রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ১৯ (৪)
অধরা মিনহা
ইফরাদ আনতারার হাত ধরে তাকে নিয়ে রুমে এসে আনতারার হাতটা ছেড়ে দেয়। তারপর এগিয়ে গিয়ে কাভার্ড খুলে আনতারার জন্য এক সেট ড্রেস বের করে আনে। ড্রেসগুলো আনতারার হাতে দিয়ে শান্ত গলায় বলে,
— যাও, হাতমুখ ধুয়ে চেঞ্জ করে আসো।
আনতারা কাপড়গুলো হাতে নিয়ে আস্তে করে বলে,
— গোসল করবো।
ইফরাদ মাথা নেড়ে বলে,
— আচ্ছা, যাও। শাওয়ার নিয়ে আসো।
— হুম।
আনতারা জামা আর তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে। আনতাকে ওয়াশরুমে ঢুকতে দেখে ইফরাদ বেডের কাছে এসে বসে। ফোনটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ কিছু একটা করে। তারপর ফোনটা আবার পাশে রেখে আনতারার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
মাত্রই চৌধুরী বাড়িতে পা রাখল ইফতিন। মুভির শুটিংয়ের জন্য টানা তেরো দিন ইতালিতে ছিল। নিজের লাগেজগুলো মেইডদের দিয়ে রুমে রেখে আসতে বলে। আর কাঁধে ঝোলানো ছোট ব্যাগটা নিজের কাছেই রাখে।লিভিং রুমে ঢুকেই ইফতিন দেখে, সেখানটা খালি। কাউকে দেখতে না পেয়ে ইফতিন উপরে যাওয়ার জন্য সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু সিঁড়ির কাছে আসতেই হঠাৎ ইখতিয়ার চৌধুরীর চিৎকার চেঁচামেচি তার কানে আসে। ইফতিনের পা জোড়া থেমে যায়।
সিঁড়ির বাঁ দিকে একটু দূরেই ইখতিয়ার চৌধুরীর রুম। দরজা হয়তো খোলা, তাই চিৎকারের শব্দ ভেসে আসছে। ইফতিনের মনে হলো, হয়তো শার্লিন ইমরোজের ওপরই চিৎকার করছে ইখতিয়ার চৌধুরী। সন্দেহ আর কৌতূহল নিয়ে আর উপরে না উঠে ইখতিয়ার চৌধুরীর রুমের দিকে এগিয়ে যায় ইফতিন। রুমের কাছে এসে দেখে, দরজা খোলা। ভেতরে ইখতিয়ার চৌধুরী জোরে জোরে চিৎকার করছেন,
— আর কবে বুদ্ধি হবে তোমার, শার্লিন? তোমার জন্য প্রতিদিন বাড়িতে তামাশা হয়!
ইফতিন রুমে ঢুকেই কপালে ভাজ ফেলে জিজ্ঞেস করে,
— কী হয়েছে? কী করেছে মাম্মা?
ইখতিয়ার চৌধুরী আর শার্লিন ইমরোজ দুজনেই ইফতিনের দিকে তাকান। তবে শার্লিন ইমরোজ সঙ্গে সঙ্গেই চোখ সরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকেন। ইখতিয়ার চৌধুরী শার্লিন ইমরোজের দিকে তাকিয়ে খিটখিটে গলায় বলেন,
— জিজ্ঞেস করো, তোমার আদরের মাম্মাকে! কী করেছে সে!
ইফতিন স্বাভাবিক গলায় বলে,
— আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে। আর তুমি বলছো মাম্মাকে জিজ্ঞেস করতে?
ইখতিয়ার চৌধুরী চাপা রাগে বলেন,
— নিজের বোকামির কথা নিজেই বলুক! ভালো হবে!
ইফতিন এবার শার্লিন ইমরোজের দিকে তাকায়। তার গলায় সামান্য বিরক্তি মিশে যায়।
— কী হয়েছে, মাম্মা?
শার্লিন ইমরোজ কোনো উত্তর দেন না। মুখ ফিরিয়ে চুপচাপ অন্যদিকে তাকিয়ে থাকেন। মায়ের এমন নীরবতা দেখে এবার ইফতিনও সামান্য রেগে গিয়ে জোরে বলে ওঠে,
— কেউ বলবে কী হয়েছে? না বললে বলো, চলে যাচ্ছি।
ইখতিয়ার চৌধুরী এবার নিজেই বলে ওঠেন,
— তোমার মাম্মা রাদের বউকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে! তারপর গেস হোয়াট? রাদ কী করেছে?
ইফতিনের কপালে ভাঁজ পড়ে। চোখ তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। সামান্য ভ্রু তুলে কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কী করেছে?
ইখতিয়ার চৌধুরী বলেন,
— এই বাড়িটাই রাদ রাদের বউয়ের নামে লিখে দিয়েছে!
কথাটা শুনে ইফতিনের ভ্রু শিথিল হয়ে যায়। কপালের ভাঁজও সোজা হয়ে যায়। বিস্মিত হয়ে কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থাকে। তারপর জিজ্ঞেস করে,
— কখন হয়েছে এসব?
ইখতিয়ার চৌধুরী তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলেন,
— এই কান্ড শুরু করেছে তোমার মাম্মা সকালে, আর রাদ সন্ধ্যায় ফিনিশ করেছে।
কথাটা বলেই তিনি শার্লিন ইমরোজের দিকে তাকান।
শার্লিন ইমরোজ চুপসে আছেন। মনে গভীর আঘাত পেয়েছেন। যতই হোক, রাদ ওনার ছেলে। নিজের ছেলেকে তিনি ভালোবাসেন। অথচ সেই ছেলে তাকে ছেড়ে তার বউকে বেছে নিয়েছে, এই বিষয়টা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। তিনি মানতে পারছেন না, ওনার মৃত্যুর হুমকিও রাদকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারেনি।
মানতে পারছেন না, ওনার নিজের ছেলের জীবনে ওনার চেয়েও বেশি গুরুত্ব অন্য একজন মেয়ের। আর সেই মেয়েটা আনতারা, এটাই ওনার কাছে আরো বেশি লজ্জার। শার্লিন ইমরোজের বাড়ি কষ্ট হচ্ছে না। কষ্ট হচ্ছে অন্য জায়গায়। ওনার কষ্ট হচ্ছে, ওনা নিজের ছেলে তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে অন্য এক মেয়েকে।
ইখতিয়ার চৌধুরী কিছুক্ষণ থেমে আবার বলে ওঠেন,
— বিষয়টা এখানে শুধু বাড়ি লিখে দেওয়ার না। এটাই প্রথম না। আগেও শার্লিন রাদের বউকে অপমান করেছে। আর তার বিপরীতে রাদ শার্লিনকে কয়েকগুণ বেশি অপমান ফিরিয়ে দিয়েছে। তারপরও কেন আবার এসব করে? রাদ কতটা ডেস্পারেট ওর বউয়ের জন্য, বুঝতে পারছো? শার্লিন রাদকে বলেছে, বউকে তালাক না দিলে ও মরে যাবে! আর রাদ কী করল? উল্টো তালাক তো দিলই না, বরং বাড়িটাই বউয়ের নামে লিখে দিল! কেন এই মহিলা নিজের এবং আমাদের ইজ্জতটা নষ্ট করে ওই মেয়ের সামনে? ওই মেয়েকে বুঝিয়ে দেয়, আমাদের ছেলে আর আমাদের নেই। ওই মেয়ের হয়ে গেছে!
শেষ কথাটা শুনতেই শার্লিন ইমরোজের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। আর নিজেকে সামলাতে না পেরে এগিয়ে গিয়ে ইফতিনের বুকে মাথা ঠেকান। কাঁদতে কাঁদতে বলেন,
— ইফতিন, আমি ওই মেয়েটাকে সহ্য করতে পারছি না। ওই মেয়েটা আমার ছেলেটাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে! আমার ছেলে মৃত্যুর কথা শুনেও ওই মেয়েকে ছাড়েনি! আমার ছেলের জীবনে আমার গুরুত্ব নেই! কেন? আমি তো আমার ছেলেকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি! তাহলে আমার ছেলে কেন আমার সঙ্গে এমন করে?
ইফতিন মায়ের মাথায় হাত রেখে সান্ত্বনা দিতে দিতে বলে,
— কেঁদো না, মাম্মা। আমি ব্রোয়ের সঙ্গে কথা বলবো!
আজ আনতারা গোসলে বেশি সময় নেয় না। আসলে এতটা সময় নিয়ে গোসল করার মতো শক্তিও তার নেই। সারাদিন না খেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল, তার ওপর এত কান্না করেছে যে শরীরটা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। তাই কোনোমতে শরীরে পানি ঢেলেই ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। মাথায় উড়না দেওয়া, আর চুল তোয়ালে দিয়ে পেঁচানো। আনতারাকে বের হতে দেখে ইফরাদ সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ায়। আনতারা মাথা থেকে উড়নাটা সরিয়ে তোয়ালে খুলে চুল মুছতে মুছতে ইফরাদকে ডাকে,
— রাদ?
ইফরাদ তাকিয়ে বলে,
— হুম?
আনতারা চুল মুছা থামিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে এসে ইফরাদের সামনে দাঁড়ায়। তারপর কণ্ঠস্বর নিচু করে, খানিকটা জড়তা নিয়ে বলে,
— আমার অনেক ক্ষিদে পেয়েছে!
সামান্য এই কথাটুকুই ইফরাদের বুকে তীরের মতো বিঁধে যায়। এমন অসহায় কণ্ঠে বলা কথাটা শুনে বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে ইফরাদের। ইফরাদ আনতারার মাথাটা নিজের বুকের সঙ্গে মিশিয়ে চোখ বন্ধ করে। নিজের ভেতরের কষ্টটাকে চাপা দিয়ে ধীর কষ্ট মেশানো গলায় বলে,
— খাবার অর্ডার দিয়েছি। কিছুক্ষণের মাঝেই এসে পড়বে।
আনতারা ছোট্ট করে বলে,
— ওহ, আচ্ছা।
ইফরাদ আনতারার মাথাটা আলতো করে তুলে আনতারার মুখটা নিজের দিকে ফিরিয়ে নেয়। তারপর আনতারার চোখে চোখ রেখে বলে,
— আই’ম সরি, আনতারা।
আনতারা জিজ্ঞেস করে,
— সরি কেন বলছেন?
ইফরাদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,
— আমি তোমাকে সুন্দর একটা বেটার পরিবেশ দিতে পারিনি। একটা কম্ফোর্ট প্লেস দিতে পারিনি। অথচ এটা আমার দায়িত্ব ছিল।
আনতারা সঙ্গে সঙ্গে নরম গলায় বলে,
— এমনভাবে বলবেন না।
ইফরাদের কণ্ঠে এবার আরো গভীর কষ্ট ফুটে ওঠে,
— জানো? তুমি যে এভাবে সয়ে নাও? একটু টুঁ শব্দও করো না? ব্যাপারটাতে আমি আরো বেশি কষ্ট পাই। এমন একটা মেয়ে আমার জন্য কষ্ট পাচ্ছে।
ইফরাদের কথাগুলো শুনে আনতারা বুঝতে পারে, তার কষ্টটা ইফরাদ তার চেয়েও বেশি করে অনুভব করছে। তাই ইফরাদকে শান্ত করতে, তার অপরাধবোধটা একটু কমাতে আনতারা মিথ্যা বলে,
— আমার এতও ক্ষিদে লাগেনি। আমি তো এমনি বলছিলাম খাওয়ার কথা।
ইফরাদ বুঝতে পারে, আনতারা তাকে শান্ত করার জন্যই মিথ্যা বলছে। তবুও বিষয়টা নিয়ে আর কিছু বলে না। আনতারার প্রতি মায়া আর ভালোবাসায় ভরা আহ্লাদি গলায় বলে,
— খাবার আসলে আমি নিজের হাতে খাইয়ে দিবো, কেমন?
আনতারা মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। ইফরাদ বলে,
— আচ্ছা, বসো তুমি। দাঁড়িয়ে থেকো না।
আনতারা মাথা নাড়িয়ে বলে,
— না, আর বসবো না। নামাজ পড়তে হবে।
ইফরাদ আনতারার দুর্বল শরীরটার দিকে তাকিয়ে বলে,
— এই দুর্বল শরীর নিয়ে নামাজ পড়বে কীভাবে? খাবার খেয়ে পড়ো।
— সময় নেই। আবার সারাদিনের কাজা নামাজ পড়তে হবে। যোহর, আসর, মাগরিব, এশার কিছুই পড়া হয়নি। আমার শরীর এতটাও খারাপ না। আমি পড়তে পারবো।
ইফরাদ আর জোর করে না। শুধু বলে,
— আচ্ছা, আমি নামাজের বিছানা বিছিয়ে দিচ্ছি।
ইফরাদ গিয়ে নামাজের বিছানাটা এনে মেঝেতে সুন্দর করে বিছিয়ে দেয়। এর মধ্যেই আনতারা খিমার পরে নামাজ পড়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। তারপর গিয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে পড়ে। এদিকে ইফরাদও কাভার্ড থেকে নিজের কাপড় বের করে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসে। ফ্রেশ হয়ে ফিরে এসে বেডে বসে চুপচাপ আনতারার দিকে তাকিয়ে থাকে।
আনতারা যোহর, আসর আর মাগরিবের নামাজ দাঁড়িয়ে পড়লেও এশার নামাজের সময় এসে আর দাঁড়িয়ে থাকার মতো শক্তি পায় না। শরীরটা এতটাই দুর্বল লাগছিল যে শেষ পর্যন্ত এশার নামাজটা বসেই আদায় করে। আনতারা যখন এশার নামাজ পড়ছিল, তখনি মেইড খাবার দিয়ে যায়। ডেলিভারি ম্যান খাবার দিয়ে চলে গেছে। ইফরাদ খাবারগুলো নিয়ে প্লেটে ঢেলে নেয়। তারপর মেঝেতে আনতারার পাশে গিয়ে বসে পড়ে। আনতারা তখন জায়নামাজে বসে দুই হাত তুলে মোনাজাতে। আর তার পাশেই মেঝেতে বসে আছে ইফরাদ, এক হাতে খাবারের প্লেট। আর তার পুরো দৃষ্টি আনতারার দিকে।
আনতারা মোনাজাত শেষ করতেই ইফরাদ আর দেরি না করে আনতারার মুখের সামনে লোকমা তুলে দেয়। আনতারা বিসমিল্লাহ বলে লোকমাটা মুখে নেয়। ইফরাদ আবার খাবার মেখে আনতারার মুখের সামনে তুলে দেয়। কিন্তু এবার আনতারা তাকে থামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করে,
— আপনি খান?
ইফরাদ আনতারার মুখে লোকমাটা তুলে দিতে দিতে বলে,
— আমি খাবো। আগে তুমি খাও।
আনতারা খাবার চিবোতে চিবোতে নরম গলায় বলে,
— আমি তো খাচ্ছিই। আপনিও খান।
ইফরাদ আনতারার দিকে তাকিয়ে ধীর গলায় বলে,
— তোমার ক্ষিদা মিটুক আগে। আমার বুকটা শান্তি পাক একটু? তারপরই খেতে পারবো। এর আগে গলা দিয়ে খাবার নামবে না।
আনতারা আর কথা বাড়ায় না। সে বুঝতে পারছে, সারাদিন না খেয়ে থেকে যতটুকু কষ্ট সে পাচ্ছে, তার চেয়েও বেশি কষ্ট ইফরাদ পাচ্ছে। আনতারা কয়েক লোকমা খাওয়ার পর আবার ইফরাদকে জোর করে খেতে,
— আমি তো খেয়েছি। আমার ক্ষিদে কমেছে! এখন আপনি খান। সেই কখন বাইরে থেকে এসেছেন!
ইফরাদ দুই দিকে মাথা নাড়িয়ে বলে,
— আমার ক্ষিদে নেই। খেতেই ইচ্ছে করছে না। সারাদিন আমার বউটা বাইরে রোদে ছিল আর আমি এসির রুমে আরাম করছিলাম, এটা ভাবতেই আমার সব ক্ষিদে মরে গেছে!
— আমার এতও কষ্ট হয়নি। আপনি কষ্ট পাবেন না।
ইফরাদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তার মন থেকে ব্যাপারটা কিছুতেই যাচ্ছে না। কিছুতেই ভুলতে পারছে না, তার বউয়ের সঙ্গে এত কিছু হয়েছে। এগুলো আনতারার সঙ্গে না হয়ে তার নিজের সঙ্গে হলেও হয়তো ইফরাদের এতটা কষ্ট হতো না। কিন্তু আনতারার সঙ্গে হয়েছে বলেই বিষয়টা তার বুকের ভেতর এত গভীরভাবে বিঁধে আছে। আনতারা বারবার জোর করায় শেষ পর্যন্ত ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও ইফরাদ দুই লোকমা খায়। তারপর আবার আনতারাকে নিজের হাতে খাইয়ে দেয়। আনতারাকে খাওয়ানো শেষ করে ইফরাদ ওয়াশরুমে গিয়ে হাত ধুয়ে আসে।
ফিরে এসে দেখে, আনতারা এখনো নামাজের বিছানাতেই বসে আছে। হাতে তসবিহ। তসবিহ পড়ছে। সারাদিন এত কিছুর মধ্যে সে কোনো দোয়া পড়তে পারেনি। ইফরাদ এসে বেডে বসে। তারপর বিছানার ওপর পা তুলে নিতে নিতে আনতারার দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলে,
— বিছানায় এসে শুয়ে শুয়ে তসবিহ পড়ো, আনতারা। শরীরটা দুর্বল তোমার।
আনতারা মৃদু গলায় বলে,
— এখন আর শরীর দুর্বল নেই। আলহামদুলিল্লাহ, শরীর ঠিক হয়ে গেছে আমার।
— তারপরও শুয়ে থাকো। একটু রেস্ট নাও।
কথাটা বলেই ইফরাদ আধশোয়া হয়ে বেডে বসে পড়ে। আনতারা জায়নামাজটা তুলে সুন্দর করে ভাঁজ করে এক পাশে রেখে দেয়। তারপর ইফরাদের পাশে এসে বসে বলে,
— আপনি অনেক খারাপ।
ইফরাদ আধশোয়া হয়ে বসে ছিল। আনতারার কথাটা শুনেই টান দিয়ে আনতারাকে নিজের কাছে এনে বুকের ওপর ফেলে দেয়। আনতারা গিয়ে আচড়ে পড়ে ইফরাদের বুকে। হঠাৎ এতটা কাছে চলে আসায় আনতারা চোখ তুলে ইফরাদের মুখের দিকে তাকায়। দুজনের মুখ এতটাই কাছাকাছি যে মাঝখানের দূরত্ব খুবই সামান্য। দুজনের দৃষ্টিও একে অপরের চোখে গিয়ে থামে। ইফরাদ শক্ত করে নিজের সঙ্গে আনতারাকে চেপে ধরে জিজ্ঞেস করে,
— কেন?
আনতারা অভিমানী গলায় বলে,
— আমি তখন এত কান্না করছিলাম, অথচ আপনি বলেননি ওটা তালাকনামার কাগজ ছিল না। আপনি চুপ করে দেখছিলেন।
ইফরাদ মৃদু হেসে বলে,
— দেখছিলাম, একটা মানুষ কতটা বোকা হতে পারে।
আনতারা সঙ্গে সঙ্গে নিজের পক্ষ নিয়ে বলে,
— আমার কী দোষ? আপনি যেভাবে আপনার মাকে ভালোবাসার প্রমাণ দেবেন বলছিলেন, আমি তো ভয় পাবোই।
ইফরাদ এবার একটু নরম হয়ে বলে,
— আমি তো মাম্মাকে আমার ভালোবাসার প্রমাণ দেওয়ার কথা বলেছিলাম তখন। আমি তো শুধু মাম্মাকেই ভালোবাসি না। আরেকজনও তো আছে, যে আমার জান হয়ে গেছে। আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে সে আমার থেকে দূরে গেলে।
কথাটা শুনে আনতারা লজ্জা পেয়ে যায়। মাথা নিচু করে আস্তে করে জিজ্ঞেস করে,
— কে সে?
ইফরাদ হেসে মুখটা একটু ওপরে তুলে আনতারার মুখের কাছে নিয়ে আসে। কিছু বলতে যাবে, তখনি দরজায় নক পড়ে। আনতারা লজ্জায় দ্রুত ইফরাদের বুক থেকে উঠে বসে। তারপর মাথার ওড়নাটা ঠিক করে দাঁড়িয়ে যায়।ইফরাদও উঠে বসে দরজার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কে?
দরজার ওপাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে কণ্ঠ ভেসে আসে,
— ব্রো, আমি। ইফতিন।
ইফরাদ একবার আনতারার দিকে তাকায়। আনতারাও তার দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর ইফরাদ আনতারার কাছ থেকে চোখ সরিয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে বলে,
— দাঁড়াও, খুলছি।
কথাটা বলেই ইফরাদ বেড থেকে নেমে পায়ে সেন্ডেল জোড়া গলিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। দরজা খুলতেই সামনে ইফতিনকে দেখতে পায়।
ইফতিন বলে,
— কথা ছিল।
ইফরাদ রুম থেকে বেরিয়ে দরজাটা লাগিয়ে দেয়। তারপর বলে,
— ভেতরে তোমার ভাবি। টেরেসে চলো। সেখানে কথা বলি।
ইফতিন মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। তারপর দুজন একসঙ্গে টেরেসের দিকে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয় তলার বাঁ পাশে খোলা টেরেস করা হয়েছে। পরিবারের মানুষজন যেন সেখানে বসে আড্ডা দিতে পারে, সেজন্যই জায়গাটা সুন্দর করে সাজানো। হাঁটতে হাঁটতে দুজন টেরেসের কাছে এসে পৌঁছায়। টেরেসটা মূল ফ্লোরের চেয়ে একটু নিচু। তিনটা সিঁড়ি নেমে সেখানে যেতে হয়।
পুরো ফ্লোরজুড়ে বিছানো গাঢ় সবুজ কৃত্রিম ঘাসের গালিচা। দুই পাশ ঘেঁষে রাখা হয়েছে নিচ থেকে আলো ফোটানো ধূসর রঙের লম্বা প্ল্যান্টার। মাথার ওপরে রয়েছে কালো কাঠের একটা পারগোলা ফ্রেম। সেই ফ্রেম বেয়ে সাদা ফুলসহ লতা-পাতা জড়িয়ে উঠে চারপাশটাকে অপূর্বভাবে ঘিরে রেখেছে। দুই পাশের প্ল্যান্টারগুলোতে সারি করে রাখা ছোট ছোট গাছগাছালি। সেগুলোর গোড়া থেকে উঁকি দেওয়া নরম হলুদ আলো সরাসরি ওপরে ছড়িয়ে পড়ছে।
ছাদের একেবারে শেষ প্রান্তে, পারগোলার নিচে রাখা একটা আরামদায়ক ধূসর সোফা। সামনে ছোট একট টি-টেবিল। টেবিলের নিচ দিয়ে ফিতার মতো স্ট্রিপ লাইটের নরম আলো জ্বলছে। সোফার ঠিক পেছনের খোলা অংশ দিয়ে রাতের অন্ধকার আকাশ দেখা যাচ্ছে। আর তার নিচে দূরের উঁচু উঁচু দালান আর ঝলমলে শহরের স্কাইলাইন রাতের সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইফরাদ আর ইফতিন দুজনেই গিয়ে কাচের রেলিংয়ের কাছে দাঁড়ায়। ইফরাদ প্রথমে নীরবতা ভেঙে বলে,
— বলো, কী বলবে?
ইফতিন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,
— তুমি কি ওই মেয়েকে বউ হিসেবে…..
কথাটা শেষ করার আগেই ইফরাদ তাকে থামিয়ে দেয়। দৃঢ়, বেশ জোরালো গলায় বলে ওঠে,
— জবান ঠিক করো, ইফতিন!
ইফতিন এক মুহূর্তের জন্য থেমে যায়। অবাক চোখে ইফরাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার চোখেমুখে স্পষ্ট বিস্ময়। ইফরাদের এমন আচরণে অবাক হয়েছে। তারপর ইফতিন চোখ অন্যদিকে সরিয়ে স্বরটা নিচু করে বলে,
— ভাবি!
ইফরাদ এবার বলে,
— হুম। এখন কী জানতে চাচ্ছিলে, বলো?
ইফতিন শান্ত গলায় ইফরাদের দিকে তাকায়। তারপর বলে,
— উত্তর পেয়ে গেছি। তার মানে তুমি সত্যিই ওনাকে বউ হিসেবে মেনে নিয়েছো!
ইফরাদ স্বাভাবিক গলায় বলে,
— এটা নতুন করে জানার কী আছে? আমি তো আগেই তুমি সহ সবাইকে জানিয়ে দিয়েছিলাম।
ইফতিন কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর বলে,
— মাম্মা কাঁদছে তোমার বিহেভিয়ারে! তোমার কি একটুও খারাপ লাগছে না?
ইফরাদের মুখের ভাব কঠিন হয়ে যায়। গম্ভীর গলায় বলে,
— আমার বউ আমার কিছু সময়ের অবর্তমানে যা সহ্য করেছে, সেটার জন্য আমার বুকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এটার জন্য মাম্মা কোনো ক্ষমা পাবে না। মাম্মা যদি কেঁদে চোখ দিয়ে রক্তও ভাসায়, তবুও মাম্মা কোনো সিমপ্যাথি পাবে না আমার কাছ থেকে।
— তিন মাসের সম্পর্কের একজনের জন্য নিজের মাম্মার সঙ্গে এমন করছো?
ইফরাদ বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে বলে,
— বউটাও আমার নিজেরই। অন্য কারোর না। তাছাড়া বউয়ের জন্য এমন করাটাই স্বাভাবিক। আমি ছাড়া আমার বউয়ের কেই বা আছে?
কথাটা বলে ইফরাদ একটু থামে। তারপর কণ্ঠে চাপা কষ্ট নিয়ে বলে,
— এই যে আজ আমি ছিলাম না, গার্ডদের সামনে টেনে হিঁচড়ে বের করা হয়েছে আমার বউকে। এটার কষ্টটা তুমি বুঝবে না। যখন তোমার ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে এমন হবে, সেদিন তুমিও তোমার মাম্মারই বিপক্ষে থাকবে। কেউই নিজের ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে এমন কিছু সহ্য করতে পারে না।
কথা থামিয়ে ইফরাদ কিছুক্ষণ চুপ থাকে। তারপর গলার স্বর আরো নিচু করে বলে,
— আমার টাকা-পয়সার অভাব নেই। অথচ আমার বউকে না খেয়ে ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে হয়েছে। এটা আমি ভুলতে পারবো না।
কথাটা বলেই ইফরাদ একবার ইফতিনের দিকে তাকায়। ইফতিন তখনও চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। মুখে কোনো বিশেষ অভিব্যক্তি নেই, একেবারেই স্বাভাবিক। ইফরাদ আর এক মুহূর্তও দাঁড়ায় না। ইফতিনকে সেখানেই রেখে টেরেস থেকে চলে যায়। ইফতিনও চুপচাপ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ইফরাদের কাছ থেকে এমন আচরণ একদমই আশা করেনি।
ইফরাদ রুমে ফিরে এসে দেখে, আনতারা বেডে বসে আছে। ইফরাদকে দেখেই আনতারা উঠে এগিয়ে আসে। তারপর কৌতূহলী গলায় জিজ্ঞেস করে,
— কী হলো? কেন এসেছিলো উনি?
ইফরাদ স্বাভাবিকভাবে বলে,
— তেমন কিছু না।
আনতারা আবার জিজ্ঞেস করে,
— একটু আগের ঘটনা নিয়ে?
— ওমনই।
আনতারা কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর বলে,
— রাদ, আমার এই বাড়ি লাগবে না। আপনি ওটা আপনার নামে নিয়ে নিন।
— ওটা আমি তোমার নামে লিখে দিয়েছি ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য না।
আনতারা শান্ত গলায় বলে,
— আমার লাগবে না বাড়ি।
ইফরাদ এবার আনতারার দিকে তাকায়। তারপর আনতারার কাছে বরাবর দাড়িয়ে বলে,
— তুমি একটু আগে আমাকে কী বলেছিলে? সবাই তোমাকে ফেলনার মতো ট্রিট করে। আর আমি তোমার পজিশনটা এই বাড়িতে স্ট্রং করতে চাই।
আনতারা প্রশ্ন করে,
— আমার নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে আপনি আমাকে স্ট্রং করতে চাচ্ছেন? কিন্তু আমার তো আপনার পাশে থাকাটাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
— আমি তোমার সঙ্গে সবসময় আছি। কিন্তু আমি চাই না, শুধু তুমি আমার দ্বারাই ডিফেন্স হও। আমি চাই, তোমার পজিশনের জন্য যেন কেউ তোমার ওপর কথা বলতে না পারে।
— তার জন্য কী করবেন আপনি?
ইফরাদ বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে বলে,
— যারা তোমাকে ফেলনার মতো ট্রিট করেছে, আমি তাদের দিয়ে তোমার গোলামী করাবো। প্রয়োজন হলে নিজের সবকিছু তোমার নামে দিয়ে হলেও।
আনতারা সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়িয়ে বলে,
— তার প্রয়োজন নেই। আমরা সবাই আল্লাহর গোলাম। আমার গোলামী কেন করবে মানুষ? আপনি বাড়ি আপনার নামে নিয়ে নিন।
— বাড়ি আমি আমার নামে নিচ্ছি না। ওটা তোমারই থাকবে।
আনতারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কেন এমন করছেন?
ইফরাদ শান্ত গলায় বলে,
— বাড়িটা আমি তোমাকে আমাদের বিয়ের মোহরানা হিসেবে দিয়েছি। মোহরানা তো আর মানা করতে পারবে না।
ইফরাদের জেদের সামনে শেষ পর্যন্ত আনতারা হার মেনে নেয়। তবে সঙ্গে সঙ্গেই প্রসঙ্গ বদলে হালকা মুখ ফুলিয়ে অভিমানী গলায় বলে,
— ওসব ছাড়ুন। রেগে আমি এখনো আছি আপনার ওপর। আপনি আমাকে কষ্ট দিয়েছেন।
ইফরাদ আর কিছু না বলে আনতারার কোমর জড়িয়ে তাকে নিজের কাছে টেনে নেয়। তারপর নিজের সঙ্গে শক্ত করে চেপে ধরে বলে,
— উল্টো রাগটা যদি আমি করি? তুমি আমার প্রতি বিশ্বাস রাখোনি। আমি কী বলেছিলাম? আমি সবসময় তোমার পাশে থাকবো। কখনো ছেড়ে যাবো না। অথচ আজ তুমি আমাকে অবিশ্বাস করলে।
এবার আনতারা নিজেই বিপদে পড়ে যায়। ইফরাদের কথায় সত্যিই যুক্তি আছে। কী বলবে, বুঝতে পারে না সে।
চোখ নিচু করে আমতা আমতা করে বলে,
— আমি… আসলে… ভেবেছিলাম…
ইফরাদ ধীর গলায় আনতারাকে থামিয়ে বলে,
— কথা এড়াতে পারবে না, মাই জানা। বিশ্বাস কিন্তু তুমি করোনি আমাকে।
আনতারা এবার চোখ তুলে ইফরাদের দিকে তাকায়। তারপর নরম স্বরে বলে,
— ভয় পেয়ে গেছিলাম। আপনার মা নিজের জীবন দিয়ে দেওয়ার কথা বলছিলো। কোনো সন্তান কি তখন স্বাভাবিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এমন সময়?
ইফরাদ আনতারার চোখের দিকে তাকিয়ে গভীর গলায় বলে,
— সময়, পরিস্থিতি যাই-ই হোক না কেন, আমি তোমাকে কখনো ছেড়ে যাবো না। আবারও বললাম। এবার বিশ্বাস করিও আমার কথাটা।
আনতারা শান্তভাবে বলে,
— বিশ্বাস করলাম। বিশ্বাস রাখলাম।
ইফরাদ আবার নিশ্চিত হতে চায়,
— সত্যি সত্যি তো?
আনতারা মাথা নেড়ে বলে,
— সত্যি।
ইফরাদ এবার আনতারাকে ছেড়ে দেয়।
— থাকো। আসছি আমি এক্ষুনি।
আনতারা সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞেস করে,
— কোথায় যাচ্ছেন আবার?
— এখানেই। মেইডকে বলবো কফি দিতে। মাথাটা ধরে আছে।
— আমি বানিয়ে আনছি।
ইফরাদ মাথা নাড়িয়ে বলে,
— প্রয়োজন নেই। তুমি রেস্ট নাও। একটু পরে বাইরে বের হবো আমরা।
আনতারা কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— কোথায়?
ইফরাদ হালকা হেসে রহস্যময় ভঙ্গিতে বলে,
— তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে।
আনতারা অবাক হয়ে বলে,
— সারপ্রাইজ? কী সারপ্রাইজ?
ইফরাদ মৃদু হেসে বলে,
— সারপ্রাইজ বলে দিলে সেটা আর সারপ্রাইজ থাকে?
— তাহলে কখন বলবেন?
— চলো, একটা জায়গায় নিয়ে যাবো।
আনতারা অবাক হয়ে বলে,
— আজ আবার? কালকে না মেলায় গেলাম?
ইফরাদ আনতারার গালে স্লাইড করতে করতে চোখে চোখ রেখে বলে,
— আমি যদি জাহান্নামে নিয়ে যাই, তাহলেও যাবে কোনো প্রশ্ন ছাড়া।
আনতারা সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়িয়ে বলে,
— না।
ইফরাদ ভ্রু তুলে জিজ্ঞেস করে,
— না?
— জাহান্নামে কেন যাবো? আপনি তো আপনাকে নিয়ে জান্নাতে যেতে চাই।
ইফরাদ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,
— আচ্ছা।
— একবার ইনশাআল্লাহ বলুন?
ইফরাদ কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করে,
— বললে কী হবে?
— ইনশাআল্লাহ বলবেন, কে বলতে পারে আল্লাহ তাআলা কুন ফায়া কুন বলে দিলেন? তখন কবুল হয়ে যাবে। জান্নাতে আমাদের জন্য জায়গা বরাদ্দ হয়ে যাবে।
আনতারার কথা শুনে ইফরাদের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। নরম স্বরে বলে,
রুহআবিষ্ট তুমি পর্ব ১৯ (৩)
— ইনশাআল্লাহ।
আনতারা মুচকি হেসে সঙ্গে সঙ্গে বলে,
— ইনশাআল্লাহ।
