বজ্রমেঘ পর্ব ৩৫ (২)
ফাবিয়াহ্ মমো
শাওলিনের জানার কথা নয়, শোয়েবের হাত কতদূর। ফাইলটা কী, তাও জানে না। ভয়ানক একটা কাজ করেছে। চুরি করাটা মোটেই ঠিক হয়নি। বুকের ভেতরে অনুতাপ। অস্বস্তির কাঁটা তীক্ষ্ম সূঁচের মতো চামড়ায় বিঁধছে। একপর্যায়ে বিছানা থেকে নেমে পড়ে শাওলিন। চোখদুটো ঘড়িতে স্থির। ঘণ্টার কাঁটা দুটোর ঘরে ছুঁই ছুঁই। রুমে এখনো ফিরেনি লোকটা। উৎকণ্ঠা চাপা দিয়ে বাইরে বেরুল ও। বিড়ালের মতো নিঃশব্দ পায়ে নিচতলায় নেমে উঁকি দিল। বাঁদিকের অফিস ঘরটার নিচে হলুদ ছটা। জেগে থাকার আভাস স্পষ্ট। পা টিপে টিপে ভেজানো দরজার কাছে গেল শাওলিন, খানিক অপেক্ষার পর হালকা স্বরে ডাকল,
– অফিসার, আপনি জেগে আছেন?
কেন প্রশ্নটা মাথায় এল, ওর জানা নেই। আরেকবার মৃদু গলায় বলে উঠল,
– আমি ভেতরে আসতে পারি? আসব?
নিরুত্তর। নিচের অধর দাঁতে কামড়ালো শাওলিন। সে কী বুঝে গেল চুরিটা? ও তো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে চুরি করেনি। মনে মনে নিজের কাছে বলছিল, ঠিক আছে। আমি স্বীকার করে নিব, আমি একটু আগে সত্য বলিনি। ডেষ্কটপে কোনো মেইল পাঠাইনি। আর ওই ফাইলটা, ওই ফাইলটা আমি এক্ষুণি মুছে দিব। হ্যাঁ, এভাবেই করব।ভেতরের শাওলিনকে এভাবেই বুঝিয়ে দরজাটা জোরে ঠেলে দেয় ও। বুকটা ঢিপঢিপ করে উঠল। ভেতরে পা বাড়িয়ে ডানে তাকাতেই চোখস্থির করে ফেলেছে। মেহগণি ডেষ্কের ওপাশে উঁচু রিভলবিং চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়েছে সুপুরুষ লোকটা। পরনে নেভিব্লু টিশার্ট, ডান বাহুর পেশিটায় ক্রস ভঙ্গিতে ব্যাণ্ডেজ। কম্পিউটার চালু। ফ্যাকাশে নীল আলো তার ঘুমন্ত চোখমুখ ছুঁয়ে দিচ্ছে। শাওলিন কম্পিউটারটা বন্ধ করে দিল। খানিক ভেবে চেয়ারে তাকাল ও। চশমাটা চোখে রেখেই বাঁদিকে মাথা হেলে ঘুম। চশমাটা খুলতে একটু ঝুঁকে এল শাওলিন। গরম নিঃশ্বাস নিজের সারামুখে পেল। কানের দুদিক থেকে ধীরে ধীরে চশমাটা টেনে খুলতেই দুচোখ নিষ্পলক হলো ওর। ঠোঁটে ফুটে উঠল এক টুকরো নরম আঁচ। হাসি পেল সকালের মুখটা মনে পড়তেই। ছোট্ট বাচ্চাকে ধমক দিলে যেভাবে মুখটা এইটুকু হয়ে যায়, তেমনি দেখাচ্ছিল বনকর্মী লোকটার। ডাঁট মুড়ে চশমাটা বাঁহাতে নিতেই অন্যহাতে মাথাটাকে সোজা করে দিচ্ছে। দেখতে না দেখতেই অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় ঘটনাটা ঘটল। ছিঁটকে পড়ল লোহার মতো শক্ত বুকে। আরেকটু হলে চশমাটা ছিঁটকে পরতো হাত থেকে। চুরমার করে ভাঙতো কাঁচ লেন্সটা। শাওলিন বিমূঢ় দৃষ্টিতে তাকালে ভরাট গলাটা বলে উঠল,
– মিটিং আছে। আমি ঘুমাইনি শাওলিন।
অপ্রস্তুত হয়ে শাওলিন সরতে চাইল। কিন্তু সম্ভব হলো না। ততক্ষণে কোলের ওপর ওকে বসিয়ে নিয়েছে সে। ডানহাতে আগলে নিয়েছে ওর পিঠ, বাঁহাতে থুতনি ধরে উঁচু করে রেখেছে মুখ। শাওলিন সেই অবস্থায় না বলে পারল না,
– রাত দুটোয় কীসের মিটিং? এমন রাতে কারা জেগে আছে?
গভীর চোখে তাকালো শোয়েব। অদ্ভুত মাদক ওই চোখের অতলে। ঠোঁটের বাঁদিকে ছোট্ট করে ফুটল মারাত্মক হাসি। ভ্রুঁ ভঙ্গিতে বলে উঠল,
– পৃথিবীর অন্যপ্রান্তে যারা জেগে থাকে, তাদের সাথে কনফিডেনশিয়াল কল। জয়েন করতে চাও?
আঁতকে উঠল শাওলিন। দ্রুত অসম্মতি জানিয়ে বলল,
– না! একদম না। আমার মোটেই ইচ্ছে নেই। আমি উপরে যাওয়াটা পছন্দ করব!
– ক্যামেরা অফ করে দেব।
এ কথায় থমকে গেল। চোখ দুটো বড়ো বড়ো হতেই অস্থিরভাবে মাথা নাড়িয়ে বলল,
– একদম না! বললাম তো এসবে আমি নেই! আপনার মিটিং, আপনার ব্যবসা আপনি সামলান! আমি এগুলোয় জড়াতে চাই না।
পরিষ্কার না করে এখান থেকে কেটে পরতে চাইল। শাওলিন কোনোভাবেই তাদের সামনে যেতে চায় না। এদিকে শোয়েব হাতের বেড়ি আলগা করছে না। এমন সময় মনিটরে কলিং টিউন বেজে উঠল। বুকটা কেঁপে উঠল ওর। শোয়েব ওর পিঠে হাত বুলিয়ে শান্ত গলায় বলল,
– ক্যামেরা অফ রাখা হচ্ছে। ওরা কেউ দেখবে না।নিজেকে আমার কাছে ছেড়ে দাও।
ইশারাটা তার দেহের ওপর দেখিয়ে ক্যামেরাটা বন্ধ করে দেয় শোয়েব। এক মুহুর্ত ইতস্তত করে শাওলিন জড়তা নিয়ে কাজটা করল। মাথাটা ঠেকল শোয়েবের প্রশস্ত কাঁধের নিচে। ডানহাতে ওকে আগলে নিয়ে শোয়েব মিটিং শুরু করল। শাওলিন দেখল, স্ক্রিনে বিভিন্ন দেশের সাতজন প্রতিনিধি যুক্ত হয়েছে। প্রত্যেকেই মির্জা এন্টারপ্রাইজের কর্মী আর কর্মরত আছে সৌদি, আরব আমিরাত, ইউরোপের কিছু দেশে। নামগুলো দেখে বিস্ময়ে বুক চিনচিন করছিল ওর। শোয়েব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে শুরু করল,
– গুড ইভনিং, জেন্টেলম্যান।
কালো স্ক্রিন থেকে শুধু গলাটা ভেসে আসে। এটা অস্বাভাবিক দৃশ্য হলেও কেউ কিছু বলল না।
– লেটস কিপ দিস শর্ট। আই ওয়ান্ট আপডেটস, নো স্টোরিস।
এক মুহুর্তেই সবকটা স্ক্রিনে নড়াচড়া থেমে যায়। প্রত্যেকের দৃষ্টি শুধু কালো পর্দায়। প্রথমে সৌদি প্রতিনিধি কথা শুরু করল। সংখ্যা, গ্রাফ, ডেলিভারি, সবকিছু নিখুঁতভাবে বলছে।
শোয়েব একবারও বাধা দিল না। শুধু শুনল। চোখ বন্ধ। ডান হাতে স্ত্রীর পিঠে হাত বুলিয়ে যাচ্ছে। ব্রিফ শেষ হতেই ছোটো করে বলল,
– ডিলে… টু ডেজ। হোয়াটস দ্য রিজন বিহাইণ্ড দিস?
ওপাশে নিঃশ্বাস আঁটকালো লোকটা। গলা শুকিয়ে কাঠ।
– সাপ্লাই চেইন ইস্যু। মিস্টার ফারশাদ, উই নিড সাম —
শোয়েব তাকে শেষ করতে দিল না।
– মিস্টার আহমাদ, ইয়্যু ক্যান সাবমিট ইয়্যুর রেজিগনেশন। আই উইল সাইন ইট।
সৌদির প্রতিনিধি চুপ হয়ে গেল। সৌদি শাখার হেড আহসান মির্জার শেখানো যুক্তি কিছুতেই ধোপে টিকল না। সৌদির পর ইতালির প্রতিনিধি যুক্ত হলো। প্রথমেই প্রোফেশনালিজ্যম ছেড়ে আবেগীয় ঢঙে কথা শুরু করল, অমনেই জবরদস্ত ঝাড়ি খেল বেচারা,
– ইটালিয়ান সাইড, হোয়াটএভার ইয়্যু আর ডুয়িং ইয়্যুর প্রাইভেট ফ্ল্যাট, কিপ ইট আউট অফ দিস। আই নো ইয়্যু আর ম্যারিড, কাট দ্য ইমোশন ফর নাউ। স্টে প্রোফেশনাল।
লোকটা ধপাস করে কাকে যেন সরালো। এরপর শুধুই অনর্গল সংখ্যা। শাওলিন সমস্ত নীরবে দেখছিল, কিন্তু এ পর্যায়ে ওর গালদুটোই লাল টকটক করে উঠল। ভাবেনি এতকিছু যে এভাবেও সামলাতে হয়। জার্মান প্রতিনিধি কথা শুরু করলে আড়চোখে ব্যাপারটা দেখে শোয়েব। লজ্জায় কী রকম চোখ লুকাচ্ছে, তা বুঝেই যেন নার্ভ অন্যদিকে ঘুরছিল। ডানহাতটা অতি সন্তর্পণে নিচের দিকে, ঠিক ছিপছিপে কোমরটার কাছে, ধীরেসুস্থে বাড়াচ্ছিল সে। পেটের ডানপাশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে পাঁচ আঙুলে ধরল কোমর। নিঃশ্বাস ভারী হয়ে গেল ওর। দেখল মেয়েটা আবেশী ভঙ্গিতে চোখ বুজে ফেলছে। মাউসে ক্লিক করে অডিয়ো মিউট করল শোয়েব। বাঁহাতে ওর গালটা ধরে টেনে আনলো নিজের কাছে। ঘন গলায় ধীরসুরে বলল,
– কেন ফাইলটা চুরি করেছ? আমাকে বললে খুলে দেখাতাম না?
চোখের পাতা কুঁঁচকে এসেছে ওর। ইতস্তত গলায় কোনোরকমে বলল,
– শুধুই কৌতুহল। ফা-ফাইল আমি ডিলিট করে দেব।
শোয়েব চার আঙুলে কানের কাছটা ধরে বুদ্ধাঙুলটা গালে ছোঁয়ালো। আরো নিকটে টেনে আনলো শাওলিনের মুখ। ওর পেলব, নরম, কবোষ্ণ গালে নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে বলল,
– জার্মান এফিশিয়েন্সি, গুড। বাট আই ওয়ান্ট মোর এক্সিকিউশন।
শাওলিনের বুক দুরুদুরু করে উঠল। এরকম ভয়াবহ পারদর্শিতা ও কখনো দেখেনি। কানে শুনছে, পর্যবেক্ষণ করছে, মতামত জানাচ্ছে আর. . আর ওকেও বুঝে নিচ্ছে। শোয়েব কানের কাছে ঘন গলায় ফিসফিসালো,
– কেউ যখন বারবার করাঘাত করছে, হয় আশ্রয় দাও। নয়ত শান্ত করো। কিন্তু অস্থির করে ফেলে যেয়ো না।
অমন বিহ্বল কথায় খানিক ঢোক গিলে শাওলিন। কোনো প্রত্যুত্তর করে না। দখিন দিকে জানালাটা জোর হাওয়ায় শব্দ করছে। পর্দাগুলো উড়ে চলে যাচ্ছে সিলিং ছুঁতে। শাওলিন দেখতে পেল ছোট্ট মাউসে ক্লিক পড়েছে, ওকে জড়িয়ে ধরা মানুষটা তখুনি কাটখোট্টা সুরে বলল,
– প্রিসিশন ইজ নট এনাফ। স্পিড ম্যাটারস। ইনফর্ম দিস টু মিস্টার শাহেদ মির্জা দ্যাট আই ডিল উইদ ফ্যাক্টস।
মেঝেতে পা ঠুকে রিভলবিং চেয়ারটা ডেস্কের কাছে আনল। ছোট্ট মাথার পেছনটা বাঁহাতের প্রবল মুঠিতে ধরে আছে সে। মিটিং শেষপর্যায়ের দিকে। কিন্তু রাত্রির নিস্তব্ধতা তাকে গহীন বনের বুনো জীবের মতো উসকে দিয়েছে। যে অনুভূতি ও সংযম, আবেগ ও ইচ্ছা, পাওয়া ও বিহ্বলতাকে শক্ত শেকলে বেঁধে রেখেছিল, তা আজ বন্ধন মুক্ত হয়ে ধরা দিয়েছে। কানে এখনো বেজে চলেছে ‘ আমার কোনো মত নেই’। ‘পরশু হলে পরশু’। ধীরে ধীরে মনে পড়ছে সব। পুরোনো এক ভয় চারপাশ থেকে গ্রাস করেছে শোয়েবকে। চোখে দেখছে শাওলিনের জড়োসড়ো মুখ, হৃদয়ে দেখছে আম্মির মুখমণ্ডল। আম্মি! আম্মির কথা তার মনে পড়ছে। আম্মি বলেছিল ‘আমার কোনো মত নেই’। ঠিক এই বাক্যটাই, হ্যাঁ, এই বাক্যটাই আম্মি দাদীকে বলেছিল। তারপর আম্মি চিরতরে চলে গেল। আম্মির কথাগুলো ভনভন করে মস্তিষ্কে বোল তুলে দিচ্ছে, আনাচে-কানাচে ছুটছে হাসিমাখা নারীর কণ্ঠস্বর,
– আমার লক্ষ্মী সোনা, আমার আদরের টুকরো। কেন ওভাবে জেদ করো বাবা? দাদী বলছে তোমাকে যেতে, কেন যাচ্ছ না? সোনা আমার, শোয়েব? তোমার আম্মির কত কষ্ট হয় জানো না বাবা? তুমি না আম্মির কষ্ট দেখে কষ্ট পাও? দেখো, আম্মি তোমার জন্য ফ্রুট কাটলেট বানিয়েছি। তুমি না খেয়ে স্কুলে গেলে একদম রাগ করব। তোমার আব্বু চলে আসবে বাবা। এই ক্রিসমাসে দেখো বাবা অবশ্যই ছুটি পাবে। তুমি বন্ধুদের চকলেটগুলো দিয়েছ?
বুকের ভেতর কিছু একটা ছিঁড়ে ছিঁড়ে যাচ্ছিল। পুরোনো স্মৃতিকথা একদম পছন্দ করে না শোয়েব। ঘুরে ফিরে আম্মির কথাগুলো ওর মস্তিষ্কে অনুরণন তোলে যায়। এরপর দীর্ঘ একটা সময় সেই বিষাদে অন্ধকার থাকে মন। মনের আকাশে অমাবস্যার ঢল। তারপর কিছুই থাকে না সেখানে, কিচ্ছু না!
শাওলিন বুঝে উঠতে পারছিল না হঠাৎ কী হয়েছে তার। তার চোখদুটোর চাহনি ব্যথাতুর। যেন হৃদ গহ্বরে দুঃসহ কোনো ব্যথা গুমরে গুমরে উঠছে। সে মুখ ফুটে বলছে না, কিছু জানাচ্ছে না, কিছু বোঝাতেও চাচ্ছে না, অথচ চোখের ভাষা যে ভীষণ কাতর! শাওলিন অজান্তেই দুহাতের ভেতর তার মুখটা ধরে ফেলল। কিবোর্ডের শক্ত পাঠাতনে মাথার পিছনটা ব্যথা করছে, তবু তাকে চিন্তিত গলায় শুধাতে ভুলল না,
– কী হয়েছে? আপনাকে এমন . . এমন দেখাচ্ছে কেন?
কী যেন আন্দাজ করে শাওলিন নিজেও স্থির থাকল না। মানুষটার গাল, চুলের গহিন, তার চওড়া কাঁধ, পেশল বুক সর্বত্রই ডানহাতে ছুঁয়ে শাওলিন উদ্বেগ গলায় বলল,
– আপনাকে স্বাভাবিক দেখাচ্ছে না। কিছু একটা চাপা দিচ্ছেন আপনি! আমি বুঝতে পারছি সেটা। আপনি বলুন, আমি কাউকে ডাকব?
শোয়েব নিজের গালে শাওলিনের হাতটা জোরে চেপে রাখল। যেন ছেড়ে দিলেই ছুটে যাবে ও। ওর হাত। ওর সংস্পর্শ। ওর সবকিছু। অকপটে একটা কথা স্বীকার করে ফেলল শোয়েব,
– আম্মি চলে যাবার পর যতবার তাকে মনে পড়েছে, তোমাকে দেখার পর তার চেয়ে দ্বিগুণ মনে এসেছে।
কথার আগপাশ কিছুই বুঝল না শাওলিন। ওর বাঁহাতকে শক্ত করে নিজের গালে আঁকড়ে রেখেছে। চোখদুটোর সম্মোহন চাহনি বদলানো, সেখানে ঝিলিক দিচ্ছে আতঙ্ক, দুর্ভাবনা, বিষাদ, দহন। বুকভর্তি দম টেনে শাওলিন নিজেকে শান্ত করল। কণ্ঠে সবটুকু নম্রতা ছাপিয়ে বলল,
– আমি আপনার আম্মিকে চিনি না। উনার নামটুকু জানা নেই। কারো সাথে মিল খুঁজে পাওয়াটা স্বাভাবিক। আপনি হয়ত উনার কিছু আমার কিছুতে মিল পেয়েছেন। অথবা এটাও হওয়া সম্ভব, আপনি উনার সঙ্গে যতটা মিশেছেন, ততটা আর কারো সঙ্গে কখনো মিশেননি।
শোয়েব নিচু গলায় বলল,
– মিশিনি।
শাওলিন পরিবেশ হালকা করতে নরম হাসলো। হাসিতে উচ্ছল ও উষ্ণতা মেখে এক অদ্ভুত মৃদু গলায় বলল,
– মিশেননি?
– না, শাওলিন।
মানুষটার শান্তরূপী কথায় শাওলিন প্রাঞ্জল হাসি দেয়। খরস্রোতার নদীর বুকে যেভাবে শোঁ শোঁ করে হাওয়া বয়, তেমনি এক পশলা হাওয়া কোত্থেকে যেন ছুটে এলো। শাওলিনের ঢেউ খেলানো কালো রেশমি চুল জোর ঝাপটা দিয়ে যায় শোয়েবের কানে, মুখে, বাহুতে। শোয়েব চোখ তুলে মনিটরে তাকাল। অডিয়ো চালু করে সংক্ষেপে বলল,
বজ্রমেঘ পর্ব ৩৫
– মিটিং এডজার্নড। মেইল মি দ্য রিভাইজড্ ফিগার্স ইন নেক্সট মান্থ।
বাঁহাত তখনো মাউসে রেখে মাথা ঝোঁকালো শোয়েব। পরবর্তী ঘটনা বুঝেই চোখদুটো মুদিয়ে নিয়েছে শাওলিন। মাথার পেছনটা ভীষণ ব্যথায় চোখ কুঁচকে দিল, কিন্তু ততক্ষণে নিস্তার পাবার পথ বন্ধ হয়েছে। দুটো ওষ্ঠাধর ওর ওষ্ঠদ্বয়ে এই প্রথম কড়া নাড়ল। ওর কাছে যেন অনুমতি চাইল প্রবল কিছুর।
কিবোর্ডের ওপর ক্রমাগত ফড়ফড় করে টাইপ উঠছে। ইস্তাম্বুল প্রতিনিধি কল অফ করতে যাচ্ছিল। চোখ তুলে চ্যাটবক্সের jjjkkkkdsdgnng দেখে মর্মোদ্ধার করতে পারল না।
