প্রেমপিপাসা পর্ব ১
সুমাইয়া সুলতানা
বিপত্নীক পুরুষের সঙ্গে বিয়ের কথা শুনে চমকে উঠল অরু! হতবিহ্বল অক্ষিপটে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল নিষ্ঠুরতম বাক্য উচ্চারণ করা বাবার দিকে। পৃথিবী যেন তার চারপাশে থমকে গিয়েছে। চক্ষুদ্বয় বড়ো বড়ো হয়ে গেল। মুহূর্তের জন্য যেন অজ্ঞান হয়ে যাবে যাবে ভাব। এক পলকেই হৃদয়ের ভিতর হাজারো প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। মাথার মধ্যে মেঘের মতো শঙ্কা জমে উঠছে। সময় যেন থেমে গিয়েছে এবং বিষয়টি কোনভাবে মেনে নিতে পারছে না। কোনো শব্দ বের হচ্ছে না মুখ থেকে, শুধু চোখে আকাশচুম্বী অবাক হওয়ার ছাপ। মনে হচ্ছে, পৃথিবী একদিন পরেই তার সামনে সম্পূর্ণ নতুন এক বাস্তবতা হাজির করবে, যা তাকে সম্বোধন করতে প্রস্তুত।
জামশেদ পুনরায় একই বাক্য আওড়াতে, এবার ক্ষেপে উঠল অরু। রাগে শরীর ভূমিকম্পের ন্যায় কাঁপছে। মস্তিষ্ক ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। ঝাঁঝ নিয়ে চওড়া গলায় চেঁচিয়ে বলল,
” অসম্ভব! তুমি এসব কি বলছো আব্বু? তুমি আমার সাথে এটা করতে পারো না! তুমি কি পা’গল হয়ে গিয়েছো? কতই বা বয়স আমার? সবে একুশ বছরে পা দিয়েছি। আমার পুরো ক্যারিয়ার পড়ে রয়েছে। এক্ষুনি কেন বিয়ে দিতে চাইছো আমার? তাও আবার ছেলে পূর্বে আরেকটা বিয়ে করেছে। বউ মারা গিয়েছে নাকি তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। শুনেছি তার নাকি পাঁচ বছরের একটা ছেলেও আছে। এরকম একজন বিপত্নীক পুরুষের সাথে কি ভাবে বিয়ে ঠিক করলে আমার? আমাকে জিজ্ঞাসা করেছো? একবারো আমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেছো? আমি কি তোমার কাছে বোঁঝা হয়ে গিয়েছি আব্বু? ”
জামশেদ গম্ভীর কন্ঠে উত্তর দিলেন,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
” আমি তোমার কথা শুনতে চাইনি! আমার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তাছাড়া, স্যারের বয়স মাত্র ত্রিশ। তোমারও তো একুশ! স্যারের সাথে তোমার বিয়ের কথা ফাইনাল করে ফেলেছি। বিয়ে তোমাকে করতেই হবে। কোনো বাহানা চলবে না। ”
” আমাকে না জিজ্ঞেস করেই একাএকা এত বড়ো সিদ্ধান্ত কিভাবে নিলে? আমি কি দেখতে অসুন্দরী? চেহারা কি খারাপ? নাকি আমি বন্ধ্যা? নাকি আমি নষ্ট হয়ে গিয়েছি? তাহলে একজন বিপত্নীক পুরুষের সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক করো কিসের ভিত্তিতে? আমার মতামতের কি কোনো গুরুত্ব নেই? ”
” না নেই! আমি যা বলেছে সেটাই হবে। কথার কোনো নড়চড় হবে না। ”
” কেন হবে না? আমি এই বিয়ে কিছুতেই করবো না। ”
” বিয়েতো তোমাকে করতেই হবে। সেটা তুমি চাও বা না চাও ”
অরু ছলছল অক্ষিপটে, নরম কন্ঠে আকুতি নিয়ে জানায়,
” আব্বু তুমি জানো আমি নিখিলকে পছন্দ করি। তবুও কেন এসব বলছো? কেন জোড় করছো বিয়ের জন্য? ”
জামশেদ দৃঢ়তা সমেত বললেন,
” নিখিল ভালো ছেলে না অরু। একাধিক মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে ওর। তোমার সাথেও জাস্ট টাইম পাস করছে। ধোঁকা দিবে তোমাকে। সত্যিকারের ভালোবাসেনা তোমাকে। ”
অরু তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” তুমি তো আমার নিজের আব্বু। তুমি নিজে আমাকে কতটা ভালোবাসো? তোমার কাছে আমার গুরুত্বই কতটা? সেখানে নিখিল তো আমার আপন কেউ না। ”
” নিখিল তোমার চোখে পট্টি পড়িয়ে রেখেছে তাই ওর ভুল তোমার চোখে পড়ছে না। একদিন ঠিক বুঝতে পারবে আমি যা করছি তোমার ভালোর জন্যই করছি। ”
” ভালো! কিসের ভালো? নিখিল আমার চোখে কোনো পট্টি পড়ায়নি আব্বু! ওই তোমার অফিসের বস হ্যাভেন তালুকদার, তোমার চোখে পট্টি পড়িয়েছে। নাকি আমাকে তার সাথে বিয়ে দেওয়াতে তার থেকে মোটা অংকের টাকা পাচ্ছো? তাহলে সরাসরিই বলোনা যে, তুমি টাকার লোভে মেয়েকে বিক্রি করে দিতে চাইছো তোমার অফিসের বসের কাছে। ”
সঙ্গে সঙ্গে পুরুষালী শক্ত হাতের চড় পড়লো অরুর নরম তুলতুলে গালে। পরপর দুটো চড় মেরেছেন জামশেদ। অরু গালে হাত দিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে বাবার পানে। কাঁদতেও ভুলে গিয়েছে। জীবনে প্রথম তার রাজকন্যার গায়ে হাত তুললেন জামশেদ। র’ক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে বললেন,
” কার সামনে দাঁড়িয়ে আছো ভুলে যেও না। কাকে কি বলছো তুমি? নিজের বাবার সাথে এভাবে কথা বলতে লজ্জা করছে না তোমার? আদর দিয়ে মাথায় তুলে ফেলেছি। শাসন করেনি বলে দিনকে দিন বে’য়াদপ হয়ে যাচ্ছো। ”
অরু কিছু না বলে মুখমন্ডলে কাঠিন্য ভাব ফুটিয়ে, দৌঁড়ে নিজের রুমে চলে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। ধপ করে বিছানায় শুয়ে বালিশে মুখ গুঁজে কাঁদতে লাগল। নিয়তি কেন বার বার ওর সাথে এমন করে? কেন ও যাকেই ভালোবেসে আকড়ে বাঁচতে চায়, তাকেই উপর ওয়ালা দূরে সরিয়ে নেয়। কেন? কেন? ছোট বেলায় মা’কে খোদা কেড়ে নিয়েছেন। বাবা ভরণপোষণের দায়িত্ব নিলেও তার থেকে তেমন ভালোবাসা পায়নি! আদর করে সময় নিয়ে দুটো কথা বলেনি। পরিবারের লোকেরাও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে! আর যার হাত ধরে সারাজীবন থাকতে চেয়েছে, সেই পছন্দের নিখিল’কেও এখন দূরে সরিয়ে দিচ্ছে!
জামশেদ যাকে বিয়ে করতে বলছেন, সে লোক অচেনা কেউ না। তাকে খুব ভালো করেই চিনে অরু। ওর বাবার অফিসের বস। বাংলাদেশের নামকরা তালুকদার গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির মালিক হ্যাভেন তালুকদার। একাধিক ব্রান্ড নিয়ে কাজ করে। দেশের বাহিরেও তাদের ব্যবসায়ী কাজকর্ম চালু রয়েছে। জামশেদ’কে অফিসে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে বেশ কয়েকবার হ্যাভেন’কে দেখেছে অরু। বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখতে মাশাল্লাহ। নজর কারার মতো। যেকোনো মেয়ের হার্টবিট বাড়িয়ে দিতে সক্ষম! সবসময় ভাব নিয়ে চলে।
কিন্তু লোকটা আস্ত একটা ব’জ্জাত! ভীষনি রগচটা, গম্ভীর টাইপের লোক। লোকটার চরিত্রের সমস্যা আছে মেবি! নয়তো প্রথম বউ চলে গিয়েছে কেন? অবশ্য এই ব্যাপার্টা অরুর কাছে এখনো ক্লিয়ার নয়, যে হ্যাভেন তালুকদারের বউ চলে গিয়েছে নাকি মারা গিয়েছে। কেউ বলে মারা গিয়েছে। আবার কেউ বলে তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। কিন্তু লোকটাকে অরুর পছন্দ নয়। সব জায়গায় নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেড়ায়। কারো কথায় তেমন গুরুত্ব দেয় না। নিজের যেটা ঠিক মনে হবে সেটাই করবে। তারউপর তার পাঁচ বছরের একজন ছেলে আছে। এরকম একজন লোক কে অরু বিয়ে করবে না। কিছুতেই না! অরুর চোখের জলে বালিশ ভিঁজে যাচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ে ও।
পুরো বাড়ি থমথমে গুমোট পরিস্থিতির স্বীকার। বিকাল প্রায় তিনটা বাজতে চললো। এখনো রুমের দরজা খোলেনি অরু। দুপুরে খেতেও আসেনি। ছোট মামি এসে কত বার ডেকে গিয়েছেন, কোনো সারা পাওয়া যায়নি। বড়ো চাচার ছেলে রাহাত এসে দরজায় জোরে জোরে কড়াঘাত করছে। বাধ্য হয়ে দরজা খুলে দিল অরু। বেরিয়ে এসে চেঁচিয়ে বলল,
” বাড়িতে কি কেউ মারা গিয়েছে নাকি! তখন থেকে দরজা ধাক্কা ধাক্কি করছো? তোমাদের জন্য কি শান্তি মতো ঘুমাতেও পারবো না? এভাবে দরজা ধাক্কাচ্ছিলে কেন? ”
” কিরে? রেগে আছিস কেন? আর এভাবে দরজা বন্ধ করেছিলি কেন? সবাই খেতে ডাকছিল শুনতে পাসনি ? নাকি শুনেও না শোনার ভান করছিলি? ”
ভাই’কে দেখে অরু আহ্লাদী হয়ে উঠল! ভাবলো, ভোঁতা মুখে ভাইকে মানানোর স্বরে কিছু বলে বিয়েটা আটকানো যাবে! রাহাতের হাত ধরে টলমল চোখে চেয়ে অরু অভিযোগ জানায়,
” দেখোনা ভাইয়া আব্বু আমাকে তার অফিসের বসের সাথে বিয়ে দিতে চাইছে! আমি তাকে বিয়ে করতে চাই না। আব্বুকে বোঝাও প্লিজ। ”
রাহাতের শান্ত জবাব,
” বোঝানোর কিছু নেই অরু। আমিও চাই এ বিয়েতে তুই সম্মোতি দে। হ্যাভেন খুব ভালো মানুষ। অনেক টাকার মালিক। দেখিস তুই অনেক সুখি হবি। ”
অরু হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল। খানিক আশার প্রদীপটা দপ করে নিভে গেল। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল,
” তুমি জানতে এই বিয়ের কথা? তাও কিছু বলো নি? ”
রাহাত ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে বলল,
” কি বলবো? সিনক্রিয়েট না করে চুপ চাপ বিয়েটা করেনে অরু। ”
অরু কর্কশ আওয়াজে বলে,
” বললাম তো, আমি ওই লোকটাকে বিয়ে করবো না। দরকার হলে বাড়ি থেকে চলে যাবো কিংবা মরে যাবো! তবুও এই বিয়ে কিছুতেই করবো না। ”
” দ্বিতীয় থা’প্পর টাকি আমার হাতে খেতে চাস? তোর ওই নিখিলের সাথে প্রেম করা জন্মের মতো ঘুঁচিয়ে দিবো। কোনো কথা শুনতে চাই না। হ্যাভেন তালুকদারের সাথে আজকেই তোর বিয়ে হবে। ”
চিৎকার চ্যাঁচামেচিতে এতক্ষণে বাড়ির ছোট বড় সকল সদস্য উপস্থিত হয়েগিয়েছে। অরুর বাবা তিন ভাই এক বোন। সবার বড়ো বোন, তারপর বড়ো চাচা জহির, জামশেদ দ্বিতীয়, জামাল চাচ্চু ছোট। চাচাতো ভাই, বোন সব মিলিয়ে পাঁচজন। শেখ বাড়ির একমাত্র ছেলে রাহাত, তার ছোট এক বোন আছে। ছোট চাচার দুই মেয়ে, আর অরু জামশেদের একমাত্র কন্যা। কাজিন সবগুলোই ভালো। ছোট চাচ্চু, চাচি খুব ভালো মানুষ। তবে বড়ো চাচি অরু’কে সহ্য করতে পারে না। ওনাদের মেয়েও অরু’কে হিংসা করে। বড়ো চাচির ইশারায় বড়ো চাচাও নাচে, নয়তো তিনি অরু’কে মোটামুটি ভালোবাসেন। মুখ ফুটে না বললেও অরু বুঝতে পারে। এই যে, বড়োলোক বাড়ীর ছেলের ঘাড়ে অরু’কে ঝুলিয়ে দিচ্ছে, এতে বড়ো চাচা-চাচির স্বার্থ লুকিয়ে আছে অরু নিশ্চিত! নয়তো এত বড়োলোক ঘরের ছেলের সঙ্গে তাদের মেয়েকে বিয়ে না দিয়ে অরু’কে কেন বিয়ে দিচ্ছে?
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অরু কিছু বলতে যাবে তক্ষুণি বড় চাচি এসে নাক ছিঁটকে বললেন,
” মেয়ের তেজ দেখো! থাকছিস, খাচ্ছিস তো আমাদের ঘাড়ে বসে! টের পাস না, মাস শেষে এত এত খরচ কোথা থেকে আসে? লজ্জা করেনা? অন্যের ঘাড়ে বসে বসে খাস! আবার তাদের সাথে মেজাজ দেখাস? টের তো পাস না সংসারটা কিভাবে চলছে। তোদের চাচাদের কতটুকু আয়? সেটা দিয়ে সংসার চালানো, ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার খরচ চালানো সব হচ্ছে। তোর বাবা একজন প’ঙ্গু মানুষ। নিজের ঠিক মতো চলতে অসুবিধা হয়। পঙ্গু মানুষকে যে দয়া করে হ্যাভেন বাবার মতো বড়ো মনের একজন মানুষ চাকরি দিয়েছে এটাই অনেক। নয়তো তোর বাবা কতটুকু কাজ করতে পারে? অল্প কাজ করেও মাস শেষে মোটা টাকা ঠিকি পায়। টাকা পেয়ে আমাদের কি লাভ? সব টাকা তো তোর বাবার চিকিৎসার কাজে ব্যয় হয়ে যায়! মাসে দু-তিন বার অসুস্থই থাকে। ঔষধ কেনার জন্যও তো টাকা চাই নাকি? তোর খরচও আছে। কতদিন আর এভাবে চলবে? স্বার্থপর মেয়ে! শুধু নিজের টাই ভাবে। ”
” তুমি আমায় খোঁটা দিচ্ছেন চাচি? ”
” খোঁটা না! যেটা সত্যি সেটাই বলছি। ”
অরু বড়ো চাচার দিকে তাকায়। তিনি নিশ্চুপ। বুঝে গিয়েছে সে। এবাড়িতে ওর দিন ফুরিয়ে এসেছে। এরাতো সবাই হ্যাভেনের সাথে নয়, বিয়ে দিচ্ছে তার টাকার সাথে। কান্না গুলো গলায় আটকে আসছে। থমথম কন্ঠে বলল,
” চাচা তোমার কি কিছুই বলার নেই? ”
জহির নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলে,
” সবাই যা বলছে সেটাই সঠিক। তোর চাচি ঠিকই বলেছে। স্বার্থপর হয়েগিয়েছিস তুই। আমার ব্যবসাটাও তেমন ভালো চলছে না। অনেক টাকার লোন আছে। তুই বিয়েতে রাজি হয়ে যা অরু। ”
অরু বিদ্রুপ হেসে বলল,
” তাহলে এটাই তোমাদের শেষ কথা? আমাকে বিক্রি করতে চাইছো তোমরা? বড় লোকের ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে নিজেদের কার্যসিদ্ধি করতে চাইছো? ”
” এ নিয়ে আর কোনো কথা না বাড়ালেই খুশি হবো। ”
অরু বুঝে গিয়েছে আর অনুরোধ করে লাভ নেই। ছোট চাচ্চুর আশায় থেকেও লাভ হবে না। যেখানে নিজের বাবাই বিয়েতে মত দিয়েছে, সেখানে ছোট ভাই হিসেবে বাচ্চুর বলার মতো কথা থাকতে পারে না।
” ঠিক আছে। তোমরা বিয়ের আয়োজন করো। ওই গু’ন্ডা মার্কা লোকটাকে বিয়ে করতে রাজি আমি। আমি হ্যাভেন তালুকদারকে বিয়ে করবো। আর আজকেই করবো। আই রিপিট আজকেই করবো! আজকের দিন বাদে কালকের এক সেকেন্ড সময় হলেও আমাকে আর বিয়েতে রাজি করাতে পারবে না! তোমরা যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা করো। এবার সময় হয়ে গিয়েছে সত্যি সত্যি নিজেরটা বোঝার। ”
বড় চাচি কুটিল হেসে বললেন,
” জানতাম রাজি হবে। এ্যাই মেয়ের ঢঙ্গের শেষ নেই। প্রথমেতো নাটক করছিলো। মনে মনে ঠিকি চাইছিলো বড় লোক ঘরের বউ হতে। ”
” একদম চাচি। এত তাড়াতাড়ি মনের কথা বুঝে গেলে কি করে? কত জ্ঞানী তুমি। ভাবাযায়! ”
অরুর কথাতে বিদ্রুপের ভাব স্পষ্ট। চাচি পাত্তা দিলেন না। গটগট পাঁয়ে চলে গেলেন। বড় চাচা দ্বিধা সমেত মাথায় হাত রাখলেন।
” দেখিস তুই অনেক সুখি হবি। ভালো থাকবি। ”
অরু ছলছল চোখে তাকায়। তাচ্ছিল্য হেসে জবাব দেয়,
” ভালো তো আমাকে থাকতেই হবে। এখন থেকেই তো আমার ভালো থাকার দিন শুরু। বড়োলোক বাড়ীর অন্ধকার কূটুরিতে গিয়ে নিজেকে অনেক ভালো রাখতে হবে। ”
পেছন ফিরে বড়ো চাচি বলে উঠলেন,
” শশুর বাড়ি যাবি। আচার আচরণ গুলো ভালো মতো শিখে যাস। দেখিস পরে যেন আমাদের কোনো কথা শুনতে না হয়। ”
বড় চাচি চলেই যাচ্ছিলেন। কিন্তু অরুর কথায় থেমে যান। মেয়েটার চ্যাটাং মার্কা কথাটা পছন্দ হলো না। তাই খোঁচা দিয়ে কথাটা বললেন।
প্রতিত্তোরে অরু বাঁকা হেসে বলল,
” তুমি কোনো টেনশন নিওনা চাচি। বিয়ের পর আমাকে তোমরা চিনতেই পারবে না। এক নতুন অরু’কে আবিষ্কার করবে তোমরা। আজকের অরু আর সেই অরুর মধ্যে থাকবে আকাশ, পাতাল তফাৎ! ”
