Home বিয়ে পাগলি বিয়ে পাগলি পর্ব ২

বিয়ে পাগলি পর্ব ২

বিয়ে পাগলি পর্ব ২
নিলুফা নাজমিন নীলা

আমি আড়ষ্ট গলায় বললাম,
“আপনি বুঝি ডিম পছন্দ করেন না?”
শাওন আমার দিকে না তাকিয়েই বলল,
“না ডিম আমার ভালো লাগেনা।”
“ও… তার মানে আপনি মিম ডিম আন্ডার সাথে প্রেম করেছিলেন পরে আপনাকে চ্যাকা দিয়ে চলে গেছে তাই তো বলুন!”
“আমি কখনো প্রেম করিনি ওকে।”
আমি মুখ ভেংচি দিয়ে বললাম,

“ও, তাহলে আপনি মনে হয় খুব রসকষহীন মানুষ।”
শাওন আমার দিকে তাকিয়ে বোকা বোকা মুখ করে বলল,
“আচ্ছা, আপনি যে এত ফালতু পেঁচাল পারেন, আপনার মুখে ব্যথা করে না?”
“ওমা! মুখে ব্যথা করবে কেন? আর কথা বললে যে অনেক উপকার হয়, জানেন না আপনি?শুনেন কথা না বললে মানুষ বলবে মেয়েটা অহংকারী কথা বলেনা।আর ভাষা হলো মনের ভাব প্রকাশের সহজ উপায়।আপনি বলুন আল্লাহ আমাদেরকে মুখ কেন দিয়েছে?অবশ্যই কথা বলার জন্য… ”
শাওন আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,

“আপনার নামটা যেন… কি… ভুলে গেছি।”
আমি মুখে হাত দিয়ে বললাম,
“আল্লাহ গো! এই ব্যাটা দেখি স্মৃতিশক্তিরও সমস্যা আছে। তবে সমস্যা নেই, বিয়ের পরে মাথাটা গাছের সাথে ধাক্কা খাওয়ালে ঠিক হয়ে যাবে।”
শাওন আমার কথা শুনে চোখ বড় বড় করে বলল,
“গাছের সাথে ধাক্কা মানে? কি বলছেন আপনি? মাথা ঠিক আছে আপনার?”
“আরে! আপনি জানেন না? বাংলা সিনেমাতে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে গেলে কোনো কিছুতে মাথা ধাক্কা লাগালেই সব মনে পড়ে যায়।”
আমার কথা শুনে সে বড় করে একটা নিশ্বাস নিলো। তারপর নিচে নামার জন্য পা বাড়াতেই আমি বললাম,

“বিয়েটা করবেন না আমাকে।”
লোকটা কথা না বলে লম্বা লম্বা পা ফেলে নিচে নেমে গেল। আমিও দৌড়ে নিচে গেলাম।লোকটা গিয়ে সবার সামনে দাঁড়ালো। শাওন গিয়ে চুপচাপ বসে পড়ল।
শাওনের বোন মুখ কুঁচকে বলল,
“ভাই, বিয়েটা করিস না। সারাজীবন তোকে হলুদ আর লবণের শরবত খেয়ে বাঁচতে হবে।”
অপর পাশ থেকে তার মা বললেন,
“শাওন, না করে দে। মেয়েটা পাগল আমাদেরকেও পাগল বানিয়ে ছাড়বে।”
এবার আমার বাবা গলা পরিষ্কার করে বললেন,
“শাওন বাবা, তোমার কি আমার মেয়েকে পছন্দ হয়েছে?”
শাওন মাথা নিচু করে ধীরে বলল,
“হ্যাঁ… তবে বিয়ে কবে হবে সেটা না হয় পরে জানিয়ে দেব। আগে সায়রাকে ভালো করে চিনে নিই।”
বাবা হেসে বললেন,

“সমস্যা নেই বাবা, তুমি টাইম নাও।”
ছেলের বাড়ির সবাই শাওনের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকালো। বোঝাই যাচ্ছিল, তারা বিয়েতে রাজি নয়।
আমি তো চোখ বড় বড় করে বিস্ময়ে তাকিয়ে আছি।আমি ভাবতেই পারিনি ছেলেটা বিয়েতে রাজী হবে।আল্লাহ গো আমি তো এই লোকের কথা শুনেও ক্রাশ খাচ্ছি। আমি পাশে বসা সাদা শার্ট পড়া ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আপসোসের ন্যায় মনে মনে বললাম,
“আপনি মনে হয় আমার দয়াল ক্রাশ ছিলেন আপনার ভাই আমার লয়াল ক্রাশ।কষ্ট পাবেন না আপনি তো আমার হবু দেবর।”

পাত্র পক্ষ চলে গেছে যাওয়ার আগে আমার হাতে দুই হাজার টাকা দিয়ে গেছে।আমি সোফার উপর পা তুলে বসে বসে টাকা গুলো দেখছি।মা বাব আমার দিকে কেমন করে তাকিয়ে আছে,
“আচ্ছা তোমরা বলোতো মাত্র দুই হাজার টাকা কেন দিল? একটু বেশি দিতে পারত।”
মা আমার দিকে তাকিয়ে রাগী গলায় বলল,
“তোকে যে দুই হাজার দিয়েছে এটা তোর চৌদ্দ গোষ্ঠীর ভাগ্য বুঝলি।”
এবার বাবাও সাথে যোগ করল,
“সায়রা তুই কি একটু কম কথা বলতে পারিসনা?এই বিয়েটা ভেঙে গেলে আমার মান সম্মান যাবে।তোর জন্য প্রত্যেকটা বিয়ে ভেঙে যায়।”
মা বলল, “তুই এতো লজ্জাহীন কেন রে?”
বাবা মায়ের দিকে ফিরে বলল,

“হবেনা লজ্জাহীন হয়েছে তো তোমার মতোই যেমন মা তেমন তার মেয়ে।”
মা আঙুল তুলে বলল,
“খবরদার উল্টা পাল্টা কথা বলবেনা।”
আমি সরু চোখে মা বাবাকে দেখতে লাগলাম।না বাবা! এখানে আর থাকা সম্ভব না এখন একটা বড় ঝামেলা হবে আমি না থাকাই ভালো।আমি ধীর পায়ে রুমে চলে গেলাম।রুমের দরজা বন্ধ করে দিয়েছি বাহির থেকে মা বাবার ঝগড়ার আওয়াজ আসছে।এটা কোনো ব্যাপার না প্রতিদিন আমাকে নিয়ে একটা ঝগড়া বাড়িতে না হলে আবার আমার পেটের ভাত হজম হয়না।

সোফায় বসা শাওনের ফ্যামিলি মা বাবা ভাই বোন।
শাওনের মা বলল,
“তোকে আমি বললাম সোজা না করে দিতে তবুও কেন না করলি না তুই?মেয়েটাকে একদম পছন্দ হয়নি আমার।”
শাওন এবার সোজা হয়ে বলল,
“কেন পছন্দ হয়নি? মেয়েটা কি পঙ্গু?মেয়েটা কি কালো?মেয়েটা কি নিচু ?তাহলে কি নিয়ে সমস্যা তোমাদের?”
“মেয়েটা একদম পাগল দেখলি না আমাদের সামনে যা মন চায় তাই বলছিল।”
“না মা তোমরা কখনই ওকে পাগল বলতে পারোনা।হ্যা মেয়েটা একটু বেশি কথা বলে মুখে যা আসে তাই বলে কিন্তু পাগল বলা একদম ঠিক না।”
পাশ থেকে শাওনের ভাই শুভ্র বলল,
“হ্যা মা ভাইয়া কিন্তু ঠিকই বলেছে মেয়েটা এমনিতে সব দিকেই সুন্দর। আমার কাছে তো অনেক ভালো লাগছে।”
শাওনের মা রেহেনা বেগম রেগে উঠে গেলেন যাওয়ার আগে বললেন, “তোদের যা মনে চায় তাই কর আমি আর কিছু বলব না।”

শাওনের বোন বলল,
“ভাই তুমি সায়রার সাথে একদিন কোথাও ঘুরতে যাও তাহলেই বুঝবে মেয়েটা কেমন?”
শুভ্র বলল, “ভাইয়া ছাঁদে তোমাকে কি কি বলেছিল মেয়েটা?”
শাওন উঠে গেল বলল,
“থাক তোদের আর শুনতে হবেনা? পাগল হয়ে যেতে পারিস ঠিক নাই।”

আমি (সায়রা) হাতে ফোন নিয়ে বসে আছি বাবার মোবাইল থেকে ছেলের নাম্বার এনেছি চুরি করে।এখন মন চাচ্ছে কল দিতে কিন্তু কি নাকি মনে করে।
কখন থেকে ঘরে একা বসে আছি মুখ বন্ধ করে কারো সাথে কথা বললে হয়ত ভালো লাগত।
দিলাম কল আমার বান্ধবী ঝিনুক এর নাম্বারে।একবার কল হলো কিন্তু ধরলো না আবার দিলাম কল।এবার কল ধরল ওপাশ থেকে কল ধরে ঘুম ঘুম কন্ঠে বলল,
“কে আপনি?”
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম,
“তোর জামাই শালি।”
ঝিনুক আবারো বলল এসব কি বলছেন,
“মেয়ের কন্ঠ আমার জামাই হয় কীভাবে?”
আমি বিরক্ত নিয়ে বললাম, “আমি সায়রা।”
ঝিনুক বলল,

“ও তুই। কেন কল করছিস।এখন কয়টা বাজে দেখছোস রাত বারোটা পার হয়ে যাচ্ছে।আমার ঘুমটা ভেঙে দিলি কেন।”
আমি বললাম, “রাখ তোর ঘুম আগে খবরটা তো শুন আজকে আমাকে দেখতে আসছিল…
আমার কথা শেষ করতে দিল না তার আগেই বলল,
“হ্যা আর বলতে হবে না জানি ওরা তোকে পাগল বলে চলে গেছে তাই তো!”
“তুই ছাগল শালি।ছেলে আমাকে ভিষন পছন্দ করেছে বুঝলি।”
“তুই মনে হয় নে’শা করছিস সায়রা।যা গিয়ে ঘুমা।তোর মতো মেয়েরে কোন মুরগী বিয়া করবে।”
আমি রাগে বললাম,

“অপমান করবি না বলে দিলাম।যা তোকেই সবার প্রথম দাওয়াত দিব। ”
“এবার কল রাখ আর তুই ঘুমা।”বলেই কল কেটে দিল ঝিনুক।
না ঝিনুকের সাথে কথা বলেও ভালো লাগল না।অন্য কারো সাথে কথা বলতে হবে।এবার কল দিলাম বাবার মোবাইল থেকে আনা নাম্বারটায়।কল দিতেও ওপাশ থেকে কল রিসিভ করল।
আমি মিষ্টি গলায় বললাম,
“হ্যালো।”
ওপাশ থেকে বলল,
“কে আপনি।”
আমি বললাম,
“আজ আমাকে পাত্রি হিসেবে দেখে গেলেন আমি সেই মেয়ে।”
ওপাশ থেকে কোনো কথা শুনা গেল না আমি আবার বললাম,

বিয়ে পাগলি পর্ব ১

“আপনাকে প্রথম দেখেই আমার ভিষণ পছন্দ হয়েছে।প্রথম দেখাতেই আমার মন চুরি করেছেন আপনি।”
ওপাশ থেকে শুধু কাশির শব্দ শুনা গেল। বলল,
“ আসতাগফিরুল্লাহ মিন জালিক, থামো মা আমি শাওনের বাবা।”
আমি হতবাক হয়ে গেলাম তাড়াহুড়ো করে বললাম,
“ নাওজুবিল্লাহ তাওবা তাওবা আসতাগফিরুল্লাহ।মাফ করবেন শ্বশুর আব্বা।”
কল কেটে দিলাম। আল্লাহ গো আবারও মিস্টেক এবার আর আমার কপালে মনে হয় বিয়ে নাই।

বিয়ে পাগলি পর্ব ৩