ভয়েজের মায়াজাল শেষ পর্ব
ছায়া
সিনেমা হল থেকে ফেরার পথে…..
গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে আছে আরিয়ান শিরায় শিরায় টানটান উত্তেজনা। পাশের সিটে ইলা জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে, তার ফর্সা গালে রাতের আলো নাচছে।ইলা লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে বলল
ইলাঃ- ভয়েজ কিং, এই রাস্তায় তো একদম লোক নেই গাড়ি কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?
আরিয়ান দুষ্টুমি ভরা হাসি দিয়ে বলল
আরিয়ানঃ- যেখানে কেউ আমাদের ডিস্টার্ব করতে পারবে না ইলাফুল। আজ তো আব্বু-আম্মুর সিআইডি নেটওয়ার্ক থেকে বেরিয়ে এসেছি।
গাড়ি থামল এক নির্জন লেকের পাশে। চারদিকে জোনাকির আলো, পানিতে চাঁদের প্রতিচ্ছবি। ঠিক তখনই…ইলার ফোন বেজে উঠল ইলার ইলা ফোন রিসিভ করতেই
ইলিয়ানাঃ- মাম্মাম পাপা
ইলিয়ানার ভিডিও কল, ইলা তাড়াতাড়ি ফোনটা আরিয়ানের দিকে ফেরাল।
ইলিয়ানা ফোন স্ক্রিনে ভ্রু কুঁচকে আরিয়ানাকে বলল
ইলিয়ানাঃ- পাপা তোমরা কোথায়?আমি তো বাসায় তোমাদের খুঁজে পাচ্ছি না।
আরিয়ান নাটকীয় ভাবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল
আরিয়ানঃ- মাই লিটেল সিআইডি এজেন্ট, আমরা পেট্রোল পাম্পে আছি। গাড়ির তেল ফুরিয়েছে।
ইলা আরিয়ানের এমন অদ্ভুত মিথ্যা কথা শুনে লজ্জায় লাল হয়ে গেলো তবুও ধরা না পড়ার জন্য বলল
ইলাঃ- হ্যাঁ মাম্মাম আমরা এখনই…”
ইলার কথা শেষ না হতেই ইলিয়ানা সন্দেহভরা চোখে তাকিয়ে বলল
ইলিয়ানাঃ- পাপার পেছনে তো পানি আর চাঁদ দেখা যাচ্ছে তোমরা লেকে গেছো না তো?
ইলিয়ানার কথা শুনে আরিয়ান হঠাৎ কাশি দিয়ে মিথ্যা ঢাকতে চাইলো
আরিয়ানঃ- অ্যাঁ… না না এটা তো… পাম্পের লাইটের রিফ্লেকশন প্রিন্সেস
ইলা তাড়াহুড়ো করে বলল
ইলাঃ- মাম্মাম তোমার শাহরিয়ার মামাকে ফোনটা দাও তো।
ইলিয়ানা ক্যামেরা ঘুরিয়ে দিল শাহরিয়ার এর দিকে যে মুচকি হেসে বলল
শাহরিয়ারঃ- বনু তোদের মিসিং রিপোর্ট করতে হবে নাকি?
আরিয়ান গম্ভীর হয়ে শাহরিয়ারকে বলল
আরিয়ানঃ- দারাও আমি বাড়ি যাই তারপরে তোমাদের ব্যবস্থা করতেছি।
ঠিক তখনই ফ্রেমে ঢুকে পড়ল নোহা, মুখে পপকর্ন নিয়ে বলল,
নোহাঃ- কোথায় আমাদের প্রেম করার কথা তা না এখন দেখি আমার ভাই ভাবি প্রেম করে বেড়াচ্ছে
ফোনের স্ক্রিনে হঠাৎ সবাই হাসাহাসি শুরু করল। ইলা লজ্জায় আরিয়ানের হাত ধরে বলল
ইলাঃ- চলুন প্লিজ বাড়ি এবার ফোন কেটে দিন।
আরিয়ান ফোন কেটে দিল, তারপর ড্রাইভিং সিট থেকে নেমে ইলার দরজার পাশে এসে দাঁড়াল।
আরিয়ানঃ- এবার তো কেউ ডিস্টার্ব করতে পারবে না ইলাফুল
ইলা নিচু গলায় বলল
ইলাঃ- আচ্ছা ভয়েজ কিং,এই লেকের পাড়ে যদি কেউ আমাদের দেখে ফেলে?
আরিয়ান হেসে উঠল
আরিয়ানঃ- তাহলে বলব আমার বউকে রোমান্স শেখাচ্ছি দোষের কিছু আছে?
ইলার হাত ধরে আরিয়ান তাকে গাড়ি থেকে নামালো।পা ঠেকতেই নরম ঘাসে ইলার পায়ে শিহরণ উঠল।
ইলাঃ- আহ এতো শীতল
আরিয়ান দুষ্টুমি ভরে বলল
আরিয়ানঃ- শুধু ঘাস নয় আমার হাতও কিন্তু ঠান্ডা।
বলেই সে ইলার গালে স্পর্শ করলো। ইলা তড়িঘড়ি পিছিয়ে গেল
ইলাঃ- অ্যাঁ এতো ঠান্ডা হাত রক্তচাপ কমেছে নাকি?
আরিয়ান হেসে উঠল
আরিয়ানঃ- না ইলাফুল তোমার জন্য উত্তেজনায় জ্বর জ্বর লাগছে
হঠাৎ একটা পেঁচার ডাক। ইলা ভয়ে আরিয়ানের বাহু জড়িয়ে ধরে
ইলাঃ- উফ এটা কি শব্দ?
আরিয়ান তাকে টাইট করে ধরে ফিসফিস করে বলল
আরিয়ানঃ- শুধু পেঁচা দেখে ভয় পাচ্ছো কিন্তু তোমার এটা ভুলে গেছো বাদ দাও চাঁদ দেখো কত সুন্দর।
ইলা মাথা নিচু করে বলল
ইলাঃ- আপনি আরো বেশি…
দূর থেকে গান বাজে “তুমি যে আমার অন্ধকারে আলো”
ইলা চমকে উঠলো
ইলাঃ- এ আবার কে গাইছে?
আরিয়ান গালে হাত দিয়ে বলল
আরিয়ানঃ- ওটা আমার ফোনের রিংটোন রায়েদ কল দিছে।
ইলা অবাক হয়ে পিছিয়ে যায়।আরিয়ান তাড়াতাড়ি ফোন রিজেক্ট করে
আরিয়ানঃ- না না আজকে কেউ আমাদের থামাতে পারবে না
হঠাৎ ইলার ফোনে মেসেজের শব্দ, ইলা ফোন চেক করে হতাশ হালিমার মেসেজ লিখেছে
হালিমাঃ- ইলা তোমাদের গাড়ির হেডলাইট জ্বলে আছে যতটুকু পেট্রোল আছে সেটাও ফুরিয়ে যাবে তো।
আরিয়ান মুখে হাত দিয়ে বিরবির করে বলল
আরিয়ানঃ- ওই ক্ষ্যাপা গুলা আবার ট্র্যাকিং অ্যাপ চালু রেখেছে নাকি?
ঠিক তখনই গাড়ির অ্যালার্ম বেজে উঠল
বিইপ-বিইপ-বিইপ ইলা বুঝতে পারলো এরা আসে পাসেই আছেই সবাই। ইলা হাসতে হাসতে বলল
ইলাঃ- এবার পালাই?নাহলে সবাই এসে হাজির হবে।
আরিয়ান গাড়ির দিকে ছুটে যেতে যেতে বলে
আরিয়ানঃ- আমার জীবনের রোমান্স প্ল্যানিং ধ্বংস করলে এই টেকনোলজি।
গাড়ি স্টার্ট দিতেই আরিয়ান দেখল লুকিং গ্লাসে একটা বাইকের আলো দ্রুত এগিয়ে আসছে। ওটা যে শাহরিয়ার আর রায়েদ, সেটা বুঝতে আরিয়ানের বাকি রইল না। ও দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
আরিয়ানঃ- এরা কি আমাকে শান্তিতে একটা শ্বাসও নিতে দেবে না? মনে হচ্ছে যেন আমি নিজের বউকে নিয়ে নয়, বড় কোনো ব্যাংক ডাকাতি করে পালাচ্ছি।
ইলা সিটের সাথে লেপ্টে বসে হাসতে হাসতে বলল,
ইলাঃ- আপনার সিআইডি বাহিনী কিন্তু বেশ চৌকস ভয়েজ কিং। এবার হাল ছেড়ে দিন।
আরিয়ান মুচকি হেসে ইলার দিকে একবার তাকাল। তারপর হঠাৎ গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিল।ইলা চমকে উঠে হ্যান্ডেল ধরল।
ইলাঃ- আরে জোরে চালাচ্ছেন কেন?ওরা তো আমাদেরই লোক।
আরিয়ানঃ- ওরা আমাদের লোক হতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তটা শুধু আমাদের। আজ হার মানব না ইলাফুল।
কিছুক্ষণ হাইস্পিডে গাড়ি চালানোর পর আরিয়ান হঠাৎ একটা সরু গলির ভেতরে গাড়ি ঢুকিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিল।হেডলাইট নিভিয়ে দিতেই চারপাশ ঘুটঘুটে অন্ধকার।পেছন দিয়ে শাহরিয়ারের বাইক শোঁ শোঁ করে মেইন রাস্তা দিয়ে বেরিয়ে গেল। ইলা নিঃশ্বাস বন্ধ করে বসে ছিল, বাইকের শব্দ দূরে যেতেই সে শব্দ করে হাসল।
ইলাঃ- আপনি তো দেখি আস্ত একটা চোর আমার ভাইয়াদের এভাবে ফাঁকি দিলেন?
আরিয়ান অন্ধকারের মধ্যেই ইলার খুব কাছে এগিয়ে এল। গাড়ির ভেতরে এসির মৃদু গুঞ্জন আর আরিয়ানের পারফিউমের কড়া ঘ্রাণ ইলার ইন্দ্রিয় অবশ করে দিচ্ছে। আরিয়ান ইলার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
আরিয়ানঃ- চোর তো আমি আগে থেকেই ইলাফুল তোমার মনের চোর। আজ রাতে কোনো টেকনোলজি, আমাদের মাঝে নেই।
ইলার হার্টবিট বেড়ে গেল।সে আমতা আমতা করে বলল,
ইলাঃ- কিন্তু বাড়ি ফিরলে তো জবাব দিতে হবে…
আরিয়ান ইলার চিবুক ধরে নিজের দিকে ফেরাল। চাঁদের ক্ষীণ আলো কাঁচ ভেদ করে ইলার ঠোঁটে এসে পড়েছে। আরিয়ান ধীর গলায় বলল,
আরিয়ানঃ- জবাব দেওয়ার জন্য তো সারাজীবন পড়ে আছে। আজ শুধু এই নীরবতাটুকু আমার হোক।
ঠিক সেই মুহূর্তে আরিয়ানের ফোনে আবার ভাইব্রেশন শুরু হলো। আরিয়ান বিরক্ত হয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল এবার ভিডিও কল নয়, ডিরেক্ট মেসেজ এসেছে তার আব্বুর পক্ষ থেকে।
মেসেজে লেখা
“আরিয়ান তোমার লোকেশন বলছে তুমি মেইন রোড ছেড়ে গলিতে ঢুকেছ। বাড়ির গেট কিন্তু ১২টায় লক হয়ে যাবে।এখনো হাতে ১৫ মিনিট আছে।
ইতি-
তোমার হেড সিআইডি”
ইলা মেসেজটা পড়ে হাসতে হাসতে প্রায় সিট থেকে পড়ে যাওয়ার অবস্থা। সে হাসতে হাসতেই বলল,
ইলাঃ- আব্বু তো আপনার চেয়েও বড় জাদুকর এবার কী করবেন ভয়েজ কিং?
আরিয়ান কপালে হাত দিয়ে সিটে হেলান দিল। এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
আরিয়ানঃ- বুঝলাম,এই জন্মে আমার রোমান্স কপালে নেই। সব কটা রোমান্স কিলার একজোট হয়েছে।
ইলা আলতো করে আরিয়ানের কাঁধে মাথা রাখল। মিষ্টি করে হেসে বলল,
ইলাঃ- থাক না এই খুনসুটিগুলোই তো আমাদের ভালোবাসার আসল মায়াজাল। চলুন,নাহলে আজ রাতে হয়তো গাড়িতেই ঘুমাতে হবে।
আরিয়ান ইলার কপালে একটা গভীর চুমু খেয়ে গাড়ি ব্যাক গিয়ারে নিল মৃদুস্বরে বলল,
আরিয়ানঃ- বাড়ি চল ইলাফুল তবে মনে রেখো, আজকের এই অপূর্ণ রোমান্সের বদলা আমি তুলেই ছাড়ব!
গাড়ি যখন বাড়ির গেটে পৌঁছাল,দেখল পুরো বাহিনী শাহরিয়ার, নোহা, রায়েদ ,হালিমা,আদিব,পরি এমনকি পিচ্চি ইলিয়ানাও গেটের সামনে দাঁড়িয়ে তালি দিচ্ছে। আরিয়ান গাড়ি থেকে নেমেই গম্ভীর হওয়ার ভান করে বলল,
আরিয়ানঃ- তোমরা কি সবাই মিলে আমাকে হার্ট অ্যাটাক করানোর কন্টাক্ট নিয়েছ?
ইলিয়ানা দৌড়ে এসে আরিয়ানকে জড়িয়ে ধরল।
ইলিয়ানাঃ- পাপা পেট্রোল পাম্পে কি চাঁদ ওঠে? আমরা তো ড্রোন দিয়ে তোমাদের লেকের ভিডিও দেখে ফেলেছি
আরিয়ান আকাশ পানে তাকিয়ে বিড়বিড় করল,
আরিয়ানঃ- ওহ খোদা এই যুগে প্রেম করা আর ফাঁসির দড়িতে ঝোলা একই কথা
সবাই হো হো করে হেসে উঠল ইলা আড়চোখে আরিয়ানের অসহায় মুখটা দেখে মনে মনে ভাবল এই দুষ্টুমি, এই শাসন আর এই একরাশ মানুষের ভালোবাসার মাঝেই তো তার “ভয়েজ কিং” এর আসল মায়াজাল লুকিয়ে আছে।
সব প্লান ভেস্তে যাওয়ার পরে আরিয়ান আর ইলা যখন বাড়ি ঢুকল, তখন ড্রয়িংরুমে মেহেরাব খান গম্ভীর মুখে সোফায় বসে ছিলো। তাকে ঘিরে বাকি সবাই যেন কোনো একটা গোপন মিটিং করছে।আরিয়ানকে দেখেই মেহেরাব খান গলা পরিষ্কার করে বললেন
মেহেরাবঃ- শোনো সবাই কাল শাহরিয়ার আর নোহার বিয়ে।বাড়িতে মেহমান ঠাসা। তাই আজ রাতের জন্য একটা বিশেষ নিয়ম।
সবাই উৎসুক হয়ে তাকিয়ে রইল।মেহেরাব খান মুচকি হেসে ঘোষণা করলেন
মেহেরাবঃ- আজ রাতে ছেলেরা সব এক রুমে থাকবে, আর মেয়েরা সব অন্য এক রুমে।কোনো কাপল আজ একসাথে থাকতে পারবে না।বিয়ের আগে কোনো দেখা সাক্ষাৎ নেই।
একথা শুনেই রায়েদ যেন আকাশ থেকে পড়ল।কারণ আজ সন্ধ্যায় এসে এসেছে এখনো হালিমার সাথে দুইটা কথা বলতে পারেনি তার উপরে এই রুলস। সে হালিমার হাত ছেড়ে দিয়ে করুণ মুখে বলল
রায়েদঃ- বলেন কি আংকেল? এতদিন পর দেশে আসলাম বউকে নিয়ে একটু শান্তিতে দু-দণ্ড কথা বলব, তা না এখন দেখি সেই ব্যাচেলর লাইফের মত আমাকেও ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ছেলেদের রুমে পাঠানো হচ্ছে? আমার কপালটাই খারাপ।
আরিয়ান এতক্ষণ চুপ ছিল, কিন্তু রায়েদের কথা শুনে সে আর থাকতে পারল না। সে ইলার দিকে একবার তাকালো, ইলা তখন হাসতে হাসতে শেষ। আরিয়ান নাটকীয় ভঙ্গিতে কপালে হাত দিয়ে বলল—ল
আরিয়ানঃ- আরে রায়েদ তোমার তো তাও কম। আমার কথা চিন্তা করো ৮ বছর পর আজ লেকের পাড়ে একটু রোমান্সের পিচ ঢালাই করতে গিয়েছিলাম, সেখানেও তোরা ড্রোন পাঠিয়ে সিআইডিগিরি করলি। আর এখন খোদ ‘চিফ জাস্টিস’ রায় দিয়ে দিলেন যে আমাকে আজ রাতে শাহরিয়ারের নাক ডাকার শব্দ শুনে ঘুমাতে হবে? ইলাফুল দেখে নাও তোমার স্বামী এই করুণ অবস্থা!
পুরো ঘরে হাসির রোল পড়ে গেল। শাহরিয়ার আরিয়ানের কাঁধে হাত রেখে হাসতে হাসতে বলল
শাহরিয়ারঃ- আহা ভাইয়া দুঃখ করিও না। আজ রাতটা না হয় আমার নাক ডাকার মিউজিকই তোমার ‘ভয়েজ কিং’ এর কনসার্ট হবে।
পরের দিন….
সকাল থেকেই বাড়িটা যেন আলোর উৎসবে মেতেছে।একদিকে শাহরিয়ার আর নোহার নতুন জীবনের শুরু, অন্যদিকে আরিয়ান আর ইলার সেই পুরনো ভালোবাসাকে নতুন করে পূর্ণতা দেওয়ার আয়োজন করেছে মেহেরাব খান যার কারণে এত নিয়ম ছিলো।
আরিয়ান আজ একটা সাদা শেরওয়ানি পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখছিল। আর পাশের রুমে ইলা সেজেছে লাল টুকটুকে শাড়িতে। আট বছর আগে সে যখন কনে সেজেছিল, তখন চোখে ছিল জল আর অনিশ্চয়তা। কিন্তু আজ তার চোখের কোণে শুধু আনন্দের ঝিলিক। আজ ভাইয়ের বিয়েতে আবার নতুন করে সাজতে চেয়েছিলো কারণ ইলা আরিয়ান কে তেমন ভাবে কাছে পায়নি।
একটু পরে মেহেরাব খান ঘোষণা দিলো আজ শাহরিয়ার আর নোহার সাথে আরিয়ান আর ইলার ও বিয়ে হবে।যেটা শুনে ইলা আরিয়ান অবাক হয়ে যায়।
বিয়ের আসরে বসে আছে শাহরিয়ার আর নোহা যাদের চোখে নতুন স্বপ্নের হাতছানি। অন্যদিকে আরিয়ান আর ইলা যাদের চোখে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান।
কাজি সাহেব যখন শাহরিয়ার কে বললেন “ তুমি কি রাজি আছো?
শাহরিয়ানঃ- আমি কবুল করছি, সুখে দুঃখে, হাসিতে-কান্নায়… সবসময় তোমার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে।
অন্যদিকে
নোহাঃ- আমিও কবুল করছি শুধু ভালো সময়ের জন্য না… খারাপ সময়েও তোমার শক্তি হয়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে।
এবার অন্য দুই দম্পতির বিয়ের পালা
কাজী সাহেব যখন বললেন, “বলুন কবুল”, আরিয়ান ইলার হাতটা শক্ত করে ধরল।
আরিয়ানঃ- কবুল… এই ৮ বছরের প্রতিটা সেকেন্ডের বিরহের বিনিময়ে তোমাকে আজীবনের জন্য কবুল ইলাফুল।
ইলা নিচু স্বরে ভেজা গলায় বলল
ইলাঃ- কবুল আমার ভয়েজ কিংকে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কবুল।
চারদিকে গোলাপ জলের ছিটে আর শুভকামনার বৃষ্টি শুরু হলো। ইলিয়ানা এসে দুজনের মাঝখানে বসে খুশিতে হাততালি দিয়ে উঠল
ইলিয়ানাঃ- পাপা, মাম্মাম এবার কিন্তু আর পেট্রোল পাম্পের মিথ্যা বলা যাবে না এখন যা মন চায় করতে পারো তোমরা আমি আর ডিস্টার্ব করবো না আর এবার থেকে আমি তোমাদের মাঝখানে ঘুমাব।
আরিয়ান আর ইলা একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল। আট বছরের দীর্ঘ মরুভূমি পাড়ি দিয়ে আজ তারা এমন এক উপকূলে পৌঁছেছে, যেখানে মায়াজাল আছে, কিন্তু সেই জালে কোনো কষ্ট নেই আছে শুধু বুকভরা ভালোবাসা।
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ের সানাই বাজতে শুরু করেছে।চারদিকে আনন্দের মাঝেও এক বিষণ্ণ সুর।শাহরিয়ার আর নোহার নতুন জীবনের যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ থেকেই।মেহেরাব খান তৃপ্তির হাসি নিয়ে গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। আজ তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, আদরের মেয়ে নোহাকে যোগ্য মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন। মেহেরাব খান শাহরিয়ারের হাত ধরে আবেগপ্রবণ হয়ে বললেন
মেহেরাবঃ- শাহরিয়ার বাবা নোহা খুব চঞ্চল ছিলো কিন্তু এই ঘটনা তাকে চুপ করিয়ে দিয়েছে আমি চাই ও আবার আগের মত হাসুক। ওকে আগলে রাখার দায়িত্ব এখন তোমার।
শাহরিয়ার মাথা নিচু করে বিনয়ের সাথে বলল
শাহরিয়ারঃ- আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন আব্বু।নোহা শুধু আমার স্ত্রী নয়, ও আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার। আর এই উপহার আমি খুব যত্ন করে আমার কাছে রেখে দিবো।
সবার থেকে বিদায় নিয়ে গাড়ির পেছনের সিটে নোহা আর শাহরিয়ার বসলো নোহা জানালার বাইরে তাকিয়ে ইলা আর আরিয়ানের দিকে হাত নাড়ছে। ইলার চোখে পানি, কারণ এই বাড়িতে তাদের ছাড়া ফাকা লাগবে। আর শাহরিয়ারের সাথে তার আত্মার টান তৈরি হয়ে গেছে।
আরিয়ান ইলার কাঁধে হাত রেখে শাহরিয়ারকে উদ্দেশ্য করে চেঁচিয়ে বলল
আরিয়ানঃ- কর্নেল দিনাজপুর গিয়ে আমাদের ভুলে যাবে না তো? উত্তরবঙ্গের লিচু হওয়ার আগেই আমরা আসছি রেডি থেকো।
শাহরিয়ার হেসে জবাব দিল
শাহরিয়ারঃ- লিচু তো পরের কথা, আগে তুই আপনার ‘মায়াজাল’ সামলান বস
নোহা যদি দিনাজপুরে গিয়ে আপনাদের মিস করে কান্নাকাটি শুরু করে, তবে পরের ফ্লাইট ধরে সোজা শশুর বাড়ি চলে আসবেন।
গাড়ি স্টার্ট নিতেই রায়েদ পেছন থেকে চিৎকার করে বলল
রায়েদঃ- ওহে বর যাত্রীগণ রাস্তা একদম ক্লিয়ার সাবধানে যাবেন। আর শাহরিয়ার, দিনাজপুরের ঠান্ডা কিন্তু বেশ কড়া, সাবধানে এই প্রথম বাবার বাড়ি যাচ্ছো বলে কথা।
গাড়িটা ধীরে ধীরে দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল। রাশেদ তালুকদার ড্রাইভিং সিটের পাশ থেকে হাত নেড়ে বিদায় জানালেন। সবকিছু এত সুন্দর আর সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হলো যে মনে হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতে এই গল্পটা সাজিয়েছেন।
বাড়ির সামনে এখন শুধু আরিয়ান, ইলা, মেহেরাব খান,নাফিযা বেগম,ইলিয়ানা আর নেহা নেহার জামাক। আরিয়ান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইলার দিকে তাকিয়ে বলল
আরিয়ানঃ- যাক অবশেষে সিআইডি বাহিনীর বড় একটা অংশ বিদায় হলো। এবার কি আমরা একটু নিজেদের মত সময় পাব ইলাফুল?
ইলা চোখের জল মুছে দুষ্টুমি করে বলল
ইলাঃ- কেন ছোট সিআইডি এজেন্ট ইলিয়ানা তো এখনো ঘরের ভেতরেই আছে।সে তো আরও বিপদজনক।
আরিয়ান কপালে হাত দিয়ে বলল
আরিয়ানঃ- উফ ভুলেই গিয়েছিলাম। আমার জীবনের রোমান্স ডিকশনারিতে ‘শান্তি’ শব্দটা মনে হয় ভুলবশত প্রিন্টই হয়নি।
নেহার জামাই আর নেহা একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসছে।
দিনাজপুরের পথে শাহরিয়ার আর নোহা যখন নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছে, তখন এদিকে আরিয়ান আর ইলাও তাদের আট বছরের হারানো সময়গুলো নতুন করে সাজিয়ে নেওয়ার সংকল্প করছে।
ভালোবাসার এই মায়াজালে এখন আর কোনো বিচ্ছেদ নেই আছে শুধু এক সুন্দর আগামী।
Time Skip….
৮ মাস পর…
সকালবেলার মিষ্টি রোদ আরিয়ানের বেডরুমে এসে পড়েছে।ইলা বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছে,তার চেহারায় মাতৃত্বের এক অপূর্ব আভা। ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ইলা এখন আরিয়ানের চোখের মণি।আরিয়ান যেন ইলার ছায়ার মতো হয়ে গেছে।
আরিয়ান হাতে ফ্রুট সালাদ আর এক গ্লাস দুধ নিয়ে রুমে ঢুকল। ইলা মুখ কুঁচকে বলল,
ইলাঃ- আবার সেই দুধ? আমার খেতে একদম ভালো লাগছে না ভয়েজ কিং।
আরিয়ান খাটের একপাশে বসে চামচ দিয়ে ইলাকে খাইয়ে দিতে দিতে বলল,
আরিয়ানঃ- কোনো অজুহাত চলবে না ইলাফুল।এটা আমার হবু ‘লিটল ভয়েজ কিং’-এর জন্য।আর ডাক্তার কী বলেছে মনে আছে? একদম স্ট্রেস নেওয়া যাবে না, শুধু খাওয়া আর বিশ্রাম।
ইলা হাসল আরিয়ান ইদানিং সব সময় ইলার পিছে ব্যয় করে। এমনকি ইলার পায়ে স্যান্ডেল পরিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে চুল আঁচড়ে দেওয়া সব দায়িত্ব সে নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।
আরিয়ান আলতো করে ইলার পেটে হাত রেখে ফিসফিস করে বলল,
আরিয়ানঃ- ভেতরে কে আছ জানিনা, তবে তাড়াতাড়ি আসো বাবা। তোমার আম্মু আমাকে খুব জ্বালানো শুরু করেছে!তোমার বোন এর সময় আমি সেই মূহুর্তে ছিলাম না কিন্তু এবার আমি সব প্রথম থেকে দেখতে চাই।
ইলা আরিয়ানের কানে টেনে দিয়ে বলল,
ইলাঃ- আমি জ্বালাচ্ছি? আপনিই তো সারা রাত ঘুমোতে দেন না, গান শুনিয়ে আর গল্প বলে অস্থির করে রাখেন।
আরিয়ান হেসে ইলার কপালে একটা দীর্ঘ চুমু খেল।এই ৮ মাস যেন তাদের জীবনের সবচেয়ে সুখের সময়।
অন্যদিকে তালুকদার বাড়িতে সবাই অনেক খুশি তাদের দুই ছেলে শাহরিয়া ও রায়েদ কে নিয়ে। রাশেদ তালুকদার ছেলে পেয়ে অনেক ভালো সময় পার করছে।
নোহা তার ভালোবাসার মানুষকে পেয়ে সুখে দিন কাটাচ্ছে। বেবি নেয়ার জন্য ট্রাই করছে কিন্তু ডাক্তার বলছে এখনো মানুষিক ভাবে বেবি নেয়ার জন্য প্রস্তুত না।
আরও ৩ মাস পর…
হাসপাতালের করিডোরে পায়চারি করছে আরিয়ান।টেনশনে তার কপালে ঘাম জমেছে।বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। ঠিক তখনই লেবার রুম থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ ভেসে এল।নার্স বেরিয়ে এসে হাসিমুখে বললেন,
নার্সঃ- অভিনন্দন মেজর আরিয়ান আপনার ছেলে হয়েছে।মা ও ছেলে দুজনেই সুস্থ।
আরিয়ান যেন খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেল।ভেতরে গিয়ে দেখল ইলার পাশে শুয়ে আছে এক টুকরো চাঁদের আলো। আরিয়ান বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নিতেই তার চোখ ভিজে এল। সে বাচ্চার কপালে চুমু খেয়ে ইলার দিকে তাকিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- ইলাফুল ও একদম তোমার মতো হয়েছে।এই মায়াবী চেহারার রাজপুত্রের নাম আমি আগেই ঠিক করে রেখেছি “আয়ান খান”
ইলা ক্লান্ত হাসিতে আরিয়ানের হাতটা ধরল। তাদের জীবনের অপূর্ণতা আজ কানায় কানায় পূর্ণ হলো। ইলিয়ানা এসে ছোট ভাইকে দেখে খুশিতে চিৎকার করে উঠল, “আমার পুতুল ছোট ভাই চলে এসেছে!”
একটু পরে সবাই এক এক করে চলে আসলো মেহেরাব খান তার নাতিকে কোলে তুলে নিয়ে কানে আযান দিলো।
সাবিহা বেগম এসে ইলার কপালে চুমু খেয়ে বলল
সাবিহাঃ- তুই তো ডাবল মা হয়ে গেলিরে মা।
শাহরিয়ার এসে ইলার কানে কানে বলল
শাহরিয়ারঃ- বনু যে তোকে খারাপ বানানোর জন্য ai দিয়ে ভিডিও বানিয়ে ভাইরাল করেছিলো। আজ সে নিজেই ভাইরাল হয়ে গেছে।
এটা বলে শাহরিয়ার একটা ভিডিও প্লে করে আরিয়ানের হাতে দিয়ে সবাইকে নিয়ে বাইরে চলে গেলো।
ইলা দেখতে পেলো রাফিকা একটা ফরেইনার এর সাথে অন্তরঙ্গ অবস্থা আছে।
ইলাঃ- এটা তো রাফিকা আপু এইটা কিভাবে হইলো।
আরিয়ানঃ- ও ওর জামাইমে চিট করে এই ফরেইনার এর সাথে প্রেম করছিলো। প্লান ছিলো তার সাথে অস্ট্রেলিয়া চলে যাবে। কিন্তু এটা রাফিকার স্বামী জানতে পারে। আর সেই এই ভিডিও সোস্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল করে দেয়।
আরিয়ান ফোনটা সরিয়ে রেখে ইলার কপালে নিজের কপাল ঠেকাল। তার চোখ দুটো চিকচিক করছিল। সে খুব ধীর গলায় বলল,
আরিয়ানঃ- দেখলে তো ইলাফুল? প্রকৃতির বিচার বড় অদ্ভুত। যে মেয়েটা একদিন আমাদের জীবন তছনছ করতে চেয়েছিল, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তোমার সম্মান নষ্ট করতে চেয়েছিল আজ সেই প্রযুক্তি তাকে নিজ হাতেই সবার সামনে ছোট করে দিল।
ইলা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
ইলাঃ- আমি কখনো ওর খারাপ চাইনি আরিয়ান। কিন্তু ও যা করেছে, তাতে ঘৃণা করাও যেন কম হয়ে যায়।কিন্তু শাহরিয়ার ভাই এগুলো কিভাবে জানলো?
আরিয়ানঃ- শাহরিয়ার সব কিছু বের করেছে অনেক আগেই। কিন্তু আমি বলতে বাধা দিয়েছিলাম তাই কাউকে কিছু বলেনি। আজ এই ঘটনার জন্য এটা বলে ফেলল
ইলা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলল
ইলাঃ- থাক ওসব কথা, আজ আমার কোল জুড়ে আয়ান এসেছে, এর চেয়ে বড় পাওনা আর কিছু হতে পারে না।
আরিয়ান মুচকি হেসে ইলার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- ঠিক বলেছো আজ থেকে আমাদের ডিকশনারিতে আর কোনো বিষাদ নেই। আছে শুধু এই মায়াবী মুহূর্তগুলো।
Time Skip
৫ বছর পর…
দিনাজপুরের সেই বিশাল লিচু বাগান। গাছে গাছে লাল টসটসে লিচু ঝুলে আছে। বাগানের মাঝখানে একটা চাদর বিছিয়ে বসেছে পুরো তালুকদার পরিবার ও খান পরিবার। শাহরিয়ার আর নোহা এখন এক ফুটফুটে কন্যাসন্তানের বাবা-মা, যার নাম রেখেছে ‘নুসাইবা’।
অন্যদিকে,
আরিয়ান আর ইলা পাশাপাশি বসে দেখছে তাদের দুই পৃথিবীর যুদ্ধ। ১১ বছরের ইলিয়ানা আর ৫ বছরের আয়ান মিলে লিচু পাড়া নিয়ে রীতিমতো দক্ষযজ্ঞ শুরু করেছে।আরিয়ান চেঁচিয়ে বলল,
আরিয়ানঃ- এই যে পুঁচকে সিআইডি বাহিনী! বেশি দৌড়াদৌড়ি করলে কিন্তু এবার সত্যি সত্যি পেট্রোল পাম্পে রেখে আসব!
আয়ান লিচু হাতে নিয়ে দৌড়ে এসে আরিয়ানের কোল দখল করে বলল,
আয়ানঃ- পাপা, তুমি কি আগের মতো আজও চাঁদ কে লাইটকে পাম্পের লাইট বলো? আমি কিন্তু বড় হয়ে গিয়েছি আমি কিন্তু আপুর মত বোকা না।
পুরো বাগান জুড়ে হাসির রোল বয়ে গেল। শাহরিয়ার আদিন আর রায়েদের দিকে তাকিয়ে বলল,
শাহরিয়ারঃ- দেখলি রায়েদ? আমাদের বসকে এখন তার নিজের ছেলেই লজিক দিয়ে হারায়। ভয়েজ কিং-এর দিন শেষ!
রায়েদ আর হালিমা একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসল।মেহেরাব খান আর রাশেদ তালুকদার দূরে বসে চা খেতে খেতে এই দৃশ্য দেখে তৃপ্তির হাসি হাসলেন। দুই পরিবারের সেই পুরনো মেঘ কেটে গিয়ে এখন কেবলই রোদের খেলা।
সূর্য ডুবুডুবু। পরি আদিনের কাঁধে মাথা রাখল। চারদিকে সেই চিরচেনা মায়াবী পরিবেশ। পরি ফিসফিস করে বলল,
পরিঃ- পরিবার কত সুন্দর তাই না একটা মানুষ ছিলো না বলে সব কিছু শেষ হয়ে গেছিলো আর আজ তার জন্য পরিবার গুলো কত সুন্দর হয়ে গেছে।
এদিকে আরিয়ান ইলার হাতটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলছে,
আরিয়ানঃ- ইলাফুল আমাদের হার্টবিট একে অপরকে ট্র্যাক করছে। এই যে এত বছরের বিরহ, এই যে হাজারো ভুল বোঝাবুঝি শূন্যতা, একাকিত্ব সবটাই ছিল আমাদের ভালোবাসার পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষায় আজ আমরা জিপিএ-ফাইভ পেয়ে পাস করেছি ইলাফুল।
ভয়েজের মায়াজাল পর্ব ৭৪
ইলা হেসে উঠল আরিয়ানের কণ্ঠের সেই মায়াজাল আজও একই রকম আছে। যে কণ্ঠে এক সময় সে প্রেমে পড়েছিল, সেই কণ্ঠই আজ তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।
বাতাসে লিচুর ঘ্রাণ আর প্রিয় মানুষদের কলরব মিশে একাকার হয়ে গেল। এই তো জীবন যেখানে মায়াজাল আছে, খুনসুটি আছে, আর আছে আমৃত্যু পাশে থাকার এক আকাশ সমান ভালোবাসা।
সমাপ্ত
