বজ্রমেঘ পর্ব ৩৪ (২)
ফাবিয়াহ্ মমো
কথার ভেতরে যেন চাপা গর্জন। ঠিক সেই মুহূর্তে ওদের দুজনের মাঝে ঝোপের ভেতর থেকে শব্দ হলো। ফোঁসসস আওয়াজ। শব্দটা এত কাছে, এত জোরালো, হঠাৎ মাটির ওপর কুঁচকে থাকা ছায়াটা নড়েচড়ে ওঠে। সরর সরর স্বর। শাওলিনের গলা দিয়ে শব্দ বের হলো না। কালো কুচকুচে বিষধর একটি সাপ! ফণা তুলে চেরা জিভে ফুঁসছে! ঠিক তখনি শোয়েব বজ্রস্বরে ডেকে উঠল!
– রেইন্জার, ইয়া জ্দিয়েস!
নিঃশব্দে কয়েক পলক কেটে গেল। এরপরই হলো অশরীরী তাণ্ডব! ঝড়ের বেগের কিছু একটা ছুটে আসছে এদিকে। দূরের জঙ্গল থেকে তেঁড়েফুঁড়ে আসছে পাশবিক কিছু। শাওলিন দৃশ্যটা দেখেই বরফের মতো জমে গেল। শরীরের কোণে কোণে কাঁটা দিয়ে উঠল ভয়! রোমশ দেহী পশু! হিংস্র দাঁতাল জানোয়ার! চিৎকার দিতে নিচ্ছিল শাওলিন, ঠিক তখনি শোয়েব রাজস্বী স্বরে হুকুম ছুঁড়ল,
– রেঞ্জার, ডোন্ট মেক এনি ম্যাস। স্লো ডাউন মাই বয়। দেয়ার ইজ এ স্নেক, হ্যাণ্ডেল ইট।
রেঞ্জার মনিবের কথায় তৎক্ষণাৎ বোঝাল,
– অ্যাজ ইয়্যু কমাণ্ড, মাই মেজিস্টি!
এরপরই জান্তব চোখ তুলে তাকাল এই অচেনা রমণীর দিকে। যাকে সে আজই প্রথম দেখছে, এই প্রথম বাংলো অরণ্যে নারী চরণ পড়ছে। রেঞ্জার এক মুহুর্ত তাকিয়ে ফের শোয়েবের দিকে বোঝাল,
– মাই মেজিস্টি, ইনি কে? আপনি পরিচয় করাননি।
ভঙ্গি দেখে চোখ রাঙাল শোয়েব। অবোলা প্রাণী হলেও সে এই জন্তুর ভাষা বোঝে। এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে এসব প্রাণীদের কথা বোঝার। শোয়েব মেজাজ তপ্ত করে গর্জন দিল,
– এখনো জানার সময় হয়নি। এখন ওকে উদ্ধার করো! ডু দ্যাট জব ফাস্ট!
জিভ বের করে নিজের নির্বুদ্ধিতা বোঝাল জার্মান শেফার্ড। বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শরীরে নিজেকে অগ্রসর করল বিপদে। একপলক ভীতি-বিহ্বল মেয়েটির মুখে ভয় চিহ্নিত করল, এরপর নিচুস্বরে ঘেউ করে পা বাড়াল সে। শাওলিন ছোটো থেকেই কুকুর ভীতিতে আক্রান্ত। কুকুর দেখলেই দশ হাত দূরে চলে যায়। এই মুহুর্তে সেই চলন্ত ভীতিকে এগোতে দেখে ওর হৃৎপিণ্ড মোচড়ে উঠে! চকিতে চার পা পিছিয়ে কম্পিত স্বরে বলে,
– আপনি ওকে যেতে বলুন! আমি… আমি এভাবেই আসতে পারব। প্লিজ যেতে বলে দিন, নাহলে আমি এগোব না!
দৃঢ়, অটল মেয়েটাকে এভাবে কাঁপতে দেখে আশ্চর্যের সীমা থাকে না। শোয়েব ভাবেনি ওর কুকুর ভীতি আছে। রেঞ্জার তখন দু পা এগোতেই ঘাড় ঘুরিয়ে মনিবের দিকে দেখে। অবোলা জীবটাও যে এই রমণীর কথা বুঝেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। শোয়েব ওকে আশ্বস্ত করতে সাপটা গতিবিধি বুঝে বলল,
– রেঞ্জার আমার পোষা। ওর দ্বারা কোনো ক্ষতি হবে না। তোমাকে উদ্ধার করবে শাওলিন, তুমি শান্ত থাকো।
– ননা,
– শাওলিন, আমার রাগ তুলবে না! এই প্রাণী ক্ষতিকর না বলেছি। ও তোমাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। যে সাপ তুমি দেখছ, ওটা আমার পোষা না। ওটা বিষধর। রেঞ্জারকে চুপচাপ কাজ করতে দাও।
– ভাল্লুকের মতো কুকুরটা আপনার পোষা?
– ভাল্লুকের মতো কুকুরটা আমার। কোনো ক্ষতি করবে না শাওলিন। রেঞ্জার দেখতে ভয়ংকর হতে পারে। কিন্তু তোমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। প্লিজ কাম ডাউন। মেক এ মুভ।
এ কথায় কাজ হলো। বুকের ভেতরে ভয়ের পুকুর হলেও তাতে ডুব দিল না ও। নিজেকে সামলে কুকুরটাকে সহজভাবে নিতে চাইল। রেঞ্জার পরিস্থিতি বুঝেই সাপটাকে ডানপাশ দিয়ে ডিঙিয়ে শাওলিনের কাছে পৌঁছুল। মুখ তুলে শাওলিনকে যেটুকু দেখল, তাতে নিচু স্বরে কুইকুই করল পিছু আসতে। তার দেখানো পথ ধরে শাওলিন নিঃশব্দে হাঁটা দিয়েছে। শোয়েব ফোনের ফ্ল্যাশলাইট ধরিয়ে ওর আগুয়ান পথ আলোময় করে দিল। অন্যদিকে সাপটা তখনো ফণী তোলা; চেরা জিভটা ফোঁস ফোঁস করে ভেতর-বাহির করছে। একপর্যায়ে সহি সলামত ওকে পৌঁছে দিল রেঞ্জার। নিজে ফিরে গেল সেই সাপটার দিকে। যেন ওটার দ্বারা হঠাৎ আক্রমণের সুযোগ না থাকে। শাওলিন বাঁহাতের মুঠোতে শাড়ির আঁচল মুঠো করে ধরেছিল, তাতে সদ্য তোলা অপরাজিতা ফুল। হঠাৎ তীক্ষ্ম দৃষ্টিটা সোজা গিয়ে পড়ল ওই ছোট্ট পুটুলির মতো আঁচলটাতে, তৎক্ষণাৎ শোয়েব ভ্রুঁ ভঙ্গি করে খর গলায় বলল,
– কী ওখানে?
শাওলিন মুখ নামাল নিচে। আঁচল গোঁজ করা পুটুলিটা দেখে ইতস্তত সুরে বলল,
– ফুল।
– কীসের ফুল?
– অপরাজিতা ফুল।
উত্তরটা দিতেই তার ভ্রুঁ দুটো কোঁচকাতে দেখল শাওলিন। চোখে, চোয়ালে, কপালের ডানদিকে ভিন্ন এক অবস্থা ফুটে উঠতে থাকে। একবার ওর সন্দেহ হলো, ওই অভিব্যক্তিটা বোধহয় অশনি ক্রোধের ধক! কিন্তু পরক্ষণে নিজেকে বোঝাল, না, চোখের ভুল হয়েছে। শোয়েব খানিক চুপ থেকে ঠাণ্ডা গলায় শুধাল,
– এই ফুল এখন ছেঁড়া কেন? রাত দশটায় কেন প্রয়োজন?
শাওলিন পানসে মুখে বিপন্ন পরিস্থিতির আঁচ করে। পাশ কাটাতে দ্রুত গলায় বলে,
– চা বানাতে প্রয়োজন। চুলায় পানি দিয়ে এসেছি। পাতিলটা নামানো দরকার!
কথাটা বলতেই এক পা সামনে এগিয়েছিল ও, অমনেই বিপুল চাপে প্রচণ্ড এক টান খেল হাতে। ছিঁটকে যে জায়গায় ছিল, সেখানেই ঝটিতি ফিরে আসে শাওলিন। অবাক বিস্ময়ে শীতল মুখটায় ফিরে চাইলে মানুষটা রুঢ় গলায় বলল,
– মিথ্যা বাহানা কাকে দাও? আমাকে?
শাওলিন কথা বলতে পারল না। নির্বাক চোখে মাথাটা নিচু করে ও। দেখতে পেল সরু কবজিটা বজ্রমুষ্টিতে খামচে আছে। একটু এদিক সেদিক হলেই হাড্ডিটা যেন মট করে ভাঙবে। শাওলিন মাথা তুলে আহত চোখে তাকায়। অন্যহাতে থাকা আঁচলের গোঁজ সেই কবজির কাছে এনে শোয়েবের মুষ্টিটা ছাড়াতে থাকে। ব্যর্থ হয়েই শাওলিন বিক্ষুদ্ধ সুরে বলে ওঠে,
– আপনার বাড়িতে চা খেতে হলে অনুমতি লাগবে? হাত ছাড়ুন! আমি রান্নাঘরে যাব! আমাকে ব্যথা দিচ্ছেন অফিসার ফারশাদ!
শেষদিকে এসে গলা কেঁপে উঠে। চোখে অজান্তেই পানি চলে এসেছে। ব্যথায় রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে তখন, অবশ অবস্থায় ঝিমঝিম করছে হাত। ঝাঁকুনি দিয়ে হাতটা ছাড়াতে চাইল, তার আগেই শোয়েব স্থিরচোখে ছেড়ে দেয়। শাওলিন যখন ব্যথাতুর কবজিতে অন্যহাত বুলাচ্ছে, তখন ওর দিকে মাথা নামিয়ে দৃষ্টি সোজাসুজি করছে শোয়েব। ভয়ংকর খেপাটে গলায় কথাটা বলল,
– তুমি আমার অনুমতির দাস নও। কথাটা আজ থেকে মাথায় ঢোকাও। তোমাকে আমার বাড়িতে বাইরের কেউ চাকর বানাবে, এই লেভেলের অনুমতি আমি কাউকেই দিইনি।
শাওলিন ভেজা চোখে তাকিয়ে ছিল। অন্ধকারের আলো ওর চোখের অশ্রুকে মুক্তদানার মতো জ্বলজ্বল করে ফোটাচ্ছে। সেই দৃশ্য কারো পাষাণ বুকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে বিঁধছে, বহুগুণ যন্ত্রণা হচ্ছে পাথর মনে। কিন্তু মস্তিষ্কের ভেতর তোলপাড় করছে রাগের লেহন। শাওলিন ডানহাতের উলটো পিঠে চোখের কার্নিশটা মুছল। অনেকটা নির্বিকার সুরেই জানাল,
– আপনার কাকি চা খেতে চেয়েছেন। উনার জন্য অপরাজিতা ফুল নিতে এখানে এসেছি। জানতাম না এদিকটায় সাপের বসবাস। উনিও বলেননি সাপ আসলেই আছে। আপনি কার্বালিক এসিডে সাপের আখড়া ঘুচিয়েচেন, এমনটাই বলেছিলেন কাকি। আপনি বিশ্বাস না করলে সবিতা কাকিকে জিজ্ঞেস করুন।
কথাগুলো বলেই দুহাতে আঁচল খুলে দেখাল। থোকা থোকা ফুলগুলো ওর ছোট্ট আঁচলে লুকিয়ে আছে। শোয়েব একনজর সেদিকে তাকালেও শাওলিন তখন দেখছে শোয়েবের হাত। নেভি ব্লু টিশার্ট পরা দেহটা কাঁপছে, কাঁধের চওড়া পেশিগুলো এর আগে কখনোই এতোটা ভয়ংকর ভঙ্গিতে কঠোর হতে দেখেনি। ডান ভ্রুঁটা শেষদিকে মাঝ বরাবর কাঁটা, সেই ভ্রুঁটা উঁচু হচ্ছে কপালে। চশমার কাঁচ যেন নড়ছে, সমস্ত শরীরই অপ্রতিরোধ্য নিঃশ্বাসে কাঁপতে শুরু করেছে। শাওলিন কিছু ভেবে না পেয়ে বলল,
– আপনি উনাকে —
কথা শেষ করার সুযোগই পেল না। তার আগেই হিংস্র ভঙ্গিতে এগোচ্ছে শোয়েব। তার পিছু পিছু তাকে থামাতে চাচ্ছিল শাওলিন। কিন্তু লাভ হচ্ছে কোনো। এদিকে ছোটো বোন রাবেয়াকে ঔষুধ খাওয়াচ্ছে রোকেয়া। পানির গ্লাসটা রাখতে গিয়ে হঠাৎ যেন হইচই শুনতে পেল। রাবেয়া হালকা জ্বর গায়ে বিছানা ছেড়ে বলল,
– বু, ভাইজানের মতো হুনাই না? বাইরে কী হইছে?
রোকেয়া কপাল কুঁচকে গলায় ওড়না তুলে নিচ্ছে। দ্রুত দরজার দিকে এগিয়ে, কাঠের ডাসা সরিয়ে বাইরে যেতেই বলল,
– তুই থাক, আমি যাই দেহি! জ্বর শইল্যে বাইর হইস না!
কিন্তু রাবেয়াকে দমালো গেল না। জ্বর শরীরে ঝটপট উঠে গেল সে। বড়ো বোনের পিছু যেতেই দুবোন থমকে দাঁড়ায়। শাওলিনকে ওরকম অবস্থায় দেখে দুজনই দৌড়ে যায়। গমনরত শোয়েবের দিকে তাকিয়ে রোকেয়া ত্রস্ত সুরে বলল,
– ভাবী, হইছে কী? ভাইজান অমন খেপা ক্যান?
শাওলিন গতি না দেখে রোকেয়াকে সব বলে দিল। দুবোন কথাগুলো শুনতে শুনতে আঁতকে ওঠে! রাবেয়া চরম আতঙ্কিত হয়ে যায়, শঙ্কিত সুরে রোকেয়ার দিকে বলে,
– বু, এলাহি কাণ্ড বাঁধব! রাইত বিরাতে ঝগড়া হওন ভালা না। এমনিই ভাইজান —
হঠাৎ কথাটা বলে ফেলছিল রাবেয়া, চকিতে শাওলিনের উপস্থিতি দেখে কথা থামালো। এসব বলা যাবে না শাওলিনের সামনে। রাবেয়া শোয়েবের দিকে দৃকপাত করতেই শাওলিনকে বোঝাল,
– ভাবী, থামান! উনি বাড়িত ঢুকলে কাউরে আস্তো রাখতো না। থামান ভাবী, আপনে বললে শুনব। জোর করলে থামব! আপনের কথা ফেলব না ভাবী। উনারা পরিবারের মানুষ বহুত বছর পর আইছে! আজকা কিছু না ঘটুক।
শাওলিন তখন থতমত দৃষ্টিতে তাকানো। কী করবে বুঝে পাচ্ছিল না। ঘাসে ছাওয়া ফাঁকা জায়গাটা পার করছে সে। আরেকটু এগোলেই বাংলোর হাঁটাপথের সীমানা। শাওলিন যখন দোনোমনায় ভুগছে, তখন রোকেয়া পাশ থেকে সুন্দর করে বোঝাল। কাঁধের হাত দিয়ে আলতো সুরে বলল,
– আপনে বুঝায়ে বলেন ভাবী। ভাইজান আপনের কথা শুনব। আমরা কিছু কইলে আরো ঝামেলা বাড়ব, তুলকালাম কাণ্ড বাঁধব ভাবী। কিন্তু আপনে কিছু কইলে কিছু কইতো না। যান, যান তাড়াতাড়ি!
শাওলিন আর দেরি করে না। বাড়িতে একটা ঝড় উঠবে এটা কস্মিনকালেও চায় না ও। পা দুটো গতিশীল করে মানুষটার পিছু গিয়ে জোরে হাঁক ছাড়ল,
– ফারশাদ সাহেব, দাঁড়ান!
ওর রিনরিনে কণ্ঠটা গতি আঁটকে দিল। সামনে বাড়ানো পা ফিরিয়ে আনলো মাটিতে। শোয়েব পিছু তাকাল ডান কাঁধ বরাবর। শাওলিন এক পা এগিয়ে গভীর দম ছেড়ে বলল,
– যদি আমার ভালো চান, দরকার নেই ঝামেলা করার। আমি চাই না আপনার সঙ্গে কারোর তর্ক হোক। সেই কারণটা যদি আমি হই, তাহলে অনুরোধ থাকবে শান্ত হয়ে যান।
শোয়েব ওভাবেই অটল। চোখের পলক পরছে না। চশমার দরুন কেমন কঠোর দেখাচ্ছে, সেটা ব্যক্ত করা যায় না। শাওলিন ঢোক গিলে শান্ত ভাবে বলল,
– দোষ অবশ্য আমার। আমি আপনাকে জানিয়ে আসিনি। আমি জানতামও এদিকটা কেমন। অন্যের কথা শুনে বেরিয়ে পড়াটা অবশ্যই ভুল হয়েছে। আমি চা বানাবার জন্যই এতোটা চিন্তা করেছি। আমার পক্ষে তো জানা সম্ভব নয়, আপনার পরিবার কেমন। কে কেমন। এই ভুলটা থেকে শিখে নিলাম, পরবর্তীতে আর করব না।
শেষ কথাটা বলতে গিয়ে ছোট্ট মেয়ের মতো মাথাটা দুদিকে নাড়ায় ও। আর কখনো এরকম ভুল হবে না ওর। কিন্তু কথাগুলো বলেও কোনোরূপ পরিবর্তন দেখে না। চোখের পলক এখনো ফেলছে না! ওই সুন্দর তারা দুটো সর্বক্ষণ ওকে দেখে; ওর ভাষাগুলো পড়ে নেয়, ওর ভেতরটাকে গুছিয়ে দেয়; সেখানে আজ কেন অতো নিষ্ঠুরতা কেন? শুধু ওকে চাকর বলে? নাকি ওকে বিপদে ফেলেছিল বলে? শাওলিন আগপাশ না ভেবে আবারও অধীর গলায় বলল,
– রাত দশটার ভেতর রান্নাঘরের বাতি নিভিয়ে দিব। কেউ এলে তার ব্যাপার। আমি সাহায্য করতে যাব না।
ডান কাঁধ থেকে ঘাড় ঘুরাল শোয়েব। সামনে ফিরে চুপচাপ নিঃশব্দে হাঁটা দিয়েছে। এবারের চলনগতি আগের চেয়ে ধীরস্থির। রাগের ঘনঘটা পদক্ষেপে আর নেই। শাওলিন চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস টেনে ছাড়ে। আঁচলে লুকোনো ফুলগুলো রান্নাঘরে রেখে দেয়। অদ্ভুত বিষয়, রান্নাঘরে কেউ নেই। চুলাটাও নেভানো। কাঠের যে টুলটায় সবিতা চাচি বসেছিলেন, সেটাও জায়গা মতো রেখে দেয়া, যেন কেউ বসেই নি। শাওলিন রান্নাঘরের হলুদ বাতিটা নিভিয়ে ঘুটঘুটে অন্ধকার সিঁড়িতে পা রাখল। প্রথম কদম সবে রেখেছে, ঠিক তখনি গোল টর্চলাইটের আলো পড়ল সামনে। যেন আলোটা ওকে সাবধানে আসার জন্য ফেলা হয়েছে। চট করে উপরে তাকায় শাওলিন। দোতলার ডান অংশে অল্প সামান্য আলো। সেই আলোতে একটি দীর্ঘদেহি অবয়ব। পকেটে বাঁ হাত গোঁজা, ডানহাতে টর্চ ধরা। তার পেছনে আলো থাকায় তার মুখ আঁধারে ঢাকা। শাওলিন মাথা নামিয়ে আরেক কদম ফেলল সিঁড়িতে। আলোটা ওর প্রতি কদমে অগ্রসর হচ্ছে। ওকে দোতলা পর্যন্ত নিয়ে এল টর্চের নির্দেশ। এরপর আলোটা বন্ধ হয়ে গেলে শাওলিন করিডোর পেরিয়ে রুমে ঢুকে যায়। তার পরপরই ঘরে ঢুকল শোয়েব, দুহাতে দরজার পাল্লা ধরে বন্ধ করে দেয় মাঝ বরাবর।
পেছন ঘোরে শোয়েব। একবারও তাকায়নি শাওলিনের দিকে। ওয়াক ইন ক্লোজেটের দিকে যেতে যেতে নিজেকে অদৃশ্য শোয়েব। শাওলিন বুঝে পেল না এখন কী তার জন্য অপেক্ষা করবে কিনা। বিয়ের পর আজ দ্বিতীয় রাত্রি। প্রথম রাতের পর লোকটা বনবিভাগ নিয়ে ব্যস্ত। যদি সে হিসেব ধরে, তবে স্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে ও এতোটাই অপ্রস্তুত, ওর জানার পরিধি বড্ডই ক্ষীণ। বিছানায় ওঠে কিছুক্ষণ অন্ধকারে তাকিয়ে থাকে। শরীর জুড়ে অবসাদ ও ক্লান্তি, বেশিক্ষণ চোখ খুলে রাখতে পারে না ও। নিচতলার প্রকাণ্ড সাইজের ঘরগুলো একা হাতে সাফ করাটা ওকে অতল ক্লান্তিতে ডুবিয়ে দিয়েছে। ঘুমিয়ে যায় শাওলিন। বিছানার একদম কিনার ঘেঁষে, ওপাশ ফিরে নিদ্রায় তলিয়ে যায়। অপরদিকে ওয়াক ইন ক্লোজেট থেকে কিছু প্রয়োজনীয় কাজ সেরে বের হয়েছিল শোয়েব। হাতে গান ওয়েল মাখা, একটা ছোট্ট ন্যাপকিনে কালিমাখা ছোপ। যেন গানওয়েল দিয়ে ভারি বস্তুটা পরিষ্কার করে রাখল। ঘরে পা রেখে বুঝল বাতি নেভানো, শাওলিন শুয়ে পড়েছে।
হাতটা হ্যাণ্ডওয়াশে ধৌত করে বিছানায় উঠল শোয়েব। ঝড়ো বাতাসে নরম ফিনফিনে পর্দাগুলো বিছানার চারধার থেকে উড়ছে। শোয়েব নেভি ব্লু টিশার্টটা দুহাতে খুলে ফেলে। মাথার কাছে ওটা রাখতেই একবার তাকাল ওর দিকে। গায়ে হালকা গোলাপি শাড়ি, রঙটা ওর ছোট্ট, নরম শরীরটার ফুলের মতো মিশে গেছে। ওর দিকে ঝুঁকে এল সে। সন্তর্পণে মাথা নোয়াল ওর ঘুমন্ত মুখে। ডান হাত বাড়িয়ে ওর ব্যথাতুর হাতটা তুলে নিল। বৃদ্ধাঙুলে লালচে কবজিটা ছুঁয়ে দিলে দুঠোঁট নামাল সে। গভীর উষ্ণ চুমু খেল হাতে। চোখ বন্ধ করে ছুঁয়ে দিতে লাগল নরম আঙুল, উষ্ণ তালু, আদুরে উলটোপিঠে। ঘুমের ঘোরে থাকায় তবু কেঁপে উঠছে শাওলিন। মানুষটার প্রখর স্পর্শ ওর অচেতন মনে করাঘাত দিচ্ছে। হাতটা টেনে নিজের শেভড গালে ছোঁয়াল শোয়েব। বাঁহাতে ওর গলার কাছ থেকে সরিয়ে দিচ্ছিল কেশরাশি। উন্মুক্ত হয়ে গেল সন্ধ্যায় ঘটানো কাজটুকু। বাঁহাতের পুরুষালি আঙুলে ছুঁয়ে ধরল রক্ত জমাট দাগটা। কিঞ্চিত ফুলে ওঠেছে দাঁতের দংশনে। শোয়েব মাথা নামিয়ে সেখানেও অধরজোড়া ছুঁয়ে দেয়। বুকের ভেতর মোচড়ে ওঠে তার, শোয়েব অনুভব করে প্রবল আবেশী অনুভূতিটা। তার ফাঁকা বুকে আস্তে করে জড়িয়ে নেয় ওকে। ওর পিঠ, ঘাড়, মাথাকে তুলে নেয় নিজের ওমে, দুবাহুর ভেতরে, তার সান্নিধ্যের কুটিরে। ঘুম জড়ানো স্বরে শোয়েব বলছিল,
– খাগড়াছড়িতে এলে তুমি বিছানায় শোবে না শাওলিন। শোবে. . আমার বুকের ভেতর।
একটু থেমে আবারও গভীর গলায় চোখ বুজে ফেলল। নিদ্রার ঢল দুচোখে, তার ভারি কণ্ঠ মিইয়ে আসে। তবু ফিসফিস স্বরে ঘুমঘোরে বলল,
– রেবা বৌভাতের তারিখ দিবে। না করে দিলে ভালো। নাহলে . . আমি বৌভাত চাই না। তুমি আমার কাছেই থাকছ।
পরদিন স্বাভাবিক ছন্দে সকাল শুরু হয়। পুরুষরা ঘুম থেকে ওঠেনি। খালিদ মির্জা নিয়মমাফিক ভোর চারটা ত্রিশে উঠে গেছেন। স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে ঘুরে দেখেছেন নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা। না, বাংলাদেশের মাটিতে পুরোনো তরিকা লাগায়নি ও। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির আনাগোনা দেখা দিচ্ছে গাছের ফাঁকে, ক্ষুদ্র সিসিক্যামে, ইলেক্ট্রিক বাউণ্ডারির কার্যকলাপে। খালিদ এখনো চান শোয়েব আগের জীবনে ফিরুক। হতে পারে ওটা নীতিবদ্ধ জায়গা না; কিন্তু কার্যকারিতায় অপকারীও ছিল না। শাওলিন ঘুম থেকে জেগেছে। রান্নাঘরে ঢুকতেই রোকেয়া, তাহিয়া, অধরার উপস্থিতি দেখল। ওরা এখনো জানে না, সবিতা চাচি আরেকটু হলে মারাত্মক বিপদে পড়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি এখন তুলনামূলক ঠাণ্ডা। শোয়েব সোয়া পাঁচটায় ওঠে ওয়াকিটকি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। কাউকে জানিয়ে যায়নি কোন দরকারে বেরুল। যখন ফিরেছে তখন সারামুখ ঘর্মাক্ত; গালদুটো রক্তাভ। মাইলে পর মাইল দৌড়ে এসেছে তা বুঝতে বাকি থাকে না। নাশতার টেবিলে হাতমুখ ধুয়ে বসল শোয়েব। সবিতা চাচিকে ডেকে আনালো ওর পাশে বসে নাশতা খেতে। এমন তাজ্জব দৃশ্য দেখে খালিদ, ফাতিমা নাজ, তাহিয়া ও অধরা প্রত্যেকেই হতভম্ব! এই রূপ তো ভালো কিছু বোঝাচ্ছে না! উদ্দেশ্য কী? কেউ কোনো কথা বলল না শোয়েবকে। মনে মনে ধরে নিল হয়ত সবিতার পূর্ববতী কর্মকাণ্ড মাফ করে দিয়েছে সে। তাই নতুন বধূর সামনে অপকাজ করতে চাইছে না শোয়েব। এর মধ্যে নাশতা শেষে চায়ের পসরা আনা হলো। ফাতিমা সকালে যেহেতু অপরাজিতা ফুলের চা খান, আজ খালিদ মির্জাও চা খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেন। শোয়েব দু টুকরো সেদ্ধ ডিমে গোলমরিচ ছিঁটিয়ে বলল,
– সবিতা চাচী,
ডাক শুনে খাওয়া থামান সবিতা। চোখ বাঁয়ে ঘুরিয়ে বলল,
– হ্যাঁ বাবা, কিছু বলছ?
– শরীর-স্বাস্থ্য কেমন? হেলথ চেকআপ করিয়েছেন?
সবিতা ভড়কে যাওয়া দৃষ্টিতে বলল,
– কেন বাবা? হঠাৎ এই কথা কেন? তুমি তো আমার স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্নই করো না ফারশাদ। তুমি তো জানো না, তোমার একটা কলের অপেক্ষায় কতগুলো দিন খারাপ ভাবে কাটিয়েছি।
– আপনি কল দেবার মতো পরিস্থিতি তো রাখেন না। এমনভাবে সম্পর্কগুলো বাজে করেন, তখন ইচ্ছে করে কল কেন, এই দুনিয়া থেকে অন্য দুনিয়ায় কানেকশনটা ফিট করি।
শোয়েবের কথা কিছুই বুঝলেন না সবিতা। তিনি ভ্রঁ
কুঁচকে আলগোছে বলে উঠেন,
– সেটা কি দুনিয়া, বাবা? তোমার কথা যে তুমি বুঝিয়ে না দিলে বুঝব না।
– মৃত্যু।
মুখের ওপর গরম ঝাঁজ পড়ল। এমনই ভাবে শিউরে উঠলেন সবিতা। তিনি চকিতে ফাতিমার দিকে তাকালেন। আমতা আমতা কণ্ঠস্বর ফুটতে যাচ্ছিল, হঠাৎ শোয়েব কথার মোড় অন্য রাস্তায় ঘুরিয়ে বলল,
– আমি সম্পর্কের মৃত্যু বুঝিয়েছি। ওই মৃত্যু না। আপনি চা খাবেন? মেবি ওর হাতের চা-টা ভালো হয়। চেখে দেখতে পারেন। এই?
শেষ কথাটা যার উদ্দেশ্যে, সে তখন খালিদকে চা ঢেলে দিচ্ছিল। ভদ্রলোক কিছুটা দূরে হলঘরের সোফায় বসেছিলেন। ভাইপোর ডাক শুনে হলঘর থেকে একপলক ডাইনিং ঘরটা দেখে শাওলিনকে বললেন,
– মা, দেখে এসো। ডাকছে। চিনিটা দেখে নিতে পারব।
– জ্বি, আচ্ছা চাচা।
শাওলিন পায়ে পায়ে নিকটবর্তী হলে ধীরভাবে বলল,
– ডেকেছেন?
শোয়েব বড়ো চাচিকে দেখিয়ে কফির মগটা টেনে নিচ্ছে। সেভাবেই নির্বিকার স্বরে বলল,
– এক কাপ চা দাও। সবিতা চাচির বেশি দিবে। উনি হেলথ কনশাস মানুষ। বি কেয়ারফুল।
– ঠিক আছে।
শাওলিন দুটো কাপে ফাতিমা নাজ, সবিতা আফরোজ দুজনকে অপরাজিতা চা দিল। সিলেটি চায়ের সুঘ্রাণে মৌ মৌ করছে চারপাশ। ফাতিমা চায়ে চিনি খান না। তিনি ছোট্ট চুমুক দিয়ে বললেন,
– দারুণ! স্বাদটা দেখছি ভালো এসেছে। সবিতা, এ স্বাদ অতুলনীয়। না খেলে বোঝার উপায় নেই।
শোয়েব কফিতে চুমুক দিচ্ছে। চোখদুটো শাওলিনের দিকে। শাওলিন চিনির পট এগিয়ে সবিতার দিকে শুধাল,
– চিনি ক’চামচ খাবেন?
সবিতা মুখে হাসির ঢল নামিয়ে বলল,
– দুই চামচ, মা। দুই চামচ তুলে দাও।
শাওলিন যখন দুই চামচে চিনি মেশালো, চামচে টুং টাং করে গোল গোল নাড়াচ্ছিল, ঠিক সেসময় গলা খাকারি দিয়ে শোয়েব বলল,
– এই চায়ের লিকারটা ঘন। ব্যালেন্স রাখতে কিছুটা বেশি সুগার লাগে। আধ চামচ বাড়িয়ে দাও। টেস্ট বেটার আসবে।
সবিতা কথাটা শুনে মুচকি হাসলেন। শোয়েবের কথা মোতাবেক শাওলিন সেভাবেই বাড়তি চিনি মিশিয়ে দিল। চায়ের কাপটা যখন এগিয়ে দিল, তখন সবিতা দুহাতে কাপ তুলে একটা হাসি দিলেন। মধু মাখানো হাসি। হাসিটা দিয়েই কাপে চুমুক দেন। মুখের হাসিটা হঠাৎ আক্রান্ত হলো। চুমুক দিয়েই চোখস্থির করে ফেলেন সবিতা। এদিকে ফাতিমা উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে আছেন। তিনি পরপর চুমুক দিয়েই যাচ্ছেন। হঠাৎ দেরি দেখে বলে উঠলেন,
– বউ? চায়ের স্বাদটা অসাধারণ না?
দাদীকে উষ্কে দিতে শোয়েব নিজেও তাল মেলালো। কফির মগটাকে সাইডে রেখে শাওলিন নিজের জন্য যে কাপটা বানিয়েছিল, ওটা ওর হাত থেকে ছোঁ মেরে নিয়ে এক চুমুক দিল। এহেন কাণ্ডে লজ্জায় লাল হয়ে গেল শাওলিন। বাড়ির লোকদের সামনে ওর খাওয়া চা-টা সবলে কেড়ে নিয়ে খাচ্ছে! পাষাণ, দ স্যু, অ স ভ্য কোথাকার! মনে মনে লজ্জায়-কুণ্ঠায় বকাগুলো দিলেও সবিতা তখন অকুলপাথারে। তিনি না পারছেন মুখ থেকে ফেলতে, না পারছেন গলা দিয়ে গিলতে। এদিকে শোয়েব দুই চুমুকে চা শেষ করে চাচীর দিকে ভ্রুঁ নাচাচ্ছে।
– চা ভালো হয়নি? কিছু বললেন না?
সবিতা সিপাহী যুদ্ধ দেখেননি। কিন্তু আজ যুদ্ধের আগপাশ স্বাদ পেয়ে ঢোকটা গিললেন। মুখে তার চেয়েও কঠিন যুদ্ধে হাসি ফোটালেন। পরিস্থিতি দেখে নিরুপায় হয়ে আবারও এক চুমুক বিষ পান করে বললেন,
– অপূর্ব। অপূর্ব চা।
শোয়েব গর্ব নিয়ে তাকাল। চাহনিটা দূরবর্তী রান্নাঘরের দিকে তাক। সেখানে শয়তানি হাসিতে ওড়না চাপা দিয়েছে রোকেয়া। হাসতে হাসতে রান্নাঘরের দেয়ালে দুবার থাপ্পর মারল। মতিন লাল রান্নাঘর থেকে কয়লা গুঁড়ো নিচ্ছে। তর্জনীতে মাখিয়ে দাঁতে ঘষতেই রোকেয়ার দেয়াল থাপড়ানো দেখে কপাল খিঁচালো। মতিন বোকা বনে বলল,
– কিরমি ধরছে?
রোকেয়া এই কথায় আরেক দফা ফেটে পড়ল। হাসি আর চাপানো যাচ্ছে না। রান্নাঘরের ভেতরে ঢুকে গেলে এদিকে সবিতা পুরো চা-টাই খেতে বাধ্য হলেন। একদিকে না খেলে শোয়েব ভালো ভাবে দেখবে না, অন্যদিকে এটা খেলে নিজের ভালোটা থাকে না। তবু সবিতা খেলেন। খেয়ে তড়িঘড়ি একটা ফোন এসেছে বলে চলে গেলেন। শোয়েব ততক্ষণে চেয়ার ছেড়েছে। টেবিলের এঁটো কাপগুলো তুলে রান্নাঘরে গেল শাওলিন। রোকেয়া তখন হাসি থামাতে কলপাড়ে গেছে।
সিঙ্কে কাপগুলো রাখতেই হঠাৎ একটার তলায় চোখ আটকে গেল শাওলিনের। বেগুণি বর্ণ চায়ের নিচে অস্বাভাবিক এক প্রলেপ। ঘন, যেন শত নাড়ালেও গলেনি। সন্দেহ কাটাতে তলানি থেকে আঙুল ছুঁয়ে তুলল। প্রথমে শুঁকে দেখল, মিষ্টি ঘ্রাণটা নেই। তারপর কী ভেবে জিভের এক কোণে ছোঁয়াল। পরমুহূর্তেই পুরো শরীর ঝাঁকুনি খেয়ে উঠল। চোখ-মুখ খিঁচুনি দিয়ে ফেলেছে শাওলিন। কী এটা? এটা চিনি? এতো বিষাক্ত জিনিস. . বুঝতে বাকি নেই, এটা লবণ। শুধু লবণই না, সামুদ্রিক লবণ — সী-সল্ট! মাত্রাতিরিক্ত কড়া, জ্বালাধরা, বিদঘুটে!
বজ্রমেঘ পর্ব ৩৪
হঠাৎ থমকে গেল শাওলিন। বুকের ভেতরে ধক্ করে উঠল। এটা কী কালরাতের প্রতিশোধ? ভীত চোখে কাপটার দিকে তাকাল। অশুভ আতঙ্কে কণ্ঠরোধ হয়ে আসছিল . . . পেছন থেকে ঠিক তখনি আসলো গমগমে গলাটা,
– যে গলা দিয়ে চা খেতে চেয়েছে, সেই গলাটায় কার্বালিক এসিড ছেড়ে দিতাম। ভাগ্য তোমার, শুধু সী সল্ট দিয়েছি। আমি হিসাব না মিটিয়ে ছাড়ি না।
