ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১৩
ছায়া
পরের দিন সকাল পুরো তালুকদার বাড়িতে সাজ সাজ রব। টেবিলে টেবিলক্লথ বিছানো ফুলে সাজানো হচ্ছে বসার ঘর।বড় মা মেঝো মা সবাই ব্যস্ত অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতিতে।
রুমের দরজার পাশে পরি দাঁড়িয়ে আছে হাতে একটা কালো শাড়ি হাতে নিয়ে চুপচাপ ইলার দিকে তাকিয়ে বলল,
পরিঃ- এই নে কালো রঙ তো তোর পছন্দ তাই ছোট মা এটা দিয়ে পাঠালো এটা পড়ে আয়।
ইলা ধীরে ধীরে মাথা নাড়লো পরির হাত থেকে শাড়ি নিয়ে ইলা পড়ে আসলো পরি এগিয়ে এসে তার চুল গুছিয়ে দিলো, কানে দুল পরিয়ে দিলো। হালকা সাজিয়ে দিয়ে তারপর মৃদু গলায় বলল,
পরিঃ- তুই আবার আগের মতো হেসে উঠ ইলা প্লিজ। আমি আগের ইলাকে অনেক মিস করি।
ইলা কোনো জবাব দিলো না শুধু চোখ নিচু করে বসে রইলো ড্রেসিং টেবিলের সামনে। আয়নায় নিজেকে দেখছে সাদা ফর্সা ত্বকে কালো শাড়ি,চোখে হালকা কাজল,ঠোঁটে ম্লান লালচে রঙ। দেখতে যেন কোনো পরির মত লাগছে কিন্তু মনে হচ্ছে এই দেহে প্রাণ নেই।
পরিঃ- দেখ একদম রাজকন্যার মতো লাগছে।
ইলা হালকা হাসলো কিন্তু সেই হাসির নিচে যেন শোকের ছায়া।
ইলাঃ- রাজকন্যারা তো সুখে থাকে পরি আমি তো ওদের মতো না।
পরিঃ- আবার শুরু করিস না ইলা আজকের দিনটা ঠিকভাবে শেষ করতে দে।
ইলা চোখ নামিয়ে চুপ করে রইলো আয়নায় নিজের প্রতি ফলন কে দেখছে কিন্তু মনে হচ্ছে আয়নার ভেতরের মেয়েটা অন্য কেউ একটা নিরাবেগ, ক্লান্ত, নিঃশব্দ মেয়ে, যার চোখে আছে শুধু একটাই প্রশ্ন,
“শাওন আপনি কেনো এসেছিলেন আমার লাইফে?
বিকেলে অতিথিরা আসলো ইলার মা দরজায় দাঁড়িয়ে মুখে কৃত্রিম হাসি। সবাই তাদের ভিতরে নিয়ে এসে বসায়। পরি ইলাকে বুঝাচ্ছে যেনো কোনো ঝামেলা না করে।বাইরে থেকে সাবিহা ডাকে দিলো পরিকে
সাবিহাঃ- পরি ইলাকে নিয়ে নিচে আয়।
পরিঃ- আসছি ছোট মা।
পরি হাত ধরে ইলাকে নিয়ে বের হয় ড্রয়িংরুমে আলো ঝলমলে, লোকজন বসেছে, চা-নাস্তা পরিবেশন হচ্ছে। ইলা ধীরে ধীরে নিজের রুম থেকে বের হলো একদম নিঃশব্দে।কালো শাড়ির আঁচলে চুলের একপাশ ঢাকা চোখে কাজল, ঠোঁটে নিঃশব্দতা। সবাই তাকিয়ে রইলো আজকের ইলাকে যেন চেনা যায় না।
ছেলের মা বললো
“মেয়ে খুব শান্ত মনে হয় চোখে একরকম গভীরতা আছে।
ইলার মা হেসে তারাতাড়ি করে উত্তর দিলো
সাবিহাঃ- হ্যাঁ ও খুব কম কথা বলে।
সাবিহার সেই হাসির আড়ালে এক অজানা ভয় যদি আবার কোনো অঘটন হয়। ইলার বাবা নিঃশব্দে মাথা নিচু করলো আর ইলা বসে আছে ঠিক সামনের সোফায়, ইলার চোখের কোণে জল জমে উঠলো কিন্তু সে দ্রুত চোখ মুছে ফেলল।
ইলাকে ছেলের মা প্রশ্ন করলো
“মা পড়াশোনা করছো এখনো?
ইলাঃ- হ্যাঁ করছি।
ইলা আর কিছু বলতে পারল না মনের ভেতর একরাশ অজানা অস্বস্তি নিয়ে বসে আছে।পা ঘামছে ইলার শরীর ঠান্ডা হয়ে আছে। ইলার সামনে সেই ছেলে বসে আছে যে ইলাকে দেখতে এসেছে গায়ের রঙ ফর্সা, গাঢ় নীল পাঞ্জাবি পরা, চুল ছোট ছোট করে কাটা।চোখে এমন এক আত্মবিশ্বাস, যেন কেউ চাইলেই ভেতরটা পড়তে পারবে না। ইলার চোখ এক ঝলক গেল তারপর আর তাকায়নি। ছেলে পক্ষ ইলাকে নিয়ে যেতে বলল পরি ইলাকে নিয়ে রুমে চলে গেলো।
ছেলে তার মার কানে কানে কিছু একটা বলল ছেলের মা সাবিহাকে বলল
” আমার মনে হয় ছেলে মেয়ের আলাদা কথা বলতে দেয়া উচিত তার পরে না হয় আমরা কথা আগাবো।
সাবিহা রাশেদ তালুকদার একটু ভয় পেলো না জানি ইলা এখন কি কান্ড করে বসে তবু্ও সাবিহা পরিকে ডেকে বলল।
পরি মুচকি হেসে ইলার রুমে গিয়ে ইলাকে বলল,
পরিঃ- ওরা বলছে তোর সঙ্গে একটু আলাদা কথা বলতে চায় ছেলে।
ইলাঃ- আলাদা করে আর কি বলবে।
পরিঃ- আয় চল ছাদে যাই ওখানে বাতাসও ভালো।
বিকেলের ম্লান আলোয় তালুকদার বাড়ির ছাদটা আজ যেন অন্যরকম নীরব।পরি ছেলেটাকে আর ইলাকে নিয়ে এসে বলল,
পরিঃ- তোরা কথা বল আমি নিচে যাচ্ছি কিছু লাগলে ডাকিস।
বলে পরি নিচে চলে গেলো চারপাশে হালকা বাতাস বইছে দূরে পাখিরা বাসায় ফিরছে। ছাদের রেলিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ইলা চুপচাপ, ঠোঁট কামড়ে ধরেছে। চোখে কোনো রঙ নেই, মুখে কোনো হাসি নেই, শুধু একটা চাপা অস্থিরতা। ছেলেটা কয়েক সেকেন্ড ইলার দিকে তাকিয়ে থাকল। তারপর মৃদু গলায় বলল
“আপনার কি আমাকে পছন্দ হয়েছে মিস ইলা তালুকদার?
ইলা থমকে গেলো কোনো উত্তর নেই শুধু কাঁপা নিঃশ্বাস ছেলেটা একটু হেসে বলল
“কিছু তো বলুন অন্তত আমি আপনার মতামত জানতে আলাদা কথা বলতে চেয়েছি।
ইলা ধীরে ধীরে মুখ তুলল চোখদুটো স্থির ঠান্ডা হাত দুটো ভাজ করে আকাশের দিকে চেয়ে ইলা বলল
ইলাঃ- যদি বলি ভালো লাগেনি?
ছেলেটার মুখে তখনও হাসি আত্মবিশ্বাসে ভরা দৃষ্টি।
“আগে ঠিক করে দেখুন তো আমায় তারপর না হয় এমন কঠিন উত্তর দিন।
ইলা এবার পুরোপুরি তাকালো ছেলেটাকে দেখতে ছেলেটা লম্বা হয়তো ৫’১১” ফর্সা চামড়া, ছোট করে কাটা চুল, চোখে দৃঢ়তা, কিন্তু মুখে এক অদ্ভুত শান্ত ভাব। একটা নীল পাঞ্জাবি ঘড়ির বেল্টে কালো স্ট্র্যাপ জুতায় ধুলা নেই। কিন্তু ইলার মুখে কোনো ভাব নেই সে ঠান্ডা কণ্ঠে বলল
ইলাঃ- তবুও না আমার আপনাকে পছন্দ হয়নি।
ছেলেটা হেসে ফেললো সেই হাসি ঠোঁট থেকে চোখ পর্যন্ত ছড়িয়ে গেলো।
” কিন্তু আমার তো আপনাকে খুব পছন্দ হয়েছে মিস ইলা।
ইলাঃ- দেখেন আমি ভালো মেয়ে না। আমি অনেক খারাপ বুঝছেন? আমি নেশা করি,অনেক ছেলেদের সাথে প্রেম করেছি,অনেক টাকা উড়াই,আর আজ এই যে শাড়ি পরে আছি,এটা আমি না আমি টিশার্ট, থ্রিকোয়াটার পরি, চুল খোলা রাখি, পাগলের মত ঘুরে বেরাই রাতে ছাদে বসে গান গাই চিল্লায় চিল্লায় ভুতের সাথে কথা বলি। মারামারি করি গালাগালি করি আমার কোনো ভদ্রতা নেই। এক কথায় আমি একটা সাইকো।
এই কথাগুলো ইলার কণ্ঠে ছিলো একরাশ রাগ নিজের প্রতি ঘৃণা, আর অদ্ভুত এক আত্মরক্ষা। যেন আগে থেকেই নিজেকে ছোট করে ফেললে অন্য কেউ আঘাত দিতে পারবে না। কিন্তু ছেলেটা থেমে গেল না বরং তার চোখে আরো নরম একটা আলো ফুটলো।
“আপনি ১০০টা প্রেম করলেও আমার কোনো প্রবলেম নাই। আর আপনি যদি নেশা করেন, টাকা উড়ান, টিশার্ট পরেন তাতেও আমার কিছু যায় আসে না। এখন এইগুলো কমন ব্যাপার আর আমার সাইকো মেয়ে অনেক ভালো লাগে।
ইলা কিছুটা চমকে তাকালো ছেলেটা যেনো একেবারে অচেনা ভাষায় কথা বলছে। এত শান্তভাবে কেউ কখনো ওকে এভাবে করবে ইলা এটা বুঝেনি।
ইলাঃ- মানে?
“মানে আপনি যেমন আছেন ঠিক তেমনভাবেই পছন্দ করেছি। আমি উপরে দেখা খারাপ মানুষ টাকে না আপনার ভেতরে লুকানো ভালো মানুষকে দেখতে পাচ্ছি।
ইলার বুকের ভেতরটা কেমন জানি কেঁপে উঠল চোখ নামিয়ে নিলো। ইলা মনে মনে বলল “এই ছেলে তো নাছোড় বান্দা এমন কথা কেউ বলে? এত কিছু জানার পড়েও বলে বিয়ে করবে।
ছেলেটা হেসে বলল
“আপনি জানেন আমি আপনার চোখে একটা গল্প দেখতে পাচ্ছি এমন গল্প যেটা কেউ বোঝে না কিন্তু আমি বুঝতে চাই।
ইলা কিছু না বলে পাশের দেয়ালে হেলান দিলো মুখে এক ঝলক তাচ্ছিল্য আনল তার পরে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল
ইলাঃ- আরে আপনি তো অনেক কথা বলেন আপনার পেশা কী? মানে আপনি কি করেন?
ছেলেটা এবার গলা পরিষ্কার করে হালকা গম্ভীর গলায় বলল যাক একটু তো আমার প্রতি কিউরিয়াস হলেন এতেই আমি খুশি।
“আমি আর্মিতে জব করি।
ইলার চোখ বড় হয়ে গেলো কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইলো ছেলেটার দিকে । হঠাৎ তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক ভয় কাজ করলো এই মানুষটা মজার ছলে কথা বলছে না, সত্যিই সিরিয়াস। ইলা অবাক হয়ে ছেলেটাকে জিগ্যেস করলো
ইলাঃ- আপনি……আপনি আর্মি?
“হ্যাঁ বাংলাদেশ আর্মি আমি ঢাকাতে পোস্টেড আছি কয়েকদিন এর জন্য ছুটিতে এসেছি। তাই আব্বু আম্মু চায় বিয়ে করে নেই এবার আর আজ প্রথন আপনাকে দেখতে এসেই পছন্দ হয়ে গেলো।
ইলা একটু হাঁপ ছেড়ে বলল
ইলা- তাই তো আপনার চোখে সেই ‘ডিসিপ্লিন’ টা বোঝা যাচ্ছে।
ছেলেটা মুচকি হাসলো চোখ সরিয়ে বলল
“আমি ভাবিনি এমন একটা মেয়েকে দেখবো যে নিজের খারাপ দিকগুলো এত সহজে বলে দেয়। জানেন honesty is the rarest beauty.
ইলা ঠোঁটে কাঁপা হাসি আনল
ইলাঃ- তাহলে আপনি ভুল মানুষকে পছন্দ করেছেন।
ছেলেটা এক পা এগিয়ে ইলার কাছে এসে বলল
“আমি ভুল মানুষকে না সঠিক মানুষকে ঠিক সময়ে চিনেছি।
ইলা কিছু বলতে পারলো না ইলা এক পা পিছিয়ে আসলো ইলার চুলগুলো মুখে উড়ে এল বাতাসের কারণে। সে মুখ ঘুরিয়ে আকাশের দিকে তাকালো সূর্য তখন ডুবে যাচ্ছে কমলা আলো ছাদের কিনার ছুঁয়ে যাচ্ছে।
ছেলেটা আস্তে বলল
“আমি জানি আপনি এখন কাউকে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু যদি কখনো সুযোগ দেন আমি প্রমাণ করতে চাই ভালোবাসা সত্যি অনেক সুন্দর।
ইলা চুপচাপ থাকে বুকের ভেতর কেমন চাপা ধকধকানি মনে হলো কেউ যেন নিঃশব্দে দরজায় কড়া নাড়ছে। ছেলেটা এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থেকে হেসে বলল
“ঠিক আছে আমি নিচে যাচ্ছি আমার যা বলার ছিলো বলে দিয়েছি বাকি কথা আব্বু আম্মু বলে নিবে। তবে একটা কথা বলে যাচ্ছি বিয়ে আমি আপনাকেই করবো সেটা যেভাবেই হক।
ইলা কিছু বলল না শুধু ধীরে করে মাথা নিচু করল। ছেলেটা চলে গেলে ছাদের বাতাসে হালকা নিঃশব্দতা ফিরে এলো।ইলা ছাদে দারিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে বলল
ইলাঃ- আমি যাকে চাই সে বাদ দিয়ে আমাকে সবাই চায় এ কেমন নিয়তি খোদা তোমার???
চোখে মিশ্র অনুভূতির রাগ আর কোথাও একটা হারিয়ে যাওয়া উষ্ণতা। ইলা মনে মনে বলল,
ইলাঃ- এই ছেলেকে এত কিছু বলার পরেও কিভাবে বলে আমাকে বিয়ে করবে বেডায় কি সাইকো নাকি????
ইলা ছাদ থেকে নিচে নেমে নিজের রুমে চলে গেলো রুমে বসে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো। ইলা বুকে ঝড় চলছে সামনে কি অপেক্ষা করছে সে জানে না।
ড্রয়িং রুমে সবাই বসে আছে ছেলেটা তার বাবা মায়ের পাশে এসে বসলো, অন্য পাশে তালুকদার বাড়ির বড় জনেরা বসে আছে। রাশেদ তালুকদার ভয়ে আছে এই ভেবে তার মেয়ে আবার কোনো ঘটন করে বসেনি তো।
ছেলে মৃদু হেসে তার বাবা মা কে পরিস্কার করে বলল তার মেয়ে পছন্দ হয়েছে আর সে বিয়ে করলে এখানেই করবে আর অন্য কোথাও বিয়ে করবে না। ছেলে বাবা মা ছেলে কথা শুনে “ আলহামদুলিল্লাহ “ বলল। এবার ছেলের বাবা ঠিক হয়ে বসে গলা পরিস্কার করে বলল
“ তালুকদার সাহেব আজকের আড্ডাটা আমাদের ভালো লেগেছে। আপনারা সবাই অনেক আন্তরিক, আর আমার ছেলের ইলাকে অনেক পছন্দ হয়েছে।
এবার ঘরের নিরবতা ভেঙে গেলো, সাবিহা চায়ের কাপ টেবিলে রেখে মনে মনে “আলহামদুলিল্লাহ “ পড়লো পরি এক পাশে দাঁড়িয়ে সব শুনছে। ছেলের মা মৃদু হেসে বললেন
“ আমার ও মেয়েটাকে খুব পছন্দ হয়েছে মেয়ে ভদ্র, চুপচাপ, আজকাল এমন মেয়ে পাওয়া যায় না।
রাশেদঃ- আপনাদের আমার মেয়েকে পছন্দ হয়েছে জেনে খুশি হলাম। আমাদের ও আপনার ছেলেকে পছন্দ হয়েছে।
ছেলের বাবা এবার সোজাসাপ্টা বললেন
“যেহেতু আপনাদের ও আমাদের ছেলেকে পছন্দ তাহলে আমি ভাবছিলাম আপনাদের যদি কোনো আপত্তি না থাকে তাহলে একটা ভালো দিন দেখে বিয়ে ঠিক করে ফেলি। যেহেতু আমার ছেলেও রাজি তাই আমরা সময় নষ্ট করতে চাই না।
সাবিহা এই মূহুর্তে দোটানায় পড়লেন মুখে হাসি রাখলেও চোখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট কখন জানি ইলা বম ব্লাস করে। সাবিহা একটু দ্বিধায় বললেন
সাবিহাঃ- আসলে আপনারাই বলুন কবে ডেট করলে ভালো হবে আপনাদের কাছে???
ছেলের মা মৃদু স্বরে বললেন,
“আমরা চাই তাড়াতাড়ি হোক ছেলেটার আবার ছুটি শেষ হয়ে গেলে কবে আসে না আসে তার আগেই যদি বিয়েটা হয়ে যায় তো ভালো হয়। আজকের দিনে ভালো মেয়েরা তো সহজে মেলে না।
ঘরে হালকা চাপা গুঞ্জন রাশেদের বড় ভাই, করিমদ্ উদ্দিন তালুকদার, একটু গম্ভীর মুখে সামনে ঝুঁকে বললেন,
করিমঃ- দেখুন আপনাদের আন্তরিকতা আমরা বুঝতে পারছি। তবে এখনই কিছু বলাটা হয়তো ঠিক হবে না। আমাদের মেয়ের মতামতও জানা দরকার।
ছেলের বাবা মাথা নাড়িয়ে বললেন,
“অবশ্যই সেটা তো জরুরি তবে আমরা আশা রাখছি, মেয়ে রাজি হবে কারণ আমাদের ছেলেটা সিরিয়াস।
সাবিহা কষ্টে হেসে উঠলেন,
সাবিহাঃ- আমরা পরে আপনাদের ফোনে জানাবো ঠিক আছে একটু সময় দিন।
ছেলের মা মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন,
“ঠিক আছে আমরা অপেক্ষা করবো আপনারা ভাবুন ভালো করে তারপর আমাদের জানান।
এই বলেই তারা উঠলেন সবাই দরজার দিকে এগোচ্ছে,কিন্তু ছেলেটা একবার পেছনে তাকালো সিঁড়ির ধারে দাঁড়িয়ে আছে ইলা। মুখে কোনো রঙ নেই কিন্তু চোখদুটো স্থির। ছেলেটা তাকিয়েই রইল সেই দৃষ্টিতে যেন একটুকু প্রতিজ্ঞা। রাশেদ তালুকদার গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে এলেন অতিথিদের। গাড়ি চলে গেলো ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা।পরি ধীরে দরজা বন্ধ করে ইলার দিকে তাকালো,
পরিঃ- তুই শুনলি তো ওরা তো বিয়ের দিন ঠিক করতে চায়।
ইলাঃ- ওরা চায় কিন্তু আমি কি চাই সেটা কেউ জানতে চায় না।
পরি চোখ নিচু করে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল কিছু বলল না কি বা বলবে। তবু্ও বুঝানোর চেষ্টা করলো
পরিঃ- যা হওয়ার হয়েছে ঐ সব ভুলে যা আর এই ছেলে সব দিক দিয়েই সুন্দর।
সাবিহা নিচে বসে নিজের মাথা দুই হাতে চেপে ধরলেন।রাশেদ নিঃশব্দে বললেন,
রাশেদঃ- ছেলেটা খারাপ না কিন্তু আমি বুঝতে পারছি ইলা মানসিকভাবে এখনো প্রস্তুত কি না।
সাবিহা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ১২
সাবিহাঃ- সেটাই কথা কিন্তু ছেলে ছেলের পরিবার ভালো পেশায় আর্মি অফিসার। জানি না রাশেদ এই সুযোগটা হারানো ঠিক হবে কিনা।
রাশেদঃ- চলো আগে মেয়ের সঙ্গে কথা বলি ওর মুখের কথা না শুনে কোনো সিদ্ধান্ত নেবো না।
রাত গভীর হয় ইলা বিছানায় শুয়ে আছে জানালার বাইরে বৃষ্টি পড়ছে তার মনের ভেতর শব্দ সেই ছেলেটার কণ্ঠ, “আমি আপনাকেই বিয়ে করবো” ইলা চোখ বন্ধ করল।বৃষ্টি জানালায় টুপটাপ পড়ছে, ঘরের ভেতর নিঃশব্দ অন্ধকারে এক নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা হচ্ছে।
