুনে দৌড়ে আসলো সবাই। হামিদা আসতেই শুভ্র বললো ” তোর সাহস কি করে হয় আমার বউকে কে ধমক দেওয়ার?”
শুভ্রর কথা শুনে সবাই হাসছে। হামিদা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বললো ” শুভ্র আমি তোর বউ কে কেনো ধমক দিয়েছি জিগ্গেস কর।”
শুভ্র ভ্রু কুঁচকে তাকালো। তা দেখে হামিদা সব খুলে বলতেই শুভ্র দীর্ঘ শ্বাস ফেললো তারপর মিছি রাগ করে বললো ” আমি আমার বউকে নিয়ে চলে গেলাম। এই বাড়িতে আর আমার বউ কে পাঠাবো না। বলেই উল্টো হাঁটা ধরলো। তা দেখে রাশেদা বেগম ঠাট্টা করে বললো
” আহারে বাড়ির জামাই রাগ করে চলে যাচ্ছে তোরা কেউ আটকা। ”
রাশেদা বেগম এর কথা শুনে সবাই হাসছে। শুভ্র শুনে ও না শোনার ভান করে লামিয়া কে কোলে নিয়ে চলে গেলো তাদের বাড়িতে।
বাড়িতে এনে লামিয়া কে শুভ্রার কাছে রেখে শুভ্র মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সাইকেলে চরে দ্রুত চলে গেলো দোকানে মেহেদী আনতে। প্রায় পাঁচ মিনিট পরে মেহেদী এনে উপস্থিত হলো বাড়িতে। এসে দেখলো লামিয়া শুভ্রার সাথে খেলছে আর খিলখিল করে হাসছে। শুভ্র কে দেখে লামিয়া হাঁসি থামিয়ে দৌড়ে শুভ্রর কাছে গিয়ে বললো ” তুবলো ভাই মেদি।”
তা শুনে শুভ্র বললো ” হ্যাঁ এনেছি, চল ছাদে।” বলেই লামিয়া কে কোলে তুলে নিয়ে ছাদে চলে গেলো।
ছাদের এসে শুভ্র চেয়ারে বসে লামিয়া কে তাঁর কোলে তুলে নিয়ে এটা ওটা বলে হাসাতে হাসাতে মেহেদী দিয়ে দিতে লাগলো।
এক হাতে মেহেদী দিয়ে বেশ হাঁপিয়ে উঠেছে শুভ্র। লামিয়ার ছোট্ট ছোট্ট হাতের তালুর মাঝখানে একটা ফুলের ডিজাইন এঁকে দিয়েছে যদিও ভালো হয়নি তবুও দেখতো ততটা খারাপ ও হয়নি। তা দেখে শুভ্র বিশ্বজয়ের হাঁসি দিয়ে লামিয়ার দিকে তাকাতেই দেখলো তাঁর বুকের সাথে লেপ্টে তাঁর রাজকুমারী ঘুমিয়ে আছে।
চারপাশে সন্ধ্যা নেমেছে। শুভ্র দ্রুত আরেক হাতে মেহেদী দিয়ে শেষ করলো। হঠাৎ লামিয়া ঘুমের ঘোরে
মুখে হাত দিতেই শুভ্র লামিয়ার দু হাত ধরে নিলো।
যতোক্ষণ পর্যন্ত মেহেদী না শুকিয়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত শুভ্র লামিয়ার হাত ধরে ছিলো। শুভ্রর পিঠ আর পা ব্যাথা হয়ে গিয়েছে তবুও চুপচাপ বসে আছে চেয়ারে।
মাগরিবের আজান শেষে চারপাশে রাতের অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছে। লামিয়ার হাতের মেহেদী শুকিয়ে গিয়েছে। শুভ্র আকাশের দিকে তাকাতেই দেখলো আকাশে ঈদের চাঁদ উঠেছে তা দেখে শুভ্র হেঁসে লামিয়ার দিকে তাকালো। তাঁকে অশান্তি তে রেখে কী শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে এই মেয়ে । তখনই লামিয়া নড়েচড়ে উঠে পিটপিট করে চোখ খুলে তাকালো। চারপাশ অন্ধকার হয়ে আছে। মুখ তুলে তাকাতেই দেখলো শুভ্র ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে তার দিকে। লামিয়া তাঁর দেখে হিহি করে হেঁসে বললো ” তুবলো ভাই।”
শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো ” সারাদিন তুবলো ভাই তুবলো ভাই করে মাথা খাস কেন? আর তুবলো কী হ্যাঁ শুভ্র ভাই বল।” রাগি কন্ঠে বলে উঠলো শুভ্র।
লামিয়া শুভ্রর কন্ঠ শুনে ভীত চোখে তাকালো শুভ্রর দিকে। শুভ্র তা বুঝতে পেরে হেঁসে লামিয়ার গলায় সুরসুরি দিতেই লামিয়া খিলখিল করে হেঁসে উঠলো।
শুভ্র হাঁসি থামিয়ে লামিয়ার কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললো ” কবে বড় হবি আর কবে শুদ্ধ করে শুভ্র বলে ডাকবি আমাকে হুঁ?”
ছোট্ট লামিয়া শুভ্রর কথা বুঝতে পারলো না তবুও হেঁসে বললো ” তুবলো ভাই।”
শুভ্র তা শুনে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে নাক টেনে ধরলো লামিয়ার তারপর বললো ” শুভ্র ভাই।”
লামিয়া শুভ্রর কথা শুনে আবার বললো ” তুবলো ভাই।”
” না বল শু।”
” তু”
“শু”
“তু”
“শু”
লামিয়া অনেক কষ্টে অস্পষ্ট সুরে “শু” বলে উঠলো।
তা শুনে শুভ্র বললো ” গুড এখন বল ভ্র”
“ভ্ল”
শুভ্র ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে বললো ” ভ্ল কী? বল ভ্র”
লামিয়া চোখের পলক ফেলে অনেক কষ্টে অস্পষ্ট সুরে বললো ” ভ্র”
শুভ্র তা শুনে খুশি হয়ে বললো ” হ্যাঁ হ্যাঁ এখন বল শুভ্র ভাই।”
” হা হা একন বল তুবলো ভাই।”
শুভ্র লামিয়ার কথা শুনে অসহায় চোখে তাকালো।
লামিয়া চোখ পিটপিট করে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে আছে। শুভ্র দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকালো। এই মেয়ে যে কবে বড় হবে। ভেবেই তাকালো লামিয়ার দিকে। দেখলো লামিয়া তাঁর হাত উপরে তুলে নাড়িয়ে নাড়িয়ে দেখছে।
” তুবলো ভাই চুদর ”
” হুঁ অনেক সুন্দর।”
লামিয়া হুট করে শুভ্রর গলা জড়িয়ে ধরে গালে চুমু দিয়ে বললো ” চুদর মেদি তুবলো ভাই।”
শুভ্র তা শুনে হেঁসে লামিয়া কে বললো ” তুই ও সুন্দর তোর হাতের মেহেদী সুন্দর।” বলেই বুকে জড়িয়ে নিলো লামিয়া কে।
অতীত ভাবতে ভাবতে শুভ্রর মেহেদী দেওয়া শেষ হলো। মুচকি হাসলো লামিয়ার মেহেদী হাত দেখে। ঘুম থেকে উঠে তাঁর হাতে মেহেদী দেখে লামিয়া চিল্লাচিল্লি করবে এটা জানে শুভ্র। ঘুমের ঘোরে লামিয়া একটু নড়েচড়ে উঠতেই দ্রুত উঠে চলে গেলো সেখান থেকে।
প্রায় একঘন্টা পর লামিয়ার ঘুম ভেঙে গেলো। শোয়া থেকে উঠে ঘাড় এপাশ ওপাশ করে দু হাত উপরে তুলে আড়মোড়া ভেঙে হাই তুলে চোখ ডলতেই নাকে মেহেদীর গন্ধ আসতেই নিজের হাতের দিকে দ্রুত চোখ দিতেই লামিয়ার চোখ কপালে উঠে গেলো। তাঁর দু হাত ভর্তি মেহেদী। কার এতো বড় সাহস হলো তাঁর হাতে মেহেদী দিতে। ভেবেই বেশ চিন্তিত হলো লামিয়া। কারণ বাড়ির কারোর সাহস হবে না তার গাঁয়ে মেহেদী ছোঁয়াতে তাহলে কে?? ভেবেই চোখ বোলালো তার মেহেদী রাঙ্গা হাতে। হঠাৎ হাতের তালুতে তাকাতেই লামিয়া ভুত দেখার মতো চমকে উঠলো। কারণ তাঁর হাতে স্পষ্ট লেখা শুভ্র। কে? কে তাঁকে মেহেদী পড়ালো? ভেবেই লামিয়া উড়না পেঁচিয়ে সব তালা মেরে দৌড় লাগালো বাড়ির দিকে।
আজ হামিদা দের গাঁয়ে হলুদ। সকাল থেকে সবাই ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে। লামিয়া কে এইভাবে দৌড়াতে দেখে তায়েবা ভ্রু কুঁচকে ফেললো। লামিয়া আশেপাশে না তাকিয়ে দৌড়াচ্ছে। লামিয়া কে এমন দৌড়াতে দেখছ তায়েবা ও দৌড়াতে লাগলো লামিয়ার পিছু। লামিয়া সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই শুভ্রর সাথে জোড়ে ধাক্কা খেলো। শুভ্র ভ্রু কুঁচকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই লামিয়া দৌড়ে চলে গেলো। শুভ্র লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেঁসে সামনে তাকাতেই দেখলো তায়েবা দৌড়ে সিঁড়িতে উঠছে। তায়েবা শুভ্র কে দেখে বললো ” শুভ্র ভাই লামিয়ার কি হয়েছ , পাগলের মতো দৌড়াচ্ছে কেনো?
শুভ্র হেঁসে বললো ” তাঁর হাতে আমার নাম মেহেদী দিয়ে খোদাই করেছি তাই তোর বোন এমন পাগল হয়ে আছে।” বলেই হাসতে হাসতে চলে গেলো।
তায়েবা আর কিছু না বলে উপরে চলে গেলো লামিয়ার রুমে।
লামিয়া সাবান দিয়ে ইচ্ছে মতো দু হাত ঘষাঘষি করছে তবুও মেহেদী উঠছে না। তায়েবা রুমে এসে এ অবস্থা দেখে যা বোঝার বুঝে গিয়েছে।
তাও না বোঝার ভান করে চেঁচিয়ে বললো ” হায় আল্লাহ তোর হাতে মেহেদী কে দিয়েছে??
” জানি না কে দিয়েছে তবে যেই দেই তাকে কাছে পেলে আমি আস্ত চিবিয়ে খাবো তাঁকে। ” দাঁতে দাঁত চেপে বললো লামিয়া।
” হ্যাঁ তা চিবিয়ে না খেয়ে গিলেও খেতে পারিস। এখন দেখি দেখা কেমন মেহেদী দিয়েছিস।” বলেই লামিয়ার হাত টেনে তাঁর দিকে নিতে নিতে বললো ” বাহ্ সুন্দর লাগছে কিন্তু তোর দু হাত গুলো। দেখ কেমন গাঢ় খয়েরী রঙের হয়ে আসছে তোর মেহেদী। ”
তায়েবার কথা শুনে লামিয়া বিরক্ত হয়ে হাত টেনে নিয়ে গিয়ে বললো ” বের হ আমার রুম থেকে তোর কথা ভালো লাগছে না এখন।” বলেই তায়েবা কে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের করে দিলো।
তায়েবা হেঁসে চলে গেলো নিচে।
সময়টা বিকেল পাঁচটা।
একটু পর পার্লারের মানুষ আসবে সাজাতে। খান আর ইসলাম বাড়ির মেয়েরা বসে আছে হামিদার রুমে শুধু লামিয়া বাদে। তায়েবা এসে সবাইকে বলে দিয়েছে লামিয়া হাতে মেহেদী পড়েছে। তা শুনে সবাই লামিয়া কে নিয়ে মজা নিয়েছে। অবশ্য সবাই জানে শুভ্র দিয়েছে তাঁর হাতে মেহেদী। এইদিকে সবাই মজা নিয়েছে দেখে লামিয়া রুম থেকেই বের হয়নি এখনো।
সবাই রুমে বসে হাসাহাসি করছিলো। হঠাৎ শুভ্র দরজার থেকে গলা খাঁকারি উঠতেই সবাই কথা থামিয়ে তাকালো সেদিকে। হামিদা শুভ্র কে দেখে বললো ” শুভ্র আয় ভিতরে আয় কিছু বলবি?”
শুভ্র হাতে একটা প্যাকেট নিয়ে রুমে প্রবেশ করে বললো ” হ্যাঁ একটা কথা বলবো। কথাটা হলো তোর বোন কে শাড়ি পড়াবি আজকের অনুষ্ঠানে। ”
শুভ্রর কথা শুনে তায়েবা আর লামহা হেঁসে উঠলো।
হামিদা চেঁচিয়ে বললো ” শাড়ি আর লামিয়াকে বলবো? লামিয়া কে শাড়ি পড়ানোর কথা বলা আর সেধে সেধে পাগলের কাছে যেয়ে বলা আয় আয় কামড় দে বলা এক কথা ভাই। আমি পারবো না তুই অন্য কাউকে বল।”
শুভ্র ভ্রু কুঁচকে বললো ” তুই পারবি সাথে তোর অর্কমা জামাই ও পারবে। কীভাবে তোর বোন কে শাড়ি পড়াবি আমি জানি না। কিন্তু আমি তোর বোন কে শাড়ি পড়া দেখতে চাই। তোরা সব গুলো মিলে ধরে বেঁধে আজ শাড়ি পড়াবি ওকে। যদি শাড়ি পড়াতে পারিস তাহলে এখানের সবাই কে আমি দশ হাজার করে টাকা দিবো।”
” দশ হাজার তাহলে আমি রাজি। যেভাবে হোক আজকে আমি তোমার সামনে লামিয়া কে শাড়ি পড়ে উপস্থিত করবো। ” বেশ উৎফুল্ল হয়ে বলতে বলতে রুমের ভিতরে প্রবেশ করলো মাহির, তায়েব,ইমন, ইভান।
” আমারাও রাজি।” মেয়ে পার্টি দলরা সব চেঁচিয়ে বলে উঠলো। তা দেখছ শুভ্র হেঁসে হাতের প্যাকেট হামিদার দিকে বাড়িয়ে বললো ” এইটা পড়াবি ঠিক আছে। চললাম তাহলে।” বলেই চলে গেলো শুভ্র।
এইদিকে সবাই প্লান করছে বসে বসে কীভাবে লামিয়া কে ধরে বেঁধে শাড়ি পড়াবে।
আজ বেশ তাড়াতাড়ি কায়সার এসে উপস্থিত ইসলাম বাড়িতে। তাঁর পড়নে কালো রঙের পাঞ্জাবি। দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে তাকে।
হেঁসে হেঁসে কথা বলছে আনিসুল সাহেব এর সাথে। চোখ ঘুরিয়ে তাকাচ্ছে চারদিকে। আনিসুল সাহেব এর থেকে ডাবল লামিয়া কোথা থেকে আসলো এটা জানতেই ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক কথাই বলছে। আনিসুল সাহেব ও হেঁসে হেঁসে কথা বলছে।
গোসল শেষে করে মাথায় গামছা পেঁচিয়ে বাথরুম থেকে বের হতেই দেখলো হামিদা, লামহা, তায়েবা, ছবি, শারমিন, হাফসা, ফারিয়া, আয়না, মাহির, তায়েব, ইভান, ইমন দাঁত কেলিয়ে বসে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
তা দেখে লামিয়া ভ্রু কুঁচকে বললো ” কী চাই? এখানে কেনো সবাই আর কী মতলব এসেছো এখানে?
হামিদা বেশ মন খারাপ করে বললো ” দেখ আমরা তো চলে যাবো যাওয়ার আগে আজকে একটা আবদার পূরণ করবি আমাদের??
” কী আবদার?”
” আজকে হলুদে সবাই শাড়ি পড়বে আমরা চাই তুই ও শাড়ি পড়বি প্লিজ বোন আমার।”
” অসম্ভব, এসব শাড়ি টাড়ি আমার দ্বারা হবে না। অন্য কিছু আবদার করো আমি ঠিক তা করে দিবো। ”
” প্লিজ লক্ষী সোনা বোন আমার।”
” দুঃখিত আমি পারবো না। ”
বেশ কিছুক্ষণ সবাই জোড়া জোড়ি করেও যখন লামিয়া কে রাজি করাতে পারলো না তখন মাহির রেগে বললো ” ওই তোমরা ওরে ধরো আমরা আছি দশ হাজার টাকা হাত ছাড়া করা যাবে না।”
” দশ হাজার টাকা মানে?”। ভ্রু কুঁচকে বললো লামিয়া।
” হ্যাঁ তোকে শাড়ি পড়াতে পারলে দশ হাজার টাকা পাবো সবাই। ”
” মানে? কোন জমিদারের বংশধর আসলো রে বাপ যে তোদের দশ হাজার টাকা দিবে আমাকে শাড়ি পড়ালে।”
” এতো কিছু বলার সময় নাই ওই ধরো সবাই ওকে।” বলেই লামিয়ার দিকে সবাই এগিয়ে আসতেই লামিয়া ইভান কে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে দৌড় দিলো।
তাঁর পিছন পিছন তারা সবাই দৌড়াতে দৌড়াতে বললো ” দশ হাজার টাকা উড়ে গেলো ধর সবাই। ”
মাহির ঘুরে লামিয়ার সামনে দিয়ে আসতেই লামিয়া পিছন ঘুরে তাকাতেই দেখলো তায়েব আসছে। লামিয়া দিশা না পেয়ে একবারে দেয়ালের পাশে সরে যেতেই তায়েব মাহিরের ঠোঁটে চুমু খেলো। তা দেখে লামিয়া জোড়ে হেঁসে বললো ” ইয়াকক ছেলে ছেলে চুম্মা চাটি করছিস কেনো গে নাকি তোরা?”
ওইদিকে ওদের এমন কান্ড দেখে সবাই দৌড় রেখে হাসতে হাসতে বসে গেছে এক একজন। ওইদিকে তায়েব চুমু খেয়ে লজ্জা পাওয়ার ভান করে মুখে হাত রেখে মাহিরের বুকে হালকা থাপ্পড় বসিয়ে লাজুক স্বরে বললো ” যাহ্ দুষ্টু।”
মাহির তা দেখে রেগে তায়েব এর পিঠে ঘুষি মেরে বসলো ” হারামজাদা আমাকে দেখে কী তোর গে মনে হয়? গে শালা। ”
লামিয়া হাসতে হাসতে বললো ” শেষে কি না তোরা দুজনে কিসমিস করে ফেললি। তোদের বউরা কোথায় চুমু দিবে এখন? ”
মাহির দাঁতে দাঁত চেপে বললো ” লামিয়ার বাচ্চা দাঁড়া তুই।” বলেই লামিয়া কে ধরতে গেলে লামিয়া দৌড়ে নিচে চলে গেলো। তার পিছন পিছন আবারো সবাই দৌড় দিলো। লামিয়া দৌড়াতে দৌড়াতে সামনে আরিফ কে পেলো। লামিয়া কে এইভাবে দৌড়াতে দেখে আরিফ ভ্রু কুঁচকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই তায়েব বলে উঠলো ” ছোট্ট ভাই ধরো ওকে। ওকে আজ শাড়ি পড়াতে পারলে আমরা জন প্রতি সবাই দশ হাজার করে টাকা পাবো। তোমাকে সব পড়ে বলবো আগে ধরো ওকে। ”
আরিফ আর কিছু না বলে ধরতে যাবে তাঁর আগেই আরিফ কে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে দিলো লামিয়া। দৌড়ে বাগানে এসে পড়লো। চারদিকে সবাই ফুল নিয়ে দৌড়া দৌড়ি করছে এখানে স্টেজ সাজানোর জন্য।
লামিয়া সেদিক দিয়েই দৌড়াচ্ছে তাঁর পিছন পিছন সবাই দৌড়াচ্ছে আর চেঁচাচ্ছে দশ হাজার টাকা উড়ে গেলো ধর ধর।
ওদিকে মিলি আর তিহা চেঁচামেচি শুনে বারান্দায় এসে দাড়াতেই সবাইকে দৌড়াতে দেখে বিরক্ত হয়ে তাকালো তাদের দিকে।
নিহিড়ের সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো কায়সার। লামিয়া দৌড়াতে দৌড়াতে একটা টুলের সাথে ধাক্কা লেগে ঘুরে কায়সারের সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে যেতেই কায়সার লামিয়া কে ধরে ফেলে।
এইদিকে বউ রা যখন স্টেজে ইন্ট্রি নিবে তখন উপর থেকে ফুলের বৃষ্টি ঝরবে তাই ডেকারেশন এর লোক তা
ঠিক করছিলো। তখনই লামিয়ার সাথে টুলে ধাক্কা লাগতেই সব ফুলে বৃষ্টি লামিয়া আর কায়সার এর উপর ঝরে পড়ে।
প্রিয় রাগিনী পর্ব ৩৫
কায়সার অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে। লামিয়া চোখ খুলে সামনে তাকাতেই ভ্রু কুঁচকে ফেলে। কায়সার এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লামিয়ার দিকে।
ওদিকে সবাই হা করে তাকিয়ে আছে কায়সার আর লামিয়ার দিকে। তায়েব, তায়েবা, মাহির মুখে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হামিদা আশেপাশে তাকাচ্ছে শুভ্র আছে নাকি কোথাও তা দেখতে। শাড়ি পড়ানোর জন্য যে এই কাহিনী হয়ে যাবে তা কেউ ভাবতেও পারে নি।
