রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৩৮
সিমরান মিমি
রোহান ব্যস্ত পায়ে ছুটে এলো বাড়ির ভেতর। মুখে আনন্দের হাঁসি। উত্তেজনা দমাতে পারছে না কিছুতেই। একহাতে ফোন স্ক্রল করতে করতে ড্রয়িংরুমে ঢুকলো। শামসুল সরদারের দিকে তাকিয়ে ‘ কাকা’ বলে ঠোঁট এলিয়ে হেঁসে দিলো। খলিলুর ছেলের খুশি দেখে নিশ্চিন্ত হলেন। বললেন,
— কি হয়েছে? খবর কিছু পেয়েছিস?
রোহান গা এলিয়ে সোফায় বসলো। দম নিয়ে বললো,
— ঊনসত্তর টা কেন্দ্রের ফলাফল পেয়েছি। আমরা এগিয়ে আছি এখনো। পরশ শিকদারের থেকে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ভোট বেশি পেয়েছে কাকা।
স্পর্শীর চোখ দুটো চকচক করে উঠলো খুশিতে। উৎফুল্ল কন্ঠে বললো,
— আমি জানতাম, আব্বুই জিতবে। যতটা গণজোয়ার দেখেছি, তাতে কেন্দ্রে বসেই নিশ্চিত ছিলাম।
খলিলুর বিচক্ষণতার সাথে ভাবলেন। বললেন,
— এখনো চৌত্রিশ’টা কেন্দ্র বাকি। সেদিকে কি খবর, শুনেছো কিছু?
— হ্যাঁ, লোক আছে সেসব জায়গায়। আমাকে তো ওরা দুপুরেই জানিয়ে দিয়েছে। ভোট প্রায়শই লাঙ্গল মার্কায় পড়েছে। আব্বু আপনি নিশ্চিত থাকেন, কাকা পুণরায় ক্ষমতায় বসবে। চতুর্থ বারের মতো। এরপর পরশ শিকদারকে দেখে নেবো আমি। ওর সাথে একটা পুরোনো হিসাব বাকি রয়েছে।
স্পর্শী বাঁধ সাধলো। কপালে সরু ভাঁজ ফেলে বলে উঠলো,
— এসব কি ধরণের কথা ভাইয়া। পেছনে যা গেছে সব বাদ দাও। এসব মারামারি, বিশৃঙ্খলা আমার ভালো লাগে না। ক্ষমতায় আসার পর এমন ভাবে শাসন করা উচিত, যেনো প্রতিপক্ষের ভোটার রাও পরবর্তীবার আমাদের ভোট দেয়। ভালোবেসে।
রোহান চমকালো। রাজনৈতিক বিষয়ে মেয়েলি কথাবার্তা মোটেও পছন্দ না তার৷ বিরক্ত লাগে। ধমক দিয়ে বললো,
— তুমি চুপ থাকো। এসব বিষয়ে মাথা না ঘামালেও চলবে।
স্পর্শী চোখ দুটো ছোটো ছোটো করে তাকায়। রিহানের বিরক্তিকর কথার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বলতে যাবে এমন সময় কথা বলে ওঠেন শামসুল। বললেন,
— দুজনেই চুপ করো।
খলিল ভাইয়ের দিকে তাকায়। শামসুলের চোখ-মুখ গম্ভীর। তিনি বললেন,
— ভাইজান কি কোনো কিছু নিয়ে চিন্তিত। আরেহ, পরশ শিকদার তো হেরে যাচ্ছে আপনার কাছে।
শামসুল মাথা নাড়ালেন। গম্ভীর হয়ে বললেন,
— এখনো হারে নি খলিল। আর তাছাড়াও ভোটের ব্যবধান মাত্র সাড়ে সাত হাজার। আমি তো আরো বিস্তৃত ব্যবধান আশা করেছিলাম। ভাবতেই পারছি না, এতোগুলো ভোট ও কি করে পেলো? আমার আসনে কারা দিলো ভোট!
— আপনি শান্ত হোন ভাইজান। হয়তো আমজাদ শিকদারের সাপোর্টার রা ভোট দিয়েছে। যারা গত পনেরো বছর কোনো শব্দ করে নি।
দুই ভাইয়ের আলোচনার মধ্যে হঠাৎ ই রোহান আঁতকে উঠলো। স্তব্ধতায় মুড়িয়ে গেলো তার মুখাবয়ব। আশ্চর্যের সপ্তমে পৌছে বললো,
— আরো এগারোটা কেন্দ্রের ফলাফল দিয়েছে। ব্যবধান এখন মাত্র বত্রিশশো (৩২০০)। এই কেন্দ্রগুলোতে এতো ভোট কি করে পেলো পরশ। ওখানে তো সবাই আমাদের লোক ছিলো।
ড্রয়িংরুমের সকলে আবারো গম্ভীর হয়ে গেলো কারোর মুখে টু শব্দটাও নেই। খলিলুর সরদার, রোহান, শামসুল তিনজনেই ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত। আর্শিয়া মলিন মুখে স্পর্শীর দিকে তাকালো। তার ভালো লাগছে না। এই তো সবাই কত খুশি ছিলো। তার বাবা তাকে বুকে জড়িয়ে বসে ছিলো কতক্ষণ। এর মধ্যেই এমন কিছু ঘটার কি কোনো প্রয়োজন ছিলো? সে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলো। নরম গলায় শুধালো,
— বত্রিশ শো ভোট তো কম না। হতে পারে বাকি কেন্দ্র গুলোর ভোট গণনার পরে ব্যবধান আরো বেড়ে গেলো। তাছাড়া ব্যবধান যাইই হোক জয়ী হলেই তো হবে। তোমরা শুধু শুধু দুশ্চিন্তা করছো।
স্পর্শী আর্শিয়ার সুরে তাল মেলালো। গম্ভীর কন্ঠে বললো,
— আর্শি ভুল কিছু বলেনি। এতো দুশ্চিন্তা করবে না আব্বু। তোমার শরীর অসুস্থ। যা হবে, তা দেখা যাবে।
খলিল চেঁচিয়ে উঠলো ফোনে। দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
— তোরা ওখানে আছিস কি করতে? আবার গণনা কর।
ফোন কেটে দিলো। চোখ বন্ধ করে গা এলিয়ে দিলো সোফায়। ড্রয়িংরুমে উপস্থিত সকলে চমকে গেলো। শামসুল জিজ্ঞেস করলেন,
— কি হয়েছে আবার?
— ভাইজান, এসব কি হচ্ছে? আমার তো বিশ্বাস ই হচ্ছে না। আর মাত্র ৮ টা কেন্দ্র বাকি। অথচ ভোটের ব্যবধান মাত্র তিনশো আঠারো। জ্বালিয়াতি হচ্ছে না তো আবার।
সকলে চমকে গেলো। রিহান তৎক্ষনাৎ কল করলো শেষের কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্টদের। ধমকে বললো,
— কি করছেন আপনারা? যে কেন্দ্র গুলোতে আমাদের ভোটার বেশি সেসব কেন্দ্রে পরশ শিকদার কি করে এতো ভোট পাচ্ছে?
ওপাশের লোকটা কি বললেন তা শোনা গেলো না। রিহান কথা শেষ করে নিস্তেজ হয়ে বসলো। কাকার উদ্দেশ্যে বললো,
— ওরা বলছে ভোটের কোনো জ্বালিয়াতি হয়নি। সামনে দাঁড়িয়ে দু দুবার গুণেছে। ধুর!!!
প্রত্যেকে দুশ্চিন্তায় তটস্থ হয়ে আছে। আর মাত্র আট টা কেন্দ্র। কি হবে, কি হবে — এই শব্দদুটো নিঃশ্বাসের ন্যায় মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে কি হেরে যাবে শামসুল সরদার। সেটাও দুদিনে রাজনীতিতে নামা এক হাটুর বয়সী ছেলের সাথে। যার বাবা ক্ষমতায় থাকাকালীনও শামসুল সরদারের দাপটের সামনে টিকতে পারে নি। স্পর্শী বাবার অস্থিরতা দেখলো। দ্রুত কাছে এগিয়ে হাতটা দুহাতের মুঠোয় শক্ত করে চেপে ধরলো। সান্ত্বনা দিয়ে বললো,
— শান্ত হও আব্বু। তুমি অসুস্থ। যা হয় হোক, তুমি অলরেডি সর্বোচ্চ সময় ক্ষমতায় থেকেছো। এ বছর যদি না হয়, তাহলে না হোক। কিন্তু আগামীবার পুণরায় এক যুগের জন্য ক্ষমতায় আসবে তুমি। ভরসা রাখো।
শামসুল কিছুতেই সস্তি পাচ্ছে না। হঠাৎ তার ফোন বেজে উঠলো। রিহান কল করেছে। ছেলেটা ওপাশ থেকে অস্থির কন্ঠে বললো,
— কাকা, চিন্তা করো না। ব্যবধান আবারো বাড়ছে। আরো চারটা কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী পরশ শিকদার এখনো সাড়ে ছয়শো ভোট পিছিয়ে আছে। আমাদের ব্যবধানের দরকার নাই। জিতলেই হলো। এরপর দেখবো, কে কে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
এতো চিন্তার মধ্যে একটুখানি সস্তি পেলো সবাই। তবে সেই শীতলতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। প্রায় পনেরো মিনিট পর বেসরকারি ভাবে ফলাফল ঘোষণা হয়ে গেলো। যেখানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পরশ শিকদারের কাছে আটশত ত্রিশ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন শামসুল সরদার। উক্ত ঘোষণা শোনার পর সরদার বাড়ির ড্রয়িংরুমটা কিছুক্ষনের জন্য নিস্তব্ধ হয়ে গেলো। প্রত্যেকের স্থির দৃষ্টি, মলিন চেহারা নিমিষেই বিষাদে রুপান্তরিত করলো পরিস্থিতিকে। বাতাস ক্রমশ ভারী হয়ে উঠলো দীর্ঘশ্বাসে। স্পর্শীয়া শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো বাবাকে। তার দেখাদেখি আর্শি নিজেও বাবাকে দুহাতে ঝাপটে ধরলো। কিন্তু এতোটুকুতেই কি বিরহ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়? শামসুল খানিকক্ষণ নিস্তব্ধতায় বিষাদ বিসর্জন দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। হুংকার ছুড়ে বললেন,
— আমি নিজে যাবো। শেষ চৌত্রিশ কেন্দ্রে সরাসরি দাঁড়িয়ে ভোট গণনা করাবো। তার আগে কিছুতেই হার মানবো না।
নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন জেলা পর্যায়ে দায়িত্বাধীন অফিসার একথা পরশ শিকদারকে জানালেন। সে সময়ে পরশ সবেমাত্র আল্লাহর নিকট শুকরিয়া জানিয়ে উঠেছে। পুণরায় ভোট গণনা হবে, একথা শোনার পর পরশ বললো,
— বেশ! তবে শামসুল সরদারের সাথে আমিও একই কেন্দ্রে
দাঁড়িয়ে পুণরায় ভোট গণনা করবো। কিন্তু সে একা কিছুতেই কোনো কেন্দ্রে যেতে পারবে না।
অফিসার শুনলেন এবং সম্মতি জানালেন। অতএব, জয়ী হবার পরেও পুণরায় যেতে হলো পরশকে।
শামসুল সরদার সহ বাড়ির ছেলেরা যখন বাড়িতে ফিরলো, তখন রাত সাড়ে তিনটা। স্পর্শীয়া জেগেই ছিলো। অপেক্ষা করছিলো বাবার জন্য। ভেবেছিলো ইতিবাচক কোনো খবর আসবে। কিন্তু বাবার মলিন মুখশ্রী দেখে যা বোঝার বুঝে ফেললো। হয়তো ফলাফল পরিবর্তন হয়নি। স্পর্শীয়া নিজেও ভীষণ আশাহত হলো। তবে বাবার সামনে আর বের হলো না। এখন কোনোভাবে সান্ত্বনা দিতে গেলে বাবা হয়তো কষ্ট পাবে। পরশের সাথে হেরেছে বলে নিজেকে ছোটো মনে করবে। এর থেকে না যাওয়াই উত্তম।
তবে এভাবে বেশিক্ষণ নিজের রুমেও বসে থাকতে পারলো না। প্রায় আধ ঘন্টা পর স্পর্শীয়া হেঁটে গেলো বাবার ঘরের সামনে। যা ভেবেছিলো তাই। শামসুল ঘুমায়নি। বরং সারা ঘরের আলো নিভিয়ে বসে আছে চেয়ারে, খোলা বারান্দায়। নাহ! এভাবে বাবাকে কষ্ট পেতে দেখতে পারবে না স্পর্শীয়া। এমন কিছু করতে হবে, যেনো কষ্ট পাওয়ার আগেও সে কিছু ভেবে ঘটনা ভোলার চেষ্টা করে।
সে ধীর পায়ে হেটে গেলো বারান্দায়। আবছা অন্ধকারে বাবার চেয়ারের পায়ার কাছে বসলো। মাথাটা শামসুলের হাটূড় উপর রেখে নাক টেনে বললো,
— তুমি ভীষণ কষ্ট পাচ্ছো, তাই না আব্বু? সরি!
শামসুল হয়তো কোনো উত্তর দিতেন না। কিন্তু মেয়ের ক্ষমা চাওয়ার কথা শুনে অবাকই হলেন। বললেন,
— তুমি কেনো সরি বলছো আম্মু?
— আমার জন্যই তো এমনটা হয়েছে। আমিই তো দায়ী। অভিমান করে বাড়ি থেকে না গেলে তুমি সে কদিন সুন্দরভাবে প্রচারণা করতে পারতে। কিন্তু আমার উগ্রতার জন্য তেমনটা হলো না। ভীষণ অনুশোচনা হচ্ছে। কেনো এমন পাগলামি করলাম আমি? ইশশ! এতো অল্প একটা সংখ্যা! তুমি নিঃসন্দেহে জিতে জেতে। পারলে না শুধু আমার জন্য।
স্পর্শীয়া বলতে বলতে ফুপিয়ে উঠলো। শামসুল অবাক হলেন। স্পর্শীয়া এসব ভেবে ভেতরে ভেতরে গুমরে মরছে একথা ভাবতেই কেমন লাগছে। শামসুল দ্রুত মেয়েকে সান্ত্বনা দিয়ে বললো,
— এসব কি বলছো মা? তোমার কোনো দোষ নেই এখানে। আচ্ছা, তুমিই বলো – যারা আমাকে সমর্থন করে তারা কি দুদিন প্রচারণা বাদ দিলেই আমায় ভুলে যাবে? এমনটা নয়। এই হার আমার ভাগ্যে ছিলো।
— কিন্তু তাও! এ দুদিনে আমাকে না খুঁজে তুমি যদি প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে যেতে, গ্রামাঞ্চলের সাধারণ লোকেদের সাথে কথা বলতে ; তাহলে নিশ্চিত জিততে।
শামসুল ভাবলেন। মাথা ঝাকিয়ে বললেন,
— তা অবশ্য ঠিক। তবে আমি গত পনেরো বছর ধরে ক্ষমতায়। আমাকে সবাইই চেনে। যারা আমায় ভোট দেবে না তারা এমনিতেও দেবে না। তুমি এসব নিয়ে মন খারাপ করো না। মাত্র আটশো ভোট। শামসুল সরদার তার প্রতিপক্ষের কাছে হাজার ভোটেও হারে নি। এটা হার নয়, শুধুমাত্র একটা সংখ্যা! ভুলে যাও এসব।
শামসুল উলটো স্পর্শীয়াকে সান্ত্বনা দিয়ে ঘুমানোর জন্য ঘরে পাঠালো।
নির্বাচনের পরের দিনটা বেশ অদ্ভুত হয়। কোনো দল আনন্দে, উৎফুল্লতায় মেতে ওঠে। আবার কোনো দল নিশ্চুপ, নিস্তব্ধতায় গুমরে যায়। শামসুল সরদারের সমর্থনে থাকা প্রায় ছেলে-পেলেই সদরে যাচ্ছে না। ক্লাব নিরিবিলি পড়ে আছে। সবাই ভেবেছিলো ভোটে জেতার পর হয়তো ক্লাব, লাঙল মার্কার অফিস, দোকান-পাট সব ভাঙচুর হবে। সাপোর্টারদের পেটানো হবে রাস্তায় ফেলে। তবে তেমন কিছুই ঘটেনি।
পরশ দলের সকলকে স্পষ্ট করে হুশিয়ার দিয়েছে। বিরোধী দলের সাথে যদি কেউ যেচে ঝামেলায় জড়িয়েছে তবে তাকে সাথে সাথে বহিষ্কার করা হবে দল থেকে। এমনকি আইনী ব্যবস্থাও সে নিজে নেবে। কেউ কেউ হাসিমুখে মেনে নিয়েছে। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে। লোকচক্ষুর আড়ালে বসে পরশের প্রতি স্পষ্ট ক্ষোভ। এতোদিন তাদের অত্যাচার করেছে সরদার রা। এই শোধ না নিয়ে এরকম সুশীলতা দেখানোর মানে কি? তবুও সম্মুখে কিছু বলতে পারলো না।
শিকদার ক্লাবের সামনে আজ আনন্দের জোয়ার উঠেছে। একে অপরকে রাঙিয়ে দিয়েছে হোলির রঙে। এর সূচনা অবশ্য স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা ঘটিয়েছে। বেশিরভাগ যুবকই পরশ শিকদারের পক্ষের। তারা জেতার আনন্দে ক্লাবের সামনে বর্নিল রঙে রাঙিয়ে দিচ্ছে একে অপরকে। যুক্ত হতে ভোলেনি দলের মুসলিম যুবকরাও। বাদ যায়নি দলের সর্বোচ্চ নেতা পরশ শিকদার। তাকে জোর করে রাঙিয়ে দিয়েছে সবাই। অফ হোয়াইট রঙের পাঞ্জাবিটা টকটকে লাল হয়ে আছে রঙে। মাঝে চলছে মিষ্টি বিতরণ। রাতে পিকনিক ও হবে বিশাল পরিসরে।
দূর থেকে এতোসব দেখে থমকে দাঁড়ালো স্পর্শী।বাবার মুখটা ভেসে উঠলো চোখের সামনে। সে এসেছিলো সোভামের ফ্লাটে। পরিক্ষার কিছু খাতা জমে ছিলো ঘরে। এগুলো দেখে জমা দিতে হবে দ্রুত। চাকরি করুক আর না করুক, টেস্টের রেজাল্ট তো দিতে হবে।
রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৩৭
স্পর্শীয়াকে থমকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পরশ চমকালো। মুহুর্তেই গম্ভীর খোলস টা পালটে গেলো। পা দুটো আপনা-আপনি চলে গেলো অন্যের দখলে। চোখটাও সরছে না। চারপাশে রঙে রঙীন হওয়া লোকজন। এর মধ্যে একজন রুপসী রমনী দাঁড়িয়ে আছে রঙহীন। তার দুগালে রঙ মেখে দেওয়া এক্ষুনি প্রয়োজন। হাত নিশপিশ করছে পরশের। ভেতরের দুষ্টু শয়তান টা উদগ্রীব হয়ে যাচ্ছে স্পর্শীয়াকে রঙ মাখানোর জন্য। দ্রুত দু হাতের মুঠো ভরিয়ে আলগোছে ভিড় ছেড়ে সামনে এগিয়ে এলো পরশ। স্পর্শীয়ার কাছাকাছি আসতেই………
