রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ১৬
অধরা মিনহা
আজ বিকেল থেকেই আনতারা কিচেনে ব্যস্ত। রাতের খাবারের আয়োজন চলছে। আজ সে নিজের হাতে ইফরাদের জন্য রাতের রান্না করছে। অবশ্য বাড়ির অন্য সবার জন্যও রান্না হচ্ছে, কিন্তু আজকের রান্নার পেছনে বিশেষ কারণটা হচ্ছে ইফরাদ। বিয়ের এতদিন হয়ে গেল। মাসও পার হয়ে গেছে, অথচ এখনো সে নিজের হাতে ইফরাদকে কিছু রান্না করে খাওয়াতে পারেনি। আজ হঠাৎ করেই ইচ্ছে হলো, নিজের হাতে রান্না করে স্বামীকে খাওয়াবে। দুপুরে তো ইফরাদ বাড়িতে থাকে না, তাই রাতের খাবারের আয়োজন করছে।
আজকের মেনুতে রয়েছে পোলাও, গরুর গোস্ত, রোস্ট আর শির খোরমা। প্রতিটা খাবারই আনতারা খুব যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে রান্না করছে। পোলাও, গরুর গোস্ত আর রোস্ট রান্না শেষ হয়েছে। এবার বাকি শুধু শির খোরমা।
আনতারা একটা সসপ্যান চুলায় বসিয়ে তাতে ঘি দেয়।এরপর কাঠবাদাম ও পেস্তা বাদাম দিয়ে ভালোভাবে ভেজে তুলে নেয়। তারপর সামান্য সেমাই দিয়ে সেগুলোও ভাজতে ভাজতে শাহানারাকে জিজ্ঞেস করে,
— আপু, কয়টা বাজে?
শাহানারা সময় দেখে উত্তর দেয়,
— আটটা বাজে।
সময় শুনতেই আনতারা তাড়াহুড়ো করে বলে,
— রাদ তো এখনই এসে পড়বে। একটু তাড়াতাড়ি ফ্রিজ থেকে দুধটা দিন? সময় নেই।
শাহানারা ফ্রিজ থেকে দুধের প্যাকেট আনতে আনতে বলে,
— ম্যাম, তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। ইফরাদ স্যার এখন আসলেও রাতের খাবার খেতে অনেক দেরি হবে। ইফরাদ স্যার সাধারণত বাসায় ডিনার করেন না। করলেও রাত একটা-দেড়টার দিকে করেন। শুধু তাই না, এই বাড়িতে বারোটার আগে জীবনে কেউ ডিনার করেনি।
কথাটা শুনেই আনতারার মনটা একটু খারাপ হয়ে যায়। এত যত্ন করে সে রান্না করছে, যেন ইফরাদ গরম গরম খাবারগুলো তৃপ্তি নিয়ে খায়। কিন্তু যদি ইফরাদ এখন না খায়? পরমুহূর্তেই আনতারার মনে পড়ে, না, সে রান্না করেছে শুনলে ইফরাদ ঠিকই খাবে। তার জন্য কত অভ্যাসই তো বদলাচ্ছে ইফরাদ, আর এটা তো খুব সামান্য একটা বিষয়।
আনতারা আনমনেই হেসে ফেলে। তারপর শাহানারাকে বলে,
— ইফরাদ খাবে।
বলেই আবার সেমাইয়ের দিকে মন দেয়। চুলায় থাকা সেমাইয়ে আবার ঘি ঢেলে তাতে চিনি দেয়। চিনি গলে শিড়া হয়ে গেলে তাতে দুধ ঢেলে দেয়। এরপর চুলার আঁচ বাড়িয়ে দুধের সঙ্গে সবকিছু ভালোভাবে মিশিয়ে নেয়। তারপর তাতে সেমাই ও ভেজে রাখা বাদামগুলো দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নেয়। কিছুক্ষণ জ্বাল দেওয়ার পর উপরে সামান্য ঘি ছড়িয়ে চুলার আঁচ কমিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দেয়। ঠিক তখনি কিচেনে একজন মেইড এসে জানায়,
— ইফরাদ স্যার বাসায় এসেছেন। আপনাকে গলা ছেড়ে ডাকছেন।
— আসছি।
তারপর শাহানারার দিকে তাকিয়ে বলে,
— এগুলো রেডি করুন। আমি একটু পর এসে নিয়ে যাচ্ছি।
শাহানারা মাথা নেড়ে বলে,
— আচ্ছা, ম্যাম।
আনতারা কিচেন থেকে বেরিয়ে আসে। দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে রুমের দিকে এগিয়ে যায়। কখন যে ইফরাদ এসেছে, সে বুঝতেই পারেনি। রুমের দরজা খুলে দেখে, ইফরাদ খালি গায়ে দাঁড়িয়ে আছে। হয়তো শরীরে এসির ঠান্ডা বাতাস লাগাচ্ছে। তার আকাশি রঙের শার্টটা বিছানার ওপর রাখা। দরজা খোলার শব্দে ইফরাদ ফিরে তাকায়। আনতারাকে দেখেই তার চোখ থেমে যায়। বিকাল থেকে চুলার সামনে দাঁড়িয়ে রান্না করতে করতে আনতারার মুখ লাল হয়ে গেছে। ঘামে একেবারে ভিজে গেছে আনতারা।
আনতারা হাসিমুখে বলে,
— কখন এসেছেন?
ইফরাদ এগিয়ে এসে বলে,
— মাত্রই। তোমার মুখ এমন লাল হয়ে আছে কেন?
আনতারা দুই হাত দিয়ে মুখের ঘাম মুছে বলে,
— রান্না করেছি আপনার জন্য।
ইফরাদ একটু অবাক কণ্ঠে বলে,
— তুমি কেন রান্না করতে গেলে? বাড়ির মেইডরা কী করছিল?
— আমি শখ করে রান্না করে স্বামীকে খাওয়াতে পারি না?
ইফরাদ আনতারার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
— চুলার কাছে থেকে মুখ লাল করে ফেলেছো! কী অবস্থা করেছো নিজের?
আনতারা হেসে বলে,
— কিছু হয়নি। আপনি গোসল করে আসুন।
ইফরাদ সঙ্গে সঙ্গে বলে,
— আগে তুমি শাওয়ার নিয়ে ফ্রেশ হও।
— আপনি বাইরে থেকে এসেছেন…
ইফরাদ আনতারাকে থামিয়ে দিয়ে বলে,
— আমি বাইরে থেকে আসলেও পাহাড়-পর্বত ভেঙে আসিনি। তোমার অবস্থা খুব খারাপ। মুখ লাল হয়ে আছে। যাও, শাওয়ার নাও।
আনতারা নিজের জন্য কাপড় আগেই বের করে রেখেছিল। রান্না শেষ করে গোসল করবে ভেবেছিল। আনতারা কাভার্ডের কাছে গিয়ে ইফরাদকে জিজ্ঞেস করে,
— আপনার কাপড় আমি বের করে দিচ্ছি।
— হোয়াইট শার্ট আর ব্ল্যাক ব্লেজার বের করিও।
আনতারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— বাইরে যাবেন?
— হুম।
— এখনই?
— শাওয়ার নিয়ে বের হবো।
আনতারা একটু থেমে জিজ্ঞেস করে,
— খেয়ে যাবেন না?
— কী রান্না করেছো?
— পোলাও, গোস্ত, রোস্ট।
ইফরাদ একটু ভেবে বলে,
— ডিনার আইটেম? আসতে লেইট হবে আমার।
আনতারা মুখটা ছোট করে বলে,
— খাবেন না?
ইফরাদ আনতারার মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলে,
— এখন খেয়ে নেই? রাতে কখন ফিরি ঠিক নেই।
সঙ্গে সঙ্গে আনতারার মুখে হাসি ফুটে ওঠে।
— আচ্ছা। আমি গোসল করে এসে খাবার নিয়ে আসছি।
আনতারা ইফরাদের কাপড় বের করে বিছানার ওপর সুন্দর করে রেখে দেয়। ইফরাদ তখন খালি গায়ে বিছানার ওপর বসে ফোন চালাতে ব্যস্ত। আনতারা এরপর গোসল করতে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে। ইফরাদের দেরি হয়ে যেতে পারে ভেবে আনতারা বেশি সময় নেয় না। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই গোসল শেষ করে বেরিয়ে আসে। ভেজা চুলও ভালোভাবে মোছার সময় নেয়নি। শুধু মাথায় ওড়না দিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়।
তখন ইফরাদ ফোনে ব্যস্ত। আনতারাকে ওয়াশরুম থেকে বের হতে দেখে সে উঠে দাঁড়ায়। আনতারার ভেজা মুখ আর স্নিগ্ধতা মুহূর্তেই ইফরাদের চোখে আটকে যায়। ইফরাদ দৃষ্টি সরাতে পারে না আনতারার থেকে। অজান্তেই তার চোখ আনতারার প্রতিটা সৌন্দর্য খুঁটিয়ে পরখ করতে থাকে। এভাবে গভীরভাবে কখনো খেয়াল করা হয়নি আনতারাকে।
পানপাতার ন্যায় সুন্দর মুখের গড়ন। গায়ের রঙ ধবধবে ফর্সা। দুধের মতো শুভ্র। বড় বড় ডাগর ডাগর চোখ দুটো যেন চোখ না, ধনুক থেকে ছোড়া তীর। ঘন কৃষ্ণবর্ণের ধনুকাকার ভ্রুজোড়া। নাকটা সোজা ও তীক্ষ্ণ। পাতলা গোলাপী ঠোঁট দুটো ঠান্ডা পানিতে ভেজার ফলে কড়া গোলাপি রঙের হয়ে গেছে। পিঠজুড়ে ছড়িয়ে আছে ঘন গাঢ় কালো চুল। সবকিছু মিলিয়ে আনতারাকে মনে হচ্ছিল প্রকৃতির নিখুঁত হাতে গড়া মোমের পুতুল কন্যা, যার সৌন্দর্যে ছিল কোমলতা, মুগ্ধতা আর চোখ ফেরাতে না পারার এক অদ্ভুত আকর্ষণ।
আনতারা ওয়াশরুমের দরজা থেকে সরে আয়নার দিকে এগিয়ে যেতেই ইফরাদ ঘোরলাগা দৃষ্টি সরে বাস্তবে ফিরে। আর সাথে চোখে পড়ে, আনতারার পিঠ চুলের পানিতে ভিজে গেছে। কিন্তু আনতারা মাথার কাপড় সরিয়ে চুল মুছছিল না। হয়তো ইফরাদ সামনে থাকায়। ইফরাদ ধীর পায়ে এগিয়ে যায় আনতারার কাছে। আনতারার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই আনতারা প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে ইফরাদের দিকে তাকায়। ঠিক তখনি ইফরাদ আনতারার মাথা থেকে ওড়না নামিয়ে দেয়।
আনতারা চমকে উঠে,
— কী করছেন?
ইফরাদ আনতারার হাত থেকে তোয়ালেটা নিয়ে নেয়। তারপর আস্তে করে আনতারার চুলে তোয়ালে চালাতে চালাতে বলে,
— আমি তোমার মাহরাম। তোমাকে দেখার সম্পূর্ণ এবং একমাত্র অধিকার আমার আছে। তাই আমার কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করতে গিয়ে মাথায় কাপড় দিয়ে ভেজা চুল না মুছে পিঠ ভিজিয়ে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই।
আনতারা লজ্জা পেয়ে নিচু স্বরে বলে,
— আসলে আমি…..
ইফরাদ আনতারার কথা শেষ করতে না দিয়ে বলে,
— বুঝেছি আমি। আমার থেকে আড়াল হচ্ছিলে, তাই না? এখন আমিই তোমাকে উন্মুক্ত করলাম।
বলেই ইফরাদ আনতারাকে ঘুরিয়ে দাঁড় করায়। তারপর খুবই সাবধানে আনতারার চুল মুছতে থাকে। এই প্রথম ইফরাদ আনতারার চুল এত ভালোভাবে দেখছে। এর আগে কখনো এমন সুযোগ হয়ে ওঠেনি। আনতারা সারাদিন মাথায় কাপড় দিয়ে রাখে, তাই তার চুল দেখার সুযোগই হয়নি। ইফরাদ লক্ষ্য করে, আনতারার চুল বেশ ঘন সিল্কি আর স্ফট। একটুও রুক্ষতা নেই। চুলের দৈর্ঘ্য প্রায় কোমর পর্যন্ত। একদম কালো কুচকুচে চুল। বিষয়টা বেশ ভালো লাগে ইফরাদের কাছে। দেখেই বোঝা যায়, চুলগুলো একদম প্রাকৃতিক এবং স্বাস্থ্যকর।
কারণ এখনকার মেয়েরা চুলে নানা ধরনের কালার আর বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করতে করতে চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলে। যেমন ইরাইনা। প্রতি মাসে চুলের পেছনেই কত কিছু করে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে। একবার এক কালার তো আরেকবার অন্য কালার। কিন্তু আনতারার চুলে সেই কৃত্রিম কিছু নেই। তার ওপর আনতারার চুল থেকে খুব সুন্দর একটা মিষ্টি ঘ্রাণ আসছে। ইফরাদ চুল মুছতে মুছতে একটু ঝুঁকে সেই ঘ্রাণ নেয়। তারপর জিজ্ঞেস করে,
— কী শ্যাম্পু দাও চুলে?
আনতারা একবার ইফরাদের দিকে ফিরে বলে,
— নাম জানি না। শাহানারা আপু একটা সেট দিয়েছিল, সেটাই ব্যবহার করি। কিন্তু কেন?
ইফরাদ একটু গম্ভীর হয়ে বলে,
— বিয়ে কি তোমাকে শাহানারা আপু করেছিল নাকি আমি করেছিলাম? যেকোনো প্রয়োজন হলে শাহানারা আপুর কাছে কেন বলবে?
আনতারা শান্তভাবে বলে,
— আপনি তো কাজে ব্যস্ত থাকেন!
— কিন্তু তোমার জন্য একদমই ব্যস্ত না।
তারপর একটু ঝুঁকে ফিসফিস করে বলে,
— কখনো চাইলে পরীক্ষা করে দেখতে পারো।
আনতারা মৃদু হেসে ইফরাদের হাত থেকে নিজের চুল ছাড়িয়ে তোয়ালেটা নেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়।
— হয়েছে। এখন গোসল করতে যান। দেরি হচ্ছে। আমি খাবার রেডি করছি।
কিন্তু ইফরাদ তোয়ালেটা না দিয়ে সরিয়ে নেয়।
— আর একটু বাকি আছে।
আনতারা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তারপর চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। ইফরাদ আনতারার চুল মুছে দেয়। এরপর নিজে গোসল করতে চলে যায়। আনতারা নিচে নেমে আসে। সবগুলো খাবার সুন্দর করে বেড়ে টেবিলে সাজিয়ে রাখে। ইফরাদ ডাইনিং টেবিলেই খাবে। খাবার সাজানো শেষ করে আনতারা আবার রুমের দিকে হাঁটা দেয়, ইফরাদকে ডাকতে। ততক্ষণে ইফরাদ পুরোপুরি রেডি হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ফ্রেন্ডের সঙ্গে ফোনে কথা বলছে।
— কোথায় তুই?
ইফরাদ উত্তর দেয়,
— বাসায়ই।
ওপাশ থেকে আবার প্রশ্ন করে,
— কতক্ষণ লাগবে আসতে?
— এক ঘণ্টা লাগবে।
— একটু তাড়াতাড়ি আয়….
ঠিক তখনি দরজা খুলে আনতারা ভেতরে আসে।
— টেবিলে খাবার রেডি। চলুন।
ইফরাদ আনতারার দিকে তাকায়। আনতারা খেয়াল করে, ইফরাদ ফোনে কথা বলছিল। ইফরাদ আর ফোনে কিছু না বলে ফোন কেটে পকেটে রেখে দেয়।
— চলো।
তারপর দুজন একসঙ্গে নিচে নেমে আসে। ডাইনিং রুমে এসে ইফরাদ দেখে, টেবিলজুড়ে সুন্দর করে খাবার সাজানো। আনতারা ইফরাদের জন্য চেয়ার টেনে দেয়। ইফরাদ বসে পড়ে। আনতারা তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকে। তার ইচ্ছে, নিজের হাতে খাবার বেড়ে ইফরাদকে খাওয়াবে। আজ কোনো মেইড নেই এখানে। আনতারাই তাদের আসতে মানা করেছে। টেবিলে রাখা খাবারগুলোর দিকে তাকিয়ে ইফরাদ বলে,
— অনেক টেস্টি মনে হচ্ছে।
আনতারা প্লেটে পোলাও দিতে দিতে বলে,
— খেয়ে বলুন কেমন হয়েছে।
ইফরাদ পোলাও দেওয়া থামিয়ে দিয়ে বলে,
— আর দিও না।
আনতারা এবার প্লেটে রোস্ট তুলে দেয়। তারপর গ্লাসে পানি ঢেলে ইফরাদের সামনে রেখে বলে,
— নিন, খাওয়া শুরু করুন।
ইফরাদ তার বাম পাশের চেয়ারটায় হাত রেখে আনতারাকে বসতে বলে,
— এসে পাশে বসো।
— সমস্যা নেই। আপনি খান। আমি খাবার বেড়ে দিবো।
— প্রয়োজন নেই। আমি নিতে পারবো। তুমি পাশে এসে বসো। আমার সঙ্গে খাবে।
— আমি পরে খাবো….
— চুপচাপ বসো।
আনতারা আর কিছু বলে না। বাধ্য হয়ে ইফরাদের পাশে এসে বসে। ঠিক তখনি সেখানে শার্লিন ইমরোজ আসে। তিনি কিচেনের দিকে যাচ্ছিলেন। ডাইনিং রুম পার হয়ে কিচেনে যেতে হয়। এই সময় ডাইনিং টেবিলে ইফরাদ আর আনতারাকে বসে থাকতে এবং রাতের খাবার সাজানো দেখতে পেয়ে তিনি থেমে যান। আনতারা ও ইফরাদ দুজনেই শার্লিন ইমরোজকে দেখে ওনার দিকে তাকায়।
শার্লিন ইমরোজ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন,
— এগুলো কী?
ইফরাদ শান্ত গলায় বলে,
— খাবার। দেখছো না?
শার্লিন আবার প্রশ্ন করেন,
— এগুলো এখন কী করবে?
ইফরাদ স্বাভাবিকভাবেই বলে,
— অফকোর্স খাবো।
শার্লিন অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে বলেন,
— তুমি কি পাগল হয়ে গেছো? এই সন্ধ্যা বেলা তুমি ডিনার করবে?
ইফরাদ শান্তভাবে বলে,
— রাতে ফিরতে লেইট হবে। আনতারা নিজের হাতে রান্না করেছে, তাই এখন খাচ্ছি।
শার্লিন বিস্মিত হয়ে বলেন,
— বাব্বাহ! বউ রান্না করেছে বলে সারা জীবনের নিয়ম বদলে সন্ধ্যা বেলা এত ভারী খাবার খাচ্ছো? তুমি কি আমারই ছেলে?
ইফরাদের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
— যদি আমার মেজাজ খারাপ করার ইনটেনশন না থাকে, তাহলে এখানে থাকো। আর যদি আমাকে রাগানোর ইনটেনশন থাকে, তাহলে প্লিজ চলে যাও মাম্মা। এখন যদি আমি রেগে যাই, তাহলে কারোর জন্য ভালো হবে না।
শার্লিন ইমরোজের অপমানে মুখ থমথমে হয়ে যায়। তবুও আর কথা বাড়ান না। অকারণে এখন ছেলের সঙ্গে ঝামেলায় যেতে চান না। আনতারাকে পরে দেখে নেবেন।রাগে তিনি আর কিচেনের দিকে যান না। সোজা নিজের রুমে ফিরে যান।
তিনি চলে যেতেই আনতারা বলে ওঠে,
— আপনি কেন আবার আপনার মার সঙ্গে এভাবে কথা বলেছেন?
ইফরাদ আনতারার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলে,
— যদি এভাবে কথা না বলতাম, তাহলে ডাইনিং টেবিলে এত শান্তি বিরাজ করতো না।
আনতারা আর কিছু বলার মতো খুঁজে পায় না। কারণ ইফরাদের কথাটা ভুল না। শার্লিন ইমরোজ মূলত ইফরাদের কঠিন কথার কারণেই চলে গেছেন। নাহলে এতক্ষণে এখানে হয়তো তুমুল ঝামেলা শুরু হয়ে যেত।
আনতারা কথা ঘুরিয়ে বলে,
— খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। খেয়ে নিন।
ইফরাদ পোলাও মাখিয়ে প্রথম লোকমাটা তুলে ধরে আনতারার মুখের সামনে।
আনতারা বলে,
— আপনি আগে খান।
ইফরাদ মৃদু হেসে বলে,
— ওয়াইফ ফার্স্ট।
আনতারা লজ্জা পেয়ে মৃদু হেসে মুখে লোকমা নেয়। লোকমা নেওয়ার পর আনতারার ঠোঁটের একপাশে ছোট্ট একটা পোলাওয়ের দানা লেগে থাকে। ইফরাদের চোখে সেটা পড়তেই সে বাম হাত দিয়ে আলতো করে দানাটা নিয়ে নিজের প্লেটে রাখে। তারপর সেই দানাটা লোকমার সঙ্গে নিয়ে নিজের মুখে দেয়। ছোট্ট এই বিষয়টা আনতারার চোখ এড়ায় না। ইফরাদের এই ছোট ছোট যত্নগুলো তার মনে অন্যরকম ভালো লাগা তৈরি করে। বড় বড় কথা বলার চেয়েও এই ছোট ছোট কাজগুলো অনেক বেশি কিছু প্রকাশ করে। ভালোবাসা আসলে এমন ছোট ছোট মুহূর্তেই প্রকাশ পায়। আলাদা করে সবসময় ভালোবাসি বলতে হয় না।
ইফরাদ প্রথম লোকমা মুখে দিয়েই চোখ বড় বড় করে মাথা উপর নিচ করে বলে ওঠে,
— উমমম… অনেক ভালো। এত মজা রান্না করতে পারো তুমি?
আনতারা খুশি হয়ে বলে,
— সত্যিই ভালো হয়েছে?
ইফরাদ হেসে বলে,
— সত্যি, অনেক ভালো হয়েছে।
ইফরাদের প্রশংসায় আনতারার মুখ খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। রোস্ট খাওয়া শেষ হলে আনতারা ইফরাদের পাতে গরুর গোস্ত তুলে দেয়। কয়েক পিস দিতেই ইফরাদ বলে ওঠে,
— আর না।
আনতারা সঙ্গে সঙ্গে বলে,
— আরেকটু নিন।
ইফরাদ মাথা নেড়ে বলে,
— সবগুলোই অল্প অল্প করে ট্রাই করবো। একটা আইটেম বেশি খেয়ে ফেললে বাকি খাবারগুলো টেস্ট করতে পারবো না।
ইফরাদ খাওয়ার মাঝেই তার ফোনে কয়েকবার কল আসে। কিন্তু সে কোনো কলই ধরে না। আনতারা বুঝতে পারে, তার বন্ধুরা কল দিচ্ছে। ইফরাদের বারবার ফোন আসা দেখে আনতারা বুঝতে পারে, হয়তো তার তাড়া আছে। কিন্তু ইফরাদকে দেখে সেটা বোঝার কোনো উপায় নেই। সে একদম শান্ত, স্বাভাবিকভাবেই খাচ্ছে। খাওয়া শেষ করে ইফরাদ বেসিনে হাত ধুতে যায়। এদিকে আনতারা একটা বাটিতে শির খোরমা পরিবেশন করে রাখে। ইফরাদ হাত ধুয়ে টিস্যু দিয়ে হাত মুছতে মুছতে আবার টেবিলের কাছে ফিরে আসে।
আনতারা শির খোরমার বাটিটা ইফরাদের হাতে দিয়ে বলে,
— খাওয়া শেষে মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া সুন্নত। বসে খান।
ইফরাদ আবার চেয়ারে বসে। আনতারাও তার পাশে বসে পড়ে। ইফরাদ এক চামচ শির খোরমা মুখে দিয়ে কয়েক মুহূর্ত চুপ থাকে। তারপর আনতারার দিকে তাকিয়ে বলে,
— উমমমমমম… এটাও অনেক ভালো হয়েছে।
আনতারা হাসে। ইফরা আবার বলে,
— আমার খাওয়া বেস্ট ডেজার্ট এটা।
বলেই এক চামচ আনতারার মুখে দেয়। আনতারা মুখে নেয় খাবারটা। ইফরাদ নিজে আবার খেতে খেতে বলে,
— এটা তুলে রেখো আমার জন্য। রাতে এসে খাবো।
আনতারা খেতে খেতে মৃদু হেসে বলে,
— আচ্ছা।
শির খোরমা খাওয়া শেষ করে ইফরাদ বাটিটা টেবিলের ওপর রেখে উঠে দাঁড়ায়। এরপর তার বাম হাতে থাকা Cartier-এর লাভ প্লাটিনাম ব্রেসলেটটা খুলে ফেলে।ব্রেসলেটটাতে খুব সূক্ষ্মভাবে ইফরাদের নাম লেখা আছে।আনতারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছে। ইফরাদ ব্রেসলেটটা হাতে নিয়ে আনতারার দিকে তাকিয়ে বলে,
— বাম হাতটা দাও।
আনতারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কেন?
— দাও না।
আনতারা বাম হাত বাড়িয়ে দেয়। ইফরাদ আনতারার হাতে ব্রেসলেটটা পরিয়ে দিতে দিতে বলে,
— এটা তোমার সালামি।
আনতারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কিসের সালামি?
— প্রথমবার রান্না করেছো। তুমি যদি আমাকে আগে জানাতে যে আমার জন্য রান্না করছো, তাহলে আমি কিছু গিফট নিয়ে আসতাম। কিন্তু এখন কোনো গিফট নেই, তাই আমার পছন্দের ব্রেসলেটটা, যেটাতে আমার নাম লেখা আছে, সেটাই তোমাকে দিয়ে দিলাম।
একটু থেমে আবার বলে,
— এটা আমি নিউইয়র্ক থেকে নিয়েছিলাম। কাস্টমাইজড। খুবই রেয়ার একটা ব্রেসলেট।
আনতারা এবার হাত সরিয়ে নিতে চায়।
— রাদ লাগবে না। আপনার এটা…..
কথা শেষ করার আগেই ইফরাদ তার হাত শক্ত করে ধরে ব্রেসলেটটা পরিয়ে দেয়।
— আমি দিয়েছি, লাগবে না কেন? সালামি দিয়েছি।
আনতারা মৃদু স্বরে বলে,
— আপনার খুব পছন্দের তো।
ইফরাদ হালকা হেসে বলে,
— তাই তো তোমাকে দিয়েছি।
আনতারা নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে বলে,
— এটা অনেক সুন্দর। ধন্যবাদ, রাদ।
ইফরাদ ভ্রু তুলে বলে,
— ধন্যবাদ?
আনতারা মাথা নেড়ে বলে,
— হুম।
ইফরাদ দুষ্টু হেসে বলে,
— আমি অন্যকিছু আশা করেছিলাম।
আনতারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কী?
ইফরাদ মুচকি হেসে বলে,
— থাক, না বলি। আবার লজ্জায় লাল হয়ে যাবে।
আনতারা লজ্জা পেয়ে যায়। মনে মনে ভাবে, কী অদ্ভুত মানুষ! কথা বললেও লজ্জা লাগে, আবার না বললেও লজ্জা লাগে। ইফরাদ হেসে আনতারার গাল টেনে আদর করে বলে,
— হয়েছে, আর লজ্জা পেতে হবে না। থ্যাংক্স তোমাকেও!
আনতারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কেন?
ইফরাদ হালকা হাসি দিয়ে বলে,
— আমার জন্য এত কষ্ট করে রান্না করেছো। বিশেষ করে এত টেস্টি খাবারের জন্য।
আনতারা মৃদু হেসে বলে,
— আমি আপনার বউ। আপনার জন্য রান্না করা আমার দায়িত্ব।
ইফরাদ একটু ঝুঁকে মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করে,
— শুধু দায়িত্ব থেকেই রান্না করেছো? আর কিছু না?
আনতারা মাথা নিচু করে লজ্জায় হেসে বলে,
— আরো অনেক কিছু!
ইফরাদ আরো একটু ঝুঁকে ফিসফিস করে বলে,
— এই অনেককিছুটা কী, শুনি?
আনতারা মুচকি হেসে বলে,
— অন্য একদিন বলবো।
ইফরাদ হেসে বলে,
— আচ্ছা, তাহলে অপেক্ষা করবো সেই দিনের জন্য। এখন গেলাম আমি। বাই?
আনতারা মৃদু হেসে বলে,
— আল্লাহ হাফেজ।
ক্লাবের এক পাশের নিরিবিলি অংশে জমে উঠেছে বন্ধুমহলের আড্ডা। চারপাশে হাসি আর কোলাহলে ভরা পরিবেশ। সবার হাতে হাতে ছোট শর্টের গ্লাস। ইফরাদ দুই পেগ শেষ করে সোফায় হেলান দিয়ে সোফায় মাথা এলিয়ে দেয়। একই সোফায় তার পাশে বসে আছে আয়ুষ আর রোশান। তারাও ড্রিংক করতে ব্যস্ত। সামনের সোফায় বসে আছে আরো তিন বন্ধু, রিয়াদ, নিহাল আর তোয়াস। রিয়াদ স্কচের গ্লাস হাতে নিয়ে সামনে বসে থাকা ইফরাদের দিকে তাকিয়ে বলে,
— বিয়ে করে চেঞ্জ হয়ে গেছিস।
আয়ুষ আর রোশান একবার ইফরাদের দিকে তাকায়।কিন্তু ইফরাদ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না। সোফায় মাথা এলিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে থাকে, যেন কথাটা তার কানেই যায়নি। রিয়াদ কোনো উত্তর না পেয়ে আবার প্রশ্ন করে,
— বউয়ের সাথে আমাদের পরিচয়ও করালি না?
নিহাল সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠে,
— পরিচয় করানো তো দূরের কথা, বউয়ের নাম পর্যন্ত বলেনি।
রিয়াদ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কেন ভাই?
নিহাল হেসে বলে,
— ভাই, জেলাসি।
রিয়াদ এবার ইফরাদের দিকে তাকিয়ে বলে,
— কিরে ইফরাদ? তুই কি ডিনার করে এসেছিস সন্ধ্যা বেলা?
কথাটা শুনতেই ইফরাদ চোখ খুলে ফেলে। তার কপালের ভ্রু কুঁচকে যায়। ধীরে ধীরে মাথা তুলে রিয়াদের দিকে তাকায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে। আয়ুষও ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,
— তুই জানিস কিভাবে?
রিয়াদ হাসতে হাসতে বলে,
— ওর সাথে ফোনে কথা বলার সময় ভাবি বলছিলো, টেবিলে খাবার রেডি করেছে। খেতে ডাকছিলো!
কথাটা শুনেই নিহাল আর তোয়াস জোরে হেসে ওঠে।
— তুই সন্ধ্যা বেলা ডিনার করে এসেছিস? তুই ভাই সত্যিই বিয়ে করে চেঞ্জ হয়ে গেছিস!
আয়ুষও হালকা হেসে ফেলে। কিন্তু কথাটা ইফরাদের একদম পছন্দ হয় না। রিয়াদ আনতারার কণ্ঠ শুনেছে, এই বিষয়টাই তার মাথায় ঘুরতে থাকে। ভাবতেই তার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। রাগে শরীরের ভেতরটা রিনরিন করে ওঠে। তবুও কিছু বলে না। অতিরিক্ত রাগ আর বিরক্তির কারণে কথা বলার ইচ্ছেটাই চলে যায়। কিছুক্ষণ পর রিয়াদ আবার জিজ্ঞেস করে,
— ভাবির নাম কী ইফরাদ?
এবার ইফরাদ খুব ভারী ও কঠিন গলায় বলে,
— তোর জানতে হবে না।
রিয়াদ হেসে বলে,
— আরে ভাই, বল?
ইফরাদ আগের মতোই ঠান্ডা গলায় উত্তর দেয়,
— একবার বলেছি, তোর জানতে হবে না।
রিয়াদ ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,
— কেন ভাই?
ইফরাদ আগের মতোই উত্তর দেয়,
— এটাও তোর জানতে হবে না।
কথাটা বলেই ইফরাদ আরেকটা শর্ট খেয়ে নেয়। তারপর আবার সোফায় হেলান দিয়ে বসে পড়ে। বাকিরাও আর বিষয়টা নিয়ে কথা বাড়ায় না। সবাই আবার নিজেদের মতো করে খেতে থাকে। কিছুক্ষণ পর আয়ুষের ফোনে কল আসে। সে কল রিসিভ করে একটু দূরে সরে যায়। ক্লাবে এদিকটায় গান অনেক জোরে বাজছে। আয়ুষের জায়গাটা খালি পেয়ে রিয়াদ উঠে এসে সেখানে বসে পড়ে। তারপর ওয়েটারকে ডেকে অন্য ব্র্যান্ডের একটা বিয়ার আনতে বলে। কিছুক্ষণ পর ওয়েটার বিয়ার নিয়ে আসে।
রিয়াদ তিনটা গ্লাসে বিয়ার ঢালে। তারপর ইফরাদের হাঁটুতে হালকা টোকা দিয়ে তাকে ডাকে। ইফরাদ মাথা তুলে তাকাতেই রিয়াদ গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলে,
— এটা খেয়ে দেখ। বেস্ট একটা মাল। আমি খেয়েছিলাম সুইজারল্যান্ড গিয়ে।
ইফরাদ বিয়ারের গ্লাসটার দিকে তাকায়। তারপর উঠে গ্লাসটা হাতে নেয় এবং ঢকঢক করে পুরোটা খেয়ে ফেলে।
খাওয়া শেষ হতেই রিয়াদ জিজ্ঞেস করে,
— সেই না এটা?
ইফরাদ শুধু মাথা নাড়ে। এই বিয়ারটা বেশ নেশালো। এক গ্লাসেই ইফরাদের শরীরে বেশ ভালোভাবেই নেশা ধরে যায়। রিয়াদ পুরো বোতলটা ইফরাদের হাতে দিয়ে বলে,
— এই নে, পুরোটা খা।
ইফরাদও কোনো কথা না বলে বোতলটা হাতে নেয়। তারপর ঢকঢক করে একটানে পুরো বোতল শেষ করে ফেলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ইফরাদ নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শরীরটা মাতাল মাতাল লাগতে শুরু করে। এটা দেখেই রিয়াদের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। তার কাজ হয়ে গেছে।
ইফরাদ হেসে জিজ্ঞেস করে,
— কিরে, ভাবির নাম কী?
তখনি রোশান বিরক্ত হয়ে বলে,
— কী করছিস রিয়াদ? রাদ রেগে যাবে।
রিয়াদ হাসতে হাসতে বলে,
— থাম না ভাই। মজা করছি।
তারপর আবার ইফরাদের দিকে তাকিয়ে বলে,
— বল, ভাবির নাম কী?
এবার ইফরাদ চোখ সরু করে রিয়াদের দিকে তাকায়।তারপর মাতাল কণ্ঠেও দৃঢ়ভাবে বলে,
— এই ঢেঁড়শের বিচি? মদ খেয়েছি বলে কি ভেবেছিস, সব গোপন তথ্য ফাঁস করে দেব? আমার মধ্যে এতটাই প্রটেক্টিভ জেলাসি কাজ করে যে মৃত্যুশয্যায় থাকলেও বউয়ের নাম কোনো ঢেঁড়শের বিচির সামনে উচ্চারণ করব না!
তারপর গম্ভীরভাবে বলে,
— রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু আমার মুখ থেকে বউয়ের নাম বের হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ইফরাদের কথা শুনতেই সেখানে উপস্থিত সবাই হেসে ওঠে। হাসতে হাসতে তাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। রিয়াদের মুখটা পেঁচার মতো হয়ে যায়। এদিকে সবাই হাসতে হাসতে প্রায় সোফা থেকে পড়ে যাওয়ার অবস্থা।ঠিক তখনি আয়ুষ ফোন শেষ করে ফিরে আসে।
ইফরাদ রিয়াদের দিকে তাকিয়ে বলে,
— যা, জায়গায় যা শালা। নয়তো ডান পা দিয়ে একটা লাথি দিবো।
রিয়াদ মুখটা ফ্যাকাসে করে উঠে নিজের জায়গায় চলে যায়। আয়ুষ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কী হয়েছে?
রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ১৫
নিহাল পুরো ঘটনাটা খুলে বলে। ঘটনা শুনে আয়ুষও হাসতে শুরু করে। এদিকে ইফরাদ আবার সোফায় হেলান দিয়ে বসে পড়ে। সোফার কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে। সবাই আবার নিজেদের মতো করে ড্রিংকস করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
