Home যাত্রাপথ যাত্রাপথ পর্ব ২৬

যাত্রাপথ পর্ব ২৬

যাত্রাপথ পর্ব ২৬
মাশফিত্রা মিমুই

বিদ্যুৎহীন গ্ৰামের রাস্তা রাতেরবেলা লাগে এক ভূতুড়ে পল্লীর ন্যায় ছিমছাম, নীরব। ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে থাকা এই জনপদে নগরের মতো তত ঘন বসতি নেই। একেকটা বাড়ি আরেকটার থেকে অনেকখানি দূরে। রাতের বেলা মানুষের চলাচলও কম। ঘণ্টায় বড়জোর দুই-একজন চোখে পড়ে। তাও সাধারণত রাত সাড়ে আটটা কিংবা নয়টার পর।
শ্বশুরবাড়ি গিয়ে শুধু বউ নিয়ে চলে আসবে ভাবলেও নাজিরের পরিকল্পনা মাফিক কিছুই হলো না। জোর করে শ্বশুর-শাশুড়ি, দাদাশ্বশুর আর কতগুলো শালা নামক শত্রুরা মিলে তাকে যেভাবে পেরেছে সেভাবেই জামাই আদর করে তারপর মুক্তি দিয়েছে। ওদিকে মিল্টন, লতিফ দুজনেই হচ্ছে আস্ত বেয়াদব। সুযোগ পেতেই তাকে ওইরকম এক পরিস্থিতিতে একা রেখে পালিয়ে এসেছে। কত বড়ো দুঃসাহস! দুটোকে কাছে পেলে নাজির আচ্ছা করে দু ঘা বসিয়ে দেবে।

বাড়ির পথে হাঁটতে হাঁটতে থেমে দাঁড়ালো নাজির। পথের সামনে পড়ল গ্ৰামের সেই বটগাছ। তার থেমে দাঁড়ানো পায়ের দিকে তাকিয়ে পাশে চলতে থাকা মিছরিও থেমে গেলো। এই রাতের বেলা নাজিরের মাথায় আচমকাই খেলে গেলো দুষ্ট বুদ্ধি। পুরোনো আমলের একটা টর্চের আলো তাক করে গম্ভীর কণ্ঠে ফিসফিস করে বললো,“এই গাছটা দেখতাছো, বউ?”
মিছরি মাথা নাড়ায়,“হ্যাঁ, বটগাছ।”
“উহু, এইডা বটগাছ না।”
“বললেই হলো?”
“আহা, ভালা কইরা হুনো। দিনের বেলা বটগাছ হইলেও রাইতের বেলা এইডা বটগাছ না।”
“তাহলে কী? আমি তো স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি এটা বটগাছ।”
“জ্বীন, পরীর আস্তানা। রাইতে এইখান দিয়া মানুষ তেমন একটা যাতায়াত করে না। কেউ ভুলবশত গেলেই হয় ভর করে, নয়তো ঘাড় মটকাইয়া দেয়।”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

এসবে মিছরি ভীষণ ভয় পায়। দাদী-নানীর মুখে শুনেছে অজস্র জ্বীন, পরীর গল্প। তাই মাঝেমধ্যে একা থাকার কথা শুনলেও সে আঁতকে ওঠে। ভয়ে দুজনার মাঝখানের সমস্ত দূরত্ব মিটিয়ে পুরুষালি দেহের গা ঘেঁষে দাঁড়ালো মিছরি। ভয়ার্ত, চাপা স্বরে ফিসফিস করেই বললো,“সত্যি!”
“তো কী মিছা নাকি? কয়দিন আগে ওই পাড়ার বুলবুলের বড়ো পোলারে ধরছিল। এই বটগাছের নিচ দিয়াই রাইতের বেলা কই জানি যাইতাছিল। বাবা গো বাবা, চোখ দুইডা উল্ডাইয়া কী পাগলামিই না করছে!”
“তারপর?

“দশ গেরাম খুঁইজা পরে হুজুর ধইরা আনা হইছে। দোয়া দরুদ পইড়া ঝাঁটা দিয়া ইচ্ছামতন পিডাইয়া পুড়া মরিচ হুঙ্গানোর পর জ্বীন ঘাড় থাইক্যা নামছে। আমার তো শরীরের সব পশম দাঁড়াইয়া গেছে, এই দেহো।”
নাজির হাত বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করল। ভয়ে সারা দেহ কাঁপছে মিছরির। নিজের হাত দুটো দিয়ে নাজিরের ডান হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে বললো, “তাহলে এখনো দাঁড়িয়ে আছেন কেন? তাড়াতাড়ি বাড়ি চলুন।”
মেয়েটার ভীতু মুখখানা দেখে নাজির ভীষণ আনন্দ পাচ্ছে। ছোটবেলায় এমন ভয় দেখাতো পারভেজ আর জাহিদকে। অথচ বেয়াদব দুটো বড়ো হতেই ভয় পাওয়া বন্ধ করে দিলো, হয়ে উঠলো সাহসী। যার ফলে নাজিরেরও আনন্দ পাওয়া হয়ে গেলো বন্ধ। তবে সেই আনন্দ আবার নতুন করে ফিরে এসেছে তার জীবনে—বউ হয়ে। অনেক কষ্টে হাসি চাপিয়ে রেখে হতাশ হয়ে বললো,“গপ্পো তো এহনো শেষ হয় নাই, হুনো।”

“না, বাড়িতে চলুন। আমার খুব ভয় লাগছে। যদি আমাদের ঘাড়েও চেপে বসে? আমি কিন্তু ঝাড়ুর বাড়ি খেতে পারবো না।” ক্রন্দনরত কণ্ঠে বললো সে।
“এত ভীতু ক্যান তুই? আমি আছি না? ডর কীয়ের?”
“না না, আপনার ঘাড়ও মটকে দেবে। চলুন, নাহলে কিন্তু আমি চিৎকার করে কাঁদবো।”
“আইচ্ছা চল, কী একটা ভীতু বউ আমারে ধরাইয়া দিলো?”
সেসব কথা মিছরির শ্রবণালী পর্যন্ত পৌঁছালো না। ভয়ে মেয়েটার বুক দুরু দুরু করছে, দেহের কম্পন খুব ভালো করেই টের পাচ্ছে নাজির। তাতেই যেন পেটের অর্ধেক খাবার হজম হয়ে গেলো তার। বাড়ি ফিরতে বেশি একটা দেরি হলো না। ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা মিললো খোলা আকাশের নিচে বসে মাটির চুলায় চিতই পিঠা তৈরি করতে থাকা ফরিদাকে। পাশেই পাটায় ভর্তা বাটছেন মর্জিনা। বিথী চুলার মুখে ঠেলে দিচ্ছে শুকনো পাতা। আব্দুল্লাহ উঠোনে দৌড়ে ফড়িং ধরছে আর চেঁচাচ্ছে। নওশাদ, নাজমুল, শাহরিয়ার, জাহিদ লাইন ধরে বসে গরম গরম পিঠা খাচ্ছে। তাদের দেখতেই সুমা হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলে উঠলো,“ওই তো, নাজির চাচা আর নতুন চাচী আইয়া পড়ছে!”

সকলের দৃষ্টি সদ্য আসা স্বামী-স্ত্রীর দিকে গিয়ে স্থির হলো। হাতের কাপড় ভর্তি ব্যাগটা বারান্দায় রেখে সেখানেই বসে পড়ল নাজির। মিছরির হাতে ঘরের চাবি দিয়ে বললো,“পোশাক বদলাইয়া হাত-মুখ ধুইয়া আইয়ো।”
মিছরি চলে গেলো ঘরে। নাজমুল ডাকলো,“আয় পিঠা খাইলে। আম্মার হাতের ভর্তা যে কি স্বাদ!”
জাহিদও তাল মিলিয়ে বললো,“বর্ষা আর শীতে এমন পিঠা প্রত্যেকদিন হইলে একেবারে জইম্মা যাইবো। আইয়ো, নাজির ভাই।”
নাজির নাকোচ করল,“পেটটা ফুইলা ঢোল হইয়া গেছে। এহন খাইতাম না কিছু। তোরা খা।”
বিথী মশকরা করে বললো,“শ্বশুরবাড়ি জামাই আদর ভালা হইছে মনে হয়, দেওরা?”
“আদর কয় না, এইগুলারে কয় সাজা। ইচ্ছামতো চিপ্পা ধইরা গিলাইছে। এই দেহে প্রাণ থাকতে আর জীবনেও আমি ওই মিহি হমু না।”

বিথী হাসলো। গল্প জমে উঠলো তাদের। নওশাদের ডাকে লিলিও চলে এলো বাইরে। পিঠা খাওয়ার জন্য ফরিদা তাকে কাছে বসালেন। যার আচরণ যেমনই হোক না কেন, বিপরীতে ফরিদার আচরণ থাকে সদা নমনীয়। ভর্তা মাখিয়ে পিঠায় পরপর দুইটা কামড় দিতেই তিনি হেসে জিজ্ঞেস করলেন,“কেমন? স্বাদ না?”
লিলি মাথা নাড়ালো। চিবোতে চিবোতে বললো,“হুম, অনেক মজা। শুঁটকি আর মরিচ ভর্তার সাথে একটু বেশিই মজা লাগছে।”
“লগে এই আবহাওয়া, প্রকৃতির হাওয়া, মেঘের গর্জন আরো বেশি ভালো লাগতাছে না? শহরে কহনো পাইবা এমন সুন্দর পরিবেশ?”

বিপরীতে কৃত্রিম হাসলো লিলি। মস্তিষ্কে জেগে উঠলো তীব্র অপরাধবোধ। মানুষগুলো তাকে কি সুন্দর করে আপন করে নিলো! অথচ বিয়ের পর থেকে এদেরকে সে এড়িয়ে গেছে। সুযোগ পেলেই শুনিয়েছে কথা। মা বলেন,“গ্ৰামের মানুষদের গাঁটে গাঁটে শয়তানি বুদ্ধি থাকে। এদের থেকে সাবধান লিলি!” সেকথাই তো শুনেছিল লিলি।
পোশাক বদলে হাত-মুখ ধুতে হারিকেন নিয়ে কলপাড় গেলো মিছরি। কিছুক্ষণের মধ্যে আবার ফিরেও এলো। কথার ফাঁকে, পলকহীন চোখে মেয়েটির যাওয়া আসার দিকে তাকিয়ে আছে নাজির। চোখাচোখিও হলো বেশ কয়েকবার। তবুও তার মধ্যে কোনো ভাবান্তর নেই। ফরিদা ডাকলেন,“মেঝো বউ! তুমিও আইয়ো এনে, খাইয়া দেহো তো কেমন লাগে।”

ইতস্তত করে স্বামীর দিকে তাকালো মিছরি। পুনরায় চোখাচোখি হলো দুজনার। নাজির ইশারায় যাওয়ার অনুমতি দিতেই এগিয়ে গিয়ে বসলো সে ফাঁকা একটি পিঁড়িতে। পিঠা তার অনেক প্রিয়। বিশেষ করে চাচী আর দাদী অনেক সুস্বাদু পিঠা বানায়। সেখান থেকেই প্রিয়। সেই পিঠা বানানো চললো অনেক রাত পর্যন্ত। বাড়ির ছেলে-মেয়েরা পিঠা খেয়েই পেট ভরালো।বাড়ির কর্তারা ফিরে ভাত খেয়ে উঠতেই ধীরে ধীরে সব কাজের অবসান ঘটিয়ে যে যার মতো চলে গেলো ঘুমাতে।
রাত্রির তৃতীয় প্রহর তখন। নাজির ওপাশ ফিরে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। মিছরির ঘুমটা আচমকাই ভেঙে গেলো। সারা শরীর ঘেমে উঠলো, পেটে পড়ল চাপ। কী করবে বুঝতে পারলো না। তাই উঠে বসলো। উপায়ান্তর না পেয়ে ডাকলো,“এই যে, শুনছেন!”
বিপরীত থেকে কোনো সাড়াশব্দ এলো না। মিছরি পুনরায় ডাকলো। সাথে এবার হাত দিয়ে খোঁচা দিলো বাহুতে,“এই, শুনুন না! উঠুন।”

“বিরক্ত করিস না। সব আলাপ দিনে হইবো।” ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বললো নাজির।
মিছরি এভাবেই বসে রইল বেশ কিছুক্ষণ। তাদের বাড়িতে লেট্রিন ছিল দুটো। একটা দালানের পাশে, অপরটি কলপাড়ের সাথে লাগোয়া। রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে পাশেরটাতেই সুজাতাকে নিয়ে যেত সে। নানার বাড়িতে অবশ্য তা দালানের ভেতরেই ছিল। কিন্তু এখানে এসে সে দেখছে ভিন্ন কাহিনী। এই বাড়িতেও দুটোই লেট্রিন, কিন্তু অনেক দূরে। একটা কলপাড়ের পাশে, আরেকটা দুই ইটের দালানের মাঝামাঝিতে। এই নির্জন নিশীথে উঠোন পেরিয়ে এতদূর একা যাওয়া কী তার মতো ভীতু মেয়ের পক্ষে সম্ভব? ভাবতেই কান্না পেলো মিছরির। শেষে আর সামলাতে না পেরে লজ্জার মাথা খেয়েই লোকটার পিঠে জোরে চিমটি কেটে বললো,“আমি লেট্রিনে যাবো, উঠুন।”
ব্যথায় চোখমুখ কুঁচকে উঠে বসলো নাজির। মেয়ের হাতে জোর আছে। ব্যথাতুর স্থানে আঙুল ঘষে দাঁত কিড়মিড় করে বললো,“ফাজিল ছেরি, লেট্রিনে গেলে যা। আমারে চিমটি দিলি ক্যান? ঘুমডা ভাইঙ্গা দিছে। সারাদিন ঘুমানের সময় আছে আমার?”

“এতদূরে একা একা যাবো কীভাবে?”
“পায়ে হাইট্টা।”
“আমার ভয় লাগে।”
“আর কী লাগে?”
মিছরি সেই প্রশ্নের উত্তর দিলো না। অন্ধকারের মধ্যেই দৌড়ে গিয়ে কাঠের দরজার খিল খুললো। পেছনে তাকিয়ে বললো,“হারিকেন জ্বালিয়ে দ্রুত আসুন।”
নাজির মুখে কিছু বললো না। মনে মনে একশটা গালি দিয়ে দ্রুত হারিকেন জ্বালিয়ে চললো তার পিছুপিছু। মেয়েটাকে খালি হাতেই ভেতরে ঢুকতে দেখে ধমকে বললো,“বদনা ভইরা পানি নিবো কেডায়? আমারে ডাকলেও কিন্তু আমি দিতে আইমু না।”

মিছরি চুপচাপ গিয়ে পানি ভরে আনলো। দরজার শিকল লাগাতে লাগাতে বললো,“এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবেন। একদম নড়বেন না বলে দিলাম।”
“হ, তোর বাপের বিনা পয়সার পাহারাদার আমি।”
কিছু সময় এভাবেই গড়ালো। দুই হাত পেছনে রেখে নাজির দাঁড়িয়ে রইল চুপচাপ। ঘুমে ঢলছে। হারিকেন সঙ্গে করে ভেতরে নিয়ে গেছে মিছরি। তবুও কেন যেন নাজির নামক লোকটার প্রতি তার বিশ্বাস নেই। তাই ডাকলো,“আপনি আছেন তো?”
বিপরীত থেকে উত্তর এলো না। তাই মেয়ের ভয় বাড়লো। উদগ্ৰীব হয়ে পুনরায় ডাকলো,“এই, এই, আপনি চলে গেছেন?”

“এই এই মারাস ক্যান, নডী? রাইতের বেলা তামাশা জুইড়া দিছে। হুদাই বিয়া করলাম, ঢং!” ত্যাছড়া স্বরে বললো।
“একদম নোংরা কথা বলবেন না।”
“একশবার কমু। আমার সুন্দর নাম আছে, নাজির কইয়া ডাকবি।”
“স্বামীর নাম মুখে নেওয়া পাপ।”
“কেডায় কইছে?”
“সবাই বলে, আমাদের বাড়ির কেউ নাম ধরে ডাকে না।”
“পাপ না, ছুডো বেলায় ধর্মীয় শিক্ষা মনে হয় ভালা কইরা পাস নাই।” একটু থেমে কিছু একটা ভেবে হেসে ফেললো,“ওহ, তুই তো এহনো ছুডোই। যাক গা, নাম ধইরা ডাকতে না পারলে সোয়ামি কইয়া ডাকবা, চুনা বউ। তবুও এই এই মারাইবা না। মেজাজ খারাপ হইয়া যায়।”
“আচ্ছা।”
“এইবার তাড়াতাড়ি বাহির হও।”
বের হতে কিছুটা সময়ই লাগলো মিছরির। বাড়ি থেকে একগাদা খাবার খেয়ে এসেও ঝাল ঝাল ভর্তা দিয়ে পিঠা খাওয়ায় পেট ব্যথা করছে তার। কলপাড় থেকে হাত-পা ধুয়ে চলে এলো ঘরে।

ভোরের আলো ফুটুক আর না ফুটুক, গৃহস্থ বাড়ির নারীদের ঘুম ভাঙে ফজরের আজানের ধ্বনিতে। ঘুম থেকে উঠে তারা নামাজ আদায় করে কোরআন তেলাওয়াত করে, চারিদিকে মো মো করে সেই অন্তর শীতলকারী সুর। আমিরুল, মুমিনুল শাহ ওঠেন বেলা করে। ধর্মীয় রীতিনীতি মানেন খুব কম। নাজমুল, জাহিদ বাদে বাকিগুলোও হয়েছে বাপ, চাচার মতো। এই দুটোই মাঝেমধ্যে নাজিরের পিছুপিছু যায় নামাজ পড়তে।
পুরো বিছানা দখল করে বালিশ জড়িয়ে ধরে শান্তির সহিত ঘুমাচ্ছিল মিছরি। ঘুমালে তার হুঁশ থাকে না। প্রথম রাত খারাপ কাটলেও শেষ রাতে ঘুমটা বেশ ভালোই হয়েছে তার। কিন্তু সেই ঘুমটা বোধহয় সহ্য হলো না কারো। মোরগের ডাক, হাঁসেদের প্যাক প্যাক আর বাচ্চাদের চেঁচামেচি ভেসে আসছে। তারচেয়েও সবচেয়ে বিরক্তিকর ব্যাপার হচ্ছে, কেউ তার শরীরে একনাগাড়ে ধাক্কা দিচ্ছে।শেষমেশ সব সীমা অতিক্রম করে কানের ধারে চিৎকার করল,“ঝাক্কাসের নাতি, জমিদারের বেটি ওঠেন ঘুম থাইক্যা। আমনের লাইগা আমনের শ্বশুরবাড়ির মাইনষেরা অপেক্ষা করতাছে।”

ভয়ে লাফিয়ে উঠলো মিছরি। বুকে একদলা থুথু ছিটিয়ে ফোলা ফোলা চোখ মেলে তাকালো সামনে। নাজির দুই হাত পেছনে রেখে দাঁড়িয়ে আছে। চুল ভেজা, পরনে লুঙ্গি আর গলায় ঝুলছে গামছা। তাকে দেখে আমতা আমতা করে মিছরি জিজ্ঞেস করল, “সকাল হয়ে গেছে?”
“না, আমনের লাইগা এহনো আন্ধার।”
“এভাবে কেউ ডাকে? আপনি খুব খারাপ লোক।”
“আহারে, ভালা মাইনষের মাইয়া! নামাজ কালাম পড়া বাপ, মায় শিখায় নাই?”
“শিখিয়েছে।”
“তাইলে ফজরের সময় এতগুলা ডাক দেওনের পরেও উঠো নাই ক্যান?”
“আপনি ভালো করে ডাক দিতে পারেননি তাই।”
“মুখে দেহি খই ফোডে। তোরে কী কোলে তুইল্যা আদর কইরা ঘুম ভাঙামু?”
“তুই তুকারি কেন করছেন? কোনো সহবোধ নেই?”

নাজিরের ভালো মেজাজ চটে গেলো। ঢপাস করে বসে পড়ল বিছানায়, মিছরির শরীর ঘেঁষে মুখোমুখি। হাত দিয়ে কোমর চেপে ধরে নিজের কাছে টেনে এনে বললো,“আমার সহবোধ নাই? কত্ত বড়ো সাহস মাইয়ার! সকাল সকাল আকাম করমু?”
মিছরি ভয় পেলো। ছটফট করতে করতে পিছিয়ে যেতে চাইলো। কিন্তু শক্ত হাতের বাঁধনের সঙ্গে পেরে উঠলো না। নাজির পাঁশুটে মুখে বললো,“ছটফট করো ক্যান আমার ভবিষ্যৎ পোলাপাইনের মা? উমম, মুখে গন্ধ! যাও দাঁত মাইজ্জা আইয়ো।”

নাজির সরে গেলো। আলনা থেকে শার্ট নিয়ে পরতে লাগলো। মিছরি বাকরুদ্ধ হয়ে লোকটার দিকে তাকিয়ে আছে। একে বুঝা হয়তো তার মতো ছোট্ট মস্তিষ্কের অধিকারী কিশোরীর পক্ষে সম্ভব নয়। বিড়বিড় করে বললো,“অদ্ভুত, অদ্ভুত, অদ্ভুত!” তারপর দাঁতের মাজন নিয়ে চলে গেলো বাইরে।
মুখ ধুয়ে ঘরে ফেরার পথে দেখা হয়ে গেলো ফরিদার সাথে। মহিলা হাস্যোজ্জ্বল মুখে তার দিকে তাকিয়ে বললেন,“এহন গোসল করবা?”
মিছরি অপ্রস্তুত হলো। উত্তর দেওয়ার আগেই তিনি বললেন,“আমার আবার রান্ধা বসাইতে হইবো। সবাই খাইয়া হেরপর কামে যাইবো। ওইদিকে কলিমের মার এহনো আওনের সময় হয় নাই। উঠানডা একটু ঝাড়ু দিয়া দিবা, মা?”

মহিলার উচ্চতা মিছরির কাঁধ সমান, দেখতে রোগা হলেও চেহারায় আছে মিষ্টতা। বয়স বাড়ন্ত হলেও কণ্ঠস্বর সুন্দর বলা যায়। সেই সুন্দর কণ্ঠের বিপরীতে না শব্দটা মুখ দিয়ে আর বের হলো না। মিছরি মাথা নাড়িয়ে ওড়না দিয়ে মুখ মুছলো। ফরিদা তার হাতে ঝাড়ু ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলেন রান্নাঘরে। ঝাড়ু হাতে চারিদিক লক্ষ্য করতেই মিছরির মাথাটা যেন ঘুরে উঠলো। এত বড়ো উঠোন একা একা কীভাবে ঝাড়ু দেবে সে? এসবে মেয়েটা যে ভীষণ আনারি! তাদের উঠোনই ঝাড়ু দেয় বড়ো ভাবি আর জায়েদার মা মিলে। অথচ সে একা! তবুও যতটুকু পারলো সময় নিয়ে ঝাড়ু দিলো মিছরি। কোমর ব্যথা হয়ে গিয়েছে। শরীরটাও গরমে ঘেমে উঠেছে। ঘন ঘন শ্বাস ফেলে হাঁপাচ্ছে সে।
“আসসালামু আলাইকুম, ভাবি।”

এক হাতে ঝাড়ু আর অন্য হাত কোমরে গুঁজে পিছু ফিরে তাকালো মিছরি। দৃষ্টিগোচর হলো দাঁত কপাটি বের করে হেসে দাঁড়িয়ে থাকা মিল্টনের দিকে। চিনতে অবশ্য অসুবিধা হলো না। এই লোকটাও বর্তমানে তার স্বামী নামধারী ঘরের লোকের সাথে মিলে তার ভাইকে মারার হুমকি দিয়েছিল। তাই অসন্তুষ্ট হয়ে মলিন মুখে ঘুরে দাঁড়ালো। মিল্টনের হাসি মিলিয়ে গেলো। জিজ্ঞেস করল,“ভাবি কী কোনো কারণে আমার উপরে নারাজ?”
এবারেও উত্তর এলো না। ফের বললো,“এই অধমের কোনো ভুল থাকলে মাফ কইরা দিয়েন, ভাবি। ভাইজানের লগে বিয়া হওয়ার আগে যদি কিছু কইয়া থাহি তাইলে ভুইল্যা যাইয়েন। এবার কন, ভাইজান কই?”
জবাব না পেয়ে হতাশ হলো মিল্টন। নাজির ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। ঝাড়ু হাতে স্ত্রীকে দেখতেই বলে উঠলো,“হায়হায়, মাস্টর বাড়ির মাইয়া শাহ বাড়ির উঠান ঝাড়ু দিতাছে! এ কেমন চিত্র? এই চোখ দুইডা দিয়া যে এমন কিছু দেখতে পামু কহনো কী ভাবতে পারছি? আমার কান্দন আইতাছে রে, বল্টু।”

রাগে শরীর জ্বলে উঠলো মিছরির। ললাটে ভাঁজ পড়ল বেশ কয়েকটা। হাতের ঝাড়ুটা উঠোনে ছুঁড়ে ফেলে ধাপধুপ পা ফেলে চলে গেলো ঘরে। নাজির তার যাওয়ার পথে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টে বললো, “মাইয়া দেহি রাগও করতে জানে!”
মিল্টন বললো,“বিয়াইত্তা জীবন কেমন কাটতাছে, ভাইজান?”
“তোরে কমু ক্যান? তুইও বিয়া কইরা দেখ।”
লজ্জায় মাথা নুইয়ে নিলো মিল্টন। তড়াক করে কিছু মনে পড়তেই নাজির বললো,“তুই আর লতিফ মিল্যা কাইল ওই বাড়িত আমারে একলা ফালাইয়া আইয়া পড়ছিলি ক্যান, গোলামের পুত?”
ভয়ে নড়েচড়ে ওঠে মিল্টন। আমতা আমতা করে বললো,“আমনের শ্বশুরবাড়িত আমরা থাইক্যা কী করমু? তার উপর মিলে অনেক কাম পইড়া আছিলো, ভাইজান। তাই চইল্যা আইছিলাম, আর গরুরে খাওন দেওয়ার লাইগা লতিফরে পাঠাইছিলাম বাড়িত।”

নাজির শান্ত হলো কিছুটা। মিল্টন বললো,“চাবি দেন, ভাইজান। মিল খুলি গিয়া।”
“এহন? সকালের ভাত খাইয়া যা।”
“বাড়িত থাইক্যা খাইয়া আইছি। আম্মায় খিচুড়ি পাক করছে। এহন চাবি নিতে আইছি।”
নাজির আর জোরাজুরি করল না। চাবিটা এনে দিয়ে দিলো হাতে। এমনিতেও বাড়িতে তার কাজের অভাব নেই। সকালের খাওয়া-দাওয়া শেষে বারান্দায় বড়ো একটা ডেকচি নিয়ে বসলো সে। গোয়ালের কয়েকটা গরু অসুস্থ। তাই পশুর ডাক্তার থেকে ওষুধ এনেছে। সেগুলোই পানির সাথে মেশাচ্ছে। নওশাদ তার থেকে কিছুটা দূরে বসা। ছোটো ভাইকে উদ্দেশ্য করে বললো,“ফিরবি কবে?”

“কাল, পরশু।”
“শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হইয়া?”
নওশাদ লজ্জায় মৌন রইলো। লিলি জানালার কাছে থাকায় শুনলো সেকথা। বেরিয়ে এসে বললো, “এভাবে বলছেন কেন? থাকলে কী হয়?”
নওশাদ চোখ রাঙালো তাকে। কিন্তু লিলি সেই চোখ রাঙানিকে ভয় করে না। নাজির শীতল কণ্ঠে বললো, “অনেক কিছুই হয়। শাহ বাড়ির পোলারা ঘরজামাই থাকে না। এই নিয়মও কোত্থাও নাই।”
“তো কোথায় থাকবে? ভাড়া বাড়িতে?”
“থাকলে থাকবো। শহরে যে ওর বাড়ি নাই এইডা জাইনাই তো বিয়া করছো, তাই না? তাইলে এহন এত লাগে ক্যান?”

লিলি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। নাজির বললো,“আমি লোক দিয়া তোমার বংশের খোঁজ নিছি। তোমার দাদা দিনমজুর আছিলো। অন্যের ক্ষেতে কামলা দিয়া পেট চালাইতো। তোমার আব্বায় বৃত্তির পয়সায় লেখাপড়া কইরা এতদূর আইছে। খরচ চালানের লাইগা শহরে কুলির কামও করছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ওই যে লুটপাট হইছিলো? হেরপরে নতুন নতুন ট্যাহা পয়সা কামাইয়া জমি কিইন্না শহরে বড়ো বাড়ি করছে। তাই তোমার এই দেমাগ আমগো সামনে দেহাইয়ো না, বোইন। আমরা জাত বড়লোক। জমিজমা, ট্যাহা পয়সার অভাব নাই। ওই যে গোয়ালে যা গরু আছে তা বেইচ্চা তোমারে সোনা দিয়া মুড়াইয়া দেওয়া যাইবো। ঘরবাড়ি, জমিজমা হিসাব করতে গেলে তোমার বাপ বেইল পাইবো না। যদিও কোনো কাম ছুডো না, কিন্তু তোমার লাহান দেমাগী মাইয়া মানুরে এতটুকু না কইলেই না। যেই জামাইরে কথায় কথায় চোখ রাঙাও তারে জিগাইয়া দেইহো কহনো খাওয়ার কষ্ট, অর্থের কষ্ট করছে নাকি। তোমার জামাই এতদূর আইছে আমার অবদানে, তোমার বাপের অবদানে না। তাই কথার মাঝখানে বাম হাত ঢুকানের স্বভাব বাদ দেও।” তারপর নওশাদের দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বললো,“আত্মসম্মান যদি একটুও থাইক্যা থাকে তাইলে ঘর ভাড়া কইরা থাকবি। ট্যাহা পয়সা যা লাগে আমি না হয় দিমু। বউ কথা না হুনলে সোজা তালাক। এমন অবাধ্য বউ দিয়া কহনো জীবন চলবো না। ভবিষ্যতে আফসোস করার থাইক্যা বর্তমানে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ঢের ভালা। যা করবি নিজের যোগ্যতায় করবি।”

আমিরুল শাহ কেদারায় বসে পান খেতে খেতে দুই ভাইয়ের কথা শুনছিলেন এতক্ষণ। মাথা নাড়িয়ে এবার তিনি সায় জানিয়ে বললেন,“নাজিরের কথা ঠিক। শ্বশুরবাড়ি থাকা মানে মেরুদন্ড ভাইঙা যাওয়া, শরমে দিন পার করা। এর থাইক্যা নুন-ভাত খাওয়া ভালা। বড়ো গো কতা হুনতে হয়, নওশাদ। পুরুষ মানুষ বউয়ের কথায় ক্যান চলবো?”
নাজির বললো,“বউ ভালা হইলে, বুদ্ধিমতী হইলে বউয়ের কথা শোনাই উচিত। কিন্তু বউ যদি ডাইনি হয় তাইলে না শোনাই ভালা।”
প্রসঙ্গ বদলে কথার মাঝখানে ফরিদা বলে উঠলেন, “ভালা কথা মনে পড়ছে। বিয়ার সময় যে তোর বউরে গা ভর্তি গহনা দিছিলাম হেগুলা কইরে, নাজির?”

“বউয়ের কাছেই।”
“তোর বউরে ডাক।”
নাজির ডাকলো,“তালমিছরি!”
এক ডাকেই চলে এলো মিছরি। ফরিদা এবার মিছরির উদ্দেশ্যে বললেন,“গহনাগাটি কই রাখছো, বউ? বিয়া, বউ ভাত তো শেষ এইবার সব ফেরত দেও।”
মিছরি ঘরের দিকে ফিরে যাচ্ছিলো। নাজির তার দিকে তাকিয়ে ধমকালো,“নাইচা নাইচা কই যাও? আমারে জিগাইছো?”
“উনি বললেন যে!” মিনমিন করে বললো।
“তোমার স্বামী কেডা? আমি না উনি?”
“আপনি।”
“তাইলে?”

মিছরি চুপ। নাজির চাচীর উদ্দেশ্যে বললো,“ফেরত দিবো ক্যান, চাচী?”
ফরিদা বললেন,“ওইগুলা তো আমার গহনা। তার মধ্যে আবার কিছু পারভেজের বউয়ের লাইগা তুইল্যা রাখছিলাম। হঠাৎ কইরা বিয়া ঠিক হওয়ায় তোর বউরে পরতে দিছি। নতুন বউরে তো আর এমনি এমনি তুইল্যা আনা যায় না।”
“কয় ভরি দিছিলেন?”
“একশ ভরি তো হইবোই।”
“তাইলে আমার বউয়ের গয়না কই? নওশাদের বউরেও তো কিছু দেন নাই।”
আমিরুল শাহ স্ত্রীর হয়ে বললেন,“তগোডা কই আমরা জানি? তোর মায় পলানোর আগে সবকিছু লইয়া পলাইছে, তোর বাপে কতগুলা বছর ধইরা বিছানায় পড়া। আমগো কী করার আছে?”
নাজির হাত ধুয়ে সোজা হয়ে বসলো। ছোটো ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,“দেখছোস কেমনে পল্টি খায়? আমগো বাপের ভাগের সব জমি রাক্ষসের লাহান একলা ভোগ করতাছে অথচ কয় আমগো কী করার আছে? হেগো মাঝখানে তোরে একলা হাতে বড়ো করছি। নিজ চোক্ষে দ্যাখ।”

জমিজমা, অর্থকরীর ব্যাপারে নাওশাদ তেমন কিছুই জানে না। ভাই তাকে কখনোই এসবের মধ্যে জড়াতে দেয়নি। চাচাদের নির্মমতা শুধু এতকাল শুনে এসেছে সে। নাজির চাচা-চাচীর উদ্দেশ্যে বললো,“অনেক আগেই কইছি আমি আব্বার মতন না, চাচা। আব্বার মতন হইলো নওশাদ। নরম মনের মানুষ, যা বুঝাইবেন তাই বুঝবো।”
আমিরুল শাহ ত্যাছড়া স্বরে বললেন,“কী কইতে চাস? এক কথা বারবার কস ক্যান? গহনা লইয়া ঝামেলা করবি না, নাজির। সব ফেরত দে। রাগ উঠাইস না।”
নাজির শক্ত কণ্ঠে বললো,“এক আনাও দিমু না। কী করবেন কইরা দেহান।”
“নাজির!”

“চিল্লাইয়েন না। আমার উপরে কেউ চিল্লাইলে আমার সহ্য হয় না। আব্বা, আম্মার বিয়ার ছবি আমার কাছে আছে। ঘর পরিষ্কার করতে গিয়া ছুডোবেলায় পাইছিলাম। চেহারা ভুইল্যা যাওয়ার ভয়ে যত্ন কইরা নিজের কাছে রাইখা দিছিলাম এতদিন। অনেক হিসাব-নিকাশ বাকি আছে। সবার থাইক্যা একে একে নিমু। বড়ো চাচী আমার বউরে যেই গয়না দিয়া এহন নিজের বইল্যা দাবি করতাছে হেইগুলা আমি দেখছি। আশ্চর্যের ব্যাপার হইলো, হেই গয়নাগুলা এক্কেবারে ছবিতে আমগো আম্মায় যেই গয়না পরছে তার লগে মিলে। অর্থাৎ সব একই গয়না। বিয়ার সময় একশ ভরি স্বর্ণালঙ্কার দিয়া আমার আম্মারে ঘরে তুলছিল দাদায়। তহন সোনার দাম আছিলো কম, আর দাদাও খুব ধনী। সে নিশ্চয়ই এক পোলার বউয়ের গয়না আরেক পোলার বউরে দিবো না?

যাত্রাপথ পর্ব ২৫

তার মানে সব গয়না আমার আম্মার। আর পলানের সময়ও আম্মায় কোনো গয়না লগে কইরা নেয় নাই। বরং সব নিয়া আলমারিতে হান্দাইয়া রাখছিলেন আমনেরা। তাই গয়নাগুলার প্রকৃত মালিক আমরা দুই ভাই। আর আমগো যা তা তো আমগো বউয়েরই।”
উপস্থিত সকলেই হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে গেলো। মৃদু হেসে উঠে দাঁড়ালো নাজির। বললো,“আমি যেমনই হই না ক্যান, আমনেগো মতো ভাইরে ঠকানোর মতো মানুষ না। আমনেগো লগে আমার পার্থক্য এনেই। এই গয়না দুই ভাগ হইবো, একেবারে সমান সমান। পঞ্চাশ আমার বউয়ের, বাকি পঞ্চাশ নওশাদের বউয়ের। পরবর্তী বাড়তি পঞ্চাশ আমি নিজের পয়সায় নিজের বউরে গড়াইয়া দিমু।”

যাত্রাপথ পর্ব ২৭