Home ভুলভাল অন্তরাল ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ৩৮

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ৩৮

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ৩৮
মুশফিকা রহমান মৈথি

পৃথুলা অবুঝ খুকি নয়, আবার আঠারো বছরের কোনো সদ্য কিশোরী সত্তা থেকে লাফ দিয়ে যুবতী হওয়া বালিকাটিও নয়। সে একজন পঁচিশ বছরের রমনী। পুরুষের চাহনী সে ধরতে পারে। কোন চাহনীতে মুগ্ধতা আর কোন চাহনীতে লালসা থাকে সে বুঝতে পারে। সুতরাং পারভেজের চাহনী এবং তার উদ্দেশ্য বোঝা খুব একটা দুষ্কর হলো না তার জন্য। মুহূর্তেই একটা ঝটকা দিয়ে হাতটা সরিয়ে দিলো সে। কঠিন গলায় বলল,
“একদম আমার কাছে আসবে না। আমার এগুলো পছন্দ নয়।“
পারভেজ পৃথুলার থেকে এমন প্রতিক্রিয়া আশা করে নি। পৃথুলাকে খুব নরম, কোমল নারী হিসেবেই ভেবেছিলো সে। ফলে পারভেজ কিছুসময় বিহ্বল চোখে তাকিয়ে রইলো। কিছুটা অপমানিত বোধও হলো যেন। অহংয়ের দেওয়ালে আঘাত পেলো ভীষণভাবে। তবুও নিজেকে সামলে হালকা স্বরে বললো,

“যতদূর জানি আমাকে এখানে আনাই হয়েছে যেন আমাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়।“
“সেটা তৈরি হয় নি পারভেজ। এখনো তোমার সাথে আমার বিয়ের কথাও পাকাপাকি হয় নি। আশাকরি আমাদের মধ্যে একটা দায়রা থাকা উচিত। আর আমার অস্বস্তি লাগছে। আমি শুধু এসেছিলাম তোমার খাবার দিতে। এভাবে হুটহাট করে আমাকে ছুঁবে না। এবার ওয়ার্ন করছি। নেক্সটটাইম কিন্তু আমি বরদাস্ত করবো না।“
পারভেজ কিছুসময় তাকিয়ে রইলো ধারালো দৃষ্টিতে। পরমুহূর্তেই মেকি একটা হাসি ঠোঁটে একে বলল,
“আই ওন্ট ফোর্স ইউ। বাট আই এম সিরিয়াস এবাউট ইউ।“
বলেই ঝুকলো পারভেজ। পৃথুলার দমবন্ধ হয়ে আসছে। কিছু একটা তার কণ্ঠনালী চেপে ধরে আছে। পারভেজের থেকে এক কদম দূরে সরে দাঁড়ালো। গাল ফুলিয়ে একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললো,
“তুমি রেস্ট কর। আমরা এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।“
বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। পারভেজ তার যাবার পানে চেয়ে রইলো। তার মুখোভাব বদলে গেলো। সরলতা ঘুঁচে গেলো নিমিষেই। তীক্ষ্ণ হলো দৃষ্টি। কপালে ভাঁজ পড়লো। চুলগুলো পেছনে টানলো সে। অপ্রসন্নতা ফুঁটে উঠলো নিরেট মুখশ্রীতে।

পৃথুলা সরাসরি তার ঘরে চলে গেলো। গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। পারভেজের স্পর্শটা কেমন যেন ছিলো। গা ঘিনঘিন করছে। খাটে বসে চুল টেনে ধরলো সে। অঞ্জনা তখন পড়ছিলো। পৃথুলার জবুথুবু অবস্থা দেখেই সে বইটা বন্ধ করলো। উঠে এসে বসলো পৃথুলার ঠিক পাশে। পৃথুলা তখনও কাঁপছে। হাত কচলাচ্ছে। তার চোখ রক্তবর্ণ হয়ে আছে। এখনই কেঁদে দিবে যেন। অঞ্জনা কিছু শুধাতেই সে গজগজ করে বললো,
“ও আমাকে চুমু খেতে গিয়েছিলো। এতো বিশ্রী দমবন্ধ অনুভূতি হচ্ছিলো। আমার গা গুলিয়ে এসেছিলো।“
পৃথুলার কথার আগামাথা বুঝতে পারলো না অঞ্জনা। কেমন কথাগুলো জড়িয়ে যাচ্ছে। সে ঘামছে। অঞ্জনা এসির তাপমাত্রা কমিয়ে দিলো। পৃথুলা কেমন গুটিয়ে আছে যেন। জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। অঞ্জনা তার গা ছুঁতেই সে অপ্রকৃতস্থের মতো বলে উঠলো,
“আই কান্ট অঞ্জনা। আমি কাউকে বিয়ে করতে পারবো না।“
“হয়েছে টা কি একটু বলবি?”
“আমি পারবো না, আমি সত্যি পারবো না।“

পৃথুলার দৃষ্টি এলোমেলো হয়ে আছে। তার সমস্ত দেহ থরথর করে কাঁপছে। শ্বাস নিতেও যেন তার কষ্ট হচ্ছে। নিজের গাল জোরে জোরে মুছতে সে। অঞ্জনা সাথে সাথেই তাকে জড়িয়ে ধরলো। পৃথুলাকে শান্ত করা প্রয়োজন। মেয়েটি শান্ত না হলে আরোও মারাত্মক কিছু ঘটতে পারে। অঞ্জনা জড়িয়ে ধরতেই পৃথুলা ছোট বাচ্চার মতো গুটিয়ে গেলো। তার শরীরের কম্পন মন্থর হয়ে এলো। একটা সময় ফুঁপিয়ে উঠলো সে। অঞ্জনা তার পিঠে আলতো করে হাত বুলাতে বুলাত বলল,
“তুই ঠান্ডা হ। তুই যদি না চাস, কিছুই হবে না। আমরা নয়া দাদাজানের সাথে কথা বলবো।“
পৃথুলা শান্ত হলো অনেক সময় বাদে। শান্ত হবার পর অঞ্জনা তাকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো। সে পানিটুকু খেয়ে নিলো। অঞ্জনা ঠিক বসলো তার সামনে। হাতটা শক্ত করে ধরে বললো,
“এবার বল কি হয়েছে?”
“পারভেজ আমাকে চুমু খেতে গিয়েছিলো।“
“হোয়াট দ্যা ফা*ক। তুই কিছু বলিস নি?”
“বলেছি। ও ফোর্স করে নি। কিন্তু আমার গা গুলিয়ে উঠেছিলো। মনে হচ্ছিলো আমার গায়ে কেউ বিচুটি পাতা ঘষে দিয়েছে।“
অঞ্জনা এবার ধীর স্বরে বলল,

“তুই মন থেকে এই বিয়েতে রাজী নস। তাই এভাবে রিয়েক্ট করেছিস। আমার মাথায় আসছে না তুই নিজেকে এতো ফোর্স কেন করছিস?”
পৃথুলা বিষাদ চোখে চাইলো। ম্লান স্বরে বললো,
“আমার কাছে কি কোনো অপশন আছে অঞ্জনা?”
“নয়া দাদাজানকে বল।“
“আমি কি বলবো? আমি কেন বিয়ে করতে চাই না?”
“পারভেজকে তোর পছন্দ না।“
“আর যখন জিজ্ঞেস করবে কেন পছন্দ নয়, কি উত্তর দিব? পারভেজের মধ্যে কি খুঁত আছে?”
“খুঁত ছাড়া মানুষ হয় না পৃথুলা। পারভেজের মধ্যেও হয়তো কোনো সমস্যা আছে।“
“সমস্যাটা পারভেজের নয়। সমস্যাটা আমার। পারভেজ কেন, হয়তো পুরুষকেই আমি মেনে নিতে পারবো না। নিজ হাতে আমি আমার মনের দোয়ার বন্ধ করে বসে আছি। আর যে আমার মনজুড়ে রাজত্ব করছে সে চায় না আমাকে।“
অঞ্জনা ধীর স্বরে শুধালো,

“তুই কি রিদমের কথা বলছিস? তোদের না ব্রেকাপ হয়ে গেছে।“
“হ্যা।“
“তাহলে?”
“ব্রেকাপ হলেই কি ভালোবাসা থেমে যায়?”
“তুই ওই গাধাকে ভালোবাসিস।“
পৃথুলা কিছু বলল না। তার চোখ টলমল করছে। অঞ্জনার চোয়াল ঝুলে গেলো। কানকে বিশ্বাস হচ্ছে না। পৃথুলা রিদমকে ভালোবাসে? কথাটা কান বিশ্বাস করতে চাইছে না। ফলে অঞ্জনা এক প্রকার চিৎকার করে উঠলো,
“আর ইউ ম্যাড? গাধা তুই? আমার ইচ্ছে করছে তোর মাথায় একটা ঠেকনা দিতে।“
পৃথুলা মাথা নুইয়ে ফেললো। যে পৃথুলা বরাবর প্রেমে ছ্যাকা খাওয়া কাঞ্চনকে বকাঝকা করতো আজ তাকে এমন ভঙ্গুর, অসহায় দেখতে মোটেই ভালো লাগছে অঞ্জনার। ইচ্ছে করতে কিছু সময় ধুমাধুম তাকে পেটাক। এতো বোকা কেন হবে সে? কেন সে নিজের মনের কাছে এতো দূর্বল হবে? পৃথুলা তো এতো দূর্বল মেয়ে ছিলো না। অঞ্জনা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। পৃথুলা এখনো তার হাত চেপে বসে আছে। অঞ্জনা তাকে শান্ত গলায় বললো,
“তুই ঘুমা। আমরা এই ব্যাপারে সকালে কথা বলবো।“

সকালে খাওয়ার টেবিলে নতুন রঙ্গ শুরু হলো। ইলিয়াস পটনভী বেশ গর্ব সহকারে ঘোষণা দিলেন,
“পারভেজের বাবার সাথে আজ সকালেই আমার কথা হয়েছে। তারা এই মাসের শেষেই আকদ করাতে চাচ্ছেন। আপমি আপনার মত চাচ্ছিলাম চাচা।“
জুলফিকার পটনভী শান্ত চোখে চাইলেন ইলিয়াসের দিকে। বিয়ের ব্যাপারটায় তার মত বা অমত কিছুই নেই। তিনি একবার পৃথুলার দিকে চাইলেন। পৃথুলা মাথা নত করে বসে আছে টেবিলের শেষ প্রান্তে। জুলফিকার পটনভী তার দিকে এক পলক চেয়ে মুখে পরোটা পুরে বললেন,
“দেখো যা ভালো মনে কর।“
সানিয়া পৃথুলার উদ্দেশ্যে বললো,
“কাকলাশের মতো চেহারার উন্নতি করতে চাইলে আমাকে বলিস। আই ক্যান হেল্প।“
পৃথুলা এবং সানিয়ার মধ্যে দা কুমড়া সম্পর্ক। কিন্তু আজ তার সাথে তর্কে জড়ালো না পৃথুলা। বরং কাঞ্চন পাশ থেকে বলে উঠলো,
“তুই কাকলাশের মতো চেহারার তো কোনো উন্নতি করাতে পারিস নি। সুতরাং পৃথুকে নিয়ে চিন্তা না করলেও হবে।“
সানিয়া কটমটিয়ে থাকালো কাঞ্চনের দিকে। কাঞ্চন আলুর দমের তরকারি প্লেটে নিতে নিতে বললো,

“এভাবে তাকাতে হয় না ননদিনী। ভাবী হই। সম্মান দে।“
“তোকে ভাবী মানতে আমার বয়েই গেছে।“
“মান বা না মান সেটা তোর ব্যাপার। আমি জোর করছি না। কিন্তু তোর ভাই জানলে!”
“ভাইয়ের ভয় দেখাচ্ছিস আমাকে?”
“রাক্ষসের মত ভাই তোর, নতুন করে কি ভয় দেখাবো?”
সানিয়া নাকের পাঁটা ফুলিয়ে তাকালো। পারভেজ পৃথুলাকে ধীর স্বরে বললো,
“এখন তোমার হাত ধরতে বাঁধা নেই তো?”
পৃথুলা কোনো উত্তর দিলো না। রিদম নামলো দেরিতে। এসে বসলো অঞ্জনার পাশে। তার চোখ রক্তবর্ণ হয়ে আছে। রাতে যে একবিন্দু ঘুমায় নি তার চোখ সেটার প্রমাণ। অঞ্জনা তার দিকে একপলক চাইলো। উঠে রান্নাঘর থেকে এক চামচ চিনি এনে রিদমের প্লেটে ঢাললো সে। রিদম চোখ তুলে তাকাতেই সে বলল,
“এই মাসের শেষে পৃথুলার বিয়ে। মিষ্টিমুখ কর।“
রিদমের মুখ শক্ত হয়ে গেলো। সে স্তব্ধ চোখে একবার পৃথুলার দিকে চাইলো। বুকের ভেতরের অসহনীয় ব্যথাটা বাড়লো। মনে হচ্ছে এই পৃথিবীটা এক অসহ্য। পৃথিবীর থেকে যন্ত্রণাদায়ক স্থান আর দ্বিতীয়টি নেই।

রাত দুটো। পটনভী মঞ্জিলে নীরবতা নেমে এসেছে। কাঞ্চনের ঘরের দরজায় কড়া নাড়লো। দরজা খুলতেই দেখলো অঞ্জনা, ইকরাম এবং তাকবীর দাঁড়িয়ে আছে। অঞ্জনা ঘরে ঢুকেই বললো,
“মিটিং, এখনই”
কাঞ্চন বুঝতে পারলো না কাহিনী কি। ইকরাম সানিয়ার ঘর থেকে তার দামী শিট মাস্ক চুরি করে এনেছে। কাঞ্চনকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আপু, হেব্বি জিনিস। দিলে মুখ চকচক করে।“
“কোথা থেকে এনেছিস।“
“সানিয়া আপুর ঘর থেকে।“
অঞ্জনা বিরক্ত স্বরে বলল,
“এই ফাতরামি রাখ। আমি তোদের ডেকেছি একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে।“
“বল”

নিজের মুখে একটা মাস্ক দিতে দিতে বলো কাঞ্চন। হেব্বি আরামদায়ক জিনিস। ঠান্ডা ঠান্ডা লাগে। ইকরাম এবং তাকবীরও ভদ্র ছেলের মতো বসলো। কাঞ্চন তাদের মুখেও দিয়ে দিলো। তাকবীর বলল,
“এটা দিয়ে আমার মুখ ফর্সা হয়ে যাবে?”
“জানি না। ফ্রির জিনিস, খারাপ হলেও সমস্যা কি?”
অঞ্জনা ভাইবোনের এমন নির্বিকার ভাব দেখে এবার ক্ষিপ্র স্বরে বললো,
“তোরা কি শুনবি?”
“মাস্ক পড়ে নে।“
“কেন?”
“আমার সিক্স সেন্স বলতেছে ঘটনাটা হরমুজ প্রণালীর মতো জটিল। তাই একটু স্ট্রেস ফ্রি হ। স্ট্রেস কম থাকলে দেখবি আমাদের জাহাজ পার হয়ে যাবে।“
ফলে অঞ্জনাকেও মাস্ক পড়ালো কাঞ্চন। ঠান্ডা ঠান্ডা বোধের জন্য আরাম লাগছে। মুখের পেশীগুলো বেশ রিলাক্স হয়ে গেলো। কাঞ্চন এবার আরাম করে পা গুটিয়ে বসলো। তারপর বললো,

“এবার বক।“
“পৃথুলা রিদমকে ভালোবাসে।“
কাঞ্চন হতবিহ্বলের মতো তাকিয়ে রইলো। হা করে বললো,
“হ্যা?”
“হ্যা।“
তাকবীর মাঝখান থেকে বললো,
“শুধু তাই নয় রিদমও পৃথুলাকে ভালোবাসে।“
কাঞ্চন অঞ্জনার হাত ধরে বললো,
“মেরেকো চাক্কার আ রাহা হ্যায়!”
“অথচ পৃথুলার বিয়ে পারভেজ গাধার সাথে হচ্ছে।“
“ভাই যখন একে অপরকে ভালোবাসোস দেন মাঝখান থেকে এই পারভেজ আসলো কেমনে?”
অঞ্জনা দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“হুদাই তো মিটিং ডাকি নি। আমার মেজাজ খারাপ হচ্ছে। পৃথিবীতে বলদদের পুরষ্কৃত করলে আমার এই দুই ভাইবোনের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ভাই আমার মাথা কাজ করছে না। পৃথুলার এমন অবস্থা আমি দেখতে পারছি না। ও ভ্যাটকায়ে আছে।“

“রিদমও সেম। দেবদাস হয়ে আছে। ওর ঘরে সিগারেটের গন্ধে ঢোকা যায় না।“
তাকবীরের কথায় কাঞ্চন ক্ষিপ্র স্বরে বললো,
“পৃথুলা না হয় ফুপুর ভয়ে চুপ আছে। রিদমের সমস্যা কি?”
“বেয়াদব, বেয়াদব।“
তাকবীর মাঝখান থেকে বলে উঠলো। কাঞ্চন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। মাস্ক পড়া অবস্থাতেও তার কপালে ভাঁজ পড়লো। ইকরাম শান্ত স্বরে বললো,
“এজন্যই এই মাস্কগুলো চুরি করে এনেছি। তোমাদের মুখে চিন্তার ছাপ পড়বে না।“
“তুই জিনিয়াস।“
কাঞ্চনের কিছু একটা ভেবে ভিডিও কল করলো তাশদীদকে। ভিডিওকলের বিপরীত পাশ থেকে তাশদীদের কন্ঠ ভেসে আসছে,
“এই রাত দুটোর সময় সারারাগুল সেজে জরুরি মিটিংয়ের ঘনঘটা কেন?”
সামনে চার বান্দর মুখে শিটমাস্ক পড়ে বসে আছে। তাকবীর গলা খাকারি দিয়ে বললো,
“রাত বাড়লে বুদ্ধি বাড়ে। তাই রাতেই মিটিং!”
“সকালে বুদ্ধি কি হিমালয় চড়ে!”
“না একটু স্লিপ মুডে থাকে!”
কাঞ্চন সাথে সাথে মুখ খিঁচে বললো,
“মোদ্দা কথায় আসি। প্যাঁতপ্যাঁত করার অনেক সময় পাবি!”
“বক!”

“মোদ্দা কথা হচ্ছে আমাদের রিদম ভাইজান মজনুর মতো পাগলায় গেছে। এদিকে পৃথুলা বুন্ডি লায়লা সাইজে ঘরে ফ্যাতফ্যাত করতেছে। কিন্তু তারা মানতে চাচ্ছে না তারা লায়লা মজনু।”
“তো আমরা কি করাম! ওদের বুকে প্রেমের আগুণ জ্বালায়ে ভুট্টা ভাজমু?”
তাশদীদের কথায় অঞ্জনা সাথে সাথেই বিরক্ত নিয়ে বলে উঠলো,
“জাস্ট মরে যা তাশদীদ!”
“সরি, আই এম বিজি।“
অঞ্জনা কিছু বলতে যাবে কাঞ্চন তার হাত চেপে ধরলো। চোখের ইশারায় বোঝালো,
“থাম আম্মা।“
তারপর সে মোলায়েম স্বরে বলল,
“বিজি ম্যান, আমি জানি আপনার মতো মহান পুরুষের সাথে কথা বলার জন্য এপোয়েনমেন্ট নিতে হয়। তবুও আমাদের মতো ছা পোষা মানুষের প্রতি একটু দয়া করেন। আপনার বুদ্ধির সাগর থেকে আমাদের কিছু বুদ্ধি ধার দেন।“

“রিদম গাধাটাকে সকাল সন্ধ্যা নিয়ম করে থাপড়া। দেখবি সব ওকে হয়ে যাবে। সাথে পৃথুলাকেও।“
“তোর কাছে ফিজিবল কোনো বুদ্ধি কেন থাকে না তাশদীদ?”
অঞ্জনার কথায় তাশদীদ ফিঁচেল গলায় বললো,
“বিল্লি, তাহলে আপনি বলেন কি করবো?”
অঞ্জনা দাঁত চেপে নিজের রাগ দমালো। তাশদীদের সাথে কথা বলতে গেলেই কেন যেন রাগ উঠে তার। এতো অসহ্য এই ছেলেটা। তাশদীদ এবার একটু গম্ভীর হলো। গলার স্বর ভারী হলো। সে বেশ গম্ভীর গলায় বললো,
“একটা কাজ করতে পারিস।“
“কি?”
“বলছি।“
তাশদীদ তার বুদ্ধিটা বলতেই কাঞ্চনের থুতনিতে হাত চলে গেলো। দ্বিধান্বিত স্বরে বলল,
“ঝামেলা হয়ে যাবে না?”
“ট্রাই করতে ক্ষতি কি? এছাড়া পথ দেখছি না।“
অনেকক্ষণ চিন্তা করে অবশেষে রাজী হলো পটনভীরা। অনেক বড় একটা রিস্কি কাজ করতে চাচ্ছে। তবুও এ ছাড়া পথ নেই।

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ৩৭

রাত কয়টা বাজে কাঞ্চন জানে না। ঘুমে চোখ খুলতে পারছে না। হঠাৎ অনুভব করলো তার পেটে একটা ঠান্ডা স্পর্শ। স্পর্শটা পেতেই গায়ে কাটা দিলো। ত্বরিত গতিতে চোখ মেললেই নাকে বিঁধলো গাঢ় গন্ধ। গন্ধটা পরিচিত। কানে গরম নিঃশ্বাস আঁছড়ে পড়ছে। নড়তে নিলেই গাঢ় স্বর কানে এলো,
“নড়িস না, হাড্ডি। একটু ঘুমাতে দে।“…

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ৩৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here